অফিসে ডিউটি চলাকালীন সময়ে নামাজ পড়ার শরয়ী হুকুম
প্রশ্নঃ ১৫৮৯৫৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি অফিসে জামাতের সাথে যোহরের সালাত আদায় করি, চাইলে যোহরের সালাত বাইরে এসে ও পড়া যায় তবে একটু কষ্ট হয়ে যাবে, এখন প্রশ্ন হল আমি যে অফিসে সালাত আদায় করলাম এতে কি আমি অফিসের কাজের সময় নষ্ট করলাম, এর হিসাব কি আল্লাহ আমার কাছ থেকে নিবেন? প্রশ্নের উত্তরটা দিলে খুশি হতাম
২৬ জুন, ২০২৬
গাজীপুর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
অফিসে জামাতের সাথে যোহরের সালাত আদায় করার বিষয়ে আপনার এই দ্বীনি সচেতনতা এবং আমানতদারির ফিকির সত্যিই প্রশংসনীয়।
যথা সময়ে নামাজ শরিয়তে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
اِنَّ الصَّلٰوۃَ کَانَتۡ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ کِتٰبًا مَّوۡقُوۡتًا
অর্থ : নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।" [সূরা আন-নিসা: ১০৩]
হাদীসে আছে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত:
قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ العَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: «الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا»
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথাসময়ে নামাজ আদায় করা। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৭)
পরিপূর্ণ হাদীসের লিংক: https://muslimbangla.com/hadith/502
তাই একজন মুসলিমের জন্য যথাসময়ে নামাজ পড়া আবশ্যক। কোনো অবস্থাতেই কাজের অজুহাতে নামাজ কাযা করার সুযোগ নেই। আমাদের দেশসহ মুসলিম প্রধান দেশগুলিতে সাধারণত সব সরকারি ও বেসরকারি অফিসেই নামাজের জন্য একটি নির্ধারিত বিরতি বা বরাদ্দ থাকে; সে সময়ের মধ্যে নামাজ পড়ে নিতে তো কোনো সমস্যা নেই। তাতে অফিসের কাজের ক্ষতি হচ্ছে না।
আর নামাজের জন্য নির্ধারিত বিরতি বা বরাদ্দ যদি নাও থাকে, তবুও সাধারণত নামাজের সময়ে নামাজ পড়তে যাওয়া স্বীকৃত থাকে। নামাজে গেলে কর্তৃপক্ষ কিছু বলেন না। অলিখিতভাবে স্বীকৃত থাকে। এ অবস্থায় নামাজ তো পড়তে হবেই। এ ক্ষেত্রে নামাজ পড়ার জন্য যে পরিমাণ সময় ব্যয় করা হয়েছে, তা অফিসের কাজের সময় নষ্ট করা হয়েছে বলে গণ্য হবে না। বরং এ সময়ে নামাজ পড়তে যাওয়াই উচিত।
তবে নামাজের জন্য বের হয়ে অতিরিক্ত সময় কাটানো জায়েজ হবে না। এমন করলে তা অফিস কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব বা আমানতের খেয়ানত হিসেবে বিবেচিত হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
اِنَّ اللّٰہَ یَاۡمُرُکُمۡ اَنۡ تُؤَدُّوا الۡاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَہۡلِہَا
অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারকে আদায় করে দেবে।" [সূরা আন-নিসা: ৫৮]
আর যদি কোনো অফিসের অবস্থা এমন হয় যে, নামাজ পড়তে গেলে কর্তৃপক্ষ রাগারাগি করে বা নিষেধ করে, তাহলে যে সময়ে নাস্তা, খাওয়া-দাওয়া বা অন্য কাজের জন্য বিরতি দেয়, সে সময়ে নামাজ পড়ে নিতে হবে।
আর যদি এমন সুযোগও না পাওয়া যায়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব এখান থেকে চাকরি ছেড়ে যেখানে নামাজ পড়ার বাধা থাকবে না, এমন চাকরি খুঁজে নিতে হবে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَخَلَفَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ خَلۡفٌ اضَاعُوا الصَّلٰوۃَ وَاتَّبَعُوا الشَّہَوٰتِ فَسَوۡفَ یَلۡقَوۡنَ غَیًّا
অর্থ: "অতএব তাদের পরে আসলো এমন এক প্রজন্ম, যারা সালাত নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুগামী হলো। সুতরাং তারা শীঘ্রই ঘোর বিপদের (জাহান্নামের 'গাই' নামক উপত্যকার) সম্মুখীন হবে।" [সূরা মারইয়াম: ৫৯]
হাদিসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ: ذَكَرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَقَالَ: «مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَتْ لَهُ نُورًا، وَبُرْهَانًا، وَنَجَاةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ نُورٌ، وَلَا بُرْهَانٌ، وَلَا نَجَاةٌ، وَكَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُونَ، وَفِرْعَوْنَ، وَهَامَانَ، وَأُبَيِّ بْنِ خَلَفٍ»
অর্থ: "যে ব্যক্তি নিয়মিত নামাজ আদায় করবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, দলিল ও নাজাতের উসিলা হবে। আর যে ব্যক্তি নিয়মিত নামাজ আদায় করবে না, তার জন্য কোনো নূর, দলিল ও নাজাত থাকবে না। কিয়ামতের দিন তার হাশর হবে কারূন, ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালাফের সাথে।" [মুসনাদে ইমাম আহমাদ: ৬৫৭৬]
অপর দিকে যারা সময় মতো নামাজ আদায় করে, তাদের প্রশংসায় পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
رِجَالٌ ۙ لَّا تُلۡہِیۡہِمۡ تِجَارَۃٌ وَّلَا بَیۡعٌ عَنۡ ذِکۡרِ اللّٰہِ وَاِقَامِ الصَّלٰوۃِ وَاِیۡتَآءِ الزَّکٰوۃِ ۪ۙ یَخَافُوۡنَ یَوۡمًا تَتَقَلَّبُ فِیۡہِ الۡقُلُوۡبُ وَالۡاَبۡصَارُ لِیَجۡزِیَہُمُ اللّٰہُ اَحۡسَنَ مَا عَمِلُوۡا وَیَزِیۡدَہُمۡ مِّনۡ فَضۡលِہٖ ؕ وَاللّٰہُ یَرۡزُقُ مَنۡ یَّشَآءُ بِغَیۡرِ حِسَابٍ
অর্থ: "এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনা আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম ও যাকাত আদায় থেকে গাফেল করতে পারে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যে দিন অন্তর ও দৃষ্টি ওলট-পালট হয়ে যাবে। ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজের উত্তম বিনিময় দান করবেন এবং নিজ অনুগ্রহে অতিরিক্ত আরও কিছু দিবেন। আল্লাহ যাকে চান, তাকে দান করেন অপরিমিত।" [সূরা আন-নূর: ৩৭-৩৮]
আপনার উত্তরের সারকথা হলো, অফিসে কাজের সময়ে নামাজ আদায় করার দ্বারা অফিসের কাজের সময় নষ্ট করা হচ্ছে না। বরং নামাজ না পড়া হলে বড় গুনাহগার হয়ে যেতে হবে, ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তাই খুব সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনোভাবে নামাজ কাযা হয়ে না যায়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী আবু সাঈদ
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১