মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২৫৪ টি

হাদীস নং: ১০১
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের জন্য স্বর্ণের অলংকার পরা নিষিদ্ধ এবং রূপার অলংকার পরা বৈধ।
১০১। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) -এর সহধর্মিণী উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে স্বর্ণ দ্বারা বালা বাঁধাই করা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তোমরা এটাকে রূপা দ্বারা বাঁধাই করে তাতে সামান্য যাফরান মিশিয়ে নাও।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। হায়ছামী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, আহমাদ (রা)-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب منع النساء من التحلي بالذهب وجوازه لهن بالفضة
101- عن أم سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أنها سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الذهب يربط به المسك أو تربط قال اجعليه فضة وصفر بشيء من زعفران
হাদীস নং: ১০২
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১০২। আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তার কোন প্রিয়জনকে আগুনের কড়া পরানো পছন্দ করে, সে যেন তাকে স্বর্ণের কড়া পরায়। আর যে ব্যক্তি তার কোন প্রিয়জনের আগুনের কংকন পরানো পছন্দ করে, সে যেন তাকে স্বর্ণের কংকন পরায়। আর যে ব্যক্তি তার প্রিয়জনকে আগুনের আংটি পরানো পছন্দ করে, সে যেন তাকে স্বর্ণের আংটি পরায়। তবে তোমরা রূপা ব্যবহার করতে পার। এর দ্বারা তোমরা মন ভরে ফুর্তি কর, এর দ্বারা তোমরা মন ভরে ফুর্তি কর।
(আবু দাউদ)
(তিনি এবং মুনযিরী (র) হাদীসটি সম্বন্ধে কোন মন্তব্য করেন নি।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
102- عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من أحب أن يطوق حبيبه طوقا من النار فليطوقه طوقا من ذهب، ومن أحب أن يسور حبيبه سوارا من نار فليسوره بسوار من ذهب، ومن أحب أن يحلق حبيبه حلقة من نار فليحلقه حلقة من ذهب، ولكن عليكم بالفضة العبوا بها لعبا العبوا بها لعبا
হাদীস নং: ১০৩
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১০৩। ইবন আবি মূসা আশ'আরী (র) তার পিতা থেকে এবং ইবন আবি কাতাদা (র) তার পিতা থেকে, তারা নবীর থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ (র) বর্ণনা করেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
103- عن ابن أبي موسى الأشعرى عن أبيه وعن ابن أبي قتادة عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله
হাদীস নং: ১০৪
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১০৪। যায়দ ইবন ওয়াহাব (র) সূত্রে জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দুর্ভিক্ষ আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার নিকট দুর্ভিক্ষ অপেক্ষা তোমাদের জন্য বেশি ভয়ানক বস্তু রয়েছে। নিশ্চয় তোমাদের ওপর দুনিয়ার ধন-সম্পদ ঢেলে দেওয়া হবে। আহা! যদি সে সময় আমার উম্মত স্বর্ণ পরিধান না করত।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ ও বাযযার বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবন আবি যিয়াদ দুর্বল। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
104- عن زيد بن وهب عن رجل أن أعرابيا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أكلتنا الضبع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم غير الضبع عندي أخوف عليكم من الضبع، أن الدنيا ستصب عليكم صبا فياليت أمتي لا تلبس الذهب
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৫
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১০৫। আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দুর্ভিক্ষ আমাদেরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি বললেন, আমি তোমাদের জন্য এ ছাড়া অন্য কিছু বেশি ভয়ঙ্কর মনে করি। যখন দুনিয়ার ধন-সম্পদ তোমাদের ওপর ঢেলে দেওয়া হবে, তখন যদি আমার উম্মত স্বর্ণ পরিধান না করত। (অন্য বর্ণনায়: لَا يَلْبَسُونَ এ স্থলে لَا يَتَحَلّونَ রয়েছে।)
(তায়ালিসী)
(হায়ছামী (র) বলেছেন, হাদীসটি সনদে বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবন আবি দূর্বল। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
105- عن أبي ذر قال قام أعرابي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أكلتنا الضبع يعني السنة، قال غير ذلك أخوف لي عليكم، الدنيا إذا صبت عليكم صبا فياليت أمتى لا يلبسون (وفي رواية لا يتحلون) الذهب
tahqiq

তাহকীক:

rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১০৬
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১০৬। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন জা'ফর (র), তিনি বলেন, আমার কাছে 'আওফ (র) মায়মুন ইবন আসতায হিযযানী (র) থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবন আস (রা) থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বর্ণ পরিধান করে এবং এটা পরিহিত অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের স্বর্ণ হতে বঞ্চিত রাখবেন। আর আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি রেশমের বস্ত্র পরিধান করে এবং এটা পরিহিত অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের রেশমী পোশাক হতে বঞ্চিত রাখবেন।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সনদে বর্ণনাকারী মায়মূন ইবন আসতায এবং আবদুল্লাহ এবং আবদুল্লাহ ইবন 'আমর আসী অজ্ঞাত। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
106- حدّثنا محمد ابن جعفر حدثنا عوف عن ميمون بن أستاذ الهزَّاني عن عبد الله بن عمرو الهزَّاني عن عبد الله بن عمرو بن العاص عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال من لبس الذهب من أمتي فمات وهو يلبسه حرام الله عليه ذهب الجنة، ومن لبس الحرير من أمتي فمات وهو يلبسه حرم الله عليه حرير الجنة
হাদীস নং: ১০৭
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১০৭। আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি শুনেছেন, অন্য শব্দে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকালের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন রেশমী পোশাক এবং স্বর্ণ পরিধান না করে।
(বর্ণনাকারী আবু আবদির রহমান (র) বলেন, এবং আমি এটা হারুন ইবন মা'রূফ (র) থেকে শুনেছি।)
(হাকিম)
(তিনি হাদীসটির অন্য সূত্রকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। যাতে ইবন লাহী'আ নেই। হায়ছামী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
107- عن أبي امامة أنه سمع (وفي لفظ) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يلبس حريرا ولا ذهباً، قال أبو عبد الرحمن وسمعته أنا من هارون بن معروف
হাদীস নং: ১০৮
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১০৮। আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবন খাত্তাব (রা)-কে এক খুতবায় বলতে শুনেছি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি ইহকালে রেশমী পোশাক পরবে, পরকালে তাকে এটা পরানো হবে না। (অন্য শব্দেঃ) যে ব্যক্তি ইহকালে রেশমী পোশাক পরে, পরকালে তার কোন অংশ নেই।
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
108- عن عبد الله ابن الزبير قال سمعت عمر بن الخطاب يقول في خطبته إنه سمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من يلبس الحرير في الدنيا فلا يكساه في الآخرة (وفي لفظ) من لبس الحرير في الدنيا فلا خلاق له في الآخرة
হাদীস নং: ১০৯
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১০৯। (অন্য শব্দেঃ) রেশমী পোশাক কেবল এমন ব্যক্তিই পরে, যার পরকালে কোন অংশ নেই।
(বুখারী, মুসলিম, তায়ালিসী ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
109- (وفي لفظ) إنما يلبس الحرير من لا خلاق له
হাদীস নং: ১১০
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১০। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রেশমী পোশাক কেবল এমন ব্যক্তি পরে, যার পরকালে কোন অংশ নেই।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, ইহকালে কেবল এমন ব্যক্তিই রেশমের পোশাক পরে, যার পরকালে তা পরার আশা নেই। কেবল এমন ব্যক্তিই রেশমের পোশাক পরে, যার (পরকালে) কোন অংশ নেই।
হাসান বসরী (র) বলেছেন, এ সব লোকের কী হল। যাদের নিকট তাদের নবী (ﷺ) হতে এ সংবাদ পৌঁছে, এরপরও তারা তাদের পোশাকে এবং বাড়ী-ঘরে রেশম ব্যবহার করে?
(তায়ালিসী)
(বাযযার হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী মুবারক ইবন ফুযালা-কে ইবন হিব্বান (র) ও অন্যান্যরা নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তবে তার ভিতর সামান্য দূর্বলতা আছে। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
110- عن عبد الله بن عمرعن النبي صلى الله عليه وسلم قال إنما يلبس الحرير من لا خلاق له
عن أبي هريرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول إنما يلبس الحرير في الدنيا من لا يرجوا أن يلبسه في الآخرة إنما يلبس الحرير من لا خلاق له قال الحسن فما بال أقوام يبلغهم هذا عن نبيهم صلى الله عليه وسلم فيجعلون حريرا في ثيابهم وفي بيوتهم
হাদীস নং: ১১১
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১১। তারই সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাপড়ে রেশম তালাশ করতেন। এরপর (পাওয়া গেলে) তা পৃথক করে ফেলেতন।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। হায়ছামী (র) বলেছেন, আহমাদ (র)-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে আবু সা'ঈদ গিফারী ব্যতিক্রম। ইবন হিব্বান (র) তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
111- (وعنه أيضا) قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتبع الحرير من الثياب فينزعه
হাদীস নং: ১১২
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১২। আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইহকালে রেশমের কাপড় পরবে, সে পরকালে তা পরবে না।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
112- عن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من لبس الحرير في الدنيا فلن يلبسه في الآخرة
হাদীস নং: ১১৩
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১৩। হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক পাদ্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে মিহি রেশমের তৈরী একটি জুব্বা হাদিয়া দিলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা পরলেন। তারপর ঘরে এসে তা রেখে দিলেন। তারপর তিনি সংবাদ পেলেন যে, এক প্রতিনিধি দল এসেছে। তখন উমর (রা) প্রতিনিধি দলের আগমনের কারণে তাঁকে এই জুব্বা পরিধান করার জন্য বললেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইহকালে আমাদের জন্য এই পোশাক পরা সমীচীন নয়, পরকালে এটা আমাদের জন্য উপযুক্ত হবে। তবে হে উমর। তুমি এটা নিয়ে যাও। উমর (রা) বললেন, আপনি এটা অপছন্দ করেছেন, আর আমি এটা নিব? তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে এটা পরিধান করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি না: তুমি এটা পারস্য এলাকায় পাঠিয়ে দিবে, তা হলে তুমি এর বিনিময়ে মাল পাবে। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেটা নাজ্জাশীর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর যে সব সাহাবা (মক্কা হতে) লুকিয়ে নাজ্জাসীর নিকট গিয়েছিলেন, তিনি তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেছিলেন।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী ইবন লাহী'আ রয়েছে। তার মধ্যে সামান্য দূর্বলতা আছে। তবে হাদীস হাসান। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
113- عن جابر أن راهبا أهدي لرسول الله صلى الله عليه وسلم جبة سندس فلبسها رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم أتى البيت فوضعها واحس بوفد أتوه فامره عمر أن يلبس الجبة لقدوم الوفد، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يصلح لباسها لنا في الدنيا، ويصلح لنا في الآخرة، ولكن خذها يا عمر، فقال تكرهها وآخذها؟ فقال أني لا آمرك أن تلبسها ولكن أرسلها إلى أرض فارس فتصيب بها مالا فارسل بها رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى النجاشي وكان قد أحسن إلى من فر إليه من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم
হাদীস নং: ১১৪
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১৪। উকবা ইবন 'আমির জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। সে সময় তাঁর গায়ে রেশমের কাবা (আলখেল্লা) ছিল। সালাত সমাপ্ত করার পর তিনি এটাকে অতি দ্রুত খুলে ফেললেন এবং বললেন, মুত্তাকীদের জন্য এটা পরা উচিত নয়।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
114- عن عقبة بن عامر الجهني قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم المغرب وعليه فروج من حرير وهو القباء فلما قضى صلاته نزعه نزعا عنيفا وقال أن هذا لا ينبغي للمتقين
হাদীস নং: ১১৫
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১৫। তাঁরই সূত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি অলংকার ও রেশমপ্রিয় লোকদেরকে স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন এবং বলতেন, যদি তোমরা জান্নাতের অলংকার ও সেখানের রেশমী কাপড় পছন্দ কর, তবে ইহকালে তোমরা এগুলো পরিধান করো না।
(নাসাঈ, হাকিম)
(হাকিম (র) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আর হাফিয (র) এটাকে হাসান বলেছেন। ইহার সূত্রে বর্ণনাকারী 'রিশদ ইবন সা'দ বিতর্কিত।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
115- وعنه أيضا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان يمنع أهل الحلية والحريرويقول أن كنتم تحبون حلية الجنة وحريرها فلا تلبسوها في الدنيا
হাদীস নং: ১১৬
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১৬। জুওয়ায়রিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রেশমের পোশাক পরবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের পোশাক পরাবেন। (অন্য শব্দেঃ) আল্লাহ তাকে লাঞ্চনাকর পোশাক এবং আগুনের পোশাক পরাবেন।
(হাদীসটি হায়াছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী জাবির জু'ফী দুর্বল। তবে অনেকে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
116- عن جويرية قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من لبس حريرا البسه الله ثوبا من النار يوم القيامة (وفي لفظ) البسه الله ثوب مذلة أو ثوبا من نار
হাদীস নং: ১১৭
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১৭। আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রেশমী পোশাক ব্যবহার করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পূর্বে দুমার রাজা (উকায়দির) তাঁকে মিহি রেশমের অথবা মোটা রেশমের (বর্ণনাকারী/সাঈদ সন্দেহ করেছেন।) একটি জুব্বা হাদিয়া দিলে তিনি তা পরলেন। লোকেরা এতে বিস্মিত হল। তখন তিনি বললেন, যে সত্ত্বার হাতে মুহাম্মাদের আত্মা তার শপথ! নিশ্চয় জান্নাতে সা'দ ইবন মু'আযের রুমালগুলোর এরচেয়ে উৎকৃষ্ট।
(মুসলিম, তায়ালিসী ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
117- عن أنس بن مالك أن أكيدر دومة أهدى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم جبة سندس أو ديباج (شك فيه سعيد) قبل أن ينهي عن الحرير فلبسها فتعجب الناس منها، فقال والذي نفس محمد بيده لمناديل سعد بن معاذ في الجنة أحسن منها
হাদীস নং: ১১৮
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১৮। হিশাম ইবন আবি রূকাইয়া (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাসলামা ইবন মুখাল্লাদ (রা)-কে বলতে শুনেছি, তিনি সে সময় মিম্বরে বসে লোকদের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, হে লোকসকল! তোমাদের জন্য রেশমের পরিবর্তে আসাব (একপ্রকার ইয়ামানী কাপড়) এবং কাতান কি যথেষ্ট হয় না? এই লোক- তোমাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন। তিনি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ সম্বন্ধে সংবাদ দিবেন। (এরপর বললেন,) হে উকবা। দাঁড়ান। হযরত উকবা ইবন 'আমির (রা) দাঁড়ালেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) সে সময় আমি তার কথা শুনছিলাম। তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান তৈরী করে নেয়। নিশ্চয় আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ইহকালে রেশমের পোশাক পরবে, পরকালে তাকে এটা হতে বঞ্চিত রাখা হবে।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয় নি। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
118- عن هشام ابن أبي رقية قال سمعت مسلمة بن مخلد وهو قاعد على المنبر يخطب الناس وهو يقول يا أيها الناس أمالكم في العصب والكتان ما يكفيكم عن الحرير، وهذا رجل فيكم يخبركم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قم يا عقبة، فقام عقبة ابن عامر وأنا أسمع فقال أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من كذب على متعمدا فليتبوأ مقعده من النار واشهد أني سمعته يقول من لبس الحرير في الدنيا حرمه أن يلبس في الآخرة
হাদীস নং: ১১৯
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১৯। আবূ ইউনূস হাতিম ইব্‌ন মুসলিম (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কুরাঈশ গোত্রের ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, আমি এক মহিলাকে দেখেছি, সে মীনায় আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-এর নিকট উপস্থিত হল। তার গায়ে রেশমের একটি পোশাক ছিল। সে বলল, আপনি রেশমের পোশাক ব্যবহার করা সম্বন্ধে কি বলেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা হতে নিষেধ করেছেন।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদে একজন বর্ণনাকারী নাম উল্লেখ করা হয় নি। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
119- عن أبي يونس حاتم بن مسلم سمعت رجلا من قريش يقول رأيت امرأة جاءت إلى ابن عمر بمنى عليها درع حرير، فقالت ما تقول في الحرير؟ فقال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عنه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২০
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১২০। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হল। তার গায়ে সবুজ রংয়ের ডোরাকাটা জুব্বা ছিল। সে বলল, তোমাদের এই সঙ্গী রাখালের ছেলে রাখালকে উচ্চাসনে বসাতে চান আর ঘোড়াসওয়ারের ছেলে ঘোড়সওয়ারকে নীচে নামাতে চান। তখন নবীর রাগান্বিত হয়ে উঠে দাঁড়ান এবং তার জুব্বার কলার ধরে তাকে টান দিয়ে বললেন, আমি তো তোমার গায়ে বিবেকহীন লোকের পোশাক দেখতে পাচ্ছি। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে গিয়ে বললেন, নূহ (আ) মৃত্যুকালে তার দুই ছেলেকে ডেকে বললেন, আমি তোমাদের উভয়কে উপদেশ দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করছি।
(বায়হাকী, বাযযার, হাকিম)
(হাকিম (র) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হায়ছামী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
120- عن عبد الله بن عمرو قال أتى النبي صلى الله عليه وسلم أعرابي عليه جبة من طيالسة مكفوفة بديباج أو مزرورة بدبياج فقال أن صاحبكم هذا يريد أن يرفع كل راع بن راع، ويضع كل فارس بن فارس فقام النبي صلى الله عليه وسلم مغضبا فأخذ بمجامع جبته فاجتذبه وقال لأرى عليك ثياب من لا يعقل ثم رجع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال أن نوحا عليه السلام لما حضرته الوفاة دعا ابنيه فقال أني قاصر عليكما الوصية (الحديث)