মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩০৩ টি
হাদীস নং: ২২০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহে হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য।(১)
১. আল-কুরআন, ০৩:৯৭।
১. আল-কুরআন, ০৩:৯৭।
২২০। 'আলী (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাজিল হল, "মানুষের মধ্যে যারা সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহে হজ্জ করা তার অবশ্যই কর্তব্য'-তখন সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা কি প্রতিবছর? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন চুপ থাকলেন। তারা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি প্রতিবছর? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না, তবে আমি যদি বলতাম 'হ্যাঁ' তাহলে প্রতিবছরই তোমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে যেত তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "হে মু'মিনগণ। তোমরা সে সব বিষয়ে প্রশ্ন কর না যা তোমাদের নিকট প্রকাশ হলে তা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে। কুরআন অবতরণ কালে তোমরা যদি সে সব বিষয়ে প্রশ্ন কর তবে তা তোমাদের নিকট প্রকাশ করা হবে। আল্লাহ সে সব ক্ষমা করেছেন এবং আল্লাহ্ ক্ষমাশীল ও সহনশীল।" (আল-কুরআন, ০৫: ১০১)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ولله على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلا
عن علي رضي الله عنه قال لما نزلت هذه الآية (ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا قالوا يا رسول الله أفي كل عام؟ فسكت فقالوا أفي كل عام؟ فقال لا ولو قلت نعم لوجبت فأنزل الله تعالى (يا ايها الذين آمنوا لا تسألوا عن أشياء ان تبد لكم تسؤكم الخ الآية)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে।"(২)
২. আল-কুরআন, ৩: ১১০।
২. আল-কুরআন, ৩: ১১০।
২২১। 'আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর বাণী- "তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে"-এ ব্যাপারে বলেন তারা হলেন যারা মহানবী (ﷺ) এর সাথে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছেন। 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হতে অপর এক সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে এবং তাতে বলা হয়েছে তারা মুহাম্মদ (ﷺ) এর ঐ সকল সঙ্গী যারা তাঁর সাথে মদীনায় হিজরত করেছেন।
(তাবারানী)
(তাবারানী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب كنتم خير أمة الخ
عن ابن عباس في قوله عز وجل (كنتم خير أمة أخرجت للناس) (3) قال هم الذين هاجروا مع النبي صلى الله عليه وسلم من مكة إلى المدينة (4) (وعنه من طريق ثان) (5) بنحوه وفيه قال أصحاب محمد الذين هاجروا معه إلى المدينة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তারা সকলে এক রকম নয়।"(১)
১. আল-কুরআন, ৩: ১১৩।
১. আল-কুরআন, ৩: ১১৩।
২২২। 'আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা 'ইশার সালাত আদায়ে দেরী করছিলেন। অতঃপর তিনি যখন মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলেন তখন মানুষেরা সালাতের জন্য অপেক্ষা করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এ সকল দীনের অনুসারীদের মধ্যে তোমরা ছাড়া আর কেউ এই সময় আল্লাহকে স্মরণ করে না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন এ আয়াত নাজিল হয়, "তারা সকলে এক রকম নয়। কিতাবীদের মধ্যে অবিচলিত একদল আছে; তারা রাত্রিকালে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং সিজদা করে। তারা আল্লাহ এবং শেষ দিনে বিশ্বাস করে, সৎকার্যের নির্দেশ দেয়, অসৎকার্যে নিষেধ করে এবং তারা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করে। তারাই স্বজনদের অন্তর্ভুক্ত। উত্তম কাজের যা কিছু তারা করে তা হতে তাদেরকে কখনও বঞ্চিত করা হবে না। আল্লাহ্ মুত্তাকীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।" (আল কুরআন, ৩: ১১৩-১১৫)
(মুসনাদে আবু ইয়ালা, মুসনাদে ইবন বাযযার ও তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(মুসনাদে আবু ইয়ালা, মুসনাদে ইবন বাযযার ও তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ليسوا سواءا
عن ابن مسعود قال آخر رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة العشاء ثم خرج إلى المسجد فإذا الناس ينتظرون الصلاة قال أما أنه ليس من أهل هذه الأديان أحد يذكر الله هذه الساعة غيركم قال وأنزل هؤلاء الآيات (ليسوا سواءا من أهل الكتاب) حتى بلغ (وما تفعلوا من خير فلن تكفروه والله عليم بالمتقين)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমার করণীয় কিছুই নেই।"(২)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ৩। ১৪২।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ৩। ১৪২।
২২৩। সালিম (র) তার পিতা সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি হে আল্লাহ! লা'নত করুন হারিছ ইব্ন হিশামকে, হে আল্লাহ্! লা'নত করুন সুহায়ল ইবন আমর কে, হে আল্লাহ! লা'নত করুন সাফওয়ান ইবন উমাইয়াকে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়, "তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন- এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নেই; কারণ তারা তো যালিম।" বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং তাদের সবাইকে তওবার তওফীক দেওয়া হয়।
(বুখারী, নাসাঈ, তিরমিযী)
(বুখারী, নাসাঈ, তিরমিযী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ليس لك من الأمر شيء الخ
عن سالم عن أبيه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اللهم العن الحارث بن هشام اللهم العن سهيل بن عمرو اللهم العن صفوان بن أمية قال فنزلت هذه الآية (ليس لك من الأمر شيء أو يتوب عليهم أو يعذبهم فإنهم ظالمون) (3) قال فتيب عليهم كلهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমার করণীয় কিছুই নেই।
২২৪। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাড়ির নিকটবর্তী দাঁত ভেঙ্গে গেলো এবং তিনি মাথার অগ্রভাগে আঘাত পেলেন এমনকি তাঁর মুখমন্ডল দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ল। তখন তিনি বলেন, এমন জাতি কিভাবে সফলকাম হতে পারে যারা তাদের নবীর সাথে এরূপ অমানুষিক আচরণ করে আর নবী তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের জন্য দুআ করতে থাকে। তখন এ আয়াত নাজিল হয়, "তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন-এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নেই, কারণ তারা তো যালিম।"
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ)
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ليس لك من الأمر شيء الخ
عن أنس بن مالك أن النبي صلى الله عليه وسلم كسرت رباعيته (2) يوم أحد وشج في جبهته حتى سال الدم على وجهه فقال كيف يفلح قوم فعلوا هذا بنبيهم وهو يدعوهم إلى ربهم فنزلت هذه الآية (ليس لك من الأمر شيء أو يتوب عليهم أو يعذبهم فإنهم ظالمون)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'যা তোমরা ভালবাসো তা তোমাদেরকে দেখানোর পর তোমরা অবাধ্য হলে।(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৩: ১৫২।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৩: ১৫২।
২২৫। বারা ইবন 'আযিব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'আব্দুল্লাহ ইবন জুবায়র (রা), কে পঞ্চাশ সদস্য বিশিষ্ট তীরন্দাজ বাহিনীর দায়িত্ব প্রদান করেন এবং বলেন, তোমরা যদি শত্রু পক্ষকে দেখতে পাও এবং দেখতে পাও যে, পাখি আমাদের গোশত ছোবল দিচ্ছে তবুও তোমরা গিরিপথ ছেড়ে যাবে না। যুদ্ধের মধ্যে যখন তারা গণীমতের সম্পদ দেখতে পেল তখন তারা বলে উঠল গণীমতের সম্পদের মালিকানা তো তোমাদেরই। তখন 'আব্দুল্লাহ ইব্ন যুবায়র (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি তোমাদের বলেননি। তোমরা কিছুতেই গিরিপথ ছেড়ে দিবে না? বর্ণনাকারী বলেন, তখন 'আব্দুল্লাহ ইব্ন জুবায়র (রা) ব্যতীত অন্যদেরকে লক্ষ্য করে নাজিল হয়- "যা তোমরা ভালবাসো তা তোমাদেরকে দেখানোর পর তোমরা অবাধ্য হলে।" তিনি বলেন, তোমরা গনীমতের সম্পদ ও শত্রুদের পরাজয় দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথার অবাধ্য হয়ে পড়লে।
(বুখারী)
(বুখারী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وعصيتم من بعد ما أراكم ما تحبون
عن البراء بن عازب قال جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم على الرماة وكانوا خمسين رجلا عبد الله بن جبير يوم أحد وقال ان رأيتم العدو ورأيتم الطير تخطفنا فلا تبرحوا (4) فلما رأوا الغنائم قالوا عليكم الغنائم فقال عبد الله ألم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تبرحوا قال غيره فنزلت (وعصيتم من بعد ما أراكم ما تحبون) يقول عصيتم الرسول من بعد ما أراكم الغنائم وهزيمة العدو
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। মহান আল্লাহর বাণীঃ কি ব্যাপার। যখন তোমাদের ওপর মুসীবত আসল তখন তোমরা বললে এটা কোথা থেকে আসল?(১) এবং তাঁর বাণী," 'যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে কখনই মৃত মনে কর না।(২)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ৩:১৬৫।
২. আল-কুরআন, ৩।১৬৯।
টিকা:
১. আল-কুরআন, ৩:১৬৫।
২. আল-কুরআন, ৩।১৬৯।
২২৬। 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কোন ভাইকে যদি আল্লাহ শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন তাহলে সে দেখতে পাবে আল্লাহ শহীদদের রূহসমূহকে সবুজ পাখির আকৃতিতে শুন্যে ছেড়ে দেন যারা জান্নাতের ঝর্ণনাধারার পার্শ্বে উড়ে বেড়ায়, জান্নাতের ফল খায় এবং আরশের ছায়াতলে স্বর্ণের তৈরী ফানুষে আশ্রয় নেয়। অতঃপর তারা যখন জান্নাতের খাদ্য, পানীয় ও উত্তম শয্যার সাধ পেয়ে যায় তখন তারা বলে, আফসোস! আমাদের ভাইয়েরা যদি জানত আল্লাহ আমাদের সাথে কত সুন্দর আচরণ করছেন তাহলে তারা কখনও জিহাদ বিমুখ হতো না এবং যুদ্ধ থেকে পিছু হটত না। তখন আল্লাহ বললেন, আমি তোমাদের পক্ষ থেকে একথা তাদের নিকট পৌঁছে দেব। তাই আল্লাহ এ আয়াত সমূহ নাজিল করেন- "যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে কখনও মৃত মনে কর না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তারা জীবিকা প্রাপ্ত।”
(আবু দাউদ, মুয়াত্তা ইমাম মালিক)
(আবু দাউদ, মুয়াত্তা ইমাম মালিক)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قوله عز وجل أولما أصابتكم مصيبة قد أصبتم مثليها قلتم أني هذا) الآية (1) (وقوله تعالى ولا تحسبن الذين قتلوا في سبيل الله أمواتا) الآيات
عن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أصيب أخوانكم بأحد جعل الله عز وجل أرواحهم في أجواف طير خضر تود أنهار الجنة تأكل من ثمارها وتأوي إلى قناديل من ذهب في ظل العرش فلما وجدوا طيب مشربهم ومأكلهم وحسن منقلبهم قالوا ياليت اخواننا يعلمون بما صنع الله لنا لئلا يزهدوا في الجهاد ولا ينكلوا (3) عن الحرب فقال الله عز وجل أنا أبلغهم عنكم فأنزل الله عز وجل هؤلاء الآيات (ولا تحسبن الذين قتلوا في سبيل الله أمواتا بل أحياء)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "স্মরণ কর, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল আল্লাহ্ তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন। তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টরূপে প্রকাশ করবে।(৩)
২২৭। ইব্ন আবূ মূলায়কা (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুমায়দ ইবন 'আব্দুর রহমান ইব্ন আওফ (র) তার নিকট তথ্য দিয়েছেন যে, মারওয়ান ইবনুল হাকাম তার দারোয়ান রাফি'-কে বললেন, হে রাফি’ তুমি আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) এর নিকট যাও এবং তাকে বল, আমাদের প্রত্যেকেই যা পেয়েছে তাতে আনন্দিত হলে এবং যা করেনি সে ব্যাপারে প্রশংসা পেতে পছন্দ করলে, যদি শাস্তি প্রাপ্ত হয়, তবে আমরা সকলেই তো শাস্তি প্রাপ্ত। তখন 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) বলেন, তোমাদের এ ব্যাপারে প্রশ্ন করার কি আছে? এ আয়াত তো আহলে কিতাবদের লক্ষ্য করে নাজিল হয়েছে, অতঃপর 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) তিলাওয়াত করলেন, "স্মরণ কর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। এর পরও তারা তা অগ্রাহ্য করে ও তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে; সুতরাং তারা যা ক্রয় করে তা কত নিকৃষ্ট।" তিনি আরও তিলাওয়াত করেন, "যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং যা নিজেরা করেনি এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে..."।
(আল-কুরআন, ৩: ১৮৮)
অতএব 'আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিকট কতিপয় বিষয় জানতে চাইলে তারা তা তাঁর নিকট গোপন করল এবং তাকে অন্য কথা জানাল। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে বেরিয়ে গেল এবং এমন ভাব দেখালো যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিকট যা জানতে চেয়েছিলেন তারা তাকে তা অবহিত করেছে এবং এ ব্যাপারে তারা তার কাছে প্রশংসা কামনা করল। তারা যা তার নিকট গোপন করল আর তিনি তাকে যা জিজ্ঞেস করেছিলেন তা যে তার কাছে গোপন করতে পারল, সে জন্য তারা খুব খুশী হল।
(বুখারী, মুসলিম তিরমিযী ও নাসাঈ)
৩. আল-কুরআন, ৩:১৮৭
(আল-কুরআন, ৩: ১৮৮)
অতএব 'আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিকট কতিপয় বিষয় জানতে চাইলে তারা তা তাঁর নিকট গোপন করল এবং তাকে অন্য কথা জানাল। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে বেরিয়ে গেল এবং এমন ভাব দেখালো যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিকট যা জানতে চেয়েছিলেন তারা তাকে তা অবহিত করেছে এবং এ ব্যাপারে তারা তার কাছে প্রশংসা কামনা করল। তারা যা তার নিকট গোপন করল আর তিনি তাকে যা জিজ্ঞেস করেছিলেন তা যে তার কাছে গোপন করতে পারল, সে জন্য তারা খুব খুশী হল।
(বুখারী, মুসলিম তিরমিযী ও নাসাঈ)
৩. আল-কুরআন, ৩:১৮৭
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وإذ أخذ الله ميثاق الذين أوتوا الكتاب لتبيننه للناس الآية
عن ابن أبي مليكة أن حميد بن عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه أخبره أن مروان (2) قال اذهب يا رافع لبوابه إلى ابن عباس رضي الله عنهما فقل لئن كان كل امرئ منا فرح بما أوتي (3) وأحب أن يحمد بما لم يفعل لنعذبن (4) أجمعون فقال ابن عباس وما لكم وهذه إنما أنزلت هذه في أهل الكتاب ثم تلا ابن عباس (وإذ أخذ الله ميثاق الذين أوتوا الكتاب لتبيننه للناس) هذه الآية (5) وتلا ابن عباس (لا تحسبن الذين يفرحون بما أتوا (6) ويحبون أن يحمدوا بما لم يفعلوا) وقال ابن عباس سألهم النبي صلى الله عليه وسلم عن شيء فكتموه اياه وأخبروه بغيره فخرجوا قد أروه (1) ان قد أخبرنا بما سألهم عنه واستحمدوا (2) بذلك اليه وفرحوا بما أوتوا من كتمانهم إياه ما سألهم عنه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা নিসার বিবরণ
পরিচ্ছেদ: উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াতের বিবরণ।
পরিচ্ছেদ: উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াতের বিবরণ।
২২৮। জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সা'দ ইবন রাবী' (রা) এর স্ত্রী সা'দ (রা)-এর ঔরসজাত দু'কন্যাকে নিয়ে (ﷺ) রাসূলুল্লাহ এর নিকট হাজির হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। এরা দু'জন সা'দ ইবন রাবী' এর কন্যা, তাদের পিতা সা'দ (রা) উহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছেন, তাদের চাচা তাদের সম্পত্তি দখল করেছে, তাদের জন্য কোন কিছুই ছেড়ে দিচ্ছে না, আবার তাদের সম্পত্তি না থাকার কারণে তাদের কেউ বিবাহ করতেও আগ্রহী নয়, বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ এ ব্যাপারে ফায়সালা দিবেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর মিরাসের আয়াত নাজিল হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের চাচাকে ডেকে বললেন, তুমি সা'দ এর দু'কন্যাকে দুই তৃতীয়াংশ দিয়ে দাও, তাদের মাঝে এক অষ্টমাংশ দাও এবং বাকী সম্পত্তি তোমার।
(বুখারী: মুসলিম: তিরমিযী: নাসাঈ)
(বুখারী: মুসলিম: তিরমিযী: নাসাঈ)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
ما جاء في سورة النساء
باب آية الميراث
باب آية الميراث
عن جابر بن عبد الله قال جاءت امرأة سعد بن الربيع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بابنتيها من سعد فقالت يا رسول الله هاتان ابنتا سعد بن الربيع قتل أبوهما سعد في أحد شهيدا وان عمهما أخذ مالهما فلم يدع لهما مالا ولا ينكحان إلا ولهما مال قال فقال يفضى الله في ذلك قال فنزلت آية الميراث (4) فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عمهما فقال أعط ابنتي سعد الثلثين وأمهما الثمن وما بقي فهو لك
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে"।(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৪: ১৫।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৪: ১৫।
২২৯। উ'বাদা ইবন সামিত (রা)(১) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর এ আয়াত নাজিল হল, "তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্যে হতে চারজন সাক্ষী তলব করবে। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে তাদেরকে গৃহে অবরুদ্ধ করবে, যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন ব্যবস্থা করবেন" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ব্যাপারে এ ফয়সালা কার্যকর করেন। পরবর্তীতে একদা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বসা ছিলেন আর আমরাও তাঁর চারপাশে ছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর ওহী নাজিল হল, তিনি আমাদের থেকে অন্য মনস্ক হলেন আমরাও তাঁর সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকলাম তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি অতিকষ্ট অনুভব করলেন। অতঃপর তার ওপর ওহী নাজিলের চাপ কমে গেলে তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা আমার নিকট হতে (ওহীর হুকুম) গ্রহন কর। আমরা বললাম, হ্যাঁ ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তাদের জন্য ব্যবস্থা প্রদান করেছেন। অবিবাহিত অবিবাহিতার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলে তাদের শাস্তি একশত দোররা(২) এবং এক বছর নির্বাসন আর বিবাহিত বিবাহিতের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলে তাদের শাস্তি একশত দোররা এবং রজম।(৩) হাসান বসরী (র) বলেন, আমি জানি না এর পরবর্তী অংশটুকু হাদীসের অন্তর্ভুক্ত কি না। আর তা হল; তিনি বলেন, তারা যদি সাক্ষ্য দেয় যে, তাদের দুজনকে এক চাদরের নিচে পাওয়া গেছে কিন্তু তারা মিলনের সাক্ষ্য না দিতে পারে, তবে তাদেরকে একশত দোররা দিয়ে মাথা কামিয়ে দেওয়া হবে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী)
টিকা:
১. হাদীসখানা আহমাদ (র) এর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ (র) মুসনাদে আহমাদে সংযোজন করেছেন। এ সকল হাদীসের শুরুতে অর্থাৎ زوائِدُ عَبْدِ اللَّهِ বা "আব্দুল্লাহ (র) এর সংযোজন লেখা থাকে।
২. একশত বেত্রাঘাত করা।
৩. রজম অর্থ হল মাটির মধ্যে কোমর পরিমাণ পুতে প্রস্তরাখাতে মৃত্যু ঘটানো।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী)
টিকা:
১. হাদীসখানা আহমাদ (র) এর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ (র) মুসনাদে আহমাদে সংযোজন করেছেন। এ সকল হাদীসের শুরুতে অর্থাৎ زوائِدُ عَبْدِ اللَّهِ বা "আব্দুল্লাহ (র) এর সংযোজন লেখা থাকে।
২. একশত বেত্রাঘাত করা।
৩. রজম অর্থ হল মাটির মধ্যে কোমর পরিমাণ পুতে প্রস্তরাখাতে মৃত্যু ঘটানো।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب واللاتي يأتين الفاحشة من نسائكم
عن عبادة بن الصامت قال نزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم (واللاتي يأتين الفاحشة) الخ الآية قال ففعل ذلك بهن رسول الله صلى الله عليه وسلم (1) فبينما رسول الله صلى الله عليه وسلم جالس ونحن حوله وكان إذا نزل عليه الوحي أعرض عنا وأعرضنا عنه وتربد (2) وجهه وكرب لذلك فلما رفع عنه الوحي قال خذوا عني (3) قلنا نعم يا رسول الله؟ قال قد جعل الله لهن سبيلا (4) البكر بالبكر جلد مائة ونفي سنة والثيب بالثيب جلد مائة ثم الرجم قال الحسن (5) فلا أدري أمن الحديث هو أم لا قال فإن شهدوا انهما وجدا في لحاف لا يشهدون على جماع خالطهما به جلد مائة وجزت رؤسهما
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী, "এবং নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকার ভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ(৪) ও তাঁর বাণী, "যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তোমরা তার লালসা কর না"(৫) এবং তাঁর বাণী, 'যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব।"(৬)
টিকা:
৪. আল-কুরআন, ৪: ২৪।
৫. আল-কুরআন, ৪: ৩২।১০০
৬. আল-কুরআন, ৪: ৪১।
টিকা:
৪. আল-কুরআন, ৪: ২৪।
৫. আল-কুরআন, ৪: ৩২।১০০
৬. আল-কুরআন, ৪: ৪১।
২৩০। আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আওস গোত্রের কতিপয় যুদ্ধবন্ধী নারী আমাদের হস্তগত হল যাদের স্বামী ছিল। তাই আমরা তাদেরকে যৌনকাজে ব্যবহার করতে অপছন্দ করছিলাম, যেহেতু তাদের স্বামী ছিল। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলে আয়াত নাজিল হয়, "এবং নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ(১) তোমাদের জন্য এটা আল্লাহর বিধান।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমরা তাদের যৌনাঙ্গকে আমাদের জন্য হালাল মনে করলাম।
(মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
টিকা: ১. সধবা দাসী কারও অধিকারভুক্ত হলে তার পূর্ব বিবাহ রদ হয়ে যায়। সুতরাং তাকে বিবাহ করা অবৈধ নয়।
(মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
টিকা: ১. সধবা দাসী কারও অধিকারভুক্ত হলে তার পূর্ব বিবাহ রদ হয়ে যায়। সুতরাং তাকে বিবাহ করা অবৈধ নয়।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قوله عز وجل والمحصنات من النساء وقوله (ولا تتمنوا ما فضل الله به بعضكم على بعض) وقوله (فكيف إذا جئنا من كل أمة بشهيد الخ)
عن أبي سعيد الخدري قال أصبنا نساءا من سبى أو طاس ولهن أزواج (7) فكرهنا أن نقع عليهن ولهن أزواج) فسألنا النبي صلى الله عليه وسلم فنزلت هذه الآية (والمحصنات من النساء) إلا ما ملكت أيمانكم) قال فاستحللنا بها فروجهن
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী, "এবং নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকার ভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ(৪) ও তাঁর বাণী, "যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তোমরা তার লালসা কর না"(৫) এবং তাঁর বাণী, 'যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব।
২৩১। মুজাহিদ (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মে সালামা (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। পুরুষগণ যুদ্ধ করে আর আমরা যুদ্ধ করি না, আবার আমাদের উত্তরাধিকার হল তাদের অর্ধেক তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "যার দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তোমরা তার লালসা কর না। পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ। আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।”
(তিরমিযী)
(তিরমিযী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قوله عز وجل والمحصنات من النساء وقوله (ولا تتمنوا ما فضل الله به بعضكم على بعض) وقوله (فكيف إذا جئنا من كل أمة بشهيد الخ)
عن مجاهد قال قالت أم سلمة يا رسول الله يغزوا الرجال ولا نغزوا ولنا نصف الميراث (2) فأنزل الله (ولا تتمنوا ما فضل الله به بعضكم على بعض)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী, "এবং নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকার ভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ(৪) ও তাঁর বাণী, "যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তোমরা তার লালসা কর না"(৫) এবং তাঁর বাণী, 'যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব।
২৩২। 'আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে সূরা নিসা থেকে তিলাওয়াত করছিলাম। যখন আমি এ আয়াত পর্যন্ত পৌছলাম, "যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে(২) উপস্থিত করব তখন কি অবস্থা হবে?” বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দু'চোখ অশ্রুসিক্ত হল।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)
টিকা: ২. কিয়ামতের দিন প্রত্যেক উম্মতের সাক্ষী হবেন তাদের নবী, আর মুহাম্মদ (ﷺ) হবেন সকল নবীর পক্ষে সাক্ষী।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)
টিকা: ২. কিয়ামতের দিন প্রত্যেক উম্মতের সাক্ষী হবেন তাদের নবী, আর মুহাম্মদ (ﷺ) হবেন সকল নবীর পক্ষে সাক্ষী।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قوله عز وجل والمحصنات من النساء وقوله (ولا تتمنوا ما فضل الله به بعضكم على بعض) وقوله (فكيف إذا جئنا من كل أمة بشهيد الخ)
عن ابن مسعود قال قرأت على رسول الله صلى الله عليه وسلم من سورة النساء فلما بلغت هذه الآية (فكيف إذا جئنا من كل أمة بشهيد وجئنا بك على هؤلاء شهيدا) (5) قال ففاضت (6) عيناه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। মহান আল্লাহর বাণী, "হে মু'মিনগণ। তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর আনুগত্য কর রাসুলের এবং তাদের যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী।(১)
১. আল-কোরআন, ৪:৫৯।
১. আল-কোরআন, ৪:৫৯।
২৩৩। 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে মু'মিনগণ। তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসূলের এবং তাদের যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী"- আয়াতখানা 'আব্দুল্লাহ ইবন হুযাফা ইবন কায়স ইবন আদী সাহমী (রা) কে যখন রাসুলুল্লাহ জিহাদের পাঠান তখন তাকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হয়।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী)
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الذين آمنوا اطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم
عن ابن عباس أنه قال نزلت (يا أيها الذين آمنوا اطيعوا الله واطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم) (2) في عبد الله بن حذافة بن قيس بن عدي السهمي إذ بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم في السرية
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী, কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ। তারা মু'মিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচারভার তোমার ওপর অর্পণ না করে; অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে না নেয়।"(২)
২. আল-কুরআন, ৪। ৬৫।
২. আল-কুরআন, ৪। ৬৫।
২৩৪। 'উরওয়া ইব্ন যুবায়র (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তার পিতা যুবায়র (রা) বর্ণনা করেছেন, যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী জনৈক আনসারী সাহাবীর বিরুদ্ধে হাররা (মদীনার পার্শ্ববর্তী পাথুরে ভূমি)-এর একটি নালার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নালিশ করেছিলেন। তারা দুজনই নালাটির পানি দ্বারা সেচ দিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে যুবায়র। তুমি আগে পানি সেচ দাও অতঃপর নালার পানি তোমার প্রতিবেশীকে দাও। তখন উক্ত আনসার লোকটি রাগান্বিত হল এবং বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। একথা শুনে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল, তিনি (ﷺ) যুবায়র (রা) কে বললেন, তুমি পানি সেচ দাও, এবং সীমানা বাঁধ উপরে না পড়া পর্যন্ত পানি আটকিয়ে রাখো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এভাবে যুবায়র (রা)-এর অধিকার বুঝিয়ে দিলেন। অথচ, ইতিপুর্বে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুবায়র (রা) কে এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তার ও উক্ত আনসার উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। অতঃপর উক্ত আনসার যখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে রাগিয়ে তুলল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুস্পষ্ট হুকুম প্রদান করে যুবায়ের (রা) এর হক সংরক্ষণের বিধান প্রদান করলেন। 'উরওয়া (র) বলেন, অতঃপর যুবায়র (রা) বললেন, আল্লাহর কসম আমার ধারণা উক্ত ঘটনার ব্যাপারেই নাজিল হয়েছে- কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ। তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিষম্বাদের বিচার ভার তোমার ওপর অর্পণ না করে: অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বাক্ত করণে তা মেনে না নেয়।"
(আল-কুরআন, ৪: ৬৫)
(আল-কুরআন, ৪: ৬৫)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب فلا وربك لا يؤمنون الخ الآية
عن عروة بن الزبير ان الزبير كان يحدث أنه خاصم رجلا من الأنصار وقد شهد بدرا إلى النبي صلى الله عليه وسلم في شراج الحرة كانا يستقيان بها كلاهما فقال النبي صلى الله عليه وسلم للزبير أسق ثم أرسل إلى جارك فغضب الأنصاري وقال يارسول الله كان ابن عمتك فتلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال للزبير اسق ثم احبس الماء حتى يرجع إلى الجدر فاستوعى النبي صلى الله عليه وسلم حينئذ للزبير حقه وكان النبي صلى الله عليه وسلم قيل ذلك أشار على الزبير برأي أراد فيه سعة له وللانصاري فلما أحفظ الأنصاري رسول الله صلى الله عليه وسلم استوعى رسول الله صلى الله عليه وسلم للزبير حقه في صريح الحكم قال عروة فقال الزبير رضي الله عنه والله ما أحسب هذه الآية انزلت إلا في ذلك (فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচেছদ: "তোমাদের কী হল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দু'দল হয়ে গেলে, যখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তোমরা কি তাকে সংৎপথে পরিচালিত কতে চাও? আর আল্লাহ কাউকে পথভ্রষ্ট করলে তুমি তার জন্য কখনও কোন পথ পাবে না।"(১)
২৩৫। 'আব্দুর রহমান ইবন 'আওফ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরবের কোন এক গোত্রের কতিপয় সদস্য মদীনাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসল এবং তারা ঈমান গ্রহণ করলো। পরবর্তীতে মদীনাতে অবস্থান কালে তারা মদীনার মহামারীতে তথা জ্বরে আক্রান্ত হল। তখন তারা ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে গেল এবং মদীনা থেকে বেরিয়ে পড়ল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবী তখন তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে গেল এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসা করল তোমরা কেন ফিরে যাচ্ছো? তারা বলল, আমাদেরকে মদীনার মহামারী আক্রমন করেছে তাই আমরা মদীনা ছেড়ে চলে যাচ্ছি। তখন সাহাবীরা তাদেরকে প্রশ্ন করল তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি আদর্শ নন? সাহাবীদের মধ্যে একদল তাদেরকে মুনাফিক বলে সাব্যস্ত করল, অপর কেউ কেউ বলল, তারা মুনাফিক হয়নি। বরং তারা মুসলিমই আছে। তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, তোমাদের কী হল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দুই দল হয়ে গেলে যখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পূর্বাস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তোমরা কি তাকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাও? আর আল্লাহ কাউকে পথভ্রষ্ট করলে তুমি তার জন্য কখনও কোন পথ পাবে না।"
(আল-কুরআন, ৪: ৮৮)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৪: ৮৮।
(আল-কুরআন, ৪: ৮৮)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৪: ৮৮।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب فما لكم في المنافقين فئتين
عن عبد الرحمن بن عوف أن قوما من العرب أتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة فأسلموا وأصابهم وباء المدينة حماها فأركسوا (2) فخرجوا من المدينة فاستقبلهم نفر من أصحابه يعني أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا لهم مالكم رجعتم؟ فقالوا أصابنا وباء المدينة فاجتوينا (3) المدينة فقالوا أما لكم في رسول الله أسوة؟ فقال بعضهم (4) نافقوا وقال بعضهم لم ينافقوا هم مسلمون فأنزل الله عز وجل (فما لكم في المنافقين فئتين والله أركسهم بما كسبوا الآية)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচেছদ: "তোমাদের কী হল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দু'দল হয়ে গেলে, যখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তোমরা কি তাকে সংৎপথে পরিচালিত কতে চাও? আর আল্লাহ কাউকে পথভ্রষ্ট করলে তুমি তার জন্য কখনও কোন পথ পাবে না।"(১)
২৩৬। যায়দ ইব্ন সাবিত (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের জন্য অভিযানে বের হলে তার সঙ্গীদের মধ্যে একদল পালিয়ে ফিরে আসল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীরা তাদের ব্যাপারে দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল। একদল বলল: তাদেরকে হত্যা করতে হবে, অপর দল বলল; না, তাদেরকে হত্যা করা যাবে না। তখন আল্লাহ নাজিল করেন, তোমাদের কী হল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দুই দল হয়ে গেলে।"(১) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন, মদীনা একটি পবিত্র নগরী, সে অনিষ্টকর জিনিসকে দূর করে দেয় যেমনভাবে আগুন রৌপ্যের অলংকার তৈরীর সময় আবর্জনা/ ময়লাকে দূর করে দেয়।
(বুখারী)
১. আল-কুরআন: ৪:৮৮।
(বুখারী)
১. আল-কুরআন: ৪:৮৮।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب فما لكم في المنافقين فئتين
عن زيد بن ثابت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج إلى أحد فرجع أناس خرجوا معه (7) فكان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فرقتين فرقة تقول بقتلهم (8) وفرقة تقول لا (9) فأنزل الله عز وجل (فما لكم في المنافقين فئتين) فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم انها طيبة (10) وأنها تنفي الخبث كما تنفي النار خبث الفضة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু'মীনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লা'নত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তত রাখবেন।"(২)
২. আল-কুরআন, ৪:৯৩।
২. আল-কুরআন, ৪:৯৩।
২৩৭। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, কোন একব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় হত্যা করলে তার বিধান কি হবে? তিনি (রা) বললেন, "তার শান্তি জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লা'নত করবেন। এবং তাঁর জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন।” তিনি আরও বলেন, এটা সর্ব শেষ নাজিল হওয়া আয়াতসমূহের মধ্যে একটি যা অন্য কোন আয়াত দ্বারা রহিত করা হয়নি।
এ অবস্থাতেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুবরণ করেছেন, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তেকালের পর তো আর কোন ওহী নাজিল হয়নি। প্রশ্নকারী বললো, সে যদি তাওবা করে, ঈমানগ্রহণ করে এবং সৎ কার্য সম্পাদন করে অতঃপর হিদায়াতের পথে পরিচালিত হয়? তিনি (রা) বললেন, তার তাওবা কিভাবে গৃহীত হয়? আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তিকে হত্যার করে তার মাকে নিঃসন্তান করে, তাহলে নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে ডান হাতে অথবা বামহাতে ধরে নিয়ে কিয়ামতে উপস্থিত হবে আর তার মাথা তার ডান হাত অথবা বাম হাত দিয়ে ধরা থাকবে, তার ঘাড় থেকে রক্ত গড়িয়ে আরশের দিকে প্রবাহিত হতে থাকবে সে বলবে, হে প্রভু। তোমার বান্দাহকে জিজ্ঞাসা কর সে কেন আমাকে হত্যা করেছিল?
(নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
এ অবস্থাতেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুবরণ করেছেন, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তেকালের পর তো আর কোন ওহী নাজিল হয়নি। প্রশ্নকারী বললো, সে যদি তাওবা করে, ঈমানগ্রহণ করে এবং সৎ কার্য সম্পাদন করে অতঃপর হিদায়াতের পথে পরিচালিত হয়? তিনি (রা) বললেন, তার তাওবা কিভাবে গৃহীত হয়? আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তিকে হত্যার করে তার মাকে নিঃসন্তান করে, তাহলে নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে ডান হাতে অথবা বামহাতে ধরে নিয়ে কিয়ামতে উপস্থিত হবে আর তার মাথা তার ডান হাত অথবা বাম হাত দিয়ে ধরা থাকবে, তার ঘাড় থেকে রক্ত গড়িয়ে আরশের দিকে প্রবাহিত হতে থাকবে সে বলবে, হে প্রভু। তোমার বান্দাহকে জিজ্ঞাসা কর সে কেন আমাকে হত্যা করেছিল?
(নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ومن يقتل مؤمنا متعمدا الخ
عن ابن عباس أن رجلا أتاه فقال أرأيت رجلا قتل رجلا متعمدا (1) قال (جزاؤه جهنم خالدا فيها وغضب الله عليه ولعنه وأعد له عذابا عظيما) (2) قال لقد أنزلت في آخر ما نزل ما نسخها شيء حتى قبض رسول الله صلى الله عليه وسلم (3) وما نزل وحي بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أرأيت إن تاب وآمن وعمل صالحا ثم اهتدى؟ قال وأنى له بالتوبة (4) وقد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ثكلته أمه رجلا قتل رجلا متعمدا يجيء يوم القيامة آخذا قاتله بيمينه أو بيساره وآخذا رأسه بيمينه أو شماله تشخب (5) أوداجه دما قبل العرش يقول يا رب سل عبدك فيم قتلني
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "কেউ তোমাদের সালাম করলে ইহ জীবনের সম্পদের আকাঙক্ষায় তাকে বল না যে, তুমি মুমিন নও, কারণ আল্লাহর নিকট অনায়াসলভ্য সম্পদ প্রচুর রয়েছে।"(১)
১. আল কুরআন, ৪: ৯৪।
১. আল কুরআন, ৪: ৯৪।
২৩৮। আবুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একদল সাহাবী বনী সুলায়ম গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলো, উক্ত ব্যক্তির সাথে একটি বকরী ছিল। লোকটি তাদেরকে সালাম দিল। তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, সে ঐকান্তিকতার সাথে সালাম দেয়নি বরং তোমাদের নিকট থেকে নিরাপত্তার আশায় সালাম দিয়েছে। (অর্থাৎ সে মনে প্রাণে মুসলিম নয়।) তখন তারা তার ওপর হামলা করল, তাকে হত্যা করল এবং তার বকরীটি নিজেদের হস্তগত করল। তারা বকরীটি নিয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলে তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "কে তোমাদেরকে সালাম করল? ইহ জীবনের সম্পদের আকাঙক্ষায় তাকে বল না, তুমি মুমিন নও, কারণ আল্লাহর নিকট অনায়াসলভ্য সম্পদ প্রচুর রয়েছে। তোমরা তো পূর্বে এরূপই ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, সুতরাং তোমরা পরীক্ষা করে নিবে। তোমরা যা কর আল্লাহ তো সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।"
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ولا تقولوا لمن ألقى اليكم السلام لست مؤمنا
عن ابن عباس قال مر نفر من أصحاب النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم على رجل (1) من بني سليم معه غنم له فسلم عليهم فقالوا ما سلم عليكم إلا تعوذا (2) منكم فعمدوا إليه فقتلوه (3) وأخذوا غنمه فأتوا بها إلى النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فأنزل الله تبارك وتعالى (ولا تقولوا لمن ألقى اليكم السلام لست مؤمنا تبتغون عرض الحياة الدنيا إلى آخر الآية)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "কেউ তোমাদের সালাম করলে ইহ জীবনের সম্পদের আকাঙক্ষায় তাকে বল না যে, তুমি মুমিন নও, কারণ আল্লাহর নিকট অনায়াসলভ্য সম্পদ প্রচুর রয়েছে।"(১)
১. আল কুরআন, ৪: ৯৪।
১. আল কুরআন, ৪: ৯৪।
২৩৯। আব্দুল্লাহ ইবন আবূ হাদ্রাদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ইদাম পাহাড়ের দিকে পাঠালেন, তখন আমি মুসলিমদের একটি দলসহ সেদিকে যাত্রা করলাম, আমাদের দলে আবু কাতাদাহ হারিছ ইবন রাবী ও মুহাল্লিম ইব্ন জাছছামা ইবন কায়স (রা) ছিল। আমরা রওয়ানা হয়ে ইদামের উপত্যকায় পৌঁছলে আমাদের নিকট দিয়ে আমির আশজাঈ ছোট একটি উটে চড়ে অতিক্রম করে যাচ্ছিল, তার সাথে ছিল কিছু রসদ পত্র ও দুধের পাত্র। সে আমাদের পার্শ্ব দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদেরকে সালাম করল, আমরা তাদেরকে আটকিয়ে ফেললাম, মুহাল্লিম ইব্ন হাছছামা (রা) তার ওপর আক্রমণ করল, তাদের পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে তাকে হত্যার করল এবং তার উট ও রসদপত্র হস্তগত করল। অতঃপর যখন আমরা রাসুলুল্লাহ এর নিকট পৌঁছলাম এবং তাকে খবরটি জানালাম, তখন আমাদের ব্যাপারেই আল কুরআনের এ আয়াত নাজিল হল, 'হে মু'মিনগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে যাত্রা করবে তখন পরীক্ষা করে নিবে এবং কেউ তোমাদেরকে সালাম করলে ইহ জীবনের সম্পদের আকাঙক্ষায় তাকে বলনা, "তুমি মু'মিন নও। কারণ, আল্লাহর নিকট অনায়াসলভ্য সম্পদ প্রচুর রয়েছে। তোমরা তো পূর্বে এরূপই ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, সুতরাং তোমরা পরীক্ষা করে নিবে। তোমরা যা কর আল্লাহ তো সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।” (তাবারানী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ولا تقولوا لمن ألقى اليكم السلام لست مؤمنا
عن عبد الله بن أبي حدود قال بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى إضم (6) فخرجت في نفر من المسلمين فيهم أبو قتادة الحارث بن ربعي ومحلم (7) بن جثامة بن قيس فخرجنا حتى إذا كنا ببطن إضم مر بنا عامر الأشجعي (8) على قعود له معه متيع (9) ووطب من لبن فلما مر بنا سلم علينا فأمسكنا عنه وحمل عليه محلم بن جثامة فقتله بشيء (10) كان بينه وبينه وأخذ بعيره ومتيعه فلما قدمنا على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأخبرناه الخبر نزل فينا القرآن (11) (يا أيها الذين آمنوا إذا ضربتم في سبيل الله فتبينوا ولا تقولوا لمن ألقى إليكم السلام لست مؤمنا تبتغون عرض الحياة الدنيا فعند الله مغانم كثيرة كذلك كنتم من قبل فمن الله عليكم فتبينوا ان الله كان بما تعملون خبيرا)
তাহকীক: