মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

২. ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১০৮ টি

হাদীস নং: ৬২
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪৭৫
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ কালেমা শাহাদতদ্বয় উচ্চারণকারীর হুকুম, তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ করে এবং যে এতদুভয় কালেমা উচ্চারণ করেই মুসলিম হয় এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(৬২) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, আমাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যতক্ষণ না তারা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্' বলবে। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান করলো (অর্থাৎ আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হব না), তবে (জীবন ও সম্পদের) অধিকার ব্যতীত। (অর্থাৎ কিসাস ও জীবন রক্ষা পণ ইত্যাদি ছাড়া)। আর তাদের (প্রকৃত) হিসাব আল্লাহর এখতিয়ারে । (অর্থাৎ তারা সত্যিকার মুসলিম না কি লোক দেখানো, এই বিচার করবেন আল্লাহ কিন্তু মানুষ তার বাহ্যিক আচরণ দেখেই ফায়সালা করবে।)
বর্ণনাকারী বলেন, রিদ্দার যুদ্ধের সময় হযরত উমর (রা) আবূ বকর (রা)-কে বললেন, আপনি কি এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি এইরূপ-এইরূপ; আবূ বকর (রা) বললেন, হ্যাঁ, আমরা এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। আল্লাহর শপথ, আমি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করবো না এবং যারা এই উভয়টির মধ্যে পার্থক্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করবো।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করি এবং পরে বুঝতে পারি সেটি সঠিক ছিল। (বুখারী ও মুসলিম)
كتاب الإيمان والإسلام
(9) باب في حكم الاقرار بالشهادتين وانهما تعصمان قائلهما من القتل وبهما يكون مسلما ويدخل الجنة
(62) عن أبي هريرة رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله (4) فإذا
قالوها عصموا دمائهم وأموالهم الا بحقها (1) وحسابهم على الله تعالى فلما كانت الردة (2) قال عمر لأبي بكر (رضى الله عنهما) نقاتلهم وقد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كذا وكذا قال فقال أبو بكر رضى الله عنه نقاتلهم والله لا أفرق بين الصلاة والزكاة ولأقاتلن من فرق بينهما (3) قال فقاتلنا معه فرأينا ذلك رشدا
হাদীস নং: ৬৩
আন্তর্জাতিক নং: ৮৫৪৪
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ কালেমা শাহাদতদ্বয় উচ্চারণকারীর হুকুম, তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ করে এবং যে এতদুভয় কালেমা উচ্চারণ করেই মুসলিম হয় এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(৬৩) তাঁর (আবূ হুরায়রা) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ﷺ) বলেন, আমাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা বলবে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” এবং সালাত কায়েম করবে ও যাকাত প্রদান করবে (এগুলো করলে পর) তাদের রক্ত (জীবন) ও সম্পদ (আমাদের জন্য ) হারাম হয়ে যাবে এবং তাদের (সত্যিকার) হিসাব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দায়িত্বে। (বুখারী ও মুসলিম)
كتاب الإيمان والإسلام
(9) باب في حكم الاقرار بالشهادتين وانهما تعصمان قائلهما من القتل وبهما يكون مسلما ويدخل الجنة
(63) وعنه في أخرى قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أمرت أن أقاتل الناس حتى يقوقلوا لا اله الا الله محمد رسول الله ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة ثم قد
حرم علي دمائهم وأموالهم وحسابهم على الله عز وجل
হাদীস নং: ৬৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০৫৬
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ কালেমা শাহাদতদ্বয় উচ্চারণকারীর হুকুম, তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ করে এবং যে এতদুভয় কালেমা উচ্চারণ করেই মুসলিম হয় এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(৬৪) আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমি নির্দেশিত হয়েছি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এবং “মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”। সুতরাং যখন তারা সাক্ষ্য দিবে এবং আমাদের কিবলাকে তাদের কিবলা মনে করবে, আমাদের জবেহ করা (পশু-পাখি) ভক্ষণ করবে, আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করবে, তখন আমাদের উপর তাদের জীবন ও সম্পদ হারাম হয়ে যাবে, অবশ্য বিচারের মানদণ্ডে যদি দণ্ডিত হয় সেটি ভিন্ন। তারা মুসলিমদের অধিকারসমূহ ভোগ করবে এবং মুসলিমদের কর্তব্য পালনও করবে। (বুখারী ও অন্যান্য)
كتاب الإيمان والإسلام
(9) باب في حكم الاقرار بالشهادتين وانهما تعصمان قائلهما من القتل وبهما يكون مسلما ويدخل الجنة
(64) وعن أنس بن مالك رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا اله الا الله وأن محمدا رسول الله فاذا شهدوا واستقبلوا قبلتنا وأكلوا ذبيحتنا حرمت علينا دماؤهم وأموالهم الا بحقها لهم ما للمسلمين وعليهم ما عليهم
হাদীস নং: ৬৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৬১৬০
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ কালেমা শাহাদতদ্বয় উচ্চারণকারীর হুকুম, তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ করে এবং যে এতদুভয় কালেমা উচ্চারণ করেই মুসলিম হয় এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(৬৫) আন-নু'মান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উওয়াইস (রা) (অর্থাৎ আবূ উওয়াইস আসসাকাফীর ছেলে)-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-এর কাছে সাকীফ গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে এসেছিলাম, তখন আমরা একটা গম্বুজে ছিলাম তখন আমি এবং রাসূল (ﷺ) ছাড়া বাকি যাঁরা ছিলেন তাঁরা সকলে উঠে গেলেন তখন এক লোক এসে মহানবী (ﷺ)-এর সাথে গোপনে কথা বলে فساره তখন মহানবী (ﷺ) বলেন, যাও তাকে হত্যা কর, (অপর বর্ণনায় লোকটি যখন চলে গেল তখন মহানবী (ﷺ) তাকে ডাকলেন।) তারপর বললেন, লোকটি কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষ্য দেয় না? তিনি বললেন, হ্যাঁ, দেয়। তবে সেতো তা দেয় আশ্রয় পাওয়ার জন্য (প্রাণ বাঁচানোর জন্য) তখন মহানবী (ﷺ) বলেন, তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আস। (অপর বর্ণনায় আছে যাও ওকে ছেড়ে দাও।) তারপর বললেন, আমি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষ্য না দেয়া পর্যন্ত মানুষকে হত্যা করার আদেশ প্রাপ্ত হয়েছি। যখন তা বলবে তখন তার রক্ত, তার ধন সম্পদ দণ্ড বিধি ছাড়া আমাদের জন্য হারাম হয়ে যাবে। আমি শো'বাকে বললাম, হাদীসে কি একথা নেই যে, অতঃপর বলেন, সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, এবং আমি আল্লাহর রাসূল, শো'বা বলেন, মনে হয়, সম্ভবত তা বলেছেন,তবে আমি তা জানি না। (বুখারী ও অন্যান্য)
كتاب الإيمان والإسلام
(9) باب في حكم الاقرار بالشهادتين وانهما تعصمان قائلهما من القتل وبهما يكون مسلما ويدخل الجنة
(65) حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا محمد بن جعفر قال ثنا شعبة عن النعمان (1) قال سمعت أويسا (يعني بن أبي أويس الثقفى رضى الله عنه) يقول أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في وفد ثقيف فكنا في قبة فقام من كان فيها غيري وغير رسول االله صلى الله عليه وسلم فجاء رجل فساره فقال اذهب فاقتله (وفي رواية فلما ولى الرجل دعاه رسول الله صلى الله عليه وسلم) ثم قال أليس يشهد أن لا اله الا الله قال بلى ولكنه يقولها تعوذا فقال ردوه (وفي رواية اذهبوا فخلوا سبيله) ثم قال أمرت أ، أقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله فاذا قالوها عصموا مني دمائهم وأموالهم الا بحقها فقلت لشعبة أليس في الحديث ثم قال أليس يشهد أن لا اله الا الله وأني رسول الله قال شعبة أظنها ممها وما أدري
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৭২১৩
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ কালেমা শাহাদতদ্বয় উচ্চারণকারীর হুকুম, তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ করে এবং যে এতদুভয় কালেমা উচ্চারণ করেই মুসলিম হয় এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(৬৬) আবূ মালিক আল -আশজায়ী তাঁর পিতা তারিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন। তিনি একটি গোত্রের উদ্দেশ্যে বলছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্বকে স্বীকার করে নিল এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য তথাকথিত উপাস্যের অস্বীকার করলো, সেই ব্যক্তির সম্পদ ও জীবন হারাম হয়ে যায় এবং তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর দায়িত্বে। (মুসলিম)
كتاب الإيمان والإسلام
(9) باب في حكم الاقرار بالشهادتين وانهما تعصمان قائلهما من القتل وبهما يكون مسلما ويدخل الجنة
(66) وعن أبي مالك الأشجعى عن أبيه (طارق بن أشيم رضي الله عنه)
أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم وهو يقول لقوم من وحد الله وكفر بما يعبد من دونه حرم ماله ودمه وحسابه على الله عز وجل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৯৫১
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ কালেমা শাহাদতদ্বয় উচ্চারণকারীর হুকুম, তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ করে এবং যে এতদুভয় কালেমা উচ্চারণ করেই মুসলিম হয় এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(৬৭) ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ ত'আলা (একদা) তাঁর নবী (ﷺ)-কে প্রেরণ করেছিলেন একজন লোককে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য। নবী (ﷺ) একটি গীর্জায় প্রবেশ করে দেখেন জনৈক ইয়াহুদী লোকদের উদ্দেশ্যে তাওরাত পাঠ করে শোনাচ্ছে। তারা যখন তাওরাতে উল্লিখিত নবীর (ﷺ) গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা পর্যন্ত পৌঁছালো, তখন পাঠ থামিয়ে দিল। এদিকে গীর্জার এক পার্শ্বে একজন পীড়িত লোক ছিল। নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা থামলে কেন? পীড়িত লোকটি বললো, তারা এখন নবীর গুণাগুণ পর্যন্ত এসে থেমে গিয়েছে। অতঃপর পীড়িত লোকটি কাতরাতে কাতরাতে এগিয়ে এসে তাওরাত হাতে নিয়ে পাঠ করতে শুরু করে। যখন সে নবী (ﷺ)-এর গুণাগুণ পর্যন্ত পৌঁছাল, তখন নবী (ﷺ)-কে উদ্দেশ্য করে বললো, এই হচ্ছে আপনার এবং আপনার উম্মতের গুণ-বৈশিষ্ট্য; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর লোকটি মারা গেল। রাসূল (ﷺ) (সাথের মুসলমানদের) বললেন, তোমাদের ভাইকে গ্রহণ কর। (অর্থাৎ লোকটি ইসলাম গ্রহণ করে ইন্তিকাল করায়, সে মুসলমানদের ভাই হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।)(তাবারানী-এর সনদ উত্তম)
كتاب الإيمان والإسلام
(9) باب في حكم الاقرار بالشهادتين وانهما تعصمان قائلهما من القتل وبهما يكون مسلما ويدخل الجنة
(67) وعن ابن مسعود رضى الله عنه قال ان الله عز وجل ابتعث نبيه (1) صلى الله عليه وسلم لادخال رجل الجنة فدخل الكنيسة فاذا هو بيهوذى واذا يهوذى يقرأ عليهم التوراة فلما أتوا على صفة النبى صلى الله عليه وسلم أمسكوا وفي ناحيتها رجل مريض فقال النبى صلى الله عليه وسلم ما لكم أمسكتم قال المريض انهم أتوا على صفة النبى فأمسكوا ثم جاء المريض يحبو حتى أخذ التوراة فقرأ حتى أتى على صفة النبى صلى الله عليه وسلم وأمته فقال هذه صفتك وصفة أمتك أشهد أن لا اله الا الله وأنك رسول الله ثم مات فقال النبى صلى الله عليه وسلم لوا أخاكم (2)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৮
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৬৭০
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ কালেমা শাহাদতদ্বয় উচ্চারণকারীর হুকুম, তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ করে এবং যে এতদুভয় কালেমা উচ্চারণ করেই মুসলিম হয় এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(৬৮) উবাইদুল্লাহ বিন 'আদি বর্ণনা করেন যে, তাঁকে জনৈক আনসার বর্ণনা করেছেন- তিনি একদা নবী (ﷺ)-এর সমীপে আগমন করেন, ঐ সময় নবী করীম (ﷺ) একটি বৈঠকে ছিলেন। আগন্তুক মুনাফিকদের মধ্য থেকে একজনকে হত্যা করার জন্য নবী (ﷺ)-এর অনুমতি প্রার্থনা করেন। রাসূল (ﷺ) ধমক দিয়ে বললেন, সে কি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্য প্রদান করে না? আনসারী বললেন, হ্যাঁ, তবে তাঁর সাক্ষ্যের কোন মূল্য নেই। রাসূল (ﷺ) বললেন, সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল? আনসারী বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। রাসূল (ﷺ) বললেন, সে কি সালাত আদায় করে না? বললেন, হ্যাঁ, করে, তবে তার সালাত গ্রহণযোগ্য নয় । তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এসব লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আল্লাহ তা'আলা আমাকে নিষেধ করেছেন।
(তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে) তিনি আব্দুল্লাহ ইবন্ আদী আল আনসারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন একদা রাসূল (ﷺ) বসা ছিলেন, তখন এক লোক এসে তার কাছে অনুমতি চাইল অর্থাৎ অতঃপর অনুরূপ অর্থে হাদীসটি বর্ণনা করলেন । (মালিক, আব্দুর রাযযাক, হাইছুমী বলেন, আহমদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য)
كتاب الإيمان والإسلام
(9) باب في حكم الاقرار بالشهادتين وانهما تعصمان قائلهما من القتل وبهما يكون مسلما ويدخل الجنة
(68) وعن عبيد الله بن عدى بن الخيار أن رجلا (3) من الأنصار حدثه أنه أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في مجلس فساره يستأذنه في قتل رجل من
المنافقين فجهر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال أليس يشهد أن لا إله إلا الله قال الأنصاري بلى يا رسول الله ولا شهادة له قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أليس يشهد أن محمدا رسول الله، قال بلى يا رسول الله، قال أليس يصلي قال بلى يا رسول الله ولا صلاة له فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أولئك الذين نهاني الله عنهم
(وعنه أيضا) 1 عن عبد الله بن عدي الأنصاري رضي الله عنه حدثه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بينا هو جالس إذ جاءه رجل يعني يستأذنه أي يُسَارُّهُ فذكر معناه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৯
আন্তর্জাতিক নং: ১২৩৮৪
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ কালেমা শাহাদতদ্বয় উচ্চারণকারীর হুকুম, তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ করে এবং যে এতদুভয় কালেমা উচ্চারণ করেই মুসলিম হয় এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(৬৯) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, 'ইতবান (রা) চোখের পীড়ায় ভুগছিলেন (অর্থাৎ চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন না); অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ডেকে পাঠান এবং রাসূলকে (ﷺ) তাঁর অসুখের কথা বর্ণনা দিয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আপনি আমার গৃহে সালাত আদায় করুন, যাতে করে আমি (এরপর থেকে) আমার ঘরকেই সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। তখন রাসূল (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণের মধ্য থেকে কতিপয় সাহাবী আল্লাহর ইচ্ছায় এসে সেখানে সালাত আদায় করেন। ইত্যবসরে সাহাবীগণ (রা) পরস্পরে আলাপ-আলোচনায় লিপ্ত হন। তাঁরা মুনাফিকদের কাছ থেকে যেসব কথা-বার্তা শুনে থাকেন, সেসব বিষয়ের অবতারণা করেন। অতঃপর তাঁরা মুনাফিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠজন মালিক ইবন দুখাইছিমের প্রসঙ্গে উপনীত হন। এদিকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁদের দিকে (ফিরে) মনোনিবেশ করে বলেন, সে কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এবং আমি রাসূলুল্লাহ এই সাক্ষ্য প্রদান করে না? একজন বললেন, জ্বি হ্যাঁ, তবে তা তার মনের সাক্ষ্য নয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি “আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল” এই সাক্ষ্য প্রদান করবে; তাকে কখনও অগ্নির খোরাক হতে হবে না অথবা সে কখনই দোযখে প্রবেশ করবে না। [বুখারী ও মুসলিম]
كتاب الإيمان والإسلام
(9) باب في حكم الاقرار بالشهادتين وانهما تعصمان قائلهما من القتل وبهما يكون مسلما ويدخل الجنة
(69) وعن أنس بن مالك رضي الله عنه أن عتبان 2 اشتكى عينه فبعث إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر له ما أصابه قال يا رسول الله تعال صل في بيتي حتى أتخذه مصلى قال فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن شاء الله من أصحابه فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي وأصحابه يتحدثون بينهم فجعلوا يذكرون ما يلقون من المنافقين فأسندوا عظيم ذلك إلى مالك بن دُخَيثِم فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال أليس 3 يشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله فقال قائل بلى وما هو من قلبه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم من شهد أن لا إله إلا الله وأني
رسول الله فلن تطعمه النار أو قال لن يدخل النار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৮১৭
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ কালেমা শাহাদতদ্বয় উচ্চারণকারীর হুকুম, তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ করে এবং যে এতদুভয় কালেমা উচ্চারণ করেই মুসলিম হয় এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(৭০) মিক্‌দাদ বিন আল-আসওয়াদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি (একদা) রাসূল (ﷺ)-কে প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি কাফিরদের কোন ব্যক্তির সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হই, আর সে আমাকে আঘাত করে এবং আমিও তাকে আঘাত করি। এভাবে আমরা একে অপরকে আঘাত করতে থাকি, (এবং এক পর্যায়ে) সে আমার একটি হাতে আঘাত হানে এবং তা কর্তন করে ফেলে। এবার আমি যখন পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করি, তখন সে একটি বৃক্ষের আড়ালে গিয়ে (আত্মরক্ষার্থে) বললো, “আলামতু লিল্লাহি” (আল্লাহর ওয়াস্তে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম)। এমতাবস্থায় আমি তাকে কি হত্যা করবো? (অন্য বর্ণনায় তাকে হত্যা করবো না কি ঐ কথা বলার পর ছেড়ে দেব?) (অর্থাৎ এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী, ইয়া রাসূলাল্লাহ?) রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি তাকে হত্যা করবে না। কেননা, তুমি যদি তাকে হত্যা কর, তাহলে ঐ লোকটি তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে তোমার স্থানে অধিষ্ঠিত হবে; আর ঐ লোকটি তার উচ্চারিত কালেমা উচ্চারণের পূর্বে যে স্থানে ছিল, তুমি সেই স্থানে অধিষ্ঠিত হবে। [বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসায়ী ও অন্যান্য]
كتاب الإيمان والإسلام
(9) باب في حكم الاقرار بالشهادتين وانهما تعصمان قائلهما من القتل وبهما يكون مسلما ويدخل الجنة
(70) وعن المقداد بن الأسود رضي الله عنه أنه قال: يا رسول الله أرأيت إن لقيتُ رجلا من الكفار فقاتلني فاختلفنا ضربتين فضرب إحدى يدي بالسيف فقطعها ثم لاذ مني 1 بشجرة فقال أسلمت لله، أُقَاتِلُهُ يا رسول الله (وفي رواية أَقْتُلُهُ أم أَدَعُهُ بعد أن قالها) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تقتله فإن قتلته فإنه بمنزلتك قبل أن تقتله وأنت بمنزلته قبل أن يقول كلمته التي قال 2
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭১
আন্তর্জাতিক নং: ৮২০৩
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৭১) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মুহাম্মাদের জীবন যে সত্তার হাতে, সেই সত্তার শপথ! এই উম্মতের কোন ইয়াহুদী অথবা নাসারা (খ্রিস্টান) আমার সম্পর্কে শোনার পর আমি (আল্লাহ্ পক্ষ থেকে) যা কিছু নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে অবশ্যই দোযখবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [মুসলিম]
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(71) عن أبي هريرة رضي الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: والذي نفس محمد بيده لا يسمع بي أحد من هذه الأمة يهودي ولا نصراني 3
ومات ولم يؤمن بالذي أرسلت به إلا كان من أصحاب النار
হাদীস নং: ৭২
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৫৩৬
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৭২) আবূ মুসা আল-আশ'আরী (রা) থেকে উপর্যুক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে إلا كان من أصحاب النار "সে দোযখবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে"-এর পরিবর্তে لم يدخل الجنة “সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না” এমন কথা রয়েছে। [হাদীসটি অন্য কোথাও পাওয়া যায় নি]
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(72) وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه وفيه لم يدخل الجنة بدل قوله إلا كان من أصحاب النار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ৮৫৫৫
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৭৩) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি ইয়াহুদীদের দশজন নেতৃস্থানীয় আলিম আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতো, তাহলে ভূ-পৃষ্ঠের সকল ইয়াহুদীই আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতো। কা'ব বলেন, দশজন স্হলে বারজন-এর কথা রাসূল (ﷺ) বলেছেন। এর সত্যয়ন রয়েছে সূরা আল মায়িদাতে। [বুখারী ও আবূ দাউদ]
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(73) وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لو آمن بي عشرة من أحبار 1 اليهود لآمن بي كل يهودي على وجه الأرض قال كعب 2 اثنا عشر مصداقهم في سورة المائدة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৬৫১
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৭৪) রাবাহ ইবন্ আব্দুর রহমান ইবন হুওয়াইতাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার দাদী তাঁর পিতা থেকে আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যার ওযূ নেই তার সালাত নেই । আর যে আল্লাহ্ স্মরণ করে না তার ওযূ হয় না এবং কেউ আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে আল্লাহতেও বিশ্বাস স্থাপন করে না, এবং যে ব্যক্তি 'আনসার'-কে ভালবাসে না, সে আমার প্রতি বিশ্বাস রাখে না।
[দারু কুতনী। হাফেজ, ইবন্ হাজর বলেন, এ হাদীসের আসল ভিত্তি আছে বলে প্রতীয়মান হয়, আর ইবন্ আবূ শাইবা বলেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে যে্ নবী (ﷺ) একথা বলেছেন।]
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(74) وعن رباح بن عبد الرحمن بن حويطب قال: حدثتني جدتي
أنها سمعت أباها 1 يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا صلاة لمن لا وضوء له ولا وضوء لمن لم يذكر الله تعالى ولا يؤمن بالله من لا يؤمن بي ولا يؤمن بي من لا يحب الأنصار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৯৭৭
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৭৫) আবূ মুহাইরিয থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি আবূ জুমু'আ নামক জনৈক সাহাবী (রা)-কে বললাম, আপনি অনুগ্রহপূর্বক আমাদেরকে একটি হাদীস শোনান, যা আপনি রাসূল (ﷺ) থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি খুব সুন্দর একটি হাদীস তোমাদের শোনাচ্ছি। একদা প্রত্যুষে আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সান্নিধ্যে ছিলাম। আমাদের সাথে আবূ উবাইদা ইবন্ আল-জারাহ ছিলেন। তিনি বললেন, আমাদের চেয়ে উত্তম আর কেউ আছে কি? আমরা আপনার সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং আপনার সাথে জিহাদে শরীক হয়েছি! তিনি বললেন, হ্যাঁ, (তোমাদের চেয়ে উত্তম) সেই সম্প্রদায়, যারা তোমাদের পরে আসবে তারা আমাকে না দেখেও আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে।
[এ হাদীস অন্যত্র পাওয়া যায় নি। তবে সাঈদ ইবন্ মনসুর তাঁর সুনানে এ অর্থে অন্য হাদীস বর্ণনা করেছেন ।
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(75) وعن أبي محيريز قال قلت لأبي جمعة رجل من الصحابة رضي الله عنه حَدِّثْنَا حديثا سمعتَه من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال نعم أحدثكم حديثا جيدا تغدينا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعنا أبو عبيدة بن الجراح فقال
يا رسول الله هل أحد خير منا؟ أسلمنا معك وجاهدنا معك قال نعم قوم يكونون من بعدكم يؤمنون بي ولم يروني
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ১২৫৭৯
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৭৬) আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার মন চায় যেন আমি আমার ভাইদের সাথে মিলিত হই। সাহাবীগণ (রা) আরয করলেন, আমরাই তো আপনার ভাই। রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা আমার সাহাবা । আর আমার ভাইয়েরা হচ্ছে সেই সকল ঈমানদার, যারা আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে অথচ তারা আমাকে দেখে নি ।
[সুয়ূতী “আল জামি 'আল-সগীর গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করে তার পার্শ্বে সহীহ হবার প্রতীক ব্যবহার করেছেন।]
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(76) وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وددت أني لقيت إخواني قال فقال أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم نحن إخوانك قال أنتم أصحابي ولكن إخواني الذين آمنوا بي ولم يروني
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ২২১৩৮
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৭৭) হযরত আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মুবারকবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যিনি আমাকে দেখেছেন এবং আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। মুবারকবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যিনি আমাকে দেখেন নি অথচ আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন- এদের জন্য অভিনন্দন সাতবার। [ইবন্ হাব্বান, হাফেজ, হাদীসটি সহীহ]
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(77) وعن أبي أمامة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: طوبى 1 لمن رآني وآمن بي وطوبى لمن آمن بي ولم يرني سبع مرات 2
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮
আন্তর্জাতিক নং: ১২৫৭৮
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৭৮) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আমার দর্শন লাভ করেছে, তাঁর জন্য মুবারকবাদ একবার। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে কিন্তু আমাকে দেখেনি, তার জন্য মুবারকবাদ সাতবার।
[অন্যত্র এ হাদীসটি পাওয়া যায় নি। তবে ইমাম সুয়ূতী “জামে 'উস-সাগীরে হাদীসটি বর্ণনা করে তার পাশে সহীহ্ হবার প্রতীক ব্যবহার করেছেন।]
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(78) عن أنس رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم طوبى
لمن آمن بي ورآني مرة وطوبى لمن آمن بي ولم يرني سبع مرات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৩৮৮
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৭৯) আবূ আব্দুর রহমান আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সমীপে উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় দুইজন আরোহীর আগমন ঘটল। রাসূল (ﷺ) তাদেরকে দেখতে পেয়ে বললেন, এরা দু'জন কিন্দী (গোত্রীয়) মাযহিজ' (যারা পিতার বাঁদীর সন্তান, এবং উত্তরাধিকারসূত্রে জন্মদাত্রী সেই বাঁদীর মালিক হওয়ার পর তার সাথে ব্যভিচার করেছে।) তারা নিকটবর্তী হওয়ার পর দেখা গেল, সত্যিই এরা ‘মাযহিজ'। এদের দু'জনের মধ্যে একজন রাসূল (ﷺ)-এর হাতে বাইয়াত হওয়ার জন্য তাঁর নিকটবর্তী হল । তিনি যখন (বাইয়াতের উদ্দেশ্যে) তার হাত ধরলেন, তখন সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার অভিমত কী? ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে, যে আপনাকে দেখলো, অতঃপর আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো আপনার সত্যয়ন করলো এবং আপনার অনুসরণ করলো। তার পুরস্কার কী? তিনি বললেন, অভিনন্দন বা সুসংবাদ তাঁর জন্য। অতঃপর লোকটি তাঁর হাত স্পর্শ করে চলে এলো। এরপর দ্বিতীয়জন এগিয়ে গেল এবং বাইয়াতের জন্য তিনি তার হাত ধরলেন, তখন সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আপনার অভিমত কী? সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো, আপনাকে সত্যয়ন করলো এবং আপনার অনুসরণ করলো, অথচ সে আপনাকে দেখে নি। তিনি বললেন, তাঁর জন্য অভিনন্দন, তাঁর জন্য অভিনন্দন, তাঁর জন্য অভিনন্দন, অতঃপর লোকটি রাসূল (ﷺ)-এর হাত স্পর্শ করে চলে গেল। [দাওলাবী ও বাগাবী । এই হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।]
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(79) وعن أبي عبد الرحمن الجهني رضي الله عنه قال بينا نحن عند
رسول الله صلى الله عليه وسلم طلع راكبان فلما رآهما قال كنديان مَذْحِجِيَّانِ 1 حتى أتياه فإذا رجال من مذحج قال فدنا إليه أحدهما ليبايعه قال فلما أخذ بيده قال يا رسول الله أرأيت من رآك فآمن بك وصدقك واتبعك ماذا له قال طوبى له قال فمسح على يده وانصرف ثم أقبل الآخر حتى أخذ بيده ليبايعه قال يا رسول الله أرأيت من آمن بك وصدقك واتبعك ولم يرك قال طوبى له ثم طوبى له ثم طوبى له قال فمسح على يده وانصرف
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮০
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৮১০
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৮০) আব্দুর রহমান বিন জুবাইর বিন নুফাইর তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, একদা আমরা হযরত আল-মিকদাদ বিন আল-আসওয়াদ (রা)-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি অতিক্রম করে যাচ্ছিল। সে বললো, মুবারকবাদ সেই দুই নয়নের প্রতি যা অবলোকন করেছে আল্লাহর রাসূলকে। আল্লাহর শপথ! আমাদেরও একান্ত ইচ্ছা হয় অবলোকন করি যা আপনি অবলোকন করেছেন। প্রত্যক্ষ করি যা আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এতে মিকদাদ (রা) ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আর এতে আমি বিস্মিত হলাম। কারণ লোকটি যা বলেছে তা তো ভালই । (যা হোক) এরপর তিনি আগন্তুকের প্রতি মুখ করে বললেন, কী করে একজন ব্যক্তি এমন একটি দৃশ্য কামনা করতে পারে যা আল্লাহ তা'আলা তার কাছ থেকে অদৃশ্য করে রেখেছেন! অথচ সে জানে না ঐ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলে তার অবস্থা কেমন হত? আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের সান্নিধ্যে বহুসংখ্যক সম্প্রদায় এসেছে, কিন্তু তারা তাঁর দাওয়াত কবুল করে নি এবং তাঁর সত্যয়ন করে নি, ফলে তারা জাহান্নামের বাসিন্দা হয়েছে। (অতএব, তুমি যেসব লোকের দলভুক্ত হতে না এর নিশ্চয়তা তোমার কাছে আছে কি?)
তোমরা আল্লাহর দরবারে হামদ (প্রশংসা) করছো না কেন? আল্লাহ তোমাদেরকে এমন করে নির্বাচন করেছেন যে, তোমরা তোমাদের প্রভুকে জানতে পেরেছ তোমাদের নবী (ﷺ)-এর আনীত বিষয়সমূহের সত্যয়ন করে এবং অন্যের উপরে গযবের দায় চাপিয়ে তোমরা মুক্ত থেকেছ। আল্লাহ্ শপথ! আল্লাহ তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে কঠিনতম এক সময়ে প্রেরণ করেছিলেন (সাধারণত অন্যান্য নবীগণকে যেসব সময়ে প্রেরণ করা হয়েছিল, তার তুলনায় কঠিনতম)। সেটি ছিল জাহিলী যুগ, যখন মূর্তিপূজার চেয়ে উত্তম কোন মতবাদ বা দীন ছিল না । এমনি এক সময়ে রাসূল (ﷺ) আগমন করলেন সত্য ও মিথ্যার মানদণ্ড নিয়ে। তিনি পৃথক করে দিলেন সত্যকে মিথ্যা থেকে। পার্থক্য নির্ণয় করলেন পিতা ও সন্তানের মধ্যে। (এমতাবস্থায়) কেউ দেখতে পেল তার পিতা, সন্তান ও ভাই কাফির রয়ে গিয়েছে এবং আল্লাহ (দয়াপরবশ হয়ে) ঈমানের জন্য তার অন্তরের তালা খুলে দিলেন, সে জানে, তার প্রিয়জনরা ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে, নিশ্চিত দোযখে প্রবেশ করবে। সুতরাং এই অবস্থায় তার চক্ষু স্থির থাকতে পারে না ।
এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেনঃ

وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ

“যারা প্রার্থনা করে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন যারা আমাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর হবে।”
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(80) وعن عبد الرحمن بن جبير بن نفير عن أبيه قال جلسنا إلى المقداد بن الأسود رضي الله عنه يوما فمر به رجل فقال طوبى لهاتين العينين التي رأتا رسول الله صلى الله عليه وسلم والله لوددنا أننا رأينا ما رأيت وشهدنا ما شهدت فاستغضب فجعلت أعجب، ما قال إلا خيرا، ثم أقبل عليه فقال ما يحمل الرجل على أن يتمنى محضرا غيبه الله عنه لا يدري لو شهده كيف يكون فيه والله لقد حضر رسول الله صلى الله عليه وسلم أقوام أكبهم الله على مناخرهم في جهنم لم يجيبوه ولم يصدقوه أَوَلا تحمدون الله إذ أخرجكم لا تعرفون إلا ربكم مصدقين لما جاء به نبيكم قد كفيتم البلاء بغيركم والله لقد بعث الله النبي صلى الله عليه وسلم على أشد حال بعث الله عليها نبيا من الأنبياء في فترة وجاهلية ما يرون أن دينا أفضل من عبادة الأوثان فجاء بفرقان فرق به
بين الحق والباطل وفرق بين الوالد ووالده حتى إن كان الرجل ليرى والده وولده وأخاه كافرا وقد فتح الله قفل قلبه للإيمان يعلم أنه إن هلك دخل النار فلا يقر عينه وهو يعلم أن حبيبه في النار وأنها التي قال الله عز وجل (وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ) [الفرقان: 74]
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮১
আন্তর্জাতিক নং: ৮০৯০
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ (১১) পরিচ্ছেদঃ মু'মিনের মর্যাদা, তাঁর গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে
(৮১) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিলাল (রা)-কে নির্দেশ দিলেন (এবং) সেমতে তিনি মানুষের মধ্যে এই মর্মে আহ্বান রাখলেন যে, মুসলিম (সমর্পিত) আত্মা ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না । [বুখারী ও মুসলিম]
كتاب الإيمان والإسلام
(11) باب في فضل المؤمن وصفته ومثله
(81) عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بلالا فنادى في الناس أنه لا يدخل الجنة إلا نفس مسلمة
tahqiq

তাহকীক: