মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
হাদীস নং: ১১০
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা হারাম।
১১০। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রেশমী পোশাক কেবল এমন ব্যক্তি পরে, যার পরকালে কোন অংশ নেই।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, ইহকালে কেবল এমন ব্যক্তিই রেশমের পোশাক পরে, যার পরকালে তা পরার আশা নেই। কেবল এমন ব্যক্তিই রেশমের পোশাক পরে, যার (পরকালে) কোন অংশ নেই।
হাসান বসরী (র) বলেছেন, এ সব লোকের কী হল। যাদের নিকট তাদের নবী (ﷺ) হতে এ সংবাদ পৌঁছে, এরপরও তারা তাদের পোশাকে এবং বাড়ী-ঘরে রেশম ব্যবহার করে?
(তায়ালিসী)
(বাযযার হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী মুবারক ইবন ফুযালা-কে ইবন হিব্বান (র) ও অন্যান্যরা নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তবে তার ভিতর সামান্য দূর্বলতা আছে। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, ইহকালে কেবল এমন ব্যক্তিই রেশমের পোশাক পরে, যার পরকালে তা পরার আশা নেই। কেবল এমন ব্যক্তিই রেশমের পোশাক পরে, যার (পরকালে) কোন অংশ নেই।
হাসান বসরী (র) বলেছেন, এ সব লোকের কী হল। যাদের নিকট তাদের নবী (ﷺ) হতে এ সংবাদ পৌঁছে, এরপরও তারা তাদের পোশাকে এবং বাড়ী-ঘরে রেশম ব্যবহার করে?
(তায়ালিসী)
(বাযযার হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী মুবারক ইবন ফুযালা-কে ইবন হিব্বান (র) ও অন্যান্যরা নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তবে তার ভিতর সামান্য দূর্বলতা আছে। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء عاما في تحريم الذهب والحرير
110- عن عبد الله بن عمرعن النبي صلى الله عليه وسلم قال إنما يلبس الحرير من لا خلاق له
عن أبي هريرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول إنما يلبس الحرير في الدنيا من لا يرجوا أن يلبسه في الآخرة إنما يلبس الحرير من لا خلاق له قال الحسن فما بال أقوام يبلغهم هذا عن نبيهم صلى الله عليه وسلم فيجعلون حريرا في ثيابهم وفي بيوتهم
عن أبي هريرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول إنما يلبس الحرير في الدنيا من لا يرجوا أن يلبسه في الآخرة إنما يلبس الحرير من لا خلاق له قال الحسن فما بال أقوام يبلغهم هذا عن نبيهم صلى الله عليه وسلم فيجعلون حريرا في ثيابهم وفي بيوتهم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীছে জানানো হয়েছে, রেশমী পোশাক পরে এমন ব্যক্তি, আখিরাতে যার কোনও অংশ নেই। অর্থাৎ যে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। তার মানে এটা অমুসলিমদের পোশাক। অন্য হাদীছে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরে, সে আখিরাতে রেশমী পোশাক পরবে না। আর এ কারণে মুমিনদেরকে রেশমী পোশাক পরতে নিষেধ করা হয়েছে। সারমর্ম হল- রেশমি পোশাক দুনিয়ায় অমুসলিমদের পোশাক। তাই মুসলিম ব্যক্তির জন্য দুনিয়ায়। এটা পরা জায়েয নয়। তা সত্ত্বেও কোনও মুসলিম ব্যক্তি যদি রেশমী পোশাক পরে, তবে আখিরাতে সে এ পোশাক পরতে পারবে না। অর্থাৎ এ হুকুম অমান্য করার কারণে সে শুরুতে জান্নাতে যেতে পারবে না। জান্নাতের পোশাক রেশমী পোশাক। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
‘সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের’ (সূরা ফাতির, আয়াত ৩৩)
কাজেই 'দুনিয়ায় যে মুমিন রেশমী পোশাক পরে, আখিরাতে সে তা পরবে না' দ্বারা বোঝানো হয়েছে সে প্রথমে জান্নাতে যেতে পারবে না। প্রথমে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঈমানের বদৌলতে সে জান্নাত লাভ করবে। জান্নাত লাভ করার পর জান্নাতের অপরাপর নি'আমতের মতো রেশমী পোশাকও সে পাবে। কেউ কেউ বলেন, দুনিয়ায় যে মুমিন ব্যক্তি রেশমী পোশাক পরবে, সে জান্নাত লাভ করলেও জান্নাতের অন্যান্য নি'আমত ঠিকই পাবে, কিন্তু রেশমী পোশাক পাবে না।
প্রশ্ন দাঁড়ায়, তবে তো তার মনে রেশমী পোশাক না পাওয়ার কষ্ট থেকে যাবে, অথচ জান্নাত কষ্টের জায়গা নয়?
এর উত্তর হল, জান্নাতে এমন ব্যক্তির অন্তর থেকে রেশমী পোশাকের চাহিদাই দূর করে দেওয়া হবে। অন্তরে যখন এ পোশাকের চাহিদা থাকবে না, তখন না পাওয়ার দরুন কোনও কষ্টও সে পাবে না, যেমন সাধারণ স্তরের জান্নাতীগণ উচ্চস্তরের জান্নাতবাসীগণের মতো মর্যাদা না পাওয়ার কারণে কোনও কষ্ট বোধ করবে না।
হাদীছের মূল বার্তা হল মুমিনদেরকে রেশমী পোশাক সম্পর্কে সতর্ক করা, যাতে তারা এটা না পরে। কেননা এটা পরলে শরী'আতের হুকুম অমান্য করা হবে। পরিণামে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে, যদি না আল্লাহ তা'আলা মাফ করেন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক অমুসলিমদের পোশাক। তাই মুসলিমদেরকে অবশ্যই এ পোশাক পরিধান করা হতে বিরত থাকতে হবে।
খ. রেশমী পোশাক পরিধান করলে আখিরাতে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
গ. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরিধান করলে জান্নাতে এ নি'আমত থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।
وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
‘সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের’ (সূরা ফাতির, আয়াত ৩৩)
কাজেই 'দুনিয়ায় যে মুমিন রেশমী পোশাক পরে, আখিরাতে সে তা পরবে না' দ্বারা বোঝানো হয়েছে সে প্রথমে জান্নাতে যেতে পারবে না। প্রথমে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঈমানের বদৌলতে সে জান্নাত লাভ করবে। জান্নাত লাভ করার পর জান্নাতের অপরাপর নি'আমতের মতো রেশমী পোশাকও সে পাবে। কেউ কেউ বলেন, দুনিয়ায় যে মুমিন ব্যক্তি রেশমী পোশাক পরবে, সে জান্নাত লাভ করলেও জান্নাতের অন্যান্য নি'আমত ঠিকই পাবে, কিন্তু রেশমী পোশাক পাবে না।
প্রশ্ন দাঁড়ায়, তবে তো তার মনে রেশমী পোশাক না পাওয়ার কষ্ট থেকে যাবে, অথচ জান্নাত কষ্টের জায়গা নয়?
এর উত্তর হল, জান্নাতে এমন ব্যক্তির অন্তর থেকে রেশমী পোশাকের চাহিদাই দূর করে দেওয়া হবে। অন্তরে যখন এ পোশাকের চাহিদা থাকবে না, তখন না পাওয়ার দরুন কোনও কষ্টও সে পাবে না, যেমন সাধারণ স্তরের জান্নাতীগণ উচ্চস্তরের জান্নাতবাসীগণের মতো মর্যাদা না পাওয়ার কারণে কোনও কষ্ট বোধ করবে না।
হাদীছের মূল বার্তা হল মুমিনদেরকে রেশমী পোশাক সম্পর্কে সতর্ক করা, যাতে তারা এটা না পরে। কেননা এটা পরলে শরী'আতের হুকুম অমান্য করা হবে। পরিণামে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে, যদি না আল্লাহ তা'আলা মাফ করেন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক অমুসলিমদের পোশাক। তাই মুসলিমদেরকে অবশ্যই এ পোশাক পরিধান করা হতে বিরত থাকতে হবে।
খ. রেশমী পোশাক পরিধান করলে আখিরাতে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
গ. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরিধান করলে জান্নাতে এ নি'আমত থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)