ইস্তিখারার অর্থ, হাকিকত ও মাসনূন পদ্ধতি
প্রশ্নঃ ১৪৮৬৩৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার আরেকটা প্রশ্ন বিয়ের ক্ষেএে ইস্তেখারায় মন না টানার কারণ কি অকল্যানকর? মন না টানার পরও যদি সেখানেই বিয়ে হয় তাহলে এইটাকে কি ধরবো? আর এমন কিছু আছেকি যে ইস্তেখারায় মন টানেনা অকল্যানকর মনে হয়েছে এরপর কোনো আমল করার পর আবার ইস্তেখারায় মন টানে বা কল্যানকর মনে হয়েছে
১২ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা ১০০০
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
১. ইস্তিখারার অর্থ ও উদ্দেশ্য:
ইস্তিখারা শব্দের অর্থ হলো, আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা। কোনো বৈধ কাজের ক্ষেত্রে যখন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা বা দোটানা তৈরি হয়, তখন সর্বোত্তম পথটি বেছে নেওয়ার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাওয়াই হলো ইস্তিখারা।
২. ইস্তিখারার মর্ম:
ইস্তিখারার মূল কথা হলো, বান্দা তার নিজের অসম্পূর্ণ জ্ঞান ও ক্ষমতাকে আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়ে এই দোয়া করে, হে আল্লাহ! যে কাজে আমার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ রয়েছে, সেটিই আমার তকদিরে লিখে দিন; আর যা আমার জন্য অমঙ্গলজনক, তা থেকে আমাকে ফিরিয়ে রাখুন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসনূন আমল, যা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) শিখিয়েছেন।
৩. নিজের ইস্তিখারা নিজেই করা সুন্নাত:
ইস্তিখারা নিজের জন্য নিজে করাই সুন্নাতসম্মত পদ্ধতি। হাদীসের আলোকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে নিজ নিজ প্রয়োজনে নিজেই ইস্তিখারা করতে উৎসাহিত করতেন। সাহাবায়ে কেরাম দ্বীনি বিষয়ে পরামর্শের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আসতেন, কিন্তু তাঁকে দিয়ে ইস্তিখারা করাতেন না। সুতরাং অন্যকে দিয়ে ইস্তিখারা করানোর পরিবর্তে নিজেই তা করা উচিত।
৪. ফলাফলের ওপর আমল:
ইস্তিখারা করার পর সংশ্লিষ্ট কাজের প্রতি মনের যে ঝোঁক বা প্রশান্তি তৈরি হয়, সেটিই অনুসরণ করা উচিত। কারণ এতেই আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ নিহিত থাকে। আর যদি মনের সায় না পাওয়া যায়, তবে তা থেকে বিরত থাকাই মঙ্গলজনক। ইস্তিখারার বিপরীত কাজ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়েজ নয়; তবে যেহেতু ইস্তিখারার মাধ্যমে একটি সংকেত পাওয়া গেছে যে তাতে কল্যাণ নেই, তাই তা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তাই ইস্তিখারায় মন না টানা সাধারণত অকল্যাণের সংকেত হিসেবে দেখা হয়।
এখন যদি বিয়ে হয়েই যায়, তবে ভাববেন না যে আপনার জীবন নষ্ট হয়ে গেল। বরং ভাববেন আল্লাহ হয়তো কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে আপনাকে বড় কোনো সওয়াব দিতে চান।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১