মাদরাসার জন্য চামড়া কালেকশন করা, যদিও ছাত্ররা লজিংয়ে থেকে পড়াশোনা করে
প্রশ্নঃ ১৫৩৩৪৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমাদের এলাকার মাদ্রাসায় সমস্ত ছাত্ররা লজিংয়ে থাকে। মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করে। এতে কিছু চামড়া ফ্রিতে নেয়, আর কিছু আংশিক মূল্যে ক্রয় করে। বোর্ডিং ছাড়া মাদ্রাসায় এভাবে চামড়া সংগ্রহ করা কতটুকু বৈধ? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
১৬ মে, ২০২৬
ময়মনসিংহ
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মূল প্রশ্নের উত্তর লেখার আগে কয়েকটি মূলনীতি উল্লেখ করতে চাই।
কুরবানির পশুর গোশত আপনি চাইলে আপনার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, মাদরাসা, কিংবা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দিতে পারেন।
আপনার দেয়া এই গোস্ত তারা খেতে পারবে। প্রয়োজনে গোস্তগুলো বিক্রি করে তেল মশলা কিংবা চাল-ডাল ক্রয় করে খেলেও আপনার আপত্তি থাকার কথা নয়।
কুরবানীর পশুর গোশত যেমন কাউকে দেওয়া যায়, চামড়াটাও তেমনি ভাবে দেয়া যায়।
যাকে কুরবানির পশুর চামড়া প্রদান করলেন, তিনি চাইলে এই চামড়া শুকিয়ে নিজের ব্যবহারে রাখতে পারেন। অথবা চামড়াটি বিক্রি করে তার মূল্য দিয়ে ডাল ভাত খেতে পারেন। এইতেও আপনার আপত্তি থাকার কথা নয়।
আপনি আপনার নতুন আত্মীয় যেমন শ্বশুর বাড়ি, মেয়ের জামাইয়ের বাড়ি, বেয়াই সাহেবের বাড়ি, যেকোনো আত্মীয়ের বাড়িতে যেমন কুরবানীর গোশত হাদিয়া পাঠাতে পারেন, তেমনিভাবে তাদের বাড়িতে কুরবানির পশুর চামড়াও পাঠাতে পারবেন। কেননা কুরবানির গোশতের যেই হুকুম, পশুর চামড়ার একই হুকুম।
কুরবানির গোস্ত যেমন গরিব আত্মীয়কে দেওয়া যায়, ঠিক তদ্রুপ ধনী আত্মীয়কেও দেওয়া যায়।
একই ব্যাপার চামড়ার ক্ষেত্রেও। কেননা ইসলামের কোথাও কুরবানির পশুর গোশত ও চামড়ার হুকুমের মধ্যে পার্থক্য করেনি।
পার্থক্য হবে শুধুমাত্র তখন, যখন আপনি আপনার কুরবানি দেওয়া এই পশুর চামড়া বিক্রি করে দিবেন। তখন তার মূল্য শুধুমাত্র গরীব মিসকিনকেই দিতে পারবেন। ধনীদেরকে দিতে পারবেন না।
কিন্তু আপনাকে যদি কেউ কুরবানীর গোশত হাদিয়া দেয়, সেটা আপনি বিক্রি করার সুযোগ রাখেন। তদ্রুপ আপনাকে যদি কেউ কুরবানীর পশুর চামড়া প্রদান করে সেটাও আপনি বিক্রি করার হক রাখেন। এবার এই চামড়া বিক্রির মূল্য আপনি নিজের প্রয়োজন মত ভোগ করতে পারবেন। (নিজের কুরবানির পশুর গোশত বা চামড়া বিক্রির মূল্য ভোগ করতে পারবেন না)
উপরের এই মূলনীতিগুলো উপলব্ধি করার পর এবার আসুন মূল প্রশ্নের উত্তরে-
আপনার উল্লেখিত মাদরাসা এলাকা থেকে কুরবানীর পশুর চামড়া উঠানো সম্পূর্ণ ঠিক আছে। এমনকি এই মাদরাসার ছাত্ররা যদি লজিংয়ে অবস্থান করে পড়াশোনা করে তাতেও এ মাদরাসা কুরবানীর পশুর চামড়া কালেকশন করতে পারে।
লিল্লাহ বোর্ডিং বলতে যে ধারণা আমরা পোষণ করি, এটাই কেবল একমাত্র নয়। সাধারণভাবে লিল্লাহ বোর্ডিং বলতে এদেশের মানুষ মনে করে, একটা লঙ্গরখানা, যেখানে মাদরাসার গরিব ছাত্ররা ফ্রিতে খানা খেতে পারবে। মুসলমানরা এই লঙ্গরখানার ব্যয় তাদের যাকাত ফিতরা মান্নত থেকে নির্বাহ করবে।
লিল্লাহ বোর্ডিং এর একটা ফরমেট এমনও হতে পারে, মাদরাসার ছাত্ররা লজিংয়ে থেকে পড়াশোনা করবে, মাদরাসার লিল্লাহ তহবিল থেকে তাদের প্রতি মাসের খরচ গ্রহণ করবে। বিশেষত মাদরাসায় তাদের যে সমস্ত প্রদেয় সেগুলো এই লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে নির্বাহ করা হবে।
সুতরাং আপনার উল্লিখিত এই মাদরাসায় যদি লিল্লাহ তহবিল থাকে, সেই তহবিলের জন্য কুরবানীর পশুর চামড়া উঠানো ঠিক আছে। খেয়াল রাখতে হবে লিল্লাহ তহবিলের টাকা যথাযথ নিয়মে ব্যয় করা জরুরী। কেননা আমাদের এই দেশের জনসাধারণ মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে কুরবানীর পশুর চামড়া দিয়ে থাকে। মাদরাসায় যদি লিল্লাহ বোর্ডিং না থাকে, সেই মাদরাসায় জনসাধারণ তাদের কুরবানীর পশুর চামড়া দেওয়ার কথা নয়।
قال الماوردي في الحاوي:
أما بيع لحم الأضحية، فلا يجوز في حق المضحي لقول الله تعالى: {فكلوا منها وأطعموا البائس الفقير} فنص على أكله، وإطعامه، فدل على تحريم بيعه.....
وأما الفقراء فعلى المضحي أن يدفع إليهم منها لحما، ولا يدعوهم لأكله مطبوخا ...
فإذا أخذوه لحما جاز لهم بيعه، كما يجوز لهم بيع ما أخذوه من الزكوات، والكفارات، وإن لم يجز المزكي، والمكفر بيعه. اهــ.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
ইসহাক মাহমুদ
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া
খতীব, নবোদয় সি ব্লক জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
ইমাম, বায়তুল ওয়াহহাব জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া
খতীব, নবোদয় সি ব্লক জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
ইমাম, বায়তুল ওয়াহহাব জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১