মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ২৫৪ টি
হাদীস নং: ১২১
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১২১। আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমর (রা)-এর নিকট রেশমের একটি জুব্বা পাঠালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর উমর (রা) নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে মিলিত হয়ে বললেন, আপনি আমার নিকট একটি রেশমের জুব্বা পাঠিয়েছেন, অথচ আপনি এ সম্বন্ধে কত কিছু না বলেছেন? তিনি বললেন, আমি এটা এ জন্য পাঠাই নি যে, তুমি তা পরিধান করবে। আমি কেবল এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি তা বিক্রয় করবে অথবা বললেন, এর দ্বারা উপকৃত হবে।
(মুসলিম, তায়ালিসী ও অন্যান্য)
(মুসলিম, তায়ালিসী ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
121- عن أنس بن مالك قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عمر بجبة سندس قال فلقى عمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال بعثت إلى بجبة سندس وقد قلت فيها ما قلت؟ قال أني لم أبعث بها إليك لتلبسها، إنما بعثت بها إليك لتبيعها أو تستنفع بها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২২
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১২২। ইয়াহয়া ইবন জাবির (র) সূত্রে যামরা ইবন সা'লাবা (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) -এর নিকট আসলেন। সে সময় তাঁর গায়ে এক জোড়া ইয়ামানী কাপড় ছিল। তিনি বললেন, হে যামরা। তুমি কি মনে কর যে, এই কাপড় দু'টি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তখন যামারা (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন, আমি (দাঁড়ানো থেকে) বসব না; যাবত না আমি আমার জামাগুলো খুলে ফেলি। নবী বললেন, হে আল্লাহ! আপনি যামরাকে ক্ষমা করুন। তারপর তিনি দ্রুত চলে গিয়ে জামাগুলো খুলে নিলেন।
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
122- عن يحيى بن جابرعن ضمرة بن ثعلبة رضي الله عنه أنه أتى النبي صلى الله عليه وسلم وعليه حلتان من حلل اليمن فقال يا ضمرة أترى ثوبيك هذين مدخليك الجنة؟ فقال لئن استغفرت لي يا رسول الله لا أقعد حتى أنزعها عني، فقال النبي صلى الله عليه وسلم اللهم أغفر لضمرة بن ثعلبة فانطلق سريعا حتى نزعهما عنه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৩
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১২৩। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আলী ইবন আসিম (র)। তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সুলায়মান তায়মী (র)। তিনি বলেন, আমার কাছে হাসান (র) আবু উসমান নাহদী (র) থেকে রেশমী কাপড় সম্বন্ধে উমর (র) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাসান (র) বলেছেন, আমাকে আমার গোত্রের জনৈক ব্যক্তি জানিয়েছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলেন। সে সময় তাঁর গায়ে রেশমের নকশী করা একটি জুব্বা ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এগুলো আগুনের নকশা।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। হায়ছামী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে বর্ণনাকারী 'আলী ইবন 'আসিম ইবন সুহায়ব' সম্বন্ধে তিনি বলেছেন, তিনি অধিকাংশ ভুল করেন।)
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। হায়ছামী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে বর্ণনাকারী 'আলী ইবন 'আসিম ইবন সুহায়ব' সম্বন্ধে তিনি বলেছেন, তিনি অধিকাংশ ভুল করেন।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
123- حدثنا على بن عاصم أنا سليمان التيمي قال حدثني الحسن بحديث أبي عثمان النهدي عن عمر في الديباج فقال الحسن اخبرني رجل من الحي أنه دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه جبة لبنتها ديباج قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لبنة من نار
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৪
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১২৪। হাফসা (র) থেকে বর্ণিত। উতারিদ ইবন হাজিব (র) (পারস্য হতে) আসলেন। সে সময় তার গায়ে রেশমের কাপড় ছিল। কিসরা (পারস্য সম্রাট) তাকে এটা পরিয়ে দিয়েছেন। উমর (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এটা খরিদ করে নিন। তখন তিনি বললেন, এটা এমন ব্যক্তি পরে, যার পরকালে কোন অংশ নেই।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদ উত্তম। মুসলিম, ইবন মাজাহ ও তায়ালিসী উমর (র) সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদ উত্তম। মুসলিম, ইবন মাজাহ ও তায়ালিসী উমর (র) সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
124- عن حفصة أن عطارد بن حاجب قدم معه ثوب ديباج كساه أياه كسرى، فقال عمر يا رسول الله لو اشتريته؟ فقال إنما يلبسه من لا خلاق له
হাদীস নং: ১২৫
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১২৫। হাবীব ইবন উবায়দ রাহাবী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ উমামা (রা) খালিদ ইবন ইয়াযীদের নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি তাঁর জন্য একটি গদি বিছিয়ে দেয়। আবু উমামা (রা) এটাকে রেশমের তৈরী মনে করে পিছনে চলে আসলেন। এমনকি তিনি আবু উমামা (রা)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, ভাই। এটাকে কী মনে করেছেন? আপনি কি এটাকে রেশমের মনে করেছেন? আবু উমামা (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট পুরস্কার আশা করে সে রেশম ব্যবহার করে না। তখন খালিদ তাকে বললেন, হে আবূ উমামা! আপনি এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। (তুমি কীভাবে এটা বললে যে,) আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছেন। বরং আমরা একদল লোক ছিলাম। তারা ( রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর ওপর) মিথ্যা আরোপ করেন নি এবং আমি তোমাকে (এটা পৌছানোর ক্ষেত্রে) মিথ্যা বলি নি।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী 'আবু বাকর ইবন আবি মারয়াম' বিতর্কিত। তিনি শেষ জীবনে স্মৃতি বিভ্রাটে আক্রান্ত হয়েছিলেন।)
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী 'আবু বাকর ইবন আবি মারয়াম' বিতর্কিত। তিনি শেষ জীবনে স্মৃতি বিভ্রাটে আক্রান্ত হয়েছিলেন।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
125- عن حبيب بن عبيد الرحي أن أبا إمامة رضي الله عنه دخل على خالد بن يزيد فألقى له وسادة فظن أبو إمامة أنها حرير فتنحى يمشي القهقرى حتى بلغ آخر السماط وخالد يكلم رجلا ثم التفت إلى أبي إمامة فقال له يا أخي ما ظننت؟ أظننت أنها حرير؟ قال أبو إمامة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يستمتع بالحرير من يرجو أيام الله فقال له خالد يا أبا أمامة أنت سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اللهم غفرا أنت سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم بل كنا في قوم ما كذبونا ولا كذبنا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৬
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম মহিলাদের জন্য ব্যবহার করা বৈধ। পুরুষদের জন্য নয়।
১২৬। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একটি রেশমের কাপড় নিয়ে তার ডান হাতে রাখলেন এবং একখণ্ড স্বর্ণ নিয়ে তার বাম হাতে রাখলেন। তারপর বললেন, এ দু'টি আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান)
(ইবনুল মাদীনী (র) বলেছেন, হাদীসটি হাসান এবং এর বর্ণনকারীগণ প্রসিদ্ধ।)
(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান)
(ইবনুল মাদীনী (র) বলেছেন, হাদীসটি হাসান এবং এর বর্ণনকারীগণ প্রসিদ্ধ।)
كتاب اللباس والزنية
باب الرخصة في جوازهما للنساء دون الرجال
126- عن على رضي الله عنه قال إن النبي صلى الله عليه وسلم أخذ حريرا فجعله في يمينه وأخذ ذهبا فجعله شماله ثم قال إن هذين حرام على ذكور أمتي
হাদীস নং: ১২৭
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম মহিলাদের জন্য ব্যবহার করা বৈধ। পুরুষদের জন্য নয়।
১২৭। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রেশম এবং স্বর্ণ আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম, মহিলাদের জন্য জায়িয।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, তায়ালিসী)
(তিরমিযী (র) বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। মুনযিরী (র)ও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন।)
(আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, তায়ালিসী)
(তিরমিযী (র) বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। মুনযিরী (র)ও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
باب الرخصة في جوازهما للنساء دون الرجال
127- عن أبي موسى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الحرير والذهب حرام على ذكور أمتي وحل لإناثهم
হাদীস নং: ১২৮
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম মহিলাদের জন্য ব্যবহার করা বৈধ। পুরুষদের জন্য নয়।
১২৮। আলী (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) -কে রেশমযুক্ত একটি চাদর হাদিয়া দেওয়া হল। তিনি সেটাকে আমার নিকট পাঠিয়ে দিলেন। আমি সেটা (পরিধান করে) নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর চেহারায় ক্রোধ লক্ষ্য করলাম। আলী (রা) বলেন, তারপর আমি এটা আমার মহিলাদের মধ্যে বণ্টন করে দেই।
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) -এর নিকট রেশমী চাদর আনা হলে তিনি সেটা আমার নিকট পাঠিয়ে দেন। আমি তা পরলাম। তখন আমি তার চেহারায় এর প্রতি ঘৃণা লক্ষ্য করলাম। তারপর তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে সেটাকে উড়না বানিয়ে মহিলাদের মধ্যে বণ্টন করে দেই।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তায়ালিসী)
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) -এর নিকট রেশমী চাদর আনা হলে তিনি সেটা আমার নিকট পাঠিয়ে দেন। আমি তা পরলাম। তখন আমি তার চেহারায় এর প্রতি ঘৃণা লক্ষ্য করলাম। তারপর তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে সেটাকে উড়না বানিয়ে মহিলাদের মধ্যে বণ্টন করে দেই।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তায়ালিসী)
كتاب اللباس والزنية
باب الرخصة في جوازهما للنساء دون الرجال
128- عن على رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم أهديت له حلة سيراء فأرسل بها إلى فرحت بها فعرفت في وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم اغضب قال فقسمتها بين نسائي وعنه عن طريق ثان قال أتى النبي صلى الله عليه وسلم بحلة حرير فبعث بها إلى فلبستها فرأيت الكراهية في وجهه فأمرني فأطرتها خمرا بين النساء
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৯
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম মহিলাদের জন্য ব্যবহার করা বৈধ। পুরুষদের জন্য নয়।
১২৯। হুবায়রা সূত্রে আলী (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী (ﷺ) -কে রেশমের একটি চাদর হাদিয়া দেওয়া হয়। তিনি সেটা আমাকে দিয়ে দেন। আলী (রা) বলেন, তারপর আমি সেটা পরে বের হলে নবী (ﷺ) বললেন, আমি নিজের জন্য যা অপছন্দ করি, তা তোমার জন্য পছন্দ করি না। আলী (রা) বলেন, এরপর তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে সেটাকে খণ্ড করে উড়না বানিয়ে মহিলাদের মধ্যে বণ্টন করে দেই। অর্থাৎ ফাতিমা এবং তার ফুফুকে দিয়ে দিলাম।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ ও অন্যান্য)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب الرخصة في جوازهما للنساء دون الرجال
129- عن هبيرى عن على رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم أهديت له حلة من حرير فكسانيها قال على رضي الله عنه فخرجت فيها فقال النبي صلى الله عليه وسلم لست أرضي لك ما أكره لنفسي، قال فأمرني فشققتها بين نسائي خمرا بين فاطمة وعمته
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩০
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম মহিলাদের জন্য ব্যবহার করা বৈধ। পুরুষদের জন্য নয়।
১৩০। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদা উমর (রা) নবী (ﷺ) -এর নিকট মোটা রেশমের চাদর নিয়ে আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এই চাদরটি খরিদ করে নিন। লোকদের প্রতিনিধি দল আসলে আপনি এটা পরিধান করবেন। তিনি বললেন, এটা তো সে ব্যক্তি পরে, যার পরকালে কোন অংশ নেই। (বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর নবী (ﷺ) -এর নিকট তিন জোড়া কাপড় আনা হয়। তখন তিনি এক জোড়া উমর (রা)-এর নিকট এক জোড়া আলী (রা)-এর নিকট এবং এক জোড়া উসামা ইবন যায়েদ (রা)-এর নিকটে পাঠান। তারপর উমর (রা) তাঁর জোড়া নিয়ে নবী (ﷺ) - এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এটা আমার নিকট পাঠিয়েছেন; অথচা আমি শুনেছি, আপনি এ সম্বন্ধে যা বলার তাই বলেছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তোমার নিকট এটা বিক্রি করার জন্য অথবা এটা খণ্ড করে তোমার পরিবাস্থ মহিলাদেরকে উড়না বানিয়ে দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছি।
বর্ণনাকারী ইসহাক (র) তার বর্ণিত হাদীসে বলেন, এবং উসামা (রা)ও তার জোড়া পরে তাঁর নিকট আসলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তোমার নিকট এটা পরিধান করার জন্য পাঠাই নি। আমি তা কেবল তোমার নিকট এটা বিক্রি করার জন্য পাঠিয়েছি। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি জানি না, তিনি উসামা (রা)-কে তা খণ্ড করে উড়না বানাতে বলেছেন, কি না। আবদুল্লাহ ইবন হারিস (র) তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, তিনি সালিম ইবন আবদিল্লাহ (র)-কে বলতে শুনেছেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-কে বলতে শুনেছি, উমর (রা) রেশমের চাদর পেলেন। তারপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)
বর্ণনাকারী ইসহাক (র) তার বর্ণিত হাদীসে বলেন, এবং উসামা (রা)ও তার জোড়া পরে তাঁর নিকট আসলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তোমার নিকট এটা পরিধান করার জন্য পাঠাই নি। আমি তা কেবল তোমার নিকট এটা বিক্রি করার জন্য পাঠিয়েছি। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি জানি না, তিনি উসামা (রা)-কে তা খণ্ড করে উড়না বানাতে বলেছেন, কি না। আবদুল্লাহ ইবন হারিস (র) তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, তিনি সালিম ইবন আবদিল্লাহ (র)-কে বলতে শুনেছেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-কে বলতে শুনেছি, উমর (রা) রেশমের চাদর পেলেন। তারপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)
كتاب اللباس والزنية
باب الرخصة في جوازهما للنساء دون الرجال
130- عن عبد الله بن عمر أن عمر بن الخطاب أتى النبي صلى الله عليه وسلم بحلة استبرق فقال يا رسول الله لو اشتريت هذه الحلة تلبسها إذا قدم عليك وفود الناس؟ فقال إنما يلبس هذا من لا خلاق له، ثم أتى النبي صلى الله عليه وسلم بحلل ثلاث فبعث إلى عمر بحلة، وإلى على بحلة، وإلى أسامة بن زيد بحلة، فأتى عمر رضي الله عنه بحلته النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله بعثت إلى بهذه وقد سمعتك قلت فيها ما قلت؟ قال إنما بعئت بها إليك لتبيعها أو تشققها لا هلك خمرا، قال إسحاق في حديثه وأتاه أسامة وعليه الحلة فقال أني لم أبعث بها إليك لتلبسها، إنما بعثت بها إليك لتبيعها، ما أدرى أقال لأسامة تشققها خمرا أم لا، قال عبد الله بن الحارث في حديثه أنه سمع سالم ابن عبد الله بقول سمعت عبد الله بن عمر يقول وجد عمر فذكر معناه
হাদীস নং: ১৩১
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম মহিলাদের জন্য ব্যবহার করা বৈধ। পুরুষদের জন্য নয়।
১৩১। তারই সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, উমর (রা) মসজিদের দরজার নিকট এক জোড়া রেশমী কাপড় বিক্রি হতে দেখে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। যদি আপনি এটা খরিদ করে নিতেন এবং শুক্রবার দিন আপনার নিকট প্রতিনিধি দলের আগমনের সময় পরতেন। (তবে ভাল হত)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা কেবল সে লোক পরে, যার পরকালে কো অংশ নেই। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট তা হতে কয়েক জোড়া (হাদিয়া) আসল। তখন তিনি এক জোড়া উমর (রা)-কে দিলেন। উমর (রা) বললেন, ইয়া রাসূল্লাহ! এটা আমাকে পরতে দিয়েছেন; অথচা আপনি এ সম্বন্ধে যা বলার তাই বলেছেন? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তোমাকে এটা পরার জন্য দেই নি। আমি তোমাকে কেবল এটা বিক্রি করার জন্য অথবা অন্যকে পরিয়ে দেওয়ার জন্য দিয়েছি। এরপর উমর (রা) মক্কার তার বৈপিত্রেয় মুশরিক ভাইকে পরার জন্য দিয়ে দিলেন। অন্য বর্ণনায় অতিরিক্ত হল, সালিম ইবন আবদিল্লাহ ইবন উমর (র) বলেছেন। এই হাদীসের কারণে ইবন উমর (রা) কাপড়ে রেশমের নকশা অপছন্দ করতেন।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ)
كتاب اللباس والزنية
باب الرخصة في جوازهما للنساء دون الرجال
131- وعنه أيضا أن عمر رضي الله عنه رأى حلة سيراء تباع عند باب المسجد فقال يا رسول الله لو اشتريتها فلبستها يوم الجمعة للوفود إذا قدموا عليك، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنما يلبس هذا من لا خلاق له في الآخرة، ثم جاءت رسول الله صلى الله عليه وسلم منها حلل فاعطى عمر منها حلة، فقال عمر يا رسول الله كسوتنيها وقد قلت فيها ما قلت؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أني لم أكسكها لتلبسها، إنما كسوتكها لتبيعها أو لتكسوها فكساها عمر أخل له مشركا من أمه بمكة زاد في أخرى قال سالم (يعني ابن عبد الله بن عمر) فمن أجل هذا الحديث كان ابن عمر يكره العلم في الثوب
হাদীস নং: ১৩২
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম মহিলাদের জন্য ব্যবহার করা বৈধ। পুরুষদের জন্য নয়।
১৩২। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নাজ্জাশীর পক্ষ হতে নবী (ﷺ) -এর নিকট কিছু অলংকার পেশ করা হয়। নাজ্জাশী এগুলো তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন। এগুলোর মধ্যে একটি স্বর্ণের আংটি ছিল। তাতে হাবশী নগিনা যুক্ত ছিল। নবী (ﷺ) মুখ ফিরিয়ে একটি লাঠির সাহায্যে এটাকে তার একটি আঙ্গুলে নিলেন। তারপর তিনি তাঁর নাতনী উমামা বিনতে আবিল আস (রা)-কে ডেকে বললেন, হে প্রিয় নাতনী। তুমি এটা ব্যবহার কর।
(আবু দাউদ (র)-এর বর্ণনায় তিনি 'আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন' বাক্য উল্লেখ করেছেন। এ হিসেবে হাদীসটি দলিলযোগ্য।)
(আবু দাউদ (র)-এর বর্ণনায় তিনি 'আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন' বাক্য উল্লেখ করেছেন। এ হিসেবে হাদীসটি দলিলযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب الرخصة في جوازهما للنساء دون الرجال
132- عن عائشة رضي الله عنها قالت قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم حلية من عند لنجاشي أهداها له فيها خاتم من ذهب فيه فص حبشي فأخذه النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم بعود ببعض أصابعه معرضا عنه ث دعا أمامة بنت أبي العاص ابنة ابنته فقال تحلي بهذا يا بنية
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৩
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ প্রয়োজনবশত পুরুষের জন্য স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করার অনুমতি প্রসঙ্গ
(নাকে জখম হলে স্বর্ণ দ্বারা বাঁধাই করা।)
(নাকে জখম হলে স্বর্ণ দ্বারা বাঁধাই করা।)
১৩৩। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবন হারূন (র)। তিনি বলেন, আমার কাছে আবু আশহাব (র) আবদুর রহমান ইবন তারাফা (র) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তার দাদা আরফাজা জাহিলী যুগে কিলাব যুদ্ধের দিন তাঁর নাক আহত হয়। এ জন্য তিনি রূপা দ্বারা নাক তৈরী করেন। তারপর তাতে পচন ধরলে নবী (ﷺ) তাকে স্বর্ণ দ্বারা নাক তৈরী করতে নির্দেশ দিলেন।
বর্ণনাকারী ইয়াযীদ (র) বলেন, আবু আশহাব (র)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, আবদুর রহমান (র) কি তার দাদার সাক্ষাত পেয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (অন্য শব্দেঃ) আবূ আশহাব (র) বললেন, আবদুর রহমান (র) বলেছেন যে, তিনি তার দাদা 'আরফাযা (র)-কে দেখেছেন।
বর্ণনাকারী ইয়াযীদ (র) বলেন, আবু আশহাব (র)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, আবদুর রহমান (র) কি তার দাদার সাক্ষাত পেয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (অন্য শব্দেঃ) আবূ আশহাব (র) বললেন, আবদুর রহমান (র) বলেছেন যে, তিনি তার দাদা 'আরফাযা (র)-কে দেখেছেন।
كتاب اللباس والزنية
أبواب الرخصة في استعمال الذهب والحرير للرجال لحاجة - باب من أصيب أنفه فاتخذ أنفا من ذهب
133- حدثنا يزيد بن هرون أنبأنا أبو الأشهب عن عبد الرحمن بن طرفة أن جده عرفجة أصيب يوم الكلاب في الجاهلية فاتخذ أنفا من ورق فانتن عليه فأمره النبي صلى الله عليه وسلم أن يتخذ أنفا من ذهب قال يزيد فقيل لأبي الأشهب أدرك عبد الرحمن جده قال نعم (وفي لفظ) قال أبو الشهب وزعم عبد الرحمن أنه رأى جده يعني عرفجة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৪
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ প্রয়োজনবশত পুরুষের জন্য স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করার অনুমতি প্রসঙ্গ
(নাকে জখম হলে স্বর্ণ দ্বারা বাঁধাই করা।)
(নাকে জখম হলে স্বর্ণ দ্বারা বাঁধাই করা।)
১৩৪। আবদুর রহমান ইবন তারাফা ইবন 'আরফাযা (র) তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, কিলাব যুদ্ধের দিন তার নাক আহত হয়। অর্থাৎ কিলাব কূপের নিকট। জাহিলী যুগে লোকেরা এখানে লড়াই করেছিল। এরপর তিনি পূর্বানুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
(এতে আরও রয়েছে যে, আরফাজা বলেন, স্বর্ণ দ্বারা নাক তৈরী করার পর) সেটা আর পচন ধরেনি।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
(হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
(এতে আরও রয়েছে যে, আরফাজা বলেন, স্বর্ণ দ্বারা নাক তৈরী করার পর) সেটা আর পচন ধরেনি।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
(হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
أبواب الرخصة في استعمال الذهب والحرير للرجال لحاجة - باب من أصيب أنفه فاتخذ أنفا من ذهب
134- عن عبد الرحمن بن طرفة بن عرفجة عن أبيه عن جده قال أصيب يوم الكلاب يعني ماءا اقتتلوا عليه في الجاهلية فذكر مثله قال فما انتن علىّ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৫
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ প্রয়োজনবশত পুরুষের জন্য স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করার অনুমতি প্রসঙ্গ
(নাকে জখম হলে স্বর্ণ দ্বারা বাঁধাই করা।)
(নাকে জখম হলে স্বর্ণ দ্বারা বাঁধাই করা।)
১৩৫। আমাকে আবদুল্লাহ আবু আবদির রহমান (র) হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, একদল হাদীস শিক্ষার্থী এসে আবূ আশহাব (র)-এর নিকট প্রবেশের জন্য অনুমতি চাইলে তিনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন। তারপর তারা বললেন, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, তোমরা (কোন বিষয়ে) জিজ্ঞাসা কর। তারা বললেন, আমাদের নিকট এমন কিছু নেই যা সম্বন্ধে আপনাকে জিজ্ঞাসা করব। তখন তার কন্যা পর্দার আড়াল হতে বললেন, আপনারা তাকে আরফাযা ইবন আস'আদ (র)-এর হাদীস সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করুন, যার নাক কিলাব যুদ্ধের দিন আক্রান্ত হয়েছিল।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
(হাদীসটি বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
(হাদীসটি বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
أبواب الرخصة في استعمال الذهب والحرير للرجال لحاجة - باب من أصيب أنفه فاتخذ أنفا من ذهب
135- حدثنا عبد الله أبو عبد الرحمن قال سمعت أبي يقول جاء قوم من أصحاب الحديث فاستأذنوا على أبي الأشهب فأذن لهم فقالوا حدثنا، قال سلوا: فقالوا ما معنا شيء نسألك عنه فقالت ابنته من وراء الستر سلوه عن حديث عرفجة بن أسعد أصيب انفه يوم الكلاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৬
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ দ্বারা দাঁত বাঁধানো।
১৩৬। আমার কাছে শায়বান বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার কাছে আবু আশহাব (র) হাম্মাদ ইবন আবি সুলায়মান কূফী (র) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, আমি মুগীরা ইবন আবদিল্লাহ (র)-কে দেখেছি, তিনি স্বীয় দাঁত স্বর্ণ দ্বারা বাঁধিয়েছেন। তারপর এটা ইবরাহীম (র)-কে বলা হলে তিনি বললেন, এটা দূষনীয় নয়।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
ওয়াকিদ ইবন আবদিল্লাহ তায়মী (র) সূত্রে জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, যিনি উসমান ইবন আফফান (রা)-কে দেখেছেন যে, তিনি স্বীয় দাঁত স্বর্ণ দ্বারা বাঁধিয়েছেন।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয় নি।)
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
ওয়াকিদ ইবন আবদিল্লাহ তায়মী (র) সূত্রে জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, যিনি উসমান ইবন আফফান (রা)-কে দেখেছেন যে, তিনি স্বীয় দাঁত স্বর্ণ দ্বারা বাঁধিয়েছেন।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয় নি।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء في شد الأسنان بالذهب
136- حدثنا شيبان ثنا أبو الأشهب عن حماد بن أبي سليمان الكوفي قال رأيت المغيرة بن عبد الله وقد شد أسنانه بالذهب فذكر ذلك لإبراهيم فقال لا بأس به عن واقد بن عبد الله التميمي عمن رآى عثمان بن عفان (رضي الله عنه) ضبب أسنانه بذهب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৭
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ চুলকানী এবং এ জাতীয় রোগ হলে রেশমী বস্ত্র পরিধান করার অনুমতি প্রসঙ্গ।
১৩৭। আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা) এবং যুবায়র ইবন আওয়াম (রা)-কে তাদের শরীরে চুলকানী থাকার দরুন রেশমী কাপড় পরার অনুমতি দিয়েছেন অথবা তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হল।
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত যে, যুবায়র ইবন আওয়াম (রা) ও আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা) নবী (ﷺ)-এর নিকট (শরীরে) উকুনের অভিযোগ করলে তিনি তাদেরকে রেশমী পোশাক পরিধান করার অনুমতি দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি তাদের উভয়ের গায়ে রেশমী জামা দেখলাম।
(বুখারী, মুসলিম ও ইমাম চতুষ্টয়)
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত যে, যুবায়র ইবন আওয়াম (রা) ও আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা) নবী (ﷺ)-এর নিকট (শরীরে) উকুনের অভিযোগ করলে তিনি তাদেরকে রেশমী পোশাক পরিধান করার অনুমতি দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি তাদের উভয়ের গায়ে রেশমী জামা দেখলাম।
(বুখারী, মুসলিম ও ইমাম চতুষ্টয়)
كتاب اللباس والزنية
باب الرخصة في لبس الحرير لحكة ونحوها
137- عن أنس بن مالك قال رخص أو رخص النبي صلى الله عليه وسلم لعبد الرحمن بن عوف والزبير بن العوام "رضي الله عنهما" في لبس الحرير لحكة كانت بهما وعنه من طريق ثان ان الزبير بن العوام وعبد الرحمن ابن عوف "رضي الله عنهما" شكوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم القمل فرخص لهما في لبس الحرير فرأيت على كل واحد منهما قميصا من حرير
হাদীস নং: ১৩৮
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ কাপড়ে সামান্য রেশম যেমন নকশা, তালি ইত্যাদি দেওয়া বৈধ।
১৩৮। আবু উসমান নাহদী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবা ইবন ফারকাদ-এর সঙ্গে আজারবাইজান অথবা সিরিয়ায় ছিলাম। সে সময় আমাদের কাছে উমর (রা)-এর পত্র আসে। (তাতে লেখা ছিল) হামদ ও সালাতের পর, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রেশমী কাপড় ব্যবহার করা নিষেধ করেছেন। তবে এরূপ অর্থাৎ দু'আঙ্গুল পরিমাণ হলে সেটা ব্যতিক্রম। আবু উসমান (র) বলেন, আমাদের বুঝতে বিলম্ব হয় নি যে, এর অর্থ হল কারুকার্য করা।
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবা ইবন ফারকাদ এর সঙ্গে (সফররত) ছিলাম। সে সময় তার নিকট উমর (রা) কিছু বিষয়ে নবী (ﷺ) -এর হাদীস লিখে পাঠালেন। তার লিখিত বিষয়ের মধ্যে এটি ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দুনিয়াতে কেবল এমন ব্যক্তিই রেশমের পোশাক পরে, যার পরকালে এর কোন অংশ নেই। তবে এ পরিমাণ পরা যাবে। (এই বলে) তিনি তার দু'আঙ্গুল শাহাদাত ও মধ্যমা দ্বারা ইঙ্গিত করলেন। বর্ণনাকারী আবু উসমান (র) বলেন, এরপর যখন আমি তায়ালিসা (অনারবী এক জাতীয় কাপড়) দেখলাম, তখন লক্ষ্য করলাম যে, এটা তায়ালিসার বোতাম (যা রেশমের তৈরী ছিল।)
তৃতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা আজারবাইজানে ছিলাম, তখন আমাদের নিকট উমর (রা)-এর পত্র পৌছে। (তাতে তিনি লিখেছিলেন,) হে উতবা ইবন ফারকাদ। তোমরা বিলাসিতা, মুশরিকদের বেশ-ভূষা এবং রেশমের পোশাক পরা হতে বেঁচে থাক। কেননা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে রেশমের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন। তবে এরূপ হলে সেটা ব্যতিক্রম। (এই বলে,) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে দু'টি আঙ্গুল উঠালেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবা ইবন ফারকাদ এর সঙ্গে (সফররত) ছিলাম। সে সময় তার নিকট উমর (রা) কিছু বিষয়ে নবী (ﷺ) -এর হাদীস লিখে পাঠালেন। তার লিখিত বিষয়ের মধ্যে এটি ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দুনিয়াতে কেবল এমন ব্যক্তিই রেশমের পোশাক পরে, যার পরকালে এর কোন অংশ নেই। তবে এ পরিমাণ পরা যাবে। (এই বলে) তিনি তার দু'আঙ্গুল শাহাদাত ও মধ্যমা দ্বারা ইঙ্গিত করলেন। বর্ণনাকারী আবু উসমান (র) বলেন, এরপর যখন আমি তায়ালিসা (অনারবী এক জাতীয় কাপড়) দেখলাম, তখন লক্ষ্য করলাম যে, এটা তায়ালিসার বোতাম (যা রেশমের তৈরী ছিল।)
তৃতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা আজারবাইজানে ছিলাম, তখন আমাদের নিকট উমর (রা)-এর পত্র পৌছে। (তাতে তিনি লিখেছিলেন,) হে উতবা ইবন ফারকাদ। তোমরা বিলাসিতা, মুশরিকদের বেশ-ভূষা এবং রেশমের পোশাক পরা হতে বেঁচে থাক। কেননা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে রেশমের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন। তবে এরূপ হলে সেটা ব্যতিক্রম। (এই বলে,) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে দু'টি আঙ্গুল উঠালেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب إباحة اليسير من الحرير كالعلم والرقعة ونحوها
138- عن أبي عثمان النهدي قال جاءنا كتاب عمر ونحن بأذربيجان مع عتبة بن فرقد أو بالشام (أما بعد) فان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الحرير إلا هكذا إصبعين قال أبو عثمان فما عتمنا إلا أنه الأعلام
وعنه من طريق ثان قال كنا مع عتبة بن فرقد فكتب إليه عمر رضي الله عنه بأشياء يحدثه عن النبي صلى الله عليه وسلم فكان فيما كتب إليه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا يلبس الحرير في الدنيا إلا من ليس له في الآخرة منه شيء ألا هكذا وقال باصبعيه السبابة والوسطى، قال أبو عثمان فرأيت أنها أزرار الطيالسة حين رأينا الطيالسة
وعنه من طريق ثالث قال جاءنا كتاب عمر رضي الله عنه ونحن باذربيجان يا عتبة بن فرقد وإياكم والتنعيم وزىَّ أهل الشرك ولبوس الحرير فان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهانا عن لبوس الحرير وقال ألا هكذا، ورفع لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إصبعيه
وعنه من طريق ثان قال كنا مع عتبة بن فرقد فكتب إليه عمر رضي الله عنه بأشياء يحدثه عن النبي صلى الله عليه وسلم فكان فيما كتب إليه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا يلبس الحرير في الدنيا إلا من ليس له في الآخرة منه شيء ألا هكذا وقال باصبعيه السبابة والوسطى، قال أبو عثمان فرأيت أنها أزرار الطيالسة حين رأينا الطيالسة
وعنه من طريق ثالث قال جاءنا كتاب عمر رضي الله عنه ونحن باذربيجان يا عتبة بن فرقد وإياكم والتنعيم وزىَّ أهل الشرك ولبوس الحرير فان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهانا عن لبوس الحرير وقال ألا هكذا، ورفع لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إصبعيه
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১৩৯
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ কাপড়ে সামান্য রেশম যেমন নকশা, তালি ইত্যাদি দেওয়া বৈধ।
১৩৯। সুওয়াইদ ইবন গাফালা (র) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রা) জাবিয়া নামক স্থানে খুতবা দানকালে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রেশমের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন। তবে যদি দু' আঙ্গুল বা তিন আঙ্গুল বা চার আঙ্গুল পরিমাণ হয় তবে সেটা ব্যতিক্রম। এই বলে তিনি স্বীয় হাত দ্বারা ইঙ্গিত করলেন।
(মুসলিম আবু দাউদ, ইমামচতুষ্ঠয় ও অন্যান্য)
(মুসলিম আবু দাউদ, ইমামচতুষ্ঠয় ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب إباحة اليسير من الحرير كالعلم والرقعة ونحوها
139- عن سويد بن غفلة أن عمر خطب الناس بالجابية فقال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن لبس الحرير ألا موضع إصبعين أو ثلاثة أو أربعة وأشار بكفه
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১৪০
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ কাপড়ে সামান্য রেশম যেমন নকশা, তালি ইত্যাদি দেওয়া বৈধ।
১৪০। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ﷺ) রাসূলুল্লাহর শুধু রেশমের তৈরী কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। ইবন আব্বাস (রা) বলেন, তবে টানা রেশমের হলে কিংবা ঝালরে রেশম ব্যবহার করলে আমি সেটাকে দোষনীয় মনে করি না।
(আবূ দাউদ, হাকিম, তবারানী)
(হাদীসটি সনদে বর্ণনাকারী 'খুসায়ফ ইবন আবদির রহমান-কে অনেকে দূর্বল বলেছেন।)
(আবূ দাউদ, হাকিম, তবারানী)
(হাদীসটি সনদে বর্ণনাকারী 'খুসায়ফ ইবন আবদির রহমান-কে অনেকে দূর্বল বলেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
باب إباحة اليسير من الحرير كالعلم والرقعة ونحوها
140- عن ابن عباس قال إنما نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الثوب المصمت من قز، قال ابن عباس إما السَّدى والعلم فلا نرى به بأسا
তাহকীক: