মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩০৩ টি
হাদীস নং: ২৬০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'হে রাসূল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়... তারাই ফাসিক।
২৬০। 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি মহান আল্লাহ তা'আলার বাণী, "তারা তোমার নিকট আসে তাহলে তাদের বিচার নিষ্পত্তি করো অথবা তাদেরকে উপেক্ষা করো, তুমি যদি তাদেরকে উপেক্ষা কর তবে তারা তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি বিচার নিষ্পত্তি কর তবে তাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।(১)-এর ব্যাপারে বলেন, বনু নাযীর গোত্রের কোন ব্যক্তি যদি বনু কুরায়জার কোন ব্যক্তিকে হত্যা করত তাহলে তার অর্ধেক রক্তমূল্য আদায় করত আর বনু কুরায়জা গোত্রের কোন ব্যক্তি যদি বনু নাযীর গোত্রের কাউকে হত্যা করত তাহলে তারা পূর্ণ রক্তমূল্য আদায় করত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তমূল্যর ক্ষেত্রে সমতা রক্ষার বিধান দিলেন।
(আবু দাউদ, নাসাঈ)
১. আল-কুরআন, ৫: ৪২।
(আবু দাউদ, নাসাঈ)
১. আল-কুরআন, ৫: ৪২।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الرسول لا يحزنك الذين يسارعون في الكفر إلى قوله (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الفاسقون)
عن ابن عباس في قوله تعالى (فإن جاءوك فاحكم بينهم أو أعرض عنهم (2) وان تعرض عنهم فلن يضروك شيئا وان حكمت فاحكم بينهم بالقسط ان الله يحب المقسطين) قال كان بنو النضير اذا قتلوا قتيلا من بني قريظة أدوا اليهم نصف الدية واذا قتل بنو قريظة من بني النضير قتيلا أدوا اليهم الدية كاملا فسوى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم بينهم الدية
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'হে রাসূল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়... তারাই ফাসিক।
২৬১। উক্ত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, মহান আল্লাহর বাণী। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির... তারাই যালিম ... তারাই ফাসিক"(১) এ প্রসঙ্গে বর্ণনাকারী বলেন, 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) বলেছেন, এ আয়াতসমূহ আল্লাহ তায়ালা ইয়াহুদীদের দু'টি গোত্রকে উপলক্ষ্য করে নাজিল করেছেন। জাহিলী যুগে তাদের একটি গোত্র অপরটির ওপর খবরদারী করত, এক পর্যায়ে তারা মেনে নিল ও চুক্তি করল যে, যে প্রসিদ্ধ গোত্র (বনু নাযীর) এর কোন ব্যক্তি যদি দূর্বল গোত্র (বনু কুরাইযা)-এর কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে তবে তার রক্তমূল্য হচ্ছে পঞ্চাশ ওসাক। আর দূর্বল গোত্রের কোন ব্যক্তি যদি সবল গোত্রের কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে তবে তার রক্তমূল্য হচ্ছে একশত ওসাক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আগমন করার পূর্ব পর্যন্ত তারা এ প্রথা পালনে অভ্যস্ত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগমনে উভয় পক্ষই তার বশ্যতা স্বীকার করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয়ের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করিয়ে দিলেন কিন্তু তাদের একগোত্রের ওপর অপর গোত্রের প্রাধান্য এবং রক্তঋণের ব্যাপারে তাদের প্রথার বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পরিজ্ঞাত হয়নি। কয়েকদিন পর দূর্বল গোত্রের কোন এক ব্যক্তি সবল গোত্রের কোন এক ব্যক্তিকে হত্যা করল, তখন সবল গোত্র দূর্বল গোত্রের নিকট একশত ওসক রক্তঋণ দাবী করল। তখন দূর্বল গোত্র বলল, ঐ বৈষম্য কি এ দু'গোত্রের মধ্যে স্থায়ী হবে? অথচ তাদের দ্বীন এক, তাদের নবী একজন এবং তাদের দেশ একটি। তাদের এক গোত্রের রক্তঋণ অপরগোত্রের অর্ধেক। আমরা তোমাদেরকে এটা দিয়েছি যুলুমের শিকার হয়ে এবং তোমাদের ভয়ে ভীত হয়ে। অতএব, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এসে পড়েছেন তখন আমরা তোমাদেরকে আর এ সুযোগ দিব না। এভাবে তাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর উপক্রম হল। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাদের মধ্যস্থতাকারী মানতে সম্মত হল। তাদের মধ্যে জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে স্মরণ করা হলে তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তোমরা তাদেরকে যা দিয়াত হিসাবে দিয়ে থাকো তার দ্বিগুণ তারা তোমাদেরকে দিয়াত হিসেবে দিবে- মুহাম্মদ এটা কিছুতেই মেনে নিবেন না। তারা ঠিকই বলেছে, তারা আমাদেরকে এটা দেয় যুলুমের শিকার হয়ে এবং আমাদের ক্ষমতার ভয়ে ভীত হয়ে। তাই তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গোয়েন্দা প্রেরণ কর যে তোমাদেরকে তার অভিমত জানাতে পারবে। তোমরা যা চাও তিনি যদি তা দেয়ার পক্ষে হয় তাহলে তোমরা তাঁকে ফয়সালাকারী মানবে, আর তিনি যদি তোমাদের স্বার্থ পূরণ না করেন তাহলে তোমরা তাকে ফয়সালাকারী মানবে না। তখন তারা কয়েকজন মুনাফিককে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রেরণ করলো যাতে তারা তাদেরকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর অভিমত জানাতে পারে। অতঃপর তারা যখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসল, তখন মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাদের ব্যাপারে ও তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাবিস্তারে জানিয়ে দিলেন, মহান আল্লাহ নাজিল করেন, 'হে রাসুল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়। যারা মুখে বলে ঈমান আনয়ন করেছি... আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিদাদ দেয় না, তারাই ফাসিক।(১) বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর কসম, এ আয়াতসমূহ তাদেরকে লক্ষ্য করেই নাজিল হয়েছে, আল্লাহ এভাবে সুস্পষ্ট করে দিলেন।
(আবু দাউদ, নাসাঈ)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৫: ৪৪,৪৫,৪৭।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৫:৪১-৪৭।
(আবু দাউদ, নাসাঈ)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৫: ৪৪,৪৫,৪৭।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৫:৪১-৪৭।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الرسول لا يحزنك الذين يسارعون في الكفر إلى قوله (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الفاسقون)
وعنه أيضا أن الله عز وجل أنزل (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الكافرون وأولئك هم الظالمون وأولئك هم الفاسقون) قال قال ابن عباس أنزلها الله في الطائفتين من اليهود وكانت احداهما قد قهرت الأخرى في الجاهلية حتى ارتضوا واصطلحوا على أن كل قتيل قتله العزيزة (5) من الذليلة فديته خمسون وسقا وكل قتيل قتله الذليلة من العزيزة فديته مائة وسق فكانوا على ذلك حتى قدم النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم فذلت الطائفتان كلتاهما لمقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم ويومئذ لم يظهر (6) ولم يوطئهما عليه وهو في الصلح فقتلت الذليلة (1) من العزيزة قتيلا فأرسلت العزيزة إلى الذليلة أن ابعثوا الينا بمائة وسق فقالت الذليلة وهل كان هذا في حيين قط دينهما واحد ونبيهما واحد وبلدهما واحد؟ دية بعضها نصف دية بعض إنا انما أعطيناكم هذا ضيما (2) منكم لنا وفرقا منكم فأما إذ قدم محمد فلا نعطينكم ذلك فكادت الحرب تهيج بينهم ثم ارتضوا أن يجعلوا رسول الله صلى الله عليه وسلم بينهم (3) ثم ذكرت العزيزة فقالت والله ما محمد بمعطيكم منهم ضعف ما يعطيهم منكم (4) ولقد صدقوا ما أعطونا هذا إلا ضيما منا وقهرا لهم فدسوا الى محمد من يخبر لكم رأيه أن أعطاكم ما تريدون حكمتموه وان لم يعطكم حذرتم فلم تحكموه (5) فدسوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ناسا من المنافقين ليخبروا لهم رأي رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم أخبر الله رسوله بأمرهم كله وما أرادوا فأنزل الله عز وجل (يا أيها الرسول لا يحزنك الذين يسارعون إلى الكفر من الذين قالوا آمنا - إلى قوله - ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الفاسقون) (6) ثم قال فيها والله نزلت واياهما عنى الله عز وجل
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী, "আমি তাদের জন্য তাতে বিধান দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ...।(২)
২. আল-কুরআন, ০৫:৪৫।
২. আল-কুরআন, ০৫:৪৫।
২৬২। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنُ بِالْعَيْنِ) (ﷺ)
আয়াতে-এর أَنَّ النَّفْسَ এ যবর দিয়ে এবং وَالْعَيْنُ এর نَ এ পেশ দিয়ে। তিলাওয়াত করেছেন।
(তিরমিযী)
আয়াতে-এর أَنَّ النَّفْسَ এ যবর দিয়ে এবং وَالْعَيْنُ এর نَ এ পেশ দিয়ে। তিলাওয়াত করেছেন।
(তিরমিযী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وكتبنا عليهم فيها أن النفس بالنفس الخ
عن أنس ابن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأها (وكتبنا عليهم فيها (9) أن النفس بالنفس والعين بالعين نصب النفس ورفع العين
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী, "হে মু'মিনগণ! মদ, জুয়া...।"(৩)
৩. আল-কুরআন, ০৫: ৯০।
৩. আল-কুরআন, ০৫: ৯০।
২৬৩। সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক আনসার তার বাড়ীতে খাবার তৈরী করল। সাহাবীরা পানাহার করল এবং মদের আসর বসাল। আর এ ঘটনা মদ হারাম হওয়ার পূর্বের। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সবাই তথায় সমবেত হলে তারা পরস্পর গর্ব-অহংকার প্রদর্শনে মত্ত হল। আনসাররা বলল, আনসাররাই উত্তম; আবার মুহাজিররা বলল, মুহাজিররাই উত্তম। তখন একব্যক্তি সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা)-কে লক্ষ্য করে মৃত উটের চোয়াল ছুঁড়ে মারল, ফলে তার নাক ফেটে গেল। মনে হচ্ছিল যেন সাদ এর নাক জন্ম সুত্রেই ফাঁটা। তখন নাজিল হল, 'হে মু'মিনগণ। মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ... তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?(৪)
(মুসলিম, বায়হাকী)
টিকা: ৪. আল-কুরআন, ০৫: ৯০-৯১।
(মুসলিম, বায়হাকী)
টিকা: ৪. আল-কুরআন, ০৫: ৯০-৯১।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الذين آمنوا انما الخمر والميسر الخ
عن سعد بن أبي وقاص قال صنع رجل من الانصار طعاما فأكلوا وشربوا وانتشوا (2) من الخمر وذاك قبل أن تحرم فاجتمعنا عنده فتفاخروا وقالت الانصار الأنصار خير وقالت المهاجرين المهاجرين خير فأهوى له رجل بلحنى (3) جزور ففزر أنفه (4) فكان أنف سعد مفزورا فنزلت (يا أيها الذين آمنوا انما الخمر والميسر (5) إلى قوله - فهل أنتم منتهون)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী, "হে মু'মিনগণ! মদ, জুয়া...।
২৬৪। আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন মদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান নাজিল হল তখন সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ! (ﷺ) আমাদের যে ভাইয়েরা মদ পান করা অবস্থায় মারা গেছে তাদের কি হবে? তখন এ আয়াত নাজিল হয়। (অপর এক বর্ণনা মতে,) কেউ কেউ বলেন, সুহায়ল ইবন বায়দা (রা) মারা গেছেন অথচ তখন ও তার পেটে মদ ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে তজ্জন্য তাদের কোন গুনাহ নাই, যদি তারা সাবধান হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, সাবধান হয় ও বিশ্বাস করে, পুনরায় সাবধান হয় ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ্ সৎ কর্মপরায়ণদেরকে ভালবাসেন।(১)
(তিরমিযী, হাকীম)
টিকাঃ ১. আল-কুরআন, ০৫:৯৩।
(তিরমিযী, হাকীম)
টিকাঃ ১. আল-কুরআন, ০৫:৯৩।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الذين آمنوا انما الخمر والميسر الخ
عن ابن عباس قال لما نزل تحريم الخمر قالوا يا رسول الله كيف باخواننا الذين ماتوا وهم يشربونها؟ فنزلت (وفي رواية) فقال بعضهم قد قتل سهيل بن بيضا وهي في بطنه قال فأنزل الله عز وجل (ليس على الذين آمنوا وعملوا الصالحات جناح (7) فيما طعموا) الخ الآية
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "হে মু'মিনগণ! তোমরা সেই সব বিষয়ে প্রশ্ন কর না....।"
২৬৫। আলী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নাজিল হল, "মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ আছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহে হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য"(২) তখন সাহাবীরা বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। এটা কি প্রতিবছর? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন নীরব থাকলেন। তারা আবার বললেন, এটা কি প্রতিবছর? তখনও তিনি নীরব রইলেন, তারা আবার বললেন, এটা কি প্রতিবছর? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না; তবে আমি যদি হ্যাঁ বলি, তাহলে তা (প্রতি বছরই) ওয়াজিব হয়ে যেত। তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন। "হে মু'মিনগণ! তোমরা সে সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের নিকট প্রকাশিত হলে তা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে। কুরআন অবতরণের কালে তোমরা যদি সে সব বিষয়ে প্রশ্ন কর তবে তা তোমাদের নিকট প্রকাশ করা হবে।" (আল-কুরআন, ০৫: ১০১)
আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমার পিতা কে? তিনি বললেন, তোমার পিতা অমুক। তখন নাজিল হল।" হে মু'মিনগণ! তোমরা যে সব বিষয়ে প্রশ্ন কর না, যা তোমাদের নিকট প্রকাশিত হলে তা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে।”(১)
(বুখারী ও মুসলিম অন্যান্য গ্রন্থসূত্র)
টিকাঃ ২. আল-কুরআন, ০৩:৯৭।
টিকাঃ ১. আল-কুরআন, ০৫: ১০১।
আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমার পিতা কে? তিনি বললেন, তোমার পিতা অমুক। তখন নাজিল হল।" হে মু'মিনগণ! তোমরা যে সব বিষয়ে প্রশ্ন কর না, যা তোমাদের নিকট প্রকাশিত হলে তা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে।”(১)
(বুখারী ও মুসলিম অন্যান্য গ্রন্থসূত্র)
টিকাঃ ২. আল-কুরআন, ০৩:৯৭।
টিকাঃ ১. আল-কুরআন, ০৫: ১০১।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الذين آمنوا لا تسألوا عن أشياء الخ
عن علي رضي الله عنه قال لما نزلت هذه الآية (ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا) قالوا يا رسول الله أفي كل عام؟ فسكت فقالوا أفي كل عام؟ فقال لا ولو قلت نعم لوجبت (2) فأنزل الله تعالى (يا أيها الذين آمنوا لا تسألوا عن أشياء ان تبد لكم تسؤكم) الخ الآية
(عن أنس بن مالك) (4) قال قال رجل (5) يا رسول الله من أبي؟ قال أبوك فلان فنزلت (يا أيها الذين آمنوا لا تسألوا عن أشياء ان تبد لكم تسؤكم) إلى تمام الآية
(عن أنس بن مالك) (4) قال قال رجل (5) يا رسول الله من أبي؟ قال أبوك فلان فنزلت (يا أيها الذين آمنوا لا تسألوا عن أشياء ان تبد لكم تسؤكم) إلى تمام الآية
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "হে মু'মিনগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদেরই নিজেদের রক্ষা করা ও তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।"
২৬৬। 'আলী ইবন মুদরিক (র) সূত্রে আবু 'আমির আশআরী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আউতাসে মুসলমানদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি নিহত হল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ 'আ'মির আশআ'রী (রা) কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু 'আ'মির! তুমি প্রতিবাদ করলে না কেন? তখন সে এ আয়াতটি তিলাওয়াত করল, "হে মু'মিনগণ! তোমাদের কর্তব্য তোমাদের নিজেদের রক্ষা করা। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।” (আল-কুরআন, ০৫: ১০৫) তাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, তোমরা কোথায় যাচ্ছ? (অর্থাৎ অপব্যাখ্যা করছ কেন?) বরং আয়াতের মর্ম হল, হে মু'মিনগণ! তোমাদের কর্তব্য তোমাদের নিজেদের রক্ষা করা তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে কাফিরদের মধ্য থেকে যারা কুফরী করবে তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
(তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র)
(তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الذين آمنوا عليكم أنفسكم لا يضركم من ضل إذا اهتديتم
عن علي بن مدرك عن أبي عامر الأشعري رضي الله عنه قال كان رجل قتل منهم بأوطاس فقال له النبي صلى الله عليه وسلم يا أبا عامر ألا غيرت؟ (2) فتلا هذه الآية (يا أيها الذين آمنوا عليكم أنفسكم لا يضركم من ضل إذا اهتديتم) (3) فغضب رسول الله صلى الله عليه وسلم (4) وقال أين ذهبتم انما هي يا أيها الذين آمنوا لا يضركم من ضل من الكفار اذا اهتديتم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "হে মু'মিনগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদেরই নিজেদের রক্ষা করা ও তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।"
২৬৭। কায়স (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রা) বক্তৃতা দানের জন্য দাড়ালেন, তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর দরূদ পেশ করলেন। অতঃপর বললেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমরা এ আয়াতখানা তিলাওয়াত করছো, হে মু'মিনগণ! তোমাদের কর্তব্য তোমাদের নিজেদের রক্ষা করা। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে যে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।(১) অথচ, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মানুষেরা যখন রোমানের কাজ দেখে অথচ তার প্রতিরোধ করে না, তখন অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি স্বরূপ অন্ধ করে দিবেন। বর্ণনাকারী আরও বলেন, আমি আবু বকর (রা) কে আরও বলতে শুনেছি, তোমরা মিথ্যা হতে বেঁচে থাকো। কেননা, মিথ্যা ঈমানের পরিপন্থী।
(আবূ দাউদ। ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকাঃ ১. আল-কুরআন, ০৫: ১০৫।
(আবূ দাউদ। ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকাঃ ১. আল-কুরআন, ০৫: ১০৫।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الذين آمنوا عليكم أنفسكم لا يضركم من ضل إذا اهتديتم
عن قيس قال قام أبو بكر رضي الله عنه فحمد الله وأثنى عليه ثم قال يا أيها الناس انكم تقرؤن هذه الآية (6) (يا أيها الذين آمنوا عليكم أنفسكم لا يضركم من ضل اذا اهتديتم) وانا سمعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان الناس إذا رأوا المنكر ولا يغيروه (7) أوشك الله أن يعمهم بعقابه (8) قال وسمعت أبا بكر رضي الله عنه يقول إياكم والكذب فإن الكذب مجانب (9) للإيمان
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারাতো তোমারই বান্দা...।"
২৬৮। জাসরা বিনত দাজানা (র) হতে বর্ণিত, তিনি উমরা করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে 'রাবাজা' নামক স্থানে পৌছলে আবু যার (রা) কে বলতে শুনলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোন এক রাতে ইশার সালাত শুরু করলেন, তিনি লোকদের নিয়ে সালাত সমাপ্ত করলেন। কিন্তু তাঁর কতিপয় সাহাবী পিছনে পড়ে গেলেন। তারা মাসবুক হিসেবে সালাত আদায় করছিলেন, রাসূলুল্লাহর (ﷺ) তাদের দাঁড়ানো দেখে এবং তাদের বিলম্ব উপলব্ধি করে নিজ গৃহে চলে গেলেন। অতঃপর যখন দেখতে পেলেন লোকজন জায়গা খালি করে চলে গেছে তখন তিনি (ﷺ) তার জায়গায় ফিরে আসলেন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন। আমি তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি আমাকে তাঁর ডানে দাঁড়ানোর জন্য ইশারা করলেন। আমি তাঁর ডান পার্শ্বে দাঁড়িয়ে গেলাম। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) এসে আমাদের পিছনে দাড়িয়ে গেলেন ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে তাঁর বামপার্শ্বে দাঁড়ানোর জন্য বাম হাত দ্বারা ইশারা করলেন। ফলে, তিনি তাঁর বাম পার্শ্বে দাঁড়ালেন। আমরা তিন জন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে প্রত্যেকেই মনে মনে কিরাআত পাঠ করছিলাম এবং যে যার পছন্দমত তিলাওয়াত করছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের একটি আয়াত দ্বারাই সালাত আদায় করলেন। তিনি সেই একটি আয়াত বার বার পুনরাবৃত্তি করলেন। এমন কি ফজর হয়ে গেল, ভোরে আমি 'আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-কে ইশারা করলাম যে, তাকে জিজ্ঞাসা করুন, গতরাতে তিনি যা করেছেন তা দ্বারা তার উদ্দেশ্য ছিল কী? তখন 'আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হাতের ইশারায় উত্তর দিলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট না বলা পর্যন্ত আমি তাঁকে এ ব্যাপারে কিছুই জিজ্ঞাসা করব না। আবু যার (রা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনার জন্য আমার পিতা মাতা উৎসর্গ হোক। আপনি কুরআনের একটি আয়াত দ্বারা রাতে সালাত আদায় করলেন, অথচ আপনার নিকট সম্পূর্ণ কুরআন রয়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ এরূপ করলে আমরা তার ওপর ক্ষেপে যেতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি আমার উম্মতের জন্য দু'আ করেছি। আবূ যার (রা) বললেন, তাহলে আপনি কি জবাব পেলেন অথবা আপনাকে কি উত্তর দেওয়া হল? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমাকে যে জবাব দেওয়া হয়েছে, তা যদি লোকে ভালভাবে জানতে পারে, তবে তারা সালাত পরিত্যাগ করবে। আবূ যার (রা) বললেন, আমি কি মানুষদেরকে এ সুসংবাদটি জানিয়ে দিব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। আবু যার (রা) বলেন, তখন আমি অতি দ্রুত প্রস্তরময় অঞ্চলে সংবাদটি পৌঁছানোর জন্য বেরিয়ে পড়লাম। তখন 'উমার (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)। আপনি যদি মানুষদের নিকট এ খবর পৌঁছিয়ে দেন, তাহলে তারা অনেকেই ইবাদত করা ছেড়ে দিবে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ফিরে আসার জন্য ডেকে পাঠালেন। তখন আবু যার (রা) ফিরে আসলেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে আয়াত খানা বারবার তিলাওয়াত করছিলেন তা হল; তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও, তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"
(আল-কুরআন, ০৫: ১১৮)
( নাসাঈ, ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(আল-কুরআন, ০৫: ১১৮)
( নাসাঈ, ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب إن تعذبهم فإنهم عبادك الآية
حدثني جسرة بنت دجانة انها انطلقت معتمرة فانتهت إلى الربذة (2) فسمعت أب ذر يقول قام النبي صلى الله عليه وسلم ليلة من الليالي في صلاة العشاء فصلى بالقوم ثم تخلف أصحاب له يصلون فلما رأى قيامهم وتخلفهم انصرف إلى رحله فلما رأى القوم قد أخلوا المكان رجع إلى مكانه فصلى فجئت فقمت خلفه فأومأ إلى بيمينه فقمت عن يمينه ثم جاء ابن مسعود فقام خلفي وخلفه فأومأ اليه بشماله فقام عن شماله فقمنا ثلاثتنا يصلي كل رجل منا بنفسه ويتلو من القرآن ما شاء الله أن يتلو فقام بآية من القرآن يرددها حتى صلى الغداة فبعد أن أصبحنا أومأت إلى عبد الله بن مسعود أن سله ما أراد إلى ما صنع البارحة؟ فقال ابن مسعود بيده لا اسأله عن شيء حتى يحدث إلي فقلت بأبي أنت وأمي (3) قمت بآية من القرآن ومعك القرآن لو فعل هذا بعضنا وجدنا عليه (4) قال دعوت لأمي قال فماذا أجبت أو ماذا رد عليك؟ قال أجبت بالذي لو اطلع عليه كثير منهم طلعة تركوا الصلاة قال أفلا أبشر الناس قال بلى فانطلقت معنقا (6) قريبا من قذفة بحجر فقال عمر يا رسول الله انك ان تبعث إلى الناس بهذا نكأوا (7) عن العبادة فنادى ان ارجع فرجع وتلك الآية (أن تعذبهم فإنهم عبادك (8) وان تغفر لهم فإنك أنت العزيز الحكيم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা আন'আম
পরিচ্ছেদ: "ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন জীব নাই অথবা নিজ ডানার সাহায্যে এমন কোন পাখী উড়ে না যারা তোমাদের মত এক একটি উম্মত নয়।"
পরিচ্ছেদ: "ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন জীব নাই অথবা নিজ ডানার সাহায্যে এমন কোন পাখী উড়ে না যারা তোমাদের মত এক একটি উম্মত নয়।"
২৬৯। 'উবায়দুল্লাহ ইব্ন যিয়াদ (র) হতে বর্ণিত, তিনি বুস্র সুলামীর দুপুত্রের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি তাদের দু'জনের নিকট প্রবেশ করে তাদেরকে বললাম, আল্লাহ আপনাদের দুজনের প্রতি রহম করুণ। আমাদের মধ্যে এক ব্যক্তি তার চতুষ্পদ জানোয়ারের পিঠে চড়ল, অতঃপর তাকে বেত্রাঘাত করল এবং তার মুখমণ্ডলে লাগাম পরিয়ে দিল, এ ব্যাপারে আপনারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কোন বিধান শুনেছেন? তারা বললেন, না, আমরা এ ব্যাপারে তাঁর নিকট থেকে কিছুই শুনিনি। তখন গৃহ অভ্যন্তর থেকে এক মহিলা ডেকে বলল, হে প্রশ্নকারী, মহান আল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, "ভূ- পৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন জীব নাই অথবা নিজ ডানার সাহায্যে এমন কোন পাখী ওড়ে না যারা তোমাদের মত এক একটি উম্মত নয়। কিতাবে কোন কিছুই আমি বাদ দেইনি।(১) তখন তারা দু'জন বললেন, উনি আমাদের বড় বোন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৬: ৩৮।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৬: ৩৮।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
سورة الأنعام
باب وما من دابة في الأرض ولا طائر يطير بجناحيه الآية
باب وما من دابة في الأرض ولا طائر يطير بجناحيه الآية
عن عبيد الله بن زياد عن ابني يسر السلميين قال دخلت عليهما فقلت يرحمكما الله الرجل منا يركب دابته فيضربها بالسوط ويكفحها (2) باللجام هل سمعتما من رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك شيئا؟ (3) قالا لا ما سمعنا منه في ذلك شيئا فإذا امرأة قد نادت من جوف البيت أيها السائل ان الله عز وجل يقول (وما من دابة في الأرض ولا طائر يطير بجناحيه (4) إلا أمم أمثالكم ما فرطنا في الكتاب من شيء) فقالا هذه أختنا وهي أكبر منا وقد أدركت النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ "পরিচ্ছেদ: "তুমি এ দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করে দাও যারা ভয় করে যে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের নিকট সমবেত করা হবে....."।
২৭০। 'আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কতিপয় কুরায়শ নেতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল, তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর পাশে খাব্বাব সুহায়ব, বিলাল ও 'আম্মার (রা) বসা ছিলেন। কুরায়শ নেতৃবৃন্দ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে লক্ষ্য করে বলল, হে মুহাম্মদ (ﷺ)। তুমি কি ঐ সব (নিচু শ্রেণীর) লোকদের নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে? তখন তাদেরকে লক্ষ্য করে কুরআনের এ অংশটুকু অবতীর্ণ হয়। "তুমি এ দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করে দাও যারা ভয় করে যে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের নিকট সমবেত করা হবে এমন অবস্থায় যে, তিনি ব্যতীত তাদের কোন অভিভাবক বা সুপারিশকারী থাকবে না; হয়ত তারা সাবধান হবে। যারা তাদের প্রতিপালককে সকাল সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ডাকে তাদেরকে তুমি বিতাড়িত কর না। তাদের কর্মের জবাবদিহির দায়িত্ব তোমার নয় এবং তোমার কোন কর্মের জবাবদিহির দায়িত্ব তাদের নয় যে, তুমি তাদেরকে বিতাড়িত করবে। করলে তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (আল-কুরআন, ০৬: ৫১-৫২)
ইবন জারীর অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।
ইবন জারীর অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وأنذر به الذين يخالفون أن يحشروا إلى ربهم - إلى قوله - والله أعلم بالظالمين
عن ابن مسعود قال مر الملأ من قريش على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعنده خباب (2) وصهيب وبلال وعمار فقالوا يا محمد ارضيت بهؤلاء (3) فنزل فيهم القرآن (وأنذر به (4) الذين يخافون أن يحشروا إلى ربهم - إلى قوله - فتكون من الظالمين)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "বল, তোমাদের উর্ধ্বদেশ অথবা পাদদেশ হতে শান্তি প্রেরণ করতে... তিনিই সক্ষম।১
১. আল-কুরআন, ০৬:৬৫।
১. আল-কুরআন, ০৬:৬৫।
২৭১। সাদ ইব্ন আবু ওয়াক্কাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল," বল, তোমাদের উর্ধ্বদেশ অথবা পাদদেশ হতে শান্তি প্রেরণ করতে.... তিনিই সক্ষম।" তখন তিনি বলেন, জেনে রেখ, এটা অবশ্যই ঘটবে আর এর ব্যাখ্যা এখনও আসেনি।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قل هو القادر على أن يبعث عليكم عذابا من فوقكم أو من تحت أرجلكم الآية
عن سعد بن أبي وقاص قال سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن هذه الآية (هو القادر (2) على أن يبعث عليكم عذابا من فوقكم أو من تحت أرجلكم) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم (3) أما إنها كائنة ولم يأت على تأويلها بعد
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "বল, তোমাদের উর্ধ্বদেশ অথবা পাদদেশ হতে শান্তি প্রেরণ করতে... তিনিই সক্ষম।
২৭২। 'আমর (র) হতে বর্ণিত, তিনি জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) এর নিকট থেকে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, আয়াত ‘‘যখন তোমাদের উর্ধ্বদেশ হতে শান্তি প্রেরণ করতে তিনিই সক্ষম’’ নাজিল হয়, তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অতঃপর যখন নাজিল হল, অথবা পাদদেশ হতে’’ তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অতঃপর যখন নাজিল হল, অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে অথবা এক দলকে অপর দলের সংঘর্ষের আস্বাদন গ্রহণ করাতে," তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এটা তুলনামূলক লঘু ও সহজ।
(বুখারী তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন হাব্বান অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(বুখারী তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন হাব্বান অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قل هو القادر على أن يبعث عليكم عذابا من فوقكم أو من تحت أرجلكم الآية
عن عمرو سمع جابر بن عبد الله لما نزلت (هو القادر على أن يبعث عليكم عذابا من فوقكم) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أعوذ بوجهك فلما نزلت (أو من تحت أرجلكم) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أعوذ بوجهك فلما نزلت (أو يلبسكم شيعا ويذيق بعضكم بأس بعض) قال هذه (1) أهون وأيسر
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "বল, তোমাদের উর্ধ্বদেশ অথবা পাদদেশ হতে শান্তি প্রেরণ করতে... তিনিই সক্ষম।
২৭৩। উবাঈ ইব্ন কা'ব (রা) হতে বর্ণিত তিনি মহান আল্লাহর বাণী; তোমাদের উর্ধ্বদেশ অথবা পাদদেশ হতে শাস্তি প্রেরণ করতে... তিনি সক্ষম"-এ আয়াতের ব্যাপারে বলেন, এখানে চারটি বিষয়ে বর্ণনা দেয়া হয়েছে, এ চারটিই আযাব এবং এগুলোই সবই নিশ্চিত ঘটবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাতের পঁচিশ বছর পর শেষ দুটো বিষয় সংঘটিত হয়েছে। ফলে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে এবং এক দল অপর দলের সংঘর্ষের স্বাদ আস্বাদন করেছে। আর প্রথম দু'টো সংঘটিত হবেই এতে কোন সন্দেহ নাই। আর তা'হল ভূ-কম্পন ও পাথরবৃষ্টি।
অন্য এক বর্ণনামতে, ভূমি ধ্বস ও পাথর বৃষ্টি।
অন্য এক বর্ণনামতে, ভূমি ধ্বস ও পাথর বৃষ্টি।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قل هو القادر على أن يبعث عليكم عذابا من فوقكم أو من تحت أرجلكم الآية
عن ابي بن كعب في قوله تعالى (هو القادر على أن يبعث عليكم عذابا من فوقكم) الآية قال هن أربع وكلهن عذاب وكلهن واقع لا محالة فمضت اثنتان بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم بخمس وعشرين سنة فألبسوا شيعا وذاق بعضهم بأس بعض (3) وثنتان واقعتان لا محالة الخسف والرجم (1) (وفي رواية الخسف) والقذف
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করে নাই...।"(১)
১. আল-কুরআন, ০৬:৮২।
১. আল-কুরআন, ০৬:৮২।
২৭৪। "আব্দুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাজিল হয় 'যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করে নাই...." তখন তা মানুষদের নিকট কষ্ট কর মনে হল; তখন তারা বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মধ্যে কে নিজের ওপর যুলুম করে না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা যেমন বুঝেছো বিষয়টি তেমন নয়। তোমরা শোননি আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দা (লুকমান) কি বলেছেন, "হে বৎস। আল্লাহর সাথে কোন শরীক কর না, নিশ্চয় শিরক চরম যুলম’’(১) তাই যুলম বলতে শিরককে বুঝানো হয়েছে। অপর এক বর্ণনামতে, তোমরা কি শোননি লুকমান (আ) তাঁর পুত্রকে লক্ষ্য করে কি বলেছিলেন, (তিনি বলেছিলেন,) "আল্লাহর সাথে কোন শরীক কর না। নিশ্চয় শিরক চরম যুলুম।”
(বুখারী, মুসলিম, তিরিমিযী)
টিকা: আল কুরআন, ৩১: ১৩
(বুখারী, মুসলিম, তিরিমিযী)
টিকা: আল কুরআন, ৩১: ১৩
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب الذين آمنوا ولم يلبسوا ايمانهم بظلم
عن عبد الله قال لما نزلت هذه الآية (الذين آمنوا ولم يلبسوا ايمانهم بظلم) (3) شق ذلك على الناس وقالوا يا رسول الله فأينا لا يظلم نفسه؟ قال انه ليس الذي تعنون (4) الم تسمعوا ما قال العبد الصالح (5) (يا بني لا تشرك بالله ان الشرك لظلم عظيم) انما هو الشرك (وفي لفظ) الم تسمعوا ما قال لقمان لابنه (لا تشرك بالله ان الشرك لظلم عظيم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "উত্তম ব্যবস্থা ব্যতীত তোমরা ইয়াতিমের সম্পত্তির নিকটবর্তী হবে না।"(২)
টিকা: আল কুরআন, ০৬: ১৫২
টিকা: আল কুরআন, ০৬: ১৫২
২৭৫। 'আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নাজিল হল, "উত্তম ব্যবস্থা ব্যতীত তোমরা ইয়াতিমের সম্পত্তির নিকটবর্তী হবে না" তখন সাহাবীরা ইয়াতিমদের সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করা ছেড়ে দিল, ফলে খাদ্য বিনষ্ট হচ্ছিল এবং গোশত পঁচে যাচ্ছিল, এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্মরণে আনা হলে নাজিল হল "... তোমরা যদি তাদের সাথে একত্র থাক তবে তারা তো তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ জানেন কে হিতকারী এবং কে অনিষ্টকারী। (আল-কুরআন, ০২: ২২০)
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তারা তাদেরকে নিজেদের সাথে মিলিয়ে নিল।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ)
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তারা তাদেরকে নিজেদের সাথে মিলিয়ে নিল।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ولا تقربوا مال اليتيم إلا بالتي هي أحسن
عن ابن عباس قال لما نزلت (ولا تقربوا مال اليتيم الا بالتي هي أحسن) عزلوا أموال اليتامى حتى جعل الطعام يفسد واللحم ينتن فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فنزلت (وان تخالطوهم فاخوانكم والله يعمل المفسد من المصلح) قال فخالطوهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "এবং এ পথই আমার সরল পথ...।(৩)
৩. আল-কুরআন, ০৬: ১৫৩।
৩. আল-কুরআন, ০৬: ১৫৩।
২৭৬। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে একটি সরল রেখা টানলেন অতঃপর বললেন, এটা আল্লাহর পথ। তারপর তিনি তার ডানে ও বামে কয়েকটি রেখা টানলেন। অতঃপর বললেন, এগুলো হচ্ছে বিভিন্ন পথ। এর প্রতিটি পথে একটি করে শয়তান বসে থাকে এবং সে পথিককে তার দিকে ডাকে। তারপর তিনি প্রায় তিলাওয়াত করলেন, "এবং এ পথই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করবে এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করবে না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর গথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে।" (আল-কুরআন, ০৬। ১৫৩)
(মুস্তাদরাক, নাসাঈ)
(মুস্তাদরাক, নাসাঈ)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وأن هذا صراطي مستقيما الخ
عن عبد الله بن مسعود قال خط لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم خطا ثم قال هذا سبيل الله ثم خط خطوطا عن يمينه وعن شماله ثم قال هذه سبل متفرقة على كل سبيل منها شيطان يدعو اليه ثم قرأ (وان هذا صراطي مستقيما (2) فاتبعوه ولا تتبعوا السبل فتفرق بكم عن سبيله
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তারা শুধু এরই না প্রতীক্ষা করে যে, তাদের নিকট ফিরিশতা আসবে কিংবা তোমার প্রতিপালক আসবেন.....।(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন: ০৬: ১৫৮।
টিকা: ১. আল-কুরআন: ০৬: ১৫৮।
২৭৭। আবু যর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সূর্য আরশের নীচে অস্ত যায়, অতঃপর তাকে অনুমতি দিলে সে তার উদয়ের স্থানে ফিরে আসে। কিয়ামতের রাত যে রাতের শেষভাগে সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হবে সে দিন (পূর্ণ দিন) শেষে সে আরশের নীচে অস্ত যাওয়ার পর তাকে উদয়ের স্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে না। এভাবে সকাল হয়ে গেলে তাকে বলা হবে তুমি যেখানে আছো সেখান থেকেই উদিত হও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠ করলেন, "তারা শুধু এরই না প্রতীক্ষা করে যে, তাদের নিকট ফিরিস্তা আসবে কিংবা তোমার প্রতিপালক আসবেন, কিংবা তোমার প্রতিপালকের কোন নিদর্শন আসবে?
(বুখারী মুসলিম, ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(বুখারী মুসলিম, ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب هل ينظرون إلا أن تأتيهم الملائكة أو يأتي ربك الآية
عن أبي ذر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال تغيب الشمس تحت العرش (2) فيؤذن لها فترجع فإذا كانت تلك الليلة التي تطلع صبيحتها من المغرب لم يؤذن لها (3) فإذا أصبحت قيل لها اطلعي من مكانك (4) ثم قرأ (هل ينظرون الا أن تأتيهم الملائكة (5) أو يأتي ربك أو يأتي بعض آيات ربك)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তারা শুধু এরই না প্রতীক্ষা করে যে, তাদের নিকট ফিরিশতা আসবে কিংবা তোমার প্রতিপালক আসবেন.....।
২৭৮। আবু আঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, যেদিন তোমার প্রতিপালকের কোন নিদর্শন আসবে সেদিন তার ঈমান কাজে আসবে না"(২) সে দিন হল ঐ দিন যেদিন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয় হবে।
(তিরমিযী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৬:১৫৮।
(তিরমিযী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০৬:১৫৮।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب هل ينظرون إلا أن تأتيهم الملائكة أو يأتي ربك الآية
عن أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم (يوم يأتي بعض آيات ربك (7) لا ينفع نفسا إيمانها) قال طلوع الشمس من مغربها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা আরাফ
পরিচ্ছেদ: "আমি তাদের অন্তর হতে ঈর্ষা দূর করব"।(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৭:৪৩।
পরিচ্ছেদ: "আমি তাদের অন্তর হতে ঈর্ষা দূর করব"।(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৭:৪৩।
২৭৯। 'আফফান (র) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইব্বন যুরায় (র) আমাদের নিকট সা'ঈদ ইব্ন আবূ 'আরুবাতা (র) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যে, তিনি আয়াত "আর আমি তাদের অন্তর হতে ঈর্ষা দূর করব", প্রসঙ্গে বলেন, কাতাদা (র) আমাদের নিকট। আবূ মুতাওয়াক্কিল নাজী (র) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন, আবু সাঈদ খুদরী (রা) তাদের নিকট বর্ণনা করেন, যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন এক পর্যায়ে কতিপয় মু'মিন জাহান্নাম হতে মুক্তি পাবে। অতঃপর তারা জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি সেতুতে আরোহণ করবে, তথায় তাদের হিসাব নিকাশ মোতাবেক একে অপরের নিকট প্রাপ্য শাস্তি ভোগ করবে যে শাস্তি দুনিয়াতে তাদের একে অপরের তরফ হতে প্রাপ্য ছিল। অবশেষে যখন তারা পরিচ্ছন্ন ও মুক্ত হবে। তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, তাদের প্রত্যেকে তার দুনিয়ার বাড়ি যেভাবে চেনে, জান্নাতের বাড়ি তদপেক্ষা বেশি চিনবে। কাতাদা (র) এ মতের প্রবক্তা। আবার কারও কারও মতে, তাদের সাদৃশ্য হবে জুম'আর সালাতে অংশ গ্রহণকারী মুসল্লীদের মত, যেন তারা তাদের সালাত আদায় শেষে স্ব স্ব নিবাসে ফিরে এসেছে।
(বুখারী)
(বুখারী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
سورة الأعراف
باب ونزعنا ما في صدورهم من غل
باب ونزعنا ما في صدورهم من غل
حدثنا عفان حدثنا يزيد بن زريع ثنا سعيد بن أبي عروبة في هذه الآية (ونزعنا ما في صدورهم من غل) (2) قال حدثنا قتادة أن أبا المتوكل الباجي حدثهم أن أبا سعيد الخدري حدثهم قال قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم يخلص المؤمنون من النار (3) فيحسبون على قنطرة بين الجنة والنار فيقتص لبعضهم من بعض مظالم كانت بينهم في الدنيا (4) حتى إذا هذبوا ونقوا (5) أذن لهم في دخول الجنة قال فوالذي نفسي بيده لأحدهم أهدى لمنزله في الجنة منه لمنزله كان في الدنيا (6) قال قتادة وقال بعضهم ما يشبه لهم إلا أهل جمعة حين انصرفوا من جمعتهم
তাহকীক: