ফজরের নামাজে লাইট জ্বালিয়ে বা নিভিয়ে নামাজ পড়ার শরয়ী সমাধান
প্রশ্নঃ ১৫৯৭৩৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার প্রশ্ন হচ্ছে। ফজরের সময় বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায় লাইট বন্ধ করে নামাজ পড়তে। আবার দেখা যায় কিছু কিছু মসজিদে আলো জ্বালিয়ে নামাজ পড়ে। এ নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয় সুতরাং আলো জ্বালিয়ে নামাজ পরলে অথবা লাইট বন্ধ করে নামাজ পড়লে কোন সমস্যা আছে কিনা?
২ জুলাই, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ফজরের নামাজে লাইট জ্বালিয়ে বা নিভিয়ে- উভয় অবস্থায়ই নামাজ আদায় করা বৈধ। এতে কোনো অসুবিধা নেই। ফজরসহ কোনো ফরজ বা নফল নামাজের ক্ষেত্রেই আলো জ্বালিয়ে বা নিভিয়ে নামাজ আদায় করার বিষয়ে শরিয়তে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই। এটি পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভরশীল একটি বিষয়।
নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
«كُنْتُ أَنَامُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلاَيَ، فِي قِبْلَتِهِ فَإِذَا سَجَدَ غَمَزَنِي، فَقَبَضْتُ رِجْلَيَّ، فَإِذَا قَامَ بَسَطْتُهُمَا» ، قَالَتْ: وَالبُيُوتُ يَوْمَئِذٍ لَيْسَ فِيهَا مَصَابِيحُ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে ঘুমাতাম, আমার পা দু’খানা তাঁর কিবলার দিকে ছিল। তিনি সিজদায় গেলে আমার পায়ে মৃদু চাপ দিতেন, তখন আমি পা দু’খানা সংকুচিত করতাম। আর তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আমি পা দু’খানা সম্প্রসারিত করতাম। তিনি বলেন, সে সময় ঘরগুলোতে বাতি ছিল না। -সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৮২
এ হাদীস থেকে বোঝা যায়, নবী ﷺ-এর যুগে রাতের বেলায় অনেক সময় বাতি ছাড়াই নামাজ আদায় করা হতো। তবে কোথাও আলো জ্বালানোকে নিষিদ্ধ করা হয়নি বা অন্ধকারে নামাজ পড়াকে সুন্নত বলা হয়নি। ফলে আলো জ্বালানো বা না জ্বালানো- উভয়টিই বৈধ।
তাই এটি নিয়ে বিতর্ক বা বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়। বরং সমঝোতার মাধ্যমে পরস্পরে মিলেমিশে বিষয়টির সমাধান করা উচিত। অযথা এমন সাধারণ বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা জামাতে নামাজের অন্যতম উদ্দেশ্য- মুসলিমদের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার চেতনার পরিপন্থী।
কেননা জামাতে নামায আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য হলো, মুসলিম সমাজের একতা ও ঐক্যকে সুসংহত করা। একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দ্বীনি জীবন যাপন করা। তাই মসজিদে শতভাগ বিনয় ও নম্রতা বজায় রেখে মসজিদের আদব রক্ষা করে ইবাদতে নিমগ্ন হওয়া উচিত। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
ۘ وَتَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡبِرِّ وَالتَّقۡوٰی ۪ وَلَا تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ ۪ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ
তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন।- সূরা আল-মায়িদা, ৫:২
** الفتاوى الهندية، كتاب الصلاة، الباب الثالث فى استقبال القبلة-1/64
رجل صلى في المسجد في ليلة مظلمة بالتحري فتبين أنه صلى إلى غير القبلة جازت صلاته؛ لأنه ليس عليه أن يقرع أبواب الناس للسؤال عن القبلة
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১