বোনের সাথে যিনা
প্রশ্নঃ ১৫৯৪২১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, নিজের বোন এর সাথে জেনা করার শাস্তি কী এবং জেনা করে ফেললে আল্লাহর কাছে এর থেকে ক্ষমা চাওয়ার উপায় কি?
৩০ জুন, ২০২৬
ঢাকা ১২১২
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামী শরিয়তে ব্যভিচারী পুরুষ কিংবা ব্যভিচারী নারী যদি বিবাহিত হয় তাহলে তাদের শাস্তি হলো রজম করা বা পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। তবে যদি তারা অবিবাহিত হয় তহলে ১০০ বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে,
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ. ‘ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর.... (সুরা : নুর, আয়াত : ২)।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে-
وَفِي رِوَايَة فَانْطَلَقْنَا على مثل التَّنور قَالَ فأحسب أَنه كَانَ يَقُول فَإِذا فِيهِ لغط وأصوات قَالَ فاطلعنا فِيهِ فَإِذا فِيهِ رجال وَنسَاء عُرَاة وَإِذا هم يَأْتِيهم لَهب من أَسْفَل مِنْهُم فَإِذا أَتَاهُم ذَلِك اللهب ضوضوا الحَدِيث وَفِي آخِره وَأما الرِّجَال وَالنِّسَاء العراة الَّذين هم فِي مثل بِنَاء التَّنور فَإِنَّهُم الزناة والزواني
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَتقدم بِطُولِهِ فِي ترك الصَّلَاة
অন্য বর্ণনায় আছে, নবী (ﷺ) বলেছেন: এরপর আমরা তান্নুরের ন্যায় একটি গর্তের নিকট গেলাম। বর্ণনাকারীগণ বলেন, আমার মনে হয় তিনি এরূপ বলেছেন: হঠাৎ সেখানে আমরা হৈ চৈ ও চিৎকার শুনতে পেলাম। তিনি বলেন, আমরা মাথা তুলে দেখলাম, তার মধ্যে কিছু সংখ্যক উলঙ্গ নারী পুরুষ রয়েছে, এবং তাদের তলদেশ থেকে অগ্নিশিখা আসছে এবং তারা আগুনে দদ্বিভূত হওয়ায় হাউ মাই করে চিৎকার দিচ্ছিল। হাদীসের শেষাংশে আছে, (তিনি বলেছেন) তান্নরের মত গর্তে যারা দগ্ধীভূত হচ্ছিল, তারা হল ব্যভিচারী নারী-পুরুষ।
(বুখারীতে 'সালাত বর্জন অধ্যায়ে' এ পর্যায়ে দীর্ঘ বর্ণনা অতিবাহিত হয়েছে।)
আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব
হাদীস নংঃ ৩৬২৮
https://muslimbangla.com/hadith/1621714
হাদীসে জিনাকারীর ব্যাপারে আরো মারাত্মক ধমকি বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের ভাষ্য হলো, যিনায় লিপ্ত থাকা অবস্থায় সে মুমিন থাকে না। তার ঈমান সরে পড়ে।
آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ ذَكْوَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَشْرَبُ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَالتَّوْبَةُ مَعْرُوضَةٌ بَعْدُ.
আবূ হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যিনাকারী যিনা করার সময় মু’মিন থাকে না। চোর চু্রি করার সময় মু’মিন থাকে না। মদপানকারী মদ পানের সময় মু’মিন থাকে না। তবে তারপরও তাওবাহ উন্মুক্ত।
—সহিহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮১০
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
জিনা তো এমনিতেই মারাত্মক কবিরাহ গুনাহ। তার ওপর সেটা যদি হয় আপন বোন কিংবা কোনো মাহরামের সাথে তাহলে তার ভয়াবহতা বলার অপেক্ষা রাখে না। শরঈ এবং সামাজিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই এটি মারাত্মক অপরাধ।
এর থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো, খাঁটি দ্বিলে আল্লাহ তায়ালার কাছে তাওবাহ করা।
তাওবার শর্তসমূহ:
তাওবা কবুল হওয়ার চারটি শর্ত।
গুনাহ বা অন্যায় কাজ থেকে তাওবা করা আবশ্যক। ওলামায়ে কেরাম তাওবা করাকে ওয়াজিব বলেছেন। গুনাহ যদি আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যকার বিষয় হয় এবং তাতে বান্দার হকের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকে, তবে তাওবা কবুল হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত পালন করা আবশ্যক।
প্রথম শর্ত : কৃত গোনাহের জন্যে আল্লাহর নিকট অনুতপ্ত হতে হবে।
দ্বিতীয় শর্ত : যেই গুনাহ থেকে তাওবাহ করছে সেই গুনাহ সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিতে হবে।
তৃতীয় শর্ত : সেই গুনাহের পুণরাবৃত্তি না ঘটানোর ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। এই তিনটি শর্তের মধ্যে যদি একটি শর্তও লঙ্ঘিত হয় তাহলে তাওবা শুদ্ধ হবে না। সেই তাওবার মাধ্যমে গুনাহ মাফের আশাও করা যাবে না।
চতুর্থ শর্ত : গোনাহের কাজটি যদি বান্দার হক সংশ্লিষ্ট হয় তাহলে উপরিউক্ত তিন শর্তের সাথে সাথে হকদার ব্যক্তির হক আদায় করে দিতে হবে অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে দাবি ছাড়িয়ে নিতে হবে। যেমন, অন্যায়ভাবে যদি অপরের ধনসম্পদ, মালালাম, জমিজমা বা অন্য যেকোনো বস্তু জোর-জবরদস্তিমূলক দখল করে নেয়, তবে তা ফেরত দিতে হবে। কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিলে আপবাদ আরোপকারীকে শরীয়ত নির্ধারিত হদ বা শাস্তি ভোগ করতে হবে। অথবা (অন্যায়ের শিকার) সংশ্লিষ্ট (মজলুম) ব্যক্তি থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। এমনকি কারো অনুপস্থিতিতে গীবত-শেকায়াত করলে সে ব্যাপারেও ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। এই চার শর্ত পালন না করলে গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়া যাবে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রকৃতপক্ষে তাওবা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
আমলের সূরাগুলো মুখে না পড়ে শুনলে সওয়াব পাওয়া যাবে কি না?
স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শুধুমাত্র হালাল বিনোদন, পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি এবং কিছুটা আনন্দময় সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে ঘরে দাবা বা ক্যারাম খেলা কি শরীয়তসম্মত?
দুনিয়াতে বেশি উদরপূর্তি করলে আখেরাতে বেশি ক্ষুধার্ত থাকবে- এর ব্যাখ্যা
আশুরার রোযার সাথে কাজা/ মান্নতের রোযার নিয়ত করা যাবে না
বিনোদনের জন্য অমুসলিম দেশে যাওয়ার বিধান
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১