বংশের নাম পরিবর্তন করার শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৫৯৬০৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, - হুজুর! আমার প্রশ্ন হলো বংশ খারাপ হলেই কি বংশের নাম পাল্টিয়ে নিজের বংশ বানানো জায়েজ আছে❓
১ জুলাই, ২০২৬
Rajnagar
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে নিজের আসল বংশের পরিচয় গোপন করে অন্য কোনো বংশের নাম ধারণ করা অথবা ভুয়া কোনো বংশের পরিচয় দেওয়া জায়েজ নেই।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ
অর্থ: "তোমরা তাদেরকে তাদের (প্রকৃত) পিতার নামেই ডাকো। এটাই আল্লাহর কাছে অধিক ইনসাফপূর্ণ।" [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫]
হাদীসে এসেছে:
عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «لَيْسَ مِنْ رَجُلٍ ادَّعَى لِغَيْرِ أَبِيهِ - وَهُوَ يَعْلَمُهُ - إِلَّا كَفَرَ، وَمَنِ ادَّعَى قَوْمًا لَيْسَ لَهُ فِيهِمْ، فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: আবু যর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন—কোনো ব্যক্তি যদি নিজ পিতা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অন্য কাউকে তার পিতা বলে দাবি করে, তবে সে আল্লাহর (নিয়ামতের) কুফরি করল। এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন বংশের সাথে নসবী সম্পৃক্ততার দাবি করল, যে বংশের সাথে তার কোনো নসবী সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে তৈরি করে নেয়।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৩৫০৮]
হাদীসের লিংক: https://muslimbangla.com/hadith/3258
মানুষ নিজের আসল বংশের নাম পরিবর্তন করে বা নতুন কোনো বংশের নাম নিজের নামের সাথে জুড়ে দেয় সাধারণত বংশের মানুষ খারাপ হওয়া বা বংশের সামাজিক মর্যাদা কম হওয়ার কারণে। অর্থাৎ, নিজের বংশকে নিজে তুচ্ছ মনে করার কারণে এবং অন্য জাতি বা বংশকে মর্যাদাপূর্ণ মনে করার কারণে। অথচ ইসলামে বংশগত বিষয়কে শ্রেষ্ঠত্ব বা নিচুতার কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, বরং তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যেমনটি পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
অর্থ: "হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলকে এক পুরুষ ও এক নারী হতে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অন্যকে চিনতে পারো। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি মুত্তাকী (পরহেযগার)। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছু সম্পর্কে অবহিত।" [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১৩]
নিচের লিংক থেকে আয়াতের তাফসীর দেখে নিতে পারেন: https://muslimbangla.com/sura/49/tafsir/13
সারকথা: অতএব, দুনিয়াবী সম্মান, লোকলজ্জা বা বংশের খারাপ সুনামের অজুহাতে নিজের আসল বংশের পরিচয় গোপন করে অন্য কোনো বংশের সঙ্গে নিজের নসব (বংশগত সম্পর্ক) দাবি করা বা সেই বংশের নাম ধারণ করা শরিয়তে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি কবিরা গুনাহ। একজন মুমিনের উচিত নিজের প্রকৃত পরিচয়েই সন্তুষ্ট থাকা এবং বংশের মর্যাদা নয়; বরং তাকওয়া ও সৎ আমলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সম্মান অর্জনের চেষ্টা করা।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী আবু সাঈদ
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১