ক্রয়ের সময় বেশি মেপে নেওয়ার অপরাধ
প্রশ্নঃ ১৪৯৫৩৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি মুহাম্মাদ ইলিয়াছ, রাজবাড়ী, আমাদের এলাকার হাট বাজারে কৃষক পিঁয়াজ রসুন বিক্রি করার সময় ব্যাপারিরা এক মণের সাথে ২/৩ কেজি ঢলন নেয়, আমি যানতে চাচ্ছি ইসলামী শরীয়তে ঢলন নেওয়ার বিধান কি?
১০ মে, ২০২৬
বালিয়াকান্দি
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
এভাবে বেশি নেওয়া কি ওখানে ব্যবসায়ী মহলে স্বীকৃত? যেসব কৃষক ওখানে তাদের ফল/ফসল বিক্রি করেন তারা কি এটায় সন্তুষ্ট? নাকি পরিস্থিতির শিকার হয়ে মেনে নিতে বাধ্য হন? যদি বাধ্য হয়ে মেনে নিতে হয় তাহলে বুঝা গেল এটাতে কৃষকের (সাধারণ বিক্রেতার) অনুমতি থাকে না। তাই এটা জায়েজ হবে না। কেননা কুরআনুল কারিমের সুরা মুতাফফিফীনের ১-৪ আয়াত পর্যন্ত এজাতীয় লোকদের নিন্দা করা হয়েছে। যার নিজেরা কেনার সময়, মেপে নেওয়ার সময় বেশি নেয় কিন্তু বিক্রি করার সময় ওজনে কম দেয়!
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
وَیۡلٌ لِّلۡمُطَفِّفِیۡنَ ۙ ١الَّذِیۡنَ اِذَا اکۡتَالُوۡا عَلَی النَّاسِ یَسۡتَوۡفُوۡنَ ۫ۖ ٢وَاِذَا کَالُوۡہُمۡ اَوۡ وَّزَنُوۡہُمۡ یُخۡسِرُوۡنَ ؕ ٣اَلَا یَظُنُّ اُولٰٓئِکَ اَنَّہُمۡ مَّبۡعُوۡثُوۡنَ ۙ
যারা মাপে কম করে, তাদের জন্য বড় দুর্ভোগ, তারা যখন লোকের কাছ থেকে (নিজেদের প্রাপ্য) মেপে নেয়, তখন পূর্ণমান্ত্রায় নেয় এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়। (অবশ্য লোকদের কাছ থেকে নিজের প্রাপ্য পূর্ণমাত্রায় নেওয়া নিন্দনীয় নয় কিন্তু এ কাজের নিন্দা করা এর উদ্দেশ্য নয় বরং কম দেওয়ার নিন্দাকে জোরদার করার জন্য এর উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কম দেওয়া যদিও এমনিতে নিন্দনীয় কিন্তু এর সাথে অপরের এতটুকুও খাতির না করা আরও বেশী নিন্দনীয়। যে অপরের খাতির করে, তার মধ্যে কম দেওয়ার দোষ থাকলেও একটি গুণও রয়েছে। তাই প্রথমোক্ত ব্যক্তির দোষ গুরুতর। এখানে আসল উদ্দেশ্য কম দেওয়ার নিন্দা করা, তাই মাপ ও ওজন উভয়টিই উল্লিখিত হয়েছে।
পূর্ণমাত্রায় নেওয়া এমনিতে দৃষণীয় নয়। তাই এক্ষেত্রে মাপ ও ওজন উভয়টি উল্লেখ করা হয়নি বরং মাপের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
মাপের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ সম্ভবত এই যে, আরবে মাপের প্রচলনই বেশী ছিল। বিশেষত আয়াতটি মদীনায় অবতীর্ণ হলে—যেমন, রাহুল মা’আনী বর্ণনা করেছেন—এই কারণ, আরও সুস্পষ্ট। কেননা, মদীনায় মাপের প্রচলন মক্কার চেয়ে বেশী ছিল। অতঃপর যারা এরূপ করে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে) তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা এক মহাদিবসে পুনরুন্বিত হবে, যেদিন সব মানুষ বিশ্ব পালনকর্তার সামনে দণ্ডায়মান হবে? (অর্থাৎ সেদিনকে ভয় করা উচিত এবং মানুষের হক নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
এই পুনরুত্থান ও প্রতিদানের কথা শুনে মু’মিনগণ ভীত হয়ে গেল এবং কাফিররা অস্বীকার করতে লাগল। অতঃপর কাফিরদেরকে হুঁশিয়ার করে উভয়পক্ষের প্রতিদান ও শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে। কাফিররা যেমন প্রতি দান ও শাস্তিকে অস্বীকার করে) কখনও (এরূপ) নয়, বরং প্রতিদান ও শাস্তি অবশ্য স্থাবী এবং যেসব কর্মের কারণে প্রতিদান ও শাস্তি হবে তাও সুনির্দিষ্ট। এর বিবরণ এই যে) পাপাচারীদের (অর্থাৎ কাফিরদের) আমলনামা সিজ্জীনে থাকবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১