মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
হাদীস নং: ১৩০
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
স্বর্ণ ও রেশম মহিলাদের জন্য ব্যবহার করা বৈধ। পুরুষদের জন্য নয়।
১৩০। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদা উমর (রা) নবী (ﷺ) -এর নিকট মোটা রেশমের চাদর নিয়ে আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এই চাদরটি খরিদ করে নিন। লোকদের প্রতিনিধি দল আসলে আপনি এটা পরিধান করবেন। তিনি বললেন, এটা তো সে ব্যক্তি পরে, যার পরকালে কোন অংশ নেই। (বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর নবী (ﷺ) -এর নিকট তিন জোড়া কাপড় আনা হয়। তখন তিনি এক জোড়া উমর (রা)-এর নিকট এক জোড়া আলী (রা)-এর নিকট এবং এক জোড়া উসামা ইবন যায়েদ (রা)-এর নিকটে পাঠান। তারপর উমর (রা) তাঁর জোড়া নিয়ে নবী (ﷺ) - এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এটা আমার নিকট পাঠিয়েছেন; অথচা আমি শুনেছি, আপনি এ সম্বন্ধে যা বলার তাই বলেছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তোমার নিকট এটা বিক্রি করার জন্য অথবা এটা খণ্ড করে তোমার পরিবাস্থ মহিলাদেরকে উড়না বানিয়ে দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছি।
বর্ণনাকারী ইসহাক (র) তার বর্ণিত হাদীসে বলেন, এবং উসামা (রা)ও তার জোড়া পরে তাঁর নিকট আসলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তোমার নিকট এটা পরিধান করার জন্য পাঠাই নি। আমি তা কেবল তোমার নিকট এটা বিক্রি করার জন্য পাঠিয়েছি। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি জানি না, তিনি উসামা (রা)-কে তা খণ্ড করে উড়না বানাতে বলেছেন, কি না। আবদুল্লাহ ইবন হারিস (র) তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, তিনি সালিম ইবন আবদিল্লাহ (র)-কে বলতে শুনেছেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-কে বলতে শুনেছি, উমর (রা) রেশমের চাদর পেলেন। তারপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)
বর্ণনাকারী ইসহাক (র) তার বর্ণিত হাদীসে বলেন, এবং উসামা (রা)ও তার জোড়া পরে তাঁর নিকট আসলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তোমার নিকট এটা পরিধান করার জন্য পাঠাই নি। আমি তা কেবল তোমার নিকট এটা বিক্রি করার জন্য পাঠিয়েছি। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি জানি না, তিনি উসামা (রা)-কে তা খণ্ড করে উড়না বানাতে বলেছেন, কি না। আবদুল্লাহ ইবন হারিস (র) তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, তিনি সালিম ইবন আবদিল্লাহ (র)-কে বলতে শুনেছেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-কে বলতে শুনেছি, উমর (রা) রেশমের চাদর পেলেন। তারপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)
كتاب اللباس والزنية
باب الرخصة في جوازهما للنساء دون الرجال
130- عن عبد الله بن عمر أن عمر بن الخطاب أتى النبي صلى الله عليه وسلم بحلة استبرق فقال يا رسول الله لو اشتريت هذه الحلة تلبسها إذا قدم عليك وفود الناس؟ فقال إنما يلبس هذا من لا خلاق له، ثم أتى النبي صلى الله عليه وسلم بحلل ثلاث فبعث إلى عمر بحلة، وإلى على بحلة، وإلى أسامة بن زيد بحلة، فأتى عمر رضي الله عنه بحلته النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله بعثت إلى بهذه وقد سمعتك قلت فيها ما قلت؟ قال إنما بعئت بها إليك لتبيعها أو تشققها لا هلك خمرا، قال إسحاق في حديثه وأتاه أسامة وعليه الحلة فقال أني لم أبعث بها إليك لتلبسها، إنما بعثت بها إليك لتبيعها، ما أدرى أقال لأسامة تشققها خمرا أم لا، قال عبد الله بن الحارث في حديثه أنه سمع سالم ابن عبد الله بقول سمعت عبد الله بن عمر يقول وجد عمر فذكر معناه
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীছে জানানো হয়েছে, রেশমী পোশাক পরে এমন ব্যক্তি, আখিরাতে যার কোনও অংশ নেই। অর্থাৎ যে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। তার মানে এটা অমুসলিমদের পোশাক। অন্য হাদীছে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরে, সে আখিরাতে রেশমী পোশাক পরবে না। আর এ কারণে মুমিনদেরকে রেশমী পোশাক পরতে নিষেধ করা হয়েছে। সারমর্ম হল- রেশমি পোশাক দুনিয়ায় অমুসলিমদের পোশাক। তাই মুসলিম ব্যক্তির জন্য দুনিয়ায়। এটা পরা জায়েয নয়। তা সত্ত্বেও কোনও মুসলিম ব্যক্তি যদি রেশমী পোশাক পরে, তবে আখিরাতে সে এ পোশাক পরতে পারবে না। অর্থাৎ এ হুকুম অমান্য করার কারণে সে শুরুতে জান্নাতে যেতে পারবে না। জান্নাতের পোশাক রেশমী পোশাক। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
‘সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের’ (সূরা ফাতির, আয়াত ৩৩)
কাজেই 'দুনিয়ায় যে মুমিন রেশমী পোশাক পরে, আখিরাতে সে তা পরবে না' দ্বারা বোঝানো হয়েছে সে প্রথমে জান্নাতে যেতে পারবে না। প্রথমে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঈমানের বদৌলতে সে জান্নাত লাভ করবে। জান্নাত লাভ করার পর জান্নাতের অপরাপর নি'আমতের মতো রেশমী পোশাকও সে পাবে। কেউ কেউ বলেন, দুনিয়ায় যে মুমিন ব্যক্তি রেশমী পোশাক পরবে, সে জান্নাত লাভ করলেও জান্নাতের অন্যান্য নি'আমত ঠিকই পাবে, কিন্তু রেশমী পোশাক পাবে না।
প্রশ্ন দাঁড়ায়, তবে তো তার মনে রেশমী পোশাক না পাওয়ার কষ্ট থেকে যাবে, অথচ জান্নাত কষ্টের জায়গা নয়?
এর উত্তর হল, জান্নাতে এমন ব্যক্তির অন্তর থেকে রেশমী পোশাকের চাহিদাই দূর করে দেওয়া হবে। অন্তরে যখন এ পোশাকের চাহিদা থাকবে না, তখন না পাওয়ার দরুন কোনও কষ্টও সে পাবে না, যেমন সাধারণ স্তরের জান্নাতীগণ উচ্চস্তরের জান্নাতবাসীগণের মতো মর্যাদা না পাওয়ার কারণে কোনও কষ্ট বোধ করবে না।
হাদীছের মূল বার্তা হল মুমিনদেরকে রেশমী পোশাক সম্পর্কে সতর্ক করা, যাতে তারা এটা না পরে। কেননা এটা পরলে শরী'আতের হুকুম অমান্য করা হবে। পরিণামে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে, যদি না আল্লাহ তা'আলা মাফ করেন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক অমুসলিমদের পোশাক। তাই মুসলিমদেরকে অবশ্যই এ পোশাক পরিধান করা হতে বিরত থাকতে হবে।
খ. রেশমী পোশাক পরিধান করলে আখিরাতে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
গ. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরিধান করলে জান্নাতে এ নি'আমত থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।
وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
‘সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের’ (সূরা ফাতির, আয়াত ৩৩)
কাজেই 'দুনিয়ায় যে মুমিন রেশমী পোশাক পরে, আখিরাতে সে তা পরবে না' দ্বারা বোঝানো হয়েছে সে প্রথমে জান্নাতে যেতে পারবে না। প্রথমে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঈমানের বদৌলতে সে জান্নাত লাভ করবে। জান্নাত লাভ করার পর জান্নাতের অপরাপর নি'আমতের মতো রেশমী পোশাকও সে পাবে। কেউ কেউ বলেন, দুনিয়ায় যে মুমিন ব্যক্তি রেশমী পোশাক পরবে, সে জান্নাত লাভ করলেও জান্নাতের অন্যান্য নি'আমত ঠিকই পাবে, কিন্তু রেশমী পোশাক পাবে না।
প্রশ্ন দাঁড়ায়, তবে তো তার মনে রেশমী পোশাক না পাওয়ার কষ্ট থেকে যাবে, অথচ জান্নাত কষ্টের জায়গা নয়?
এর উত্তর হল, জান্নাতে এমন ব্যক্তির অন্তর থেকে রেশমী পোশাকের চাহিদাই দূর করে দেওয়া হবে। অন্তরে যখন এ পোশাকের চাহিদা থাকবে না, তখন না পাওয়ার দরুন কোনও কষ্টও সে পাবে না, যেমন সাধারণ স্তরের জান্নাতীগণ উচ্চস্তরের জান্নাতবাসীগণের মতো মর্যাদা না পাওয়ার কারণে কোনও কষ্ট বোধ করবে না।
হাদীছের মূল বার্তা হল মুমিনদেরকে রেশমী পোশাক সম্পর্কে সতর্ক করা, যাতে তারা এটা না পরে। কেননা এটা পরলে শরী'আতের হুকুম অমান্য করা হবে। পরিণামে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে, যদি না আল্লাহ তা'আলা মাফ করেন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক অমুসলিমদের পোশাক। তাই মুসলিমদেরকে অবশ্যই এ পোশাক পরিধান করা হতে বিরত থাকতে হবে।
খ. রেশমী পোশাক পরিধান করলে আখিরাতে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
গ. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরিধান করলে জান্নাতে এ নি'আমত থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)