মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩০৩ টি

হাদীস নং: ১৬০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। সূরা বাকারা ও এর ফযীলত।
১৬০। আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বুরায়দা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা বুরায়দা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বসা ছিলাম, তখন আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তোমরা সূরা বাকারা শিক্ষা কর কেননা এর অবলম্বন কল্যাণ এবং এর বর্জন অনুতাপ। এটা যাদুকরগণ আয়ত্ত করতে পারবে না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন, তারপর বললেন, তোমরা সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান শিক্ষা করো, কেননা, এ দুটো উজ্জল জ্যোতিষ্কের ন্যায় কিয়ামতের দিন তার দুটো ছায়াখণ্ড অথবা সারিবদ্ধ দুটো পাখীর ঝাঁকের ন্যায়। কিয়ামতের দিন মানুষকে যখন কবর বিদীর্ন করে হাজির করা হবে তখন কুরআন তার সঙ্গীর জন্য এক কৃষ্ণকায় পুরুষের আকৃতিতে হাজির হবে, অতঃপর তাকে বলবে, তুমি আমাকে চিনতে পেরেছো? সে বলবে, আমি তোমাকে চিনতে পারছি না, সে তাকে আবার জিজ্ঞাসা করবে, তুমি আমাকে চিনতে পেরেছো? সে বলবে, আমি তোমাকে চিনতে পারছি না। তখন সে বলবে, আমি তোমার সঙ্গী কুরআন যে তোমাকে দুপুর বেলা তৃষ্ণার্ত রেখেছি এবং রাতের বেলায় বিনিদ্র রেখেছি। প্রত্যেক ব্যবসায়ী তার ব্যবসা দ্বারা মুনাফা আশা করে। আজ তোমার মুনাফা সকল ব্যবসার উপরে। তখন তার ডান হাতে রাজত্ব ও বাম হাতে অমরত্ব দেয়া হবে। তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেয়া হবে বরং তার পিতা-মাতাকে আকর্ষণীয় পোষাক পরানো হবে যার সমকক্ষ পোষাক দুনিয়ার কারও ছিল না। তারা বলবে, আমাদেরকে কেন এ পোষাক পরানো হল? উত্তর আসবে, তোমাদের সন্তান কুরআন ধারণ করেছিল। অতঃপর উক্ত কুরআনের ধারণকারী ব্যক্তিকে বলা হবে, তুমি তিলাওয়াত কর এবং জান্নাতের স্তরসমূহ আরোহন করে তার কক্ষসমূহে প্রবেশ করতে থাকো, এভাবে সে যতক্ষণ তিলাওয়াত করতে থাকবে ততক্ষণ জান্নাতের বিভিন্ন ফ্লোরে আরোহণ করতে থাকবে হোক তা অতি দ্রুত অথবা ধীরগতিতে।
(ইবন মাজাহ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب سورة البقرة وما جاء في فضلها
عن عبد الله بن بريدة عن أبيه قال كنت جالسا عند النبي صلى الله عليه وسلم فسمعته يقول تعلموا سورة البقرة فإن أخذها بركة وتركها حسرة ولا يستطيعها البطلة قال ثم مكث ساعة ثم قال تعلموا سورة البقرة وآل عمران فإنهما الزهراوان يظلان صاحبهما يوم القيامة كأنها غمامتان أو غيابيان أو فرقان من طير صواف وان القرآن يلقى صاحبه يوم القيامة حين ينشق عنه قبره كالرجل الشاحب (12) فيقول له هل تعرفني؟ فيقول ما أعرفك فيقول له هل تعرفني؟ فيقول ما أعرفك فيقول أنا صاحبك القرآن الذي اظمأتك في الهواجر وأسهرت ليلك وان كل تاجر من وراء تجارته وأنك اليوم من وراء كل تجارة (1) فيعطى الملك بيمينه والخلد بشماله ويرضع على رأسه تاج الوقار ويكسى والداه حلتين لا يقوم لهما أهل الدنيا (2) فيقولان بم كسبنا هذه؟ فيقال بأخذ ولدكما القرآن ثم يقال له اقرأ واصعد في درجة الجنة وغرفها فهو في صعود ما دام يقرأ هذا (3) كان أو ترتيلا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। সূরা বাকারা ও এর ফযীলত।
১৬১। মাকিল ইবন ইয়াসার (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সূরা বাকারা হল কুরআনের শীর্ষবাগ ও চূড়া। এর প্রতিটি আয়াতের সাথে আশি জন ফিরিস্তা অবতীর্ণ হয়। “আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্ত্বার ধারক" আয়াতুল কুরছী নামের এ আয়াতটিকে আরশের নিচ থেকে বের করে তা সূরা বাকারার সাথে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে, আর সূরা ইয়াসিন হল আল-কুরআনের হৃদয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের আশায় তা তিলাওয়াত করবে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে, তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে তা তিলওয়াত কর।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب سورة البقرة وما جاء في فضلها
عن معقل بن يسار ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال البقرة سنام (5) القرآن وذروته ونزل مع كل آية منها ثمانون ملكا واسخرجت (الله لا إله إلا هو الحي القيوم) من تحت العرش فوصلت بها أو (6) فوصلت بسورة البقرة ويس قلب القرآن (7) لا يقرؤها رجل يريد الله تبارك وتعالى والدار الآخرة إلا غفر له واقرءوها على موتاكم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। সূরা বাকারা ও এর ফযীলত।
১৬২। আবূ হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিয়ে ফেলো না। যে ঘরে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা হয় সেখান থেকে শয়তান পালিয়ে বেড়ায়।
(মুসলিম,নাসাঈ, তিরমিযী, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب سورة البقرة وما جاء في فضلها
عن أبي هريرة قال لا تجعلوا بيوتكم مقابر (9) فإن الشيطان يفر من البيت الذي يقرء فيه سورة البقرة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাফসীর ও শানে নুযূল

পরিচ্ছেদ: 'আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে অশান্তি ঘটাবে" ও হারুত মারুতের প্রসঙ্গ
১৬৩। আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ তায়ালা যখন আদম (আ) কে পৃথিবীতে অবতরণ করালেন তখন ফিরিস্তারা বলল, হে প্রভু। "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে অশান্তি ঘটাবে ও রক্তপাত করবে? আমরাই তো আপনার সপ্রশংসা স্ততিগান ও পবিত্রতা ঘোষণা করি। তিনি বলেন, আমি যা জানি তা তোমরা জান না(১) তারা বললো, আমরা বনী আদমের তুলনায় আপনার বেশী অনুগত। আল্লাহ ফিরিস্তাদেরকে বললেন, তোমরা দু'জন ফিরিস্তা দাও যাদেরকে আমি পৃথিবীতে প্রেরণ করবো, তারপর দেখবো তারা কিরূপ আমল করে। তারা বলল, হে আমাদের রব। হারূত ও মারূত। অতঃপর আল্লাহ্ তাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন এবং শুকতারাকে সুন্দরী রমনী করে তাদের কাছে পাঠালেন। সে তাদের নিকট আসলে তারা দু'জন তার সান্নিধ্য চাইল। তখন সে বলল, আল্লাহর কসম, না। তবে তোমরা যদি এ শিরকপূর্ণ কথাবার্তা বলতে পারো তাহলে। তারা বলল, আল্লাহর কসম। না, আমরা কাউকে কখনও আল্লাহর সাথে শরীক করতে পারব না। তারপর সে চলে গেল এবং সঙ্গে একটি বাচ্চাকে নিয়ে ফিরে আসল। তখন আবার তারা তাকে কাছে পেতে চাইল। তখন সে বলল, আল্লাহর কসম, না। তবে তোমরা যদি এ শিশুকে হত্যা করতে পারো। তারা বললো, আল্লাহর কসম। না, আমরা তাকে কখনও হত্যা করতে পারব না। তারপর সে চলে গেল এবং একটি মদের পাত্র নিয়ে ফিরে আসল। তখন তারা আবার তাকে কাছে পেতে চাইল। তখন সে বলল, আল্লাহর কসম না, তবে তোমরা যদি এ মদ পান করতে পারো। অতঃপর তারা দু'জনা ঐ মদ পান করল, ফলে তারা নেশাগ্রস্ত হল, তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ল এবং দু'জন মিলে শিশুটিকে হত্য করল। পরে যখন তারা হুঁশ ফিরে পেল তখন মহিলা বলল, আল্লাহর কসম। তোমরা যা কিছু আমার কাছে অস্বীকার করেছিলে নেশাগ্রস্ত হওয়ার পর তার সব কিছুই তোমরা করেছো। তাই তোমরা দুনিয়ার আযাব ও আখিরাতের আযাবের মধ্যে যে কোন একটিকে বেছে নাও তারা দুনিয়ার অযাবকে বেছে নিল।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ২:৩০
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
التفسير وأسباب النزول

باب أتجعل فيها من يفسد فيها وقصة هاروت وماروت
عن عبد الله بن عمر انه سمع نبي الله صلى الله عليه وسلم يقول إن آدم عليه السلام لما أهبطه الله إلى الأرض قالت الملائكة أي رب (أتجعل فيها من يفسد فيها ويسفك الدماء ونحن نسبح بحمدك ونقدس لك (11) قال إني أعلم مالا تعلمون) قالوا وإنا نحن أطوع لك من بني آدم قال الله تعالى للملائكة هلموا ملكين (1) حتى نهبطهما إلى الأرض فننظر كيف يعملان قالوا ربنا هاروت وماروت فأهبطنا إلى الأرض ومثلت لهما الزهرة امرأة من أحسن البشر (2) فجاءتهما فسألاها نفسها فقالت لا والله حتى تتكلما بهذه الكلمة من الإشراك فقالا لا والله لا نشرك بالله شيئا أبدا فذهبت عنهما ثم رجعت بصبي تحمله فسألاها نفسها فقالت لا والله حتى تقتلا هذا الصبي فقالا لا والله لا نقتله أبدا فذهبت ثم رجعت بقدح خمر تحمله فسألاها نفسها فقالت لا والله حتى تشربا هذا الخمر فشربا فسكرا فوقعا عليها وقتلا الصبي فلما أفاقا قالت المرأة والله ما تركتما شيئا أبيتماه علي إلا قد فعلتماه حين سكرتما فخيرا بين عذاب الدنيا وعذاب الآخرة فاختارا عذاب الدنيا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "নত শিরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে এবং বল। ক্ষমা চাই।" (১)
টিকা: ১. আল-কুরআন। ২: ৫৮
১৬৪। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি আল্লাহর বাণী "নত শিরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে" প্রসঙ্গে বলেন, কিন্তু তারা পা হেঁচড়িয়ে প্রবেশ করল। "এবং বল ক্ষমা চাই” একথা প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তারা তা পরিবর্তন করল এবং তারা বলল শিষযুক্ত গম।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ادخلوا الباب سجدا وقولوا حطة
عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله عز وجل (ادخلوا الباب سجدا) (2) قال ادخلوا زحفا (3) (وقولوا حطة) (4) قال بدلوا (5) فقالوا حنطة في شعرة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু ....২
টিকা: ২. আল-কুরআন, ২:৯৭
১৬৫। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদল ইহুদী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আবুল কাসিম! আমরা আপনাকে পাঁচটি ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করব, আপনি যদি আমাদেরকে তার সদুত্তর দিতে পারেন তাহলে আমরা বুঝতে পারব আপনি সত্যি নবী এবং আমরা আপনার আনুগত্য করব। তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিকট থেকে সেরূপ অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যেরূপ গ্রহণ করেছিলেন ইয়াকুব (আ) তার সন্তানদের নিকট থেকে এবং তিনি বলেছিলেন আমরা যা বলছি আল্লাহ তার সাক্ষী রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন, তোমরা তোমাদের প্রশ্ন কর। তারা বলল, আপনি আমাদেরকে একজন নবীর আলামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তর দিলেন, একজন নবীর দু'চোখ ঘুমায় কিন্তু তাঁর অন্তর ঘুমায় না। তারা বলল, আপনি আমাদেরকে বলুন, আমাদের মহিলারা কিভাবে পুত্র সন্তান এবং কিভাবে কন্যা সন্তান জন্ম দেয়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, পিতা-মাতা উভয়ের বীর্য একত্রিত হয়, তখন মহিলার বীর্যের ওপর পুরুষের বীর্য প্রাধান্য পেলে শিশুটি পুত্র হয়, আর পুরুষের বীর্যের ওপর মহিলার বীর্য প্রধান্য পেলে শিশুটি কন্যা হয়। তারা বলল, আপনি আমাদেরকে বলুন, ইয়াকুব (আ) তাঁর নিজের জন্য কি কি জিনিস হারাম করেছিলেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তিনি (আ) সাইটিকা রোগের আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন সে রোগ থেকে মুক্তির জন্য অমুক অমুক প্রাণীর দুষ ছাড়া অন্য কোন বিকল্প পাননি। হাদীসের সংকলক আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আহমদ (র) বলেন আমার পিতা ইমাম আহমদ (র) বলেছেন, সে প্রাণীদের অন্যতম ছিল উট, তাই ইয়াকুব (আ) উটের গোশত খাওয়া নিজের জন্য হারাম করেছিলেন। তারা বলল, আপনি ঠিক বলেছেন। তারা আবার বলল, আপনি আমাদেরকে বজ্র সম্পর্কে বলুন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মেঘমালার দায়িত্বে নিয়োজিত আল্লাহর একজন ফিরিশতা, যার হাতে রয়েছে আগুনের তৈরি এক হাতুড়ি, যা দিয়ে সে মেঘ তাড়ানোর জন্য আঘাত করে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক। তারা বলল তখন সে আওয়াজ শোনা যায় তা কী? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ওটা তারই শব্দ। তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন, এখন আর একটা প্রশ্ন বাকী থাকল, যদি আপনি তার উত্তর দিতে পারেন তাহলে আমরা আপনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবো। প্রত্যেক নবীকে তথ্য দেয়ার জন্য একজন নির্দিষ্ট ফিরিশতা আসে, তাহলে আপনি বলুন, আপনার নিকট কে আসে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, জিবরাঈল (আ)। তারা বলল, জিবরাঈল ঐ ফেরেশতা যিনি যুদ্ধ, সংঘাত ও আযাব নিয়ে আমাদের শত্রু হিসেবে নাজিল হন আপনি যদি মিকাঈল (আ) এর কথা বলতেন যিনি রহমত, শস্যাদি ও বৃষ্টি নিয়ে অবতীর্ণ হয় তাহলে হত। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন, বল যে কেউ জিবরাঈল শত্রু এজন্য যে সে আল্লাহর নির্দেশে তোমার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছে দিয়েছে....।
আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন ইহুদীদের একটি দল রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আবুল কাসেম। আপনি আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিন যা একজন নবী ব্যতীত অন্য কারও জানা থাকে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা তোমাদের যা খুশী জিজ্ঞাসা কর, তবে তোমরা আল্লাহকে জামিন রাখ এবং ইয়াকুব (আ) যেমন তাঁর সন্তানদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন, সেই রকম অংঙ্গীকার করে বল যে, আমি তোমাদের নিকট কিছু বললে যদি তা সঠিক বলে বুঝতে পার, তবে অবশ্যই তোমরা আমার হাতে ইসলামের উপর বায়আত গ্রহণ করবে। তারা বলল, আমরা আপনার নিকট সেরূপ কথা দিচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তোমরা তোমাদের খুশী মত জিজ্ঞাসা কর। তারা বলল, আপনি আমাদের চারটি প্রশ্নের উত্তর দিন। আপনি বলুন (১) তাওরাত নাজিলের পূর্বে ইয়াকুব (আ) তার নিজের জন্য কোন কোন খাদ্য হারাম করেছিলেন? (২) একজন মহিলা ও একজন পুরুষের বীর্য কেমন এবং তা দ্বারা পুত্র সন্তান জন্ম নেয় কিভাবে? (৩) নিরক্ষর নবীর ঘুম কি রকমের? এবং (৪) কোন ফিরশতা তাঁর বন্ধু। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি যদি তোমাদের এ প্রশ্নগুলির উত্তর দিই তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করবে সে ব্যাপারে আল্লাহর নিকট তোমাদের অঙ্গীকার রইল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইচ্ছা মোতাবেক অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যিনি মুসা (আ) এর ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন তার নামে শপথ করে বলছি, তোমরা কি জান ইয়াকুব (আ) একটি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তার সে রোগটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত ছিল, তখন তিনি আল্লাহর জন্য মা'নত করলেন, আল্লাহ যদি তাকে সে রোগ থেকে আরোগ্য দান করেন তাহলে তিনি তার প্রিয় পানীয় ও প্রিয় আহার্য পরিবহার করবেন? আর তাঁর নিকট প্রিয় আহার্য ছিল উটের গোশত এবং প্রিয় পানীয় ছিল উটের দুধ? তারা বলল, হ্যাঁ ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ তুমি তাদের সাক্ষী থেকো। অতঃপর আমি সে আল্লাহর নামে শপথ করছি যিনি মুসা (আ) এর ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, যিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই- তোমরা কি জান পুরুষের বীর্য শুভ্র ও গাঢ় এবং নারীর বীর্য পাতলা ও হলদে। তাই যার বীর্য প্রবল হয়, আল্লাহর ইচ্ছা সন্তান ও সাদৃশ্য তদনুসারেই হয়। পুরুষের বীর্য যদি নারীর বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করে তাহলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা দ্বারা পুরুষ শিশু জন্ম নেয়, আর স্ত্রীর বীর্য যদি পুরুষের বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করে তাহলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা দ্বারা স্ত্রী শিশু জন্ম নেয়? তারা বলল, হ্যাঁ, ঠিক আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ আপনি তাদের সাক্ষী থাকেন। অতঃপর আমি তোমাদের সামনে সেই সত্তার শপথ করছি যিনি মুসা (আ) এর ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, তোমরা কি জানো এ নিরক্ষর নবীর দুচক্ষু ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না? তারা বলল, হ্যাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারা বলল, আপনি এখন আমাদেরকে বলুন ফিরিশতাদের মধ্যে কে আপনার বন্ধু? এ প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে আমরা আপনার সাথে ঐকমত্য হবো অথবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার বন্ধু হলেন জিবরাঈল (আ)। আল্লাহ যে সকল নবীকে প্রেরণ করেছেন জিবরাঈল (আ) তাদের সকলেরই বন্ধু। তারা বলল, এখানেই আমরা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি। জিবরাঈল ব্যতীত অন্য কোন ফিরিশতা আপনার বন্ধু হলে আমরা আপনার অনুসরণ করতাম এবং আপনাকে সত্য বলে মেনে নিতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে সত্য বলে মেনে নিতে তোমাদের বাধা কোথায়? তারা বলল, সে আমাদের শত্রু। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা সে ব্যাপারে বলেন, "বল, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু এজন্য যে, সে আল্লাহর নির্দেশে তোমার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছে দিয়েছে..... তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল, যেন তারা জানে না(১) ফলে তারা অনবরত আযাবে নিপতিত হতে থাকল।
(তিরমিযী, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. আল কুরআন, ২। ৯৭-১০১।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب من كان عدوا لجبريل الخ
عن ابن عباس قال أقبلت يهود إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا أبا القاسم انا نسألك عن خمسة أشياء فان أنبأتنا بهن عرفنا انك نبي واتبعناك فأخذ عليهم ما أخذ اسرائيل (7) على بنيه إذ قال الله على ما نقول وكيل (8) قال هاتوا قالوا خبرنا عن علامة النبي؟ قال تنام عيناه ولا ينام قلبه قالوا خبرنا كيف تؤنث المرأة وكيف تذكر (9) قال يلتقي الماءان فإذا علا ماء الرجل ماء المرأة أذكرت واذا علا ماء المرأة ماء الرجل آنثت قالوا أخبرنا ما حرم اسرائيل على نفسه؟ قال كان يشتكي عرق النسا فلم يجد شيئا يلائمه إلا البان كذا وكذا قال أبي (10) قال بعضهم يعني الإبل فحرم لحومها قالوا صدقت قالوا أخبرنا ما هذا الرعد؟ قال ملك من ملائكة الله عز وجل موكل بالسحاب بيده أو في يده مخراق (11) من نار يزجر به السحاب يسوقه حيث أمر الله قالوا فما هذا الصوت الذي يسمع؟ قال صوته قالوا صدقت انما بقيت واحدة وهي التي نبايعك ان اخبرتنا بها فإنه ليس من نبي إلا له ملك يأتيه بالخبر فأخبرنا من صاحبك؟ قال جبريل قالوا جبريل ذاك الذي ينزل بالحرب والقتال والعذاب عدونا (1) لو قلت ميكائيل الذي ينزل بالرحمة والنبات والقطر لكان فأنزل الله عز وجل (من كان عدوا لجبريل الخ الآية) (2) (وعنه أيضا من طريق ثان) (3) قال حضرت عصابة من اليهود نبي الله صلى الله عليه وسلم يوما فقالوا يا أبا القاسم حدثنا عن خلال نسألك عنهن لا يعلمهن إلا نبي قال سلوني عما شئتم ولكن اجعلوا ذمة الله وما أخذ يعقوب عليه السلام على بنيه لئن حدثتكم شيئا فعرفتموه لتتابعني على الاسلام؟ قالوا فذلك لك قال فسلوني ما شئتم قالوا اخبرنا عن أربع خلال نسألك عنهن أخبرنا أي الطعام حرم اسرائيل على نفسه من قبل أن تنزل التوراة وأخبرنا كيف ماء المرأة وماء الرجل كيف يكون الذكر منه وأخبرنا كيف هذا النبي الأمي في النوم ومن وليه من الملائكة؟ قال فعليكم عهد الله وميثاقه لئن أنا أخبرتكم لتتابعني؟ قال فأعطوه ما شاء من عهد وميثاق قال فأنشدكم بالذي أنزل التوراة على موسى صلى الله عليه وسلم هل تعلمون ان اسرائيل يعقوب عليه السلام مرض مرضا شديدا وطال سقمه فنذر لله نذرا لئن شفاه الله تعالى من سقمه ليحرمن أحب الشراب اليه واحب الطعام اليه؟ وكان أحب الطعام اليه لحمان الإبل واحب الشراب اليه البانها؟ (4) قالوا اللهم نعم قال اللهم اشهد عليهم فانشدكم بالله الذي لا إله إلا هو الذي انزل التوراة على موسى هل تعلمون ان ماء الرجل أبيض غليظ وان ماء المرأة أصفر رقيق فأيهما علا كان له الولد والشبه بإذن الله إن علا ماء الرجل على ماء المرأة كان ذكرا باذن الله وان علا ماء المرأة على ماء الرجل كان أنثى بإذن الله؟ قالوا اللهم أشهد عليهم فأنشدكم بالذي انزل التوراة على موسى هل تعلمون أن هذا النبي الأمي تنام عيناه ولا ينام قلبه؟ قالوا اللهم نعم قال اللهم اشهد قالوا اللهم نعم قال اللهم اشهد قالوا وانت الآن فحدثنا من وليك من الملائكة فعندها نجامعك أو نفارقك قال فإن ولي جبريل عليه السلام ولم يبعث الله نبيا قط إلا وهو وليه قالوا فعندها نفارقك لو كان وليك سواه من الملائكة لتابعناك وصدقناك قال فما يمنعكم من أن تصدقوه؟ قالوا انه عدونا قال فعند ذلك قال الله عز وجل (قل من كان عدوا لجبريل فإنه نزله على قلبك بإذن الله (1) إلى قوله عز وجل كتاب الله وراء ظهورهم كأنهم لا يعلمون) (2) فعند ذلك باءوا بغضب على غضب الآية
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "যে দিকেই তোমরা মুখ ফিরাও না কেন, সেদিকই আল্লাহর দিক। "১
টিকা: ১. আল কুরআন, ২: ১১৫।
১৬৬। আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা থেকে মদীনা অভিমুখে সফররত অবস্থায় আরোহীর পিঠে চড়ে মক্কার দিকে মুখ করে নফল সালাত আদায় করছিলেন, তখন নাজিল হলো, যে দিকেই তোমরা মুখ ফিরাও না কেন, সে দিকই আল্লাহর দিক।
(মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب فأينما تولوا فثم وجه الله
عن ابن عمر قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلى على راحلته مقبلا من مكة إلى المدينة حيث توجهت به (5) وفيه نزلت هذه الآية (فأينما تولوا فثم وجه الله
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর। ২
টিকা: ২. আল কুরআন, ২: ১২৫।
১৬৭। আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রা) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার মত আল্লাহর ইচ্ছানুরূপ হয়েছে।
প্রথমত: আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলেছিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাকামে ইবরাহীমকে(১) যদি আমরা সালাত আদায়ের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতাম। তখন নাজিল হল "তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর।"
দ্বিতীয়ত: আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলেছিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনার স্ত্রীদের নিকট পূণ্যবান ও পাপী নির্বিশেষে সকলেই গমন করে তাই আপনি যদি তাদেরকে পর্দার নির্দেশ দিতেন, তখন মহান আল্লাহ পর্দার আয়াত (অর্থাৎ "হে মু'মিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করে খাদ্য গ্রহণের জন্য নবী-গৃহে প্রবেশ কর না। তবে তোমাদেরকে আহ্বান করলে তোমরা প্রবেশ করিও এবং ভোজনশেষে তোমরা চলে যাবে, তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড় না। কারণ তোমাদের এ আচরণ নবীকে পীড়া দেয়, সে তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করে। কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেন না। তোমরা তার স্ত্রীদের নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাইবে। এই বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র। তোমাদের কারও বক্ষে আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া সংগত নয় এবং তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য কখনও বৈধ নয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা ঘোরতর অপরাধ) নাজিল হয়।
তৃতীয়ত: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর আত্মভিমানে তাঁর স্ত্রীগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। তখন আমি তাদেরকে বললাম, যদি নবী (ﷺ) তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করে তবে তাঁর প্রতি পালক সম্ভবত তোমাদের স্থলে তাঁকে তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী দান করবেন। তখন আল্লাহ নাজিল করলেন; যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করে তবে তার প্রতিপালক সম্ভবত তোমাদের স্থলে তাকে দিবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী-যারা হবে আত্মসমর্পণকারী। বিশ্বাসী, অনুগত, তওবাকারী, ইবাদতকারী, সিয়াম পালনকারী, অকুমারী এবং কুমারী।(১)
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ৩. যে পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে ইবরাহীম (আ) কা'বা গৃহ নির্মাণ করেছিলেন।
১. আল-কুরআন, ৬৬: ০৫
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب واتخذوا من مقام ابراهيم مصلى
عن أنس قال قال عمر رضي الله عنه وافقت ربي في ثلاث قلت يا رسول الله لو اتخذنا من مقام ابراهيم مصلى (2) فنزلت (واتخذوا من مقام ابراهيم مصلى) وقلت يا رسول الله إن نساءك يدخل عليهن البر والفاجر فلو أمرتهن أن يحتجبن فنزلت آية الحجاب (3) واجتمع على رسول الله صلى الله عليه وسلم نساؤه في الغيرة (4) فقلت لهن عسى ربه إن طلقكن أن يبدله أزواجا خيرا منكن قال فنزلت كذلك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি।(২)
টিকা: ২. আল-কুরআন, ০২: ১৪৩
১৬৮। আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মহান আল্লাহর বাণী "এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি"-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন মধ্যপন্থী অর্থ হল ভারসাম্যপূর্ণ ন্যায় পন্থী।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وكذلك جعلناكم أمة وسطا
عن أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله عز وجل (وكذلك جعلناكم أمة وسطا) (7) قال عدلا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি।(২)
১৬৯। আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেছেন, কিয়ামতের দিন নূহ (আ) কে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হবে, আপনি কি আপনার উম্মতের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌছিয়েছিলেন? তিনি (আ) বলবেন, হ্যাঁ। তখন তার উম্মতদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তিনি কি তোমাদের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌছিয়েছেন? তারা বলবে, আমাদের নিকট কোন সতর্ককারী আসেনি আর কেউ আমাদের নিকট কোন দাওয়াত নিয়ে আসেনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তখন নূহ (আ) কে ডেকে বলা হবে, আপনার সাক্ষী কে? তিনি (আ) বলবেন, মুহাম্মদ ও তার উম্মতগণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এরূপে আল্লাহর বাণী 'এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি” এর বাস্তবায়ন হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মধ্যপন্থী অর্থ হল ন্যায় পন্থী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! এর উম্মতদেরকে ডাকা হলে তারা সাক্ষ্য দিবে নুহ (আ) এর দাওয়াত পৌছানোর পক্ষে। তিনি প্রায় আর ও বলেন, তখন আমি তোমাদের সাক্ষ্যকে সত্যয়ন করব।
(বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وكذلك جعلناكم أمة وسطا
وعنه أيضا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعى نوح عليه السلام يوم القيامة فيقال له هل بلغت؟ فيقول نعم فيدعى قومه فيقال لهم هل بلغكم؟ فيقولون ما أتانا من نذير أو ما أتانا من أحد قال فيقال لنوح من يشهد لك؟ فيقول محمد وأمته قال فذلك قوله عز وجل (وكذلك جعلناكم أمة وسطا) قال الوسط العدل قال فيدعون فيشهدون له بالبلاغ قال ثم اشهد عليكم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ এরূপ নন যে, তিনি তোমাদের ঈমানকে ব্যর্থ করে দিবেন।(১)
টিকা: ১. আল কুরআন, ২:১৪৩
১৭০। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কিবলাহ পরিবর্তিত হল তখন লোকেরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে জিজ্ঞাসা করছিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের অনেক সঙ্গী বাইতুল মুকাদ্দাস এর দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে মারা গেছেন (তাদের ব্যাপারে ফয়সালা কি হবে?) তখন মহান আল্লাহ নাজিল করলেন, "আল্লাহ এরূপ নন যে, তিনি তোমাদের ঈমানকে ব্যর্থ করে দিবেন।
(তিরমিযী, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وما كان الله ليضيع ايمانكم
عن ابن عباس قال لما حولت القبلة قال أناس يا رسول الله أصحابنا الذين ماتوا وهم يصلون إلى بيت المقدس (2) فأنزل الله (وما كان الله ليضيع إيمانكم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করি"(২)
টিকা: ২. আল কুরআন, ২: ১৪৪।
১৭১। আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাইতুল মুকাদ্দাস এর দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন, তখন নাজিল হল 'আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্যই লক্ষ্য করি। সুতরাং তোমাকে অবশ্যই এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি যা তুমি পছন্দ কর। অতএব তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও।" তখন এক ব্যক্তি বনু সালিমার নিকট থেকে হেঁটে যাচ্ছিলো আর তারা ছিল ফজরের সালাতে রুকুরত এবং তারা ইতোমধ্যে এক রাকাআত আদায় করে ফেলেছে, তখন সে ডেকে বললো, ওহে কিবলাহ পরিবর্তন করা হয়েছে, কিবলাহ কাবার দিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তারা সেই অবস্থায় কিবলার দিকে ফিরে গেল।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قد نرى تقلب وجهك في السماء الخ
عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي نحو بيت المقدس فنزلت (قد نرى تقلب وجهك في السماء فلنولينك قبلة ترضاها فول وجهك شطر المسجد الحرام) (4) قمر رجل من بني سلمة (1) وهم ركوع في صلاة الفجر وقد صلوا ركعة فنادى الا ان القبلة قد حولت الا ان القبلة قد حولت إلى الكعبة قال فمالوا كما هم نحو القبلة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করি"(২)
১৭২। বারা ইব্‌ন আযিব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিজরতের পর প্রথম ষোল মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেন, তারপর তাকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় আর তিনি তাই আশা করেছিলেন। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ন করেন, "আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্যই লক্ষ্য করি। সুতরাং তোমাকে অবশ্যই এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি যা তুমি পছন্দ কর। অতএব তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও......রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাতুল আছর আদায় করেছেন এমন এক ব্যক্তি তখন আনসারদের একটি গোত্রের নিকট থেকে হেঁটে যাচ্ছিলেন যারা সালাতুল আছরে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে রুকুরত অবস্থায় ছিল তিনি বললেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাতুল আছর কাবা অভিমুখী হয়ে আদায় করে এসেছেন এমন সাক্ষ্য দিচ্ছেন, বর্ণনাকারী বলেন, তখন তারা আছরের সালাতে রুকু অবস্থায়ই কাবার দিকে ঘুরে গেলেন।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب قد نرى تقلب وجهك في السماء الخ
عن البراء بن عازب قال صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم نحو بيت المقدس ستة عشر شهرا (4) ثم وجه إلى الكعبة وكان يحب ذلك فأنزل الله عز وجل (قد نرى تقلب وجهك في السماء فلنولينك قبلة ترضاها فول وجهك شطر المسجد الحرام الآية) قال فمر رجل صلى مع النبي صلى الله عليه وسلم العصر على قوم (5) من الأنصار وهم ركوع في صلاة العصر (6) نحو بيت المقدس فقال هو يشهد أنه صلى مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنه قد وجه إلى الكعبة قال فانحرفوا وهم ركوع في صلاة العصر
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত।(১)
টিকা: ১. আল কুরআন, ২: ১৫৮
১৭৩। উরওয়া (র) থেকে 'আয়েশা (রা) সূত্রে বর্ণিত, তিনি (র) বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে বললাম, মহান আল্লাহর বানী ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ করলে তার কোন পাপ নেই”- এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? বর্ণনাকারী আরও বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর কসম। এ দুটো তাওয়াফ না করলে কারও গুনাহ হবে না। আয়েশা (র) বলেন, হে ভাগ্নে তুমি যা বলেছো তা নেহাত ভুল। তুমি যেভাবে এর ব্যাখ্যা করেছো তেমনি হলে বলা হত এ দুটো তাওয়াফ না করলে কোন গুনাহ হবে না' বস্তুত এ আয়াতটি নাজিলের প্রেক্ষাপট হল আনসারগণ ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মানাত দেবীর উদ্দেশ্য ইহরাম বেঁধে যেত মুশাল্লালের নিকট তার তার পুজা করত। আর যে ব্যক্তি মানাত দেবীর পুজা করতো সে সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে তাওয়াফ করাকে নিজের জন্য গুনাহের কাজ মনে করত। আনসারগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করল ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) আমরা জাহেলী যুগে সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে তাওয়াফ করাকে গুনাহের কাজ মনে করতাম। (এখন এর বিধান কি? তখন মহান আল্লাহ নাজিল করলেন, "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কা'বা গৃহে হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এ দুটির মধ্যে সা'ঈ করলে তার কোন পাপ নেই।" আয়েশা (রা) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু'টির মাঝে তাওয়াফ করার প্রচলন করলেন, তাই কারও জন্য এ দুটির মাঝে তাওয়াফ পরিত্যাগ করা সমীচীন হবে না।
(বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ان الصفا والمروة من شعائر الله
عن عروة عن عائشة قال قلت أرأيت قول الله عز وجل (ان الصفا والمروة من شعائر الله فمن حج البيت أو اعتمر فلا جناح عليه أن يطوف بهما) قال فقلت فوالله ما على أحد جناح ان لا يطوف بهما فقالت عائشة بئسما قلت يا ابن اختي انها لو كانت على ما أولتها كانت فلا جناح عليه أن لا يطوف بهما ولكنها انما أنزلت أن الأنصار كانوا قبل أن يسلموا يهلون لمناة الطاغية التي كانوا يعبدون عند المشلل وكان من أهل لها تحرج أن يطوف بالصفا والمروة فسألوا عن ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله انا كنا نتحرج أن نطوف في الصفا والمروة في الجاهلية فأنزل الله عز وجل (ان الصفا والمروة من شعائر الله إلى قوله: فلا جناح عليه أن يطوف بهما) قالت عائشة ثم قد سن رسول الله صلى الله عليه وسلم الطواف بهما فليس ينبغي لأحد أن يدع الطواف بهما
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত।(১)
১৭৪। উরওয়া (র) হতে আয়েশা (রা) সূত্রে আরও বর্ণিত, তিনি মহান আল্লাহর বাণী” নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত”-এ প্রসংগে বলেন, জাহেলী যুগে মানাতে নিশ্চয়ই উপাসনা করত এমন কতিপয়, আনসার আর মানাত ছিল মক্কাও মদীনার মধ্যে অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ মূর্তি- বলল, হে আল্লাহর নবী! আমরা মানাতের সম্মানে সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে তাওয়াফ করতাম, এখন এ দুটোর মাঝে তাওয়াফ করতে আমাদের কোন সমস্যা আছে কি না? তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কাবা গৃহে হজ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এ দুটির মধ্যে সাঈ করলে তার কোন পাপ নেই।"
(বুখারী, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ان الصفا والمروة من شعائر الله
وعنه أيضا عن عائشة رضي الله عنها في قول الله عز وجل ان الصفا والمروة من شعائر الله قالت كان رجال من الانصار ممن يهل لمناة في الجاهلية ومناة صنم بين مكة والمدينة (2) قالوا يا نبي الله انا كنا نطوف بين الصفا والمروة تعظيما لمناة فهل علينا من حرج أن نطوف بهما؟ فأنزل الله عز وجل (ان الصفا والمروة من شعائر الله فمن حج البيت أو اعتمر فلا جناح عليه أن يطوف بهما
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "হে মু'মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল।"(১)
১. আল-কুরআন, ২: ১৮৩
১৭৫। মু'আয়াজ ইবন জাবাল (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় এসে প্রতিমাসে তিনদিন এবং প্রতি আশুরার দিন রোজা রাখছিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর ওপর রমাজানের রোজা ফরজ করলেন, মহান আল্লাহ নাজিল করলেন, "হে মু'মিনগণ। তোমাদের জন্য সিয়াসের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেয়া হয়েছিল যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েকদিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূর্ণ করে নিতে হবে। এটা যাদেরকে অতি কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদয়া- একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা।(১)
বর্ণনাকারী বলেন, তখন যার ইচ্ছা সাওম পালন করতো, আর যার ইচ্ছা এর পরিবর্তে এক এক জন মিসকিনকে খাদ্য দান করতো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করলেন, "রামাযান মাস, এতে মানুষের দিশারী ও সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে।(২)
বর্ণনাকারী বলেন, এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ এ মাসে মুকীম সুস্থ ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ হিসেবে সাব্যস্ত করলেন এবং অসুস্থ ও মুসাফিরের ওপর এ মাসে তা শিথিল করে দিলেন। আর রোজা পালনে অক্ষম বৃদ্ধের জন্য অভাব গ্রস্তকে খাদ্য খাওয়ানোর বিধান জারী করলেন। উল্লিখিত দু'অবস্থায় অর্থাৎ মুকীম ও সুস্থ অবস্থায় সাহাবীরা ঘুমের পূর্ব পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করতেন, ঘুমালে তারা সকল কিছু পরিহার করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, সিরমা নামক জনৈক আনসার সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যা বেলা তার পরিবারের নিকট ফিরে এসে ইশার সালাত আদায় করলেন, অতঃপর ঘুমিয়ে পড়লেন, সকাল পর্যন্ত তিনি কিছুই পানাহার করেননি। সকালে তিনি রোজাদার অবস্থায়ই ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অত্যন্ত ক্ষুধাকাতর অবস্থায় দেখতে পেলেন। সে বলল ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমি গতকাল রোজা রেখে আমার দৈনন্দিন সকল কাজ শেষে ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়েছি, আবার যথা সময়ে রোজাদার অবস্থাতেই ঘুম থেকে উঠেছি। বর্ণনাকারী বলেন, উমর (রা) ঘুমানোর পর একজন দাসী বা স্বাধীন স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বিষয়টি অবহিত করলে মহান আল্লাহ নাজিল করেন, সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ্ জানেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ্ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কৃষ্ণরেখা হতে উষার শুভ্র রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর নিশাগম পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর।" (আল-কুরআন, ০২: ১৮৭)
]টিকা: ১. আল-কুরআন, ২। ১৮৩-১৮৪।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ২: ১৮৫।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الذين آمنوا كتب عليكم الصيام
عن معاذ بن جبل قال قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة فجعل يصوم من كل شهر ثلاثة أيام وصام يوم عاشوراء ثم ان الله عز وجل فرض عليه الصيام فأنزل الله عز وجل (يا أيها الذين آمنو كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم) إلى هذه الآية (وعلى الذين يطيقونه فدية طعام مسكين) قال فكان من شاء صام ومن شاء أطعم مسكينا فأجزأ ذلك عنه قال ثم ان الله عز وجل انزل الآية الأخرى (شهر رمضان الذي أنزل فيه القرآن) إلى قوله (فمن شهد منكم الشهر فليصمه) قال فأثبت الله صيامه على المقيم الصحيح ورخص فيه للمريض والمسافر وثبت الاطعام للكبير الذي لا يستطيع الصيام (فهذان حالان) قال وكانوا يأكلون ويشربون ويأتون النساء مالم يناموا فإذا ناموا امتنعوا قال ثم ان رجلا من الانصار يقال له صرمة ظل يعمل صائما حتى أمسى فجاء إلى أهله فصلى العشاء ثم نام فلم يأكل ولم يشرب حتى أصبح فأصبح صائما قال فرآه رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد جهد جهدا شديدا قال يا رسول الله اني عملت أمس فجئت حين جئت فألقيت نفسي فنمت وأصبحت حين أصبحت صائما قال وكان عمر قد أصاب من النساء من جارية أو من حرة بعد ما قام (2) وأتى النبي صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك فأنزل الله (احل لكم ليلة الصيام الرفث في نسائكم) إلى قوله (ثم اتموا الصيام إلى الليل)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে।'(১)
১৭৬। বারা ইবন 'আযিব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ (ﷺ) এর সাহাবীদের মধ্যে এক
ব্যক্তি রোজা রাখল, ইফতারের সময় হলে সে কোন কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে গেল, সে ঐ রাতে কিছু খায়নি এবং পরবর্তী দিনেও কিছু খায় নি, এভাবে বিকাল হয়ে গেল। (অপর এক বর্ণনামতে) অমুক আনসার ব্যক্তি(২) রোজা রাখল, ইফতারের সময় হলে তার স্ত্রীর নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করল, তোমার নিকট কি কোন খাবার আছে? স্ত্রী বলল, না, তবে আমি গিয়ে তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসছি। এক পর্যায়ে সে ঘুমিয়ে পড়ল। তার স্ত্রী ফিরে এসে তাকে ঘুমন্ত দেখে বলল, তোমার জন্য দূর্ভাগ্য। এভাবে রাত গড়িয়ে সকাল হয়ে দিনের মধ্যভাগে ঐ ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তখন নাজিল হল, "সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ জানেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কৃষ্ণরেখা হতে উষার শুভ্র রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। "বারা ইব্‌ন 'আযিব থেকে অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে, তোমাদের মধ্যে যদি কেউ ঘুমিয়ে যায়... অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ববর্তী হাদীসের মত শব্দমালা উল্লেখ করে বলেন আবূ কায়স ইবন আমর (রা) এর ব্যাপারে আয়াত খানা নাজিল হয়েছে।
(বুখারী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, অন্যান্য গ্রন্থ সূত্র।)
টিকাঃ ১. আল-কুরআন, ০২: ১৮৭
২. তিনি কায়েস ইন ছিরমা (রা)।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب أحل لكم ليلة الصيام الرفث إلى نسائكم
عن البراء قال كان أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم اذا كان الرجل صائما فحضر الافطار فنام قبل ان يفطر لم يأكل ليلته ولا يومه حتى يمسي وان فلانا (4) الانصاري كان صائما فلما حضره الافطار اتى امرأته فقال هل عندك من طعام؟ قالت لا ولكن انطلق فاطلب لك فغلبته عينه وجاءته امرأته فلما رأته قالت خيبة لك فأصبح فلما انتصف النهار غشي عليه فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فنزلت هذه الآية (أحل لكم ليلة الصيام الرفث إلى نسائكم) (1) إلى قوله تعالى (حتي يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود) (وعنه من طريق ثان) (2) ان احدهم كان إذا نام فذكر نحوا من حديث اسرائيل إلا أنه قال نزلت في ابي قيس بن عمرو
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কৃষ্ণরেখা হতে উষার শুভ্র রেখা স্পষ্ট রূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়।"(১)
১৭৭। 'আদী ইবন হাতিম (রা) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াতখানা অবতীর্ণ হল- "আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কৃষ্ণরেখা হতে উষার শুভ্র রেখা স্পষ্ট রূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়-" তখন আমি দুটি রশি সংগ্রহ করলাম যাদের একটি করলো ও অপরটি সাদা, তারপর সে দুটোকে আমার বালিশের নিচে রাখলাম, তিনি বলেন, আমি ঐ দুটোর দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিন্তু সাদ্যটি হতে কালোটি অথবা কালোটি হতে সাদাটি কোনটি স্পষ্ট হল না। সকাল হলে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে আমার কাজের বিবরণ দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার বালিশ তো তাহলে খুবই প্রশস্ত। এর দ্বারা রাতের কৃষ্ণতা হতে দিনের শুভ্রতা স্পষ্ট হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকাঃ ১. আল-কুরআন, ০২: ১৮৭
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وكلوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر
عن عدي بن حاتم قال لما نزلت هذه الآية (وكلوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود) (1) قال عمدت إلى عقالين (2) أحدهما اسود والآخر أبيض فجعلتهما تحت وسادتي (3) قال ثم جعلت أنظر اليهما فلا تبين لي الأسود من الأبيض ولا الأبيض من الأسود فلما أصبحت غدوت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبرته بالذي صنعت فقال ان وسادك اذا لعريض (4) انما ذلك بياض النهار من سواد الليل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। "আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কৃষ্ণরেখা হতে উষার শুভ্র রেখা স্পষ্ট রূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়।
১৭৮। 'আদী ইবন হাতিম (রা) হতে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে সালাত ও সাওম আদায়ের পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তুমি এরূপ সালাত আদায় কর, এরূপ সাওম আদায় কর। যখন সূর্য অস্ত যাবে তখন পানাহার করবে যতক্ষণ না কৃষ্ণ রজ্জু হতে শুভ্র রজ্জু বেরিয়ে আসে, আর তুমি ত্রিশটি রোজা পালন করবে তবে ত্রিশটি পূর্ণ হওয়ার পূর্বে চাঁদ দেখা গেলে ভিন্ন কথা। তখন আমি কালো ও সাদা পশমের দুটো রশি সংগ্রহ করে তাদের দিকে লক্ষ্য রাখলাম, কিন্তু কালোটি হতে সাদাটি প্রতিভাত হল না। অতঃপর আমি এ ঘটনা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে ব্যক্ত করলে তিনি হেসে ফেললেন এবং বললেন, ওহে হাতিম পূত্র। এটাতো রাতের কৃষ্ণতা থেকে বেরিয়ে আসা দিনের শুভ্রতা।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وكلوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر
وعنه أيضا قال علمني رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلاة والصيام قال صل كذا وكذا (6) وصم فاذا غابت الشمس فكل واشرب حتى يتبين لك الخيط الأبيض من الخيط الأسود (7) وصم ثلاثين يوما إلا أن تر الهلال قبل ذلك (8) فأخذت خيطين من شعر أسود وأبيض فكنت أنظرفيهما فلا يتبين لي فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فضحك (1) وقال يا ابن حاتم انما ذاك بياض النهار من سواد الليل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: "আল্লাহ জানেন যে, তোমার নিজেদের প্রতি অবিচার করেছিলে..."।(১)
টিকা: ১. আল কুরআন ০২: ১৮৭
১৭৯। 'আব্দুল্লাহ ইব্‌ন কা'ব ইব্‌ন মালিক (র) হতে, তিনি তার পিতা কা'ব ইবন মালিক (রা) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, (প্রথম দিকে) রমাজান মাসে লোকেরা যখন রোজা রাখত, তারপর সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে যেত, তখন তার জন্য পানাহার ও স্ত্রী সহবাস হারাম হয়ে যেত, যাবৎ না পরের দিন ইফতারের সময় হত। (সে সময়) একদিন 'উমর (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে একরাতে ফিরে এলেন, তিনি তাঁর কাছে দীর্ঘ রাত জাগ্রত ছিলেন। ফিরে এসে স্ত্রীকে ঘুমন্ত পেলেন, তখন তিনি স্ত্রীকে কামনা করলে স্ত্রী বলল, আমি তো ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তিনি বললেন, আমি তো ঘুমাইনি। অতঃপর তিনি তার সাথে মিলিত হলেন। আর কা'ব ইবন মালিক ও অনুরূপ করলেন, পরদিন সকালে 'উমর (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে এ তথ্যটি জানালে মহান আল্লাহ নাজিল করলেন, "আল্লাহ জানেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন।"
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب علم الله أنكم كنتم تختانون أنفسكم الخ
عن عبد الله بن كعب بن مالك عن أبيه قال كان الناس في رمضان إذا صام الرجل فأمسى فنام حرم عليه الطعام والشراب والنساء حتى يفطر من الغد فرجع عمر بن الخطاب رضي الله عنه من عند النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة وقد سهر عنده فوجد امرأته قد نامت فأرادها فقالت اني قد نمت قال ما نمت ثم وقع بها وصنع كعب بن مالك مثل ذلك فغدا عمر إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأخبره فأنزل الله تعالى (علم الله أنكم كنتم تختانون (3) أنفسكم فتاب عليكم وعفا عنكم)
tahqiq

তাহকীক: