ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক প্রশান্তি অর্জনের শরয়ি পথ।
প্রশ্নঃ ১৪৩২২৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার সাথে কেউ খারাপ কিছু করলে আমি তাকে সরাসরি খারাপ কিছু বলতে না পারলেও মনে মনে অনেক খারাপ কথা বলি এই কথাগুলো বলার পরে আমার মনটা শান্ত হয় আর ওই মানুষটার সাথে খারাপ ব্যবহার করিনা এখন এটা কি ভুল নাকি ঠিক ইসলামিক অনুযায়ী
৬ মার্চ, ২০২৬
চট্টগ্রাম
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনি যে কারো খারাপ ব্যবহারের জবাবে সাথে সাথে চড়াও হচ্ছেন না বা খারাপ ব্যবহার করছেন না, এটি ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং একটি বড় গুণ। একে কজমে গয়জ বা রাগ সংবরণ করা বলা হয়।
আল্লাহ তাআলা জান্নাতিদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন,
وَالۡکٰظِمِیۡنَ الۡغَیۡظَ وَالۡعَافِیۡنَ عَنِ النَّاسِ ؕ وَاللّٰہُ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ۚ
যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে; আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১৩৪)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
ليسَ الشَّديدُ بالصُّرَعَةِ ، إنَّما الشَّديدُ الَّذي يملِكُ نفسَه عندَ الغَضبِ
সেই ব্যক্তি শক্তিশালী নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারিয়ে দেয়, বরং সেই প্রকৃত শক্তিশালী যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (সহিহ বুখারি)
সুতরাং, আপনি যে তাকে সরাসরি কিছু বলছেন না, এটি আপনার চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রমাণ।
মনে মনে কোনো খারাপ চিন্তা আসা বা কারো ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করা গোনাহ নয়, যতক্ষণ না তা মুখে প্রকাশ করা হয় বা কাজে রূপান্তর করা হয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَا وَسْوَسَتْ بِهِ أَنْفُسُهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ
নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের ওয়াসওয়াসা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা মুখে উচ্চারণ করে বা কাজে পরিণত করে। (সহিহ মুসলিম)
তাই মনে মনে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের মন শান্ত করা সরাসরি কোনো গোনাহ নয়। তবে এটি আপনার মনের পবিত্রতা বা আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য একটি নিচু স্তর। দীর্ঘ সময় মনে ঘৃণা বা অভিশাপ পুষে রাখলে নিজের মনে বিষণ্ণতা তৈরি হতে পারে।
প্রিয় প্রশ্নকারী, যখন কেউ আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে এবং আপনার মনে খারাপ কথা আসবে, তখন মন শান্ত করার জন্য নিচের পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন,
১. হসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল, এই জিকিরটি পড়ুন। এর অর্থ, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। বিচার আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিলে মন দ্রুত শান্ত হয়।
২. ভাবুন যে, সে যা করেছে তার জন্য সে আল্লাহর কাছে দায়ী থাকবে, আমি বরং তাকে ক্ষমা করে দিয়ে আল্লাহর কাছে এর চেয়ে বড় পুরস্কার চাই।
৩. এটি সবচেয়ে কঠিন কিন্তু সবচেয়ে সওয়াবের কাজ। মনে মনে তার জন্য দোয়া করুন, হে আল্লাহ, আপনি তাকে সঠিক বুঝ দিন। এটি আপনার মনকে অনেক বেশি প্রশান্তি দেবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১