মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩০৩ টি
হাদীস নং: ২০০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যখন ইবরাহীম বলল,হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর, আমাকে দেখাও (১)
১. আল কুরআন, ২: ২৬০।
১. আল কুরআন, ২: ২৬০।
২০০। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ইবরাহীম (আ) এর তুলনায় আমাদেরই অধিক সন্দেহকারী হওয়ার কথা'(২) যখন তিনি বললেন, "হে আমার প্রতিপালক। কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর আমাকে দেখাও, তিনি বললেন, তবে কি তুমি বিশ্বাস করো না? সে বলল, কেন করব না, তবে তা কেবল আমার চিত্ত প্রশান্তির জন্য।" রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেন, মহান আল্লাহ লুত (আ) এর প্রতি রহম করুন। তিনি তো সুদৃঢ় স্তম্ভেরই আশ্রয় গ্রহণ করতেন। ইউসুফ (আ) যতদিন কারাগারে ছিলেন আমি ততদিন থাকলে হয়তো আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিয়ে ফেলতাম।
(বুখারী, মুসলিম, ইবন মাজাহ ও অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ২. এটা বিনয় প্রকাশার্থে। রাসুলুল্লাহ (সা) ইবরাহীম, লুত ও ইউসুফ (আ)-কে নিজের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। প্রকৃত অবস্থা তা নয়, কারণ তিনি (সা) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী।
(বুখারী, মুসলিম, ইবন মাজাহ ও অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ২. এটা বিনয় প্রকাশার্থে। রাসুলুল্লাহ (সা) ইবরাহীম, লুত ও ইউসুফ (আ)-কে নিজের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। প্রকৃত অবস্থা তা নয়, কারণ তিনি (সা) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب واذ قال ابراهيم رب ارني كيف تحيي الموتى
عن أبي ابراهيم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال نحن أحق بالشك من إبراهيم عليه السلام (4) إذ قال (رب ارني كيف تحيي الموتى قال أو لم تؤمن؟ (5) قال بلى ولكن ليطمئن قلبي) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يرحم الله لوطا لقد كان يأوى إلى ركن شديد (6) ولو لبثت في السجن ما لبث يوسف لأجبت الداعي
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সমস্ত আল্লাহরই। তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ...।"(৩)
৩. আল-কুরআন, ২। ২৮৪।
৩. আল-কুরআন, ২। ২৮৪।
২০১। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর নাজিল হল, "আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সমস্ত আল্লাহরই। তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ, আল্লাহ তার হিসাব তোমাদের নিকট থেকে গ্রহণ করবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন আর যাকে খুশী শাস্তি দিবেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।" তখন বিষয়টি সাহাবীদের কাছে কঠিন মনে হল। তাই তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত, সাওম, জিহাদ ও সাদাকা এ জাতীয় কাজগুলো আমাদের সাধ্যমত আমরা পালন করে যাচ্ছি, আর এক্ষেত্রে আল্লাহ এ আয়াতের মাধ্যমে যা নাজিল করলেন তা পালন করার ক্ষমতা আমাদের নেই।(১) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কি তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাব অর্থাৎ ইহুদী ও নাসারাদের মত বলবে আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম? বরং তোমরা বল, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার ক্ষমা চাই। আর প্রত্যাবর্তন তোমারই নিকট। অতঃপর সাহাবীরা যখন এ কথা স্বীকার করল এবং এটা যখন তারা মুখে উচ্চারণ করলো, তখন আল্লাহ নাজিল করলেন, 'রাসূল, তার প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছে এবং মুমিনগণও। তাদের সকলে আল্লাহে, তার ফিরিস্তাগনে, তাঁর কিতাব সমূহে এবং তাঁর রাসূলুগণে ঈমান আনয়ন করেছে, তারা বলে, আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না।" (আল কুরআন, ২: ২৮৫)
হাদীসের সনদে বর্ণনাকারী আফফান (র) বলেন, সালাম আবু মুনজির لاَنُفَرِّقُ এর পরিবর্তে لاَيُفَرِّقُ পড়েছেন। "আর তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং পালন করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার ক্ষমা চাই, আর প্রত্যাবর্তন তোমারই নিকট।" (আল কুরআন, ২: ২৮৫)
অতঃপর তারা যখন এ কথাকে মনে প্রাণে স্বীকার করল তখন মহান আল্লাহ তাদের কষ্ট লাঘব করে দিয়ে বলেন, "আল্লাহ কারও ওপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই।" (আল কুরআন, ২: ২৬)
হাদীসের সনদের বর্ণনাকারী আলা (র) ব্যাখ্যা করেছেন, সে যা ভাল উপার্জন করবে সব তার এবং সে যা মন্দ উপার্জন করবে তাও তার। "হে আমাদের প্রতিপালক, যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও করো না," (আল কুরআন, ২: ২৮৬)
আল্লাহ তা'আলা বলেন, হ্যাঁ, তাই হবে। "হে আমাদের প্রতিপালক। আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পন কর না।"(২)
আল্লাহ তা'আলা বললেন, হ্যাঁ, তাই হবে। "হে আমাদের প্রতিপালক। এমন ভার আমাদের উপর অর্পন কর না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। (আল কুরআন, ২: ২৮৬)
আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, তাই হবে। আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের জয়যুক্ত কর।'
(আল কুরআন ২: ২৮৬, মুসলিম)
টিকা: ১. আমাদের মনের মধ্যে আমরা যা কল্পনা করে থাকি অথবা যা চিন্তা করে থাকি তার হিসাব যদি আল্লাহ নেন, তাহলে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে যাব- এ আশংকায় সাহাবীরা ভীত হয়ে পড়েছিলেন।
হাদীসের সনদে বর্ণনাকারী আফফান (র) বলেন, সালাম আবু মুনজির لاَنُفَرِّقُ এর পরিবর্তে لاَيُفَرِّقُ পড়েছেন। "আর তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং পালন করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার ক্ষমা চাই, আর প্রত্যাবর্তন তোমারই নিকট।" (আল কুরআন, ২: ২৮৫)
অতঃপর তারা যখন এ কথাকে মনে প্রাণে স্বীকার করল তখন মহান আল্লাহ তাদের কষ্ট লাঘব করে দিয়ে বলেন, "আল্লাহ কারও ওপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই।" (আল কুরআন, ২: ২৬)
হাদীসের সনদের বর্ণনাকারী আলা (র) ব্যাখ্যা করেছেন, সে যা ভাল উপার্জন করবে সব তার এবং সে যা মন্দ উপার্জন করবে তাও তার। "হে আমাদের প্রতিপালক, যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও করো না," (আল কুরআন, ২: ২৮৬)
আল্লাহ তা'আলা বলেন, হ্যাঁ, তাই হবে। "হে আমাদের প্রতিপালক। আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পন কর না।"(২)
আল্লাহ তা'আলা বললেন, হ্যাঁ, তাই হবে। "হে আমাদের প্রতিপালক। এমন ভার আমাদের উপর অর্পন কর না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। (আল কুরআন, ২: ২৮৬)
আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, তাই হবে। আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের জয়যুক্ত কর।'
(আল কুরআন ২: ২৮৬, মুসলিম)
টিকা: ১. আমাদের মনের মধ্যে আমরা যা কল্পনা করে থাকি অথবা যা চিন্তা করে থাকি তার হিসাব যদি আল্লাহ নেন, তাহলে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে যাব- এ আশংকায় সাহাবীরা ভীত হয়ে পড়েছিলেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب لله ما في السموات وما في الأرض وان تبدو مافي أنفسكم أو تخفوه الخ
عن أبي هريرة قال لما أنزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم (لله ما في السموات وما في الأرض (3) وان تبدوا ما في أنفسكم (4) أو تخفوه يحاسبكم به الله فيغفر لمن يشاء ويعذب من يشاء (5) والله على كل شيء قدير) فاشتد ذلك على صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم (6) فأتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم جثوا على الركب فقالوا يا رسول الله كلفنا من الأعمال ما نطيق من الصلاة والصيام والجهاد والصدقة وقد أنزل الله عليك هذه الآية ولا نطيقها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أتريدون أن تقولوا كما قال أهل الكتابين من قبلكم (7) سمعنا وعصينا بل قولوا سمعنا واطعنا غفرانك ربنا واليك المصير فقالوا سمعنا وأطعنا غفرانك ربنا واليك المصير فلما أقر بها القوم وذلت لها السنتهم أنزل الله عز وجل في اثرها (آمن الرسول (8) بما أنزل اليه من ربه والمؤمنون كل آمن بالله وملائكته وكتبه ورسله لا نفرق (9) بين أحد من رسله) قال عفان (10) قرأها سلام أبو المنذر يفرق (11) (وقالوا سمعنا وأطعنا غفرانك ربنا وإليك المصير) فلما فعلوا ذلك نسخها (1) الله تبارك وتعالى بقوله (لا يكلف الله نفسا إلا وسعها (2) لها ما كسبت وعليها وما اكتسبت) فصار له ما كسبت من خير وعليه ما اكتسبت من شر فسر العلاء هذا (3) (ربنا لا تؤاخذنا (4) ان نسينا أو أخطأنا) قال نعم (ربنا ولا تحمل علينا اصرا (5) كما حملته على الذين من قبلنا (6) قال نعم (ربنا ولا تحملنا مالا طاقة لنا به (7) قال نعم (واعف عنا واغفر لنا وارحمنا أنت مولانا فانصرنا على القوم الكافرين (8)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সমস্ত আল্লাহরই। তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ
২০২। 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াতটি নাজিল হল, "তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ, আল্লাহ তার হিসাব তোমাদের নিকট হতে গ্রহণ করবেন।” তখন সাহাবীদের অন্তরে এর কিছু অংশের ব্যাপারে চিন্তা দেখা দিল এবং কিছু অংশের ব্যাপারে তা দেখা দিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা বল, আমরা শুনলাম ও মানলাম। তখন তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান সঞ্চার করালেন, অতঃপর আল্লাহ নাজিল করলেন, "রাসূল, তার প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছে এবং মুমিনগণ ও।...." এভাবে হাদীসে সূরা বাকারার শেষ আয়াত পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। আবু 'আব্দুর রহমান (অর্থাৎ 'আব্দুল্লাহ ইবন ইমান আহমাদ (র) বলেন, হাদীসের সনদে আদম বলতে আবূ ইয়াইয়া ইব্ন আদমকে বুঝানো হয়েছে। (মুসলিম)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب لله ما في السموات وما في الأرض وان تبدو مافي أنفسكم أو تخفوه الخ
عن ابن عباس قال لما نزلت هذه الآية (وإن تبدوا ما في أنفسكم أو تخفوه يحاسبكم به الله) قال دخل قلوبهم منها شيء (2) لم يدخل قلوبهم من شيء فقال النبي صلى الله عليه وسلم قولوا سمعنا وأطعنا وسلمنا فألقى الله الايمان في قلوبهم فأنزل الله عز وجل (آمن الرسول بما أنزل اليه من ربه والمؤمنون) (فذكر في الحديث الآيات إلى آخر السورة) (3) قال أبو عبد الرحمن (يعني عبد الله بن الامام احمد) آدم هذا (4) هو أبو يحيى بن آدم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সমস্ত আল্লাহরই। তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ
২০৩। মুজাহিদ (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি "আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) এর নিকট গিয়ে তাকে বললাম, হে আবু 'আব্বাস! আমি আব্দুল্লাহ ইবন 'উমর (রা)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি এ আয়াত খানা তিলাওয়াত করে কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন, কোন আয়াত? আমি বললাম, "তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ, আল্লাহ তার হিসাব তোমাদের নিকট থেকে গ্রহণ করবেন।" 'আব্দুল্লাহ ইব্ন 'আব্বাস (রা) বললেন, এ আয়াত যখন নাজিল হয় তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীরা খুবই চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং ভীত হয়ে পড়েছিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আমরা যে সব কথা বলি আর যে সমস্ত কাজ করি সে সকল ব্যাপারে হিসাবের সম্মুখীন হলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। কারণ আমাদের অন্তর তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন, তোমরা বল, আমরা শুনলাম এবং মানলাম বর্ণনাকারী বলেন, ফলে পরবর্তী আয়াত দ্বারা এটা রহিত করে দেওয়া হল। নাযিল করা হল, রাসূল (ﷺ) তার প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছে এবং মু'মিনগণ ও... আল্লাহ কারও উপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পন করেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই এবং সে মন্দ যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই।" (আল-কুরআন, ০২: ২৮৫-২৮৬)
তাই তাদের মনের ধারণা-কল্পনার ব্যাপারে তাদেরকে ছাড় দেয়া হল এবং তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে জবাবদিহীতা বজায় রাখা হল।
তাই তাদের মনের ধারণা-কল্পনার ব্যাপারে তাদেরকে ছাড় দেয়া হল এবং তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে জবাবদিহীতা বজায় রাখা হল।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب لله ما في السموات وما في الأرض وان تبدو مافي أنفسكم أو تخفوه الخ
عن مجاهد قال دخلت على ابن عباس رضي الله عنهما فقلت يا أبا عباس كنت عند ابن عمر رضي الله عنهما فقرأ هذه الآية فبكى قال أية آية؟ قلت (ان تبدوا ما في أنفسكم أو تخفوه يحاسبكم به الله) قال ابن عباس ان هذه الآية حين أنزلت غمت اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم غما شديدا وغاظتهم غيظا شديدا يعني وقالوا يا رسول الله هلكنا ان كنا نؤاخذ مما تكلمنا وبما نفعل فأما قلوبنا فليست بأيدينا فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم قولوا سمعنا واطعنا قال فنسختها (6) هذه الآية (آمن رسول بما أنزل اليه من ربه والمؤمنون الى لا يكلف الله نفسا إلا وسعها لها ما كسبت وعليها ما اكتسبت) فتجوز لهم عن حديث النفس (7) وأخذوا بالأعمال
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সমস্ত আল্লাহরই। তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ
২০৪। 'আলী ইবন যায়দ (র) হতে তিনি উমাইয়া (র) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি আয়েশা (রা)-কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ, আল্লাহ তার হিসাব তোমাদের নিকট হতে গ্রহণ করবেন।"(১) এবং এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, "কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে পাবে এবং আল্লাহ ব্যতীত তার জন্য সে কোন অভিভাবক ও সহায় পাবে না।(২) তখন আয়েশা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ আয়াত দুটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর এ পর্যন্ত আমাকে এ সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞাসা করেনি। তিনি বলেছেন, হে আয়েশা! এটা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য ভৎসনা, যেমন সে জ্বরসহ নানাবিধ রোগ-ব্যাধি, দুর্যোগে আক্রান্ত হয়, এমনকি সে যে তার জামার হাতার ভেতর টাকা-পয়সা রাখার পর তা খুঁজে না পেয়ে হয়রান পেরেশান হয়ে যায়, তারপর-সে তা তার হাতের কাছে পেয়ে যায়, এ সকল দ্বারা বান্দা তার অপরাধ থেকে মুক্তি পায় যেমনিভাবে কামারের চুল্লি থেকে সোনা খাঁটি হয়ে বেরিয়ে আসে।
(তিরমিযী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ২। ২৮৪
২. আল-কুরআন, ৪: ১২৩
(তিরমিযী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ২। ২৮৪
২. আল-কুরআন, ৪: ১২৩
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب لله ما في السموات وما في الأرض وان تبدو مافي أنفسكم أو تخفوه الخ
عن علي بن زيد عن أمية أنها سألت عائشة رضي الله عنها عن هذه الآية (إن تبدوا ما في أنفسكم أو تخفوه يحاسبكم به الله) وعن هذه الآية (من يعمل سوءا (1) يجزيه) فقالت ما سألني عنهما أحد منذ سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عنهما فقال يا عائشة هذه (2) معاتبة الله عز وجل العبد بما يصيبه من الحمى (3) والنكبة والشوكة حتى البضاعة (4) يضعها في كمه فيفقدها (5) فيفزع لها فيجدها في ضبنه حتى أن المؤمن (6) ليخرج من ذنوبه (7) كما يخرج التبر الأحمر من الكير
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সুরা বাকারার শেষ আয়াতের ফযীলত।
২০৫। নু'মান ইব্ন বাশীর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মহান আল্লাহ আসমান ও জমীন সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লেখেন পরবর্তীতে যেখান থেকে দু'টো আয়াত অবতীর্ণ করেন যা দ্বারা সূরাতুল বাকারা সমাপ্ত করা হয়েছে। কোন বাড়ীতে তিন রাত যাবৎ এ আয়াত তিলাওয়াত অব্যাহত থাকলে তথায় শয়তান অবস্থান করতে পারে না।
(তিরমিযী, নাসাঈ, সুনানে দারেমী, সহীহ ইবন হাব্বান অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।
(তিরমিযী, নাসাঈ, সুনানে দারেমী, সহীহ ইবন হাব্বান অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضل خواتم البقرة
عن النعمان بن بشير أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الله كتب كتابا (9) قبل أن يخلق السموات والأرض بألفي عام (10) فأنزل منه آيتين فختم بهما سورة البقرة ولا يقرآن (1) في دار ثلاث ليال فيقربها (2) الشيطان
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সুরা বাকারার শেষ আয়াতের ফযীলত।
২০৬। আবূ মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (রা) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন রাতে সূরাতুল বাকারার শেষ দু'আয়াত তিলাওয়াত করবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।(১)
টিকা:
১. বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ্।
টিকা:
১. বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ্।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضل خواتم البقرة
عن أبي مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من قرأ الآيتين من آخر سورة البقرة في ليلة كفتاه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সুরা বাকারার শেষ আয়াতের ফযীলত।
২০৭। 'উকবা ইবন আমির (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরের উপর আরোহণ করে বললেন, তোমরা সূরাতুল বাকারার শেষোক্ত আয়াতদ্বয় তিলাওয়াত কর, কেননা আমার প্রভু এ দুটো আয়াত দান করেছেন মতান্তরে আমাকে এ দুটো দান করেছেন আরশের পাদদেশ থেকে।
(উক্ত 'উকবা ইবন 'আমির (রা) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা সূরাতুল বাকারার শেষোক্ত আয়াতদ্বয় তিলাওয়াত কর, কেননা এ দুটো আমি আরশের পাদদেশ থেকে প্রাপ্ত হয়েছি।
(মুসনাদে আহমাদ, মুসন্নাফে আবূ ইয়ালা ও তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(উক্ত 'উকবা ইবন 'আমির (রা) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা সূরাতুল বাকারার শেষোক্ত আয়াতদ্বয় তিলাওয়াত কর, কেননা এ দুটো আমি আরশের পাদদেশ থেকে প্রাপ্ত হয়েছি।
(মুসনাদে আহমাদ, মুসন্নাফে আবূ ইয়ালা ও তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضل خواتم البقرة
عن عقبة بن عامر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول على المنبر اقرءوا هاتين الآيتين اللتين من آخر سورة البقرة (6) فإن ربي عز وجل أعطاهن أو أعطانيهن من تحت العرش (وعنه من طريق ثان) (7) قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم اقرأ الآيتين من آخر سورة البقرة فإني أعطيتهما من تحت العرش
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সুরা বাকারার শেষ আয়াতের ফযীলত।
২০৮। আবূ যার (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আরশের পাদদেশে অবস্থিত একটি গুপ্তঘর থেকে আমি সূরাতুল বাকারার শেষোক্ত আয়াত প্রাপ্ত হয়েছি, আমার পূর্ববর্তী কোন নবীকে যা কখনও দান করা হয়নি। (মুসনাদে আহমদ)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضل خواتم البقرة
عن أبي ذر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أعطيت خواتيم سورة البقرة من بيت كنز من تحت العرش (9) لم يعطهن نبي قبلي
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। সূরা আলে ইমরান এর তাফসীর ও মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম নামের বিবরণ।
২০৯। আসমা বিনতে ইয়াজীদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক"(১) ও "আলিফ-লাম- মীম, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক”(২)-এ আয়াত দু'খানায় মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নাম রয়েছে।
টিকা:
১. আল-কুরআন, ২। ২৫৫।
২. আল-কুরআন, ৩৪১-২।
টিকা:
১. আল-কুরআন, ২। ২৫৫।
২. আল-কুরআন, ৩৪১-২।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في تفسير سورة آل عمران وبيان اسم الله الأعظم
عن أسماء بنت يزيد (قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في هاتين الآيتين (الله لا إله إلا هو الحي القيوم، والم الله لا إله إلا هو الحي القيوم) ان فيها اسم الله الأعظم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বানী, "তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার কতক আয়াত মুহকাম.........।(৩)
টিকা: ৩. আল-কুরআন, ৩:৭।
টিকা: ৩. আল-কুরআন, ৩:৭।
২১০। 'আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আয়াতখানা তিলাওয়াত করলেন, 'তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার কতক আয়াত 'মুহকাম', (দ্ব্যর্থহীন) এ গুলি কিতাবের মূল; আর অন্যগুলি 'মুতাশাবিহ', যাদের অন্তরে সত্য-লংঘনের প্রবণতা রয়েছে শুধু তারাই ফিতনা এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহাতের (দ্ব্যর্থবোধক আয়াতের) অনুসরণ করে। আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তাই তোমরা মুতাশাবিহাতের অনুসরণ কারীদের দেখলে মনে করবে আল্লাহ এদের বলেছেন যে, 'যাদের অন্তরে সত্য-লংঘন প্রবণতা রয়েছে অথবা মনে করবে তারাই সত্য-লংঘণ প্রবণ ব্যক্তি। সুতরাং তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قوله عز وجل هو الذي أنزل عليك الكتاب منه آيات محكمات الخ
عن عائشة رضي الله عنها ان النبي صلى الله عليه وسلم تلا هذه الآية هو الذي أنزل عليك الكتاب منه آيات محكمات (3) هن أم الكتاب (4) وأخر متشابهات فأما الذين في قلوبهم زيغ (5) فيتبعون ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله وما يعلم تأويله إلا الله) (6) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا رأيتم الذين يتبعون ما تشابه منه فألئك الذي سمى الله (1) أو فهم فاحذروهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বানী, "তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার কতক আয়াত মুহকাম
২১১। আবু গালিব (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু উমামা (রা) কে (ﷺ) রাসূলুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, মহান আল্লাহর বাণী, "যাদের অন্তরে সত্য-লংঘনের প্রবণতা রয়েছে শুধু তারাই ফিতনা ও ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহাতের অনুসরণ করে” এ সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা হল খারিজীগণ এবং মহান আল্লাহর বাণী, "সেদিন কতক মুখ উজ্জল হবে এবং কতকমুখ কাল হবে’’(১) সম্পর্কে বলেন, তারা হল খারিজীগণ।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৩: ১০৬।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৩: ১০৬।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قوله عز وجل هو الذي أنزل عليك الكتاب منه آيات محكمات الخ
عن أبي غالب قال سمعت أبا أمامة يحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله عز وجل (فأما الذين في قلوبهم زيغ فيتبعون ما تشابه منه) قال هم الخوارج (3) وفي قوله (يوم تبيض وجوه وتسود وجوه) قال هم الخوارج
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই।(২)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ৩: ১৮।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ৩: ১৮।
২১২। যুবাইর ইবনুল আউওয়াম (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'আরাফার ময়দানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তিলাওয়াত করতে শুনেছি "আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, ফিরিশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও; আল্লাহর ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" অতঃপর তিনি বলেন, হে প্রভু। আমি এ ব্যাপারে অন্যতম সাক্ষী।
(তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب شهد الله انه لا إله إلا هو الخ
عن الزبير بن العوام قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بعرفة يقرأ هذه الآية (شهد الله أنه لا إله إلا هو (2) والملائكة وأولو العلم (3) قائما بالقسط لا إله إلا هو العزيز الحكيم) وأنا على ذلك من الشاهدين يا رب
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "আমি অভিশপ্ত শয়তান হতে তার ও তার বংশ ধরদের জন্য তোমার স্মরণ নিচ্ছি।"(৩)
টিকা: ৩. আল-কুরআন, ৩: ৩৬।
টিকা: ৩. আল-কুরআন, ৩: ৩৬।
২১৩। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে কোন শিশু সন্তান ভুমিষ্ঠ হলেই শয়তান তাকে খোঁচা মারে। শয়তানের খোঁচার ফলে সে চিৎকার করে ফেলে ওঠে। তবে 'ঈসা (আ) ও তার মা মরিয়াম (আ) ব্যতীত। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, তুমি চাইলে পাঠ করতে পারো "আমি অভিশপ্ত শয়তান হতে তার ও তার বংশধরদের জন্য তোমার স্মরণ নিচ্ছি।”
(বুখারী ও মুসলিম)
(বুখারী ও মুসলিম)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب إني أعيذها بك وذريتها من الشيطان الرجيم
عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من مولود يولد إلا نخسه الشيطان (5) فيستهل صارخا (6) من نسخة الشيطان إلا ابن مريم وأمه (7) قال أبو هريرة اقرءوا ان شئتم (8) (اني أعيذها بك (9) وذريتها من الشيطان الرجيم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ "যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে।(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৩: ৭৭
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৩: ৭৭
২১৪। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে কোন শপথ করে এবং তাতে সে মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয়, সে আল্লাহর সাথে এ অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার উপর ক্ষুদ্ধ। আশ'আছ ইব্ন কায়স (রা) বলেন, আল্লাহর কসম। ঘটনাটি আমারই ব্যাপারে। আমার ও জনৈক ইহুদীর মাঝে একটি জমির যৌথ মালিকানা ছিল। এক পর্যায়ে সে আমার মালিকানা অস্বীকার করে। আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পেশ করলে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি কোন প্রমাণ আছে? আমি বললাম, না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহুদীকে বললেন, তুমি শপথ কর। আমি তখন বললাম, ইয়া (ﷺ) রাসূলুল্লাহ! সে যদি শপথ করে তাহলে তো আমার সম্পত্তি চলে যাবে। তখন আল্লাহ তা'আলা নাজিল করলেন, "যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নাই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না, আর তাদেরকে পরিশুদ্ধ ও করবেন না; তাদের জন্য মমর্ন্তদ শাস্তি রয়েছে।”
(বুখারী ও মুসলিম)।
(বুখারী ও মুসলিম)।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا
عن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من حلف على يمين هو فيها فاجر (11) ليقتطع مال امرئ مسلم لقى الله عز وجل وهو عليه غضبان (1) فقال الأشعث بن قيس فيى (2) كان والله ذلك كان بيني وبين رجل من اليهود أرض فجحدني فقدمته إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله بينة؟ قلت لا فقال لليهودي احلف فقلت يا رسول الله إذا يحلف فيذهب بمالي فأنزل الله تعالى (إن الذين يشترون بعهد الله وأيمانهم ثمنا قليلا (3) إلى آخر الآية)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ "যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে।(১)
২১৫। শাকীক ইব্ন সালামা (র) হতে বর্ণিত, তিনি 'আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোন মুসলিম ব্যক্তির সম্পত্তি দখল করে, সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে যখন তিনি তার ওপর ক্ষুদ্ধ। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আশ'আছ ইব্ন কায়স (রা) এসে বললেন, তোমাদেরকে আবূ আব্দুর রহমান (অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) কি বলছিলেন? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাকে ঘটনাটি খুলে বললাম। তিনি (রা) বললেন, হাদীসটি আমারই প্রসঙ্গে। আমি আমার এক চাচাত ভাই সম্পর্কে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করেছিলাম, যার কাছে আমার একটি কুয়া ছিল। এক পর্যায়ে সে তা আমাকে ফেরৎ দিতে অস্বীকার করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কুয়াটি যে তোমার এ ব্যাপারে তোমার কোন প্রমাণ থাকলে উপস্থাপন কর নতুবা তাকে কসম করতে হবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট কোন প্রমাণ নাই, তবে আপনি তার নিকট কসম করার কথা বললে সে ঠিকই কসম করবে। ফলে আমার কুয়া তার হয়ে যাবে। আমার প্রতিপক্ষ একজন মিথ্যাচারী লোক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সম্পদ অবৈধভাবে দখল করে নেয়, সে আল্লাহর সাথে এভাবে সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার ওপর ক্ষুদ্ধ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিলাওয়াত করলেন, "যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নাই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধ ও করবেন না; তাদের জন্য মমর্ভুদ শাস্তি রয়েছে।" শাকীক ইবন সালামা থেকে অপর এক সূত্রে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (রা) বলেন, যে ব্যক্তি কোন হকদার ব্যক্তির সম্পদকে কসমের মাধ্যমে নিজের অধিকার ভুক্ত করে নেয়, অথচ সে যে ব্যাপারে পাপাচারী তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে এ অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার ওপর ক্ষুব্ধ থাকবেন। আর তার সত্যায়নকারী এর তসদীক রয়েছে। কুরআনের কথা ইরশাদ হয়েছে, "যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নাই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তদ শাস্তি রয়েছে।" বর্ণনাকারী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন এমন সময় আশআছ (রা) বেরিয়ে এসে বললেন, এ আয়াত আমার প্রসঙ্গেই নাজিল হয়েছে। এক ব্যক্তি আমার মালিকানাধীন একটি কুয়ার মালিকানা দাবী করলে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ ব্যাপারে নালিশ করলাম। তিনি বললেন, তুমি প্রমাণ উপস্থাপন কর নতুবা সে শপথ করবে। আমি বললাম, সে যদি শপথ করে তবে তা হবে মিথ্যা শপথ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি অপরের বৈধ অধিকারে থাকা কোন সম্পদের ব্যাপারের মিথ্যা শপথ করবে সে আল্লাহর সাথে সাক্ষৎ কালে তিনি তার ওপর ক্ষুদ্ধ থাকবেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজী ও ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজী ও ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا
عن شقيق بن سلمة عن عبد الله بن مسعود قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من اقتطع مال امرئ مسلم بغير حق لقى الله عز وجل وهو عليه غضبان قال فجاء الأشعث بن قيس فقال ما يحدثكم ابو عبد الرحمن؟ (5) قال فحدثناه قال فيى كان هذا الحديث (6) خاصمت ابن عم لي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في بئر كانت لي في يده فجحدني فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينتك أنها بئرك وإلا فيمينه قال قلت يا رسول الله مالي بيمينه (7) وان تجعلها بيمينه تذهب بئري ان خصمي امرؤ فاجر (8) قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم من اقتطع مال امرئ مسلم بغير حق لقي الله عز وجل وهو عليه غضبان قال وقرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم (إن الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا الآية) (9) (وعنه من طريق ثان) (10) عن عبد الله ابن مسعود قال من حلف على يمين صبر (11) يستحق بها مالا وهو فيها فاجر (12) لقى الله وهو عليه غضبان وإن تصديقها لقى القرآن (ان الذين يشترون بعهد الله وأيمانهم ثمنا قليلا) الخ الآية فخرج الأشعث وهو يقرؤها قال فيى أنزلت هذه الآية إن رجلا ادعى ركيا (13) لي فاختصمنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال شاهداك أو يمينه فقلت أما انه ان حلف حلف فاجرا (14) فقال النبي صلى الله عليه وسلم من حلف على يمين صبر يستحق بها مالا (15) لقى الله وهو عليه غضبان
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "আল্লাহ কিরূপে সৎপথে পরিচালিত করবেন সে সম্প্রদায়কে যারা ঈমান আনায়নের পর কুফরী করে?’’ (১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৩:৮৬।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৩:৮৬।
২১৬। 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক আনসার(২) মুরতাদ হয়ে গেল এবং মুশরিকদের দলে যোগ দিল, তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেন, "আল্লাহ কিরূপে সৎপথে পরিচালিত করবেন সে সম্প্রদায়কে যারা ঈমান আনয়নের পর ও রাসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্যদান করার পর এবং তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর কুফরী করে? আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।(৩) তখন সম্প্রদায়ের লোকেরা তাকে আল্লাহর অবতীর্ণ এ আয়াতের তথ্য জানালো। ফলে, সে তাওবা করে ইসলামে ফিরে আসল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার থেকে সেটা গ্রহন করলেন এবং তাকে ছেড়ে দিলেন।(৪)
টিকাঃ
২. তিনি হারিছ ইব্ন সুওয়াদ (রা)।
৩. আল-কুরআন, ৩: ৮৬।
৪. তাবারী, নাসাঈ, হাকিম।
টিকাঃ
২. তিনি হারিছ ইব্ন সুওয়াদ (রা)।
৩. আল-কুরআন, ৩: ৮৬।
৪. তাবারী, নাসাঈ, হাকিম।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب كيف يهدي الله قوما كفروا بعد ايمانهم
عن ابن عباس أن رجلا (2) من الأنصار ارتد عن الاسلام ولحق بالمشركين فأنزل الله تعالى (كيف يهدي الله قوما كفروا بعد إيمانهم (3) إلى آخر الآية) فبعث بها قومه (4) فرجع تائبا فقبل النبي صلى الله عليه وسلم ذلك منه وخلى عنه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : 'যারা কুফরী করে এবং কাফিররূপে যাদের মৃত্যু ঘটে তাদের কারও নিকট হতে পৃথিবীপূর্ণ স্বর্ণ বিনিময়-স্বরূপ প্রদান করলেও তা কখনও কবুল করা হবে না। (১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৩: ৯১।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৩: ৯১।
২১৭। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন কাফিরকে জবাবদিহির সম্মুখীন করা হবে, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে- তোমাকে যদি পৃথিবী ভর্তি স্বর্ণ দেয়া হয় এবং তোমাকে তা দান করতে বলা হয় তাহলে তুমি কি তা করতে? সে বলবে, হ্যাঁ, হে প্রভু। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তাকে বলা হবে তোমার কাছে এর তুলনায় তুচ্ছ জিনিস চাওয়া হয়েছিল (অথচ তুমি তা দান করনি)। এ ব্যাপারেই মহান আল্লাহ বলেন, "যারা কুফরী করে এবং কাফিররূপে যাদের মৃত্যু ঘটে তাদের কারও নিকট হতে পৃথিবীপূর্ণ স্বর্ণ বিনিময় স্বরূপ প্রদান করলেও তা কখনও কবুল করা হবে না।"
(বুখারী ও মুসলিম)
(বুখারী ও মুসলিম)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب إن الذين كفروا وماتوا وهم كفار فلن يقبل من أحدهم ملء الأرض ذهبا
عن أنس بن مالك أن نبي الله صلى الله عليه وسلم قال يجاء بالكافر يوم القيامة فيقال له أرأيت لو كان لك ملء الأرض ذهبا اكنت مفتديا به؟ فيقول نعم يا رب قال فيقال لقد سئلت أيسر من ذلك (6) فذلك قوله عز وجل (إن الذين كفروا وماتوا كفار فلن يقبل من أحدهم ملء الأرض (7) ذهبا ولو افتدى به)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমরা যা ভালবাসো তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করবে না'।'(২)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ৩: ৯২।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ৩: ৯২।
২১৮। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নাজিল হল, "তোমরা যা ভালবাসো তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনও পূর্ণ্য লাভ করবে না" এবং "কে সে, যে আল্লাহকে করজে হাসানা প্রদান করবে? তিনি তার জন্য এটা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন""(৩) তখন আবু তালহা (রা) বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ! অমুক অমুক স্থানে আমার যে বাগান রয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি সম্ভব হলে তার সবই গোপনে দান করব যা আমি এতটুকু প্রকাশ করব না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তাহলে তুমি তোমার গরীব আত্মীয়-স্বজনকে তা দান কর।
(বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা ইমাম মালিক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ৩. আল-কুরআন, ২: ২৪৫।
(বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা ইমাম মালিক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ৩. আল-কুরআন, ২: ২৪৫।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون
وعنه رضي الله عنه قال لما نزلت (لن تنالوا البر (9) حتى تنفقوا مما تحبون ومن ذا الذي يقرض الله قرضا حسنا) (1) قال أبو طلحة يا رسول الله وحائطي (2) الذي بمكان كذا وكذا (3) والله لو استطعت أن أسرها لم أعلنها (4) قال اجعله في فقراء أهلك
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। বনী ইসরাঈলের জন্য যাবতীয় খাদ্য হালাল ছিল। মহান আল্লাহ বলেন, "তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ইস্রাঈল নিজের জন্য যা হারাম করেছিল তা ব্যতীত বনী ইসরাঈলের জন্য যাবতীয় খাদ্যই হালাল ছিল।"(১)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৩: ৯৩।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৩: ৯৩।
২১৯। "আব্দুল্লাহ ইব্ন 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদল ইহুদী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হাজির হয়ে বলল, হে আবুল কাসেম। আপনি আমাদেরকে এমন কতগুলো প্রশ্নের উত্তর দিন কোন নবী ব্যতীত অন্য কারও পক্ষে যে গুলোর উত্তর জানা নাই। তাদের জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, তাওরাত নাজিল হওয়ার পূর্বে ইসরাঈল (আ) তার নিজের জন্য কোন কোন খাদ্য হারাম করেছিলেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তোমাদের নিকট সে আল্লাহর নামে কসম করছি যিনি মুসা (আ) এর ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, তোমরা কি জান না, ইসরাঈল (ইয়াকুব) (আ) একবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন এবং তার অসুস্থতা দীর্ঘদিন যাবৎ অব্যাহত থাকল। তখন তিনি আল্লাহর নামে মানত করলেন, যদি আল্লাহ তাকে অসুস্থতা থেকে মুক্তি দান করেন তাহলে তিনি তার সব চেয়ে প্রিয় পানীয় ও প্রিয় আহার্য বর্জন করবেন। আর তার প্রিয় আহার্য ছিল উটের গোশত ও প্রিয় পানীয় ছিল উটের দুধ। আগত ইহুদীরা বলল, হে মুহাম্মদ। আপনি ঠিক বলেছেন।
(তিরমিযী, নাসাঈ)
(তিরমিযী, নাসাঈ)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب كل الطعام كان حلا لبني اسرائيل قال الله عز وجل (كل الطعام كان حلا لبني اسرائيل إلا ما حرم اسرائيل على نفسه من قبل تنزل التوراة)
عن ابن عباس قال حضرت عصابة من اليهود رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا ابا القاسم حدثنا عن خلال نسألك عنها لا يعلمهن إلا نبي فكان فيما سألوه أي الطعام حرم اسرائيل على نفسه قبل أن تنزل التوراة؟ قال فانشدكم بالله الذي أنزل التوراة على موسى هل تعلمون أن اسرائيل يعقوب عليه السلام مرض مرضا شديدا فطال سقمه فنذر لله نذرا لئن شفاه الله من سقمه ليحرمن من أحب الشراب إليه وأحب الطعام إليه فكان أحب الطعام إليه لحم الإبل وأحب الشراب إليه ألبانها فقالوا اللهم نعم
তাহকীক: