কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

كتاب السنن للإمام أبي داود

২. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১১৬৫ টি

হাদীস নং: ১২৯১
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।
১২৯১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে হানী (রাযিঃ) ব্যতীত আর কেউই এরূপ বর্ণনা করেননি যে, সে নবী করীম (ﷺ)কে দ্বিপ্রহরের পূর্বে নামায পড়তে দেখেছে। উম্মে হানী (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী করী (ﷺ) তাঁর ঘরে প্রবেশ করে গোসল করেন, অতঃপর আট রাকআত নামায পড়েন। পরবর্তীকালে আর কেউই তাঁকে কখনও এরূপ নামায পড়তে দেখেনি।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ مَا أَخْبَرَنَا أَحَدٌ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الضُّحَى غَيْرَ أُمِّ هَانِئٍ فَإِنَّهَا ذَكَرَتْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ اغْتَسَلَ فِي بَيْتِهَا وَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ فَلَمْ يَرَهُ أَحَدٌ صَلاَّهُنَّ بَعْدُ .
হাদীস নং: ১২৯২
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।
১২৯২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি দুপুরের সময় কোন নামায পড়তেন? তিনি বলেন, না, অবশ্য ঐ সময় যদি তিনি কোন সফর হতে প্রত্যাবর্তন করতেন (তবে নামায পড়তেন)। রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি একই রাকআতের মধ্যে দুটি সূরা মিলিয়ে পড়তেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, তিনি কুরআনের মুফাসসাল (হুজুরাত থেকে নাস) সূরা মাঝে মাঝে মিলিয়ে নামায পড়তেন।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى فَقَالَتْ لاَ إِلاَّ أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ . قُلْتُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرِنُ بَيْنَ السُّورَتَيْنِ قَالَتْ مِنَ الْمُفَصَّلِ .
হাদীস নং: ১২৯৩
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।
১২৯৩. আল-কানবী (রাহঃ) ..... নবী করীম (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) কখনই নিয়মিতভাবে চাশতের নামায পড়েন নি। কিন্তু আমি তা আদায় করি এবং তিনি তা আমল করতে পছন্দ করলেও (মাঝে মাঝে) তার পরিত্যাগের কারণ এই ছিল যে, তিনি নিয়মিতভাবে আদায় করলে লোকদের উপর তা ফরয হয়ে যেতে পারে।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ مَا سَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُبْحَةَ الضُّحَى قَطُّ وَإِنِّي لأُسَبِّحُهَا وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَدَعُ الْعَمَلَ وَهُوَ يُحِبُّ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ خَشْيَةَ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ النَّاسُ فَيُفْرَضَ عَلَيْهِمْ .
হাদীস নং: ১২৯৪
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।
১২৯৪. ইবনে নুফায়েল (রাহঃ) ..... সিমাক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি অধিক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে থাকতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি বহু সময় তাঁর সাথে থাকতাম। তিনি ফজরের নামাযের পর ঐ স্থানে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। অতঃপর সূর্য উপরে উঠলে তিনি ইশরাকের নামায আদায় করতেন।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا ابْنُ نُفَيْلٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، قَالَ قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَكُنْتَ تُجَالِسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ كَثِيرًا فَكَانَ لاَ يَقُومُ مِنْ مُصَلاَّهُ الَّذِي صَلَّى فِيهِ الْغَدَاةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتْ قَامَ صلى الله عليه وسلم .
হাদীস নং: ১২৯৫
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৭. দিনের নফল নামায সম্পর্কে।
১২৯৫. আমর ইবনে মারযূক (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ দিন ও রাতের (নফল) নামায দুই দুই রাকআত।
كتاب الصلاة
باب فِي صَلاَةِ النَّهَارِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَارِقِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى " .
হাদীস নং: ১২৯৬
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৭. দিনের নফল নামায সম্পর্কে।
১২৯৬. ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আল-মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ নফল নামায দুই দুই রাকআত এবং তুমি প্রতি দুই রাকআতের পর তাশাহহুদ পড়বে, অতপর নিজের বিপদাপদ ও দারিদ্রের কথা প্রকাশ করে দুই হাত তুলে দুআ করবেঃ আল্লাহুম্মা, আল্লাহুম্মা - ইত্যাদি। যে ব্যক্তি এরূপ করবে না তার নামায ত্রুটিপূর্ণ।
كتاب الصلاة
باب فِي صَلاَةِ النَّهَارِ
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْمُطَّلِبِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصَّلاَةُ مَثْنَى مَثْنَى أَنْ تَشَهَّدَ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَأَنْ تَبَاءَسَ وَتَمَسْكَنَ وَتُقْنِعَ بِيَدَيْكَ وَتَقُولَ اللَّهُمَّ اللَّهُمَّ فَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهِيَ خِدَاجٌ " . سُئِلَ أَبُو دَاوُدَ عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ مَثْنَى قَالَ إِنْ شِئْتَ مَثْنَى وَإِنْ شِئْتَ أَرْبَعًا .
হাদীস নং: ১২৯৭
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৮. সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে।
১২৯৭. আব্দুর রহমান ইবনে বিশর (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ)-কে বলেনঃ হে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব! হে আব্বাস! হে আমার প্রিয় চাচা! আমি কি আপনাকে এমন একটি জিনিস দেব না যার মাধ্যমে আপনি দশটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন? যখন আপনি এরূপ করবেন, তখন আল্লাহ তাআলা আপনার পূর্বাপরের সমস্ত গুনাহ মাফ করবেন। চাই তা প্রথম বারের হোক বা শেষ বারের পুরাতন হোক কিংবা নতুন হোক, ভুলেই হোক অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে, বড়ই হোক অথবা ছোট, প্রকাশ্যেই হোক অথবা গোপনে- আপনি এই দশটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন, যদি আপনি চার রাকআত নামায নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে আদায় করেন। আপনি এর প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহা পাঠের পর এর সাথে অন্য একটি সূরা মিলাবেন। অতঃপর যখন আপনি কিরাআত পাঠ শেষ করবেন তখন দাঁড়ানো অবস্থায় এই দুআ পাঠ করবেনঃ ‘সুবহানালল্লাহ আলহামদু লিলল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’

অতঃপর আপনি রুকূ করবেন এবং সেখানেও ঐ দুআ দশবার পাঠ করবেন। পরে রুকূ হতে মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঐ দু্’আ দশবার পাঠ করবেন। অতঃপর সিজদায় গিয়েও তা দশবার পাঠ করবেন এবং প্রথম সিজদার পর মাথা তুলে বসবার সময় ঐ দুআ দশবার পাঠ করবেন। অতঃপর দ্বিতীয় সিজদায়ও তা দশবার পাঠ করবেন, পরে সিজদা হতে মাথা তুলে ঐ দুআ দশবার পাঠ করা পর্যন্ত বসে থাকার পর দাঁড়াবেন (দ্বিতীয় রাকআতের জন্য)। অতঃপর আপনি প্রতি রাকআতে এরূপ পঁচাত্তর বার ঐ দুআ পাঠ করবেন এবং এরূপ চার রাকআত নামায আদায় করবেন। যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয় তবে আপনি এই নামায দৈনিক একবার আদায় করবেন। যদি তা সম্ভব না হয় তবে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবারে একবার; যদি তাও সম্ভব না হয় হবে প্রতি মাসে একবার; যদি তাও অসম্ভব হয়, তবে প্রতি বছরে একবার; যদি তাও সম্ভব না হয় তবে গোটা জীবনে অন্ততঃ একবার আদায় করবেন।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ التَّسْبِيحِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ " يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّاهُ أَلاَ أُعْطِيكَ أَلاَ أَمْنَحُكَ أَلاَ أَحْبُوكَ أَلاَ أَفْعَلُ بِكَ عَشْرَ خِصَالٍ إِذَا أَنْتَ فَعَلْتَ ذَلِكَ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذَنْبَكَ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ قَدِيمَهُ وَحَدِيثَهُ خَطَأَهُ وَعَمْدَهُ صَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ سِرَّهُ وَعَلاَنِيَتَهُ عَشْرَ خِصَالٍ أَنْ تُصَلِّيَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةً فَإِذَا فَرَغْتَ مِنَ الْقِرَاءَةِ فِي أَوَّلِ رَكْعَةٍ وَأَنْتَ قَائِمٌ قُلْتَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً ثُمَّ تَرْكَعُ فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ رَاكِعٌ عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ الرُّكُوعِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَهْوِي سَاجِدًا فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ سَاجِدٌ عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ السُّجُودِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ فَتَقُولُهَا عَشْرًا فَذَلِكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ تَفْعَلُ ذَلِكَ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تُصَلِّيَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ مَرَّةً فَافْعَلْ فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي عُمُرِكَ مَرَّةً " .
হাদীস নং: ১২৯৮
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৮. সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে।
১২৯৮. মুহাম্মাদ ইবনে সুফিয়ান (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) আমাকে বলেন, তুমি আগামীকাল আমার নিকট আসবে। আমি তোমাকে একটি উপাদেয় বস্তু দেব। তিনি বলেনঃ আমি মনে মনে ধারণা করলাম যে, তিনি নিশ্চয়ই আমাকে কোন জিনিস প্রদান করবেন। (পরদিন আমি তাঁর খিদমতে হাজির হলে) তিনি বলেনঃ যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়বে, তখন তুমি চার রাকআত নাময আদায় করবে।

অতঃপর রাবী পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি আরো বলেনঃ অতঃপর তুমি দ্বিতীয় সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে এবং দাঁড়ানোর পূর্বেই দশবার তাসবীহ, দশবার তাহমীদ, দশবার তাকবীর ও দশবার তাহলীল পাঠ করবে (অর্থাৎ সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ও আল্লাহু আকবার)। তুমি চার রাকআত নমাযেই এরূপ দুআ পাঠ করবে। যদি তুমি যমীনের সর্বাপেক্ষা অধিক গুনাহগার ব্যক্তিও হও, তবুও তোমার গুনাহ মার্জিত হবে।

রাবী বলেনঃ আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, যদি আমি তা ঐ সময়ে আদায় করতে না পারি? তিনি বলেনঃ তুমি দিবারাত্রির মধ্যে যখনই সুযোগ পাবে তখনই তা আদায় করবে।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ التَّسْبِيحِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ الأُبُلِّيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ أَبُو حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ، كَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ يُرَوْنَ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ائْتِنِي غَدًا أَحْبُوكَ وَأُثِيبُكَ وَأُعْطِيكَ " . حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ يُعْطِينِي عَطِيَّةً قَالَ " إِذَا زَالَ النَّهَارُ فَقُمْ فَصَلِّ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ " . فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ " تَرْفَعُ رَأْسَكَ - يَعْنِي مِنَ السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ - فَاسْتَوِ جَالِسًا وَلاَ تَقُمْ حَتَّى تُسَبِّحَ عَشْرًا وَتَحْمَدَ عَشْرًا وَتُكَبِّرَ عَشْرًا وَتُهَلِّلَ عَشْرًا ثُمَّ تَصْنَعُ ذَلِكَ فِي الأَرْبَعِ رَكَعَاتٍ " . قَالَ " فَإِنَّكَ لَوْ كُنْتَ أَعْظَمَ أَهْلِ الأَرْضِ ذَنْبًا غُفِرَ لَكَ بِذَلِكَ " . قُلْتُ فَإِنْ لَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ أُصَلِّيَهَا تِلْكَ السَّاعَةَ قَالَ " صَلِّهَا مِنَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ خَالُ هِلاَلٍ الرَّائِيِّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْمُسْتَمِرُّ بْنُ الرَّيَّانِ عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو مَوْقُوفًا وَرَوَاهُ رَوْحُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَجَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ النُّكْرِيِّ عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَوْلُهُ وَقَالَ فِي حَدِيثِ رَوْحٍ فَقَالَ حَدِيثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
হাদীস নং: ১২৯৯
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৮. সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে।
১২৯৯. আবু তাওবা আর-রাবী (রাহঃ) .... উরওয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক আনসার আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাফর (রাযিঃ) এর নিকট এই হাদীসটি বর্ণনা করেন। অতঃপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

রাবী আরো বলেনঃ প্রথম রাকআতের দ্বিতীয় সিজদা সম্পর্কে রাবী মাহদী ইবনে মায়মুন হতে যেরূপ উক্ত হয়েছেন, তদ্রূপ এই স্থানেও বর্ণিত হয়েছে।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ التَّسْبِيحِ
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ، رُوَيْمٍ حَدَّثَنِي الأَنْصَارِيُّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِجَعْفَرٍ بِهَذَا الْحَدِيثِ فَذَكَرَ نَحْوَهُمْ قَالَ فِي السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ مِنَ الرَّكْعَةِ الأُولَى كَمَا قَالَ فِي حَدِيثِ مَهْدِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ .
হাদীস নং: ১৩০০
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯. মাগরিবের দুই রাকআত সুন্নত নামায কোথায় পড়বে।
১৩০০. আবু বকর ইবনে আবুল আসওয়াদ (রাহঃ) ..... কা’ব ইবনে উজরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) বনী আব্দুল আশহালের মসজিদে মাগরিবের নামায আদায় করেন। তিনি এসে নামায শেষে তাদের দেখতে পান যে, তাঁরা আরো নামায আদায় করছে। এতদ্দর্শনে তিনি বলেনঃ এটা (সুন্নত) তো গৃহে আদায় করার নামায।
كتاب الصلاة
باب رَكْعَتَىِ الْمَغْرِبِ أَيْنَ تُصَلَّيَانِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنِي أَبُو مُطَرِّفٍ، مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْفِطْرِيُّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى مَسْجِدَ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ فَصَلَّى فِيهِ الْمَغْرِبَ فَلَمَّا قَضَوْا صَلاَتَهُمْ رَآهُمْ يُسَبِّحُونَ بَعْدَهَا فَقَالَ " هَذِهِ صَلاَةُ الْبُيُوتِ " .
হাদীস নং: ১৩০১
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯. মাগরিবের দুই রাকআত সুন্নত নামায কোথায় পড়বে।
১৩০১. হুসায়েন ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাগরিবের ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকআত সুন্নত নামাযের কিরাআত এত দীর্ঘ করতেন যে, মসজিদে আগত লোকেরা বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে যেত।
كتاب الصلاة
باب رَكْعَتَىِ الْمَغْرِبِ أَيْنَ تُصَلَّيَانِ
حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَرْجَرَائِيُّ، حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُطِيلُ الْقِرَاءَةَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ حَتَّى يَتَفَرَّقَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ نَصْرٌ الْمُجَدَّرُ عَنْ يَعْقُوبَ الْقُمِّيِّ وَأَسْنَدَهُ مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ الطَّبَّاعِ حَدَّثَنَا نَصْرٌ الْمُجَدَّرُ عَنْ يَعْقُوبَ مِثْلَهُ .
হাদীস নং: ১৩০২
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯. মাগরিবের দুই রাকআত সুন্নত নামায কোথায় পড়বে।
১৩০২. আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে যুবায়ের (রাহঃ) হতে এই সনদে নবী করীম (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
كتاب الصلاة
باب رَكْعَتَىِ الْمَغْرِبِ أَيْنَ تُصَلَّيَانِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ مُرْسَلٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ حُمَيْدٍ يَقُولُ سَمِعْتُ يَعْقُوبَ يَقُولُ كُلُّ شَىْءٍ حَدَّثْتُكُمْ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ مُسْنَدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩০৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩১০. ইশার পর নফল নামায সম্পর্কে
১৩০৩. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে (রাহঃ) .... উম্মে শুরায়হ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার ফরয নামায আদায়ের পর আমার গৃহে প্রবেশ করে সব সময় চার রাকআত অথবা ছয় রাকআত নফল নামায আদায় করতেন। একদা রাত্রির প্রবল বর্ষণে গৃহের খেজুর পাতার চাল নষ্ট হয়ে ঐ ছিদ্র দিয়ে যে পানি পড়ছিল, তা আমি দেখছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নামাযের সময় স্বীয় বস্ত্রকে ধূলা, ময়লা, কাদা ইত্যাদি হতে রক্ষা করবার জন্য কোন সময় টানতে দেখি নাই।
كتاب الصلاة
باب الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعِشَاءِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ الْعُكْلِيُّ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، حَدَّثَنِي مُقَاتِلُ بْنُ بَشِيرٍ الْعِجْلِيُّ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَ سَأَلْتُهَا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ مَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ قَطُّ فَدَخَلَ عَلَىَّ إِلاَّ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ أَوْ سِتَّ رَكَعَاتٍ وَلَقَدْ مُطِرْنَا مَرَّةً بِاللَّيْلِ فَطَرَحْنَا لَهُ نِطْعًا فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى ثُقْبٍ فِيهِ يَنْبُعُ الْمَاءُ مِنْهُ وَمَا رَأَيْتُهُ مُتَّقِيًا الأَرْضَ بِشَىْءٍ مِنْ ثِيَابِهِ قَطُّ .
হাদীস নং: ১৩০৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩১১. রাত জাগরনের ( তাহাজ্জুদ নামাযের ) বাধ্যবাধকতা রহিত করে সহজ বিধান দেওয়া হয়েছে।
১৩০৪. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সূরা মুযযামমিলের “অর্ধরাত্রি অপেক্ষা কিছু কম সময়ের জন্য জেগে থেকে (দণ্ডায়মান হয়ে) নামায আদায় কর” আয়াতটি ঐ সূরায় পরবর্তী আয়াত “তোমাদের জন্য এটা নির্ণয় করা অসম্ভব” দ্বারা বাতিল করা হয়েছে। আল্লাহ তোমাদের কষ্ট অনুধাবন করে তোমাদের জন্য এটা সহজ করে দিয়েছেন যে, তোমরা নামাযের মধ্যে কুরআন হতে সহজে পঠিতব্য অংশ পাঠ করতে পার এবং রাতের কিছু অংশেও নামায আদায় করবে এবং রাত্রের প্রথমাংশে তাদের জন্য এই নামায আদায় খুবই সহজ। অতএব আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য রাতে আদায়ের জন্য যা নির্ধারিত করে দিয়েছেন, তা তোমরা সঠিকভাবে আদায় কর। কেননা মানুষ যখন রাতে নিদ্রা হতে কখন সে জাগ্রত হবে, তা সে জানে না। এবং “আকওয়ামু কীলা” শব্দের অর্থ এই যে, কুরআনের মূল অর্থ উপলব্ধি করবার জন্য এটাই উত্তম সময়। অতঃপর আল্লাহ তাআলার বাণীঃ “লাকা ফিন- নাহারে সাভহান তাবীলা” কেননা দিনের বেলায় আপনি পার্থিব কাজকর্মে অধিক সময় ব্যস্ত থাকেন।
كتاب الصلاة
باب نَسْخِ قِيَامِ اللَّيْلِ وَالتَّيْسِيرِ فِيهِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ ابْنُ شَبُّويَةَ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ فِي الْمُزَّمِّلِ ( قُمِ اللَّيْلَ إِلاَّ قَلِيلاً * نِصْفَهُ ) نَسَخَتْهَا الآيَةُ الَّتِي فِيهَا ( عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ ) وَنَاشِئَةُ اللَّيْلِ أَوَّلُهُ وَكَانَتْ صَلاَتُهُمْ لأَوَّلِ اللَّيْلِ يَقُولُ هُوَ أَجْدَرُ أَنْ تُحْصُوا مَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ مِنْ قِيَامِ اللَّيْلِ وَذَلِكَ أَنَّ الإِنْسَانَ إِذَا نَامَ لَمْ يَدْرِ مَتَى يَسْتَيْقِظُ وَقَوْلُهُ ( أَقْوَمُ قِيلاً ) هُوَ أَجْدَرُ أَنْ يُفْقَهَ فِي الْقُرْآنِ وَقَوْلُهُ ( إِنَّ لَكَ فِي النَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلاً ) يَقُولُ فَرَاغًا طَوِيلاً .
হাদীস নং: ১৩০৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩১১. রাত জাগরনের ( তাহাজ্জুদ নামাযের ) বাধ্যবাধকতা রহিত করে সহজ বিধান দেওয়া হয়েছে।
১৩০৫. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সূরা মুযযাম্মিলের প্রথমাংশ অবতীর্ণ হওয়ার পর সাহাবাগণ রোযার মাসের মত রাত জেগে নামায আদায় করতেন। অতঃপর উক্ত সূরার শেষাংশ অবতীর্ণ হয় এবং সূরা মুযযাম্মিলের প্রথম ও শেষাংশের অবতীর্ণ হওয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল এক বছরের।
كتاب الصلاة
باب نَسْخِ قِيَامِ اللَّيْلِ وَالتَّيْسِيرِ فِيهِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي الْمَرْوَزِيَّ - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ سِمَاكٍ الْحَنَفِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ أَوَّلُ الْمُزَّمِّلِ كَانُوا يَقُومُونَ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِمْ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ حَتَّى نَزَلَ آخِرُهَا وَكَانَ بَيْنَ أَوَّلِهَا وَآخِرِهَا سَنَةٌ .
হাদীস নং: ১৩০৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩১২. তাহাজ্জুদের নামাযে দাঁড়িয়ে রাত জাগা সম্পর্কে ।
১৩০৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমায় তখন শয়তান তার মাথার পেছনের চুল তিনটি গিরা দিয়ে রাখে এবং প্রত্যেক গিরা দেওয়ার সময় সে বলেঃ তুমি ঘুমাও রাত এখনও অনেক বাকী। অতঃপর ঐ ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে যদি আল্লাহ তাআলার যিক্‌র করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর সে যখন উযু করে তখন আরেকটি গিরা খুলে যায় এবং সে যখন নামায আদায় করে তখন সর্বশেষ গিরাটিও খুলে যায়। অতঃপর সে ব্যক্তি (ইবাদাতের) মাধ্যমে তার দিনের শুভসূচনা করে, অথবা অলসতার মাধ্যমে খারাপভাবে তার দিনটি শুরু করে।
كتاب الصلاة
باب قِيَامِ اللَّيْلِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلاَثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ مَكَانَ كُلِّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلاَّ أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ " .
হাদীস নং: ১৩০৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩১২. তাহাজ্জুদের নামাযে দাঁড়িয়ে রাত জাগা সম্পর্কে ।
১৩০৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা তাহাজ্জুদের নামায পরিত্যাগ কর না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একে কোন সময় পরিত্যাগ করতেন না। যখন তিনি অসুস্থ হতেন অথবা আলস্য বোধ করতেন তখন তিনি তা বসে আদায় করতেন।
كتاب الصلاة
باب قِيَامِ اللَّيْلِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي قَيْسٍ، يَقُولُ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها لاَ تَدَعْ قِيَامَ اللَّيْلِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَدَعُهُ وَكَانَ إِذَا مَرِضَ أَوْ كَسِلَ صَلَّى قَاعِدًا .
হাদীস নং: ১৩০৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩১২. তাহাজ্জুদের নামাযে দাঁড়িয়ে রাত জাগা সম্পর্কে ।
১৩০৮. ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে রাত জেগে নামায আদায় করে; অতঃপর সে স্বীয় স্ত্রীকে ঘুম হতে জাগ্রত করে। আর যদি সে ঘুম হতে উঠতে না চায় তখন সে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দেয় ( নিদ্রাভঙ্গের জন্য)। আল্লাহ ঐ মহিলার উপর রহম করুন যে রাতে উঠে নামায আদায় করে এবং স্বীয় স্বামীকে জাগ্রত করে। যদি সে ঘুম হতে উঠতে অস্বীকার করে, তখন সে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দেয়।
كتاب الصلاة
باب قِيَامِ اللَّيْلِ
حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَحِمَ اللَّهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ رَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ " .
হাদীস নং: ১৩০৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩১২. তাহাজ্জুদের নামাযে দাঁড়িয়ে রাত জাগা সম্পর্কে ।
১৩০৯. ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি রাত্রিতে স্বীয় স্ত্রীকে ঘুম হতে জাগিয়ে একত্রে নামায আদায় করে অথবা তারা পৃথক পৃথকভাবে নামায আদায় করে, তখন তাদের নাম যিক্‌রকারী পুরুষ ও যিক্‌রকারিণী স্ত্রী হিসাবে আমলের খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। রাবী। রাবী ইবনে কাছীর আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর নাম উল্লেখ করেন নাই, বরং আবু সাঈদ (রাযিঃ) এর নাম উল্লেখ করেছেন।
كتاب الصلاة
باب قِيَامِ اللَّيْلِ
حَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، - الْمَعْنَى - عَنِ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، وَأَبِي، هُرَيْرَةَ قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَيْقَظَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّيَا أَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَمِيعًا كُتِبَا فِي الذَّاكِرِينَ وَالذَّاكِرَاتِ " . وَلَمْ يَرْفَعْهُ ابْنُ كَثِيرٍ وَلاَ ذَكَرَ أَبَا هُرَيْرَةَ جَعَلَهُ كَلاَمَ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ سُفْيَانَ قَالَ وَأُرَاهُ ذَكَرَ أَبَا هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ سُفْيَانَ مَوْقُوفٌ .
হাদীস নং: ১৩১০
আন্তর্জাতিক নং: ১৩১০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩১৩. নামাযের মধ্যে তন্দ্রা এলে।
১৩১০. আল-কানবী (রাহঃ) .... নবী করীম (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কারও নামাযের মধ্যে তন্দ্রাভাব আসে, সে যেন তখন নিদ্রা যায়; যাতে তার নিদ্রা পূর্ণ হওয়ার পর ঐ ভাব চলে যায়। কেননা তোমাদের কেউ যখন তন্দ্রা অবস্থায় নামায আদায়কালে ‘ইস্তিগফার’ (গুনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা) করে তখন হয়ত সে (অজান্তে) নিজেকে নিজেই গালি দেয়।
كتاب الصلاة
باب النُّعَاسِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ " .