মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২৫৪ টি

হাদীস নং: ৪১
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ লাল রংয়ের কাপড় পরার বিধান।
৪১। মুহাম্মাদ ইবন 'আমর ইবন আতা (র) থেকে বর্ণিত যে, বনু হারিসা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাফি' ইবন খাদীজ (রা) তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সঙ্গে এক সফরে বের হন। বর্ণনাকারী বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাস্তা খাওয়ার জন্য এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলেন, তখন প্রত্যেকে তার উটনীতে লাগাম ঝুলিয়ে দেন। তারপর তারা সেগুলোকে গাছের পাতা-লতা খাওয়ার জন্য বাঁধনমুক্ত করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) -এর সঙ্গে বসলাম। তখন আমাদের পাথেয় সমূহ আমাদের উটের ওপর রাখা ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় মাথা মুবারক উঠিয়ে আমাদের লালবর্ণের পশমের ডোরাকাটা চাদরসমূহ দেখলেন। তারপর বললেন, শোন। আমি তো দেখতে পাচ্ছি যে, তোমাদের মধ্যে এই লালবর্ণের ব্যবহার প্রসার লাভ করছে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কথা শুনে আমরা দ্রুত সেখান থেকে উঠে গেলাম। এর ফলে আমাদের কতক উট দূরে পালিয়ে গেল। আমরা চাদরগুলো ধরে সেখান থেকে সরিয়ে ফেললাম।
(আবূ দাউদ)
(হাদীসটির সূত্রে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয় নি।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء في الأحمر
41- عن محمد بن عمرو بن عطاء أن رجلا من بني حارثة حدثه أن رافع بن خديج رضي الله عنه حدثهم أنهم خرجوا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر قال فلما نزل رسول الله صلى الله عليه وسلم للغداء قال علق كل رجل بخطام ناقته ثم أرسلها تهز في الشجر، قال ثم جلسنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ورحالنا على أباعرنا قال فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم رأسه فرأى أكسية لنا فيها خيوط من عهن أحمر قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا أرى هذه الحمرة قد علتكم قال فقمنا سراعاً لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى نفر بعض إبلنا فأخذنا الأكسية فنزعناها منها
হাদীস নং: ৪২
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ লাল রংয়ের কাপড় পরার বিধান।
৪২। উসমান ইবন মুহাম্মাদ (র) সূত্রে রাফি' ইবন খাদীজ (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখলেন যে, লালবর্ণের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি এটা অপছন্দ করলেন। (বর্ণনাকারী উসমান (র) বলেন,) রাফি' ইবন খাদীজ (রা) মৃত্যুবরণ করলে লোকেরা তার খাটিয়ার ওপর একটি লালবর্ণের পশমী বস্ত্র রেখে দিলেন। মানুষ এটা দেখে আশ্চর্যবোধ করল।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদ ভাল।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء في الأحمر
42- عن عثمان بن محمد عن رافع بن خديج أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى حمرة قد ظهرت فكرهها فلما مات رافع بن خديج جعلوا على سريره قطيفة حمراء فعجب الناس من ذلك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৩
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ লাল রংয়ের কাপড় পরার বিধান।
৪৩। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহয়া ইবন বুকায়র (র) তিনি বলেন, আমার কাছে ইসরাঈল (র) আবু ইসহাক (র) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, আমি বারা ইবন আযিব (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি লাল বর্ণের পোষাক পরিহিত অবস্থায় আল্লাহর সৃষ্টিকুলের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে অধিক সুন্দর কাউকে দেখি নি। তাঁর কেশ মোবারক তার কাঁধ স্পর্শ করত। বর্ণনাকারী ইবন বুকায়র (র) বলেন, (তাঁর চুল মোবারক) প্রায় কাঁধ স্পর্শ করত। আমি তাঁকে (ইসরাঈল) উক্ত হাদীস একাধিকবার বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি যখনই এটা বর্ণনা করেছেন, তখনই তিন হেঁসেছেন।
(বুখারী, মুসলিম ও ইমামত্রয়)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء في الأحمر
43- حدثنا يحيى بن أبي بكير حدثنا إسرائيل عن أبي إسحق قال سمعت البراء رضى الله عنه يقول ما رأيت أحدا من خلق الله أحسن في حلة حمراء من رسول الله صلى الله عليه وسلم وأن جمته لتضرب إلى منكبيه قال ابن أبي بكير لتضرب قريبا من منكبيه وقد سمعته يحدث به مرارا ما حدث به قط إلى ضحك
হাদীস নং: ৪৪
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ লাল রংয়ের কাপড় পরার বিধান।
৪৪। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে স্বর্ণের আংটি, লাল বর্ণের পোষাক এবং রুকু' ও সাজদা অবস্থায় তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন।
(হাদীসটি সালাত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء في الأحمر
44- عن علي رضي الله عنه قال نهاني رسول الله صلى الله عليه وسلم عن خاتم الذهب وعن لبس الحمرة وعن القراءة في الركوع والسجود.
হাদীস নং: ৪৫
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৪৫। আমার কাছে আফফান (র) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার কাছে হাম্মাম বর্ণনা করেছে। তিনি বলেন, আমার কাছে কাতাদা (র) আবূ শায়খ হুনাঈ (র) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, আমি মু'আবিয়া (রা)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সাহাবীগণের এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। মু'আবিয়া (রা) বললেন, আমি আপনাদেরকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, আপনারা কি জানেন যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) রেশমের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই শুনেছি। তিনি বললেন, আমিও এর সাক্ষ্য দিচ্ছি। তারপর তিনি বললেন, আমি আপনাদেরকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তিত সামান্য অংশ (যা অন্য কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করতে হয়, তা ব্যতীত স্বর্ণ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন? তারা বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, আমিও এর সাক্ষ্য দিচ্ছি। তারপর বললেন, আমি আপনাদেরকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ারীতে চিতাবাঘের চামড়া বিছিয়ে বসতে নিষেধ করেছেন? তারা বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, আমিও এর সাক্ষ্য দিচ্ছি। তারপর বললেন, আমি আপনাদেরকে আল্লাহ তা'আলার শপথ করে বলছি, আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রূপার পাত্র দ্বারা পান করতে নিষেধ করেছেন? তারা বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, আমিও এর সাক্ষ্য দিচ্ছি। এরপর বললেন, আমি আপনাদেরকে আল্লাহ তা'আলার শপথ করে বলছি, আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজ্জ ও উমরা একসঙ্গে আদায় করতে নিষেধ করেছেন? তারা বললেন, এটা তো আমরা জানি না। তিনি বললেন, শোন। এটাও ঐসবের মত। অর্থাৎ এক সঙ্গে হজ্জ ও উমরা আদায় করা যাবে না। (তবে এটা অধিকাংশ আলিমগণের মতের বিপরীত।)
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها
45- حدثنا عفان قال ثنا همام قال ثنا قتادة عن أبي شيخ الهنائي قال كنت في ملأ من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم عند معاوية فقال معاوية أنشدكم الله أتعلمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن لبس الحرير؟ قالوا اللهم نعم، قال وأنا أشهد، قال أنشدكم الله تعالى أتعلمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن لبس الذهب إلا مقطعا؟ قالوا اللهم نعم، قال وأنا أشهد، قال أنشدكم الله تعالى أتعلمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن ركوب النمور قالوا اللهم نعم، قال وأنا أشهد، قال أنشدكم الله تعالى أتعلمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الشرب في آنية الفضة؟ قالوا اللهم نعم، قال وأنا أشهد، قال أنشدكم الله تعالى أتعلمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن جمع بين حج وعمرة؟ قالوا أما هذا فلا، قال أما أنها معهن
হাদীস নং: ৪৬
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৪৬। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ (র) ইবন জা'ফর (রা)। তিনি বলেন, আমার কাছে শু'বা (র) সাকীফ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি যাকে ইবন আবদিল ওয়াহিদ বলা হয়- থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, আমি আবু মুজীব (র)-কে বলতে শুনেছি, একদা আবু যর (রা) আবু হুরায়রা (রা)-এর সঙ্গে মিলিত হলেন। বর্ণনাকারী (অধঃস্তন) বলেন, আমার মনে হচ্ছে তিনি (উর্ধ্বতন বর্ণনাকারী) বলেছেন যে, আবূ হুরায়রা (রা) তার তরবারির বাঁটে রূপা ব্যবহার করেছিলেন। তখন আবু যর (রা) তাকে এটা হতে নিষেধ করলেন এবং তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বর্ণ বা রূপা রেখে যাবে (অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করবে।) তাকে এগুলো দ্বারা দাগ দেওয়া হবে।
(তাবারানী)
(হায়ছামী (র) বলেছেন, আহমাদ (র)-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
46- حدثنا محمد بن جعفر ثنا شعبة عن رجل من ثقيف يقال له فلان بن عبد الواحد قال سمعت أبا مجيب قال لقى أبو ذر أباه هريرة وجعل أراه قال قبيعة سيفه نضة فنهاه، وقال أبو ذر قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من إنسان أو قال أحد ترك صفراء أو بيضاء إلا كوى بها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৪৭। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তিনটি বস্তু হতে নিষেধ করেছেন। কাসসী (এক প্রকার রেশমী কাপড় যা মিশরের কাস নামক শহরের তৈরী হত) ও মীসারা (এক জাতীয় রেশমের কাপড়) পরিধান করতে এবং রুকু অবস্থায় কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন।
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কাস্সী, মীসারা ও উসফুর ঘাস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরতে এবং রুকু বা সাজদারত অবস্থায় কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন।
(হাদীসটির উভয় সূত্র দূর্বল। প্রথমটি সূত্রে সংযোগ-বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। কেননা, আলী যায়নুল আবিদীন (র) তার দাদা আলী ইবন আবি তালিব (রা)-এর সাক্ষাত পান নি। আর দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণনাকারী আবদুল কারীম আবূ উমাইয়া-কে হাফিয (র) এবং ইবন মা'ঈন (র) দূর্বল বলেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
47- عن علي رضي الله عنه قال نهاني رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ثلاثة، نهاني عن القسي والمثيرة وإن أقرأ وأنا راكع وعنه من طريق ثان نهاني رسول الله صلى الله عليه وسلم عن لباس القسي والمياثر والمعصفر وعن قراءة القرآن والرجل راكع أو ساجد عن أبي بردة بن أبي موسى
হাদীস নং: ৪৮
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৪৮। আবূ বুরদা ইবন আবি মূসা (র) সূত্রে হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে মীসারা (রেশমের জামা) ও কাসসী (গদি) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমরা তাকে বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন। মীসারা কী? তিনি বললেন, এটা এমন বস্ত্র যা নারীরা তাদের স্বামীদের আরোহনের জন্য প্রস্তুত করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, কাসসী কী? তিনি বললেন, এটা এক প্রকার ডোরাকাটা কাপড় যা আমাদের নিকট শাম হতে আসে। (অন্য বর্ণনায়: তাতে রেশম এবং কমলালেবুর আকৃতি থাকে।) আবূ বুরদা (রা) বলেন, যখন আমি সাবানী (এক প্রকার কাপড়) বস্ত্র দেখলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে, এটাই সেটা।
(হাদীসটি বিশুদ্ধ। তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবন মাজাহ সংক্ষেপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
48- عن علي رضي الله عنه قال نهاني رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم عن الميثرة وعن القسية، قلنا له يا أمير المؤمنين وأي شيء الميثرة؟ قال شيء كان يصنعه النساء لبعولتهن على رحالهن، قال قلنا وما القسية قال ثياب تأتينا من قبل الشام (وفي رواية أو اليمن شك الراوي) مضلعة فيها أمثال الأترج (وفي رواية فيها حرير فيها أمثال الأترج) قال أبو بردة فلما رأيت السبني عرفت أنها هي
হাদীস নং: ৪৯
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৪৯। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মীসারা, কাসসী, স্বর্ণের আংটি এবং মুফদাম (গাঢ় লালবর্ণ) হতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী ইয়াযীদ (র) বলেন, মীসারা হল, হিংস্র পশুর চামড়া, কাসসী হল, রেশমের ডোরাকাটা কাপড়; যা মিশর থেকে আমদানী করা হয়। আর মুফদাম হল, উসফুর দ্বারা রঞ্জিত বস্ত্র।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইয়াশকুরী' দূর্বল। ইবন মা'ঈন (র)ও তাকে দূর্বল বলেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
49- عن عبد الله بن عمر قال نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه وسلم عن الميثرة والقسية وحلقة الذهب والمفدم: قال يزيد والميثرة جلود السباع والقسية ثياب مضلعة من ابريسم بجاه بها من مصر والمفدم المشبع بالعصفر
হাদীস নং: ৫০
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৫০। আবূ যুবায়র (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন আবদিল্লাহ (রা)-কে গাঢ় লালবর্ণের গদি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি এটার ওপর আরোহণ করি না এবং এমন পোশাক পরি না, যার ডোরা রেশমের তৈরী এবং কাসসী (রেশমের বস্ত্র)ও পরি না।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী ইবন লাহি'আ বিতর্কিত। তবে তার হাদীস হাসান। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
50- عن أبي الزبير قال سألت جابر بن عبد الله عن ميثرة الأرجوان فقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا أركبها ولا ألبس قميصا مكفوفا بحرير ولا البس القسي
tahqiq

তাহকীক:

rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫১
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৫১। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ (র)। তিনি বলেন, আমার কাছে হিশাম (র) মুহাম্মদ (র) থেকে, তিনি উবায়দা (র) থেকে এবং তিনি আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আলী (রা) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) গাঢ় লালবর্ণের গদি ব্যবহার করতে এবং রেশমী বস্ত্র ও স্বর্ণের আংটি পরতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ (র) বলেন, আমি এই হাদীস আমার ভাই মুহাম্মাদ ইবন সীরীন (র)-এর নিকট ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, তুমি কি এটা শুনতে পাও নি, হ্যাঁ, এবং রেশমের ডোরা হতে নিষেধ করেছেন?
(হাদীসটির সূত্র বিশুদ্ধ। মুসলিম আলী (রা) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
51- حدثنا يزيد أنبأنا هشام عن محمد عن عبيدة عن علي رضي الله عنه قال نهى عن مياثر الأرجوان ولبس القسي وخاتم الذهب قال محمد فذكرت ذلك لأخي يحيى بن سيرين فقال أو لم تسمع هذا؟ نعم وكفاف الديباج
হাদীস নং: ৫২
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৫২। মালিক ইবন উমায়ের (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আলী (রা)-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি বলেন, সে সময় সা'সা'আ ইবন সুহান এসে সালাম দিলেন। তারপর তিনি উঠে বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে যেসব বস্তু হতে নিষেধ করেছেন, আমাদেরকেও সেসব বস্তু হতে নিষেধ করুন। তখন আলী (রা) বললেন, তিনি আমাদেরকে কদুর খোলস, মটকা, আলকাতরাযুক্ত পাত্র এবং খেজুর গাছের গোড়া হতে তৈরী পাত্র হতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি আরো নিষেধ করেছেন কাসসী (এক প্রকার রেশমের বস্ত্র), গাঢ় লালবর্ণের পোশাক, রেশম ও স্বর্ণের আংটি হতে। এরপর (ﷺ) রাসূলুল্লাহ আমাকে রেশমের পোশাক পরিয়ে দিলেন। আমি সেটা পরিহিত অবস্থায় বের হই; যেন লোকেরা আমার গায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রদত্ত পোশাক দেখতে পায়। তিনি বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখে তা খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তারপর তিনি কাপড়দ্বয়ের একটি ফাতিমা (রা)-এর নিকট পাঠিয়ে দেন আর অপরটি তার সহধর্মিণীগণের মধ্যে বণ্টন করে দেন।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ ভিন্ন ভিন্ন শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে সবগুলো সমর্থক।)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
52- عن مالك بن عمير قال كنت قاعدا عند علي قال فجاء صعصعة بن صوحان فسلم ثم قال فقال يا أمير المؤمنين انهنا عما نهاك رسول الله صلى الله عليه وسل، فقال نهانا عن الدباء والختم والمزفت والنقير ونهانا عن القسي والميثرة والحمراء وعن الحرير والحلق الذهب ثم كساني رسول الله صلى الله عليه وسلم حلة من حرير فخرجت فيها ليرى الناس على كسوة رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فرآني رسول الله صلى الله عليه وسلم فأمرني بنزعهما فأرسل بأحداهما إلى فاطمة وشق الأخرى بين نسائه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৫৩। বারা ইবন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সাতটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি কাজ থেকে বারণ করেছেন, ১. অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখিতে যাওয়া, ২. জানাযায় শরীক হওয়া, ৩.আহবানকারীর আহবানে সাড়া দেওয়া,৪.সালামের বহুল প্রচলন, ৫.যে হাঁচি দেয়, তাহার হাঁচির জবাব দেওয়া,৬.শপথ পূরণে সহায়তার, ৭.অত্যাচারিতের সাহায্য করার।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে স্বর্ণের আংটি, রূপার পাত্র, সাধারণ রেশম, মিহিন রেশম, মোটা রেশম লালবর্ণের গদি, এবং কাসসী (এক প্রকার রেশমী বস্ত্র) হতে নিষেধ করেছেন।
(বুখারী, মুসলিম ও ইমামচতুষ্ঠয়)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
53- عن البراء بن عازب قال أمرنا الله صلى الله عليه وسلم بسبع ونهانا عن سبع، أمرنا بعيادة المريض وإتباع الجنائز وإجابة الداعي وإفشاء السلام وتشميت العاطس وأبرار القسم ونصر المظلوم، ونهانا عن خواتيم الذهب وآنية الفضة والحرير والديباج والاستبرق والمياثر الحمر والقسى
হাদীস নং: ৫৪
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৫৪। আলী ইবন আবি তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে নিষেধ করেছেন, আমি বলি না যে, তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাকে স্বর্ণের আংটি হতে, কাসসী (এক প্রকার রেশমী পোশাক) এবং হলুদ বর্ণের পোশাক পরিধান করা হতে, এবং রুকু অবস্থায় কুরআন পাঠ করা হতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি আমাকে রেশমের ডোরাকাটা এক জোড়া পোশাক দিলেন। আমি তা পরে বের হলে তিনি বললেন, হে আলী। আমি এটা তোমাকে পরার জন্য দেই নি। আলী (রা) বলেন, তারপর আমি তা নিয়ে ফাতিমা (রা)-এর কাছে ফিরে আসলাম এবং তাকে কাপড়ে এক প্রান্ত দিলাম। সে আমাকে নিয়ে সেটা ভাঁজ করতে লাগল। তখন আমি সেটাকে দ্বি-খণ্ডিত করে দিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, ফাতিমা (রা) বললেন, আপনার হাত ধুলি-মলিন হোক। হে ইবন তালিব। আপনি এটা কী করলেন? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এটা পরতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং এটা তুমি পর এবং তোমার পরিবারস্থ মহিলাদেরকে পরাও।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
54- عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال نهاني رسول الله صلى الله عليه وسلم لا أقول نهاكم عن تختم الذهب وعن لبس القسى والمعصفر وقراءة القرآن وأنا راكع وكساني حلة من صيراء فخرجت فيها فقال يا علي إني لم أكسكها لتلبسها، قال فرجعت بها إلى فاطمة رضي الله عنها فأعطيتها ناحيتها فأخذت بها لتطويها معي فشققتها بثنتين، قال فقالت تربت يداك يا ابن أبي طالب ماذا صنعت؟ قال فقلت لها نهاني رسول الله صلى الله عليه وسلم عن لبسها فالبسي واكسي نساءك
হাদীস নং: ৫৫
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৫৫। আবু মালীহ ইবন উসামা (র) সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
55- عن أبي المليح بن أسامة عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ونهى عن جلود السباع
হাদীস নং: ৫৬
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৫৬। আলী (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে স্বর্ণের আংটি লালবর্ণের গদি, কাসসী (এক প্রকার রেশমী বস্তু) হতে এবং গম ও যব হতে তৈরী নাবীয় হতে নিষেধ করেছেন।
(মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
56- عن علي رضي الله عنه قال نهاني رسول الله صلى الله عليه وسلم عن خاتم الذهب وعن الميثرة وعن القسي وعن الجعة
হাদীস নং: ৫৭
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৫৭। হুযায়ফা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিহি রেশম ও মোটা রেশমের কাপড় পরতে এবং স্বর্ণ ও রূপার পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন যে, এসব দুনিয়াতে তাদের (কাফিরদের) জন্য আর পরকালে এগুলো আমাদের জন্য।
(বুখারী, মুসলিম ও ইমামচতুষ্ঠয়)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
57- عن حذيفة قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن لبس الحرير والديباج وآنية الذهب والفضة، وقال هو لهم في الدنيا ولنا في الآخرة
হাদীস নং: ৫৮
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপা, রেশম এবং বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার্য সামগ্রী প্রসঙ্গ
নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হাদীস।
৫৮। মুজাহিদ (র) সূত্রে আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে পাঁচটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। রেশম ও স্বর্ণ পরিধান করতে, স্বর্ণ ও রূপার তৈরী পাত্রে পান করতে, লাল বর্ণের গদি হতে ও কাসসী (এক প্রকার রেশমী কাপড়) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। আয়েশা (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) সামান্য পরিমাণ স্বর্ণ; যার দ্বারা কংকন বেঁধে রাখা হয়, এটা কি বৈধ হবে? তিনি বললেন, না এটা রূপা দ্বারা তৈরী কর এবং তাতে সামান্য পরিমাণ যাফরান মিশিয়ে দাও।
(আবু ইয়া'লা)
(হাদীসটির সনদে বর্ণনাকারী খুসায়ফ দুর্বল। তবে একদল হাদীসবিশারদ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
(أبواب ما جاء في الذهب والفضة والحرير وما يجوز استعماله منهما وما لا يجوز) (باب أحاديث جامعة لأمور من ذلك منهي عنها)
58- عن مجاهد عن عائشة رضي الله عنها قالت نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن خمس: عن لبس الحرير والذهب والشرب في آنية الذهب والفضة والميثرة الحمراء ولبس القسي، فقالت عائشة يا رسول الله شيء رقيق من الذهب يربط به المسك أو يربط به؟ قال لا، اجعليه فضة وصفريه بشيء من زعفران
হাদীস নং: ৫৯
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপার পাত্র ব্যবহার করা পুরুষ ও মহিলাদের হারাম।
৫৯। আবদুর রহমান ইবন আবি লায়লা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযায়ফা (রা)-এর সঙ্গে এই শস্য-শ্যামল এলাকায় (মাদায়েন) গেলাম। তিনি পানি চাইলে এক গ্রাম্য নেতা রূপা পাত্রে পানি নিয়ে এল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তা সে লোকের মুখমণ্ডলে ছুঁড়ে মারলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাকে বললাম, থামুন, থামুন। আমরা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাদেরকে কিছু বললেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমরা নীরব রইলাম। কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন, তোমরা কি জান, কেন আমি পাত্রটি তার মুখমণ্ডলে ছুঁড়ে মেরেছি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, আমি তাকে এরূপ করতে নিষেধ করেছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর হুযায়ফা (রা) বললেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা স্বর্ণের পাত্রে পান কর না। বর্ণনাকারী মু'আয (র) বলেন, তোমরা স্বর্ণের পাত্রে পান কর না এবং রূপার পাত্রেও না। তোমরা মিহি রেশম ও মোটা রেশম পরিধান কর না। কেননা, এসব দুনিয়াতে তাদের (কাফিরদের) জন্য আর পরকালে এগুলো আমাদের জন্য।
(বুখারী, মুসলিম ও ইমামচতুষ্ঠয়)
كتاب اللباس والزنية
باب تحريم أواني الذهب والفضة على الرجال والنساء
59- عن عبد الرحمن بن أبي ليلى قال خرجت مع حذيفة إلى بعض هذا السواد فاستسقى فأتاه دهقان باناء من فضة قال فرماه به في وجهه، قال قلنا اسكتوا اسكتوا وإنا إن سألناه لم يحدثنا، قال فسكتنا، قال فلما كان بعد ذلك قال أتدرون لم رميت به في وجهه؟ قال قلنا لا، قال غني كنت نهيته قال فذكر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا تشربوا في آنية الذهب، قال معاذ لا تشربوا في الذهب ولا في الفضة ولا تلبسوا الحرير ولا الديباج فإنهما لهم في الدنيا ولكم في الآخرة
হাদীস নং: ৬০
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সোনা, রূপার পাত্র ব্যবহার করা পুরুষ ও মহিলাদের হারাম।
৬০। উম্মু সালামা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে সে তার পেটে জাহান্নামের আগুনই প্রবেশ করাবে।
(বুখারী, মুসলিম, ইবন মাজাহ)
كتاب اللباس والزنية
باب تحريم أواني الذهب والفضة على الرجال والنساء
60- عن أم سلمة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم قال أن الذي يشرب في إناء من فضة إنما يجرجر في بطنه نار جهنم