ইমাম মাহদির আগমনের পূর্বলক্ষণসমূহ
প্রশ্নঃ ১৬৩৬৫১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ইমাম মাহদির আগমনের পূর্ব লক্ষন গুলো জানতে চাই।
৬ আগস্ট, ২০২৬
পাবনা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কিয়ামতের অন্যতম আলামত: ইমাম মাহদির আগমন
পৃথিবীতে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া এক চিরন্তন ও অকাট্য সত্য। তবে এই মহাপ্রলয় কখন ঘটবে, তা একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। এ বিষয়ে নবী-রাসুল কিংবা ফেরেশতা—কাউকেই কোনো আগাম তথ্য জানানো হয়নি। তবে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কিয়ামতের পূর্ববর্তী বেশ কিছু আলামত বা লক্ষণের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত হলো ইমাম মাহদির শুভ আগমন।
ইমাম মাহদির পরিচয় ও বংশধারা
ইমাম মাহদির মূল নাম হবে 'মুহাম্মাদ' এবং তাঁর পিতার নাম হবে 'আবদুল্লাহ'। হাদিসের অধিকাংশ বর্ণনায় তাঁকে 'মাহদি' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহর কাছে তিনি এই নামেই সমধিক পরিচিত। 'মাহদি' শব্দের অর্থ হলো সুপথপ্রাপ্ত, ন্যায়নিষ্ঠ বা প্রতিশ্রুত পথপ্রদর্শক। পৃথিবীতে আবির্ভাবের পর তিনি চরম অন্যায়-অবিচার ও জুলুমের অবসান ঘটাবেন এবং সমগ্র বিশ্বে ন্যায়বিচার, শান্তি ও নিরাপত্তার সুবাতাস বইয়ে দেবেন।
বংশগতভাবে ইমাম মাহদি হবেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র বংশধর। তিনি পিতৃসূত্রে হযরত হাসান (রা.) এবং মাতৃসূত্রে হযরত হুসাইন (রা.)-এর বংশধারার সাথে সম্পৃক্ত থাকবেন। এই বিষয়ে উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, "আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি—মাহদি আমার পরিবারের সদস্য এবং ফাতেমার সন্তানদের মধ্য থেকে আবির্ভূত হবে।" (সুনানে আবু دাউদ, হাদিস: ৪২৮৪)
হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, "মাহদি আমার বংশেরই একজন। আল্লাহ তাআলা মাত্র এক রাতেই তাকে খেলাফত বা নেতৃত্বের যোগ্য বানিয়ে দেবেন।" (আল-মুসনাদ, ২/৫৮)
এখানে স্মরণীয় যে, ইমাম মাহদি কোনো নবী বা রাসুল নন; বরং তিনি হবেন শেষ জামানার মুসলমানদের এক মহান সংস্কারক ও ন্যায়পরায়ণ নেতা। এমনকি হযরত ঈসা (আ.) আসমান থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করার পর এই ইমাম মাহদির ইমামতিতেই নামাজ আদায় করবেন।
কত সালে কোথায় আগমন করবেন ইমাম মাহদি?
ইমাম মাহদি ঠিক কত সালে জন্মগ্রহণ করবেন বা তিনি ইতিমধ্যে পৃথিবীতে চলে এসেছেন কিনা—এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে সুনির্দিষ্ট কোনো সাল বা তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। এই অদৃশ্য জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ হাদিসের বিবরণ অনুযায়ী, কিয়ামতের পূর্বে চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে তাঁর আগমন ঘটবে।
তাঁর জন্মস্থান নিয়ে কিছুটা ঐতিহাসিক মতভেদ রয়েছে। বিখ্যাত 'কানজুল উম্মাল' কিতাবের একটি বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর জন্ম হবে পবিত্র মদিনা শরিফে (কানজুল উম্মাল, বর্ণনা: ৩৯৬৭১)। অন্যদিকে, হযরত ইবনে উমর (রা.)-এর একটি উক্তি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তাঁর জন্মভূমি হতে পারে কুফা নগরী। তিনি কুফাবাসীদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "হে কুফাবাসী, তোমরা ইমাম মাহদির আগমনে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান হতে যাচ্ছ।" (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, বর্ণনা: ৩৩১২১)
অধিকাংশ ইসলামি স্কলার ও গবেষকদের মতে, ইমাম মাহদি পবিত্র মদিনা শরিফ থেকেই প্রথম আত্মপ্রকাশ করবেন। পরবর্তীতে তিনি মক্কায় আগমন করবেন এবং সেখানে কাবা শরিফের রুকন ও মকামে ইব্রাহিমের মধ্যবর্তী স্থানে সাধারণ মুসলমানরা তাঁর হাতে 'বাইয়াত' বা আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করবেন। তৎকালীন সময়ের অত্যাচারী ও জালেম শাসকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ে তিনি বিজয় লাভ করবেন এবং গোটা মুসলিম জাহানের একক আমির বা নেতা হিসেবে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবেন।
ইমাম মাহদির শারীরিক অবয়ব বা গঠন
ইমাম মাহদি দেখতে কেমন হবেন—সে বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিসে বিশদ বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদিস অনুযায়ী, তিনি হবেন মধ্যম গড়নের এবং অত্যন্ত সুশ্রী ও আকর্ষণীয় অবয়বের অধিকারী। তাঁর কপাল বা ললাট হবে উজ্জ্বল ও প্রশস্ত, চোখ দুটি হবে ডাগর বা বড় বড় এবং নাক হবে চমৎকার সুউচ্চ ও খাঁড়া। তাঁর চেহারা মোবারক থেকে নক্ষত্রের মতো দ্যুতি ছড়াবে এবং তাঁর ডান গালে একটি বিশেষ তিল থাকবে।
হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, "মাহদি আমার বংশেরই একজন হবে। সে উজ্জ্বল ললাট ও খাড়া নাকের অধিকারী হবে। জুলুম-অত্যাচারে পরিপূর্ণ এই পৃথিবীকে সে ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা এমনভাবে ভরে দেবে, যেভাবে তা পূর্বে অন্যায়-অবিচারে ভরে গিয়েছিল। সে দীর্ঘ সাত বছর রাজত্ব করবে।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২৮৫)
ইমাম মাহদির আগমনের সমসাময়িক পরিস্থিতি ও আলামত
ইমাম মাহদির আগমনের পূর্বে বিশ্বজুড়ে এক চরম নৈরাজ্যকর ও সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হবে। সে সময় পৃথিবীর দিকে দিকে অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের রাজত্ব কায়েম হবে। নিরপরাধ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হবে এবং সর্বত্র দুঃশাসন জেঁকে বসবে। সত্যের ওপর মিথ্যা এবং ধর্মের ওপর অধর্মের প্রভাব বিস্তার লাভ করবে।
সমাজে সাধারণ মানুষের নৈতিক অবক্ষয় চরম সীমায় পৌঁছাবে। পাপাচার ও ব্যভিচারে সয়লাভ হয়ে যাবে অলিগলি এবং পাড়া-মহল্লা। নারী, শিশু ও দুর্বলদের জন্য এই পৃথিবী হয়ে উঠবে এক অত্যন্ত অনিরাপদ ও ভয়ঙ্কর স্থান। 'জোর যার মুল্লুক তার'—এই পাশবিক নীতিতে চলবে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। হানাহানি, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও লুটتরাজে বড় বড় জাতি ও দেশগুলো ক্লান্ত-বিধ্বস্ত হয়ে পড়বে। ঠিক এমন এক ঘোর অন্ধকার ও চরম হতাশার মুহূর্তে পৃথিবীতে ন্যায় ও নিষ্ঠার মশাল নিয়ে আগমন করবেন প্রতিশ্রুত নেতা ইমাম মাহদি।
পৃথিবীতে ঐশ্বরিক বরকত ও প্রাচুর্যের আগমন
ইমাম মাহদির আগমন ও তাঁর স্বর্ণালী शासনামলে উম্মতে মুহাম্মদির সম্মান ও গৌরব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি শেষ জামানায় এসে যখন পৃথিবীতে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন, তখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব বরকত ও কল্যাণ নেমে আসবে। তাঁর সময়ে আকাশ থেকে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হবে এবং জমিন থেকে বিপুল ফসল উৎপন্ন হবে।
গৃহপালিত পশুপাখির সংখ্যা ও উৎপাদন বহুণ বেড়ে যাবে। সমাজে সম্পদের কোনো অভাব থাকবে না এবং ইমাম মাহদি মানুষের মাঝে অত্যন্ত ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে সম্পদ বণ্টন করবেন। ফলে সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য পুরোপুরি ঘুচে যাবে।
নিরপরাধ মানুষের হত্যাকাণ্ড ও চরম ফেতনা
ইমাম মাহদির আবির্ভাবের ঠিক পূর্বমুহূর্তে পুরো পৃথিবী অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে। চারদিকে হত্যা, রক্তপাত ও জুলুমের এক ভয়াবহ ফেতনা দেশ থেকে দেশান্তরে বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়বে। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় হবে যে, সত্য উচ্চারণ করার মতো এবং পূর্ণাঙ্গ নিরাপরাধ মানুষের সংখ্যা সমাজে প্রায় থাকবে না বললেই চলে।
বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে হাজার হাইতামি (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন, "নিরপরাধ মানুষের একটি বিশাল অংশকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর ইমাম মাহদির শুভ আগমন ঘটবে। সেই রক্তক্ষয়ী ফেতনা থেকে কেউ সহজে নিষ্কৃতি পাবে না। এই হত্যাযজ্ঞ ও নৈরাজ্যের ধারা যখন চরম সীমায় পৌঁছে একপর্যায়ে থমকে দাঁড়াবে, ঠিক তখনই পৃথিবীতে শান্তির দূত হিসেবে ইমাম মাহদির আবির্ভাব ঘটবে।" (আল-কওলুল মুখতাসার ফি আলামাতিল মাহদিল মুনতাজার, পৃষ্ঠা: ২১-২২ ও ৩৭)
জনসংখ্যার বিপর্যয়: মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষের টিকে থাকা
যুদ্ধ, মহামারী এবং পারস্পরিক সংঘাতের কারণে ইমাম মাহদির আগমনের সময় পৃথিবীর জনসংখ্যায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। চারদিকের মহাধ্বংসের পর পৃথিবীতে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ জীবিত থাকবে।
আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী (রা.) এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, "ইমাম মাহদির আগমনের পূর্বে (ভয়াবহ যুদ্ধ-বিগ্রহে) পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে হত্যা করা হবে। আর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারা যাবে। অবশেষে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে।" (কিতাবুল ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ: ৯৫৯)
হযরত ঈসা (আ.)-এর আগমন ও ইমাম মাহদির পেছনে সালাত
ইমাম মাহদির শাসনামলেই পৃথিবীতে এক অলৌকিক ও ঐতিহাসিক ঘটনার অবতারণা ঘটবে; তা হলো হযরত ঈসা (আ.)-এর আসমান থেকে পুনরাগমন। তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করে ইমাম মাহদির নেতৃত্বাধীন মুসলিম জামাতে শামিল হবেন।
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের অবস্থা তখন কেমন (আনন্দময়) হবে, যখন মারয়াম-তনয় ঈসা (আ.) তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন এবং তোমাদের মধ্য থেকেই একজন (ইমাম মাহদি) তোমাদের ইমামতি করবেন?" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৯)। শীর্ষস্থানীয় ইসলামি গবেষকদের মতে, এই হাদিসে নির্দেশিত মুসলিম নেতা ও ইমাম হলেন স্বয়ং ইমাম মাহদি, যাঁর পেছনে হযরত ঈসা (আ.) ফজরের নামাজ আদায় করবেন।
ফিলিস্তিন বিজয় ও দাজ্জাল প্রতিরোধে ইমাম মাহদি
ইমাম মাহদির খেলাফতের শেষভাগে মুসলিম উম্মাহ এক মহাসংকটের মুখোমুখি হবে। মহাপ্রতারক দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পেতে ইমাম মাহদি মুসলিম বাহিনীকে সাথে নিয়ে ফিলিস্তিনের পবিত্র 'মসজিদুল আকসা'-য় আশ্রয় নেবেন। তখন দাজ্জাল তার বিশাল ইহুদি বাহিনী নিয়ে মুসলমানদের অবরুদ্ধ করে ফেলবে।
মুসলিম সৈন্যরা যখন দাজ্জালের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই মহান আল্লাহর রহমতে হযরত ঈসা (আ.) দামেস্কের সাদা মিনারে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি মুমিনদের রক্ষা করতে এবং দাজ্জালকে চিরতরে খতম করতে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২২৪০)
ইমাম মাহদিকে মেনে নিতে নবীজি (সা.)-এর কঠোর নির্দেশনা
ইমাম মাহদির আত্মপ্রকাশের সময় সাধারণ মুসলমানদের ভূমিকা কী হবে, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। হযরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:
"তোমাদের গুপ্তধন (কাবা শরিফ)-এর নিকট তিনজন খলিফার সন্তান যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তবে তাদের কেউই তা লাভ করতে পারবে না। অতঃপর পূর্ব আকাশ (প্রাচ্য) থেকে কালো পতাকাবাহী একদল লোকের আবির্ভাব ঘটবে। তারা এসে নেতৃত্ব দাবি করবে, কিন্তু তৎকালীন শাসকরা তা দিতে অস্বীকার করবে। ফলে তাদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হবে এবং কালো পতাকাবাহীরা এমন অভূতপূর্ব বিজয় লাভ করবে, যা পূর্বে কেউ কখনো দেখেনি।
বিজয়ী হওয়ার পর তাদের হাতে ক্ষমতা আসবে, কিন্তু তারা তা নিজেরা গ্রহণ না করে আমার পরিবারের একজন যোগ্য ব্যক্তির (ইমাম মাহদি) হাতে ক্ষমতা সোপর্দ করে দেবে। তিনি এই পৃথিবীতে আগমন করে একে পুরোপুরি ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন, ঠিক যেভাবে এটি ইতিপূর্বে জুলুম ও अत्याচারে জর্জরিত ছিল। সুতরাং, তোমরা যারা সেই সময়কে পাবে, তারা যেন অবশ্যই তাঁর কাছে গিয়ে আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণ করে—এমনকি এই জন্য যদি তোমাদের কনকনে ঠাণ্ডায় বরফের পাহাড়ের ওপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়েও যেতে হয়।"
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪০৮৪; আল-বাজজার, আল-বাহরুজ জাখখার, ১০/১০০)
দাজ্জাল নিধনে হযরত ঈসা (আ.)-কে সহযোগিতা
ইমাম মাহদির আগমন কেবল মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধই করবে না, বরং তা হবে বিশ্বমঞ্চে কিয়ামতের বড় বড় নিদর্শনগুলো প্রকাশের সূচনাপর্ব। বিখ্যাত হাদিসগ্রন্থ 'সুনানে আবু দাউদ'-এর প্রখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা শামছুল হক আজিমাবাদি (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন, "শেষ জামানায় এক মহান ও সৎ ব্যক্তি আগমন করে ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত ও শক্তিশালী করবেন। তিনি পৃথিবীতে নিখাদ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন এবং বিশ্বের সমস্ত মুসলিম জনপদ তাঁর একক নেতৃত্বের অধীনে আসবে। তাঁর নামই হবে মাহদি। তাঁর শুভ আগমনের পরপরই সহিহ হাদিসে বর্ণিত কিয়ামতের অন্যান্য বড় আলামতগুলো একের পর এক প্রকাশ পেতে শুরু করবে। তাঁর খেলাফতকালেই হযরত ঈসা (আ.) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন এবং অভিশপ্ত মহাপ্রতারক দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এই ঐতিহাসিক দাজ্জাল নিধন অভিযানে ইমাম মাহদি স্বয়ং হযরত ঈসা (আ.)-কে সশরীরে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।"
ইমাম মাহদির রাজত্বকাল ও স্থায়িত্ব
ইমাম মাহদি পৃথিবীতে কত বছর शासनকার্য পরিচালনা করবেন, তা নিয়ে ইসলামি স্কলার ও মুহাদ্দিসদের মাঝে সামান্য মতভেদ রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ হাদিসের একাধিক বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর রাজত্বকাল হবে ৭ থেকে ৯ বছরের মধ্যে। বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত কাতাদাহ (রহ.)-এর মতে, তিনি দীর্ঘ নয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবেন। এছাড়া, ইমাম আবু দাউদ (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, মুআজ (রা.) ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীরা হিশাম থেকে বর্ণনা করে বলেছেন, ইমাম মাহদি পৃথিবীতে পূর্ণ নয় বছর অবস্থান ও রাজত্ব করবেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২৮৭)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১