মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৫৪ টি

হাদীস নং: ৬১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আবু জাহলও উৎপীড়নে অন্যতম ভূমিকা পালনকারী
(৬১) ইবন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে অনুরূপ (পূর্ববৎ) হাদীস রেওয়ায়াত করেছেন।
(এই হাদীসেরও সনদ, ব্যাখ্যা ও তাখরীজ ১৮শ খণ্ডে উল্লিখিত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ومنهم أبو جهل
عن ابن عباس عن النبى صلى الله عليه وسلم نحوه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'উকবা ইব্‌ন আবু মু'আয়তও উৎপীড়নকারীদের অন্যতম
(৬২) আবদুল্লাহ (ইবন মাস'উদ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাজদাহরত অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁর চারপাশে কুরাইশ বংশীয় লোকজন ছিল, এমন সময় 'উকবা ইব্‌ন আবু মু'আয়ত মৃত প্রাণীর নাড়ি-ভুরি বা বর্জ্য নিয়ে এল এবং তা আল্লাহর রাসূলের পিঠে নিক্ষেপ করে দিল; এর ফলে রাসূল (ﷺ) (সাজদা থেকে) তাঁর মাথা উঠাতে পারছিলেন না। তখন ফাতিমা (রা) এসে তাঁর পিঠ থেকে ঐসব বর্জ্যপদার্থ সরিয়ে দেন এবং (সাথে সাথে) যে (হতভাগ্য) এইরূপ করেছিল, তার উপর বদ-দোয়া করলেন। তখন আল্লাহর রাসূলও (ﷺ) কুরাইশের ঐসব (পাপিষ্ঠ) নেতৃবৃন্দের নাম উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে বদ-দোয়া করেন। এরা হচ্ছে, আবূ জাহল ইবন হিশাম, উতবা ইবন্ রবীয়া, শাইবা ইবন্ রবীয়া, 'উকবা ইব্‌ন আবূ মু'আইত, উমাইয়্যা ইবন্ খালাফ অথবা উবাই ইব্‌ন খালাফ (রাবী শু'বা শেষোক্ত দুটি নাম নিয়ে সন্দিহান)। রাবী বলেন, আমি এদের সবাইকে বদরের যুদ্ধে নিহত হতে দেখেছি এবং এদের সবাইকে একটি কূপে নিক্ষেপ করা হয়েছিল (অর্থাৎ এদের মরদেহ), অবশ্য উমাইয়্যা অথবা উবাই ব্যতীত। কেননা তাঁর অংগ-প্রত্যংগ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তাই তাকে কুয়ায় ফেলা হয়নি।

দ্বিতীয় বর্ণনায় পূর্ববৎ বর্ণনার সাথে বলা হয়েছে- 'আমর ইব্‌ন হিশাম, উমাইয়্যা ইব্‌ন খালাফ এবং অতিরিক্ত এসেছে উমারা ইবন্ ওয়ালীদ।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ومنهم عقبة بن أبى معيط
عن عبد الله قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم ساجد وحوله ناس من قريش إذ جاء عقبة ابن أبى معيط بلا جزور فقذفه على ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يرفع رأسه فجاءت فاطمة فأخذته من ظهره ودعت على من صنع ذلك، قال فقال الله معليك الملأ من قريش أبا جهل بن هشام وعتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة وعقبة بن أبى معيط وأمية بن خلف أو أبى بن خلف شعبة الشاك قال فلقد رأيتهم قتلوا يوم بدر فألقوا فى بئر غير أن أمية أو أبية انقطعت أوصاله فلم يلق فى البئر (ومن طريق ثان) قال ثنا خلف ثنا اسرائيل فذكر الحديث الا أنه قال عمرو بن هشام وأمية بن خلف وزاد وعمارة بن الوليد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'উকবা ইব্‌ন আবু মু'আয়তও উৎপীড়নকারীদের অন্যতম
(৬৩) আবদুল্লাহ্ (ইবন্ মাস'উদ) (রা) থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বাইতুল্লাহ শরীফের দিকে মুখ করে কুরাইশদের সাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে (আল্লাহর কাছে) বদ-দোয়া করেন। এদের মধ্যে আছে- আবূ জাহল, উমাইয়্যা ইবন্ খালফ, শাইবা ইব্‌ন রবী'য়া ও 'উকবা ইবন্ মু'আয়ত। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি- আমি বদর প্রান্তরে এদের ছিন্ন-ভিন্ন মরদেহ দেখেছি; প্রচণ্ড সূর্যতাপে এদের চেহারা বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। (কারণ) বদরের যুদ্ধের দিন ছিল উত্তপ্ত দিন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ومنهم عقبة بن أبى معيط
وعنه أيضا قال استقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم البيت فدعا على نفر من قريش سبعة فيهم أبو جهل وأمية بن خلف وشيبة بن ربيعة وعقبة بن معيط فأقسم بالله لقد رأيتهم صرعى على بدر وقد غيرتهم الشمس وكان يوما حارًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'উকবা ইব্‌ন আবু মু'আয়তও উৎপীড়নকারীদের অন্যতম
(৬৪) উরওয়াহ ইব্‌ন যুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ্ ইবন আমর ইব্‌নুল 'আসকে (রা) অনুরোধ করলাম, মুশরিকরা আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) সাথে কঠিনতম (বা জঘন্যতম) উৎপীড়ন কী করেছে, সে বিষয়ে (অনুগ্রহ করে) আমাকে বলুন। তিনি বললেন, (একদা) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কা'বা শরীফের আঙ্গিনায় সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় 'উকবা ইব্‌ন আবু মু'আইত এগিয়ে গেল। সে আল্লাহ্ নবীর (ﷺ) কাঁধদ্বয় দুই বাহুসহ) ধরে ফেললো এবং তার কাপড় দিয়ে রাসূলের (ﷺ) গলদেশ শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল। ফলে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। এমতাবস্থায় আবু বকর (রা) এগিয়ে আসলেন এবং তার দুই বাহু ধরে সজোরে টান দিয়ে রাসূলের (ﷺ) কাছ থেকে সরিয়ে দিলেন এবং বলেন, "তোমরা কি এমন একজন লোককে হত্যা করতে চাও, যিনি বলছেন, আমার রব (প্রভু) আল্লাহ্ এবং তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের রবের নিকট থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছেন?”
(বুখারী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ومنهم عقبة بن أبى معيط
عن عروة بن الزبير قال قلت لعبد الله بن عمرو بن العاص أخبرنى بأشد شئ صنعه المشركون برسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلى بفناء الكعبة إذ أقبل عقبة ابن أبى معيط فأخذ بمنكب النبى صلى الله عليه وسلم ولوى ثوبه فى عنقه فخنقه به خنقًا شديدا فأقبل أبو بكر رضي الله عنه فأخذ بمنكبه ودفعه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال أتقتلون رجلا أن يقول ربى الله وقد جاءكم بالبينات من ربكم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'উকবা ইব্‌ন আবু মু'আয়তও উৎপীড়নকারীদের অন্যতম
(৬৫) ইয়াহইয়া ইব্‌ন 'উরওয়া ইবন যুবাইর (তাঁর পিতা উরওয়া থেকে) এবং 'উরওয়া আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইব্‌নল 'আস (রা) থেকে বর্ণনা করেন- আমি ('উরওয়া) তাঁকে (আমরকে) বললাম, কুরাইশরা রাসূলকে (ﷺ) তাদের শত্রুতাবশতঃ সবচেয়ে অধিক কষ্ট দিয়েছে-এমন ঘটনা আপনি কোনটি প্রত্যক্ষ করেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, 'আমি (একদা) তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলাম। তাদের নেতৃস্থানীয়রা (একদিন) কা'বা সংলগ্ন হিজরে সমবেত হয়। তখন রাসূল (ﷺ) প্রসঙ্গে তারা আলোচনা-সমালোচনা করতে থাকে। তারা বলে, আমরা এই ব্যক্তির (মুহাম্মদ) ব্যাপারে যেরূপ ধৈর্য ধারণ করেছি, এইরূপ ধৈর্য আমরা আর কখনও কারো ব্যাপারে প্রদর্শন করিনি। সে (মুহাম্মদ) আমাদের বুদ্ধিমানদের মূর্খ ঠাওরিয়েছে, আমাদের পিতৃপুরুষকে গালি দিযেছে, আমাদের দ্বীনকে (ধর্ম) দোষারোপ করেছে, আমাদের ঐক্যে ফাঁটল ধরিয়েছে এবং আমাদের মাবুদদেরকে মন্দ বলেছে। আমরা তার প্রতি তার এই বিশাল অন্যায় কাজে সবর করেছি। অথবা তারা এইরূপই অন্য কথাবার্তা বলেছিল। তারা (কুরাইশ নেতারা) এইরূপ আলোচনায় মত্ত ছিল, এমন সময় রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের মাঝে আগমন করলেন। রাসূল (ﷺ) হেঁটে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে রুকন (ইয়ামানী) চুম্বন করলেন। এরপর তাদের পাশ দিয়ে অগ্রসর হয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ শুরু করলেন। যখন তিনি তাদেরকে অতিক্রম করছিলেন, তখন তারা তাঁর কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করে তাঁর প্রতি বিদ্রূপ করতে লাগলো। রাবী বলেন, আমি তাদের বিদ্রূপের প্রতিক্রিয়া রাসূলের (ﷺ) চেহারায় লক্ষ্য করলাম। দ্বিতীয় চক্করে আবার যখন তিনি তাদের অতিক্রম করছিলেন, তখনও তারা পূর্বের ন্যায় ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করলো এবং আমি এর প্রতিক্রিয়া তাঁর চেহারায় লক্ষ্য করলাম। তৃতীয় চক্করে আবারও তাদেরকে অতিক্রম করার সময় তারা তাঁকে পূর্বের ন্যায় ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলো। এবার রাসূল (ﷺ) বললেন, হে কুরাইশ অধিপতিরা, তোমরা শুনে রাখ, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদ (ﷺ) এর জীবন, নিশ্চয় আমি তোমাদের ধ্বংস নিয়ে এসেছি। তাঁর এই কথায় তাদের মধ্যে ভীষণ (মনস্তাত্বিক) প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেল (সুনসান নীরবতা পেয়ে বসলো)। তাদের প্রত্যেকের মাথায় যেন এক একটি পাখি অবতরণ করলো। এমনকি ইতিপূর্বে তাঁকে কথার মাধ্যমে যে সবচেয়ে বেশী কষ্ট দিয়েছে-সেও তার জ্ঞাত সর্বোত্তম বাক্য দ্বারা তাঁর প্রশংসা করতে শুরু করলো। সবশেষে সে বললো, হে আবুল কাসিম, তুমি সুপথে ফিরে এস। আল্লাহর শপথ, তুমি মূর্খ নও। অতঃপর রাসূল (ﷺ) চলে গেলেন। পরদিন পুনরায় তারা হিজরের কাছে সমবেত হলো। আমিও ছিলাম তাদের সাথে। তারা পরস্পর বলাবলি করছিল তাদের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে আর তাঁর কাছ থেকে তাদের কাছে যেসব বক্তব্য পেশ করা হয়েছিল, তার উপর পর্যালোচনা করা হলো। তারা বললো, এমনকি প্রথমদিকে তাঁর কারণে (বা জন্য) তোমরা অনেক অপ্রিয় বিষয়ও ছেড়ে দিয়েছ। তারা এইরূপ আলোচনায় মগ্ন, এমন সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আগমন করলেন। অকস্মাৎ তারা একযোগে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে চক্রাকারে ঘিরে ফেললো। তারা বলছিল, তুমিই কি আমাদের ধর্ম ও উপাস্যদের সম্পর্কে এইরূপ এইরূপ মন্দ কথা বলে থাক? রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি যে ঐরূপ বলে থাকে। তখন তাদের মধ্য থেকে একজনকে দেখলাম ('উকবা ইবন্ আবূ মু'আইত) তাঁর চাঁদরের সংযোগস্থল ধরে টানছে। আবু বকর সিদ্দীক (রা) (ঐ সময়) তাঁর পেছনে ছিলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তোমরা কি হত্যা করতে চাও এমন একজনকে যিনি বলছেন, "আমার রব আল্লাহ্”। অতঃপর তারা তাঁর কাছ থেকে প্রস্থান করলো। এটিই ছিল আমার দেখামতে কুরাইশদের পক্ষ থেকে তাঁর উপর কঠিনতম উৎপীড়ন।
(ইবন্ ইসহাক তাঁর সীরাতে এইরূপ বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। কিন্তু বুখারী সংক্ষিপ্ত আকারে পূর্বের হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ومنهم عقبة بن أبى معيط
عن يحيى بن عروة بن الزبير عن أبيه عروة عن عبد الله ابن عمرو بن العاص قال قلت له ما أكثر ما رأيت قريشا أصابت رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما كانت تظهر من عداوته؟ قال حضرتهم وقد اجتمع أشرافهم يوما فى الحجر فذكروا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا ما رأينا مثل ما صبرنا عليه من هذا الرجل قط، سفه أحلامنا وشتم آباءنا وعاب ديننا وفرّق جماعتنا وسب آلهتنا، لقد صبرنا منه على أمر عظيم أو كما قالوا، قال فبينما هم كذلك إذ طلع عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فأقبل يمشى حتى استلم الركن ثم مر بهم طائفا بالبيت فلما أن مرّ بهم غمزوه ببعض ما يقول: قال فعرفت ذلك فى وجهه ثم مضى فلما مر بهم الثانية غمزوه بمثلها فعرفت ذلك فى وجهه، ثم مضى ثم مر بهم الثالثة فغمزوه بمثلها: فقال تسمعون يا معشر قريش أما والذى نفس محمد بيده لقد جئتكم بالذبح فاخذت القوم كلمته حتى ما منهم رجل الا كأنما على رأسه طائر واقع حتى إن أشدهم فيه وصاة قبل ذلك ليرفؤه باحسن ما يجد من القول حتى إنه ليقول انصرف يا أبا القاسم انصرف راشدا فوالله ما كنت جهولا، قال فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا كان الغد اجتمعوا فى الحجر وأنا معهم فقال بعضهم لبعض ذكرتم ما بلغ منكم وما بلغكم عنه حتى اذا بادئكم بما تكرهون تركتموه، فبينما هم فى ذلك إذ طلع رسول الله صلى الله عليه وسلم فوثبوا اليه وثبة رجل واحد فأحاطوا به يقولون أنت الذى تقول كذا وكذا كما كان يبلغهم عنه من عيب آلهتهم ودينهم، قال فيقول رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم أنا الذى أقول ذلك قال فلقد رأيت رجلا منهم أخذ بمجمع ردائه، وقام أبو بكر الصديق رضي الله عنه دونه يقول وهو يبكي أتقتلون رجلا أن يقول ربى الله، ثم انصرفوا عنه، فان ذلك لأشد ما رأيت قريشا بلغت منه قط
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীকে (ﷺ) কুরাইশ কর্তৃক গালি ও আঘাত প্রদান এবং দুর্বল মুসলিমদের প্রতি তাদের উৎপীড়ন
(৬৬) সালিম ইব্‌ন আবুল জা'আদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা উছমান ইব্‌ন আফফান (রা) রাসূলের (ﷺ) সাহাবীগণের মধ্য থেকে কিছু লোককে (তাঁর কাছে) ডেকে পাঠালেন অথবা দাওয়াত করলেন। তন্মধ্যে একজন ছিলেন 'আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির (রা)। অতঃপর তিনি একটি হাদীস উল্লেখ করেন। (যার বর্ণনা পরবর্তীতে আসছে ইনশাআল্লাহ্)! অতঃপর উছমান (রা) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে 'আম্মার সম্পর্কে কিছু কথা বলবো না? (একদা) রাসূলের (ﷺ) সাথে আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরে প্রস্তরময় ময়দানের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। অবশেষে তিনি 'আম্মারের পিতা ও মাতার কাছে পৌঁছালেন। ঐ সময় 'আম্মারের উপর তারা (কুরাইশরা) উৎপীড়ন চালাচ্ছিল। আম্মারের পিতা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কাল এভাবে যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন, ধৈর্য ধারণ কর এবং দোয়া করলেন, হে আল্লাহ্, ইয়াসিরের বংশধরকে ক্ষমা করুন। তাঁর সেই দোয়া আল্লাহ্ কবুল করেছেন।
(হাইছামী ও আহমদ; তবে হাদীসটি মুনকাতি'। কেননা, সালিম উছমানকে (রা)-কে পাননি।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تعذيبهم المستضعفين وضربهم للنبى صلى الله عليه وسلم وسبه
عن سالم بن أبى الجعد قال دعا عثمان (بن عفان) رضي الله عنه ناسا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيهم عمار بن ياسر رضي الله عنه (فذكر حديثا) ثم قال فقال عثمان رضي الله عنه ألا أحدثكما عنه يعنى عمارا، أقبلت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم آخذا بيدى نتمشى فى البطحاء حتى أتى على أبيه وأمه وعليه يعذبون، فقال أبو عمار يا رسول الله الدهر هكذا، فقال له النبى صلى الله عليه وسلم اصبر ثم قال اللهم اغفر لآل ياسر وقد فعلت
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীকে (ﷺ) কুরাইশ কর্তৃক গালি ও আঘাত প্রদান এবং দুর্বল মুসলিমদের প্রতি তাদের উৎপীড়ন
(৬৭) আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না (আশ্চর্যান্বিত হচ্ছনা)! কীভাবে আমার উপর থেকে কুরাইশদের নিন্দাবাদ ফিরানো হচ্ছে? তারা আমাকে অভিশাপ দিচ্ছে মন্দ বলে; গালি দিচ্ছে খারাপ বলে, অথচ আমি মুহাম্মদ (প্রশংসিত বা নন্দিত; নিন্দিত নই)।
(বুখারী ও নাসাঈ। হাদীসটি গরীব।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تعذيبهم المستضعفين وضربهم للنبى صلى الله عليه وسلم وسبه
عن أبى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا تعجبوا كيف يصرّف عنى شتم قريش، كيف يلعنون مذمما ويشتمون مذمما وانا محمد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীকে (ﷺ) কুরাইশ কর্তৃক গালি ও আঘাত প্রদান এবং দুর্বল মুসলিমদের প্রতি তাদের উৎপীড়ন
(৬৮) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জিব্রীল (আ) আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) কাছে আগমন করলেন। তিনি (মুহাম্মদ সা.) তখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পেরেশান অবস্থায় উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁর শরীর রক্তরঞ্জিত। মক্কার কিছু লোক তাঁকে আঘাত করেছে। জিব্রীল (আ) এসে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কী হয়েছে? রাসূল (ﷺ) উত্তরে বললেন, ওরা আমার সাথে এই ব্যবহার করেছে। জিব্রীল (আ) বললেন, আমি কি আপনাকে একটি নিদর্শন দেখাতে পারি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিব্রীল (আ) তখন উপত্যকার পেছনে একটি বৃক্ষের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং নবীকে (ﷺ) বললেন, ওই বৃক্ষটিকে ডাক দিন। তিনি ডাক দিলেন, বৃক্ষটি হেঁটে হেঁটে এসে তাঁর সম্মুখে দণ্ডায়মান হলো। জিব্রীল (আ) বললেন, এবার নির্দেশ করুন সে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাক। রাসূল (ﷺ) নিদেশ দিলেন, বৃক্ষটি তার স্বস্থানে ফিরে গেল। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, যথেষ্ট হয়েছে।
(আহমদ ও বাযযার। বর্ণনাকারীগণ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারীদের ন্যায়।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تعذيبهم المستضعفين وضربهم للنبى صلى الله عليه وسلم وسبه
عن أنس بن مالك قال جاء جبريل إلى النبى صلى الله عليه وسلم ذات يوم وهو جالس حزينا قد خضب بالدماء ضربه بعض أهل مكة، قال فقال له مالك؟ قال فقال فعل بى هؤلاء وفعلوا، قال فقال له جبريل أتحب أن أريك آية؟ قال نعم، قال فنظر الى شجرة من وراء الوادى فقال ادع بتلك الشجرة، فدعاها فجاءت تمشي حتى قامت بين يديه، فقال مرها فلترجع، فأمره فرجعت الى مكانها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حسبى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীকে (ﷺ) কুরাইশ কর্তৃক গালি ও আঘাত প্রদান এবং দুর্বল মুসলিমদের প্রতি তাদের উৎপীড়ন
(৬৯) সুলাইমান ইব্‌ন যিয়াদ আল-হাদরমী বর্ণনা করেন। আবদুল্লাহ্ ইবল হারিছ আল-যুবাইদী তাঁকে বলেছেন যে, তিনি কোথাও যেতে যেতে দেখতে পান যে, আয়মানে তাঁর বন্ধু ও কতিপয় কুরাইশী যুবক তাদের পরনের ইযার খুলে গোল করে খেলনা বানিযে তারা উলঙ্গাবস্থায় পরস্পরের প্রতি নিক্ষেপ করছে। আবদুল্লাহ্ বলেন, আমরা যখন তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তারা বললো, এরা হচ্ছে খ্রীস্টান- আলিম; এঁদের কথা ছাড়ো। (স্পষ্টতঃ বোঝা যাচ্ছে-তাদের বক্তব্য ছিল বিদ্রূপাত্মক)। এরপর রাসূল (ﷺ) আগমন করলেন। তারা তাঁকে দেখতে পেয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে গেল। রাসূল রাগান্বিত অবস্থায় ফিরে আসলেন এবং (হুজরায়) প্রবেশ করলেন। আমি হুজরার পেছনে (দাঁড়িয়ে) ছিলাম। শুনতে পেলাম তিনি বলছেন, সুবহানাল্লাহ, না এরা আল্লাহকে লজ্জা পেল, আর না তাঁর রাসূল থেকে নিজেদের আবৃত করলো। উম্মু আয়মান (রা) তথায় উপস্থিত ছিলেন, তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আপনি ওদের জন্য দোয়া (ইস্তিগফার) করুন। আবদুল্লাহ্ বলেন, রাসূল (ﷺ) তাদের জন্য ইস্তিগফার করেননি।
(আহমদ, বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تعذيبهم المستضعفين وضربهم للنبى صلى الله عليه وسلم وسبه
عن سليمان بن زياد الحضرمى أن عبد الله بن الحرث بن جزء الزبيدى حدثه أنه مر وصاحب له بأيمن وفئة من قريش قد حلوا أزرهم فجعلوها مخاريق يجتلدون بها وهم عراة، قال عبد الله فلما مررنا بهم قالوا ان هؤلاء قسيسون فدعوهم، ثم إن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج عليهم فلما أبصروه تبددوا فرجع رسول الله صلى الله عليه وسلم مغضبا حتى دخل، وكنت أنا وراء الحجرة فسمعته يقول سبحان الله لا من الله استحيوا ولا من رسوله استتروا، وأم أيمن عنده تقول استغفر لهم يا رسول الله قال عبد الله فبلأى مما استغفر لهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীকে (ﷺ) কুরাইশ কর্তৃক গালি ও আঘাত প্রদান এবং দুর্বল মুসলিমদের প্রতি তাদের উৎপীড়ন
(৭০) মাসরূক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাব্বাব ইবনল আরত্তি (রা) বলেন, আমি মক্কায় 'আস ইব্‌ন ওয়ায়িলের কাজ-কর্ম করতাম (শ্রমিক হিসেবে)। এইভাবে আমি তার কাছে বেশকিছু দিরহাম প্রাপ্য হয়ে গেলাম। সুতরাং আমি তার কাছে আমার প্রাপ্য দিরহাম তলব করলাম। সে বললো, আমি ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাকে তোমার প্রাপ্য পরিশোধ করবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি মুহাম্মদকে (ﷺ) অস্বীকার করবে (নবী হিসেবে)। আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আমি মুহাম্মদের সাথে কুফরী করবো না এমনকি তুমি মরে পুনরায় জীবিত হয়ে আসলেও না। সে বলল, আমি জীবিত হয়ে আসলে, তখনও সম্পদ ও সন্তানের অধিকারী থাকব। (অন্য বর্ণনায় এসেছে- যখন আমি মরার পর আবার জীবিত হয়ে উঠব, তখন আমার সম্পদ ও সন্তান থাকবে। ঐ সময় আমি তোমাকে তোমার প্রাপ্য পরিশোধ করবো।) রাবী বলেন, অতঃপর এ বিষয়টি আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) অবহিত করলাম। ঐ সময় আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াতসমূহ নাযিল করেন।
أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآيَاتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَ مَالًا وَوَلَدًا حَتَّى بَلَغَ فَرْدًا .
তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবেই.... (মারয়াম: ৭৭-৮০)।
(এই হাদীসের ব্যাখ্যা, সনদ ও তাখরীজ ১৮শ খণ্ডে 'ফাযাইলুল কুরআন' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تعذيبهم المستضعفين وضربهم للنبى صلى الله عليه وسلم وسبه
عن مسروق قال قال خباب بن الأرت رضي الله عنه كنت قينًا بمكة فكنت أعمل للعاص بن واثل فاجتمت لى عليه دراهم فجئت اتقاضاه، فقال لا أقاضينك حتى تكفر بمحمد صلى الله عليه وسلم قال قلت والله لا أكفر بمحمد صلى الله عليه وسلم حتى تموت ثم تبعث، قال فاذا بعثت كان لي مال وولد (وفي رواية فاتى إذا مت ثم بعثت ولى ثمَّ مال وولد فأعطيك) قال فذكرت ذلك للنبى صلى الله عليه وسلم فأنزل الله تبارك وتعالى {أفرأيت الذى كفر بآياتنا وقال لأوتينّ مالا وولدا حتى بلغ فردا}
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীকে (ﷺ) কুরাইশ কর্তৃক গালি ও আঘাত প্রদান এবং দুর্বল মুসলিমদের প্রতি তাদের উৎপীড়ন
(৭১) খাব্বাব ইবনল আরত্তি থেকে বর্ণিত, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি কাবা শরীফের ছায়ায় তাঁর একখানি চাঁদর মুড়ি দিয়ে বসেছিলেন। আমরা তাঁকে অনুরোধ করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দোয়া করুন এবং তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করুন। (আমাদের কথা শুনে) রাসূলের (ﷺ) চেহারা রক্তিম বর্ণ ধারণ করল অথবা পরিবর্তিত হলো। তখন তিনি বললেন (স্মরণ কর) তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য গর্ত খনন করা হতো; করাতের সাহায্যে মাথা দ্বিখণ্ডিত করা হতো, তবু তাঁরা আল্লাহর দ্বীন থেকে ফিরে যাননি। তাঁদের (কারো কারো) উপর লৌহ নির্মিত চিরুনী দিয়ে আঁচড়িয়ে অস্থির উপর থেকে গোশত খুলে আনা হতো, (কিন্তু) তাঁরা আল্লাহর দ্বীন থেকে এতটুকু বিচ্যুত হননি। অতি অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলা এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করবেন। এমনকি সানা' থেকে একজন আরোহী হাদরা-মাউত পর্যন্ত নিরাপদে-নির্বিয়ঘ্নে চলাচল করতে পারবে এবং আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে তার কোন প্রকার ভয় করার থাকবে না। আর নেকড়ে তার ছাগপালের কাছেই থাকবে (কিন্তু তা তাদের কোন ক্ষতি করবে না)। বস্তুত তোমরা তাড়াহুড়া করছ।
(এই হাদীসের সনদ, ব্যাখ্যা ও তাখরীজ "কিতাবুস্ সর্ব” অধ্যায়ে ৯১৯শ খণ্ডে) বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি বুখারী, আবূ দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تعذيبهم المستضعفين وضربهم للنبى صلى الله عليه وسلم وسبه
عن خبّاب بن الأرت أتينا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو فى ظل الكعبة متوسدا بردة له فقلنا يا رسول الله ادع الله تبارك وتعالى لنا واستنصره، قال فاحمر لونه أو تغير، فقال لقد كان من كان قبلكم يحفر له حفرة ويجاء بالمنشار فيوضع على رأسه فيشق ما يصرفه عن دينه، ويمشط بأمشاط الحديد ما دون عظم من لحم أو عصب ما يصرفه عن دينه، وليتمن الله تبارك وتعالى هذا الأمر حتى يسير الراكب ما بين صنعاء الى حضرموت لا يخشى الا الله تعالى والذئب على غنمه ولكنكم تعجلون
হাদীস নং: ৭২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কুরাইশদের একগুঁয়েমী, নিদর্শন দাবী, বিদ্বেষ ও মানবতার নেতা (ﷺ)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র
(৭২) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কার লোকজন রাসূলের (ﷺ) কাছে নিদর্শন দাবী করল। অনন্তর মক্কায় দুই বার চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়। তখন তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করেন:
اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ وَإِنْ يَرَوْا أَيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِرٌّ .
কিয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। তারা কোন নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাচরিত যাদু-(কামার:১-২)।
(এই হাদীসের সনদ, ব্যাখ্যা ও তাখরীজ ১৮শ খণ্ডে 'ফাযাইলুল কুরআন' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تعنت قريش فى طلب الآييات واصرارهم على العناد وتآمرهم على قتل سيد العباد صلى الله عليه وسلم
عن انس بن مالك قال سال أهل مكة النبى صلى الله عليه وسلم آية فانشق القمر بمكة مرتين فقال {اقتربت الساعة وانشق القمر وإن يروا آية يعرضوا ويقولوا سحر مستمر}
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কুরাইশদের একগুঁয়েমী, নিদর্শন দাবী, বিদ্বেষ ও মানবতার নেতা (ﷺ)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র
(৭৩) জুবাইর ইবন মুত'ইম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়। অর্থাৎ দুই টুকরায় বিভক্ত হয়ে এক টুকরা এই পাহাড়ের উপর আর অন্য টুকরাটি ওই পাহাড়ের উপর চলে যায়। তখন তারা (মুশরিকরা) বলাবলি করল, মুহাম্মদ (ﷺ) আমাদের যাদু করেছেন। (কিন্তু অপর দল) বললো, না, তিনি আমাদেরকে যাদুগ্রস্ত করতে পারলেও তাঁর পক্ষে সকল মানুষকে যাদু করা সম্ভব নয়।
(বায়হাকী ও ইব্‌ন জারীর)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تعنت قريش فى طلب الآييات واصرارهم على العناد وتآمرهم على قتل سيد العباد صلى الله عليه وسلم
عن جبير بن مطعم قال انشق القمر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فصار فرقتين فرقة على هذا الجبل وفرقة على هذا الجبل، فقالوا سحرنا محمد، فقالوا ان كان سحرنا فانه لا يستطيع أن يسحر الناس كلهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কুরাইশদের একগুঁয়েমী, নিদর্শন দাবী, বিদ্বেষ ও মানবতার নেতা (ﷺ)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র
(৭৪) ইব্‌ন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, কুরাইশরা নবী (ﷺ) কে বললো, আপনি আপনার রবের কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের জন্য সাফা পাহাড়কে সোনায় পরিণত করেন। তাহলে আমরা আপনার উপর ঈমান আনবো। রাসূল (ﷺ) বললেন, ঠিক তো? তারা বললো, হ্যাঁ। তখন রাসূল (ﷺ) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। পরক্ষণে জিব্রীল (আ) আগমন করলেন এবং বললেন, আপনার রব আপনার প্রতি সালাম (রহমত) পাঠ করেছেন এবং বলছেন, আপনি যদি চান, তবে আমি সাফা পাহাড়কে সোনা বানিয়ে দিব। কিন্তু এরপর যদি কেউ কুফরী করে, তবে আমি তাকে এমন শাস্তি প্রদান করবো, যা পৃথিবীর অন্য কাউকে দেইনি। পক্ষান্তরে আপনি যদি চান, তো তাদের জন্য তওবা ও রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, বরং তওবা ও রহমতের দরজাই উত্তম।
(হাইছামী, আহমদ; বাযযারও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تعنت قريش فى طلب الآييات واصرارهم على العناد وتآمرهم على قتل سيد العباد صلى الله عليه وسلم
عن ابن عباس قال قالت قريش للنبى صلى الله عليه وسلم ادع لنا ربك أن يجعل لنا الصفا ذهبا ونؤمن بك، قال وتفعلون، قالوا نعم قال فدعا فأتاه جبريل فقال ان ربك عز وجل يقرأ عليك السلام ويقول ان شئت أصبح لهم الصفا ذهبا فمن كفر بعد ذلك منهم عذبته عذابا لا أعذبه احدا من العالمين، وان شئت فتحت لهم أبواب التوبة والرحمة قال بل باب التوبه والرحمة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কুরাইশদের একগুঁয়েমী, নিদর্শন দাবী, বিদ্বেষ ও মানবতার নেতা (ﷺ)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র
(৭৫) ইবন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, (একদা) কুরাইশ নেতৃবৃন্দ কা'বা শরীফের হিজরের কাছে সমবেত হয়ে লাত, 'উয্যা, মানাত (তৃতীয় আরেকটি মূর্তি), নায়েলা ও ইসাফের নামে এই মর্মে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলো যে, যদি আমরা মুহাম্মদকে (ﷺ) দেখতে পাই, তবে আমরা একত্রিত (সম্মিলিত) হয়ে তাকে পাকড়াও করবো এবং তাকে হত্যা না করে ছাড়বো না। তাঁর কন্যা ফাতিমা (রা) কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাছে এসে বললেন, কুরাইশের ঐসব সর্দাররা আপনাকে নিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছে যে, যদি তারা আপনাকে দেখতে পায়, তবে তারা সম্মিলিতভাবে আপনাকে হত্যা করবে। তাদের প্রত্যেকেই আপনার রক্তপণের ব্যাপারে তাদের হিস্সা নির্ধারণ করে ফেলেছে। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, বেটি, তুমি ওযুর পানি নিয়ে এসো। তারপর তিনি ওযু করলেন। ওযু শেষে রাসূল (ﷺ) তাদের সম্মুখেই মসজিদে প্রবেশ করলেন। তারা তাঁকে দেখতে পেয়ে বলে উঠলো, এই তো সে এবং তাদের দৃষ্টি অবনত হয়ে গেল, তাদের চিবুক বুকে ঠেকলো এবং তাদের বসার স্থলে তারা জড়োসড়ো হয়ে গেল। তাদের কেউ আর দৃষ্টি উত্তোলন করতে পারলো না এবং তাঁর দিকে অগ্রসর হতে পারলো না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের মাথার কাছে এগিয়ে আসলেন এবং এক মুষ্টি মাটি হাতে তুলে নিলেন। তিনি বললেন, চেহারাসমূহ ধ্বংস হোক। এরপর বালুকারাজি ছড়িয়ে দিলেন। আর সেই বালুকণা যাকেই স্পর্শ করেছে, তারা সবাই বদরের যুদ্ধে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে।
(আহমদ। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تعنت قريش فى طلب الآييات واصرارهم على العناد وتآمرهم على قتل سيد العباد صلى الله عليه وسلم
عن ابن عباس أن الملأ من قريش اجتمعوا فى الحجر فتعاقدوا باللات والعزى ومناة الثالثة الأخرى ونائلة وإساف لو قد رأينا محمدا لقد قمنا اليه قيام رجل واحد فلم نفارقه حتى نقتله، فاقبلت ابنته فاطمة (رضي الله عنها) تبكى حتى دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت هؤلاء الملأ من قريش قد تعاقدوا عليك لو قد رأوك لقد قاموا اليك فقتلوك فليس منهم رجل الا قد عرف نصيبه من دمك، فقال يا بنية أرينى وضوءا فتوضأ ثم دخل عليهم المسجد، فلما رأوه قالوا ها هو ذا وخفضوا أبصارهم وسقطت أذقانهم فى صدورهم وعقروا فى مجالسهم فلم يرفعوا اليه بصرا ولم يقم اليه رجل، فأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قام على رءوسهم فأخذ قبضة من التراب فقال شاهت الوجوه ثم حصبهم بها فما أصاب رجلا منهم من ذلك الحصى حصاة الا قتل يوم بدر كافرا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূল (ﷺ) কর্তৃক বনূ আবদুল মুত্তালিবকে বিশেষভাবে দা'ওয়াত দেওয়া এবং তাদের প্রতি বিশেষ করুণাবশতঃ নবুয়তের প্রমাণস্বরূপ কিছু নিদর্শন প্রদর্শন। কেননা তারাই ছিল তাঁর সবচেয়ে আপনজন। কিন্তু তারা তাঁর দাওয়াত কবুল করেনি
(৭৬) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একদা আবদুল মুত্তালিবের বংশধরদের দাওয়াত করলেন, তাদের প্রত্যেকেই একটি (চার বছরের) উট খেতে পারত এবং এক ফারক (বৃহৎ গামলা বিশেষ) পানি পান করতে পারত। এক মুদ্দ (আনুমানিক এক সের) পরিমাণ খাবার তৈয়ার করা হলো এবং সবই সেখান থেকে খাবার গ্রহণ করে পরিতৃপ্ত হলো। রাবী বলেন, কিন্তু খাবার যে পরিমাণ ছিল সেই পরিমাণই অবশিষ্ট থেকে গেল; মনে হলো যেন কেউ তা স্পর্শই করেনি। এরপর ছোট একটি পেয়ালা হাজির করা হলো। সবাই তা থেকে পরিতৃপ্তি সহকারে পানীয় গ্রহণ করলো, কিন্তু তারপরও তা সেই রকমই অবশিষ্ট রইল, যেন কেউ তা স্পর্শ করেনি অথবা পান করেনি। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, হে বনূ আবদুল মুত্তালিব, আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে বিশেষকরে তোমাদের জন্য; এবং সাধারণভাবে অন্য মানুষের জন্য। তোমরা এই নিদর্শন স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করলে! সুতরাং তোমাদের মধ্যে কে আছ, যে আমার হাতে বাইয়াত হয়ে আমার ভাই ও সহযোগী হবে? রাবী বলেন, কেউ উঠে দাঁড়াল না। কেবল আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলাম। অথচ আমি ছিলাম তাদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট। রাসূল (ﷺ) আমাকে বললেন, বস্ এইভাবে তিনি তিন তিন বার আহ্বান জানালেন। প্রত্যেকবার কেবল আমি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দাঁড়ালাম; প্রতিবারই আমাকে তিনি বসতে বললেন। তৃতীয়বার তিনি তাঁর হাত আমার হাতে সজোরে রাখলেন।
(হাইছামী, বাযযার, আহমদ ও তাবারনী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى تخصيصه صلى الله عليه وسلم بني عبد المطلب بدعوة ليريهم بعض الآيات الدالة على نبوته رحمة بهم لانهم أقرب الناس اليه فلم يستجيبوا له
عن على رضي الله عنه قال جمع رسول الله صلى الله عليه وسلم او دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بنى عبد المطلب فيهم رهط كلهم يأكل الجذعة ويشرب الفرق قال فصنع لهم مدا من طعام فأكلوا حتى شبعوا، قال وبقى الطعام كما هو كأنه لم يمس ثم دعا بغمر فشربوا حتى رووا وبقى الشراب كانه لم يمس أو لم يشرب: فقال يا بنى عبد المطلب انى بعثت لكم خاصة والى الناس بعامة وقد رأيتم من هذه الأية ما رأيتم فأيكم يبايعنى على أن يكون أخى وصاحبى؟ قال فلم يقم اليه أحد، قال فقمت اليه وكنت أصغر القوم قال فقال أجلس قال ثلاث مرات كل ذلك أقوم اليه فيقول لى اجلس حتى كان فى الثالثه ضرب بيده على يدى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আলী (রা) সহ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক সত্যের আনুকূল্য ও মিথ্যার অপণোদন কল্পে কাবা শরীফে রক্ষিত কুরাইশদের মূর্তিসমূহ ভাংচুর করা
(৭৭) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) আমি ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একত্রে অগ্রসর হতে হতে কাবা শরীফের সম্মুখে এসে উপস্থিত হলাম। রাসূল (ﷺ) আমাকে বললেন, বস। (আমি বসলাম) তিনি আমার কাঁধে চড়লেন। আমি তাঁকে নিয়ে উঠে দাঁড়াতে উদ্যত হলাম; কিন্তু তিনি আমার শারীরিক দুর্বলতা ধরতে পারলেন। তাই তিনি (আমার কাঁধ থেকে) নেমে আসলেন। এবার নবী (ﷺ) নিজে বসলেন এবং আমাকে বললেন, তুমি আমার কাঁধে ওঠ। সুতরাং আমি তাঁর (নির্দেশে) কাঁধে উঠলাম। তিনি আমাকে নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন চাইলে আকাশের দিগন্ত স্পর্শ করতে পারি। যাহোক, আমি কাবা গৃহের উচ্চতায় উঠে তাতে প্রবেশ করলাম, সেখানে ছিল পিতল অথবা তামার মূর্তি। আমি ওর ডানে-বামে, সম্মুখে ও পেছনে আঘাত করার চেষ্টা করতে থাকলাম। শেষপর্যন্ত আমি মূর্তির পতন ঘটাতে সক্ষম হলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, ওটা নিক্ষেপ করে ফেলে দাও। আমি নিক্ষেপ করলাম; সেটি কাঁচের বোতলের ন্যায় ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। এরপর আমি নেমে আসলাম। অতৎপর আমি ও রাসূল (ﷺ) দ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করে বাড়িঘরের আঁড়ালে চলে গেলাম, যেন কেউ আমাদের দেখতে না পায়।
(হাইছামী, আহমদ, আবূ ইয়ালা ও বাযযার।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى تكسيره صلى الله عليه وسلم الأصنام التى كانت لقريش على الكعبة مع على رضي الله عنه انتصارًا للحق وازهاقا للباطل
عن على رضى الله عنه قال انطلقت أنا والنبى صلى الله عليه وسلم حتى أتينا الكعبة فقال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم اجلس وصعد على منكبى فذهبت لأنهض به فرأى منى ضعفا فنزل وجلس بنى الله صلى الله عليه وسلم وقال اصعد عل منكبى قال فصعدت على منكبه قال فنهض بى قال فانه يخيل الى أنى لو شئت لنلت أفق السماء حتى صعدت على البيت وعليه تمثال صفر أو نحاس فجعلت أزاوله عن يمينه وعن شماله وبين يديه ومن خلفه حتى إذا استمكنت منه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اقذف به فقذفت به فتكسر كما تنكسر القوارير ثم نزلت فنطلقنا انا ورسول الله صلى الله عليه وسلم نستبق توارينا بالبيوت خشية أن يلقانا أحد من الناس
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আলী (রা) সহ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক সত্যের আনুকূল্য ও মিথ্যার অপণোদন কল্পে কাবা শরীফে রক্ষিত কুরাইশদের মূর্তিসমূহ ভাংচুর করা
(৭৮) আলী (রা) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, কাবা শরীফের অভ্যন্তরে অনেক মূর্তি ছিল; আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) বহন করতে চাইলাম, কিন্তু আমি তাঁকে বহন করতে সক্ষম হলাম না। সুতরাং তিনি আমাকে বহন করে (উপরের দিকে) উঠালেন; আর আমি মূর্তিগুলো কাটতে লাগলাম। আমার মনে হচ্ছিল, আমি চাইলে আকাশ স্পর্শ করতে পারবো।
(এটি পূর্ববর্তী হাদীসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এটিও বর্ণনা করেছেন হাইছামী, আহমদ, আবূ ইয়ালা ও বাযযার)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى تكسيره صلى الله عليه وسلم الأصنام التى كانت لقريش على الكعبة مع على رضي الله عنه انتصارًا للحق وازهاقا للباطل
وعنه أيضا قال كان على الكعبة أصنام فذهبت لأحمل رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم استطع فحملني فجعلت أقطعها ولو شئت لنلت السماء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলের (ﷺ) কতিপয় সাহাবী (রা) কর্তৃক ফিতনা হতে নিজ দ্বীন রক্ষার্থে হাবশায় হিজরত
(৭৯) ইব্‌ন মাস'উদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে নাজ্জাশীর কাছে প্রেরণ করেন। আমরা সংখ্যায় ছিলাম আশি জনের মত পুরুষ। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মাসউদ, জাফর, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উরফুতাহ, উছমান ইব্‌ন মাযউন ও আবু মূসা ছিলেন এঁদের অন্যতম (প্রধান)। তারা নাজ্জাশীর কাছে আসেন। (অপরদিকে) কুরাইশরা আমর ইব্‌নল 'আস ও উমারা ইবনল ওলীদকে (নাজ্জাশীর জন্য) উপঢৌকনসহ প্রেরণ করে। এরা দু'জন নাজ্জাশীর দরবারে হাজির হয়ে তাঁকে সাজদাহ করল (সম্মানার্থে) এবং তাঁর ডানে ও বায়ে কুর্নিশ করে আরজ করল, আমাদের চাচার বংশের একদল লোক আপনার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে; এঁরা আমাদেরকে এবং আমাদের ধর্মকে অবজ্ঞা করছে। নাজ্জাশী বলেন, তারা কোথায়? (দরবারীরা) বললো, তারা আপনার রাজত্বেই (ভূখণ্ডে) আছে। আপনি তাদেরকে ডেকে পাঠান। নাজ্জাশী তাদেরকে ডেকে পাঠালেন। জাফর (ইব্‌ন আবূ তালিব) বলেন, আজ আমিই হবো তোমাদের মুখপাত্র (বা নেতা)। সেমতে (মুসলিম মুহাজিরগণ) সবাই তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিলেন। (জাফরের নেতৃত্বে মুসলিমগণ নাজ্জাশীর দরবারে প্রবেশ করে) তাঁকে সালাম জানায় কিন্তু সাজদাহ করেননি। দরবারীরা বললো, তোমার কী হলো যে, বাদশাহকে সাজদাহ করছ না? উত্তর দিলেন, আমরা আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কাউকে সাজদাহ করি না। নাজ্জাশী বললেন, ঐ বিষয়টি কী? জাফর বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের কাছে তাঁর রাসূল (ﷺ) কে প্রেরণ করেছেন এবং আমাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন আমরা যেন আল্লাহ্ তা'আলা ভিন্ন অন্য কাউকে সাজদাহ না করি। তিনি আমাদেরকে আরো নির্দেশ প্রদান করেছেন সালাত ও যাকাত সম্পর্কে। তখন (কুরাইশ দূত) আমর ইব্‌নল আস বললো, (জাহাপনা) এরা 'ঈসা ইবন মারইয়াম বিষয়ে আপনার মতের বিরোধিতা করে। নাজ্জাশী জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ঈসা ইবন মারইয়াম ও তাঁর মাতা সম্পর্কে কী বলে থাক? জাফর বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা যেরূপ বলেছেন, আমরাও সেইরূপ বলে থাকি, অর্থাৎ তিনি (ঈসা আ) কালিমাতুল্লাহি (আল্লাহর নির্দেশ) রূহুল্লাহি (আল্লাহ্ প্রদত্ত রূহ), যা তিনি সতী-সাধ্বী কুমারীর গর্ভে নিক্ষেপ করে দিয়েছেন, যাঁকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং (ঈসা আ-এর আগে) তার আর কোন সন্তান হয়নি। রাবী বলেন, নাজ্জাশী তখন মাটি থেকে একটি কাঠি কুড়িয়ে নিলেন এবং বললেন, হে হাবশার অধিবাসীগণ, ইন্‌জীল ও তাওরাত বিশেষজ্ঞগণ, আল্লাহর শপথ, এঁরা যে বক্তব্য পেশ করেছে (ঈসা আ ও তাঁর মাতা সম্পর্কে), তাতে এই কাঠির মতও কিছু বাড়িয়ে বলেনি। (সুতরাং হে মুসলিম দল) তোমাদেরকে এবং তোমরা এই বক্তব্য যাঁর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছ তাঁকে স্বাগতম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনিই আল্লাহ্ প্রতিশ্রুত সেই রাসূল, যাঁর উল্লেখ আমরা ইঞ্জিলে পাই; এবং যাঁর বিষয়ে ঈসা ইবন মারইয়াম সুসংবাদ প্রদান করে গেছেন। তোমরা (আমার রাজ্যে) তোমাদের ইচ্ছানুসারে যেখানে খুশী বসবাস কর। আল্লাহর শপথ, রাষ্ট্রীয় কর্মের ব্যস্ততা না থাকলে আমি অবশ্যই তাঁর খেদমতে হাজির হতাম, তার জুতা বহন করতাম এবং তাঁকে ওযু করিয়ে দিতাম। এরপর কুরাইশ দূতদ্বয়ের উপঢৌকন হাজির করার নির্দেশ দিলেন এবং তা তাদের নিকট ফেরত দেওয়া হলো। এরপর (আমরা হাবশায় নিরাপদে বসবাস করতে থাকলাম, তবে) আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মাস'উদ (রা) ত্বরা করলেন (মদীনায় ফিরে আসলেন) এবং তিনি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন। রাবী মনে করেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নাজ্জাশীর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তাঁর জন্য (ইস্তিগফার) দোয়া করেন।
(হাইছামী ও তাবারানী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى هجرة بعض الصحابة رضي الله عنه الى الحبشة فرارا بدينهم من الفتنة وهى أول هجرة فى الاسلام
عن عبد الله بن عتبة عن ابن مسعود قال بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الى النجاشى ونحن نحو من ثمانين رجلا فيهم عبد الله ابن مسعود وجعفر وعبد الله بن عرفطة وعثمان بن مظعون وأبو موسى فأتوا النجاشى وبعثت قريش عمرو بن العاص وعمارة بن الوليد بهدية فلما دخلا على النجاشى سجدا له ثم ابتدراه عن يمينه وعن شماله ثم قال له ان نفرا من بنى عمنا نزلوا أرضك ورغبوا عنا وعن ملتنا، قال فأين هم؟ قالوا هم فى أرضك فابعث اليهم، فبعث اليهم فقال جعفر انا خطيبكم اليوم فاتبعوه: فسلم ولم يسجد، فقالوا له مالك لا تسجد للملك؟ قال انا لا نسجد الا لله عز وجل، قال وما ذاك؟ قال ان الله عز وجل بعث الينا رسوله صلى الله عليه وسلم وأمرنا أن لا نسجد لأحد الا لله عز وجل وأمرنا بالصلاة والزكاة، قال عمرو بن العاص فانهم يخالفونك فى عيسى بن مريم، قال ما تقولون فى عيسى بن مريم وأمه؟ قالوا نقول كما قال الله عز وجل هو كلمة الله وروحه القاها الى العذراء البتول التى لم يمسها بشر ولم يفرضها ولد، قال فرفع عودا من الأرض ثم قال يا معشر الحبشة والقسيسين والرهبان، والله ما يزيدون على الذيى يقول ما يسوى هذا: مرحبا بكم وبمن جئتم من عنده، اشهد أنه رسول الله فانه الذى نجد فى الأنجيل وأنه الرسول الذى بشر به عيسى بن مريم، انزلوا حيث شئتم، والله لولا ما أنا فيه من الملك لأتيته حتى أكون أنا أحمل نعليه وأوضئه وأمر بهدية الآخرين فردت اليهما، ثم تعجل عبد الله بن مسعود حتى أدرك بدرًا وزعم أن النبى صلى الله عليه وسلم استغفر اله حين بلغا موته
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলের (ﷺ) কতিপয় সাহাবী (রা) কর্তৃক ফিতনা হতে নিজ দ্বীন রক্ষার্থে হাবশায় হিজরত
(৮০) আবূ বকর ইব্‌ন আবদুর রহমান ইব্‌নল হারিছ ইবন্ হিশাম আল-মাখখুমী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সহধর্মিনী উম্মুল মু'মিনীন উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা হাবশায় (আবিসিনিয়া) উপনীত হওয়ার পর একজন উত্তম প্রতিবেশী পেলাম। তিনি স্বয়ং নাজ্জাশী। আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে পূর্ণ নিরাপত্তা লাভ করলাম। নির্বিঘ্নে আল্লাহর ইবাদত করতে লাগলাম। আমাদের কোন প্রকার কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছিল না এবং কোন অপ্রীতিকর কথাও আমাদের শুনতে হচ্ছিল না। কুরাইশরা যখন তা (আমাদের সুঅবস্থার কথা) জানতে পারলো, তখন তারা ষড়যন্ত্র করে সিদ্ধান্ত নিল যে, নাজ্জাশীর কাছে আমাদের ব্যাপারে দু'জন শক্তিশালী ও দক্ষ দূত পাঠাবে এবং নাজ্জাশীর কাছে মক্কার দুর্লভ ও উৎকৃষ্ট সামগ্রী উপঢৌকন পাঠাবে। নাজ্জাশীর কাছে মক্কা থেকে যেসব সামগ্রী আসতো, তন্মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বিবেচিত হতো সেখানকার চামড়া (বা চামড়াজাত সামগ্রী)। তাই তারা নাজ্জাশীর জন্য প্রচুর চামড়া (সামগ্রী) সংগ্রহ করলো। (তাছাড়া) নাজ্জাশীর রাজকর্মচারী ও দরবারীদের কাউকেই তারা উপহার দিতে বাদ রাখেনি। অতঃপর তারা এসব উপহার সামগ্রীসহ আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবী রবী'আ ইবনল মুগীরা আল-মাখযূমী ও আমর ইব্‌নল আস ইবন্ ওয়ায়িল আস্-সাহমীকে নাজ্জাশীর কাছে প্রেরণ করলো এবং তাদের করণীয় কাজ তাদেরকে বুঝিয়ে দিল। তারা দূতদ্বয়কে বলে দিল, মুহাজিরদের সম্পর্কে নাজ্জাশীর সাথে কথা বলার পূর্বে তোমরা প্রত্যেক দরবারী বা রাজকর্মচারীকে তাদের উপহার প্রদান করবে। এরপর নাজ্জাশীকে প্রদেয় উপহারসামগ্রী পেশ করবে এবং তাঁকে অনুরোধ জানাবে, তিনি যেন মুহাজিরদের সাথে কোন কথাবার্তা না বলেই তাদেরকে তোমাদের হাতে সোপর্দ করেন। রাবী (উম্মু সালামা) বলেন, অতঃপর আমরা রওয়ানা হলাম এবং নাজ্জাশীর কাছে উপনীত হলাম। তখন আমরা উত্তম প্রতিবেশীর কাছে উত্তম স্থানে বসবাস করছিলাম। (এদিকে) দূতদ্বয় নাজ্জাশীর সাথে কথা বলার আগেই প্রতিটি দরবারী ও রাজকর্মচারীকে আনীত উপহার সামগ্রী প্রদান করে।
তারা (দূতদ্বয়) দরবারীদের প্রত্যেককে বললো, আমাদের দেশ থেকে কিছুসংখ্যক বেকুব যুবক বাদশাহর রাজ্যে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তারা নিজ জাতির ধর্ম পরিত্যাগ করেছে অথচ আপনাদের ধর্মও কবুল করেনি। তারা এক অভিনব ধর্ম তৈয়ার করেছে, যা আপনাদের কিংবা আমাদের কারোর কাছেই পরিচিত নয়। তাদের জাতির সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত লোকেরা আমাদেরকে বাদশাহর কাছে পাঠিয়েছেন যেন তিনি ওদেরকে ওদের স্বজাতির কাছে পেরত পাঠান। সুতরাং আমরা যখন ওদের ব্যাপারে বাদশাহর সাথে কথা বলবো, তখন আপনারা তাঁকে পরামর্শ দিবেন যেন তিনি ওদেরকে আমাদের কাছে সমর্পণ করেন; আর সমর্পণ করার পূর্বে তাদের সাথে যেন কোন কথা না বলেন। কারণ, ওদের বিষয়ে ওদের সম্প্রদায়ই অধিক অবগত এবং তাদের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে তাদের জাতিই সবচেয়ে ভাল জানে। দরবারীরা এতে সবাই সম্মতি জ্ঞাপন করলো। অতঃপর তারা নাজ্জাশীর সম্মুখে তাদের আনীত উপহারসমুহ পেশ করলো। তিনি তা গ্রহণ করলেন। এরপর দূতদ্বয় বাদশাহর সাথে কথা বলতে শুরু করলো। তারা বললো, 'হে বাদশাহ, আমাদের দেশ থেকে কতিপয় নির্বোধ যুবক আপনার দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা তাদের স্বজাতির ধর্ম পরিত্যাগ করেছে এবং আপনার ধর্মও গ্রহণ করেনি। তারা একটা উদ্ভট ধর্ম উদ্ভাবন করে নিয়েছে যা আপনার ও আমাদের কাছে অজ্ঞাত। তাদের ব্যাপারে তাদের কওমের সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিরা আমাদেরকে আপনার কাছে প্রেরণ করেছেন। যারা আমাদেরকে প্রেরণ করেছেন, তাদের মধ্যে এমনকি এদের পিতা-পিতামহ, পিতৃব্য ও আত্মীয়-স্বজনও রয়েছেন, যেন আপনি এদেরকে তাদের (আত্মীয়-স্বজনদের) কাছে ফেরত পাঠান। এদের খবরাখবর, দোষ-ত্রুটি ইত্যাদি বিষয়ে তারাই (আত্মীয়-স্বজনরা) সবচেয়ে বেশী অবগত। রাবী উম্মু সালামা বলেন, নাজ্জাশী তাঁদের (মুসলিম মুহাজিরদের) কথা শুনুক এটা ছিল আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবূ রবী'আ ও আমর ইব্‌নল 'আস-এর কাছে সবচেয়ে অবাঞ্ছিত ব্যাপার। বাদশাহর দরবারীরা বললো, জাঁহাপনা এরা সত্যই বলেছে। মুহাজিরদের জাতিই তাদের দোষত্রুটি ভাল জানে। সুতরাং আপনি ওদেরকে এই দুইজনের হাতে সমর্পণ করে দিন। এরা দু'জন ওদেরকে স্বদেশ ও স্বজাতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাক।
(এদের বক্তব্য শুনে) নাজ্জাশী ভীষণ রেগে গেলেন। পরে বললেন, আল্লাহর শপথ, আল্লাহর কসম, এ অবস্থায় ওদেরকে দূতদ্বয়ের হাতে সমর্পণ করবো না। একদল (নিরীহ) লোক আমার সান্নিধ্যে বাস করছে, তারা আমার দেশে (অতিথি) হয়ে এসেছে। তারা অন্যত্র না গিয়ে আমার কাছে আমাকে বেছে নিয়েছে। (সুতরাং) আমি তাদেরকে ডাকবো এবং এই আগন্তুকদ্বয় তাদের সম্পর্কে যা বলেছে, সে সম্পর্কে তাদের বক্তব্যও শুনবো। যদি দেখি, এরা দু'জন যেরূপ বলেছে, আশ্রিতরা সত্যিই তদ্রূপ, তাহলে তাদেরকে এদের হাতে সমর্পণ করবো এবং তাদের স্বজাতির কাছে ফেরত পাঠাবো। অন্যথায় আমি তাদেরকে ফেরত পাঠাবো না। (বরং যত দিন ইচ্ছা) আমার সুসান্নিধ্যে তারা থাকবে, যেমনটি তারা (এতদিন) থেকে আসছে। উম্মু সালামা বলেন, অতঃপর নাজ্জাশী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবীগণকে ডেকে পাঠালেন। নাজ্জাশীর বার্তাবাহক যখন তাঁদেরকে ডাকতে গেল তখন তাঁরা পরামর্শ করার জন্য সমবেত হলেন। একে অপরকে জিজ্ঞেস করলেন বাদশাহর দরবারে গিয়ে তোমরা কী বলবে? (পরিশেষে) সবাই (ঐক্যমত হয়ে) বললেন, আল্লাহর শপথ, আমাদের নবী (ﷺ) যা আমাদেরকে শিখিয়েছেন এবং যেরূপ নির্দেশ করেছেন, আমরা তাই বলবো, পরিণতি যা হয় হবে।…
(আশ্রিত মুহাজিরগণ) দরবারে এলেন। নাজ্জাশী ইতোমধ্যেই তাঁর ধর্মযাজকদের ডেকে হাজির করে রেখেছেন। তারা তার চারপাশে তাদের কিতাবাদি (ইঞ্জিল) খুলে বসেছেন। বাদশাহ তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদেও সেই ধর্মটা কী যা গ্রহণ করে তোমরা নিজ জাতিকে ছেড়ে এসেছ, অথচ তোমরা আমার ধর্মে কিংবা এই উম্মতসমূহের কারো কোন ধর্মে প্রবেশ করোনি? উম্মু সালামা (রা) বলেন, যিনি আমাদের পক্ষ থেকে বাদশাহর সাথে কথা বলছিলেন তিনি ছিলেন জাফর ইব্‌ন আবূ তালিব (রা), তিনি বললেন, হে সদাশয় সম্রাট, আমরা ছিলাম অজ্ঞ-মূর্খ জাতি। আমরা মূর্তি পূজা করতাম, মৃত জন্তুর মাংস ভক্ষণ করতাম এবং অশ্লীল ও খারাপ কাজে লিপ্ত থাকতাম, আমার নিকটাত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম, প্রতিবেশীকে অবজ্ঞা করতাম এবং আমাদের মধ্যে যে সবল সে দুর্বলের অধিকার হরণ করতো। আমরা এই অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছিলাম। এমতাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের কাছে আমাদের মধ্য থেকে একজনকে রাসূল করে পাঠালেন। আমরা তাঁর বংশমর্যাদা, সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা ও চারিত্রিক স্বচ্ছতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তিনি আমাদেরকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর একত্বে বিশ্বাস করার আহ্বান জানান। আমরা এবং আমাদের পিতৃপুরুষরা আল্লাহ্ ভিন্ন অন্য যেসব বস্তু তথা পাথর, মূর্তি ইত্যাদির পূজা করতাম, তা তিনি পরিহার করতে বললেন। তিনি সত্যা বলা, আমানত রক্ষা করা, আত্মীয়ের সাথে সদাচরণ করা, প্রতিবেশীর সাথে ভাল ব্যবহার করা এবং নিষিদ্ধ কাজ ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকার আদেশ দেন।
তিনি (রাসূল সা) আমাদের অশ্লীল কাজ করতে, মিথ্যা কথা বলতে, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করতে ও নিরপরাধ সতী-সাধ্বী নারীদের প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করতে নিষেধ করেন। আমাদেরকে তিনি একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করতে নির্দেশ দেন। তিনি আমাদেরকে সালাত, যাকাত ও সিয়ামের নির্দেশ দেন। এমনিভাবে জাফর (রা) একে একে ইসলামের বিধানসমূহ তুলে ধরে বললেন, অতঃপর আমরা তাঁকে সত্য বলে মেনে নিলাম এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম। তিনি যে বিধি-বিধান নিয়ে এসেছেন, তার অনুসরণ আমরা করতে শুরু করলাম। আমরা এক আল্লাহর ইবাদত করতে লাগলাম এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করলাম না। তিনি যেসব বিষয় হারাম ঘোষণা করলেন তা থেকে আমরা বিরত রইলাম, আর যে জিনিস তিনি হালাল ঘোষণা করলেন আমরা তা হালাল বলে মেনে নিলাম। এতে আমাদের জাতি আমাদের শত্রু হয়ে গেল, তারা আমাদের উপর নির্যাতন চালাতে লাগলো এবং আমাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদত থেকে মূর্তিপূজার দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। তারা চায় যেন আমরা পুনরায় সেই সব ঘৃণ্য অপকর্মগুলো শুরু করি (হালাল মনে করে)। (এমনিভাবে) তারা যখন আমাদের উপর উৎপীড়ন শুরু করলো, যুলুম নির্যাতন করে আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুললো এবং (সর্বোপরি) তারা যখন আমাদের দীন পালনে বাধা হয়ে দাঁড়ালো তখন আমরা আপনার দেশে এসে আশ্রয় নিলাম। অন্যদের চেয়ে আপনাকেই উত্তম মনে করলাম এবং আপনার প্রতিবেশী হয়ে থাকতে আগ্রহী হলাম। এবং হে বাদশাহ, আমরা আশা করি আপনার কাছে আমরা অত্যাচারের শিকার হবো না।
উম্মু সালামা (রা) বলেন, নাজ্জাশী তাঁকে (জাফরকে (রা)) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের নবী আল্লাহর যে বাণী নিয়ে এসেছেন তার কোন অংশ তোমার কাছে আছে কি? জাফর বললেন, হ্যাঁ আছে। নাজ্জাশী বললেন, আমাকে পড়ে শোনাও। জাফর সূরা মারইয়ামের (কাফ. হা. 'আইন সোওয়াদ) শুরুর কতিপয় আয়াত পাঠ করে শোনালেন। (আয়াতগুলো শুনে) নাজ্জাশী কাঁদতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ। এমনকি তাঁর দাঁড়ি অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। (তাঁর সাথে) তাঁর ধর্মযাজকরাও কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁদের কিতাবাদি (ইঞ্জিলসমূহ) ভিজিয়ে ফেললেন-পাঠকৃত আয়াতসমূহ শ্রবণ করে। অতঃপর নাজ্জাশী বললেন, আমি নিশ্চিত, আল্লাহর শপথ, এই বাণী এবং মূসা (আ)-এর কাছে যে বাণী আসতো তা একই উৎস থেকে আগত। হে কুরাইশ দূতদ্বয়, তোমরা বিদায় হও। আল্লাহর শপথ, আমি কিছুতেই তাঁদেরকে তোমাদের হাতে সমর্পণ করবো না।
উম্মু সালামা (রা) বলেন, আমরা যখন দরবার থেকে বের হয়ে আসলাম তখন আমর ইব্‌নল আস বললো, আল্লাহর কসম, আগামীকাল আমি তাদের দোষ-ত্রুটিসমূহ তুলে ধরবো এবং এদেরকে সমূলে উৎখাত করে ছাড়বো। আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবী রবী'আ আমাদের ব্যাপারে অপেক্ষাকৃত সংযত ছিল। সে (তার সঙ্গীকে) বললো, এরূপ করো না, যদিও তারা আমাদের বিরোধী, তথাপি তাদের মধ্যে রক্তের সম্পর্কের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। আমর ইব্‌নল আস বললো, আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই নাজ্জাশীকে বলবো যে, এরা ঈসা ইবন্ মারইয়মকে স্রেফ একজন বান্দা (আল্লাহ্) বলে বিশ্বাস করে। উম্মু সালামা (রা) বলেন, পরদিন সে (বাদশাহর দরবারে উপস্থিত হয়ে) বলে, হে বাদশাহ, এরা ঈসা ইবন মারইয়ম সম্পর্কে খুব মারাত্মক কথা বলে থাকে। আপনি ওদের ডাকুন এবং ঈসা (আ) সম্পর্কে তাদের মতামত জিজ্ঞেস করে দেখুন। ঈসা (আ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য বাদশাহ পুনরায় মুহাজিরদের দরবারে ডেকে পাঠালেন। উম্মু সালমা (রা) বলেন, এবার আমরা আগের দিনের চেয়েও কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হলাম। আবার (পরামর্শের জন্য) সবাই সমবেত হলেন। সবার এক প্রশ্ন, বাদশাহ ঈসা (আ) সম্পর্কে জানতে চাইলে তোমরা কী বলবে? অবশেষে সবাই স্থির করলেন, আল্লাহ্ শপথ তাঁর সম্পর্কে আল্লাহ্ যা বলেছেন এবং আমাদের নবী (ﷺ) যে লিখন নিয়ে এসেছেন, আমরা তাই বলবো, তাতে পরিণতি যা হবার তাই হবে। মুহাজিরগণ দরবারে হাজির হলে বাদশাহ জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ঈসা ইবন মারইয়াম (আ) সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ কর? জাফর (রা) বললেন, আমাদের নবী (ﷺ) তাঁর সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছেন, আমরা তা-ই বলে থাকি (বিশ্বাস করি)। তিনি (ঈসা আ) আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁরই ফুঁকে দেওয়া আত্মা এবং তাঁরই বাণী যা তিনি কুমারী মাতা ও পুরুষদের স্পর্শমুক্ত রমনী মারইয়ামের উপর নিক্ষেপ করেছিলেন। উম্মু সালামা (রা) বলেন, একথা শোনামাত্র নাজ্জাশী প্রবল উচ্ছ্বাস বশে মাটিতে হাত চাপড়িয়ে একখানা ক্ষুদ্র কাঠি হাতে নিলেন এবং বললেন, নিশ্চয় তুমি যা বলেছ তার সাথে ঈসা ইবন মারইয়মের এই কাঠির পরিমাণ পার্থক্যও নেই।
বাদশাহর এই কথা বলার সময় তাঁর পার্শ্বস্থ দরবারীরা (নাখোশ হয়ে) রুষ্টতা প্রকাশ করলো। বাদশাহ (তা লক্ষ্য করলেন এবং) বললেন, তোমরা রুষ্টতা প্রকাশ করলেও (আমার মত অপরিবর্তিত থাকবে)। তোমরা (হে মুহাজিরগণ) আমার ভূখণ্ডে মুক্ত-স্বাধীন। তোমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ (এবং নিশ্চিন্তে বসবাস কর)। যে তোমাদের গালাগাল করবে, তাকে জরিমানা করা হবে। এরপরও যদি কেউ তোমাদের গালমন্দ করে, তাকে আরো জরিমানা করা হবে। তোমাদের একজনকেও কষ্ট দিয়ে আমি যদি পাহাড়সম স্বর্ণ লাভ করি, তথাপি আমি তা পছন্দ করি না। (রাবী বলেন, বাদশাহ তাঁর এই ফরমানে 'দাইর' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, হাবশী ভাষায় 'জাবাল' বা পাহাড়ের প্রতিশব্দ এটি।)। হে রাজকর্মচারীগণ, তোমরা এই দূতদ্বয়ের দেওয়া উপহারসামগ্রী ফিরিয়ে দাও। এগুলোতে আমার কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহর শপথ, তিনি যখন আমাকে এই রাজত্ব দান করেছেন, তখন এর বিনিময়ে আল্লাহ্ আমার কাছ থেকে কোন ঘুষ নেননি, তো আমি ঘুষ নেব কেন? আমার সিদ্ধান্তে কেউ ঐকমত্য পোষণ করেনি, তো আমি কেন তাদের মতামতের গুরুত্ব দেব?
উম্মু সালামা (রা) বলেন, এরপর তারা (দূতদ্বয়) চরম লাঞ্ছনার গ্লানি নিয়ে ফিরে গেল। তাদের আনীত উপহারসামগ্রীও ফেরত দেওয়া হলো। আমরা তাঁর কাছে অত্যন্ত নিরুদ্বেগ পরিবেশে ও পরম সুজন প্রতিবেশীর সাহচর্যে বসবাস করতে থাকলাম।
উম্মু সালামা (রা) বলেন, আল্লাহর শপথ (আমরা শান্তিতে বসবাস করছিলাম), এমন সময় এক ব্যক্তি নাজ্জাশীর সাথে তাঁর রাজত্বের অধিকার নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলো। সেই সময় আল্লাহর শপথ, আমরা যে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে পতিত হয়েছিলাম, সেইরূপ দুশ্চিন্তার মধ্যে ইতিপূর্বে আমরা কখনও পতিত হইনি। আমাদের শঙ্কার কারণ ছিল, ঐ ব্যক্তি যদি নাজ্জাশীর বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়ে যায়, তাহলে সে হয়তো নাজ্জাশীর ন্যায় আমাদের অধিকার প্রদান করবে না। উম্মু সালামা (রা) বলেন, নাজ্জাশী (তাঁর সেই প্রতিদ্বন্দ্বির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে) চলে গেলেন। দুই প্রতিপক্ষের মাঝখানে পড়লো নীল নদ। রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাহাবীগণ বললেন, এমন কেউ কি এখানে আছেন, যিনি সেই যুদ্ধের সময় রণাঙ্গনে উপস্থিত হবেন এবং ফলাফল কি হয়, তা দেখে এসে আমাদের জানাবেন?
উম্মু সালামা (রা) বলেন, যুবাইর ইবনল আওয়াম বললেন, আমি আছি। বয়সে তিনি ছিলেন সবার মধ্যে কনিষ্ঠতম। সবাই মিলে একটি চামড়ার মশকে হাওয়া ভরে তা যুবাইরের বুকের উপর স্থাপন করা হলো। তিনি মশকের উপর ভর দিয়ে সাঁতরে নীল নদ পাড়ি দিয়ে কিনারায় উঠলেন এবং পরে পায়ে হেঁটে রণাঙ্গণে গিয়ে তাদের সাথে মিলিত হলেন। উম্মু সালামা (রা) বলেন, এই সময় আল্লাহর দরবারে আমরা দোয়া করতে থাকি যেন নাজ্জাশী তাঁর শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ী হন এবং দেশের উপর তাঁর কর্তৃত্ব বহাল থাকে। (যাহোক শেষ পর্যন্ত) হাবশার জনগণ নাজ্জাশীর কর্তৃত্ব মেনে নেয় এবং তাঁর রাজত্বে স্থিতি ফিরে আসে। আমরা সেখানে সর্বোত্তম স্থানে অবস্থান করছিলাম। অবশেষে আমরা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) নিকট ফিরে যাই। তিনি তখনও মক্কায় অবস্থান করছিলেন।
(ইবন হিশাম, হাইছামী ও আহমদ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى هجرة بعض الصحابة رضي الله عنه الى الحبشة فرارا بدينهم من الفتنة وهى أول هجرة فى الاسلام
عن أبي بكر بن عبد الرحمن) بن الحرث بن هشام المخزومى عن أم سلمة ابنة أبى أمية بن المغيرة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت لما نزلنا أرض الحبشة جاورنا بها خير جار النجاشى، أمِّنا على ديننا وعبدنا الله لا نؤذى ولا نسمع شيئًا نكرهه؛ فلما بلغ ذلك قريشا ائتمروا أن يبعثوا إلى النجاشى فينا رجلين جلدين وان يهدوا للنجاشى هدايا مما يستطرف من متاع مكة؛ وكان من أعجب ما يأتيه منها اليه الأدم فجمعوا له ادما كثيرا ولم يتركوا من بطارقته بطريقا الا أهدوا له هدية ثم بعثوا بذلك مع عبد الله بن أبى ربيعة بن المغيرة المخزومى وعمرة بن العاص بن وائل السهمى وأمروهما أمرهم وقالوا لهما ادفعوا الى كلك بطريق هديته قبل أن تكلموا النجاشى فيهم، قم قدّموا للنجاشى هداياه ثم سلوه أن يسلمهم اليكم قبل أن يكلمهم، نالت فخرجنا فقد منا على النجاشى، ونحن عنده بخير دار وعند خير جار فلم يبق من بطارقته بطريق الا دفعا اليه هديته قبل أن يكلما النجاشى، ثم قالا لكل بطريق منهم أنه قد صبا الى بلد الملك منا غلمان سفهاء وفارقوا دين قومهم ولم يدخلوا فى دينكم وجاؤا بدين مبتدع لا نعرفه نحن ولا أنتم، وقد بعثنا إلى الملك فيهم أشراف قومهم ليردّهم، اليهم، فاذا كلمان الملك فيهم فتشيروا عليه بأن يسلمهم الينا ولا يكلمهم فان قومهم أعلى بهم عينا واعلم بما عابو عليهم فقالوا لهما نعم، ثم انهما قرّبا هداياهم إلى النجاشى فقبلها منهما، ثم كلماه فقالا له أيها الملك أنه قد صبا إلى بلدك منا غلمان سفهاء فارقوا دين قومهم ولم يدخلوا فى دينك وجاءوا بدين مبتدع لا نعرفه نحن ولا أنت، وقد بعثنا اليك فيهم أشراف قومهم حتى آباؤهم وأعمامهم وعشائرهم لتردهم اليهم فهم أعلى بهم عينا وأعلم بم عابوا عليهم وعاتبوهم فيه، قالت ولم يكن شئ أبغض إلى عبد الله بن أبى ربيعة وعمروا بن العاص من أن يسمع النجاشى كلامهم، فقالت بطارقته حوله صدقوا أيها الملك، قومهم أعلى بهم عينا واعلم بما عابوا عليهم بأسلمهم اليهما فليرداهم إلى بلادهم وقومهم، قال فغضل النجاشى ثم قال لا ها الله ايم الله إذًا لا أسلمهم اليهما ولا أكاد قوما جاورونى ونزلوا بلادى واختارونى على من سواى حتى أدعوهم فأسالهم ما يقول هذان فى أمرهم، فان كانوا كما يقولون اسلمتهم اليهما ورددتهم الى قومهم، وان كانوا على غير ذلك منعتهم منهما وأحسنت جوارهم ما جاورونى، قالت، ثم أرسل إلى اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فدعاهم، فلما جاءهم رسوله اجتمعوا: ثم قال بعضهم لبعض ما تقولون للرجل إذا جئتموه؟ قالوا نقول والله ما علمنا وما أمرنا به نبينا صلى الله عليه وسلم كائن فى ذلك ما هو كائن، فلما جاءوه وقد دعا النجاشى اساقفته فنشروا مصاحفهم حوله سألهم فقال ما هذا الدين الذى فارقتم فيه قومكم ولم تدخلوا فى دينى ولا فى دين أحد من هذه الأمم؟ قالت فكان الذى كلمه جعفر بن أبى طالب فقال له أيها الملك كنا قوما أهل جاهلية نعبد الأصنام ونأكل الميتة وتأتى الفواحش ونقطع الأرحام ونسيئ الجوار، يأكل القوى منا الضعيف، فكنا على ذلك حتى بعث الله الينا رسولا منا نعرف نسبه وصدقه وامانته وعفافه، فدعانا إلى الله لنوحده ونعبده ونخلع ما كنا نحن نعبد وأباؤنا من دونه من الحجارة والأوثان، وأمرنا بصدق الحديث وأداء الأمانة وصلة الرحم وحسن الجوار والكف عن المحارم والدماء، ونهانا عن الفواحش وقول الزور وأكل مال اليتيم وقذف المحصنة، وأمرنا أن نعبد الله وحده لا نشرك به شيئًا، وأمرنا بالصلاة والزكاة والصيام قال فعدد عليه أمور الاسلام: فصدقناه وآمنا به واتبعناه على ما جاء به وعبدنا الله وحده فلم نشرك به شيئًا، وحرمنا ما حرِّم علينا وأحللنا ما أحل لنا، فعدا علينا قومنا فعبونا وفتنونا عن ديننا ليردونا الى عبادة الأوثان من عبادة الله، وأن نستحل ما كنا نستحل من الخبائث، فلما قهرونا وظلمونا وشقوا علينا حالوا بيننا وبين ديننا خرجنا إلى بلدك واخترناك على من سواك ورغبنا فى جوارك ورجونا أن لا نظلم عندك أيها الملك، قالت، فقال له النجاشى هل معك مما جاء به عن الله من شئ؟ قالت فقال له جعفر نعم، فقال له النجاشى فاقرأه على، فقرأ عليه صدرًا من كهيعص قالت فبكى والله النجاشى حتى أخضل لحيته وبكت أساقفته حتى اخضلوا مصاحفهم حين سمعوا ما تلاه عليهم ثم قال النجاشى ان هذا والله والذى جاء به موسى ليخرج من مشكاة واحدة، انطلقا فوالله لا اسلمهم اليكم أبدًا ولا أكاد: قالت أم سلمة فلما خرجنا من عنده قال عمرو بن العاص والله لأنبئنهم غدًا عيبهم عندهم ثم أستأصل به خضراءهم قالت فقال له عبد الله بن أبى ربيعة وكان أتقى الرجلين فينا لا تفعل فان لهم ارحاما وان كانوا قد خالفونا، قال والله لأخبرنه أنهم يزعمون أن عيسى بن مريم عبد: قالت ثم غدا عليه الغد فقال أيها الملك إنهم يقولون فى عيسى بن مريم قولا عظيما فأرسل اليهم فاسألهم عما يقولون فيه، قالت فأرسل اليهم يسألهم عنه، قالت ولم ينزل بنا مثله، فاجتمع القوم فقال بعضهم لبعض ماذا تقولون فى عيسى إذا سألكم عنه؟ قالوا نقول والله فيه ما قال الله وما جاء به نبينا صلى الله عليه وسلم كائنا فى ذلك ما هو كائن، فلما دخلوا عليه قال لهم ما تقولون فى عيسى بن مريم؟ فقال له جعفر بن أبى طالب نقول فيه الذى جاء به نبينا صلى الله عليه وسلم هو عبد الله ورسوله وروحه وكلمته القاها إلى مريم العذراء البتول، قالت فضرب النجاشى بيده إلى الأرض فاخذ منها عودًا ثم قال ما عدا عيسى بن مريم ما قلت هذا العود: فتناخرت بطارقته حوله حين قال ما قال، فقال وإن نخرتم والله اذهبوا فأنتم سيوم بارضى والسيوم الآمنون من سبكم غرِّم ثم من سبكم غرم فما أحب أن لى دبرًا ذهبا وأنى آذيت رجلا منكم: والدبر بلسان الحبشة الجبل ردوا عليهما هداياهما فلا حاجة لنا بها، فوالله ما أخذ الله منى الرشوة حين رد على ملكى فآخذ الرشوة فيه، وما أطاع الناس فيَّ فأطيعهم فيه، قالت فخرجا من عنده مقبوحين مردودا عليهما ما جاءآ به وأقمنا عنده بخير دار مع خير جار، قالت فوالله إنا على ذلك إذ نزل به يعنى من ينازعه فى ملكه، قالت ما علمنا حزنا قط كان أشد من حزن حزناه عند ذلك تخوفا أن يظهر ذلك على النجاشى فيأتى رجل لا يعرف من حقنا ما كان النجاشى يعرف منه، قالت وسار النجاشى وبينهما عرّض النيل، قالت فقال أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم من رجل يخرج حتى يحضر وقعة القوم يأتينا بالخبر؟ قالت فقال الزبير بن العوام انا، قالت وكان من أحدث القوم سنا قالت فنفخوا له قربة فجعلها فى صدره ثم سبح عليها حتى خرج إلى ناحية النيل التى بها ملتقى القوم، ثم انطلق حتى حضرهم، قالت ودعونا الله للنجاشى بالظهور على عدوه والتمكين له فى بلاده، واستوسق عليه أمر الحبشة فكنا عنده فى خير منزل حتى قدمنا على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بمكة
tahqiq

তাহকীক: