মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩০৩ টি
হাদীস নং: ২৮০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন...।(২)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৭: ১৪৩।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৭: ১৪৩।
২৮০। আবু মুছাল্লা আমাদের নিকট মুআজ ইবন মুআজ 'আনবারী (র) সূত্রে বর্ণনা করেন। যে, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবন সালামা (র) ছাবিত বুনানী (র) সূত্রে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রা) সূত্রে এবং তিনি (রা) রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যে, তিনি মহান আল্লাহর বাণী, যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন, 'যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন" এর ব্যাখ্যায় তিনি বললেন, এভাবে, অর্থাৎ তিনি তার হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের অগ্রভাগ বের করলেন (এবং বৃদ্ধাংগুলের অগ্রভাগ কনিষ্ঠার উপরে গাঁটে রাখলেন। বোঝালেন যে, এতটুকু জ্যোতি প্রকাশ করলেন)।
আব্দুল্লাহ ইব্ন আহমাদ (র) বলেন, আমার পিতা বলেছেন, মু'আজ (রা) আমাদেরকে এভাবে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্ণনাকারী হুমায়দ আত-তাবীল (র) ছাবিত (র) কে লক্ষ্য করে বলেন, হে আবু মুহাম্মদ (র)। আপনি এর দ্বারা কি বুঝাতে চাচ্ছেন? তখন ছাবিত তার বক্ষে সজোরে আঘাত করে বললেন, হে হুমায়দ তুমি কে? হে হুমায়দ তুমি কী? আনাস ইবন মালিক (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূত্রে এটা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আর তুমি বলছ, এর দ্বারা আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন?
(অপর এক বর্ণনাসূত্রে ইমাম আহমাদ (র) বলেন, রাওহ (র) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ (র) সূত্রে, তিনি সাবিত (র) সূত্রে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রা) সূত্রে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন..." এর ব্যাখ্যায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কনিষ্ঠ আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করলেন। তারপর বললেন, ফলে পাহাড় চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল। (তিরমিযী, মুস্তাদরাক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
আব্দুল্লাহ ইব্ন আহমাদ (র) বলেন, আমার পিতা বলেছেন, মু'আজ (রা) আমাদেরকে এভাবে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্ণনাকারী হুমায়দ আত-তাবীল (র) ছাবিত (র) কে লক্ষ্য করে বলেন, হে আবু মুহাম্মদ (র)। আপনি এর দ্বারা কি বুঝাতে চাচ্ছেন? তখন ছাবিত তার বক্ষে সজোরে আঘাত করে বললেন, হে হুমায়দ তুমি কে? হে হুমায়দ তুমি কী? আনাস ইবন মালিক (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূত্রে এটা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আর তুমি বলছ, এর দ্বারা আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন?
(অপর এক বর্ণনাসূত্রে ইমাম আহমাদ (র) বলেন, রাওহ (র) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ (র) সূত্রে, তিনি সাবিত (র) সূত্রে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রা) সূত্রে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন..." এর ব্যাখ্যায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কনিষ্ঠ আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করলেন। তারপর বললেন, ফলে পাহাড় চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল। (তিরমিযী, মুস্তাদরাক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب فلما تجلى ربه للجبل الخ
حدثنا أبو المثنى معاذ بن معاذ العنبري قال ثنا حماد بن سلمة ثنا ثابت البناني عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله تعالى (فلما تجلى ربه للجبل) (3) قال هكذا يعني أنه أخرج طرف الخنصر (4) قال أبي أرانا معاذ (5) قال فقال له حميد الطويل ما تريد إلى هذا يا أبا محمد (6) قال فضرب صدره ضربة شديدة وقال من أنت يا حميد وما أنت يا حميد يحدثني به أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم فتقول أنت ما تريد إليه؟
(ومن طريق ثان) قال الامام احمد حدثنا روح ثنا حماد عن ثابت عن أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله عز وجل (فلما تجلى ربه للجبل) قال فأومأ بخنصره (7) قال فساخ
(ومن طريق ثان) قال الامام احمد حدثنا روح ثنا حماد عن ثابت عن أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله عز وجل (فلما تجلى ربه للجبل) قال فأومأ بخنصره (7) قال فساخ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ হতে তার বংশধরকে বের করলেন"।(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৭: ১৭২।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৭: ১৭২।
২৮১। মুসলিম ইবন ইয়াসার জুহানী (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'উমার ইবন খাত্তাব (রা) কে আয়াত "স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ হতে তার বংশীয়দেরকে বের করেন।" সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ আদম (আ) কে সৃষ্টি করলেন, অতঃপর তার স্বীয় ডান হাত আদম (আ) পৃষ্ঠদেশে বুলালেন এবং তার পৃষ্ঠদেশ হতে তার একদল সন্তান-সন্তুতি বের করলেন। অতঃপর বললেন, আমি এদেরকে জান্নাতবাসী হিসেবে সৃষ্টি করলাম এবং এরা জান্নাতবাসী সুলভ কাজই করবে। অতঃপর তিনি তার ডান হাত আদম (আ)-এর পৃষ্ঠদেশে বুলালেন এবং তার পৃষ্ঠদেশ হতে তার একদল সন্তান-সন্তুতি বের করলেন। তারপর বললেন, আমি এদেরকে জাহান্নামবাসী হিসেবে সৃষ্টি করলাম এবং এরা জাহান্নামী সুলভ কাজই করবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তাহলে আমল করে কি লাভ? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মহান আল্লাহ বান্দাহকে যখন জান্নাতের জন্য তৈরী করেছেন, তখন তাকে জান্নাতবাসীর মত 'আমল করার সুযোগ দিবেন, আমৃত্য সে এরূপ 'আমল করার মাধ্যমে জান্নাতের উপযুক্ত হবে, ফলে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর তিনি বান্দাহকে যখন জাহান্নামের জন্য তৈরী করেছেন, তখন তাকে জাহান্নামবাসীর মত 'আমল করার সুযোগ দিবেন, আমৃত্য সে এরূপ 'আমল করার মাধ্যমে জাহান্নামের উপযুক্ত হবে, ফলে তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।
(মুয়াত্তা মালিক, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(মুয়াত্তা মালিক, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وإذ أخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ذرياتهم
عن مسلم بن يسار الجهني أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه سئل عن هذه الآية (2) (واذ أخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ذرياتهم) الآية (3) فقال عمر رضي الله عنه سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عنها (4) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله خلق آدم ثم مسح ظهره (5) بيمينه واستخرج منه ذرية (6) فقال خلقت هؤلاء للجنة وبعمل أهل الجنة يعملون (7) ثم مسح ظهره بيمينه فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للنار وبعمل أهل النار يعملون فقال رجل يا رسول الله ففيم العمل (8) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله عز وجل اذا خلق العبد للجنة استعمله بعمل أهل الجنة (9) حتى يموت على عمل من أعمال أهل الجنة فيدخله به الجنة واذا خلق العبد للنار استعمله بعمل أهل النار حتى يموت على عمل من أعمال أهل النار فيدخله به النار
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ হতে তার বংশধরকে বের করলেন"।
২৮২। উবাঈ ইব্ন কা'ব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি মহান আল্লাহর বাণী, "স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ হতে তার বংশধরকে বের করেন এবং তাদের নিজেদের সম্বন্ধে স্বীকারোক্তি গ্রহন করেন...."(১) এর ব্যাপারে বলেন, মহান আল্লাহ আদম সন্তানদেরকে একত্র করলেন, অতঃপর তাদেরকে রূহ দান করলেন, তারপর তাদের আকৃতি দান করলেন, অতঃপর তাদের কথা বলার শক্তি দিলেন তখন তারা কথা বলল। তারপর তাদের নিজেদের সম্বন্ধে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি নিলেন এবং তাদের নিজেদের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করলেন 'আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল, অবশ্যই। তখন আল্লাহ বললেন আমি তোমাদের ব্যাপারে সপ্ত আসমান ও সপ্ত জমীনকে সাক্ষী রাখলাম, আমি আরও তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষী রাখলাম তোমাদের পিতা আদম (আ)-কে, যাতে তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে না পারো আমরা এ ব্যাপারে ইতোপূর্বে কিছুই জানি নি। জেনে রেখো, আমি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নাই, আমি ছাড়া তোমাদের আর কোন প্রতিপালক নাই, তাই তোমরা আমার সাথে কাউকে শরীক করো না। আমি অতি সত্ত্বর তোমাদের নিকট আমার রসুলদের প্রেরণ করব যারা তোমাদেরকে আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার ও চুক্তি স্মরণ করিয়ে দিবে, আর আমি তোমাদের প্রতি আমার আসমানী কিতাবসমূহ নাজিল করব। তখন তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দিলাম আপনিই আমাদের রব, আপনিই আমাদের ইলাহ, আপনি ব্যতীত আমাদের আর কোন রব নেই। তারা এটা বার বার স্বীকার করল। তখন আদম (আ) তাদের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। তিনি ধনী-দরিদ্র সুন্দর-অসুন্দর সবাইকে দেখলেন। অতঃপর বললেন, হে প্রভু! আপনি যদি আপনার বান্দাদের ধনী- দরিদ্র ও সুন্দর-কুৎসিৎ এর মাঝে সমতা বিধান করতেন। আল্লাহ বলেন, আমি পছন্দ করি যে, আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করা হোক। তিনি নবীগণকে তাদের মাঝে আলোকবর্তিকার মত দেখতে পেলেন যাদের ওপর রয়েছে আলো। তাদেরকে আল্লাহ অপর একটি অঙ্গীকারের সাথে সম্পৃক্ত করলেন, যা রিসালাত ও নবুয়ত সম্পর্কিত অঙ্গীকার। সে সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন "স্মরণ কর, যখন আমি নবীদের নিকট হতে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমার নিকট হতে ও এবং নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও মারইয়াম তনয় 'ঈসার নিকট হতে ও..."(২) ‘ঈসা (আ) ছিল উক্ত রূহসমূহের মধ্যে একটি। অতঃপর মহান আল্লাহ তাকে মারইয়াম (আ)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। বর্ণনাকারী(৩) উবাঈ ইবন কা'ব (রা) সূত্রে বলেন, ঈসা (আ) এর রূহ মারইয়াম (আ) এর মুখ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছিল।
(মুসতাদরাক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ০৭: ১৭২।
২. আল-কুরআন, ৩৩। ০৭।
৩. রাবী ইব্ন আনাস (র)।
(মুসতাদরাক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ০৭: ১৭২।
২. আল-কুরআন, ৩৩। ০৭।
৩. রাবী ইব্ন আনাস (র)।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وإذ أخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ذرياتهم
عن أبي بن كعب في قوله الله عز وجل (وإذ إخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ذرياتهم وأشهدهم على أنفسهم - الآية) (2) قال جمعهم فجعلهم أرواسا ثم صورهم فاستنطقهم فتكلموا ثم أخذ عليهم العهد والميثاق وأشهدهم على أنفسهم الست بربكم؟ قالوا بلى قال فإني أشهد عليكم السموات السبع والأرضين السبع وأشهد عليكم أباكم آدم عليه السلام أن تقولوا يوم القيامة لم نعلم بهذا اعلموا أنه لا إله غيري ولا رب غيري فلا تشركوا بي شيئا اني سأرسل اليكم رسلي يذكرونكم عهدي وميثاقي وأنزل عليكم كتبي قالوا شهدنا بأنك ربنا وإلهنا لا رب لنا غيرك فاقروا بذلك ورفع عليهم آدم ينظر اليهم فرأى الغني والفقير وحسن الصورة ودون ذلك فقال رب لولا سويت بين عبادك (3) قال اني أحببت أن أشكر (4) ورأى الأنبياء فيهم مثل السرج عليهم النور (5) خصوا بميثاق آخر في الرسالة والنبوة وهو قوله تعالى (وإذ أخذنا من النبيين ميثاقهم) (6) إلى قوله (عيسى بن مريم) كان في تلك الأرواح (7) فأرسله إلى مريم فحدث (8) عن أبي أنه دخل من فيها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা আনফাল
পরিচ্ছেদ: "লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে....।"
পরিচ্ছেদ: "লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে....।"
২৮৩। 'উবাদা ইব্ন সামিত (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে যুদ্ধাভিযানে বের হয়ে তাঁর সাথে বদর যুদ্ধে অংশ নিলাম। উভয় দল মুখোমুখি হল। মহান আল্লাহ শত্রুবাহিনীকে পরাস্ত করলেন। যুদ্ধ শেষে আমাদের সেনাবাহিনীর একদল তাদেরকে বিতাড়িত করতে ও হত্যা করতে তাদের পশ্চাদ্বাবন করল, অপর একটি দল পরিত্যক্ত রসদপত্র ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হস্তগত ও একত্রিত করার জন্য নিয়োজিত হল। অপর একটি দল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পাহারায় থাকল, যাতে সৈন্য বাহিনী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন ক্ষতি করতে না পারে। এভাবে রাত চলে আসল এবং সাহাবীরা পরস্পর পরস্পরের সাথে মিলিত হল। যারা গণীমত সংগ্রহে ব্যস্ত ছিল তারা বলল, আমরা ঐ দল যারা ঐ গণীমতের সম্পত্তি সংগ্রহ ও একত্রিত করেছি, তাই এতে অন্য কারো অংশ নেই। আর যারা শত্রুদের সন্ধানে বেরিয়েছিল তারা বলল, তোমরা এ ব্যাপারে আমাদের চেয়ে অধিক হকদার নও। আমরা শত্রুদের থেকে এ সম্পত্তি নিরাপদ করেছি এবং তাদেরকে পরাস্ত করেছি। আর যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পাহারায় ছিল, তারা বলল, তোমরা এ সম্পত্তির ব্যাপারে আমাদের তুলনায় অধিক হকদার নও। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পাহারা দিয়েছি এবং তাঁকে শত্রুর নাগালের বাইরে রেখেছি, আমরা তাকে নিয়ে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত ছিলাম। তখন নাজিল হয়, "লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে। বল, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ এবং রাসূলের; সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন কর.....। (আল-কুরআন, ০৮: ০১)
সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত সম্পদ মুসলমানদের মাঝে সমহারে বণ্টন করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন শত্রু ভূমিতে বিজয় লাভ করতেন তখন অর্জিত সম্পদ চারভাগে ভাগ করতেন। অভিযান শেষে ফিরে এসে মানুষদেরকে তিনভাগ দিয়ে দিতেন। তিনি নিজের জন্য গণীমতের সম্পত্তি নেয়া অপছন্দ করতেন এবং বলতেন, শক্তিশালী মুমিনরা যেন তা দূর্বলদেরকে ফিরিয়ে দেয়। (অন্যসূত্র মতে,) আবূ উমামা বাহিলী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'উবাদা ইবনুস সামিত (রা) কে সূরা আন্ফাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এটা আমাদের কতিপয় বদরী সাহাবীকে কেন্দ্র করে নাজিল হয় যখন আমরা গনীমতের সম্পত্তির ব্যাপারে মত পার্থক্যে লিপ্ত হয়েছিলাম এবং আমাদের মত পার্থক্য চরমে পৌঁছে গিয়েছিল। তখন আল্লাহ সে সম্পদ আমাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে তুলে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন মুসলমানদের মাঝে সমহারে বণ্টন করে দিলেন।
(মুস্তাদরাক, যাহাবী)
সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত সম্পদ মুসলমানদের মাঝে সমহারে বণ্টন করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন শত্রু ভূমিতে বিজয় লাভ করতেন তখন অর্জিত সম্পদ চারভাগে ভাগ করতেন। অভিযান শেষে ফিরে এসে মানুষদেরকে তিনভাগ দিয়ে দিতেন। তিনি নিজের জন্য গণীমতের সম্পত্তি নেয়া অপছন্দ করতেন এবং বলতেন, শক্তিশালী মুমিনরা যেন তা দূর্বলদেরকে ফিরিয়ে দেয়। (অন্যসূত্র মতে,) আবূ উমামা বাহিলী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'উবাদা ইবনুস সামিত (রা) কে সূরা আন্ফাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এটা আমাদের কতিপয় বদরী সাহাবীকে কেন্দ্র করে নাজিল হয় যখন আমরা গনীমতের সম্পত্তির ব্যাপারে মত পার্থক্যে লিপ্ত হয়েছিলাম এবং আমাদের মত পার্থক্য চরমে পৌঁছে গিয়েছিল। তখন আল্লাহ সে সম্পদ আমাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে তুলে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন মুসলমানদের মাঝে সমহারে বণ্টন করে দিলেন।
(মুস্তাদরাক, যাহাবী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
سورة الأنفال
باب يسألونك عن الانفال الخ
باب يسألونك عن الانفال الخ
عن عبادة بن الصامت قال خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم فشهدت معه بدرا فالتقى الناس فهزم الله تبارك وتعالى العدو فانطلقت طائفة في آثارهم يهزمون ويقتلون فأكبت طائفة على العسكر يحوونه ويجمعونه وأحدقت طائفة برسول الله صلى الله عليه وسلم لا يصيب العدو منه غرة حتى اذا كان الليل وفاء الناس بعضهم إلى بعض قال الذين جمعوا الغنائم نحن الذين حويناها وجمعناها فليس لأحد فيها نصيب وقال الذين خرجوا في طلب العدو لستم بأحق بها منا نحن نفينا عنها العدو وهزمناهم وقال الذين أحدقوا برسول الله صلى الله عليه وسلم لستم بأحق بها منا نحن أحدقنا برسول الله صلى الله عليه وسلم وخفنا أن يصيب العدو منه غرة واشتغلنا به فنزلت (يسألونك عن الأنفال قل الأنفال لله والرسول فاتقوا الله واصلحوا ذات بينكم) فقسمها رسول الله صلى الله عليه وسلم على فواق (يعني على السواء) بين المسلمين قال وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا أغار في أرض العدو نفل الربع واذا أقبل راجعا وكل الناس نفل الثلث وكان يكره الأنفال ويقول ليرد قوى المؤمنين على ضعيفهم (ومن طريق ثان) (1) عن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال سألت عبادة بن الصامت رضي الله عنه عن الأنفال (يعني سورة الأنفال) فقال فينا معشر أصحاب بدر نزلت حين اختلفنا في النفل وساءت فيه أخلاقنا فانتزعه الله من أيدينا وجعله إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقسمه رسول الله صلى الله عليه وسلم بين المسلمين عن بواء يقول عن السراء
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে....।"
২৮৪। সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদরের দিন যুদ্ধকালে তার ভাই ‘উমায়র শাহাদাত বরণ করেন এবং আমি সাঈদ ইব্ন আসকে হত্যা করি ও তার তলোয়ার হস্তগত করি। তলোয়ারটি যুল-কাতীফা। (প্রশস্ত) নামে পরিচিত ছিল। আমি তলোয়ারটি নিয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলে তিনি বললেন তুমি যাও এবং তলোয়ারটি গনীমতের স্তূপের মধ্যে রেখে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন ফিরে আসলাম অথচ আমার মনের ব্যথা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেনা। আমার ব্যথার কারণ প্রথমত: আমার ভাই শহীদ হয়েছেন। দ্বিতীয়ত: আমার প্রিয় বস্তুকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, কিছু সময় অতিবাহিত হতেই সূরা আনফাল নাজিল হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডেকে বললেন, তুমি যাও, তোমার তরবারী নিয়ে নাও। (অপর এক বর্ণনা মতে,) তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আল্লাহ মুশরিকদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন। তাই আপানি আমাকে এ তরবারীখানা দান করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তর দিলেন, এ তরবারী তোমারও নয় আমারও নয়, তাই এটা রেখে দাও। তখন আমি সেটা রেখে ছিলাম অতঃপর আমি ফিরে আসলাম মনে মনে ভাবলাম হয়ত তরবারিটি এমন কাউকে দেওয়া হবে, যে আমার মত পরীক্ষার সম্মুখীন হয় নি। বর্ণনাকারী বলেন, তখনই এক ব্যক্তি(১) আমাকে পিছন থেকে ডাক দিলেন। আমি তাকে বললাম: আমার ব্যাপারে কি কোন কিছু নাজিল হয়েছে? তিনি বললেন, তুমি আমার নিকট তরবারী চেয়েছিলে কিন্তু তা আমার মালিকানায় ছিল না, এক্ষনে আল্লাহ তা আমাকে দান করেছেন তাই তুমি তা নিতে পার। বর্ণনাকারী বলেন, তখন এ আয়াত নাজিল হয়, "লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে, বল, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ এবং রাসূলের।"
(ইবন আবু শায়বা, মুসান্নাফ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. তিনি মুহাম্মদ।
(ইবন আবু শায়বা, মুসান্নাফ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. তিনি মুহাম্মদ।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يسألونك عن الانفال الخ
عن سعد بن أبي وقاص قال لما كان يوم بدر قتل أخي عمير وقتلت سعيد بن العاص وأخذت سيفه وكان يسمى ذا الكتيفة (3) فأتيت به النبي صلى الله عليه وسلم قال اذهب فاطرحه في القبض (4) قال فرجعت وبي مالا يعلمه إلا الله من قتل أخي وأخذ سلبى قال فما جاوزت إلا يسيرا حتى نزلت سورة الأنفال فقال لي رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم اذهب فخذ سيفك (وعنه من طريق ثان) (5) قال يا رسول الله قد شفاني (1) الله من المشركين فهب لي هذا السيف قال ان هذا السيف ليس لك ولا لي (2) ضعه قال فوضعته ثم رجعت قلت عسى أن يعطى (3) هذا السيف اليوم من لم يبل بلائي (4) قال فإذا رجل يدعوني من ورائي (5) قال قلت قد أنزل في شيء؟ قال كنت سألتني السيف وليس هو لي (6) وانه قد وهب لي (7) فهو لك قال وأنزلت هذه الآية (يسألونك عن الأنفال قل الأنفال لله والرسول)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী, "স্মরণ কর, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে; তখন তিনি তোমাদেরকে জবাব দিয়েছেন.....।(২)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৮: ০৯।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৮: ০৯।
২৮৫। 'উমার ইবন খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যখন বদরের দিন উপস্থিত হল, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের দিকে তাঁকালেন, তারা ছিল তিনশত জনের সামান্য বেশী। অতঃপর তিনি মুশরিকদের দিকে তাঁকালেন, তারা ছিল সহস্রাধিক। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিবলামুখী হয়ে তার দুহাত উচু করলেন, তার শরীরে চাদর ও লুংগী ছিল। তিনি (ﷺ) দু'আ করলেন হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে ওয়াদা করেছেন তা কোথায়? হে আল্লাহ! আপনি আমার নিকট যে ওয়াদা করেছেন তা পূর্ণ করুন। হে আল্লাহ! আপনি যদি ইসলামপন্থী এ দলকে ধ্বংস করেন, তাহলে জমীনে কখনও আপনার ইবাদত করা হবে না। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার রবের নিকট এভাবে প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং দু'আ করতে লাগলেন। এ পর্যায়ে তাঁর চাদর শরীর থেকে পড়ে গেল। আবূ বকর (রা) তখন তাঁর নিকট এগিয়ে এসে তাঁর চাদর তুলে দিলেন এবং তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আপনি যথেষ্ঠ করেছেন, আপনার প্রভু আপনার প্রার্থনা শুনেছেন। তিনি নিশ্চয়ই আপনার নিকট যা ওয়াদা করেছেন তা বাস্তাবায়ন করবেন। তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, 'স্মরণ কর, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে, তখন তিনি তোমাদেরকে জবাব দিয়েছিলেন, আমি তোমাদেরকে সাহায্য করব এক হাজার ফিরিশতা দ্বারা, যারা অতঃপর যখন একের পর এক আসবে।"(১)
অতঃপর যখন সেদিন তারা মুখোমুখি হল তখন আল্লাহ মুশরিকদেরকে পরাস্ত করলেন। তাদের সত্তর জন নিহত হল ও সত্তর জন বন্দী হল।
(মুসনাদে আহমাদ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৮: ০৯।
অতঃপর যখন সেদিন তারা মুখোমুখি হল তখন আল্লাহ মুশরিকদেরকে পরাস্ত করলেন। তাদের সত্তর জন নিহত হল ও সত্তর জন বন্দী হল।
(মুসনাদে আহমাদ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৮: ০৯।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قوله عز وجل إذ تستغيثون ربكم فاستجاب لكم
عن عمر ابن الخطاب رضي الله عنه قال لما كان يوم بدر قال نظر النبي صلى الله عليه وسلم إلى أصحابه وهم ثلاثمائة ونيف (9) ونظر إلى المشركين فإذا هم ألف وزيادة فاستقبل النبي صلى الله عليه وسلم القبل ثم مد يديه (10) عليه رداؤه وإزاره ثم قال اللهم أين ما وعدتني اللهم أنجز (11) ما وعدتني اللهم انك ان تهلك (12) هذه العصابة من أهل الاسلام فلا تعبد في الأرض أبدا قال فما زال يستغيث ربه عز وجل ويدعوه حتى سقط رداؤه فأتاه أبوبكر فأخذ رداءه فرداه ثم التزمه من ورائه ثم قال يا نبي الله كفاك (13) مناشدتك ربك فإنه سينجز لك ما وعدك وأنزل الله عز وجل (إذ تستغيثون ربكم فاستجاب لكم أني ممدكم بألف من الملائكة مردفين) (1) فلما كان يومئذ والتقوا فهزم الله عز وجل المشركين فقتل منهم سبعون رجلا وأسر منهم سبعون رجلا الحديث
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমরা এমন ফিত্নাকে ভয় কর যা বিশেষ করে তোমাদের মধ্যে যারা যালিম কেবল তাদেরকেই ক্লিষ্ট করবে না।(২)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৮: ২৫।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৮: ২৫।
২৮৬। মুতাররিফ (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যুবায়র (রা)-কে বললাম, হে আবূ আব্দুল্লাহ, আপদের কি হল? আপনারা খলীফা (উছমান রা)-কে হারালেন।(১) তারপর আবার তার রক্তের দাবী নিয়ে এসেছেন। যুবায়র (রা) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রা) 'উমার (রা) ও 'উসমান (রা) এর আমলে এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেছি "তোমরা এমন ফিতনাকে ভয় কর যা বিশেষ করে তোমাদের মধ্যে যারা যালিম কেবল তাদেরকেই ক্লিষ্ট করবে না" কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি আমরাই এর উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, অবশেষে আমাদের মধ্যে যা ঘটার তা ঘটে গেল। (অপর এক বর্ণনামতে,) হাসান (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুবায়র ইবন আওয়াম (রা) বলেছেন, এ আয়াত যখন নাজিল হয় আমরা তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। আয়াত খানা হল, তোমরা এমন ফিতনাকে ভয় কর যা বিশেষ করে তোমাদের মধ্যে যারা যালিম কেবল তাদেরকেই ক্লিষ্ট করবে না"। তখন আমরা বলাবলি করছিলাম, এ ফিতনাটি কি? আমরা বুঝতে পারিনি এটা যেখানে সংঘটিত হল, সেখানে সংঘটিত হবে।
(নাসাই অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. তার হত্যার বদলা নিতে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
(নাসাই অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. তার হত্যার বদলা নিতে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب واتقوا فتنة لا تصيبن الذين ظلموا منكم خاصة
عن مطرف قال قلنا الزبير رضي الله عنه يا ابا عبد الله ما جاء بكم ضيعتم الخليفة حتى قتل (4) ثم جئتم تطلبون بدمه (5) قال الزبير رضي الله عنه إنا قرأناها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر وعثمان رضي الله عنهم (واتقوا فتنة لا تصيبن الذين ظلموا منكم خاصة) (6) لم نكن نحسب أنا أهلها حتى وقعت منا حيث وقعت (ومن طريق ثان) (1) عن الحسن قال قال الزبير بن العوام نزلت هذه الآية ونحن متوافرون مع رسول الله صلى الله عليه وسلم (واتقوا فتنة لا تصيبن الذين ظلموا منكم خاصة) فجعلنا نقول ما هذه الفتنة وما نشعر انها تقع حيث وقعت
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "স্মরণ কর, কাফিরগণ তোমার বিরুদ্ধে যখন ষড়যন্ত্র করেছিল....(২)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৮: ৩০।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৮: ৩০।
২৮৭। 'আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি মহান আল্লাহর বাণী 'স্মরণ কর, কাফিরগণ তোমার বিরুদ্ধে যখন ষড়যন্ত্র করে তোমাকে বন্দী করার জন্য' সম্পর্কে বলেন, কুরায়শরা সে রাতে মক্কাতে পরামর্শ সভায় বসল। তখন তাদের মধ্যে কেউ বলল সকাল হলে তাকে তোমরা শক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলবে, আর তাদের লক্ষ্য ছিল মহানবী (ﷺ)। তাদের মধ্যে অন্য কেউ বলল, বরং তোমরা তাকে হত্যা করে ফেলবে, আবার অন্য কেউ বলল, তাকে তোমরা দেশ থেকে বহিষ্কার করবে। মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (ﷺ) কে এ ব্যাপারে অবহিত করলেন। সে রাতে আলী (রা) রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিছানায় রাত্রি যাপন করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেরিয়ে পড়ে সাওর গুহায় পৌঁছলেন। মুশরিকরা আলী (রা) কে নবী ভেবে রাতভর পাহারা দিলো, যখন সকাল হল তখন তারা তার নিকট গেল। যখন তারা আলী (রা) কে দেখতে পেলো-এভাবে আল্লাহ তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিলেন- তখন তারা বলল, তোমার সঙ্গী কোথায়? তিনি (রা) বললেন, আমি জানি না। অতঃপর তারা তাঁর পশ্চাদ্ধাবন করলো, এক পর্যায়ে তারা উক্ত পাহাড়ের নিকট পৌঁছলে আল্লাহ তাদেরকে ধাঁধাঁয় ফেলে দিলেন। তারা পাহাড়ে আরোহণ করে গুহার নিকট পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু তারা গুহার প্রবেশ দ্বারে মাকড়সার জাল দেখতে পেয়ে বলল, সে যদি এখানে ঢুকত তাহলে গুহার মুখে মাকড়সার জাল থাকত না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সেখানে তিনরাত অতিবাহিত করলেন।
(মুসনাদে আহামাদ, তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(মুসনাদে আহামাদ, তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وإذ يمكر بك الذين كفروا الخ
عن ابن عباس في قوله تعالى (وإذ يمكر بك الذين كفروا ليثبتوك) (3) قال تشاورت قريش ليلة بمكة فقال بعضهم إذا أصبح فأثبتوه بالوثاق يريدون النبي صلى الله عليه وسلم وقال بعضهم بل اقتلوه وقال بعضهم بل أخرجوه فأطلع الله عز وجل نبيه على ذلك (4) فبات علي على فراش النبي صلى الله عليه وسلم تلك الليلة وخرج النبي صلى الله عليه وسلم حتى لحق بالغاروبات المشركون يحرسون عليا يحسبونه النبي صلى الله عليه وسلم فلما أصبحوا ثاروا اليه فلما رأوا عليا رد الله مكرهم فقالوا أين صاحبك هذا؟ قال لا أدري فاقتصوا أثره فلما بلغوا الجبل خلط عليهم فصعدوا في الجمل فمروا بالغار فرأوا على بابه نسج العنكبوت فقالوا لو دخل ههنا لم يكن نسج العنكبوت على بابه فمكث فيه ثلاث ليال
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমরা তাদের মুকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি প্রস্তুত রাখবে।"(১)
১. আল্-কুরআন, ০৮:৬০।
১. আল্-কুরআন, ০৮:৬০।
২৮৮। 'উকবা ইব্ন 'আমির (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন- আর তিনি ছিলেন মিম্বরের উপর "তোমরা তাদের মুকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি প্রস্তুত রাখবে" জেনে রেখ, সে শক্তি হল তীরন্দাজি জেনে রেখ সে শক্তি হল তীরন্দাজি। জেনে রেখ সে শক্তি হল তীরন্দাজী।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وأعدوا لهم ما استطعتم من قوة
عن عقبة بن عامر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول وهو على المنبر (وأعدوا لهم ما استطعتم من قوة) (2) ألا إن القوة الرمى ألا أن القوة الرمى
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবীর জন্য সংগত নয়।"
২৮৯। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বদরের দিন বন্দীদের ব্যাপারে সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করছিলেন। তিনি (ﷺ) বললেন, মহান আল্লাহ তাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে ক্ষমতাবান করেছেন। তখন 'উমার ইবন খাত্তাব (রা) দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তাদের শিরচ্ছেদ করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কথায় কর্ণপাত করলেন না। অতঃপর তিনি ফিরে গিয়ে বললেন, হে মানবমন্ডলী! মহান আল্লাহ আজ তোমাদেরকে তাদের উপর কর্তৃত্ব দিয়েছেন, অথচ গতকালও তারা ছিল তোমাদের ভাই। বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমার (রা) আবার দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)। আপনি তাদের শিরচ্ছেদ করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কথায় কর্ণপাত করলেন না। অতঃপর তিনি ফিরে গিয়ে মানুষদেরকে আগের মতই বললেন। তখন আবু বকর (রা) দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনি চাইলে তাদের ক্ষমা করতে পারেন এবং তাদের নিকট থেকে মুক্তিপণ আদায় করতে পারেন। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখমণ্ডল থেকে দুনিশ্চন্তার ছাপ কেটে গেল। তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন এবং তাদের নিকট থেকে মুক্তিপণ আদায় করলেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছো তজ্জন্য তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হত"। (আল-কুরআন, ০৮: ৬৮)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما كان لنبي أن يكون له أسرى الخ
عن أنس بن مالك قال استشار رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس في الأسارى يوم بدر فقال ان الله عز وجل قد أمكنكم منهم قال فقام عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال يا رسول الله اضرب أعناقهم قال فأعرض عنه النبي صلى الله عليه وسلم قال ثم عاد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا ايها الناس ان الله قد أمكنكم منهم وإنما هم -[قوله عز وجل {لولا كتاب من الله سبق} الآية]-
إخوانكم بالأمس، قال فقام عمر فقال يا رسول الله اضرب أعناقهم، فأعرض عنه النبي صلى الله عليه وسلم قال ثم عاد النبي صلى الله عليه وسلم فقال للناس مثل ذلك، فقام أبو بكر رضي الله عنه فقال يا رسول الله إن ترى أن تعفو عنهم وتقبل منهم الفداء، قال فذهب عن وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم ما كان فيه من الغم، قال فعفا عنهم وقبل منهم الفداء، قال وأنزل الله عز وجل {لولا كتاب من الله سبق لمسكم فيما أخذتم} إلى آخر الآية
إخوانكم بالأمس، قال فقام عمر فقال يا رسول الله اضرب أعناقهم، فأعرض عنه النبي صلى الله عليه وسلم قال ثم عاد النبي صلى الله عليه وسلم فقال للناس مثل ذلك، فقام أبو بكر رضي الله عنه فقال يا رسول الله إن ترى أن تعفو عنهم وتقبل منهم الفداء، قال فذهب عن وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم ما كان فيه من الغم، قال فعفا عنهم وقبل منهم الفداء، قال وأنزل الله عز وجل {لولا كتاب من الله سبق لمسكم فيما أخذتم} إلى آخر الآية
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবীর জন্য সংগত নয়।"
২৯০। 'উমার ইবন খাত্তাব (রা) হতে হাদীসখানা আরও দীর্ঘ আকারে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বর্ণিত আছে, মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবীর জন্য সংগত নয়। তোমরা কামনা কর পার্থিব সম্পদ এবং আল্লাহ চান পরলোকের কল্যাণ; আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকলে..." আমি বললাম আয়াতের বাকী অংশ হল, "তোমরা যা গ্রহণ করেছো তজ্জন্য তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হত।"
(মুস্তাদরাকে হাকম)
(মুস্তাদরাকে হাকম)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما كان لنبي أن يكون له أسرى الخ
وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه بأطول من هذا وفيه أنزل الله عز وجل {ما كان لنبي أن يكون له أسرى حتى يثخن في الأرض- إلى قوله- لولا كتاب من الله سبق) الآية (قلت) بقيتها {لمسكم فيما أخذتم عذاب عظيم}
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা তাওবা
পরিচ্ছেদ: সূরাটির শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকা প্রসঙ্গে।
পরিচ্ছেদ: সূরাটির শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকা প্রসঙ্গে।
২৯১। 'আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'উসমান ইব্ন আফফান (রা) কে বললাম, সূরা আনফাল একশএর কম সংখ্যক আয়াত বিশিষ্ট সূরা হওয়া সত্ত্বেও এর সাথে শতাধিক আয়াত বিশিষ্ট সূরা তাওবাকে সম্পর্কিত করতে আপনাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করেছে? এ দুটো সূরা আপনারা মিলিয়ে ফেললেন এ দু'টোর মাঝখানে ইবন জা'ফর বলেন, 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" লাইনটি লিখলেন না। উপরন্তু এ টিকে দীর্ঘ সপ্ত সূরার অন্তর্ভুক্ত করলেন? কিসে আপনাদেরকে এ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে? উসমান (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহর (ﷺ)-এর নিকট কখনও সূরার বেশ কিছু সংখ্যক আয়াত নাযিল হত। যখন তার নিকট কোন কিছু নাজিল হত, তখন তিনি কোন ওহী লেখককে ডাকতেন এবং বলতেন তোমরা এ অংশটুকু যে সূরায় এই-এই কথা আছে, সে সূরার অন্তর্ভুক্ত কর। আবার যখন তার কাছে কোন আয়াত নাজিল হত তখন তিনি বলতেন তোমরা এ আয়াতকে এরূপ এরূপ কথা বিশিষ্ট সূরার অন্তর্ভুক্ত কর। সূরা আনফাল হচ্ছে মদীনায় অবতীর্ণ প্রথম দিকের সূরাসমূহের একটি আর সূরা তাওবা হল সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরাসমূহের একটি। কিন্তু উভয়ের ভেতর বর্ণিত ঘটনা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তেকাল করলেন অথচ তিনি আমাদের নিকট স্পষ্ট করেননি সূরা তাওবা আনফালের অংশ কিনা। আমি ধারণা করছি সুরা তাওবা সূরা আনফালের অংশবিশেষ। সে কারণে আমি এ দুটোকে মিলিয়ে রেখেছি এবং এদের মাঝে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বাক্যটি লিখিনি। ইবন জা'ফর (র)- এর বর্ণনায় আছে, আর আমি এটি দীর্ঘ সপ্ত সূরার অন্তর্ভুক্ত করেছি।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজী, ইবন হিব্বান)
(আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজী, ইবন হিব্বান)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
سورة التوبة
باب سبب عدم وجود البسملة في أولها
باب سبب عدم وجود البسملة في أولها
عن ابن عباس قال قلت لعثمان بن عفان ما حملكم على أن عمدتم إلى الأنفال وهي من المثاني وإلى براءة وهي من المئين (1) فقرنتم بينهما ولم يكتبوا، قال ابن جعفر (2) بينهما سطرا بسم الله الرحمن الرحيم ووضعتموها في السبع الطوال؟ ما حملكم على ذلك؟ قال عثمان: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان مما يأتي عليه الزمان (3) ينزل عليه من السور ذوات العدد، وكان إذا أنزل عليه الشيء يدعو بعض من يكتب عنده (4) بقول ضعوا هذه السورة التي يذكر فيها كذا وكذا: وينزل عليه الآية فيقول ضعوا هذه الآية في السورة التي يذكر فيها كذا وكذا (5) وكانت الأنفال من أوائل ما أنزل بالمدينة وبراءة من آخر القرآن (6) فكانت قصتها شبيهة بقصتها (7) فقبض رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم ولم يبين لنا أنها منها (8) وظنت أنها منها (9) فمن ثم قرنت بينهما ولم أكتب بينهما سطرا بسم الله الرحمن الرحيم (10) قال ابن جعفر ووضعتها في السبع الطوال (11)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সূরাটির শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকা প্রসঙ্গে।
২৯২। ইয়াযীদ ইবন ইয়ুশায়ন (র) আবু বকর (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রায় তাকে সূরা তাওবা নিয়ে মক্কাবাসীর নিকট পাঠালেন এ মর্মে যে, এ বছরের পর কোন মুশরিক উলংগ অবস্থায় হজ্জ করতে এবং বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না। মুসলিম ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সন্ধির মেয়াদ আছে তার সন্ধি মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) মুশরিকদের থেকে সম্পর্কমুক্ত। বর্ণনাকারী বলেন, আবু বকর (রা) এ ঘোষণাসহ এক তৃতীয়াংশ পথ অতিক্রম করলেন, অতঃপর তিনি আলী (রা) কে বললেন, তুমি গিয়ে আবু বকরের সাথে মিলিত হও। এবং তাকে আমার কাছে ফেরত পাঠাও আর তুমিই এটা জনতার মাঝে পৌঁছিয়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, আলী (রা) তাই করলেন। তিনি আরও বলেন, আবু বকর (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমার ব্যাপারে কি কিছু ঘটেছে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার ব্যাপারে কল্যাণ ছাড়া কিছু ঘটেনি। আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন আমি স্বয়ং অথবা আমার কোন নিকটতম ব্যক্তি এ ঘোষণা দিই।
(অন্যান্য গ্রন্থসূত্র: বুখারী; তিরমিযী।)
(অন্যান্য গ্রন্থসূত্র: বুখারী; তিরমিযী।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب سبب عدم وجود البسملة في أولها
عن زيد بن يثيع عن أبي بكر أن النبي صلى الله عليه وسلم بعثه ببراءة (2) لأهل مكة لا يحج بعد العام مشرك ولا يطوف بالبيت عريان، ولا يدخل الجنة إلا نفس مسلمة، من كان بينه وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم مدة فأجله إلى مدته (3) والله بريء من المشركين ورسوله (4) قال فسار بها ثلاثا ثم قال لعلي ألحقه، فرد علي أبا بكر وبلغها أنت، قال ففعل (5) قال فلما قدم علي النبي صلى الله عليه وسلم أبو بكر بكى. قال يا رسول الله حدث في شيء؟ قال ما حدث فيك إلا خير، أمرت (1) أن لا يبلغه إلا أنا أو رجل مني
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সূরাটির শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকা প্রসঙ্গে।
২৯৩। আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওপর যখন সূরা তাওবার দশটি আয়াত নাজিল হয় তখন তিনি আবু বকর (রা) কে ডেকে এ আয়াতগুলো মক্কাবাসীর নিকট পড়ে শোনানোর জন্য প্রেরণ করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডেকে বললেন, তুমি আবু বকরের পিছু গিয়ে যেখানে তাকে পাবে সেখানেই তার নিকট থেকে উক্ত আয়াত সংবলিত লেখাটি গ্রহণ করবে। তার পর তা নিয়ে মক্কাবাসীর নিকট গিয়ে তাদেরকে পড়ে শোনাবে। আলী (রা) বলেন, আমি তাকে (রা) জুহফা নামক স্থানে পেলাম। আমি তার (রা) নিকট থেকে লেখাটি গ্রহণ করলে তিনি (র) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফিরে এসে বললেন, ইয়া রাসূলুসাল্লাহ। আমার ব্যাপারে কোন কিছু নাজিল হয়েছে কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না, তবে জিবরীল (আ) আমার নিকট এসে বললেন, এ কাজটি আপনার নিজের দ্বারা অথবা আপনার কাছের কোন মানুষের দ্বারা সম্পন্ন হওয়া উচিত।
আলী (রা) হতে অপর এক বর্ণনা মতে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আলী (রা) কে সূরা তাওবার লেখাটি দিয়ে পাঠালেন তখন তিনি (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আমি সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী অথবা কোন উচু মানের বক্তা নই। তিনি (ﷺ) বললেন- এটা নিয়ে আমাকে অথবা তোমাকেই যেতে হবে। আলী (রা) বলেন, যদি এ ছাড়া উপায় না থাকে তাহলে আমিই যাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে তুমি যাও। আল্লাহ তোমার কণ্ঠকে দৃঢ় করুন এবং তোমার অন্তরকে হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন। অতঃপর তিনি তাঁর হাত তাঁর (রা) মুখে বুলিয়ে দিলেন।
আলী (রা) হতে অপর এক বর্ণনা মতে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আলী (রা) কে সূরা তাওবার লেখাটি দিয়ে পাঠালেন তখন তিনি (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আমি সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী অথবা কোন উচু মানের বক্তা নই। তিনি (ﷺ) বললেন- এটা নিয়ে আমাকে অথবা তোমাকেই যেতে হবে। আলী (রা) বলেন, যদি এ ছাড়া উপায় না থাকে তাহলে আমিই যাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে তুমি যাও। আল্লাহ তোমার কণ্ঠকে দৃঢ় করুন এবং তোমার অন্তরকে হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন। অতঃপর তিনি তাঁর হাত তাঁর (রা) মুখে বুলিয়ে দিলেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب سبب عدم وجود البسملة في أولها
عن علي رضي الله عنه قال لما نزلت عشر آيات (3) من براءة على النبي صلى الله عليه وسلم دعا النبي صلى الله عليه وسلم أبا بكر رضي الله عنه فبعثه بها ليقرأها على أهل مكة (4) ثم دعاني النبي صلى الله عليه وسلم فقال أدرك أبا بكر فحيثما لحقته فخذ الكتاب منه فاذهب به إلى أهل مكة فاقرأه عليهم، فلحقته بالجحفة فأخذت الكتاب منه ورجع أبو بكر رضي الله عنه (5) إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله نزل في شيء؟ قال لا ولكن جبريل جاءني فقال لي أن يؤدى عنك إلا أنت أو رجل منك (1) (ز) (وعنه م طريق ثان) (2) أن النبي صلى الله عليه وسلم حين بعثه ببراءة قال يا نبي الله إني لست باللسن (3) ولا بالخطيب، قال ما بد أن أذهب بها أنا أو تذهب بها أنت: قال فإن كان ولابد فسأذهب أنا، قال فانطلق فإن الله يثبت لسانك ويهدي قلبك، قال ثم وضع يده على فمه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সূরাটির শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকা প্রসঙ্গে।
২৯৪। যায়দ ইব্ন উছায়' (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হামাদানের জনৈক ব্যক্তি আলী (রা) কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। সেদিন মহানবী (ﷺ) আবু বকর (রা) এর সাথে তাকে হজ্জের নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন? তিনি (রা) বললেন, আমি চারটি বিধান নিয়ে প্রেরিত হয়েছিলাম। মুমিন ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না, নগ্ন অবস্থায় কেউ বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে না, যার সাথে রাসুলুল্লাহা (ﷺ)-এর কোন সন্ধি করা আছে সে সন্ধি উক্ত মেয়াদ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এ বছরের পরে আর মুশরিক ও মুসলিমরা একত্রে হজ্জ করতে পারবে না।
(তিরমিযী, নাসাঈ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(তিরমিযী, নাসাঈ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب سبب عدم وجود البسملة في أولها
عن زيد بن أثيع رجل من همدان سألنا عليا رضي الله عنه بأي شيء بعثت؟ يعني يوم بعثه النبي صلى الله عليه وسلم مع أبي بكر رضي الله عنه في الحجة؟ قال بعثت بأربع، لا يدخل الجنة إلا نفس مؤمنة (5) ولا يطرف بالبيت عريان ومن كان بينه وبين النبي صلى الله عليه وسلم عهد فعهده إلى مدته (1) ولا يحج المشركون والمسلمون بعد عامهم هذا
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "হাজীদের জন্য পানি সরবরাহ.... পুণ্যের সমজ্ঞান কর।"
২৯৫। নু'মান "ইব্ন বাশীর (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিম্বারের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি বলল, আমি ইসলাম গ্রহণের পর হাজীদের পানি সরবরাহ করা ছাড়া অন্য কোন আমল করার দরকার মনে করছি না। অপরজন বলল, আমি ইসলাম গ্রহণের পর মাসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করা ছাড়া অন্য কোন আমল করার দরকার মনে করছি না। অপর একজন বলল, তোমরা যা বললে তদাপেক্ষা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার অতি উত্তম কাজ। 'উমার ইবন খাত্তাব (রা) তাদেরকে তখন ধমক দিলেন এবং বললেন, তোমরা জুমার দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিম্বরের পার্শ্বে দাড়িয়ে চিৎকার কর না। বরং সালাতুল জুম'আ আদায় শেষে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে তোমাদের মতপার্থক্যের বিষয় জেনে আসব। তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, হাজীদের জন্য পানি সরবরাহ এবং মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করাকে তোমরা কি তাদের পূণ্যের সমজ্ঞান কর, যারা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান আনে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করে? আল্লাহর নিকট তারা সমতুল্য নয়। আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।" (আল-কুরআন, ০৯: ১৯) (মুসলিম, আবু দাউদ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب أجعلتم سقاية الحاج الخ
عن النعمان بن بشير قال كنت إلى جانب منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رجل ما أبالي أن لا أعمل بعد الإسلام إلا أن أسقى الحاج، وقال آخر ما أبالي أن لا أعمل عملا بعد الإسلام إلا أن أعمر المسجد الحرام، وقال آخر الجهاد في سبيل الله أفضل مما قلتم (4) فزجرهم عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال لا ترفعوا أصواتكم عند منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يوم الجمعة ولكن إذا صليت الجمعة دخلت فاستفتيته فيما اختلفتم فيه: فأنزل الله عز وجل {أجعلتم سقاية الحاج (5) وعمارة المسجد الحرام كمن أمن بالله واليوم الآخر) إلى آخر الآية كلها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। তাদের মধ্যে এমন লোক আছে, যে সাদকা বণ্টন সম্পর্কে তোমাকে দোষারোপ করে...।"
২৯৬। আবু সালামা ইব্ন আব্দুর রহমান (র) হতে সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণনা করেন, যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে কিছু সাদকা বণ্টন করছিলেন, এমন সময় তাঁর নিকট ইবন জুল খুওয়ায়ছিরা তায়মী(১) এসে বলল, ইয়া রাসূলুসাল্লাহ (ﷺ)! আপনি ন্যায় বিচার করুন। তিনি বললেন, তুমি ধ্বংস হও। আমি ন্যায় বিচার না করলে কে ন্যায়-বিচার করবে? তখন 'উমার ইবন খাত্তাব (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! তার ব্যাপারে আপনি আমাকে অনুমতি দেন, আমি তার গর্দান কেটে ফেলি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা এর এমন কতক সঙ্গী রয়েছে, যার সালাতের সামনে তোমাদের একেকজন নিজ সালাতকে এবং যার সিয়ামের সামনে নিজ সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা দ্বীন থেকে সেভাবে বেরিয়ে যাবে যেভাবে তীর তার শিকার থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর সে তার তীরের পালকের দিকে তাকায় কিন্তু তাতে কিছু দেখতে পায় না, অতঃপর তীরের দণ্ডের দিকে তাকায় কিন্তু তাতেও কিছু দেখতে পায় না, অতঃপর তীরের লৌহ লাগানো মাথার দিকে তাকায় তাতেও কিছু দেখতে পায় না, তারপর সে ফলার দিকে তাকায় সে তাতেও কিছু দেখতে পায় না। তা জন্তুর মল-মুত্র ও ভেতর দিয়ে বের হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে কৃষ্ণকায় এক ব্যাক্তি থাকবে যার এক হাত কিংবা বলেন, একটি স্তন মহিলাদের স্তনের মত অথবা মাংস পিন্ডেরমত খলখল করবে তারা মানুষদের বিভেদকালে প্রকাশ পাবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নাজিল হয়, তাদের মধ্যে এমন লোক আছে, যে সদকা বণ্টন সম্পর্কে তোমাকে দোষারোপ করে, অতঃপর এর কিছু তাদেরকে দেয়া হলে তারা পরিতুষ্ট হয়। আর এর কিছু তাদেরকে না দেয়া হলে তৎক্ষণাৎ তারা বিক্ষুদ্ধ হয়।” (আল-কুরআন, ০৯। ৫৮)
আবু সা'ঈদ (রা) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এটা আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে শুনেছি, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী (রা) যখন শহীদ হলেন তখন আমি তার সাথে ছিলাম, তখন আমাদের কাছে এমন একজনকে আনা হয় যার বৈশিষ্ট্য রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ।
(বুখারী ও মুসলিম অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১.তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আমলের খারিজী নেতৃবৃন্দের অন্যতম।
আবু সা'ঈদ (রা) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এটা আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে শুনেছি, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী (রা) যখন শহীদ হলেন তখন আমি তার সাথে ছিলাম, তখন আমাদের কাছে এমন একজনকে আনা হয় যার বৈশিষ্ট্য রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ।
(বুখারী ও মুসলিম অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১.তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আমলের খারিজী নেতৃবৃন্দের অন্যতম।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ومنهم من يلمزك في الصدقات الخ
عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يقسم قسما إذ جاءه ابن ذي الخويصرة (2) التيمي فقال اعدل يا رسول الله، فقال ويلك ومن يعدل إذا لم أعدل، فقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه يا رسول الله أتأذن لي فيه فأضرب عنقه؟ فقال النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم دعه فإن له أصحابا يحتقر أحدكم صلاته مع صلاته وصيامه مع صيامه يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية فينظر في قذذه (3) فلا يوجد فيه شيء ثم ينظر في نضيته (4) فلا يوجد فيه شيء ثم ينظر في رصانه (5) فلا يوجد فيه شيء ثم ينظر في نصله فلا يوجد فيه شيء (6) قد سبق الفرث والدم، منهم رجل أسود في إحدى يديه (1) أو قال إحدى ثدييه مثل ثدي المرأة أو مثل البضعة (2) تدردر، يخرجون على حين فترة (3) من الناس فنزلت فيهم (4) {ومنهم من يلمزك في الصدقات} الآية (5) قال أبو سعيد رضي الله عنه أشهد أني سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم وأشهد أن عليا حين قتله وأنا معه جيء بالرجل على النعت (6) الذي نعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في إحدى يديه (1) أو قال إحدى ثدييه مثل ثدي المرأة أو مثل البضعة (2) تدردر، يخرجون على حين فترة (3) من الناس فنزلت فيهم (4) {ومنهم من يلمزك في الصدقات} الآية (5) قال أبو سعيد رضي الله عنه أشهد أني سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم وأشهد أن عليا حين قتله وأنا معه جيء بالرجل على النعت (6) الذي نعت رسول الله صلى الله عليه وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য"।(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৯:৬০।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৯:৬০।
২৯৭। আবু সাঈদ (রা) হতে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় চিত্ত আকর্ষণ করার জন্য যাদেরকে সাদকা দেয়া হত তারা চারজন: আলক্বামা ইবন 'উলাছা জা'ফরী, আকরা' ইবন হাবিস হানযালী, যায়দ খায়ল তাঈ ও 'উয়ায়না ইবন বদর ফাজারী। বর্ণনাকারী বলেন, আলী (রা) একবার ইয়ামান থেকে কিছু অপরিশোধিত স্বর্ণ নিয়ে আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা তাদের মাঝে বিতরণ করে দিলেন।
(বুখারী ও মুসলিম, মুয়াত্তা ইমাম মালিক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(বুখারী ও মুসলিম, মুয়াত্তা ইমাম মালিক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب المؤلفة قلوبهم
عن أبي سعيد أيضا قال كان المؤلفة قلوبهم على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أربعة، علقمة بن علاثة الجعفري والأقرع بن حايس الحنظلي وزيد الخيل (8) الطائي وعيينة بن بدر الفزاري (9) قال فقدم علي بذهبة (10) من اليمن بتربتها فقسمها رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بينهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী, "তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর একই কথা”(২) ও আল্লাহর বাণী; তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও তার জন্য জানাযার সালাত পড়বে না...।"
২. আল-কুরআন, ০৯:৮০।
২. আল-কুরআন, ০৯:৮০।
২৯৮। 'উমার ইবন খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন 'আব্দুল্লাহ ইবন উবাই মারা গেল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তার জানাযার সালাত আদায়ের জন্য ডাকা হল। তিনি তার লাশের কাছে গেলেন এবং তার জানাযার সালাত আদায়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আমি তখন এগিয়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বুকের কাছে দাঁড়িয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি আল্লাহর এমন শত্রুর জানাযা আদায় করবেন যে অমুক দিন একথা অমুক দিন একথা বলেছে? এভাবে তিনি দিনগুলো স্মরণ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসলেন। অতঃপর আমি যখন তাকে বিষয়টি একাধিকবার বললাম, তখন তিনি বললেন, হে 'উমার আমাকে অবকাশ দাও। আমাকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। তাই এটাকে বেছে নিয়েছি। আমাকে বলা হয়েছে, "তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর একই কথা, তুমি সত্তর বার তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না।" আমি যদি জানতাম সত্তরের অধিক বার ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে ক্ষমা করা হত তাহলে আমি তাই করতাম। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি (ﷺ) জানাযার সালাত আদায় করলেন এবং তার শবযাত্রায় শরীক হলেন। অতঃপর দাফন শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন, উমর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- সামনে আমার (সে দিনের) সাহস ভেবে আমি আশ্চার্যান্বিত হই। অথচ এসব ব্যাপারে আল্লাহ ও তার রাসূল-ই সমধিক অবগত। তিনি আরও বলেন, এর সামান্য পরেই নাজিল হয়, "তাদের জন্য কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও তার জন্য জানাযার সালাত পড়বে না এবং তার কবর- পার্শ্বে দাঁড়াবে না, তারা তো আল্লাহ ও তার রাসূলকে অস্বীকার করেছিল এবং পাপাচারী অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।(১) এর পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত অন্য কোন মুনাফিকের জানাযার সালাত আদায় করেননি। এবং তার কবর-পার্শ্বে ও দাঁড়াননি।
(বুখারী ও নাসাঈ, ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৯: ৮৪।
(বুখারী ও নাসাঈ, ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৯: ৮৪।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قوله عز وجل استغفر لهم أو لا تستغفر لهم الخ- قوله تعالى ولا تصل على أحد منهم مات أبدا
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال لما توفي عبد الله بن أبي (2) دعيى رسول الله صلى الله عليه وسلم للصلاة عليه (3) فقام إليه فلما وقف عليه يريد الصلاة تحولت حتى قمت في صدره فقلت يا رسول الله أعلى عدو الله عبد الله بن أبي القائل يوم كذا وكذا يعدد أيامه (4) قال ورسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم يبتسم حتى إذا أكثرت عليه قال أخر عني يا عمر (5) إني خيرت فاخترت وقد قيل (استغفر لهم أو لا تستغفر لهم إن تستغفر لهم سبعين مرة فلن يغفر الله لهم) (6) لو أعلم أني إن زدت على الستين غفر له لزدت، قال ثم صلى عليه (7) ومشى معه فقام على قبره (1) حتى فرغ منه قال فعجب لي وجراءتي (2) على رسول الله صلى الله عليه وسلم والله ورسوله أعلم، قال فوالله ما كان إلا يسيرا حتى نزلت هاتان الآيتان (ولا تصل على أحد منهم مات أبدا (3) ولا تقم على قبره، أنهم كفروا بالله ورسوله وماتوا وهم فاسقون) فما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بعده على منافق ولا قام على قبره حتى قبضه الله عز وجل
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী, "তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর একই কথা” ও আল্লাহর বাণী; তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও তার জন্য জানাযার সালাত পড়বে না...।"
২৯৯। 'আব্দুল্লাহ ইবন 'উমার (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন 'আব্দুল্লাহ ইবন উবাঈ মারা গেল, তখন তার পুত্র রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসুল্লাল্লাহ আপনি আমাকে আপনার একটি জামা দিন যা দ্বারা আমি তার দাফন করতে পারি আর আপনি তার জানাযার সালাত আদায় করবেন এবং তার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে তার জামা দিয়ে দিলেন এবং তাকে বললেন, আমাকে তার জানাযার সালাতের সময় ডাকবে। অতঃপর যখন তিনি তার জানাযার সালাত আদায়ের জন্য গেলেন তখন 'উমার (রা) তাকে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আল্লাহ তো আপনাকে মুনাফিকদের জানাযার সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি দু'টো বিষয়ের যে-কোনও একটি গ্রহণের এখতিয়ার লাভ করেছি। আল্লাহ বলেছেন, তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর একই কথা।" (আল্-কুরআন, ০৯:৮০)
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায় করলেন, তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও তার জন্য জানাযার সালাত পড়বে না..."। (আল-কুরআন, ০৯:৮৪)
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুনাফিকদের জানাযার সালাত আদায় করা ছেড়ে দিলেন।
(বুখারী ও মুসলিম অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায় করলেন, তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও তার জন্য জানাযার সালাত পড়বে না..."। (আল-কুরআন, ০৯:৮৪)
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুনাফিকদের জানাযার সালাত আদায় করা ছেড়ে দিলেন।
(বুখারী ও মুসলিম অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قوله عز وجل استغفر لهم أو لا تستغفر لهم الخ- قوله تعالى ولا تصل على أحد منهم مات أبدا
عن ابن عمر قال لما مات عبد الله ابن أبي (5) جاء ابنه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أعطني قميصك حتى أكفنه فيه وصل عليه واستغفر له فأعطاه قميصه (6) وقال آذني به (7) فلما ذهب ليصلي عليه قال يعني عمر رضي الله عنه قد نهاك الله أن تصلي على المنافقين (8) فقال أنا بين خيرتين (استغفر لهم أو لا تستغفر لهم) فصلى عليه فأنزل الله عز وجل (ولا تصل على أحد منهم مات أبدا) قال فتركت الصلاة عليهم
তাহকীক: