মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩০৩ টি

হাদীস নং: ১৮০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় ক্লেশ থাকে...।(২)
টিকা: ২.আল কুরআন : ০২: ১৯৮
১৮০। কা'ব ইবন উজরা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ছিলাম, তখন আমরা ছিলাম ইহরামরত। মুশরিকরা আমাদেরকে তখন বাধা প্রদান করেছিল। আমার মাথায় ছিল বাবড়ি চুল, যা থেকে আমার চেহারার ওপর উকুন পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে বললেন, তোমার চুলের মাথায় পোঁকা কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ, তখন তিনি আমাকে মাথা মুন্ডানোর নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন নাজিল হল, "তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় ক্লেশ থাকে তবে সিয়াম কিংবা সাদাকা অথবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদয়া দিবে।" (অপর এক সূত্রে), 'আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মা'কিল (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কাব ইবন 'উজরা (রা) এর নিকট বসা ছিলাম আর তিনি তখন ছিলেন মসজিদের ভিতরে। আমি তাকে এ আয়াতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম- "তবে সিয়াম কিংবা সাদাকা অথবা কুরবানী দ্বারা তার ফিদয়া দিবে" বর্ণনাকারী বলেন, তখন কাব (রা) বলেন, আয়াতটি আমার ব্যাপারে নাজিল হয়েছে। তখন আমার মাথায় ক্লেশ ছিল। আমি তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেলাম তখন আমার মাথা থেকে মুখ মন্ডলের ওপর উকুন ঝড়ে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার কষ্ট যে এই পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, তা আমার ধারণা ছিল না। তোমার কোন বকরী আছে? আমি বললাম, না। তখন নাজিল হল, "তবে সিয়াম কিংবা সাদাকা অথবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদয়া দিবে।"
বর্ণনাকারী বলেন, তিনদিনের রোজা অথবা প্রতি মিসকিনকে অর্ধ সা' করে ছয়জনকে খাবার দান করতে হবে। তিনি বলেন, আয়াতটি আমার ব্যাপারে বিশেষভাবে নাজিল হয়েছে, তবে এর হুকুম তোমাদের জন্য সাধারণ।
(বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب فمن كان منكم مريضا أو به أذى من رأسه الخ
عن كعب بن عجرة قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحديبية ونحن محرمون وقد حصرنا المشركون وكانت لي وفرة فجعلت الهوام تساقط على وجهي فمر بي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال أيؤذيك هوام رأسك؟ قلت نعم فأمرني أن أحلق قال ونزلت (فمن كان منكم مريضا أو به أذى من رأسه ففدية من صيام أو صدقة أو نسك) (ومن طريق ثان) (1) عن عبد الله بن معقل قال قعدت إلى كعب بن عجرة رضي الله عنه وهو في المسجد (2) فسألته عن هذه الآية (ففدية من صيام أو صدقة أو نسك) قال فقال كعب نزلت فيي فقد كان بي أذى من رأسي فحملت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم والقمل يتناثر على وجهي فقال ما كنت أرى أن الجهد بلغ بك ما أرى أتجد شاة؟ فقلت لا فنزلت هذه الآية (ففدية من صيام أو صدقة أو نسك) قال صوم ثلاثة أيام أو اطعام ستة مساكين نصف صاع نصف صاع طعام لكل مسكين قال فنزلت في خاصة وهي لكم عامة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই।(১)
টিকা: ১. আল কুরআন ০২: ১৯৮
১৮১। আবূ উমামা তায়মী (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি'আব্দুল্লাহ ইবন 'উমর (রা)-কে বললাম, আমরা তো হজ্জের সময় বাহন নিয়ে ভাড়া খাটি, আমাদের হজ্জ কি সহীহ হবে? তিনি (রা) বলেন, তোমরা কি বাইতুল্লাহ তাওয়াক করো না এবং আরাফার মাঠে যাও না? তোমরা কি পাথর নিক্ষেপ করো না এবং মাথা মুন্ডাও না? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন 'আব্দুল্লাহ ইবন 'উমর (রা) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তুমি আমাকে যে প্রশ্ন করলে সে প্রশ্নটিই করেছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে কোন উত্তর দেননি। অবশেষে জিবরীল (আ) এ আয়াত খানা নিয়ে নাজিল হলেন: "তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই।" তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডেকে বললেন, তোমাদের হজ্জ আদায় হয়ে গেছে।
(আবু দাউদ, মুসনাদে আবু দাউদ তায়ালিসী, জামে 'আব্দুর রাজ্জাক, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ليس عليكم جناح أن تبتغوا فضلا من ربكم
عن أبي أمامة التيمي قال قلت لابن عمر رضي الله عنهما انا نكرى (5) فهل لنا من حج؟ قال أليس تطوفون بالبيت وتأتون المعروف؟ (6) وترمون الجمار وتحلقون رءوسكم؟ قال قلنا بلى فقال ابن عمر جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فسأله عن الذي سألتني فلم يجبه حتى نزل عليه جبريل عليه السلام بهذه الآية (7) (ليس عليكم جناح أن تبتغوا فضلا من ربكم) فدعاه النبي صلى الله عليه وسلم فقال أتم حجاج
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "লোকেরা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে।"
১৮২। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদ নিষিদ্ধ হয়েছে তিন পর্যায়ে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় এসে দেখলেন মদীনাবাসীরা মদ পান করছে এবং জুয়া প্রাপ্ত সম্পদ ভক্ষণ করছে। তারা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে এ দুটোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি নাজিল করেন, "লোকেরা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, উভয়ের মধ্যে আছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য উপকারও কিন্তু তাদের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক।" তখন মানুষেরা বলা শুরু করল, আল্লাহ্ আমাদের ওপর তা হারাম করেননি বরং তিনি বলেছেন এ দুটোতে মহাপাপ রয়েছে। তাই তারা মদ পান করছিলো, এমনকি একদিন জনৈক মুহাজির নিজে ইমামতি করে তার সঙ্গীদের নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করছিলেন নেশার কারণে তিনি তার কিরাআত জড়িয়ে ফেলছিলেন। তখন মহান আল্লাহ আরও কঠোর বিধান সহকারে নাজিল করলেন, "হে মু'মিনগণ। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার।(১) তখন মানুষের মদ পান করতো। তারপর যখন নেশা কেটে যেত, সালাতে হাজির হত। তারপর মহান আল্লাহ কঠোরতর বিধান সহকারে নাজিল করলেন, "হে মু'মিনগণ। মদ, জুয়া মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কার্য। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর- যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।(২) তখন তারা বললো, আমাদের প্রভু আমাদেরকে থামিয়ে দিলেন। তখন মানুষেরা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সব মানুষ আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন অথবা রোগগ্রস্ত হয়ে বিছানায় মারা গেছেন এবং তারা মদ সেবন করত ও জুয়া প্রাপ্ত অর্থ ভক্ষণ করতো অথচ মহান আল্লাহ তাকে ঘৃণ্য বস্তু ও শয়তানের কার্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন, (তাহলে তাদের পরিনতি কি হবে?) তখন আল্লাহ নাজিল করলেন, "যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে তজ্জন্য তাদের কোন গুনাহ্ নাই, যদি তারা সাবধান হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, সাবধান হয় ও বিশ্বাস করে, পুনরায় সাবধান হয় ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ সৎ কর্ম পরায়ন দিগকে ভালবাসেন।(৩) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা যেভাবে পরিত্যাগ করেছো তাদের ওপর হারাম করলে তারাও সেভাবে পরিত্যাগ করত।
টিকা:
১. আল কুরআন ৪: ৪৩
২. আল কুরআন ৫: ৯০
৩. আল কুরআন ৫: ৯৩
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يسألونك عن الخمر والميسر الخ
عن أبي هريرة قال حرمت الخمر ثلاث مرات قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وهم يشربون الخمر ويأكلون الميسر فسألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عنهما فأنزل الله عز وجل على نبيه صلى الله عليه وسلم (يسألونك عن الخمر (3) والميسر قل فيهما إثم كبير ومنافع للناس وإثمهما أكبر من نفعهما الخ الآية) فقال الناس ما حرم علينا إنما قال فيهما إثم كبير وكانوا يشربون الخمر (4) حتى اذا كان يوم من الايام صلى رجل من المهاجرين أم أصحابه في المغرب خلط في قراءته (5) فأنزل الله فيها آية أغلظ منها (يا ايها الذين آمنوا لا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون) وكان الناس يشربون حتى يأنى أحدهم الصلاة وهو مفيق ثم انزلت آية أغلظ من ذلك (6) (يا أيها الذين آمنوا انما الخمر والميسر والأنصاب (7) والأزلام رجس من عمل الشيطان فاجتنبوه لعلكم تفلحون) فقالوا انتهينا ربنا فقال الناس يا رسول الله ناس قتلوا في سبيل الله أو ماتوا على فراشهم كانوا يشربون الخمر ويأكلون الميسر وقد جعله الله رجسا ومن عمل الشيطان فأنزل الله (ليس على الذين آمنوا وعملوا الصالحات جناح فيما طعموا اذا ما اتقوا وآمنوا) الخ الآية (8) فقال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم لو حرمت عليهم لتركوها كما تركتم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "লোকেরা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে।"
১৮৩। আবু মায়সারা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি উমার ইবন খাত্তাব (রা) হতে হাদীস বর্ণনা করেন, যখন মদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান নাজিল হয় তখন উমর (রা) বললেন, হে আল্লাহ। আপনি আমাদেরকে মদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিন। তখন সূরা বাকারার এ আয়াতখানা নাজিল হয়," লোকে তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, উভয়ের মধ্যে আছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য উপকারও কিন্তু তাদের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমার (রা) কে ডেকে তার সামনে এ আয়াতখানা তিলাওয়াত করা হলে তিনি বলেন, হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে মদের ব্যাপারে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিন। তখন সূরা নিসার এ আয়াতখানা নাজিল হয়, "হে মু'মিনগণ। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হইও না, যতক্ষণ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার।" তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একজন আহবানকারী সালাত শুরু হলে ডেকে বলতেন নেশাগ্রস্ত কেউ সালাতের নিকটবর্তী যেন না হয়। উমর (রা) কে ডেকে এ আয়াতখানা শুনানো হলে তিনি বললেন, হে আল্লাহ। আপনি আমাদেরকে মদের ব্যাপারে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিন। অতঃপর সূরা মায়িদার এ সম্পর্কিত আয়াতখানা নাজিল হলে উমর (রা) কে ডেকে তা পড়ে শুনানো হয়। তিনি যখন "শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?(১) পর্যন্ত পৌঁছলেন, তথা উমর (রা) বলেন, আমরা নিবৃত্ত হলাম, আমরা নিবৃত্ত হলাম।
(হাকিম, মুস্তাদরাক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. আল কুরআন ৫: ৯১
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يسألونك عن الخمر والميسر الخ
عن أبي ميسرة عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال لما نزل تحريم الخمر قال اللهم بين لنا في الخمر بيانا شافيا فنزلت هذه الآية التي في سورة البقرة (يسألونك عن الخمر والميسر قل فيهما إثم كبير) قال فدعى عمر فقرئت عليه فقال اللهم بين لنا في الخمر بيانا شافيا فنزلت الآية التي في سورة النساء (يا ايها الذين آمنوا لا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى) فكان منادي رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أقام الصلاة نادى أن لا يقربن الصلاة سكران فدعى عمر فقرئت عليه فقال اللهم بين لنا في الخمر بيانا شافيا فنزلت الآية التي في المائدة فدعى عمر فقرئت عليه فلما بلغ (فهل أنتم منتهون) قال فقال عمر انتهينا انتهينا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তোমরা যদি তাদের সাথে একত্রে থাকো তবে তারা তো তোমাদেরই ভাই।"
১৮৪। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নাজিল হল, 'ইয়াতীম বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুপায়ে ছাড়া তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়ো না এবং প্রতিশ্রুতি পালন কর; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।(১) তখন সাহাবীরা ইয়াতিমদের সম্পত্তির তত্ত্বাবধান ছেড়ে দিল এমনকি অধিক হওয়ার কারণে তাদের খাদ্য নষ্ট হচ্ছিল এবং রান্না করা গোশত দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ছিল। এ ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানানোর পর নাজিল হল, "তোমরা যদি তাদের সাথে একত্র থাকো তবে তারা তো তোমাদের ভাই। আল্লাহ জানেন কে হিতকারী আর কে অনিষ্টকারী।" বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তারা মিলেমিশে বসবাস শুরু করলো।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইব্‌ন আবু হাতিম, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: আল কুরআন ১৭: ৩৪
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وان تخالطوهم فاخوانكم
عن ابن عباس قال لما نزلت (ولا تقربوا مال اليتيم إلا بالتي هي أحسن) عزلوا أموال اليتامى حتى جعل الطعام يفسد واللحم ينتن فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فنزلت (وإن تخالطوهم فإخوانكم (3) والله يعلم المفسد من المصلح) قال فخالطوهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: লোকে তোমাকে রজঃস্রাব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। বল, তা অশুচি।(২)
১৮৫। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহিলারা যখন রজঃস্রাবগ্রস্তা হত তখন ইহুদীরা তাদের সাথে পানাহার করত না এবং তাদের সাথে এক ঘরে বসবাসও করত না। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "লোকে তোমাকে রজস্রাব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। বল, "তা অশুচি। সুতরাং তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রী সংগম বর্জন করবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী-সংগম করবে না।" এ আয়াত শেষ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা তাদের সাথে স্ত্রী সহবাস ব্যতীত অন্য সব কিছু করতে পারো। ইহুদীদের নিকট এ তথ্য পৌঁছলে তারা বলল, এ ব্যক্তি (মুহাম্মদ) আমাদের বিরোধিতা না করে কোন বিষয়ই ছাড়ছে না। তখন উসাইদ ইবন হুদাইর ও 'আব্বাদ ইব্‌ন বিশর (রা) এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহুদীরা এরূপ এরূপ বলে। আমরা কি রজঃস্রাব অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে সহবাস করতে পারি না? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে পড়ল, যাতে আমরা ভাবছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ওপর ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। তারা বেরিয়ে যাওয়ার মুখেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে হাদীয়া হিসেবে কিছু দুখ আসল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের পেছনে লোক পাঠালেন এবং তাদেরকে পান করালেন, তখন তারা বুঝতে পারল তিনি তাদের ওপর ক্ষুদ্ধ হননী (আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আহমাদ (র) বলেন) আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি অত্র হাদীসের জনৈক বর্ণনাকারী হাম্মাদ ইবন সালামা তার বর্ণিত কোন হাদীসের ক্ষেত্রে প্রশংসিত ও নন্দিত হন না। কেবল এই হাদীছটি ব্যতিক্রম। কেননা তার এ বর্ণনাটি উৎকৃষ্ট।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজি, ইবন মাজাহ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ويسألونك عن المحيض قل هو أذى الخ
عن أنس بن مالك أن اليهود كانوا إذا حاضت المرأة عندهم لم يآكلوهن ولم يجامعوهن (2) في البيوت فسأل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فأنزل الله عز وجل (ويسألونك عن المحيض (3) قل هو أذى فاعتزلوا النساء في المحيض ولا تقربوهن حتى يطهرن) حتى فرغ من الآية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اصنعوا كل شيء إلا النكاح فبلغ ذلك اليهود فقالوا ما يريد هذا الرجل أن يدع من أمرنا شيئا إلا خالفنا فيه فجاء أسيد بن حضير وعباد بن بشر رضي الله عنهما فقالا يا رسول الله ان اليهود قالت كذا وكذا أفلا نجامعوهن؟ (4) فتغير وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ظننا أنه وجد عليهما فخرجا فاستقبلتهما هدية من لبن إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأرسل في آثارهما فسقاهما فعرفا انه لم يجد عليهما (قال عبد الله بن الامام احمد رحمهما الله) سمعت أبي يقول كان حماد بن سلمة لا يمدح أو يثني على شيء من حديثه إلا هذا الحديث من جودته
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র।(১)
টিকা: ২: ২২৩
১৮৬। আব্দুর রহমান ইব্‌ন বাসিত (ব) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাফসা বিনত আব্দুর রহমান (র) এর নিকট প্রবেশ করে তাকে বললাম, আমি আপনার কাছে এমন বিষয়ে জানতে চাই যে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে আমি লজ্জা পাচ্ছি। তিনি (র) বলেন, হে ভাতিজা। লজ্জা পেওনা। বর্ণনাকারী বলেন, পিছন দিক থেকে মহিলাদের সাথে সঙ্গম করার বিষয়ে। তিনি বলেন, উম্মে সালামা (রা) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আনসারগণ তাদের মহিলাদের সাথে পিছন দিক থেকে সঙ্গম করতো না। আর ইহুদীরা বলত, যে ব্যক্তি পিছন দিক থেকে স্ত্রী সহবাস করে তার সন্তান ট্যারা চোখের হয়। অতঃপর মুহাজিরগণ যখন মদীনায় এসে আনসার মহিলাদেরকে বিবাহ করলো তখন তারা তাদের সাথে পিছন দিক থেকে সহবাস করতে লাগলো। একজন মহিলা তার স্বামীর কথামত পিছন দিক থেকে সহবাস করতে রাজী হল না। সে তার স্বামীকে বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তুমি ঐ কাজটি করতে পারবে না। ঐ মহিলা উম্মে সালামা (রা) এর নিকট গিয়ে ঘটনাটি খুলে বললেন, তখন তিনি (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে এলে তাকে জিজ্ঞাসা করতে ঐ আনসার মহিলা লজ্জাবোধ করছিল, ফলে সে বেরিয়ে গেল। তখন উম্মে সালামা (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বিষয়টি জানালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আনসার মহিলাকে ডাক। তাকে ডেকে আনা হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সামনে এ আয়াত খানা তিলাওয়াত করলেন, "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব, তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পারো।" তবে একই পথে অর্থাৎ শুধুমাত্র স্ত্রী অংগেই।'(১)
(তিরমিযী)
টিকা: ১. অর্থাৎ পিছন দিক থেকে লজ্জাস্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থানে সঙ্গম করা সমীচীন হবে না।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب نساؤكم حرث لكم
عن عبد الرحمن بن سابط قال دخلت على حفصة ابنه عبد الرحمن فقلت اني سائك عن أمر وأنا استحي أن اسألك عنه فقالت لا تستحي يا ابن أخي قال عن إتيان النساء في أدبارهن قالت حدثتني أم سلمة أن الانصار كانوا لا يجبون (6) النساء وكانت اليهود تقول إنه من جبى امرأته كان ولده أحول فلما قدم المهاجرون المدينة نكحوا في نساء الانصار فجبوهن فأبت امرأة أن تطيع زوجها فقالت لزوجها لن تفعل ذلك حتى آتي رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخلت على أم سلمة فذكرت ذلك لها فقالت اجلسي حتى يأتي رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم استحت الأنصارية أن تسأله فخرجت فحدثت أم سلمة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ادعي الانصارية فدعيت فتلا عليها هذه الآية (نساؤكم حرث لكم (1) فأتوا حرثكم أنى شئتم) صماما واحدا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র।
১৮৭। উম্মে সালামা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাজিরগণ যখন মদীনায় আনসারদের নিকট আসলেন এবং আনসার নারীদের বিবাহ করলেন, মুহাজিরগণ স্ত্রীগণের সাথে পিছন দিক থেকে সহবাস করতো কিন্তু আনসারগণ তা করতো না। এক মুহাজির যখন তার আনসার স্ত্রীর সাথে এরূপ করতে চাইলেন তখন সে মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করা পর্যন্ত এরূপ কাজ করতে অস্বীকার করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে এসে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা পাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি এ ব্যাপারে উম্মে সালামা (রা) কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন নাজিল হল, "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পারো" বর্ণনাকারী বলেন, তবে একটি মাত্র পথ অর্থাৎ শুধু মাত্র লজ্জাস্থান ব্যতীত অন্য কোন পথে একাজ করা সমীচীন হবে না।
(তিরমিযী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب نساؤكم حرث لكم
عن أم سلمة رضي الله عنها قالت لما قدم المهاجرون المدينة على الانصار تزوجوا من نسائهم وكان المهاجرون يجبون وكانت الانصار لا تجبي فأراد رجل من المهاجرين امرأته على ذلك فأبت عليه حتى تسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستحيت أن تسأله فسألته أم سلمة فنزلت (نساؤكم حرث لكم فأتوا حرثكم انى شئتم) وقال لا (3) إلا في صمام واحد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র।
১৮৮। আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র।" এ আয়াত নাজিল হয়েছে কতিপয় আনসার সম্পর্কে, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তোমরা তাদের লজ্জাস্থান ভোগ করার ক্ষেত্রে তাদের নিকট যে কোন পন্থায় যেতে পারো। (মুসনাদে আহমদ)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب نساؤكم حرث لكم
عن ابن عباس قال أنزلت هذه الآية (نساؤكم حرث لكم) في أناس من الانصار أتوا النبي صلى الله عليه وسلم فسألوه فقال النبي صلى الله عليه وسلم ائتها على كل حال اذا كان في الفرج
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র।
১৮৯। উক্ত আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) হতে আরো বর্ণিত, উমার (রা) রাসূল এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন জিনিস তোমাকে ধ্বংস করেছে? তিনি (রা) বলেন, আমি গত রাতে পিছন দিক থেকে স্ত্রী সহবাস করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ তার কথার কোন উত্তর দিলেন না, তখন আল্লাহ তার রাসূল (ﷺ) এর ওপর নাজিল করলেন, "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব, তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পারো"-সামনে থেকে হোক অথবা পিছন থেকে হোক, তবে মলদ্বার ও রজঃস্রাববর্তী মহিলা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।
(আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب نساؤكم حرث لكم
وعنه أيضا قال جاء عمر بن الخطاب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هلكت قال وما الذي أهلكك؟ قال حولت رحلي البارحة (6) قال فلم يرد عليه شيئا قال فأوحى الله إلى رسوله هذه الآية (نساؤكم حرث لكم فأتوا حرثكم أنى شئتم) أقبل (1) وأدبر واتق الدبر والحيضة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত। মধ্যবর্তী সালাতের।(১)
টিকা: ১. আল কুরআন, ২:২৩৮।
১৯০। যায়দ ইবন সাবিত (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) প্রখর দ্বিপ্রহরে যুহরের সালাত করলেন, তিনি যে সব সালাত আদায় করতেন সাহাবীদের নিকট তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা
কষ্টকর ছিল এ সালাত আদায় করা। বর্ণনাকারী বলেন, এ সম্পর্কে নাযিল হল, তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের।” বর্ণনাকারী আরও বলেন, এ সালাতের পূর্বে দু'ওয়াক্ত সালাত এবং পরে দু'ওয়াক্ত সালাত রয়েছে।
(আবু দাউদ,বায়হাকী, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى
عن زيد بن ثابت قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي الظهر بالهاجرة (4) ولم يكن يصلي صلاة أشد على أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم منها قال فنزلت (حافظوا على الصلوات (5) والصلاة الوسطى) وقال ان قبلها صلاتين وبعدها صلاتين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত। মধ্যবর্তী সালাতের।(১)
১৯১। যিবরিকান (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরায়শ গোত্রের কতিপয় সদস্য একত্রিত হয়ে বসেছিল। তখন তারা তাদের মধ্য থেকে দু'জন গোলামকে যায়দ ইব্‌ন সাবিতের নিকট পাঠাল, মধ্যবর্তী সালাত সম্পর্কে তার কাছে জানার জন্য। তখন যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রা) বললেন, তা হল সালাতুল আছর। ঐ দু'গোলাম যায়দ ইবন সাবিতের নিকট দাঁড়িয়ে থেকে আবার তাকে জিজ্ঞাসা করলো, তখন তিনি বললেন, তা হল সালাতুজ জোহর। অতঃপর তারা তাঁর নিকট থেকে গিয়ে উসামা ইবন যায়দ (রা) এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন, তা হল সালাতুজ জোহর। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রখর রোদে সালাতুজ জোহর আদায় করতেন, তখন তাঁর পিছনে এক কাতার অথবা দু'কাতারের বেশী মুসল্লী হত না। তখন মানুষ বিশ্রামে অথবা ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকত। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ নাজিল করলেন, তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত: মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে সকল ব্যক্তি সালাতের জামা'আত থেকে দূরে থাকে আমি কি তাদের বাড়ী পুড়িয়ে দিব না?
(আবু দাউদ তায়লিসী, মুস্লাদ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى
عن الزبرقان ان رهطا من قريش مر بهم زيد بن ثابت وهم مجتمعون فأرسلوا إليه غلامين لهم يسألانه عن الصلاة الوسطى فقال هي العصر فقام اليه رجلان منهم فسألاه فقال هي الظهر (8) ثم انصرفا إلى أسامة بن زيد فسألاه فقال هي الظهر (9) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي بالهجير ولا يكون وراءه إلا الصف والصفان والناس في قائلتهم وفي تجارتهم فأنزل الله تعالى (حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى وقوموا لله قانتين) قال فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم لينتهين رجال (10) أو لأحرقن بيوتهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত। মধ্যবর্তী সালাতের।(১)
১৯২। শাকীক ইবন 'উকবা (র) বারা' ইবন 'আযিব (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নাজিল হল "তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত: সালাতুল আছরের ব্যাপারে", রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আমরা এরূপ তিলাওয়াত করেছি আল্লাহ যতদিন স্বেচ্ছায় এ আয়াত রহিত করেননি, তারপর আল্লাহ নাজিল করলেন, তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত: মধ্যবর্তী সালাতের। শাকীক (র) এর সঙ্গী আযহার (র) তখন জিজ্ঞাসা করলেন, তা হলে তা কি সালাতুল আছর? বারা ইবন 'আযিব (রা) বললেন, আমি তো তোমাকে বলে দিলাম কিভাবে এ আয়াত নাজিল হয়েছিল। এবং কিভাবে রহিত হয়েছিল আর আল্লাহই এ ব্যাপারে অধিক জানেন।
(মুসলিম)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى
عن شقيق بن عقبة عن البراء بن عازب قال نزلت (حافظوا على الصلوات وصلاة العصر) فقرأناها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شاء الله أن نقرأها لم ينسخها الله (2) فأنزل (حافظوا على الصلوات وصلاة (3) الوسطى) فقال له رجل كان مع شقيق يقال له أزهر وهي صلاة العصر؟ قال قد أخبرتك كيف نزلت وكيف نسخها الله تعالى والله أعلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত। মধ্যবর্তী সালাতের।(১)
১৯৩। আবূ ইউনুছ (র) (আয়েশা (রা) এর আযাদকৃত গোলাম) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়েশা (রা) আমাকে তার জন্য কুরআন মাজীদের একটি কপি তৈরি করতে বললেন। আর তিনি বললেন, যখন তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত: মধ্যবর্তী সালাতের- এ আয়াতে পৌঁছলে তখন আমাকে জানিও। যখন আমি এ আয়াতে পৌঁছলাম, তাকে জানালাম। তিনি আমাকে লিখতে বললেন- "তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত: মধ্যবর্তী সালাতের এবং সালাতুল আছরের, আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে।" আয়েশা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে এরূপ শুনেছি।
(মুসলিম, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, আবু দাউদ, তিরমিযী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى
عن أبي يونس مولى عائشة رضي الله عنها قال أمرتني عائشة أن أكتب لها مصحفا قال اذا بلغت إلى هذه الآية (حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى) فآذنى (6) فلما بلغتها آذنتها فأملت علي (حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى وصلاة العصر (7) وقوموا لله قانتين) (8) قالت سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত। মধ্যবর্তী সালাতের।(১)
১৯৪। যাইদ ইব্‌ন আরকাম (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জামানায় এক ব্যক্তি সালাতের মধ্যে তার সঙ্গীর সাথে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলছিল। তখন নাজিল হল; তোমার আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াবে। তখন আমাদেরকে চুপ থাকতে বলা হলো।
(বুখারী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى
عن زيد بن أرقم قال كان الرجل يكلم صاحبه على عهد النبي صلى الله عليه وسلم في الحاجة في الصلاة حتى نزلت هذه الآية (وقوموا لله قانتين) فأمونا بالسكوت
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত। মধ্যবর্তী সালাতের।(১)
১৯৫। সূত্রে বর্ণনা করেন, আল-কুরআনের যে সকল আয়াতে الْقُنُوْتُ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে তার সবগুলোই আনুগত্য অর্থ প্রদান করে।
(আবূ ইয়ালা, মুসনাদ)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى
عن أبي سعيد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال كل حرف من القرآن يذكر فيه القنوت فهو الطاعة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
১৯৬। আসমা বিন্‌ত ইয়াযীদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, "আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক,(১) ও "আলিফ-লাম- মীম, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক""(২) আয়াত দু'খানায় আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম নাম রয়েছে।
টিকা:
১. আল-কুরআন, ২: ২৫৫।
২. আল-কুরআন, ৩: ১-২।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضل آية الكرسي
عن أسماء بنت يزيد قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في هاتين الآيتين (الله لا إله إلا هو الحي القيوم، والم الله لا إله إلا هو الحي القيوم) ان فيهما اسم الله الأعظم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
১৯৭। 'উছমান ইবন গিয়াস (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু সালীল (র) হতে আমি শুনেছি, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী(৩) মানুষের কাছে হাদীছ বর্ণনা করতেন। যখন শ্রোতার সংখ্যা বেড়ে গেল তখন তিনি ঘরের ছাদে উঠে মানুষের কাছে হাদীছ বর্ণনা করতেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কুরআনের কোন আয়াতখানা সর্বশ্রেষ্ঠ? বর্ণনাকারী বলেন, তখন এক ব্যক্তি(৪) উত্তর দিলেন, আল্লাহ। তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক।” এই আয়াত। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাতের তালুতে তার হাত রেখে দু‘আ করলেন, যে আবু মুনজির। জ্ঞান তোমার জন্য সুখকর হোক।
টিকা:
৩. তিনি উবাই ইবন কা'ব (রা)।
৪. উবাঈ ইবন কা'ব নিজেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। বিনয় প্রকাশার্থে প্রথমে নিজের নাম গোপন করেন, পরের বক্তব্যে তা আবার স্পষ্ট হয়েছে।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضل آية الكرسي
حدثنا محمد بن جعفر ثنا عثمان بن غياث قال سمعت أبا السليل قال كان رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم (6) يحدث الناس حتى يكثروا عليه فيصعد على ظهر بيت فيحدث الناس قال قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم أي آية في القرآن أعظم؟ قال فقال رجل (7) (الله لا إله إلا هو الحي القيوم) قال فوضع يده بين كتفي قال يهنك (8) يا أبا المنذر العلم العلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
১৯৮। "আব্দুল্লাহ ইবন রাবাহ (র) হতে উবাঈ (রা) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাঈ (রা) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতখানা সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ ও তার রাসূল ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রশ্নটি আরও কয়েকবার পূণরাবৃত্তি করলে উবাঈ (রা) উত্তর দিলেন, আয়াতুল কুরসী। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, হে আবু মুনজির। জ্ঞান তোমার জন্য সুখকর হোক। সে সত্ত্বার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, আয়াতুল কুরসীর আছে একটি জিহ্ববা ও দুটো ঠোট আরশের পায়ায় অবস্থান করে যা দ্বারা সে মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করে।
(মুসলিম)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضل آية الكرسي
عن عبد الله بن رباح عن أبي أن النبي صلى الله عليه وسلم ساله أي آية في كتاب الله أعظم؟ قال الله ورسوله أعلم فرددها مرارا ثم قال أبي آية الكرسي قال ليهنك العلم أبا المنذر والذي نفسير بيده إن لها لسانا وشفتين تقدس (2) الملك عند ساق العرش
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
১৯৯। আব্দুর রহমান ইব্‌ন আবু লায়লা (র) হতে আবু আইউব আনসারী (রা) সূত্রে বর্ণিত, তিনি কাচারী ঘরে থাকতেন, তখন একটি দুষ্ট জ্বীন এসে তাকে ধরত। তিনি (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করলে তিনি বললেন, তুমি যখন তাকে দেখতে পাবে তখন বলবে, আল্লাহর নামে রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর ডাকে সাড়া দাও। বর্ণনাকারী বলেন, পরে সে যখন আসল তখন তিনি ঐ কথা বললেন এবং তাকে ধরে ফেলেন। তখন সে তাকে বলল, আমি আর আসব না, অতঃপর তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। তোমার বন্ধীর খবর কী? তিনি (রা) বলেন, আমি তাকে ধরেছি, তারপর সে আমাকে বলল, আমি আর কখনও আসব না, তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বললেন, সে আবারও আসবে। আমি তাতে দুই-তিনবার ধরি এবং প্রতিবার সে বলতে থাকে আমি আর ফিরে আসব না। তিনি প্রত্যেকবার রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসতেন আর তিনি প্রায় তাকে জিজ্ঞেস করতেন, বন্ধীর খবর কী? তিনি বলতেন, আমি তাকে ধরলে সে বলল, আমি আর ফিরে আসব না, অতঃপর তিনি বলতেন, সে আবারও আসবে। শেষবার তাকে ধরে ফেললে সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে এমন এক কথা শিক্ষা দেব যাতে তোমার নিকট কেউ আসতে না পারে, আর তা হল আয়াতুল কুরসী। অতঃপর বর্ণনাকারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তাঁকে এ তথ্য জানালে তিনি (ﷺ) বললেন, সে সত্য বলেছে, তবে মূলত। সে মিথ্যাবাদী।
(তিরমিযী, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضل آية الكرسي
عن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن أبي أيوب (الأنصاري رضي الله عنه أنه كان في سهوة (4) له فكانت الغول (5) تجيء فتأخذ فشكاها إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال اذا رأيتها فقل بسم الله أجيبي رسول الله قال فجاءت فقال لها فأخذها فقالت له انى لا أعود فأرسلها فجاء فقال له النبي صلى الله عليه وسلم ما فعل أسيرك؟ قال أخذتها فقالت لي اني لا أعود فأرسلتها فقال انها عائدة فأخذتها مرتين أو ثلاثا كل ذلك تقول لا أعود ويجيء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فيقول له ما فعل اسيرك؟ فيقول أخذتها فتقول لا اعود فيقول انها عائدة فأخذها فقالت أرسلني وأعملك شيئا تقول فلا يقربك شيء (1) آية الكرسي فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فأخبره فقال صدقت وهي كذوب
tahqiq

তাহকীক: