মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩০৩ টি
হাদীস নং: ২৪০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ যারা জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ হারা জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ মহাপুরুষ্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন।"
২৪০। খারিজা ইবন যায়দ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যায়দ ইবন সাবিত (রা) বলেছেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পার্শ্বে বসা ছিলাম, তখন তাঁর নিকট ওহী অবতীর্ণ হল। ফলে তার আচ্ছন্ন ভাব দেখা দিল। আচ্ছন্ন অবস্থায় তার উরু আমার উরুতে রাখলেন। যায়দ (রা) আরও বলেন, আল্লাহর কসম, আমি কখনও কোন বস্তুকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উরুর তুলনায় অধিক ভারী হিসেবে পাইনি। কিছুক্ষণ পর তাঁর ঘেরি কেটে গেল। তখন তিনি বললেন, হে যায়দ। তুমি লেখ। আমি তখন এক টুকরা হাড় নিয়ে আসলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি লেখ "মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়।... মহাপুরুস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন। "যায়দ (রা) এ আয়াতটি উক্ত হাড়ে লিখে রাখলেন। ইব্ন উম্মে মাকতুম নামক জনৈক অন্ধসাহাবী মুজাহিদদের এ মর্যাদার কথা শুনে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। অন্ধত্ব বা অনুরূপ কোন কারণে যে জিহাদে শরীক হতে সক্ষম নয় তার বিধান কি হবে? যায়দ (রা) বলেন, আল্লাহর কসম। তার কথা শেষ না হতেই অথবা শেষ হতে না হতেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আবার আচ্ছন্ন অবস্থা দেখা দিল। তিনি তার উরু আমার উরুতে রাখলেন এবং আমি তাকে প্রথমবারের মতই ভারী পেলাম। কিছুক্ষণ পর তিনি আচ্ছান্নমুক্ত হলেন এবং বললেন, তুমি আয়াতটি পড়। আমি তার সামনে পড়া শুরু করলাম "মু'মিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়।" তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, "যারা অক্ষম তারা ব্যতীত। যায়দ (রা) বলেন, আমি এ অংশটুকু মিলিয়ে নিলাম। আল্লাহর কসম। এ অংশটুকু যেখানে যুক্ত করা হয়, হাড়ের সেই স্থানে যে একটা ফাটল ছিল, আমি যেন তা এখনও দেখতে পাচ্ছি।
(আবু দাউদ, জামি আব্দুর রাজ্জাক)
(আবু দাউদ, জামি আব্দুর রাজ্জাক)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب لا يستوي القاعدون الخ
عن خارجة بن زيد قال قال زيد بن ثابت اني قاعد إلى جنب رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم يوما إذ أوحى اليه قال وغشيته السكينة ووقع فخذه على فخذي حين غشيته السكينة قال زيد فلا والله ما وجدت شيئا قط أثقل من فخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم سرى عنه فقال اكتب يا زيد فأخذت كتفا فقال اكتب (لا يستوي القاعدون (3) من المؤمنين والمجاهدون الآية كلها إلى قوله أجرا عظيما) فكتب ذلك في كتف فقام حين سمعها ابن أم مكتوم وكان رجلا أعمى فقام حين سمع فضيلة المجاهدين قال يا رسول الله فكيف بمن لا يستطيع الجهاد ممن هو أعمى وأشباه ذلك؟ قال زيد فوالله ما مضى كلامه أو ما هو إلا أن قضى كلامه غشيت النبي صلى الله عليه وسلم السكينة فوقعت فخذه على فخذي فوجدت من ثقلها كما وجدت في المرة الأولى ثم سرى عنه فقال اقرأ فقرأت عليه (لا يستوي القاعدون من المؤمنين والمجاهدين) فقال النبي صلى الله عليه وسلم (غير أولي الضرر) قال زيد فألحقتها فوالله لكأني أنظر إلى ملحقها عند صدع كان في الكتف
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ যারা জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ হারা জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ মহাপুরুষ্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন।"
২৪১। আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি 'মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়-" এ আয়াতের ব্যাপারে বারা ইব্ন আযিব (রা) কে বলতে শুনেছেন, তিনি (রা) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়দ (রা) কে নির্দেশ দিলে তিনি একটি হাড়ের টুকরা নিয়ে এলেন এবং তাতে উক্ত আয়াতখানা লিখে রাখলেন। অতঃপর ইব্ন উম্মে মাকতুম (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ উত্থাপন করলে তখন নাজিল হয়, "মু'মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়।"
(উক্ত আবু ইসহাক হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে,) তিনি বলেন, আমি বারা ইব্ন আযিব (রা) কে বলতে শুনেছি, "মু'মিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে, যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন" যখন এ আয়াতটি নাজিল হয় তখন ইব্ন উম্মে মাকতুম (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনি আমাকে কি নির্দেশ দিচ্ছেন? আমি তো দৃষ্টি শক্তিহীন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন নাজিল হল, "যারা অক্ষম তারা ব্যতীত।”
অপর এক বর্ণনামতে, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়া শেষ হতেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা একটি হাড় ও একটি কালির দোয়াত অথবা একটি ফলক ও একটি কালির দোয়াত নিয়ে এসো।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)
(উক্ত আবু ইসহাক হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে,) তিনি বলেন, আমি বারা ইব্ন আযিব (রা) কে বলতে শুনেছি, "মু'মিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে, যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন" যখন এ আয়াতটি নাজিল হয় তখন ইব্ন উম্মে মাকতুম (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনি আমাকে কি নির্দেশ দিচ্ছেন? আমি তো দৃষ্টি শক্তিহীন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন নাজিল হল, "যারা অক্ষম তারা ব্যতীত।”
অপর এক বর্ণনামতে, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়া শেষ হতেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা একটি হাড় ও একটি কালির দোয়াত অথবা একটি ফলক ও একটি কালির দোয়াত নিয়ে এসো।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب لا يستوي القاعدون الخ
عن ابي اسحاق أنه سمع البراء (بن عازب رضي الله عنه يقول في هذه الآية (لا يستوى القاعدون من المؤمنين والمجاهدين في سبيل الله) قال فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم زيدًا فجاء بكتف (1) فكتبها فشكى اليه ابن أم مكتوم (2) ضرارته فنزلت (لا يستوي القاعدون من المؤمنين غير أولى الضرر) (3) (وعنه من طريق ثان) (4) قال سمعت البراء بن عازب رضي الله عنه يقول لما نزلت هذه الآية (5) (وفضل الله المجاهدين على القاعدين أجرا عظيما) أتاه ابن أم مكتوم فقال يا رسول الله ما تأمرني؟ اني ضرير البصر قال فنزلت (غير أولى الضرر) (6) (وفي رواية قبل أن يبرح) قال فقال النبي صلى الله عليه وسلم ائتوني بالكتف والدواة أو اللوح والدواة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। সালাত সংক্ষিপ্ত করলে তোমাদের কোন দোষ নেই।
১৪২। ইয়ালা ইবন উমাইয়া (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমার ইবন খাত্তাব (রা) কে প্রশ্ন করলাম, আমি তাকে বললাম, মহান আল্লাহর বাণী... যদি তোমাদের আশংকা হয় যে, কাফিরগণ তোমাদের জন্য ফিতনা সৃষ্টি করবে, তবে সালাত সংক্ষিপ্ত করলে তোমাদের কোন দোষ নেই।"(১) এখন তো আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নিরাপত্তা দান করেছেন।(২)
(এখন ও কি করের বিধান প্রযোজ্য হবে?)।
তখন 'উমর (রা) বললেন, তুমি যে ব্যাপারে আশ্চার্যন্বিত হচ্ছো আমিও সে ব্যাপারে আশ্চার্যান্বিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাদের প্রতি একটি অনুগ্রহ দান করেছেন, সুতরাং সে অনুগ্রহ তোমরা গ্রহণ কর।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ৪: ১০১।
২. তাহলে আল্লাহর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কাফিরদের পক্ষে ফিতনা সৃষ্টি করা সম্ভব কিনা?
(এখন ও কি করের বিধান প্রযোজ্য হবে?)।
তখন 'উমর (রা) বললেন, তুমি যে ব্যাপারে আশ্চার্যন্বিত হচ্ছো আমিও সে ব্যাপারে আশ্চার্যান্বিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাদের প্রতি একটি অনুগ্রহ দান করেছেন, সুতরাং সে অনুগ্রহ তোমরা গ্রহণ কর।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ৪: ১০১।
২. তাহলে আল্লাহর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কাফিরদের পক্ষে ফিতনা সৃষ্টি করা সম্ভব কিনা?
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ليس عليكم جناح أن تقصروا من الصلاة
عن يعلي بن أمية قال سألت عمر بن الخطاب رضي الله عنه قلت (ليس عليكم جناح أن تقصروا من الصلاة إن خفتم أن يفتنكم الذين كفروا) وقد أمن الله الله الناس فقال لي عمر رضي الله عنه عجبت مما عجبت منه فسألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال صدقة تصدق الله بها عليكم فاقبلوا صدقته
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আর তুমি যখন তাদের মধ্যে অবস্থান করবে ও তাদের সংগে সালাত কায়েম করবে।
২৪৩। মুজাহিদ (র) আবু 'আয়াশ যারাকী (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা 'উসফান অভিযানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সংগে ছিলাম, তখন মুশরিকরা আমাদের সামনে অবস্থান নিল তাদের মধ্যে খালিদ ইবন ওয়ালিদও ছিল। তারা আমাদের ও আমাদের কিবলার মাঝে অবস্থান করছিল। সে অবস্থায় আমাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করলেন। তখন তারা বলাবলি করছিল, মুসলিমরা এমন অসতর্ক অবস্থায় ছিলো যাদেরকে আমরা আক্রমণ করতে পারতাম। অতঃপর তারা বলল কিছুক্ষনের মধ্যে তাদের সামনে আবার সালাতের সময় উপস্থিত হবে, যে সালাত তাদের নিকট তাদের সন্তান-সন্তুতি ও জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়। বর্ণনাকারী বলেন, জিবরীল (আ) এ ঘটনার পরিপেক্ষিতে জোহর ও আসরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে এ আয়াত নিয়ে অবতীর্ণ হলেন, 'আর তুমি যখন তাদের মধ্যে অবস্থান করবে ও তাদের সংগে সালাত কায়েম করবে তখন তাদের একদল তোমার সাথে যেন দাঁড়ায় এবং তারা যেন সশস্ত্র থাকে। তাদের সিজদা করা হলে তারা যেন তোমাদের পিছনে অবস্থান করে, আর অপর একদল যারা সালাতে শরীক হয়নি তারা তোমার সাথে যেন সালাতে শরীক হয় এবং তারা যেন সর্তক ও সশস্ত্র থাকে। কাফিররা কামনা করে যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও আসাবাবপত্র সম্বন্ধে অসর্তক হও যাতে তারা তোমাদের ওপর একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। যদি তোমরা বৃষ্টির জন্য কষ্ট পাও অথবা পীড়িত থাক তবে তোমরা অস্ত্র রেখে দিলে তোমাদের কোন দোষ নাই; কিন্তু তোমরা সতর্কতা অবলম্বন করবে। আল্লাহ্ কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।" (আল-কুরআন, ৪: ১০২)
বর্ণনাকারী বলেন, কিছুক্ষণ পর সালাতের সময় হল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিলেন তারা সবাই অস্ত্র হাতে নিল। তিনি (রা) আরও বলেন, তখন আমরা তাঁর পেছনে দু'সারিতে দন্ডায়মান হলাম, অতঃপর তিনি রুকু করলেন, আমরা সকলে তাঁর সাথে রুকু করলাম এবং তিনি মাথা উঁচু করলে আমরাও সকলে মাথা উঁচু করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঠিক পিছনের কাতার অর্থাৎ প্রথম সারিকে নিয়ে সিজদায় গেলেন আর অপর সারিটি দাঁড়িয়ে সিজদারতদের পাহারা দিচ্ছিল। তাদের সিজদা শেষ হলে তারা দাঁড়িয়ে গেল, তখন বাকীরা বসল এবং তাদের স্থানে বসেই সিজদা কর।
অতঃপর প্রথম সারি লোকেরা দ্বিতীয় সারিতে এবং দ্বিতীয় সারির লোকেরা প্রথম সারিতে আসল। অতঃপর বলেন, অতঃপর তারা সকলে একত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রুকু করলো। তারপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) রুকু হতে মাথা উঁচু করলে তারা সবাই একত্রে মাথা উঁচু করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিকটবর্তী সারিকে নিয়ে সিজদা করলেন এবং বাকীরা তাদেরকে পাহারা দিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদা থেকে উঠে বসলে বাকীরা বসল এবং তারা সিজদা আদায় করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন এবং সালাত শেষ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এভাবে 'উসফানে দু'ওয়াক্ত এবং বনু সুলায়ম অঞ্চলে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছেন।
বর্ণনাকারী বলেন, কিছুক্ষণ পর সালাতের সময় হল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিলেন তারা সবাই অস্ত্র হাতে নিল। তিনি (রা) আরও বলেন, তখন আমরা তাঁর পেছনে দু'সারিতে দন্ডায়মান হলাম, অতঃপর তিনি রুকু করলেন, আমরা সকলে তাঁর সাথে রুকু করলাম এবং তিনি মাথা উঁচু করলে আমরাও সকলে মাথা উঁচু করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঠিক পিছনের কাতার অর্থাৎ প্রথম সারিকে নিয়ে সিজদায় গেলেন আর অপর সারিটি দাঁড়িয়ে সিজদারতদের পাহারা দিচ্ছিল। তাদের সিজদা শেষ হলে তারা দাঁড়িয়ে গেল, তখন বাকীরা বসল এবং তাদের স্থানে বসেই সিজদা কর।
অতঃপর প্রথম সারি লোকেরা দ্বিতীয় সারিতে এবং দ্বিতীয় সারির লোকেরা প্রথম সারিতে আসল। অতঃপর বলেন, অতঃপর তারা সকলে একত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রুকু করলো। তারপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) রুকু হতে মাথা উঁচু করলে তারা সবাই একত্রে মাথা উঁচু করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিকটবর্তী সারিকে নিয়ে সিজদা করলেন এবং বাকীরা তাদেরকে পাহারা দিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদা থেকে উঠে বসলে বাকীরা বসল এবং তারা সিজদা আদায় করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন এবং সালাত শেষ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এভাবে 'উসফানে দু'ওয়াক্ত এবং বনু সুলায়ম অঞ্চলে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب واذا كنت فيهم فأقمت لهم الصلاة
عن مجاهد عن أبي عياش الرزقي قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعسفان باستقبلنا المشركون عليهم خالد بن الوليد وهم بيننا وبين القبلة فصلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الظهر فقالوا قد كانوا على حال لو أصبنا غرتهم ثم قالوا تأتي عليهم الآن صلاة هي أحب إليهم من أبنائهم ونفسهم قال فنزل جبريل عليه السلام بهذه الآيات بين الظهر والعصر (واذا كنتم فيهم فأقمت لهم الصلاة) (2) قال فحضرت فأمرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخذوا السلاح قال فصففنا خلفه صفين قال ثم ركع فركعنا جميعا ثم رفع فرفعنا جميعا ثم سجد النبي صلى الله عليه وسلم باصف الذي يليه والآخرون قيام يحرسونهم فلما سجدوا وقاموا جلس الآخرون فسجدوا في مكانهم ثم تقدم هؤلاء إلى مصاف هؤلاء وجاء هؤلاء إلى مصاف هؤلاء قال ثم ركع فركعوا جميعا ثم رفع فرفعوا جميعا ثم سجد النبي صلى الله عليه وسلم والصف الذي يليه والآخرون قيام يحرسونهم فلما جلس جلس الآخرون فسجدوا فسلم عليهم ثم انصرف قال فصلاها رسول الله صلى الله عليه وسلم مرتين بعسفان ومرة بأرض بني سليم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তাঁর পরিবর্তে তারা দেবীরই পুজা করে।(১)
টিকাঃ ১. আল-কুরআন, ০৪: ১১৭।
টিকাঃ ১. আল-কুরআন, ০৪: ১১৭।
২৪৪। হযরত(২) উবাঈ ইব্ন কা'ব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি "তাঁর পরিবর্তে তারা দেবীর পূজা করে"- এর ব্যাখ্যা প্রসংগে বলেন, প্রত্যেক দেবীর সংগে একটি স্ত্রী জিন্ন থাকে।(৩)
টিকা:
২. ইমাম আহমদ'র পুত্র আব্দুল্লাহ (র) হাদীসটি সংকলন করেছেন।
৩. যিনি আগত ব্যক্তিদের ব্যাপারে দেবীর নিকট সুপারীশ করত।
টিকা:
২. ইমাম আহমদ'র পুত্র আব্দুল্লাহ (র) হাদীসটি সংকলন করেছেন।
৩. যিনি আগত ব্যক্তিদের ব্যাপারে দেবীর নিকট সুপারীশ করত।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب إن يدعون من دونه إلا اناثا
عن أبي بن كعب أن يدعون من دونه إلا اناثا قال مع كل صنم جنية
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'তোমাদের খেয়াল-খুশী... অনুসারে কাজ হবে না।"
২৪৫। আবূ বরক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আল্লাহ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেছেন- "তোমাদের খেয়াল-খুশী ও কিতাবীদের খেয়াল-খুশী অনুসারে কাজ হবে না; কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে পাবে।(৪) এরপর আর মুক্তির উপায় কী? আমরা যে সব অপরাধ করেছি তার তো প্রতিফল পাবই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আবু বকর। আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। তুমি কি রোগাক্রান্ত হওনি, তুমি কি পরিশ্রান্ত হওনি, তুমি কি চিন্তাগ্রস্থ হওনি, তুমি কি কষ্ট স্বীকার করনি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে ওগুলোই তার প্রতিফল। (অপর এক বর্ণনামতে), রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এসব তারই প্রতিফল।
(সহীহ ইব্ন হাব্বান, বায়হাকী শু‘আবুল ঈমান ও মুস্তাদরাকে হাকীম)
টিকা:
৪. আল-কুরআন, ৪: ১২৩।
(সহীহ ইব্ন হাব্বান, বায়হাকী শু‘আবুল ঈমান ও মুস্তাদরাকে হাকীম)
টিকা:
৪. আল-কুরআন, ৪: ১২৩।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ليس بأمانيكم
عن أبي بكر رضي الله عنه أنه قال يا رسول الله كيف الصلاح (2) بعد هذه الآية (ليس بأمانيكم ولا أماني أهل الكتاب من يعمل سوءا يجز به) (3) فكل سوء عملناه جزينا به فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم غفر الله لك يا أبا بكر ألست تمرض ألست تنصب (4) ألست تحزن الست تصيبك اللأواء (5) قال بلى قال فهو ما تجزون به (6) (وفي لفظ) قال فإن ذلك بذاك
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'তোমাদের খেয়াল-খুশী... অনুসারে কাজ হবে না।"
২৪৬। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নাযিল হল- "কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে পাবে" তখন তা মুসলিমদের জন্য কষ্টকর মনে হল এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ শাস্তির জন্য শংকিত হয়ে পড়ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন, তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং কল্যাণকর চিন্তা পোষণ কর। মুসলিমগণ যে সব বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবতে পতিত হয় সে সবই তার কাফ্ফারা স্বরূপ।
(মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)
(মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ليس بأمانيكم
عن أبي هريرة قال لما نزلت (من يعمل سوءا يجز به) (9) شقت على المسلمين وبلغت منهم ما شاء الله أن تبلغ (1) فشكوا ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم قاربوا (2) وسددوا فكل ما يصاب به المسلم كفارة حتى النكبة (3) ينكبها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'তোমাদের খেয়াল-খুশী... অনুসারে কাজ হবে না।
২৪৭। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একব্যক্তি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করল-কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে পাবে।" অতঃপর সে বলল, আমরা আমাদের সকল কাজের প্রতিফল পেলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। এ কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌঁছলে তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, তবে দুনিয়াতে মু'মিনরা যে সকল শারীরিক কষ্টদায়ক বিপদের সম্মুখীন হয় সে সব দ্বারা তার প্রতিফল ভোগ করা হয়ে যায়।
(মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে আবু ইয়ালা)
(মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে আবু ইয়ালা)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ليس بأمانيكم
عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن رجلا تلا هذه الآية (من يعمل سوءا يجز به) قال إنا لنجزي (5) بكل عملنا هلكنا إذا فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال نعم يجزي به المؤمنون في الدنيا في مصيبة في جسده فيما يؤذيه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "এবং আল্লাহ ইব্রাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৪: ১২৫।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৪: ১২৫।
২৪৮। আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মা'মার (র) আমাদের নিকট আল্লাহর বাণী 'এবং আল্লাহ ইব্রাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন'-এর ব্যাপারে বলেছেন, 'আব্দুল মালিক ইবন মাসউদ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সঙ্গী মুহাম্মদ (ﷺ) কে ও বন্ধু হিসেবে গ্রহন করেছেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب واتخذ الله ابراهيم خليلا
حدثنا عبد الرزاق حدثنا معمر في قوله (واتخذ الله ابراهيم خليلا) (8) قال اخبرني عبد الملك بن عمير عن خالد بن ربعي عن ابن مسعود أنه قال ان الله اتخذ صاحبكم خليلا (9) يعني محمدا صلى الله عليه وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "এবং আল্লাহ ইব্রাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।
২৪৯। 'আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি তোমাদের সঙ্গী মুহাম্মদ (ﷺ) মহান আল্লাহর বন্ধু।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب واتخذ الله ابراهيم خليلا
عن ابن مسعود قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن صاحبكم خليل الله عز وجل
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। লোকে তোমার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়। বর, পিতা-মাতা হীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ ব্যবস্থা জানাচ্ছেন।
২৫০। জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রা) পায়ে হেঁটে আমাকে দেখতে আসলেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এসে আমাকে সংজ্ঞাহীন দেখতে পেলেন, তাই আমি তার সাথে কথা বলতে সক্ষম ছিলাম না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওর ওযু করলেন এবং সে পানি আমার শরীরে ছিটিয়ে দিলেন, আমি তাতে সজাগ হলাম এবং তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। আমি আমার সম্পত্তি কিভাবে বণ্টন করব, আমার তো বেশ কয়েকজন বোন আছে? তখন মীরাসের আয়াত নাযিল হল- লোকে তোমার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়। বল, পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ ব্যবস্থা জানাচ্ছেন, কোন পুরুষ মারা গেলে সে যদি সন্তানহীন হয় এবং তার এক বোন থাকে তবে তার জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ এবং সে যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই তার উত্তরাধীকারী হবে, আর দু'বোন থাকলে তাদের জন্য তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির দু- তৃতীয়াংশ, আর যদি ভাই-বোন উভয়ই থাকে তবে এক পুরুষের অংশ দুনারীর অংশের সমান।"
(আল- কুরআন, ৪: ১৭৬)
আর উক্ত ব্যক্তির কোন সন্তান ছিল না বরং তার কয়েকজন বোন ছিল। (জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ (রা) থেকে অপর এক সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট আসলেন, আমি তখন সংজ্ঞাহীন ছিলাম, আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অযু করলেন এবং সে অযুর পানি আমার ওপর ছিটিয়ে দিলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন তার ওপর ছিটিয়ে দেয়া হয়েছিল, ফলে আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম, তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললাম, আমার কালালা(১) ব্যতীত অন্য কোন উত্তরাধীকারী নেই, তাহলে আমার পরিত্যক্ত সম্পত্তি কিভাবে বন্টিত হবে? বর্ণনাকারী ফারায়েযের আয়াত নাযিল হয়।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ)
টিকা:
১. কোন ব্যক্তির সন্তান সন্তুতি, পিতা ও ভাই না থাকলে উক্ত ব্যক্তি মারা গেলে তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার মত যোগ্য ব্যক্তিদের 'কালালা' বলে।
(আল- কুরআন, ৪: ১৭৬)
আর উক্ত ব্যক্তির কোন সন্তান ছিল না বরং তার কয়েকজন বোন ছিল। (জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ (রা) থেকে অপর এক সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট আসলেন, আমি তখন সংজ্ঞাহীন ছিলাম, আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অযু করলেন এবং সে অযুর পানি আমার ওপর ছিটিয়ে দিলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন তার ওপর ছিটিয়ে দেয়া হয়েছিল, ফলে আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম, তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললাম, আমার কালালা(১) ব্যতীত অন্য কোন উত্তরাধীকারী নেই, তাহলে আমার পরিত্যক্ত সম্পত্তি কিভাবে বন্টিত হবে? বর্ণনাকারী ফারায়েযের আয়াত নাযিল হয়।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ)
টিকা:
১. কোন ব্যক্তির সন্তান সন্তুতি, পিতা ও ভাই না থাকলে উক্ত ব্যক্তি মারা গেলে তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার মত যোগ্য ব্যক্তিদের 'কালালা' বলে।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة
عن جابر بن عبد الله قال مرضت فأتاني النبي صلى الله عليه وسلم يعودني هو وأبو بكر ماشيين وقد أغمي علي فلم أكلمه فتوضأ فصبه علي (2) فأفقت فقلت يا رسول الله كيف أصنع في مالي ولي أخوات؟ (3) قال فنزلت آية الميراث (يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة) (4) كان ليس له ولد وله أخوات (ان امرؤ هلك ليس له ولد وله اخت) (وعنه من طريق ثان) (5) قال دخل علي رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا وجع لا أعقل قال فتوضأ ثم صب علي أو قال صبوا عليه فعقلت فقلت انه لا يرثني إلا كلالة فكيف الميراث؟ قال فنزلت آية الفرض
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। লোকে তোমার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়। বর, পিতা-মাতা হীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ ব্যবস্থা জানাচ্ছেন।
২৫১। আবূ যুবায়র (র) জাবির (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যে, তিনি (রা) বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম, তখন আমার ছিল সাতটি বোন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দিলেন ফলে আমি জেগে উঠলাম এবং আমি বললাম, হে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমি আমার বোনদের জন্য দু-তৃতীয়াংশ ওছিয়ত করতে পারি কি? তিনি বললেন, উত্তম। আমি বললাম অর্ধাংশ? তিনি বললেন, উত্তম। বর্ণনাকারী বলেন, কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে রেখে বেরিয়ে গেলেন, তারপর ফিরে এসে বললেন, হে জাবির! আমি মনে করি না তুমি এ রোগে মারা যাবে (অর্থাৎ তুমি অনেকদিন বেঁচে থাকবে। কেননা, আল্লাহ ওহী নাজিল করেছেন এবং তাতে তোমার বোনদের ব্যাপারে বলে দিয়েছেন তাদেরকে দুই-তৃতীয়াংশ দিতে হবে। তাই জাবির (রা) প্রায়ই বলতেন আয়াত ‘‘লোকে তোমার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়। বল, পিতা- মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ ব্যবস্থা জানাচ্ছেন"-আমার ব্যাপারেই নাজিল হয়েছে।
(আবু দাউদ; নাসাঈ)
(আবু দাউদ; নাসাঈ)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة
عن أبي الزبير عن جابر قال اشتكيت وعندي سبع أخوات لي فدخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فنضح في وجهي فأفقت فقلت يا رسول الله أوصي لاخواتي بالثلثين؟ (2) قال أحسن قلت بالشطر؟ قال أحسن قال ثم خرج وتركني ثم رجع فقال يا جابر اني لا أراك ميتا من وجعك هذا فإن الله عز وجل قد أنزل فبين الذي لاخوتك فجعل لهن الثلثين فكان جابر يقول نزلت هذه الآية (يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। লোকে তোমার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়। বর, পিতা-মাতা হীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ ব্যবস্থা জানাচ্ছেন।
২৫২। বারা ইবন 'আযিব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে কালালার উত্তরাধীকার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন, তোমার জন্য এ সম্পর্কিত গ্রীষ্মকালীন আয়াতটিই(২) যথেষ্ট।
(আবূ দাউদ, তিরমিযী)
টিকা:
২. সূরা নিসার ১২ তম আয়াতটি কালালার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সম্বলিত যা শীতকালে নাজিল হয়েছে। পরবর্তীতে গ্রীষ্মকালে সিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত সূরা নিসার সর্বশেষ আয়াত অর্থাৎ ১৭৬ তম আয়াত নাজিল হয়।
(আবূ দাউদ, তিরমিযী)
টিকা:
২. সূরা নিসার ১২ তম আয়াতটি কালালার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সম্বলিত যা শীতকালে নাজিল হয়েছে। পরবর্তীতে গ্রীষ্মকালে সিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত সূরা নিসার সর্বশেষ আয়াত অর্থাৎ ১৭৬ তম আয়াত নাজিল হয়।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة
عن البراء بن عازب قال جاء رجل (4) إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فسأله عن الكلالة فقال تكفيك آية الصيف
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা মায়িদা
পরিচ্ছেদ। সূরা মায়িদার ফজীলত।
পরিচ্ছেদ। সূরা মায়িদার ফজীলত।
২৫৩। 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আমর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর যখন সূরা মায়িদা নাযিল হয়, তখন তিনি তার আরোহীর পিঠে ছিলেন। ফলে তার বাহনটি তাকে বহন করতে পারছিল না। তাই তিনি তার পিঠ থেকে নেমে পড়লেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
سورة المائدة
باب ما جاء في فضلها
باب ما جاء في فضلها
عن عبد الله بن عمرو قال أنزلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم سورة المائدة وهو راكب على راحلته فلم تستطع أن تحمله (1) فنزل عنها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। সূরা মায়িদার ফজীলত।
২৫৪। আসমা বিন্ত ইয়াযীদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর সূরা মায়িদা সম্পূর্ণটা নাজিল হওয়া পর্যন্ত আমি তাঁর উষ্টীর পায়ের রশি ধরে ছিলাম, তখন ওহীর ভারে উষ্ট্রীয় অঙ্গ প্রতঙ্গসমূহ কাঁপছিল।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضلها
عن أسماء بنت يزيد قالت اني لآخذ بزمام العضباء ناقة رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا أنزلت عليه المائدة كلها فكادت من ثقلها تدق بعضد الناقة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। সূরা মায়িদার ফজীলত।
২৫৫। জুবায়র ইবন নুফায়র (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-আমি 'আয়েশা (রা) এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি সূরা মায়িদা পড়?
আমি বললাম, হ্যাঁ। আয়েশা (রা) বললেন, এটি সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা। তাই এতে যে বিষয় বৈধ পাবে তাকে তোমরা বৈধ মনে করবে আর যে বিষয় অবৈধ পাবে তাকে তোমরা অবৈধ মনে করবে। আর আমি তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আল-কুরআন।
(মুস্তাদরাকে হাকিম)
আমি বললাম, হ্যাঁ। আয়েশা (রা) বললেন, এটি সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা। তাই এতে যে বিষয় বৈধ পাবে তাকে তোমরা বৈধ মনে করবে আর যে বিষয় অবৈধ পাবে তাকে তোমরা অবৈধ মনে করবে। আর আমি তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আল-কুরআন।
(মুস্তাদরাকে হাকিম)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضلها
عن جبير بن نفير قال دخلت على عائشة رضي الله عنها فقالت هل تقرأ سورة المائدة؟ قال قلت نعم قالت فإنها آخر سورة نزلت (4) فما وجدتم فيها من حلال فاستحلوه وما وجدتم فيها من حرام فحرموه (5) وسألتها عن خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت القرآن
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৫:০৩।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৫:০৩।
২৫৬। তারিক ইব্ন শিহাব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন জনৈক ইহুদী 'উমর ইবন খাত্তাব (রা) এর নিকট এসে বলল, হে আমিরুল মু'মিনীন। আপনারা আপনাদের কিভাবে এমন একটি আয়াত তিলাওয়াত করে থাকেন যদি তা আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের ওপর নাজিল হত, তবে আমরা ঐ নাজিলের দিনকে ঈদের দিন হিসেবে পালন করতাম। উমর (রা) বললেন, সেটি কোন আয়াত? সে বলল, মহান আল্লাহর বাণী "আজ তোমাদের জন্য তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন 'উমর (রা) বললেন, যেদিন, যে মুহুর্তে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর এ আয়াতটি নাজিল হয় সে সম্পর্কে আমি অধিক অবগত। আয়াতটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর আরাফার(২) দিন শুক্রবার নাজিল হয়েছে।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)
টিকা: ২. আরাফার দিন মুসলিমদের নিকট একটি স্মরণীয় দিন এবং শুক্রবার ও একটি স্মরণীয় দিন। সুতরাং আয়াতটি দুটি গুরুত্ব বহনকারী দিনে নাজিল হয়েছে, তাই তা ঈদের চেয়ে কম মর্যাদার নয়।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)
টিকা: ২. আরাফার দিন মুসলিমদের নিকট একটি স্মরণীয় দিন এবং শুক্রবার ও একটি স্মরণীয় দিন। সুতরাং আয়াতটি দুটি গুরুত্ব বহনকারী দিনে নাজিল হয়েছে, তাই তা ঈদের চেয়ে কম মর্যাদার নয়।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب اليوم أكملت لكم دينكم الخ
عن طارق بن شهاب قال جاء رجل من اليهود (8) إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال يا أمير المؤمنين انكم تقرءون آية في كتابكم لو علينا معشر اليهود نزلت لاتخذنا ذلك اليوم عيدا (9) قال وأي آية هي؟ قال عز وجل (اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي) (1) قال فقال عمر اني لأعلم اليوم الذي نزلت فيه على رسول الله صلى الله عليه وسلم والساعة التي نزلت فيها نزلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم عشية عرفة في يوم الجمعة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: তায়াম্মুমের আয়াতের বিবরণ।
২৫৭। ইবন নুমায়র (র) তিনি বলেন, হিশাম ইবন উরওয়া তার পিতা সূত্রে, তিনি আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (রা) আসমা (রা) -এর নিকট থেকে একটি হার ধার নিয়ে তা হারিয়ে ফেললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা খুঁজতে কয়েকজন সাহাবী পাঠালেন। তারা সেটি খুঁজে পেল, ততক্ষণে সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল, কিন্তু তাদের কাছে কোন পানি ছিল না তাই তারা অযু ছাড়াই সালাত আদায় করলো। তারা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অনুযোগ করলে তখন আল্লাহ তায়ালা তায়াম্মুমের আয়াত নাজিল করলেন। অতঃপর উসায়দ ইবন হুদায়র (রা) আয়েশা (রা) কে বললেন, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, আল্লাহর কসম! আপনার কোন সমস্যা আসলে তারই প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ আপনার ও সকল মুসলমানের জন্য কল্যাণের ব্যবস্থা করেন। অপর এক বর্ণনামতে, 'আব্দুর রহমান (র) কাসিম (র) সূত্রে, তিনি তার পিতা সূত্রে, তিনি আয়েশা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি (রা) বলেছেন, আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বের হলাম এবং আমরা মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী বায়দা অথবা(১) যাতুল জায়শ নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন আমার গলার হারটি হারিয়ে গেল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাৎক্ষণিক যাত্রা বিরতি করলেন এবং সাধারণ মুসলিমগণও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেল। তাদের আশে পাশে কোন পানি ছিল না এবং তাদের সঙ্গেও কোন পানি ছিল না। তখন আবু বকর (রা) আমার নিকট আসলেন আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার মাথা আমার উরুতে চেপে শুয়ে ছিলেন, আবু বকর (রা) বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাধারণ লোকজনকে আটকিয়ে রেখেছো অথচ তাদের আশে পাশে কোন পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও কোন পানি নেই? আয়েশা (রা) বলেন, তখন আবু বকর (রা) আমাকে, গালমন্দ করলেন, যা ইচ্ছা তা বললেন এবং তার হাত দিয়ে আমার কোমরে আঘাত করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুর ওপর থাকায় আমি নড়াচড়াও করতে পারছিলাম না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে উঠলেন আর মানুষের পানিহীন অবস্থায় ভোর হয়ে গেল। তখন মহান আল্লাহ তায়াম্মুমের আয়াত(১) নাজিল করলেন। অতঃপর তারা তায়াম্মুম করে নিল। তখন উসায়দ ইবন হুদায়ের (রা) বললেন, হে আবু বকরের পরিবার। এটাই তোমাদের প্রথম বরকত নয়। আয়েশা (রা) বলেন, অতঃপর আমি যে উটনীতে এসেছিলাম, সেটিকে তুললাম এবং তারই নিচে আমার হারানো হারটি খুঁজে পেলাম।
(বুখারী ও মুসলিম)
টিকা: ১. আয়েশা (রা) জায়গার নামটির ব্যাপারে সংশয়ের মধ্যে ছিলেন।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৫:০৬
(বুখারী ও মুসলিম)
টিকা: ১. আয়েশা (রা) জায়গার নামটির ব্যাপারে সংশয়ের মধ্যে ছিলেন।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৫:০৬
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب آية التيمم
حدثنا ابن نمير ثنا هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها أنها استعارت من أسماء (4) قلادة فهلكت فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم رجالا في طلبها فوجدوها (5) فأدركتهم الصلاة وليس معهم ماء فصلوا بغير وضوء فشكوا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فأنزل الله عز وجل التيمم (6) فقال أسيد بن حضير لعائشة جزاك الله خيرا فوالله ما نزلت بك أمر تكرهينه إلا جعل الله لك وللمسلمين فيه خيرا (7) (ومن طريق ثان) (8) (قر) عن عبد الرحمن عن القاسم عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها انها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض أسفارنا (9) حتى إذا كنا بالبيداء (10) أو بذات الجيش انقطع عقد لي (11) فأقام رسول الله صلى الله عليه وسلم على التماسه وأقام الناس معه وليسوا على ماء وليس معهم ماء فجاء أبو بكر ورسول الله صلى الله عليه وسلم واضعا رأسه على فخذي (12) فقال حبست رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس وليسوا على ماء وليس معهم ماء؟ قالت فعاتبني أبو بكر وقال ما شاء الله ان يقول وجعل يطعن بيده في خاصرتي ولا يمنعني من التحرك إلا مكان رسول الله صلى الله عليه وسلم على فخذي فقام (13) رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أصبح الناس على غير ماء فأنزل الله عز وجل آية التيمم) (1) فتيمموا فقال أسيد بن الحضير ما هي بأول بركتكم يا آل أبي بكر قالت فبعثنا البعير الذي كنت عليه فوجدنا العقد تحته
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্বক কাজ করে বেড়ায়, এটাই তাদের শাস্তি যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ হতে নির্বাসিত করা হবে।"(২)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৫: ৩৩।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৫: ৩৩।
২৫৮। কাতাদা (র) আনাস (রা) সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উক্ত ও উরায়না সম্প্রদায়ের কতিপয় ব্যক্তি ইসলাম সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করছিল। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তাঁকে বললো, তারা রাখাল সম্প্রদায়ের মানুষ, তারা (কোন স্থানের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে) কৃষক সম্প্রদায়ের মানুষ নয়। তাই তারা মদীনার জ্বর সম্পর্কে আপত্তি করল। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে কয়েকটি উট দিতে আদেশ করলেন এবং তাদেরকে মদীনার বাইরে গিয়ে সেগুলোর দুধ ও প্রস্রাব পান করতে নির্দেশ দিলেন। তারা সেখান থেকে বেরিয়ে মদীনার নিকটবর্তী হাররা অঞ্চলে পৌঁছলে ইসলাম গ্রহণের পরে তারা আবার কুফরীতে লিপ্ত হল, তারা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) প্রদত্ত রাখালকে হত্যা করল এবং উটগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি তাদেরকে ধরে আনার জন্য তাদের পশ্চাতে লোক পাঠালেন। তারা তাদেরকে নিয়ে আসলে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাদের চোখ উপড়ে ফেললেন, তাদের হাত-পা কেটে দিলেন (এক হাত এবং অপর পা, যেমন ডান হাত বাম পা)। পরে তাদেরকে (পাথুরে ভূমি) হাররায় ফেলে রাখা হল। তারা যেখানে পড়ে পাথর কামড়াতে থাকল এবং এ অবস্থায় তারা মারা গেল কাতাদা (রা) বলেন, তখন আমাদের নিকট স্পষ্ট হল, তাদের প্রসঙ্গেই এ আয়াত নাজিল হয়েছে- "যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্বক কাজ করে বেড়ায় এটাই তাদের শাস্তি।"
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب انما جزاء الذين يحاربون الله ورسوله الخ
عن قتادة عن أنس أن نفرا من عكل وعرينة تكلموا بالاسلام فأتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبروه أنهم أهل ضرع (2) ولم يكونوا أهل ريف (3) وشكوا حمى المدينة فأمر لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بذود (4) وأمرهم أن يخرجوا من المدينة فيشربوا من ألبانها وأبوالها فانطلقوا فكانوا في ناحية الحرة (5) فكفروا بعد اسلامهم وقتلوا راعي رسول الله صلى الله عليه وسلم وساقوا الذود فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فبعث الطلب في آثارهم فأتى بهم فسمل أعينهم وقطع أيديهم وأرجلهم وتركوا بناحية الحرة يقضمون (6) حجارتها حتى ماتوا قال قتادة فبلغنا أن هذه الآية نزلت فيهم (إنما جزاء (7) الذين يحاربون الله ورسوله)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'হে রাসূল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়... তারাই ফাসিক।"(১)
১. আল-কুরআন, ০৫: ৪১-৪৭।
১. আল-কুরআন, ০৫: ৪১-৪৭।
২৫৯। বারা ইবন 'আযিব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী -এর নিকট থেকে মুখে কালি মাখানো একজন বেত্রাঘাতকৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তাদেরকে
ঢেকে বললেন, তোমরা কি তোমাদের কিভাবে যিনাকারীর শাস্তির বিধান এরূপ পেয়েছ? তারা বলল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের মধ্য থেকে জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বললেন, মুসা (আ) এর প্রতি যিনি তাওরাত নাজিল করেছেন, আমি সে আল্লাহর নামে কসম করে তোমাকে জিজ্ঞেস করছি বল তো তোমরা কি তোমাদের কিতাবে যিনাকারীর শাস্তির বিধান এরূপ পেয়েছো? সে বলল, না, আল্লাহর কসম! আপনি যদি এরূপ কসম দ্বারা আমাকে জিজ্ঞাসা না করতেন, আমি আপনাকে কখনও এ তথ্য দিতাম না। আমরা আমাদের কিতাবে যিনাকারীর শাস্তি হিসেবে রজম (প্রস্তর নিক্ষেপই পেয়েছি। কিন্তু আমাদের সম্ভ্রান্তদের মধ্যে এ অপরাধ বেড়ে গেছে। তাই আমরা কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে এরূপ দোষে দোষী পেলে তাকে আমরা ছেড়ে দেই, আর কোন দূর্বল ব্যক্তিকে এরূপ দোষে দোষী পেলে আমরা তার ওপর শাস্তির বিধান প্রয়োগ করি। অবশেষে আমরা সবাই বলাবলি করছিলাম, এসো আমরা সম্ভ্রান্ত ও দূর্বল উভয়ের জন্য একই বিধান কায়েম করি। সুতরাং আমরা মুখে কালি লেপন বেত্রাঘাত করার ব্যাপারে একমত হয়ে যাই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! তারা তোমার বিধানের মৃত্যু ঘটানোর পর আমিই সর্বপ্রথম তা পুনরুজ্জীবিত করছি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুর তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন যেন তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "হে রাসূল। তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়-যারা মুখে বলে, 'ঈমান আনয়ন করেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনে না এবং ইহুদীদের মধ্যে যারা অসত্য শ্রবণে তৎপর, তোমার নিকট আসে না এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যারা কান পেতে থাকে। শব্দগুলি যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরও তারা সেগুলির অর্থ বিকৃত করে। তারা বলে, এ প্রকার বিধান দিলে গ্রহণ কর"(১) তারা বলে, তোমরা মুহাম্মদ এর নিকট যাও। তিনি যদি তোমাদেরকে কালি লেপন ও বেত্রাঘাত করার ফায়সালা দেন তবে তোমরা তা মেনে নেবে, আর তিনি যদি তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতের ফায়সালা দেন তবে তা বর্জন করবে। তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির।"(২) বর্ণনাকারী বলেন, এটা ইহুদীদের উপলক্ষে নাজিল হয়েছে। অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই যালিম(৩) এবং "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই ফাসিক।"(৪) বর্ণনাকারী বলেন, এ বিধান সকল কাফিরকে উপলক্ষ করে নাজিল হয়েছে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ০৫: ৪১।
২. আল-কুরআন, ৫:৪৪।
৩. আল-কুরআন, ৫:৪৫।
৪. আল-কুরআন, ৫: ৫৫।
ঢেকে বললেন, তোমরা কি তোমাদের কিভাবে যিনাকারীর শাস্তির বিধান এরূপ পেয়েছ? তারা বলল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের মধ্য থেকে জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বললেন, মুসা (আ) এর প্রতি যিনি তাওরাত নাজিল করেছেন, আমি সে আল্লাহর নামে কসম করে তোমাকে জিজ্ঞেস করছি বল তো তোমরা কি তোমাদের কিতাবে যিনাকারীর শাস্তির বিধান এরূপ পেয়েছো? সে বলল, না, আল্লাহর কসম! আপনি যদি এরূপ কসম দ্বারা আমাকে জিজ্ঞাসা না করতেন, আমি আপনাকে কখনও এ তথ্য দিতাম না। আমরা আমাদের কিতাবে যিনাকারীর শাস্তি হিসেবে রজম (প্রস্তর নিক্ষেপই পেয়েছি। কিন্তু আমাদের সম্ভ্রান্তদের মধ্যে এ অপরাধ বেড়ে গেছে। তাই আমরা কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে এরূপ দোষে দোষী পেলে তাকে আমরা ছেড়ে দেই, আর কোন দূর্বল ব্যক্তিকে এরূপ দোষে দোষী পেলে আমরা তার ওপর শাস্তির বিধান প্রয়োগ করি। অবশেষে আমরা সবাই বলাবলি করছিলাম, এসো আমরা সম্ভ্রান্ত ও দূর্বল উভয়ের জন্য একই বিধান কায়েম করি। সুতরাং আমরা মুখে কালি লেপন বেত্রাঘাত করার ব্যাপারে একমত হয়ে যাই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! তারা তোমার বিধানের মৃত্যু ঘটানোর পর আমিই সর্বপ্রথম তা পুনরুজ্জীবিত করছি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুর তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন যেন তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "হে রাসূল। তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়-যারা মুখে বলে, 'ঈমান আনয়ন করেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনে না এবং ইহুদীদের মধ্যে যারা অসত্য শ্রবণে তৎপর, তোমার নিকট আসে না এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যারা কান পেতে থাকে। শব্দগুলি যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরও তারা সেগুলির অর্থ বিকৃত করে। তারা বলে, এ প্রকার বিধান দিলে গ্রহণ কর"(১) তারা বলে, তোমরা মুহাম্মদ এর নিকট যাও। তিনি যদি তোমাদেরকে কালি লেপন ও বেত্রাঘাত করার ফায়সালা দেন তবে তোমরা তা মেনে নেবে, আর তিনি যদি তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতের ফায়সালা দেন তবে তা বর্জন করবে। তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির।"(২) বর্ণনাকারী বলেন, এটা ইহুদীদের উপলক্ষে নাজিল হয়েছে। অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই যালিম(৩) এবং "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই ফাসিক।"(৪) বর্ণনাকারী বলেন, এ বিধান সকল কাফিরকে উপলক্ষ করে নাজিল হয়েছে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ০৫: ৪১।
২. আল-কুরআন, ৫:৪৪।
৩. আল-কুরআন, ৫:৪৫।
৪. আল-কুরআন, ৫: ৫৫।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الرسول لا يحزنك الذين يسارعون في الكفر إلى قوله (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الفاسقون)
عن البراء بن عازب قال مر على رسول الله صلى الله عليه وسلم بيهودي محمم (2) مجلود فدعاهم فقال أهكذا تجدون حد الزاني في كتابكم؟ فقالوا نعم قال فدعا رجلا من علمائهم فقال أنشدك بالله الذي أنزل التوراة على موسى أهكذا تجدون حد الزاني في كتابكم؟ (3) فقال لا والله لولا أنك أنشدتني بهذا (4) لم أخبرك نجد حد الزاني في كتابنا الرجم ولكنه كثر على أشرافنا فكنا إذا أخذنا الشريف تركناه واذا أخذنا الضعيف أقمنا عليه الحد فقلنا (5) تعالوا حتى نجعل شيئا نقيمه على الشريف والوضيع فاجتمعنا (6) على التحميم والجلد فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم اني أول من أحيا أمرك إذ أماتوه (7) قال فأمر به فرجم فأنزل الله عز وجل (يا أيها الرسول لا يحزنك (8) الذي يسارعون في الكفر - إلى قوله - يقولون إن أوتيتم هذا فخذوه) يقولون ائتوا محمدا فإن افتاكم بالتحميم والجلد فخذوه وان افتاكم بالرجم فاحذروا (9) إلى قوله (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الكافرون) قال في اليهود (10) إلى قوله (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الظالمون ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الفاسقون) قال هي في الكفار كلها
তাহকীক: