কুরআন খতমের পর বখশানোর বিধান
প্রশ্নঃ ১৪৫৪৮৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কুরআন খতমের পর কি করতে হবে হুজুর দিয়ে বকশানো লাগবে কি?
২৫ মার্চ, ২০২৬
Dhamsur
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী! আল্লাহ তাআলা যেকোনো নেক আমলের পরই দোয়া কবুল করেন। একইভাবে, কুরআনুল কারিমের তেলাওয়াত শেষ করার সময়টিও দোয়া কবুল হওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ। সালাফে সালিহীনগণ কুরআন তেলাওয়াত সমাপ্ত করার সময় দোয়া করতেন। সুনানে দারিমীতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুরআন তেলাওয়াত শেষ করার পর তাঁর পরিবারকে একত্রিত করে তাদের জন্য দোয়া করতেন।
কিছু বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআন তেলাওয়াত শেষ করার সময় নিম্নোক্ত শব্দগুলো উচ্চারণ করে দোয়া করতেন।
"اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي بِالْقُرْآنِ وَاجْعَلْهُ لِي أِمَامًا وَنُورًا وَهُدًى وَرَحْمَةً اللَّهُمَّ ذَكِّرْنِي مِنْهُ مَا نُسِّيتُ وَعَلِّمْنِي مِنْهُ مَا جَهِلْتُ وَارْزُقْنِي تِلَاوَتَهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وأَطرَافَ النَّهَارِوَاجْعَلْهُ لِي حُجَّةً يَا رَبِّ الْعَالَمِينَ"
الزهد والرقائق لابن المبارک
"أنا عقبة بن عبد الله الرفاعي قال: حدثني القاسم بن عبيد قال: قلت لأنس بن مالك: يا أبا حمزة ادع الله لنا قال: الدعاء يرفعه العمل الصالح".
(زياديت الزهد برواية نعيم بن حماد، باب في التقوى، ص: 19، تحقیق: حبيب الرحمن الأعظمي)
احياء علوم الدین:
"قال حذيفة صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فابتدأ سورة البقرة فكان لا يمر بآية رحمة إلا سأل ولا بآية عذاب إلا استعاذ ولا بآية تنزيه إلا سبح فإذا فرغ قال ما كان يقول صلوات الله وسلامه عند ختم القرآن اللهم ارحمني بالقرآن واجعله لي إماما ونورا وهدى ورحمة اللهم ذكرني منه ما نسيت وعلمني منه ما جهلت وارزقني تلاوته آناء الليل وأطراف النهار واجعله لي حجة يا رب العالمين ".
(ربع العبادات، كتاب آداب تلاوة القرآن، الباب الثاني في ظاهر آداب التلاوة، 1/ 278، ط: دار المعرفة)
فتاویٰ ہندیہ :
"ويستحب له أن يجمع أهله وولده عند الختم ويدعو لهم، كذا في الينابيع".
(كتاب الكراهية، الباب الرابع في الصلاة والتسبيح ورفع الصوت عند قراءة القرآن5/ 317، ط: رشيدية)
তাই কুরআন কুরআন তেলাওয়াত সমাপ্ত করার পর নিজেই নিজের দোয়া করবে। তবে অধিকতর কবুল হওয়ার প্রত্যাশায় অন্য কাউকে দিয়েও দোয়া করানো জায়েজ আছে।
কিন্তু আমাদের সমাজে যেভাবে কুরআন খতমের পর ‘বখশানো’-এর প্রচলন আছে এবং এটাকে আবশ্যক মনে করা হয় এটা কিছুতেই শরীয়তসম্মত নয়। বরং এটাকেআবশ্যক মনে করলে সেটা সুস্পষ্ট বিদআত হিসেবে গণ্য হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১