ইতিকাফ অবস্থায় ফরজ গোসলের সময় কাপড় ধোয়া
প্রশ্নঃ ১৪৪৭৫৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ইতেকাফ অবস্থায় ফরজ গোসল করে কি গেন্জি ও লুঙ্গি ধোয়া যাবে?
১৫ মার্চ, ২০২৬
Bailar
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, কাপড় ধোয়া না শরয়ি প্রয়োজন আর না এটি প্রাকৃতিক প্রয়োজন । সুতরাং, এই কাজে সামান্য সময়ের জন্যেও মসজিদের বাইরে যাওয়া বা অবস্থান করা যাবে না। যদি কেউ কাপড় ধুতে সামান্য সময়ের জন্যেও মসজিদের বাইরে চলে যায় বা অবস্থান করে ,তবে তার 'মাসনুন ইতিকাফ' নষ্ট হয়ে যাবে।
* তবে ইতিকাফ অবস্থায় ফরজ গোসল করতে যাওয়া একটি 'শরয়ি প্রয়োজন'। এই গোসল করার সময় যতটুকু সময় গায়ে পানি দিতে ব্যয় হয়, সেই সময়ের মধ্যে যদি আপনি দ্রুত গেঞ্জি বা লুঙ্গি ধুয়ে নেন, তবে তাতে ইতিকাফ ভাঙ্গবে না।
সতর্কতাঃ ফরজ গোসলের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি সময় কেবল কাপড় ধোয়ার জন্য ব্যয় করলে ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে। তাই নিজে না ধুয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে ধোয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। না হয় সামান্য অসতর্কতা ইতিকাফ ভাঙ্গের কারণ হতে পারে।
* অবশ্য, যদি পরিধানের জন্য অন্য কোনো কাপড় না থাকে এবং ধুয়ে দেওয়ার মতোও কেউ না থাকে, তবে প্রথমত ধোপা বা অন্য কাউকে দিয়ে ধোয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। যদি তার সামর্থ্য না থাকে, তবে অন্য লোকদের উচিত তাকে সহযোগিতা করা এবং কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া।
* যদি কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকে এবং নিজেকেই কাপড় ধুতে হয়, তবে মসজিদের সীমানার ভেতরে অবস্থান করেই কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: ব্যক্তি নিজে মসজিদের ভেতরে বসবে এবং কাপড়গুলো মসজিদের সীমানার বাইরে রেখে ধোবে, যাতে পানি মসজিদের বাইরে পড়ে।
* হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফে থাকতেন এবং তাঁর মাথা ধোয়ার বা চুলে চিরুনি করার প্রয়োজন হতো, তখন তিনি ইতিকাফের জায়গায় (মসজিদের ভেতরে) অবস্থান করেই তাঁর মাথা মোবারক হযরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরার দিকে বাড়িয়ে দিতেন। তখন হযরত আয়েশা (রা.) তাঁর মাথা ধুয়ে দিতেন বা চিরুনি করে দিতেন।
أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَتْ: وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَيُدْخِلُ عَلَيَّ رَأْسَهُ وَهُوَ فِي المَسْجِدِ، فَأُرَجِّلُهُ، وَكَانَ لاَ يَدْخُلُ البَيْتَ إِلَّا لِحَاجَةٍ إِذَا كَانَ مُعْتَكِفًا»
নবী সহধর্মিণী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে থাকাবস্থায় আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম এবং তিনি যখন ই’তিকাফে থাকতেন, তখন (প্রাকৃতিক) প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না। (সহীহ বুখারী, হাদীস নংঃ ২০২৯)
(حاشیۃ الطحطاوی، كتاب الاعتكاف،باب الاعتكاف،٧٠٣،ط:دار الكتب العلمية)
'' قوله: "بلا عذر معتبر" أي في عدم الفساد فلو خرج لجنازة محرمة أو زوجته فسد ؛ لأنه وإن كان عذراً إلا أنه لم يعتبر في عدم الفساد، قوله: "ولا إثم عليه به" أي بالعذر أي وأما بغير العذر فيأثم ؛ لقوله تعالى: ﴿ وَلَا تُبْطِلُوْآ اَعْمَالَكُمْ ﴾''
(فتاوى ہندية، كتاب الصوم وفيه سبعة أبواب، الباب السابع: في الإعتكاف،1 /212 ط:رشیدیة)
"(وأما مفسداته) فمنها الخروج من المسجد فلا يخرج المعتكف من معتكفه ليلا ونهارا إلا بعذر، وإن خرج من غير عذر ساعة فسد اعتكافه في قول أبي حنيفة - رحمه الله تعالى - كذا في المحيط. سواء كان الخروج عامدا أو ناسيا هكذا في فتاوى قاضي خان."
(فتاوی شامی، کتاب الصوم،باب،الإعتكاف، 2 /444،ط:سعید)
"(وحرم عليه) أي على المعتكف اعتكافا واجبا أما النفل فله الخروجلأنه منه لا مبطل كما مر (الخروج إلا لحاجة الإنسان) طبيعية كبول وغائط وغسل لو احتلم ولا يمكنه الاغتسال في المسجد كذا في النهر (أو) شرعية كعيد وأذان لو مؤذنا وباب المنارة خارج المسجد و (الجمعة وقت الزوال ومن بعد منزله) أي معتكفه (خرج في وقت يدركها) (فلو خرج) ولو ناسيا (ساعة) زمانية لا رملية كما مر (بلا عذر فسد) فيقضيه إلا إذا أفسده بالردة واعتبرا أكثر النهار قالوا: وهو الاستحسان وبحث فيه الكمال (و) إن خرج (بعذر يغلب وقوعه) وهو ما مر لا غير (لا) لا يفسد وأما ما لا يغلب كإنجاء غريق وانهدام مسجد فمسقط للإثم لا للبطلان وإلا لكان النسيان أولى بعدم الفساد كما حققه الكمال خلافا لما فصله الزيلعي وغيره مع سنتها يحكم في ذلك رأيه، ويستن بعدها أربعا أو ستا على الخلاف، ولو مكث أكثر لم يفسد لأنه محل له وكره تنزيها لمخالفة ما التزمه بلا ضرورة."
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১