কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
كتاب السنن للإمام أبي داود
২. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১১৬৫ টি
হাদীস নং: ১২৭১
আন্তর্জাতিক নং: ১২৭১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০২. আসরের ফরয নামাযের পূর্বে নামায পড়া সম্পর্কে।
১২৭১. আহমাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের ফরয নামাযের পূর্বে চার রাকআত নামায পড়বে আল্লাহ তাআলা তার উপর রহমত বর্ষণ করুন।
كتاب الصلاة
باب الصَّلاَةِ قَبْلَ الْعَصْرِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنِي جَدِّي أَبُو الْمُثَنَّى، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا " .
হাদীস নং: ১২৭২
আন্তর্জাতিক নং: ১২৭২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০২. আসরের ফরয নামাযের পূর্বে নামায পড়া সম্পর্কে।
১২৭২. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মহানবী (ﷺ) আসরের (ফরয) নামাযের পূর্বে দুই রাকআত (নফল) নামায পড়তেন।
كتاب الصلاة
باب الصَّلاَةِ قَبْلَ الْعَصْرِ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ১২৭৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৩. আসরের ফরয নামাযের পর নামায পড়া সম্পর্কে।
১২৭৩. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়েব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ), আব্দুর রহমান ইবনে আযহার (রাযিঃ) এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) এর খিদমতে এই সংবাদসহ প্রেরণ করেন যে, তুমি তাঁকে আমাদের সকলের পক্ষ হতে সালাম দিবে অতঃপর আসরের পর দুই রাকআত নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। তাঁকে এও বলবে যে, আমরা জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।
কুরায়েব বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম জানিয়ে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি বলেন, তুমি এই সম্পর্কে উম্মে সালামা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা কর। অতএব আমি তাঁদের নিকট ফিরে আসি। অতঃপর তাঁরা আবার আমাকে ঐ বার্তাসহ উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করেন, যা নিয়ে তাঁরা আমাকে আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন।
আমি উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দুই রাকআত নামায (আসরের পরে) পড়তে নিষেধ করতে শুনেছি এবং আমি তাঁকে ঐ দুই রাকআত নামায পড়তেও দেখেছি। ঐ দুই রাকআত নামায আদায়ের ঘটনা এই যে, একদা তিনি আসরের নামাযের পর ঘরে ফিরে নামাযে দণ্ডায়মান হন। এই সময় আনসারদের বনী হারাম গোত্রের কিছু সংখ্যক মহিলা আমার নিকট উপস্থিত ছিল। আমি তাঁর নিকট জনৈক দাসীকে প্রেরণ করে বলি, তুমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলবে, উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেছেন, ‘‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে এই দুই রাকআত নামায আদায়ের ব্যাপারে নিষেধ করতে শুনেছি এবং আমি এখন তা আপনাকে আদায় করতে দেখছি।’’ তিনি যদি হাত দ্বারা ইশারা করেন, তবে তুমি অপেক্ষা করবে। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর দাসীটি আমার নির্দেশমত কাজ করলে নবী করীম (ﷺ) ইশারা করলে সে অপেক্ষা করে।
তিনি নামায শেষে বলেনঃ হে আবু উমাইয়ার কন্যা! তুমি আমাকে আসরের পর দুই রাকআত নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আজ আব্দুল কায়েস গোত্রের কিছু সংখ্যক লোক ইসলামের ব্যাপারে জানবার জন্য আমার নিকট আগমন করে, তাদের সাথে কথাবার্তায় মশগুল থাকায় আমি যোহরের পরের দুই রাকআত নামায আদায় করতে পারিনি, এখন তা আদায় করলাম।
কুরায়েব বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম জানিয়ে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি বলেন, তুমি এই সম্পর্কে উম্মে সালামা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা কর। অতএব আমি তাঁদের নিকট ফিরে আসি। অতঃপর তাঁরা আবার আমাকে ঐ বার্তাসহ উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করেন, যা নিয়ে তাঁরা আমাকে আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন।
আমি উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দুই রাকআত নামায (আসরের পরে) পড়তে নিষেধ করতে শুনেছি এবং আমি তাঁকে ঐ দুই রাকআত নামায পড়তেও দেখেছি। ঐ দুই রাকআত নামায আদায়ের ঘটনা এই যে, একদা তিনি আসরের নামাযের পর ঘরে ফিরে নামাযে দণ্ডায়মান হন। এই সময় আনসারদের বনী হারাম গোত্রের কিছু সংখ্যক মহিলা আমার নিকট উপস্থিত ছিল। আমি তাঁর নিকট জনৈক দাসীকে প্রেরণ করে বলি, তুমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলবে, উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেছেন, ‘‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে এই দুই রাকআত নামায আদায়ের ব্যাপারে নিষেধ করতে শুনেছি এবং আমি এখন তা আপনাকে আদায় করতে দেখছি।’’ তিনি যদি হাত দ্বারা ইশারা করেন, তবে তুমি অপেক্ষা করবে। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর দাসীটি আমার নির্দেশমত কাজ করলে নবী করীম (ﷺ) ইশারা করলে সে অপেক্ষা করে।
তিনি নামায শেষে বলেনঃ হে আবু উমাইয়ার কন্যা! তুমি আমাকে আসরের পর দুই রাকআত নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আজ আব্দুল কায়েস গোত্রের কিছু সংখ্যক লোক ইসলামের ব্যাপারে জানবার জন্য আমার নিকট আগমন করে, তাদের সাথে কথাবার্তায় মশগুল থাকায় আমি যোহরের পরের দুই রাকআত নামায আদায় করতে পারিনি, এখন তা আদায় করলাম।
كتاب الصلاة
باب الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَزْهَرَ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا اقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنَّا جَمِيعًا وَسَلْهَا عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَقُلْ إِنَّا أُخْبِرْنَا أَنَّكِ تُصَلِّينَهُمَا وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهُمَا . فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا فَبَلَّغْتُهَا مَا أَرْسَلُونِي بِهِ فَقَالَتْ سَلْ أُمَّ سَلَمَةَ . فَخَرَجْتُ إِلَيْهِمْ فَأَخْبَرْتُهُمْ بِقَوْلِهَا فَرَدُّونِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِمِثْلِ مَا أَرْسَلُونِي بِهِ إِلَى عَائِشَةَ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْهُمَا ثُمَّ رَأَيْتُهُ يُصَلِّيهِمَا أَمَّا حِينَ صَلاَّهُمَا فَإِنَّهُ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَخَلَ وَعِنْدِي نِسْوَةٌ مِنْ بَنِي حَرَامٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَصَلاَّهُمَا فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ الْجَارِيَةَ فَقُلْتُ قُومِي بِجَنْبِهِ فَقُولِي لَهُ تَقُولُ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَسْمَعُكَ تَنْهَى عَنْ هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ وَأَرَاكَ تُصَلِّيهِمَا فَإِنْ أَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخِرِي عَنْهُ . قَالَتْ فَفَعَلَتِ الْجَارِيَةُ فَأَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخَرَتْ عَنْهُ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " يَا بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ سَأَلْتِ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِنَّهُ أَتَانِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ بِالإِسْلاَمِ مِنْ قَوْمِهِمْ فَشَغَلُونِي عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَهُمَا هَاتَانِ " .
হাদীস নং: ১২৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ১২৭৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৪. সূর্য উপরে থাকতেই তা আদায়ের অনুমতি সম্পর্কে।
১২৭৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর (নফল) নামায পড়তে নিষেধ করেছেন; তবে যদি সূর্য উপরে থাকে।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَخَّصَ فِيهِمَا إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مُرْتَفِعَةً
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ الأَجْدَعِ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِلاَّ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ১২৭৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৪. সূর্য উপরে থাকতেই তা আদায়ের অনুমতি সম্পর্কে।
১২৭৫. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সালল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়াসালল্লাম প্রত্যেক ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। তবে তিনি ফজর ও আসরের ফরয নামাযের কোন নামায পড়তেন না।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَخَّصَ فِيهِمَا إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مُرْتَفِعَةً
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي إِثْرِ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ رَكْعَتَيْنِ إِلاَّ الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ১২৭৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৪. সূর্য উপরে থাকতেই তা আদায়ের অনুমতি সম্পর্কে।
১২৭৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি যাদের মধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-ও ছিলেন এবং তিনিই আমার নিকট অধিক প্রিয় ছিলেন, বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ফজরের নামাযের পর সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত কোন নামায নাই। একইরূপে আসরের ফরয নামাযের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন নামায নাই।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَخَّصَ فِيهِمَا إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مُرْتَفِعَةً
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ شَهِدَ عِنْدِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ১২৭৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৪. সূর্য উপরে থাকতেই তা আদায়ের অনুমতি সম্পর্কে।
১২৭৭. আর-রবী ইবনে নাফে (রাহঃ) .... আমর ইবনে আনবাসা আস-সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাতের কোন অংশে আল্লাহ পাক দুআ অধিক কবুল করেন? তিনি বলেনঃ রাতের শেষাংশে। অতএব তখন তুমি তোমার ইচ্ছামত নামায আদায় করবে। কেননা ঐ সময়ের নামাযে বিশেষ ফিরিশতারা উপস্থিত হয়ে তা তাদের নিকট রক্ষিত আমলনামায় লিপিবদ্ধ করে নেয় এবং তারা ফজরের সূর্য উঠা পর্যন্ত উপস্থিত থাকে। অতঃপর তুমি সূর্য উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং এর পরিমাণ হল, এক বা দুই তীরের সমান। কেননা সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং ঐ সময় কাফিররা শয়তানের পূজা করে। অতঃপর তোমার ইচ্ছানুযায়ী নামায আদায় করবে। কেননা প্রত্যেক নামাযের সময়ই ফিরিশতারা দফতরসহ উপস্থিত হয়ে থাকে এবং ঠিক দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত নামায আদায় করা যায়।
অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। কেননা এই সময় জাহান্নামের আগুন প্রবলভাবে উদ্দীপিত হতে থাকে এবং এর দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর তুমি তোমার খুশীমত আসরের পূর্ব পর্যন্ত নামায আদায় করতে পার। কেননা প্রত্যেক নামাযের সময় ফেরেশাতার হাযির হয়ে থাকে। আসরের ফরয নামায আদায়ের পর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনরূপ নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কেননা শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে সূর্য অস্তচলে যায় এবং কাফিররা ঐ সময় শয়তানের পূজা করে থাকে। অতঃপর রাবী দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন।
রাবী আব্বাস ইবনে সালিম (রাহঃ) বলেন, আবু সালামা (রাহঃ) ......... আবু উমামা (রাযিঃ) হতে আমার নিকট ঐরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমার বর্ণনায় কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকে সেজন্য আমি আল্লাহর নিকটে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। কেননা এই সময় জাহান্নামের আগুন প্রবলভাবে উদ্দীপিত হতে থাকে এবং এর দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর তুমি তোমার খুশীমত আসরের পূর্ব পর্যন্ত নামায আদায় করতে পার। কেননা প্রত্যেক নামাযের সময় ফেরেশাতার হাযির হয়ে থাকে। আসরের ফরয নামায আদায়ের পর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনরূপ নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কেননা শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে সূর্য অস্তচলে যায় এবং কাফিররা ঐ সময় শয়তানের পূজা করে থাকে। অতঃপর রাবী দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন।
রাবী আব্বাস ইবনে সালিম (রাহঃ) বলেন, আবু সালামা (রাহঃ) ......... আবু উমামা (রাযিঃ) হতে আমার নিকট ঐরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমার বর্ণনায় কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকে সেজন্য আমি আল্লাহর নিকটে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَخَّصَ فِيهِمَا إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مُرْتَفِعَةً
حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ السُّلَمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ اللَّيْلِ أَسْمَعُ قَالَ " جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَصَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَكْتُوبَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الصُّبْحَ ثُمَّ أَقْصِرْ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَتَرْتَفِعَ قِيْسَ رُمْحٍ أَوْ رُمْحَيْنِ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَتُصَلِّي لَهَا الْكُفَّارُ ثُمَّ صَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَكْتُوبَةٌ حَتَّى يَعْدِلَ الرُّمْحُ ظِلَّهُ ثُمَّ أَقْصِرْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ تُسْجَرُ وَتُفْتَحُ أَبْوَابُهَا فَإِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ فَصَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ ثُمَّ أَقْصِرْ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَيُصَلِّي لَهَا الْكُفَّارُ " . وَقَصَّ حَدِيثًا طَوِيلاً قَالَ الْعَبَّاسُ هَكَذَا حَدَّثَنِي أَبُو سَلاَّمٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ إِلاَّ أَنْ أُخْطِئَ شَيْئًا لاَ أُرِيدُهُ فَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ .
হাদীস নং: ১২৭৮
আন্তর্জাতিক নং: ১২৭৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৪. সূর্য উপরে থাকতেই তা আদায়ের অনুমতি সম্পর্কে।
১২৭৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... ইয়াসার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সুবহে সাদিকের পর ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে নামায পড়তে দেখে বলেন, হে ইয়াসার! একদা আমরা এই নামায আদায়কালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকটবর্তী হয়ে বলেছিলেনঃ তোমরা এখন যারা উপস্থিত আছ, তারা আমার এই নির্দেশ অনুপস্থিত লোকদের নিকট পৌঁছায়ে দিও যে, সুবহে সাদিকের পর ফজরের ফরযের পূর্বে দুই রাকআত সুন্নত নামায ছাড়া আর কোন নামায পড়বে না।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَخَّصَ فِيهِمَا إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مُرْتَفِعَةً
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا قُدَامَةُ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ يَسَارٍ، مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَآنِي ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا أُصَلِّي، بَعْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فَقَالَ يَا يَسَارُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نُصَلِّي هَذِهِ الصَّلاَةَ فَقَالَ " لِيُبَلِّغْ شَاهِدُكُمْ غَائِبَكُمْ لاَ تُصَلُّوا بَعْدَ الْفَجْرِ إِلاَّ سَجْدَتَيْنِ " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৭৯
আন্তর্জাতিক নং: ১২৭৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৪. সূর্য উপরে থাকতেই তা আদায়ের অনুমতি সম্পর্কে।
১২৭৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) আসরের ফরয নামায আদায়ের পর সব সময়ই দুই রাকআত নামায পড়তেন। (সম্ভবতঃ তা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু তাঁর উম্মতের জন্য উপরোক্ত নিষেধ বাণী প্রযোজ্য)।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَخَّصَ فِيهِمَا إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مُرْتَفِعَةً
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَمَسْرُوقٍ، قَالاَ نَشْهَدُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ مَا مِنْ يَوْمٍ يَأْتِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ صَلَّى بَعْدَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮০
আন্তর্জাতিক নং: ১২৮০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৪. সূর্য উপরে থাকতেই তা আদায়ের অনুমতি সম্পর্কে।
১২৮০. উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের ফরয নামায আদায়ের পর অন্য নফল নামাযও পড়তেন। তবে তিনি তাঁর উম্মতকে তা পড়তে নিষেধ করতেন এবং তিনি (কোন কোন সময়) একই সঙ্গে বহু দিন রোযা (সাওমে বিসাল) রাখতেন, কিন্তু তিনি উম্মতকে এভাবে রোযা রাখতে নিষেধ করতেন।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَخَّصَ فِيهِمَا إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مُرْتَفِعَةً
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ ذَكْوَانَ، مَوْلَى عَائِشَةَ أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْعَصْرِ وَيَنْهَى عَنْهَا وَيُوَاصِلُ وَيَنْهَى عَنِ الْوِصَالِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮১
আন্তর্জাতিক নং: ১২৮১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৫. মাগরিবের আগে নফল নামায আদায় সম্পর্কে।
১২৮১. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনুল-মুযানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমরা যে ইচ্ছা কর মাগরিবের পূর্বে দুই রাকআত নামায আদায় করতে পার। তিনি দুইবার এরূপ বলেন এবং তিনি তা আদায়ে কঠোরতা না করার কারণ এই ছিল, যাতে লোকেরা এটাকে সুন্নত হিসাবে মনে না করে।
كتاب الصلاة
باب الصَّلاَةِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الْحُسَيْنِ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَلُّوا قَبْلَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ " . ثُمَّ قَالَ " صَلُّوا قَبْلَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ لِمَنْ شَاءَ " . خَشْيَةَ أَنْ يَتَّخِذَهَا النَّاسُ سُنَّةً .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১২৮২
আন্তর্জাতিক নং: ১২৮২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৫. মাগরিবের আগে নফল নামায আদায় সম্পর্কে।
১২৮২. মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় আমরা মাগরিবের নামাযের পূর্বে দুই রাকআত নামায আদায় করতাম। রাবী বলেন, আমি এ সম্পর্কে আনাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি রাসূলুল্লাহকে এই নামায আদায় করতে দেখেছেন? তখন তিনি বলেন, হ্যাঁ, এবং তিনি আমাদেরকেও তা আদায় করতে দেখেছেন। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোন আদেশ বা নিষেধ প্রদান করেন নি।
كتاب الصلاة
باب الصَّلاَةِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَزَّازُ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ أَرَآكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ رَآنَا فَلَمْ يَأْمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮৩
আন্তর্জাতিক নং: ১২৮৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৫. মাগরিবের আগে নফল নামায আদায় সম্পর্কে।
১২৮৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ দুই আযানের (আযান ও ইকামতের) মধ্যবর্তী সময়ে যে ইচ্ছা করে, নামায আদায় করতে পারে। তিনি দুইবার এরূপ বলেন।
كتاب الصلاة
باب الصَّلاَةِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ لِمَنْ شَاءَ " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮৪
আন্তর্জাতিক নং: ১২৮৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৫. মাগরিবের আগে নফল নামায আদায় সম্পর্কে।
১২৮৪. ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... তাউস (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ)-কে মাগরিবের নামাযের পূর্বে দুই রাকআত নামায আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আমি কাউকেও তা আদায় করতে দেখিনি এবং আমি কাউকেও আসরের পরে দুই রাকআত নামায আদায়ের ব্যাপারে অনুমতি দিতে দেখিনি।
كتاب الصلاة
باب الصَّلاَةِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ
حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي شُعَيْبٍ، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ، قَبْلَ الْمَغْرِبِ فَقَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهِمَا . وَرَخَّصَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ يَقُولُ هُوَ شُعَيْبٌ يَعْنِي وَهِمَ شُعْبَةُ فِي اسْمِهِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮৫
আন্তর্জাতিক নং: ১২৮৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।
১২৮৫. আহমাদ ইবনে মানী ও মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক মানুষের জন্য প্রত্যহ সকালে সাদ্কা দেওয়া প্রয়োজন। কোন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত হলে তাকে সালাম দেয়াও একটি সাদ্কা। কোন ব্যক্তিকে ভালো কাজের নির্দেশ দেয়াও একটি সাদ্কা এবং খারাপ কাজ হতে বিরত থাকাও একটি সাদ্কা, রাস্তার উপর হতে কষ্টদায়ক বস্ত্ত অপসারণ করাও একটি সাদ্কা, নিজের স্ত্রীর সাথেও সহবাস করাও একটি সাদ্কা। যদি কেউ দুই রাকআত চাশতের নামায আদায় করে, তবে সে উপরোক্ত কাজগুলির অনুরূপ সাওয়াব প্রাপ্ত হবে।
রাবী ইবনে মানী (রাহঃ) তাঁর র্বণনায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, এসময় সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে তার কামস্পৃহা চরিতার্থ করবে এবং একেও কি সাদ্কা বলা হবে? তিনি বলেনঃ তুমি কি দেখ না, যদি সে তা কোন অবৈধ স্থানে ব্যবহার করত তবে সে গুনাহগার হত না?
রাবী ইবনে মানী (রাহঃ) তাঁর র্বণনায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, এসময় সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে তার কামস্পৃহা চরিতার্থ করবে এবং একেও কি সাদ্কা বলা হবে? তিনি বলেনঃ তুমি কি দেখ না, যদি সে তা কোন অবৈধ স্থানে ব্যবহার করত তবে সে গুনাহগার হত না?
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبَّادٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، - الْمَعْنَى - عَنْ وَاصِلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنِ ابْنِ آدَمَ صَدَقَةٌ تَسْلِيمُهُ عَلَى مَنْ لَقِيَ صَدَقَةٌ وَأَمْرُهُ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهْيُهُ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ وَإِمَاطَتُهُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ وَبُضْعَةُ أَهْلِهِ صَدَقَةٌ وَيُجْزِئُ مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ رَكْعَتَانِ مِنَ الضُّحَى " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ عَبَّادٍ أَتَمُّ وَلَمْ يَذْكُرْ مُسَدَّدٌ الأَمْرَ وَالنَّهْىَ زَادَ فِي حَدِيثِهِ وَقَالَ كَذَا وَكَذَا وَزَادَ ابْنُ مَنِيعٍ فِي حَدِيثِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَدُنَا يَقْضِي شَهْوَتَهُ وَتَكُونُ لَهُ صَدَقَةٌ قَالَ " أَرَأَيْتَ لَوْ وَضَعَهَا فِي غَيْرِ حِلِّهَا أَلَمْ يَكُنْ يَأْثَمُ " .
হাদীস নং: ১২৮৬
আন্তর্জাতিক নং: ১২৮৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।
১২৮৬. ওয়াহব ইবনে বাকিয়া (রাহঃ) .... আবুল আসাদ আদ-দায়লামী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আবু যর (রাযিঃ) এর নিকটে বসে থাকা অবস্থায় তিনি বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের উচিত, প্রত্যহ সকালে নিজেদের জন্য কিছু সাদ্কা করা। তার প্রত্যেকটি নামাযই সাদ্কা স্বরূপ, রোযাও সাদ্কা, হজ্জও সাদ্কা, তাসবীহ পাঠও সাদ্কা, তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠও সাদ্কা, তাহমীদ (আলহামাদু লিল্লাহ) পাঠও সাদ্কাস্বরূপ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপরোক্ত কাজগুলিকে পুন্যের কাজসমূহের মধ্যে গণ্য করেছেন। অতঃপর বলেছেন, কেউ চাশতের সময়ে দুই রাকআত নামায আদায় করলে সে ঐ ব্যক্তির ঐগুলির অনুরূপ সাওয়াব পাবে।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ وَاصِلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدُّؤَلِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ أَبِي ذَرٍّ قَالَ " يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنْ أَحَدِكُمْ فِي كُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ فَلَهُ بِكُلِّ صَلاَةٍ صَدَقَةٌ وَصِيَامٍ صَدَقَةٌ وَحَجٍّ صَدَقَةٌ وَتَسْبِيحٍ صَدَقَةٌ وَتَكْبِيرٍ صَدَقَةٌ وَتَحْمِيدٍ صَدَقَةٌ " . فَعَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ هَذِهِ الأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ ثُمَّ قَالَ " يُجْزِئُ أَحَدَكُمْ مِنْ ذَلِكَ رَكْعَتَا الضُّحَى " .
হাদীস নং: ১২৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ১২৮৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।
১২৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে মুআয (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি ফজরের নামাযের পর ভালো কাজে লিপ্ত থেকে সূর্য একটু উপরে উঠার পর দুই রাকআত নামায আদায় করে, তবে তার সমস্ত গুনাহ মার্জিত হবে। যদিও এর পরিমাণ সাগরের ফেনার চাইতেও অধিক হয়।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ زَبَّانَ بْنِ فَائِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَعَدَ فِي مُصَلاَّهُ حِينَ يَنْصَرِفُ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ حَتَّى يُسَبِّحَ رَكْعَتَىِ الضُّحَى لاَ يَقُولُ إِلاَّ خَيْرًا غُفِرَ لَهُ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ أَكْثَرَ مِنْ زَبَدِ الْبَحْرِ " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮৮
আন্তর্জাতিক নং: ১২৮৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।
১২৮৮. আবু তাওবা (রাহঃ) ..... আবু উমামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক নামায আদায়ের পর হতে অন্য নামায আদায় করা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ কোনরূপ অন্যায় অপকর্মে লিপ্ত না হয় তবে ঐ ব্যক্তির ‘আমলনামা’’ ইল্লীন নামক স্থানে সংরক্ষিত থাকবে।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةٌ فِي أَثَرِ صَلاَةٍ لاَ لَغْوَ بَيْنَهُمَا كِتَابٌ فِي عِلِّيِّينَ " .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১২৮৯
আন্তর্জাতিক নং: ১২৮৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।
১২৮৯. দাউদ ইবনে রাশীদ (রাহঃ) .... নুআয়ম ইবনে হাম্মার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ রবুল আলামীন বলেনঃ হে বনী আদম! তোমরা দিনের প্রথমাংশে চার রাকআত নামায আদায় না করে আমাকে দিনের শেষ ভাগ পর্যন্ত তোমাদের ভালোবাসা হতে বঞ্চিত রেখ না।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ أَبِي شَجَرَةَ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ هَمَّارٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا ابْنَ آدَمَ لاَ تُعْجِزْنِي مِنْ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ فِي أَوَّلِ نَهَارِكَ أَكْفِكَ آخِرَهُ " .
হাদীস নং: ১২৯০
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।
১২৯০. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন দুপুরের পূর্বে প্রতি দুই রাকআতে সালাম ফিরিয়ে আট রাকআত নামায আদায় করেন।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عِيَاضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ صَلَّى سُبْحَةَ الضُّحَى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ يُسَلِّمُ مِنْ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ صَلَّى سُبْحَةَ الضُّحَى فَذَكَرَ مِثْلَهُ . قَالَ ابْنُ السَّرْحِ إِنَّ أُمَّ هَانِئٍ قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ سُبْحَةَ الضُّحَى بِمَعْنَاهُ .