কম্পিউটার ল্যাপটপ ডেক্সটপ প্রিন্টার সেল ও সার্ভিস এর পার্টনারশিপ ব্যবসা
প্রশ্নঃ ১৩৬৪৮৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে কম্পিউটার. লেপটপ. ডেক্সটপ. প্রিন্টার. স্ক্যানার. সেল এবং সার্ভিস দুটোই করা হয় প্রতিষ্ঠানের বয়স ১৪ বছর ১৪ বছরের মাথায় ব্যবসা কে একটু বড় করার চিন্তাভাবনা করি তাই আমার এক বন্ধুর সাথে পার্টনারশিপে ব্যবসা করার চিন্তা ভাবনা করি ও এইভাবে আলোচনা করি যে আমার কাছে বা দোকানে যত পার্টস পোডাক্ট আছে সব তার কাছে বিক্রি করে দিব পরবর্তীতে যত মালামাল লাগবে সব তুমি দিবা এবং দোকান ভাড়া এডভাঞ্চ সহ । আমার শুধু 14 বছরের পরিচিতি ও ব্যবসার পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে. এখানে নতুন পুরাতন মাল বিক্রি ও রিপেয়ারের কাজ এখানথেকে লভ্যাংশ 2 ভাগ করে 2 জন নিয়ে নিব . দোকানের ভিতরে মাসিক খরচ লভ্যাংশ থেকে করা হবে। ওই মুহূর্তে আমার দোকানে প্রায় চার লাখ টাকার মাল ছিল এগুলো আমি সব ওর কাছে বিক্রি করে দেই পরে ওকে বলি এখন তোমার মাল আমি বিক্রি করে দিব আমার দোকানে রেখে যা লাভ হবে দুজনের সমান সমান ভাগ করে নিব এবং চুক্তি করা হয় যে ভবিষ্যতে যত মাল কিনতে হবে এগুলা তুমি কিনে দিবা আমি ওই মাল বিক্রি করে যা লাভ হয় দুজনের সমান সমান নিব এই মর্মে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলতে থাকলো হঠাৎ ৮ মাসের মাথায় আমার ব্যবসায় আরো পুঁজি দরকার পরে তখন আমার বন্ধু বলে আমি আর ইনভেস্ট করতে পারবোনা এমত অবস্থায় আমার করনীয় কি
1 যেহেতু আমার পুঁজি দরকার তাই আমি বলেছিলাম আরেকজন পার্টনার এড করি তখন আমার বন্ধু একটুও মনে ক্ষুন্ন হয় কেনো আমি আরেকজন পার্টনার নিবো এই অবস্থায় আমার কি করনীয়
2 আমার দোকান বিগত ১৪ বছর এর একটা রানিং প্রতিষ্ঠান. এখন এইখানে নতুন করে আমার বন্ধুকে ব্যবসায়িক পার্টনার বানালে তার সাথে লভ্যাংশের হিসাবটা কিভাবে করা হবে । এখন যেমন 50% হিসাব করে একটা ডিল করে ছিলাম । আট মাসের মাথায় দেশের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় লভ্যাংশ কমেগেলে তখন এই বিসয় টা ও মাথায় আসে যে তিল তিল করে ব্যবসা গরছি এখন কিছু টাকার জন্য 50% দিয়ে দিচ্ছি । দলিলে লেখালেখির পর আমি চাইলেও তখন আমার মন মতো কিছু হবে না নিয়ম মত সব কিছু হবে ।
3 আমি ব্যবসার দেখাশুনা করি এখানে আরেকটি বিষয়. আমি তো দোকানে সার্ভিসিং এর কাজ আমি নিজে করি এটার কি কোন বেনিফিট নেওয়ার সুযোগ আছে কি? এই মুহূর্তে আমার বন্ধু ব্যবসা থেকে বের হতে চাইলে কি ধরনের নিয়মের ভিতর দিয়ে যেতে হবে আর যদি নতুন ভাবে পরামর্শের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করি তখন কি করা যেতে পারে
উপর উল্লেখিত বিষয়গুলো দলিল আকারে লিপিবদ্ধ করার জন্য শরীয়ত মোতাবেক একটি সমাধান চাই.
এবং যতটুক চুক্তি করেছি এটা শরীয়তের আলোকে কতটুকু হয়েছে. বা না হলে কিভাবে করা যেতে পারে পরামর্শ চাই
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লাহ তাআলা পার্টনারশিপ ব্যবসার মধ্যে বারাকাহ রেখেছেন। বরকতের জন্য শর্ত হলো, উভয়ে বিশ্বস্ততা এবং আমানতদারিতার সাথে ব্যবসা করতে হবে। কোন ধরনের প্রতারণা, ধোকাবাজি, মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া যাবে না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَفَعَهُ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ أَنَا ثَالِثُ الشَّرِيكَيْنِ، مَا لَمْ يَخُنْ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ فَإِذَا خَانَهُ خَرَجْتُ مِنْ بَيْنِهِمَا " .
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি দুই শরীকের মধ্যে তৃতীয় যতক্ষণ না তারা একে অপরের প্রতি খিয়ানত করে। এরপর যখন তাদের কেউ অন্যের প্রতি খিয়ানত করে, তখন আমি তাদের সংশ্রব পরিত্যাগ করি। (ফলে সে যৌথ কারবারে বরকত উঠে যায়।)
-সুনানে আবু দাউদ ৩৩৮৩
১. আপনার বন্ধুর কাছ থেকে এই মুহূর্তে ব্যবসার আরো পুঁজি পেয়ে থাকলে সেটাই আপনার জন্য ভালো।
অবস্থা যদি এমন হয় আপনার বন্ধু পুঁজি বাড়াতে অসম্মত। এদিকে আপনার পুঁজি অবশ্যই প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে অন্য কোন অংশীদার থেকে পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন।
২. লভ্যাংশের ভাগাভাগি উভয়পক্ষের সম্মতি এবং চুক্তির ভিত্তিতে হতে হবে। সচরাচর যিনি সময়-শ্রম-মেধা ব্যয় করেন, লভ্যাংশ তার বেশি হয়ে থাকে। আপনার শ্রম-মেধা-সময় যদি একক হয়ে থাকে, পুঁজি আপনার বন্ধুর হয়ে থাকে, তাহলে আপনি ৫০% লাভ এর জায়গায় ৬০-৭০% পর্যন্ত লভ্যাংশ নেয়ার চুক্তি করে নিতে পারেন। তবে সেটা অবশ্যই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং সম্মতির ভিত্তিতে হতে হবে।
৩. যখন প্রথমবার চুক্তি করেছেন তখন নির্দিষ্ট একটা মেয়াদে চুক্তি হয়ে থাকার কথা। সেই মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে আবার চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারেন।
এখন নতুন চুক্তি করতে গেলে অভিজ্ঞতার আলোকে যেসব বিষয়গুলো সামনে এসেছে, সেগুলো চুক্তিতে লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। যেমন সার্ভিসিং এর বাবদে প্রাপ্ত পুরো টাকা আপনার থাকবে মর্মে চুক্তি করতে পারেন।
আপনার বন্ধু যদি দোকানের এডভান্সে অংশীদারি নিয়ে থাকেন, তাহলে সার্ভিসিং এর কিছু অর্থ তিনিও পাবেন। যেহেতু আপনি এই দোকানে বসে সার্ভিসিং এর কাজ করছেন।
আপনি এখানে যতটুকু উল্লেখ করেছেন এর মধ্যে শরীয়ত বিরোধী চুক্তি দেখা যায়নি।
আমাদের পরামর্শ থাকবে নতুন চুক্তি করতে গেলে অথবা চুক্তি নবায়ন করতে গেলে অভিজ্ঞ কোন আলিমের পরামর্শ নিয়ে এবং চুক্তিনামা কোন আলিমকে দেখিয়ে চূড়ান্ত করা উচিত হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া
খতীব, নবোদয় সি ব্লক জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
ইমাম, বায়তুল ওয়াহহাব জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
প্রত্যেক রোগের জন্য ওষুধ আছে : হাদিসের ব্যাখ্যা ও শিক্ষা
বড় বোনকে নাম ধরে ডাকা, এটা কি শরিয়তসম্মত?
কোনো ব্যক্তি নারীদের পোশাক, অলংকার ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বিক্রি করলে, কোনো বেপর্দা নারী তা ক্রয় করে পরিধান করলে বা এসব উপহার হিসেবে কোনো বেপর্দা নারীকে দিলে, সে ব্যক্তি কি গুনাহের ভাগীদার হবে?
উত্তম ঋণ পরিশোধকারী
মান্নতের গরু বিক্রি করার হুকুম