মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৫৪ টি
হাদীস নং: ৪১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৪১) মূসা ইব্ন 'উকবা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে আবু সালামা বর্ণনা করেছেন এমন এক ব্যক্তির বরাতে, যিনি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। রাসূল (ﷺ) তখন জিব্রীলের (আ) সাথে নীচু আওয়াজে কথা বলছিলেন। আবু সালামার ধারণা- সেই ব্যক্তি পাছে রাসূলের (ﷺ) কথাবার্তা শোনা যায়-এই ভয়ে তার কাছে যাননি। কিন্তু সকালবেলায় রাসূল (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, গতকাল তুমি আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে সালাম দাওনি কেন? সেই ব্যক্তি বললেন, আমি দেখলাম আপনি এক জনের সাথে একান্তে কথা বলছিলেন, তাই আমি আশংকা করলাম, আপনাদের নিকটবর্তী হওয়া আপনি পছন্দ করবেন না। (তাই আমি কাছে গিয়ে আপনাদের সালাম দেওয়া থেকে বিরত থেকেছি)। রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি কি জান, সেই লোকটি কে? বললেন, না। রাসূল (ﷺ) বললেন, তিনি ছিলেন জিব্রীল (আ); তুমি যদি সালাম দিতে, তাহলে তিনি তোমার সালামের উত্তর প্রদান করতেন। রাবী বলেন, আমি আবু সালামা ছাড়াও হারিছা ইব্ন নুমানের কাছ থেকে (এই হাদীস) শুনেছি।
(হাকিম, আহমদ ও তাবারানী)
(হাকিম, আহমদ ও তাবারানী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن موسى بن عقبة قال حدثنى أبو سلمة عن الرجل الذى مر برسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يناجى جبريل عليه السلام فزعم أبو سلمة أنه تجنب أن يدنو من رسول الله صلى الله عليه وسلم تخوفا أن يسمع حديثه، فلما أصبح قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ما منعك ان تسلم اذ مررت بى البارحة؟ قال رأيتك تناجى رجلا فخشيت أن تكره ان أدنو منكما، قال وهل تدرى من الرجل؟ قال لا، قال فذلك جبريل عليه السلام، ولو سلمت لرد السلام، وقد سمعت من غير أبى سلمة أنه حارثه بن النعمان
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৪২) আবদুল্লাহ্ ইব্ন 'আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) জিজ্ঞেস করেছিলাম- আপনি কি ওহীর আগমন সম্পর্কে পূর্বাভাস পেয়ে থাকেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, হ্যাঁ, আমি ঘণ্টাধ্বনি শুনতে পাই, অতঃপর আমি নিশ্চুপ হয়ে যাই। যখনই (বা যতবারই) আমার কাছে ওহী আসে, তখনই আমার মনে হয়, এই বুঝি আমার জান কবজ করা হচ্ছে।
(হাইছামী ও হাকেম)
(হাইছামী ও হাকেম)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن عبد الله بن عمرو قال سألت النبى صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله هل تحس بالوحى؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم، أسمع صلاصل ثم اسكت عند ذلك، فما من مرة يوحى الى الا ظننت ان نفسى تقبض
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৪৩) আলী (রা) অথবা যুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করতেন এবং আল্লাহর নেয়ামত ও অতীত জাতিসমূহের ঘটনাবলী বর্ণনা করতেন। (তাদের অবাধ্যতার কারণে আল্লাহর আযাবে পতিত হওয়ার বর্ণনাও তিনি প্রদান করতেন)। এমনকি আমরা তাঁর চেহারা মুবারকে ভীতির ছায়া লক্ষ্য করতাম; মনে হত তিনি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করছেন, যাদের উপর পরবর্তী ভোরেই আল্লাহর গযব অবতীর্ণ হবে। আর জিব্রীল (আ) এর সাথে সাক্ষাতের অব্যবহিত পরে অর্থাৎ ওহীর কাঠিন্য বিদূরিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি হাসতেন না।
(হাইছামী, বাযযার ও তাবারানী)
(হাইছামী, বাযযার ও তাবারানী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن على أو عن الزبير قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطبنا فيذكرنا بأيام الله حتى نعرف ذلك فى وجهه وكأنه نذير قوم يصبحهم الأمر غدوة وكان اذا كان حديث عهد بجبريل لم يبتسم ضاحكا حتى يرتفع عنه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৪৪) 'উমার ইব্নল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলের (ﷺ) উপর ওহী অবতীর্ণ হতো, তখন তাঁর চেহারা মুবারকের কাছে মৌমাছির গুনগুনানির মত এক প্রকার শব্দ শোনা যেত।
(এ হাদীসের তাখরীজ পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।)
(এ হাদীসের তাখরীজ পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال كان اذا نزل رسول الله صلى الله عليه وسلم الوحى يسمع عند وجهه دوئ كدوى النحل
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৪৫) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহর (ﷺ) উপর যদি শীতার্ত ভোরেও ওহী অবতীর্ণ হতো, তখনও (ওহীর প্রচণ্ড চাপে) তাঁর ললাট ঘর্মাক্ত হয়ে উঠতো।
(হাদীসটি গরীব। বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
(হাদীসটি গরীব। বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن عائشة رضي الله عنها قالت ان كان لينزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الغداة الباردة ثم تفيض جبهته عرقا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৪৬) আয়েশা (রা) থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) উপর কোন বাহনের উপর সওয়ারী অবস্থায় ওহী অবতীর্ণ হতো, তবে (ওহীর প্রচণ্ড চাপের দরুন) সেই সওয়ারী (কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে) মাটিতে তার গলদেশ ঘর্ষণ করতে থাকতো।
(হাইছামী, আহমদ)
(হাইছামী, আহমদ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
وعنها أيضا أنها قالت ان كان ليوحى الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على راحلته فتضرب بجيرانها
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৪৭) আয়েশা (রা) থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যে সাক্ষাতকারে জিব্রীল (আ)-এর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন, তার অব্যবহিত পর কল্যাণ বিতরণে বেগবান বায়ুর চেয়েও অধিক উদার হয়ে যেতেন।
(এটি একটি সুদীর্ঘ হাদীসের অংশবিশেষ। এর ব্যাখ্যা ও তাখরীজ 'ফাযাইলুল কুরআন' অধ্যায়ে আসছে, ইনশাআল্লাহ্।)
(এটি একটি সুদীর্ঘ হাদীসের অংশবিশেষ। এর ব্যাখ্যা ও তাখরীজ 'ফাযাইলুল কুরআন' অধ্যায়ে আসছে, ইনশাআল্লাহ্।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
وعنها أيضا قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كان حديث عهد بجبريل يدارسه كان أجود بالخير من الريح المرسلة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৪৮) আয়েশা (রা) থেকে আরো বর্ণিত, হারিছ ইব্ন হিশাম (রা) (একদা) রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) প্রশ্ন করেন, কীভাবে আপনার কাছে ওহীর আগমন হয়? রাসূল (ﷺ) বলেন, কখনও (ওহী আসে) ঘণ্টাধ্বনির ন্যায়, যা আমার জন্য সবচেয়ে বেশী কষ্টকর (মনে হয়); আমার শরীর থেকে ঘাম নির্গত হয়, আর (সাথে সাথেই) তা আমার মুখস্থ হয়ে যায়। আবার কখনও ফেরেশতা (জিব্রীল আ.) মানুষের আকৃতি ধারণ করে আসেন এবং তিনি যা কিছু বলেন আমি মুখস্থ করে ফেলি।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
وعنها أيضا ان الحرث بن هشام سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف يأتيك الوحى؟ قال أحيانا يأتيني مثل صلصلة الجرس وهو أشد على ثم يغصم عمى وقد وعيت وأحيانا ياتينى ملك فى مثل صورة الرجل فأعى ما يقول
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : প্রকাশ্য দা'ওয়াতের পূর্বে রাসূলের (ﷺ) প্রতি যাঁরা ঈমান এনেছিলেন
(৪৯) যায়েদ ইব্ন আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বপ্রথম যিনি সালাত (নামায) আদায় করেন, (অন্য বর্ণনায়) সর্বপ্রথম যিনি রাসূলুল্লাহর সাথে ইসলাম কবুল করেন, তিনি হচ্ছেন 'আলী (রা)। 'আমর বলেন এ বিষয়টি আমি ইব্রাহীম (নখয়ী)-এর কাছে উত্থাপন করলে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং বলেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি হচ্ছেন- আবূ বকর (রা)। (অন্য বর্ণনায় এসেছে) ইব্রাহীম (র) বলেন, আবূ বকর (রা) হচ্ছেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে ঈমান এনেছেন।
(ইবন জারীর ও ইবন ইসহাক)
(ইবন জারীর ও ইবন ইসহাক)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر أول من آمن به صلى الله عليه وسلم قبل إظهار الدعوة
حدثنا يزيد بن هرون أنا شعبة عن عمرو بن مرة قال سمعت أبا حمزة يحدث عن زيد ابن أرقم قال أول من صلى (وفى لفظ) أول من اسلم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم على، قال عمرو فذكرت ذلك لابراهيم فأنكر ذلك وقال أبو بكر رضي الله عنه (زاد فى رواية) وقال أبو بكر أول من أسلم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : প্রকাশ্য দা'ওয়াতের পূর্বে রাসূলের (ﷺ) প্রতি যাঁরা ঈমান এনেছিলেন
(৫০) ইসমা'ঈল ইব্ন ইয়াস ইব্ন 'আকীক আল-কিন্দী, তার পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি ছিলাম একজন ব্যবসায়ী মানুষ। আমি (একদা) হজের মৌসুমে আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিবের কাছে যাই ব্যবসার উদ্দেশ্যে তার কাছ থেকে কিছু পণ্য খরিদ করার উদ্দেশ্যে। কারণ, তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। আল্লাহর শপথ, আমি 'আব্বাসের সাথে মিনায় অবস্থানরত ছিলাম; এমন সময় জনৈক ব্যক্তি নিকটস্থ এক তাঁবু থেকে বের হয়ে সূর্যের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে, মিনায় সূর্য হেলে গিয়েছে, তখন তিনি সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হলেন। এরপর যে তাবু থেকে পূর্বোক্ত লোকটি বের হয়েছিলেন, সেই তাঁবু থেকে জনৈকা মহিলা বের হলেন এবং সেই লোকটির পেছনে সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। এরপর সেই একই তাঁবু থেকে জনৈক কিশোর (বালক) বের হয়ে প্রথমোক্ত, লোকের সাথে সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে গেল। রাবী বলেন, (এই দৃশ্য দেখে) আমি আব্বাসকে জিজ্ঞেস করলাম, এই লোকটি কে, আব্বাস? আব্বাস বললেন, এ হচ্ছে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ ইব্ন আবদুল মুত্তালিব। আমি বললাম, ঐ স্ত্রীলোকটি কে? আব্বাস বললেন, এ হচ্ছে তার স্ত্রী খাদীজা বিনত খুয়াইলিদ। আমি বললাম ওই কিশোর বালকটি কে? আব্বাস বললেন বালকটি হচ্ছে তার ভাতিজা আলী ইব্ন আবী তালিব। আমি বললাম, (পরিচয় তো পেলাম, কিন্তু) এরা করছে কী? আব্বাস বললেন, সালাত (নামায) আদায় করছে। সে (মুহাম্মদ) মনে করে যে, সে একজন নবী, তবে তার স্ত্রী ও তার ভাতিজা এই বালক ছাড়া এই বিষয়ে এখনও কেউ তাকে অনুসরণ করেনি। (আব্বাস বলেন) সে এও মনে করে থাকে যে, (এক দিন) রোম ও পারস্য সম্রাটের ভান্ডারসমূহ তার করতলগত হবে। রাবী বলেন, এরপর থেকে (আমার দাদা তথা) আশ'আছ ইব্ন কাইসের ভাতিজা 'আফীফ, যিনি পরবর্তীকালে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাতে তিনি নিষ্ঠাবান ছিলেন, (প্রায়শঃ) বলতেন, ঐ সময় বা ঐদিন আল্লাহ্ পাক যদি আমাকে ইসলাম কবুল করা মঞ্জুর করতেন, তাহলে আমি আলী ইব্ন আবী তালিবের সাথে (ইসলাম গ্রহণে) তৃতীয় হয়ে যেতে পারতাম।
(মালিক, আয-যাহাবী, ইবন সা'দ, নাসাঈ, বগভী, আবু ইয়ালা, তাবারী, বুখারী (তারীখুল কাবীর) প্রমুখ।
(মালিক, আয-যাহাবী, ইবন সা'দ, নাসাঈ, বগভী, আবু ইয়ালা, তাবারী, বুখারী (তারীখুল কাবীর) প্রমুখ।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر أول من آمن به صلى الله عليه وسلم قبل إظهار الدعوة
عن اسماعيل بن إياس بن عفيف الكندى عن أبيه عن جده قال كنت امرءا تاجرا فقدمت الحج فأتيت العباس بن عبد المطلب لأبتاع منه بعض التجارة وكان امرءا تاجرا فوالله انى لعنده بمنى إذ خرج رجل من خباء قريب منه فنظر الى الشمس فلما رآها مالت يعنى قالم يصلى قال ثم خرجت امرأة من ذلك الخباء الذى خرج منه ذاك الرجل فقامت خلفه تصلى: ثم خرج غلام حين راهق الحلم من ذلك الخباء فقام معه يصلى، قال فقلت للعباس من هذا يا عباس؟ قال هذا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب ابن أخى، قال فقلت من هذه المرأة؟ قال هذه امرأته خديجة ابنة خويلد، قال قلت من هذا الفتى؟ قال هذا على بن أبى طالب بن عمه، قال فقلت فما هذا الذي يصنع؟ قال يصلى وهو يزعم أنه نبي ولم يتبعه على امره إلا امرأته وابن عمه هذا الفتى، وهو يزعم أنه يفتح عليه كنوز كسرى وقيصر قال فكان عفيف وهو ابن عم الأشعث بن قيس يقول وأسلم بعد ذلك فحسن اسلامه لو كان الله رزقنى الاسلام يومئذ فاكون ثالثا مع على بن أبى طالب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : প্রকাশ্য দা'ওয়াতের পূর্বে রাসূলের (ﷺ) প্রতি যাঁরা ঈমান এনেছিলেন
(৫১) ইব্ন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাদীজার (রা) পর আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) সাথে প্রথম যিনি সালাত আদায় করেন, (আরেকবার রাবী বলেছেন যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন) তিনি হচ্ছেন আলী (রা)।
(হাদীসটি গরীব। তবে সনদ উত্তম, তিরমিযি)
(হাদীসটি গরীব। তবে সনদ উত্তম, তিরমিযি)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر أول من آمن به صلى الله عليه وسلم قبل إظهار الدعوة
عن ابن عباس قال أول من صلى مع النبى صلى الله عليه وسلم بعد خديجة على، وقال مرة أسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : প্রকাশ্য দা'ওয়াতের পূর্বে রাসূলের (ﷺ) প্রতি যাঁরা ঈমান এনেছিলেন
(৫২) আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বপ্রথম যাঁরা ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন, তাঁরা সংখ্যায় সাতজন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ), আবূ বকর, আম্মার ইবন্ ইয়াসির, আম্মার জননী সুমাইয়্যা, সুহাইব, বিলাল ও আল-মিকদাদ (রা)। তবে আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) তাঁর চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে এবং আবূ বকরকে (রা) তাঁর কওমের মাধ্যমে (মুশরিকদের অত্যাচার থেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কিন্তু বাকী অন্যান্য সবাইকে মুশরিকরা ধরে নিয়ে লোহার বেড়ি পরিয়ে সূর্যের নীচে চিৎ করিয়ে রেখেছে। তাঁদের সবাই মুশরিকদের ইচ্ছামত-যা তারা করতে বলেছে, তাই করেছেন। কিন্তু বিলাল তা করেননি। আল্লাহর জন্য তাঁর জীবনকে তিনি তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন এবং তাঁর সম্প্রদায়ও তাকে দুর্বল পেল। সুতরাং তারা তাকে (উচ্ছৃঙ্খল) বালকদের হাতে তুলে দেয়। তারা (বালকরা) তাকে নিয়ে মক্কার গলিতে গলিতে ঘুরাতে থাকে; কিন্তু তিনি 'আহাদ' 'আহাদ' বলতে থাকেন।
(মালিক ও ইবন্ মাজাহ)
(মালিক ও ইবন্ মাজাহ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر أول من آمن به صلى الله عليه وسلم قبل إظهار الدعوة
عن عبد الله قال أول من أظهر اسلامه سبعة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وعمار بن ياسر وأمه سمية وصهيب وبلال والمقداد، فأما رسول الله صلى الله عليه وسلم فمنعه الله بعمه أبى طالب وأما أبو بكر فمنعه الله بقومه: وأما سائرهم فأخذهم المشركون فألبسوهم ادراع الحديد وصهروهم فى الشمس فما منهم انسان إلا وقد واتاهم على ما ارادوا الا بلال فانه هانت عليه نفسه فى الله وهان على قومه فأعطوه الولدان واخذوا يطوفون به شعاب مكة وهو يقول أحد احد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : প্রকাশ্য দা'ওয়াতের পূর্বে রাসূলের (ﷺ) প্রতি যাঁরা ঈমান এনেছিলেন
(৫৩) 'আমর ইবন 'আবাসা আল-সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলকে (ﷺ) উদ্দেশ্য করে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আপনার সাথে এই কর্মে আর কে কে আছেন? (অর্থাৎ আপনার হাতে আর কে ইসলাম গ্রহণ করেছে?) উত্তরে তিনি বললেন, এক জন আযাদ ও এক জন দাস। ঐ সময় তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর আর বিলাল (রা)। এরপর রাসূল (ﷺ) 'আমরকে (রা) বললেন, তুমি তোমার কওমে ফিরে যাও-যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূলকে (ﷺ) প্রতিষ্ঠিত করেন। রাবী বলেন, (এরপর) 'আমর ইবন 'আবাসা (প্রায়শঃ) বলতেন, আমাকে দেখতে পাচ্ছি ইসলাম কবুলকারীদের চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে। (কারণ, তিনি ঐ সময়ই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) নির্দেশমত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা গোপন রেখেছিলেন।
(মুসলিম ও আহমদ।)
(মুসলিম ও আহমদ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر أول من آمن به صلى الله عليه وسلم قبل إظهار الدعوة
عن عبد الرحمن بن البيلماني عن عمرو بن عبسة السلمى قال قلت يا رسول الله من معك على هذا الأمر؟ قال حر وعبد ومعه أبو بكر وبلال ثم قال له ارجع الى قومك حتى يمكن الله عز وجل لرسوله، قال وكان عمرو بن عبسة يقول لقد رأتينى وانى لربع الاسلام
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : প্রকাশ্য দা'ওয়াতের পূর্বে রাসূলের (ﷺ) প্রতি যাঁরা ঈমান এনেছিলেন
(৫৪) আসমা বিনতে আবূ বকর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (কা'বার) রুকনে (ইয়ামানী)-এর পাশে (কাবা এর দিকে মুখ করে) আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং সালাতে তিনি আল্লাহ্ কালাম পাঠ করছিলেন এবং মুশরিকরা তা শুনতে পাচ্ছিল
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে
এটা প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের আগের কথা।
(আহমদ ও হাইছামী।
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে
এটা প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের আগের কথা।
(আহমদ ও হাইছামী।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر أول من آمن به صلى الله عليه وسلم قبل إظهار الدعوة
عن اسماء بنت أبى بكر رضي الله عنهما قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يقرأ وهو يصلى نحو الركن قبل أن يصدع لما يؤمر والمشركون يستمعون {فبا آلاء ربكما تكذبان}
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ্ তা'আলা কর্তৃক তাঁর নবীকে (ﷺ) প্রকাশ্যে দা'ওয়াতের নির্দেশ দান এবং এর ফলশ্রুতিতে কুরাইশ বংশীয় কাফিরদের পক্ষ থেকে তাঁর কষ্টভোগ এবং তাঁর সাথে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে দুর্বলদের উপর কাফিরদের কঠোর নির্যাতন
(৫৫) আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত
وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
(তোমার নিকটাত্মীয়দের ভীতি প্রদর্শন কর)
অবতীর্ণ হয়, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরাইশদের সাধারণ ও বিশেষজনদের (অন্য বর্ণনায় কুরাইশদের সকল গোত্রকে একটি একটি করে আহ্বান করতে থাকেন) আহ্বান করেন এবং (তাদের উদ্দেশ্যে) বলেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। হে বনূ কা'ব বিন লুয়াই গোত্র, তোমরা জাহান্নাম থেকে নিজেদের রক্ষা কর। হে বনু আবদে মানাফ তোমরা জাহান্নাম থেকে নিজেদেরকে রক্ষা কর। হে বনু হাশিম তোমরা জাহান্নাম থেকে নিজেদের রক্ষা কর। হে বনূ আবদুল মুত্তালিব, তোমরা নিজেদেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। হে ফাতিমা বিনতি মুহাম্মদ, তুমি নিজকে অগ্নি থেকে রক্ষা কর। কেননা, আল্লাহর শপথ, আল্লাহর আযাব থেকে তোমাদের রক্ষা করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। তবে হ্যাঁ, তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক যা আছে, আমি তার সিঞ্চনে তোমাদের সিক্ত করে যাব।
(এই হাদীসের তাখরীজ ফাযাইলুল কুরআন অধ্যায় ১৮তম খণ্ডে বর্ণিত হয়েছে। সূরা আশ্-শু'আরা এর তাফসীর দ্র.)
وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
(তোমার নিকটাত্মীয়দের ভীতি প্রদর্শন কর)
অবতীর্ণ হয়, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরাইশদের সাধারণ ও বিশেষজনদের (অন্য বর্ণনায় কুরাইশদের সকল গোত্রকে একটি একটি করে আহ্বান করতে থাকেন) আহ্বান করেন এবং (তাদের উদ্দেশ্যে) বলেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। হে বনূ কা'ব বিন লুয়াই গোত্র, তোমরা জাহান্নাম থেকে নিজেদের রক্ষা কর। হে বনু আবদে মানাফ তোমরা জাহান্নাম থেকে নিজেদেরকে রক্ষা কর। হে বনু হাশিম তোমরা জাহান্নাম থেকে নিজেদের রক্ষা কর। হে বনূ আবদুল মুত্তালিব, তোমরা নিজেদেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। হে ফাতিমা বিনতি মুহাম্মদ, তুমি নিজকে অগ্নি থেকে রক্ষা কর। কেননা, আল্লাহর শপথ, আল্লাহর আযাব থেকে তোমাদের রক্ষা করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। তবে হ্যাঁ, তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক যা আছে, আমি তার সিঞ্চনে তোমাদের সিক্ত করে যাব।
(এই হাদীসের তাখরীজ ফাযাইলুল কুরআন অধ্যায় ১৮তম খণ্ডে বর্ণিত হয়েছে। সূরা আশ্-শু'আরা এর তাফসীর দ্র.)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى أمر الله عز وجل نبىه صلى الله عليه وسلم باظهار الدعوة والصدع بها وما لاقاه من ايذاء كفار قريش له وتعذيبهم المستضعفين ممن اسلموا معه
عن أبى هريرة قال لما نزلت هذه الآية (وانذر عشيرتك الأقربين) دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم قريشا فعمّ وخصّ (وفى رواية جعل يدعو بطون قريش بطنا بطنا) فقال يا معشر قريش أنقذوا انفسكم من النار، يا معشر بنى كعب بن لؤى أنقذوا أنفسكم من النار، يا معشر بنى عبد مناف أنقذوا أنفسكم من النار، يا معشر بنى هاشم أنقذوا أنفسكم من النار، يا بنى عبد المطلب أنقذوا انفسكم من النار، يا فاطمة بنت محمد أنقذى نفسك من النار، فإني والله ما أملك لكم من الله شيئا الا ان لكم رحما سأبلها ببلالها
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ্ তা'আলা কর্তৃক তাঁর নবীকে (ﷺ) প্রকাশ্যে দা'ওয়াতের নির্দেশ দান এবং এর ফলশ্রুতিতে কুরাইশ বংশীয় কাফিরদের পক্ষ থেকে তাঁর কষ্টভোগ এবং তাঁর সাথে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে দুর্বলদের উপর কাফিরদের কঠোর নির্যাতন
(৫৬) ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াত
وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
(তোমার নিকটাত্মীয়দের ভীতি প্রদর্শন কর)
অবতীর্ণ করেন, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাফা পাহাড়ের উপর আরোহণ করে লোকজনকে উচ্চকণ্ঠে আহ্বান করেন। অতঃপর লোকজন তাঁর সন্নিকটে সমবেত হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, হে বনু আবদুল মুত্তালিব, হে বনূ ফিহর, হে বনূ লুয়াই, (শোন) আমি যদি তোমাদেরকে এই সংবাদ দিই যে, পাহাড়ের ঐদিকে একটি অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের উপর হামলার জন্য উদ্যত, তাহলে তোমরা কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? তারা বললো, অবশ্যই (করবো)। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমি তোমাদেরকে এক ভয়াবহ শাস্তির ব্যাপারে সতর্ককারী। তখন আবু লাহাব বললো, তুমি ধ্বংস হও, আজকে তুমি কি এ কথা বলার জন্যই ডেকেছ? তখন আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করেন-
تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
(ধ্বংস হোক আবু লাহাবের হস্তদ্বয় এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও)।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
(তোমার নিকটাত্মীয়দের ভীতি প্রদর্শন কর)
অবতীর্ণ করেন, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাফা পাহাড়ের উপর আরোহণ করে লোকজনকে উচ্চকণ্ঠে আহ্বান করেন। অতঃপর লোকজন তাঁর সন্নিকটে সমবেত হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, হে বনু আবদুল মুত্তালিব, হে বনূ ফিহর, হে বনূ লুয়াই, (শোন) আমি যদি তোমাদেরকে এই সংবাদ দিই যে, পাহাড়ের ঐদিকে একটি অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের উপর হামলার জন্য উদ্যত, তাহলে তোমরা কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? তারা বললো, অবশ্যই (করবো)। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমি তোমাদেরকে এক ভয়াবহ শাস্তির ব্যাপারে সতর্ককারী। তখন আবু লাহাব বললো, তুমি ধ্বংস হও, আজকে তুমি কি এ কথা বলার জন্যই ডেকেছ? তখন আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করেন-
تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
(ধ্বংস হোক আবু লাহাবের হস্তদ্বয় এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও)।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى أمر الله عز وجل نبىه صلى الله عليه وسلم باظهار الدعوة والصدع بها وما لاقاه من ايذاء كفار قريش له وتعذيبهم المستضعفين ممن اسلموا معه
عن ابن عباس قال لما أنزل الله عز وجل (وأنذر عشيرتك الأقربين) قال أتى النبى صلى الله عليه وسلم الصفا فصعد عليه ثم نادى يا صاحباه، فاجتمع الناس اليه بين رجل يجئ اليه وبين رجل يبعث رسوله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا بنى عبد المطلب. يا بنى فهر. يا بنى لؤى. أرايتم لو اخبرتكم ان خيلا بسفح هذا الجبل تريد ان تغير عليكم صدقتمونى؟ قالوا نعم، قال فانى نذير لكم بين يدى عذاب شديد، فقال ابو لهب تبالك سائرا، اليوم: اما دعوتنا الا لهذا؟ فأنزل الله عز وجل (تبت يدا أبى لهب)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ্ তা'আলা কর্তৃক তাঁর নবীকে (ﷺ) প্রকাশ্যে দা'ওয়াতের নির্দেশ দান এবং এর ফলশ্রুতিতে কুরাইশ বংশীয় কাফিরদের পক্ষ থেকে তাঁর কষ্টভোগ এবং তাঁর সাথে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে দুর্বলদের উপর কাফিরদের কঠোর নির্যাতন
(৫৭) আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধররা, তোমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে নিজেদেরকে খরিদ (রক্ষা) কর। সে সাফিয়্যা, রাসূলুল্লাহর ফুফু; হে ফাতিমা, রাসূলের কন্যা, তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা কর। (কারণ) আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে আমি (আখিরাতে) তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারবো না; (অবশ্য) দুনিয়াতে তোমাদের (সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে) আমার সম্পদ থেকে তোমরা যা খুশী চাইতে পার (এবং তা আমি দিতেও পারবো)।
(হাদীসটি গরীব। বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
(হাদীসটি গরীব। বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى أمر الله عز وجل نبىه صلى الله عليه وسلم باظهار الدعوة والصدع بها وما لاقاه من ايذاء كفار قريش له وتعذيبهم المستضعفين ممن اسلموا معه
عن ابى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا بنى عبد المطلب اشتروا انفسكم من الله يا صفية عمة رسول الله ويا فاطمة بنت رسول الله اشتريا انفسكما من الله لا اغنى عنكما من الله شيئا سلانى من مالى ماشئتما
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রকাশ্য দা'ওয়াতের নির্দেশ প্রাপ্তির পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে উৎপীড়নে যারা নেতৃত্বদান করেছিল- এ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ: উৎপীড়ন-নির্যাতনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল চাচা আবু লাহাব
পরিচ্ছেদ: উৎপীড়ন-নির্যাতনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল চাচা আবু লাহাব
(৫৮) আবদুর রহমান ইবন আবুয যিনাদ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি রবী'আহ ইব্ন 'ইবাদ আদ-দীলী, যিনি জাহেলী যুগ পেয়েছেন এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, থেকে বর্ণনা করেন-আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) যুল-মাজায নামক বাজারে স্বচক্ষে দেখেছি (প্রকাশ্য দা'ওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ে), তিনি বলছিলেন, হে লোকসকল, তোমরা বল- লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তাহলে তোমরা মুক্তিলাভ করবে। রাসূল (ﷺ) (এসব কথা বলতে বলতে) বাজারের গলিগুলোতে প্রবেশ করছেন, আর লোকজন তাঁর চারপাশে ভীড় করছিল। তাঁর কথা শুনে কাউকেে কিছু বলতে দেখলাম না। তিনি একাধারে বলে চলছেন, হে লোকসকল, তোমরা বল- লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তোমরা মুক্তিলাভ করবে। কিন্তু তাঁর পেছনে উজ্জ্বল চেহারার দু'ভাগে বিন্যস্ত কেশরাজিবিশিষ্ট এক লোক (রাসূলের (ﷺ) কথার প্রতিবাদে) বলছিল, এ হচ্ছে ধর্মত্যাগী, মিথ্যুক (এর কথা তোমরা বিশ্বাস করো না)। তখন আমি বললাম, ইনি কে? তারা বললো, মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ, যিনি নবুয়ত দাবী করছেন। আমি বললাম, ওই লোকটি কে, যে তাঁকে মিথ্যাবাদী বলছে? তারা বললো, তাঁর চাচা আবু লাহাব। রাবী বলেন, আমি রবী'আকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি ঐ সময় ছোট ছিলেন? তিনি বললেন, না, আল্লাহর শপথ, ঐ সময় আমি সবকিছু বুঝতাম।
একই রাবী থেকে দ্বিতীয় বর্ণনায় এসেছে-আমি একজন পূর্ণবয়স্ক যুবক; আমি আমার পিতার সাথে থেকে রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) (দেখেছি), তিনি বিভিন্ন গোত্রের লোকদের কাছে যাচ্ছেন এবং তাঁর পেছনে সুন্দর চেহারা ও কাঁধ পর্যন্ত ঝুলানো কেশরাজিবিশিষ্ট এক লোক তাঁকে অনুসরণ করে চলছে। আল্লাহর রাসূল এক একটি গোত্রের কাছে যাচ্ছেন এবং বলছেন, হে অমুক গোত্রের লোকজন, আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল হিসেবে প্রেরিত, আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহ্ ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক সাব্যস্ত করবে না। আর তোমরা আমাকে সত্যায়ন করবে, যাতে করে আমি আল্লাহ্ প্রদত্ত দায়িত্ব বাস্তবায়ন করতে পারি। রাসূল (ﷺ) তাঁর বক্তব্য সম্পন্ন করার পরপরই তাঁর পেছন থেকে এক ব্যক্তি বলে উঠলো, হে অমুক সম্প্রদায়ের লোকজন, এই মুহাম্মদ চায়, তোমরা তোমাদের লাত ও উয্যাকে পরিত্যাগ কর। এবং তোমাদের মিত্র বনু মালিক ইবন্ আইয়াশ গোত্রের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটাও। সে (মুহাম্মদ) বিদ'আত ও ভ্রষ্টতার দিকে তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছে। সুতরাং তোমরা তার কথা শুনবে না এবং তাকে অনুসরণ করবে না। রাবী বলেন, আমি আমার বাবাকে বললাম, এই লোকটি কে? বাবা বললেন, তাঁর (মুহাম্মদ) চাচা আবু লাহাব।
একই রাবী থেকে তৃতীয় বর্ণনায় বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) মদীনায় হিজরত করার পূর্বে মিনায় দেখেছি-তিনি মানুষের অবস্থানসমূহে ঘুরে ঘুরে যাচ্ছেন এবং বলছেন, হে লোকসকল...এরপর হাদীসের ভাষ্য পূর্ববৎ।
একই রাবী থেকে চতুর্থ বর্ণনায় বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'উকায বাজারে (বা মেলায়) আবু লাহাবকে দেখলাম যে, সে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পেছনে পেছনে যাচ্ছে আর বলে যাচ্ছে, হে লোকসকল, এই মুহাম্মদ পথভ্রষ্ট হয়েছে; সুতরাং সে যেন তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষদের প্রভুদের থেকে বিচ্যুত করতে না পারে (সাবধান। রাসূল (ﷺ) তার কাছ থেকে দূরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সে (নাছোড়বান্দা), তাঁর পেছন পেছন লেগেই আছে। আমরাও তাঁদের অনুসরণ করে অগ্রসর হচ্ছিলাম। আমরা ঐ সময় কিশোর। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে তাকিযে দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল তিনি যেন সুবিন্যস্ত কেশরাজির অধিকারী উজ্জ্বল ও ফর্সা এবং সবচেয়ে সুন্দর একজন মানুষ।
(বায়হাকী ও তাবারানী। এ হাদীসটির সনদ উত্তম।)
একই রাবী থেকে দ্বিতীয় বর্ণনায় এসেছে-আমি একজন পূর্ণবয়স্ক যুবক; আমি আমার পিতার সাথে থেকে রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) (দেখেছি), তিনি বিভিন্ন গোত্রের লোকদের কাছে যাচ্ছেন এবং তাঁর পেছনে সুন্দর চেহারা ও কাঁধ পর্যন্ত ঝুলানো কেশরাজিবিশিষ্ট এক লোক তাঁকে অনুসরণ করে চলছে। আল্লাহর রাসূল এক একটি গোত্রের কাছে যাচ্ছেন এবং বলছেন, হে অমুক গোত্রের লোকজন, আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল হিসেবে প্রেরিত, আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহ্ ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক সাব্যস্ত করবে না। আর তোমরা আমাকে সত্যায়ন করবে, যাতে করে আমি আল্লাহ্ প্রদত্ত দায়িত্ব বাস্তবায়ন করতে পারি। রাসূল (ﷺ) তাঁর বক্তব্য সম্পন্ন করার পরপরই তাঁর পেছন থেকে এক ব্যক্তি বলে উঠলো, হে অমুক সম্প্রদায়ের লোকজন, এই মুহাম্মদ চায়, তোমরা তোমাদের লাত ও উয্যাকে পরিত্যাগ কর। এবং তোমাদের মিত্র বনু মালিক ইবন্ আইয়াশ গোত্রের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটাও। সে (মুহাম্মদ) বিদ'আত ও ভ্রষ্টতার দিকে তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছে। সুতরাং তোমরা তার কথা শুনবে না এবং তাকে অনুসরণ করবে না। রাবী বলেন, আমি আমার বাবাকে বললাম, এই লোকটি কে? বাবা বললেন, তাঁর (মুহাম্মদ) চাচা আবু লাহাব।
একই রাবী থেকে তৃতীয় বর্ণনায় বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) মদীনায় হিজরত করার পূর্বে মিনায় দেখেছি-তিনি মানুষের অবস্থানসমূহে ঘুরে ঘুরে যাচ্ছেন এবং বলছেন, হে লোকসকল...এরপর হাদীসের ভাষ্য পূর্ববৎ।
একই রাবী থেকে চতুর্থ বর্ণনায় বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'উকায বাজারে (বা মেলায়) আবু লাহাবকে দেখলাম যে, সে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পেছনে পেছনে যাচ্ছে আর বলে যাচ্ছে, হে লোকসকল, এই মুহাম্মদ পথভ্রষ্ট হয়েছে; সুতরাং সে যেন তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষদের প্রভুদের থেকে বিচ্যুত করতে না পারে (সাবধান। রাসূল (ﷺ) তার কাছ থেকে দূরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সে (নাছোড়বান্দা), তাঁর পেছন পেছন লেগেই আছে। আমরাও তাঁদের অনুসরণ করে অগ্রসর হচ্ছিলাম। আমরা ঐ সময় কিশোর। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে তাকিযে দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল তিনি যেন সুবিন্যস্ত কেশরাজির অধিকারী উজ্জ্বল ও ফর্সা এবং সবচেয়ে সুন্দর একজন মানুষ।
(বায়হাকী ও তাবারানী। এ হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب ذكر من تولوا ايذاءه صلى الله عليه وسلم بعد اظهار الدعوة
باب أن من تولى كبر ايذائه عمه ابو لهب
باب أن من تولى كبر ايذائه عمه ابو لهب
عن عبد الرحمن بن ابى الزناد عن ابيه عن ربيعة بن عباد الديلى وكان جاهليا اسلم فقال رايت رسول صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم بصر عينى بسوق ذى المجاز يقول يا أيها الناس قولوا لا إله إلا الله تفلحوا: ويدخل فى فجاجها والناس متقصفون عليه فما رأيت أحدًا يقول شيئا وهو لا يسكت، يقول أيها الناس قولوا لا إله إلا الله تفلحوا: الا أن وراءه رجلا أحول وضيء الوجه ذا غديرتين يقول إنه صابئ كاذب، فقلت من هذا؟ قالوا، محمد بن عبد الله وهو يذكر النبوة، قلت من هذا الذى يكذبه؟ قالوا عمه ابو لهب، قلت إنك كنت يومئذ صغيرًا؟ قال لا والله انى يومئذ لأعقل (وعنه من طريق ثان) قال انى لمع أبى رجل شاب انظر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم يتبع القبائل ووراءه رجل أحول وضئ ذو جمة يقف رسول الله صلى الله عليه وسلم على القبيلة ويقول يا بنى فلان إنى رسول الله اليكم آمركم أن تعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا وأن تصدقونى حتى أنفذ عن الله ما بعثنى به، فإذا فرغ رسول الله صلى الله عليه وسلم من مقالته قال الآخر من خلفه يا بنى فلان إن هذا يريد منكم أن تسلخوا اللات والعزى وحلفاءكم من الحي بني مالك بن اقيش إلى ما جاء به من البدعة والصلالة فلا تسمعوا له ولا تتبعوه، فقلت لأبى من هذا؟ قال عمه أبو لهب (وعنه أيضًا من طريق ثالث) قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يطوف المدينة على الناس بمنى فى منازلهم قبل أن يهاجر إلى المدينة يقول يأيها الناس الخ الحديث كما تقدم (وعنه أيضًا من طريق رابع) أنه قال رأيت أبا لهب بعكاظ وهو يتبع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يقول يا أيها الناس ان هذا قد غوى، فلا يغوينكم عن آلهة أبائكم، ورسول الله صلى الله عليه وسلم يفر منه وهو على أثره ونحن نتبعه ونحن غلمان كأنى أنظر اليه أحول ذا غديرتين أبيض الناس وأجملهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আবু জাহলও উৎপীড়নে অন্যতম ভূমিকা পালনকারী
(৫৯) ইব্ন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু জেহেল বলেছিল, যদি আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) কা'বা শরীফের কাছে সালাত আদায় করতে দেখি, তাহলে আমি অবশ্যই তার কাছে যাবো এবং তার ঘাড় মটকে দেব। এ কথা শুনে রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন, সে যদি এরূপ করে, তাহলে ফেরেশতাগণ তাকে অবশ্যই দিবালোকেই পাকড়াও করবে। আর ইয়াহুদীরা যদি মৃত্যু কামনা করে, তবে তারা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে এবং জাহান্নামের অগ্নিতে তাদের আবাসস্থল দেখতে পাবে। আর যারা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে 'মুবাহালা' করবে বলে তারা যদি সেই উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হতো (নাসারাদের বুঝানো হয়েছে), তাহলে তারা অবশ্যই গৃহে প্রত্যাবর্তন করে তাদের সম্পদ ও পরিজনকে পেত না (বরং সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেত)।
(ইব্ন কাছীর, আহমদ। এছাড়া বুখারী, তিরমিযী ও নাসাঈ। আবদুর রাযযাক-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।)
(ইব্ন কাছীর, আহমদ। এছাড়া বুখারী, তিরমিযী ও নাসাঈ। আবদুর রাযযাক-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ومنهم أبو جهل
عن ابن عباس قال قال أبو جهل لئن رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلى عند الكعبه آتينه حتى أطأ على عنقه، قال فقال لو فعل لأخذته الملائكة عيانا، ولو أن اليهود تمنوا الموت لماتوا ورأوا مقاعدهم فى النار ولو خرج الذين يباهلون رسول الله صلى الله عليه وسلم لرجعو الا يجدون مالا ولا أهلا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আবু জাহলও উৎপীড়নে অন্যতম ভূমিকা পালনকারী
(৬০) আবূ হাযেম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু জাহল (একদা) বলেছিল- মুহাম্মদ কি তোমাদের সম্মুখে তার চেহারা অবনত করে? (অর্থাৎ সালাত আদায় করে কি?)। বলা হলো, হ্যাঁ। আবূ জাহল তখন লাত ও উয্যার শপথ করে বললো, আমি যদি তাকে ঐরূপ করতে দেখি, আমি অবশ্যই তার গর্দান মটকে দেব অথবা তার চেহারা মাটির মধ্যে দাবিয়ে দেব। রাবী বলেন (পরক্ষণেই দেখা গেল), রাসূল (ﷺ) আগমন করলেন এবং সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন আবু জাহল তাঁর গর্দান মটকে দেওয়ার জন্য উদ্যত হলো। কিন্তু যেই সে একটু অগ্রসর হতে চাইলো, অমনি দেখা গেল সে পেছনে হটে আসছে এবং দু'হাত উঁচু করে নিজকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। লোকজন তখন তাকে প্রশ্ন করলো তোমার কী হলো? উত্তরে সে বললো, (আমি দেখলাম) আমার ও তার মধ্যখানে আগুনের এক পরিখা, ভীতিকর শব্দ তরঙ্গ ও অনেক পাখা। অতঃপর রাসূল (ﷺ) বলেন, সে যদি আমার নিকটবর্তী হতো, তাহলে ফেরেশতাগণ তাঁর এক একটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছোঁ মেরে নিয়ে যেত। আবু হাযিম বলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা - إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَأَهُ اسْتَغْنَى থেকে সুরা লাইলের শেষ পর্যন্ত নাযিল করেন। কিন্তু এ অংশটি হাদীসের অংশ নাকি অন্য কোনভাবে তাঁর কাছে পৌঁছেছে তা আমি জানি না।
(এই হাদীসের তাখরীজ ১৮শ খণ্ডে 'ফাযাইলুল কুরআন' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
(এই হাদীসের তাখরীজ ১৮শ খণ্ডে 'ফাযাইলুল কুরআন' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ومنهم أبو جهل
عن أبى حازم عن أبى هريرة رضي الله عنه قال قال أبو جهل هل يعفر محمد وجهه بين أظهركم؟ قال فقيل نعم، قال واللات والعزى يمينا يحلف بها لئن رأيته يفعل ذلك لأطأن على رقبته أو لأعفرن وجهه فى التراب، قال فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يصلى زعم ليطأ على رقبته قال فما فاجأهم منه الا وهو ينكص على عقبيه ويتقى بيديه، قال قالوا له مالك؟ قال ان بينى وبينه لخندقا من نار وهؤلاء وأجنحة، قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لو دنا منى لخطفته الملائكة عضوا عضوا قال فأنزل الله لا أدرى فى حديث أبى هريرة أو شيئًا بلغه {إن الإنسان ليطغى أن رآه استغنى} إلى آخرالسورة
তাহকীক: