মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৫৪ টি
হাদীস নং: ৮১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উমর ইব্নল খাত্তাবের (রা) ইসলাম গ্রহণ ও এর কারণ
(৮১) ইবন 'উমার (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আল্লাহর নিকট দোয়া করেন- ইয়া আল্লাহ্, আবু জাহল অথবা উমার ইব্নল খাত্তাব এই দুজনের মধ্যে তোমার নিকট প্রিয়তর একজনের মাধ্যমে তুমি ইসলামকে শক্তিশালী কর। (বাস্তবে দেখা গেল) উভয়ের মধ্যে আল্লাহর নিকট প্রিয়তর হচ্ছেন 'উমার ইবনল খাত্তাব (রা)।
(তিরমিযী, হাদীসটি হাসান, সহীহ ও গরীব।)
(তিরমিযী, হাদীসটি হাসান, সহীহ ও গরীব।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في إسلام عم بن الخطاب رضي الله عنه وسببه
عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم قال الله مأعز الاسلام بأحب هذين الرجلين اليك بأبى جهل أو بعمر بن الخطاب: فكان أحبهما الى الله عز وجل عمر بن الخطاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উমর ইব্নল খাত্তাবের (রা) ইসলাম গ্রহণ ও এর কারণ
(৮২) শুরাইহ ইব্ন উবাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'উমার ইবনল খাত্তাব (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তালাশ করতে বের হলাম। দেখা গেল তিনি আমার পূর্বেই মসজিদে প্রবেশ করে সালাতে দণ্ডায়মান হয়েছেন। আমি তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম। তিনি সূরা 'আল-হাক্কাহ' শুরু করেছেন। আমি আল-কুরআনের শাব্দিক গাঁথুনি (রচনাশৈলী) লক্ষ্য করে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছিলাম। আমি (মনে মনে) বললাম, আল্লাহর শপথ, এ নিশ্চয় কোন কবি, যেমনটি কুরাইশরা বলেছে। এমন সময় রাসূল (ﷺ) পাঠ করলেন -
إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيْلًا مَا تُؤْمِنُونَ
“নিশ্চয় এটি সম্ভ্রান্ত রাসূলের বাণী। এটি কোন কবির কাব্য নয়। তোমাদের অল্প সংখ্যকই ঈমান এনে থাক।"
এরপর আমি (মনে মনে) বললাম, এ নিশ্চয়ই কাহেন (অতীন্দ্রিয়বাদী)। এবার রাসূল (ﷺ) পাঠ করলেন-
ولا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُوْنَ تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيْلِ لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِيْنَ فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ وَاِنَّہٗ لَتَذۡکِرَۃٌ لِّلۡمُتَّقِیۡنَ
"এবং এটি কোন কাহেনের কথাও নয়; তোমরা বরং অল্পসংখ্যকই উপদেশ গ্রহণ করে থাক এ বাণী অবতীর্ণ করা হচ্ছে জগত-সমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে। আর যদি সে (অর্থাৎ রাসূল কথার কথা) কোন (মিথ্যা) বাণী রচনা করে আমার প্রতি আরোপ করত তবে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম তারপর তার জীবন-ধমনি কেটে দিতাম। তখন তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারত না। নিশ্চয়ই এটা মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশবাণী। এভাবে সূরার শেষ পর্যন্ত তিনি পাঠ করলেন। এরপর ইসলাম আমার অন্তরে পরিপূর্ণভাবে স্থান করে নিল।
(হাইছামী ও তাবারানী।)
إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيْلًا مَا تُؤْمِنُونَ
“নিশ্চয় এটি সম্ভ্রান্ত রাসূলের বাণী। এটি কোন কবির কাব্য নয়। তোমাদের অল্প সংখ্যকই ঈমান এনে থাক।"
এরপর আমি (মনে মনে) বললাম, এ নিশ্চয়ই কাহেন (অতীন্দ্রিয়বাদী)। এবার রাসূল (ﷺ) পাঠ করলেন-
ولا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُوْنَ تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيْلِ لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِيْنَ فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ وَاِنَّہٗ لَتَذۡکِرَۃٌ لِّلۡمُتَّقِیۡنَ
"এবং এটি কোন কাহেনের কথাও নয়; তোমরা বরং অল্পসংখ্যকই উপদেশ গ্রহণ করে থাক এ বাণী অবতীর্ণ করা হচ্ছে জগত-সমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে। আর যদি সে (অর্থাৎ রাসূল কথার কথা) কোন (মিথ্যা) বাণী রচনা করে আমার প্রতি আরোপ করত তবে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম তারপর তার জীবন-ধমনি কেটে দিতাম। তখন তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারত না। নিশ্চয়ই এটা মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশবাণী। এভাবে সূরার শেষ পর্যন্ত তিনি পাঠ করলেন। এরপর ইসলাম আমার অন্তরে পরিপূর্ণভাবে স্থান করে নিল।
(হাইছামী ও তাবারানী।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في إسلام عم بن الخطاب رضي الله عنه وسببه
عن شريح بن عبيد قال قال عمر بن الخطاب رضي الله تبارك وتعالى عنه خرجت اتعرض رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم صلى الله عليه وسلم قبل أن أسلم فوجدته قد سبقنى إلى المسجد فقمت خلفه فاستفتح سورة الحاقة فجعلت أعجب من تأليف القرآن قال فقلت هذا والله شاعر كما قال قريش، قال فقرأ {انه لقول رسول كريم، وما هو بقول شاعر قليلا ما تؤمنون} قال قلت كاهن، قال {ولا بقول كاهن قليلا ما تذكرون، تنزيل من رب العالمين، ولو تقول علينا بعض الأقاويل لأخذنا منه باليمين ثم لقطعنا منه الوتين، فما منكم من أحد عنه حاجزين} الخ السورة قال فوقع الإسلام فى قلبى كل موقع
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : বনু হাশিম ও বনু আবদুল মুত্তালিবের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন ও বেচাকেনা করবে না এই মর্মে বনু কিনানা ও কুরায়শের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিনামা ও তাদেরকে শিআবে আবু তালিবে অবরোধ করে রাখা
(৮৩) উসামা ইবন যায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) বললাম, আগামী কাল হজ্জের সময় কোথায় অবতরণ করব? তিনি বললেন, আক্বীল কি আমাদের জন্য কোন গৃহ রেখে গেছে? অতঃপর বললেন, আমরা আগামীকাল ইনশাআল্লাহ্ বনূ কিনানার 'খাইফে' (অর্থাৎ মুহাসসাবে) অবতরণ করবো, যেখানে কুরাইশরা কুফরীতে সন্ধি-চুক্তি করেছিল। (চুক্তিটি ছিল এরূপ যে,) বনূ কিনানা কুরাইশদের সাথে বনূ হাশিমের বিষয়ে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল যে, তারা তাদের (বনু হাশিমের বিষয়ে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল যে, তারা তাদের (বনু হাশিমের) সাথে বিয়ে-শাদী ও কোনরকম লেনদেন করবে না, তাদেরকে আশ্রয় দেবে না। এরপর রাসূল (ﷺ) প্রসঙ্গতঃ বলেন, কোন কাফির মুসলিমের এবং মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না। যুহরী বলেন 'খাইফ' হচ্ছে 'ওয়াদী' বা উপত্যকা।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইব্ন মাজাহ ও বায়হাকী।)
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইব্ন মাজাহ ও বায়হাকী।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تحالف كنانة وقريش على بنى هاشم وبنى عبد المطلب أن لا يناكحوهم ولا يبايعوهم وحصرهم اياهم فى شعب أبى طالب
عن أسامة ابن زيد قال قلت يا رسول الله أين تنزل غدا فى حجته قال وهل ترك لنا عقيل منزلا ثم قال نحن نازلون غدا إن شاء الله بخيف بنى كنانة يعنى المحصب حيث قاسمت قريش الى الكفر، وذلك أن بنى كنانة حالفت قريشا على بنى هاشم ان لا يناكحوهم ولا يبايعوهم ولا يؤووهم ثم قال عند ذلك لا يرث الكافر المسلم ولا المسلم الكافر قال الزهرى والخيف الوادي
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আবু তালিবের পীড়া, মৃত্যু, দাফন ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি
(৮৪) ইব্ন আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ তালিব রোগাক্রান্ত হলে কুরাইশ (নেতৃবৃন্দ) তাঁর কাছে আগমন করে; ঐ সময় রাসূলুল্লাহও (ﷺ) তাঁর কাছে আসেন সেবা-শুশ্রূষা করার উদ্দেশ্যে। আবূ তালিবের মাথার কাছে একটি আসন ছিল। আবূ জাহল তাতে উপবেশন করলো। তারা বললো, হে আবূ তালিব, আপনার ভাতিজা আমাদের উপাস্যগণের বিরোধিতা করে থাকে। আবূ তালিব বললেন, ভাতিজা, তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে-কারণটা কি? রাসূল (ﷺ) বললেন, চাচাজান, আমি চাই তারা একটি মাত্র কালেমায় (কাজে) ঐকমত্য পোষণ করুক, যার বদৌলতে সমগ্র আরব তাদের অনুসরণ করবে এবং অনারব লোকেরা তাদের জিযয়া দেবে। তিনি বললেন, সেটি কী? রাসূল (ﷺ) বললেন, "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। অতঃপর (এ কথা শুনে) তারা দাঁড়িয়ে গেল এবং বললো, (তুমি কি চাও) আমরা আমাদের উপাস্যগণকে মাত্র একজন উপাস্যে পরিণত করবো? তখন আল্লাহ্ তা'আলা 'সূরা সোয়াদ'-এর কিছু আয়াত নাযিল করেন-
ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ
থেকে
إِنَّ هَذَا لَشَيْءٍ عُجَابٌ.
"সাদ। উপদেশে পরিপূর্ণ আল-কুরআনের শপথ। অবিশ্বাসীরাই বরং অহংকার ও হঠকারিতায় লিপ্ত। তাদের পূর্বে আমি কত জাতিকেই না ধ্বংস করে দিয়েছি। তখন তারা আর্তনাদ করে উঠেছে। কিন্তু তখন আর রক্ষা পাওয়ার অবকাশ ছিল না। এই লোকেরা তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী আবির্ভূত হওয়ায় বিস্মিত হয়েছে। আর অবিশ্বাসীরা বলতে লাগলো, এই ব্যক্তি তো যাদুকর, মিথ্যাবাদী। সে কি সমস্ত উপাস্যের স্থলে একজন মাত্র উপাস্য বানিয়েছিল! এটা নিতান্তই অদ্ভূত ব্যাপার।”
(তিরমিযী ও হাকিম; হাদীসটি সহীহ।)
ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ
থেকে
إِنَّ هَذَا لَشَيْءٍ عُجَابٌ.
"সাদ। উপদেশে পরিপূর্ণ আল-কুরআনের শপথ। অবিশ্বাসীরাই বরং অহংকার ও হঠকারিতায় লিপ্ত। তাদের পূর্বে আমি কত জাতিকেই না ধ্বংস করে দিয়েছি। তখন তারা আর্তনাদ করে উঠেছে। কিন্তু তখন আর রক্ষা পাওয়ার অবকাশ ছিল না। এই লোকেরা তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী আবির্ভূত হওয়ায় বিস্মিত হয়েছে। আর অবিশ্বাসীরা বলতে লাগলো, এই ব্যক্তি তো যাদুকর, মিথ্যাবাদী। সে কি সমস্ত উপাস্যের স্থলে একজন মাত্র উপাস্য বানিয়েছিল! এটা নিতান্তই অদ্ভূত ব্যাপার।”
(তিরমিযী ও হাকিম; হাদীসটি সহীহ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مرض أبي طالب ووفاته ودفنه وما ورد فيه
عن ابن عباس قال مرض أبو طالب فأتته قريش وأتاه رسول الله صلى الله عليه وسلم يعوده وعند رأسه مقعد رجل، فقام أبو جهل فقعد فيه فقالوا إن ابن اخيك يقع فى آلهتنا، قال ما شأن قومك يشكونك قال يا عم أريدهم على كلمة واحدة تدين لهم بها العرب وتؤدى العجم اليهم الجزية، قال ما هى؟ قال لا إله إلا الله: فقاموا فقالوا أجعل الآلهة الها واحدًا: قال ونزل {ص والقرآن ذى الذكر} فقرأ حتى بلغ {ان هذا لشئ عجاب} قال عبد الله قال ابى وحدثنا ابو اسامة وحدثنا الأعمش ثنا عباد فذكر نحوه، وقال ابى قال الأشجعى يحيى بن عباد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আবু তালিবের পীড়া, মৃত্যু, দাফন ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি
(৮৫) আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর চাচাকে (আবূ তালিবকে মৃত্যুর সময়) বলেছিলেন, আপনি বলুন- “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ"। আমি কিয়ামতের দিন আপনার এই উচ্চারণের বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করবো। আবূ তালিব বললেন, যদি কুরাইশরা আমাকে এই বলে তিরস্কার না করতো যে, আবূ তালিব নিছক ভয়ে (মৃত্যুভয়ে) এই কাজ করেছে (ঈমান এনেছে), তাহলে আমি অবশ্যই তোমার সম্মুখে ঐ স্বীকারোক্তি প্রদান করতাম। এসময় আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ
"নিশ্চয় তুমি চাইলেই কাউকে হিদায়াত প্রদান করতে পারবে না।”
(মুসলিম, হাদীসটি সহীহ)
إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ
"নিশ্চয় তুমি চাইলেই কাউকে হিদায়াত প্রদান করতে পারবে না।”
(মুসলিম, হাদীসটি সহীহ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مرض أبي طالب ووفاته ودفنه وما ورد فيه
عن ابى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمه قل لا إله إلا الله اشهد لك بها يوم القيامة، قال لولا أن تعيرنى قريش يقولون انما حمله على ذلك الجزع لأقررت بها عينك فأنزل الله عز وجل {انك لا تهدى من احببت} الآية
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আবু তালিবের পীড়া, মৃত্যু, দাফন ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি
(৮৬) আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবূ তালিবের মৃত্যুর পর আমি নবীর (ﷺ) এর কাছে এসে খবর দিলাম যে, আপনার বৃদ্ধ চাচা (আবু তালিব) মৃত্যুবরণ করেছেন। রাসূল (ﷺ) বললেন, যাও তাঁর দাফনের ব্যবস্থা কর; এবং তারপর আমার কাছে না আসা পর্যন্ত কোন কথা বলবে না। অতঃপর আমি তাঁকে দাফন করে পুনরায় রাসূল (ﷺ) এর কাছে আসলাম। তিনি বললেন, যাও গোসল করে আস এবং আমার কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত কোন কথা বলবে না। অতঃপর আমি গোসল সেরে পুনরায় রাসূলের (ﷺ) কাছে আসলাম। এবার তিনি আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) এমন সব দোয়া করলেন যার দরুন আমি যত খুশী হয়েছিলাম যে, লাল অথবা কালো (অতিশয় মূল্যবান) উট পেলেও তত খুশী হতাম না। রাবী বলেন, এ ঘটনার পর আলী (রা) যখনই কোন মৃতের গোসল করাতেন; তখন তারপর তিনি নিজেও গোসল করে নিতেন।
দ্বিতীয় আরেকটি বর্ণনায় নাজিয়াহ ইব্ন কা'ব আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আলী (রা) নবী (ﷺ) এর কাছে এসে খবর দিলেন যে, আবূ তালিব ইন্তিকাল করেছেন। নবী (ﷺ) তাঁকে নির্দেশ দিলেন, "যাও তাঁকে দাফন কর।" আলী (রা) বললেন, তিনি তো মুশরিক অবস্থায় মারা গেলেন। রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি যাও, দাফনের ব্যবস্থা কর। আমি দাফন সম্পন্ন করে তাঁর কাছে পুনরায় ফিরে আসলে তিনি আমাকে বললেন, গোসল করে নাও।
(নাসাঈ, বাযযার, বাইহাকী)
দ্বিতীয় আরেকটি বর্ণনায় নাজিয়াহ ইব্ন কা'ব আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আলী (রা) নবী (ﷺ) এর কাছে এসে খবর দিলেন যে, আবূ তালিব ইন্তিকাল করেছেন। নবী (ﷺ) তাঁকে নির্দেশ দিলেন, "যাও তাঁকে দাফন কর।" আলী (রা) বললেন, তিনি তো মুশরিক অবস্থায় মারা গেলেন। রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি যাও, দাফনের ব্যবস্থা কর। আমি দাফন সম্পন্ন করে তাঁর কাছে পুনরায় ফিরে আসলে তিনি আমাকে বললেন, গোসল করে নাও।
(নাসাঈ, বাযযার, বাইহাকী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مرض أبي طالب ووفاته ودفنه وما ورد فيه
عن ابى عبد الرحمن السلمى عن على رضي الله عنه قال لما توفى ابو طالب أتيت النبى صلى الله عليه وسلم فقلت ان عمك الشيخ قد مات، قال اذهب فواره ثم لا تحدث شيئًا حتى تأتينى، قال فواريته ثم اتيته قال اذهب فاغتسل ثم لا تحدث شيئًا حتى تأتينى، قال فاغتسلت قم أتيته قال فدعا لى بدعوات ما يسرنى ان لى بها حمر النعم وسودها قال وكان على رضي الله عنه اذا غسَّل ميتا اغتسل (ومن طريق ثان) عن ناجية بن كعب يحدث عن على رضي الله عنه انه اتى النبى صلى الله عليه وسلم فقال ان ابا طالب مات، فقال له النبى صلى الله عليه وسلم اذهب فواره: فقال انه مات مشركا فقال اذهب فواره فلما واريته رجعت إلى النبى صلى الله عليه وسلم فقال لى اغتسل
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আবু তালিবের পীড়া, মৃত্যু, দাফন ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি
(৮৭) আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সম্মুখে (একদা) তাঁর চাচা আবু তালিবের আলোচনা হচ্ছিল। তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত তাঁর (কিছুটা হলেও) উপকারে আসতে পারে। তাকে আগুনের জ্বলন্ত অংগার রাখা হবে, যা তাঁর পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত পৌছাবে এবং তাতেই তাঁর মাথার মগজ ফুটতে থাকবে।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مرض أبي طالب ووفاته ودفنه وما ورد فيه
عن ابى سعيد الخدرى ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر عنده عمه ابو طالب فقال لعله تنفعه شفاعتى يوم القيامة فيجعل فى ضخضاخ من نار يبلغ كعبه يغلى منه دماغه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আবু তালিবের পীড়া, মৃত্যু, দাফন ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি
(৮৮) আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে রাসূল (ﷺ) আপনার চাচা আবু তালিব আপনাকে সুরক্ষা করেছেন (এবং স্নেহ করেছেন, তাতে তাঁর কোন প্রতিদান কি আল্লাহর কাছে পাবেন না?) রাসূল (ﷺ) বললেন, তিনি গায়ের গোড়ালি ডোবে এ পরিমাণ আগুনের গর্তে আছেন। আমি না হলে তার স্থান হত জাহান্নামের তলদেশে।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مرض أبي طالب ووفاته ودفنه وما ورد فيه
عن العباس بن عبد المطلب انه قال يا رسول الله عمك أبو طالب كان يحوطك ويفعل قال انه فى ضخضاخ من نار ولولا انا كان فى الدرك الأسفل من النار
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আবু তালিবের পীড়া, মৃত্যু, দাফন ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি
(৮৯) ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে আযাবের দিক থেকে আবু তালিবের আযাব হবে সবচেয়ে হালকা। তাঁকে আগুনের তৈরি একজোড়া জুতা পরানো হবে, তাতেই তার মাথার মগজ ফুটন্ত হয়ে যাবে।
(মুসলিম ও অন্যান্য)
(মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مرض أبي طالب ووفاته ودفنه وما ورد فيه
عن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اهون أهل النار عذابا ابو طالب وهو متنعل نعلين من نار يغلى منهما دماغه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাদীজার (রা) ওফাতের তারিখ এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক আয়েশা (রা) ও সাওদাকে (রা) বিবাহকরণ
(৯০) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খাদীজার (রা) ওফাতের পর এবং মদীনায় হিজরতের দুই অথবা তিন বছর পূর্বে আমাকে বিবাহ করেন। ঐ সময় আমি সাত বছরের বালিকা।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تاريخ وفاة خديجة وزواجه صلى الله عليه وسلم بعائشة وسودة رضي الله عنهن
عن عائشة رضي الله عنها قال تزوجنى رسول الله صلى الله عليه وسلم متوفى خديجة قبل مخرجه إلى المدينة بسنتين أو ثلاث وأنا بنت سبع سنين
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাদীজার (রা) ওফাতের তারিখ এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক আয়েশা (রা) ও সাওদাকে (রা) বিবাহকরণ
(৯১) আবূ সালামা ও ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত; খাদীজার (রা) ইন্তিকালের পর খাওলা বিনতে হাকীম (উছমান ইব্ন মাযউনের স্ত্রী রা.) রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে এসে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আপনি বিয়ে করবেন না? রাসূল (ﷺ) বললেন, কাকে? খাওলা (রা) বললেন, আপনি চাইলে (একজন) কুমারীকে; আর যদি চান (একজন) প্রাপ্তবয়স্কাকে। রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, কুমারী কে? খাওলা (রা) বললেন, আপনার বিবেচনায় যিনি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়জন সেই আবুবকরের কন্যা আয়েশা। বললেন, প্রাপ্তবয়স্কা কে? খাওলা (রা) বললেন, যাম'আর কন্যা সাওদা, যিনি ইতিমধ্যে আপনার উপর ঈমান এনেছেন এবং আপনার কথা-বার্তা মেনে চলছেন। রাসূল (ﷺ) বললেন, তাহলে যাও, তাঁদের কাছে আমার (বিয়ের) প্রস্তাব উত্থাপন করে দেখ। অতঃপর খাওলা প্রথমে আবূ বকরের (রা) গৃহে প্রবেশ করেন এবং আবু বকরের স্ত্রী উন্মু রুমানকে উদ্দেশ্য করে বরলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তোমার গৃহে কতই না কল্যাণ ও বরকত রেখে দিয়েছেন। তিনি বললেন, সেটা কী? খাওলা (রা) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আয়েশার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি (উম্মু রুমান) বললেন, আবু বকর আসা পর্যন্ত (একটু) অপেক্ষা করুন। আবু বকর (রা) গৃহে আসার পর খাওলা বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা আপনার গৃহে কতই না কল্যাণ ও বরকত রেখে দিয়েছেন, হে আবু বকর। আবু বকর (রা) বললেন, সেটা কী? খাওলা (রা) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আয়েশার বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। আবু বকর (রা) বললেন, আয়েশা কি তাঁর জন্যে বৈধ হবে, সে তো তাঁর ভাতিজী। সুতরাং আমি রাসূলের (ﷺ) কাছে ফিরে গিয়ে সেই বিবরণ পেশ করলাম। তিনি উত্তরে বললেন, তুমি আবু বকরের কাছে ফিরে গিয়ে বল যে, আমি তাঁর (ধর্মীয়) ভাই আর সেও আমার ইসলামী (ধর্মীয়) ভাই। আর তোমার কন্যা আমার জন্য বৈধ হবে। সুতরাং আমি পুনরায় আবূ বকরের (রা) কাছে আগমন করে রাসূলের (ﷺ) বক্তব্য তাঁর কাছে উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, (ঠিক আছে) তুমি একটু অপেক্ষা কর। এই বলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। উম্মু রুমান বললেন, (ব্যাপার হচ্ছে) মুত'ইম ইবন আদী তার ছেলের জন্য আয়েশার প্রস্তাব করেছিল। আল্লাহর শপথ, সে (আবু বকর) কখনো কোন ওয়াদা করে ভঙ্গ করেনা। যাহোক, আবু বকর মুত'ইম ইবন 'আদীর নিকট গমন করলেন, সেখানে তাঁর স্ত্রী ওই যুবকের মাও উপস্থিত ছিল। ওই যুবকের মা বললো, হে আবু কুহাফার বেটা, (আবূ বকর) আপনি সম্ভবতঃ আমাদের ছেলের সাথে আপনার মেয়ের বিয়ের মাধ্যমে তাকে আপনার ধর্মে প্রবেশ করাবেন। আবু বকর (রা) এই কথা শুনে মুত'ইমকে বললেন, এই কি আপনারও কথা, যা সে বললো! মুত'ইম বললো, সে (যুবকের মা) তো এইরূপই বলে থাকে। (অর্থাৎ আবূ বকর (রা) এর বুঝতে বাকী রইল না যে, তারা আয়েশার সাথে বিবাহের ব্যাপারে আগ্রহী নয়)। সুতরাং তিনি সেখান থেকে বের হয়ে এলেন এবং তাঁর মনে তার দেয়া ওয়াদা বিষয়ে যে সংশয় ছিল, তা আল্লাহ্ তা'আলা বিদূরিত করে দিলেন। আবু বকর (রা) গৃহে প্রত্যাবর্তন করে খাওলাকে বললেন, রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) এখানে নিয়ে আসো। খাওলা (রা) রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) ডেকে নিয়ে গেলেন; আর আবূ বকর (রা) আয়েশার সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করে দিলেন। আয়েশা (রা) ঐ সময় ছয় বছরের বালিকা।
অতঃপর খাওলা (রা) পুনরায় বের হলেন এবং সাওদা বিনতে যাম'আর কাছে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বললেন, আপনার গৃহে আল্লাহ্ তা'আলা কতই না কল্যাণ ও বরকত রেখেছেন! তিনি বললেন, সেটা কী? খাওলা (রা) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি রাজি। তবে আপনি আমার পিতার কাছে যান এবং তাকে এই প্রস্তাবের বিষয় খুলে বলুন। তাঁর পিতা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ (বয়সের ভারে ন্যূব্জ)। অধিক বয়সের কারণে তিনি সেই বছর হজ্জও পালন করতে পারেননি। খাওলা (রা) তার কাছে গিয়ে জাহেলিয়াত যুগের প্রথানুযায়ী অভিবাদন করলেন। তিনি বললেন, তুমি কে? উত্তর দিলেন খাওলা বিনতি হাকীম। বললেন, কেন এসেছ? খাওলা (রা) বললেন, আমাকে মুহাম্মদ (ﷺ) ইব্ন আবদুল্লাহ সাওদাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রেরণ করেছেন। সাওদার পিতা বললেন, মহান পাত্র। তা তোমার বান্ধবী (সাওদা) কী বলে? খাওলা বললেন, তিনি প্রস্তাবে রাজী। পিতা বললেন, তাহলে সাওদাকে আমার কাছে ডাক; আমি তাঁকে ডাকলাম। পিতা বললেন, হে বেটি, এই খাওলা বলছে যে, মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ (ﷺ) তোমার বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে তাকে পাঠিয়েছেন। তিনি একজন মহান পাত্র। তুমি কি চাও আমি তার সাথে তোমার বিবাহ দিই? সাওদা (রা) বললেন, হ্যাঁ। বৃদ্ধ বললেন, তবে তাঁকে (মুহাম্মদকে) ডেকে নিয়ে আস। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার কাছে আগমন করলেন এবং বৃদ্ধ পিতা তাঁর সাথে কন্যার বিবাহ সম্পন্ন করে দিলেন। বিয়ের পর সাওদার (রা) ভাই আবদ ইবন্ যামআা হজ্জ শেষে প্রত্যাবর্তন করলেন। সে তার মাথায় মাটি ঢেলে দিতে লাগলো (অর্থাৎ রাসূলের (ﷺ) সাথে বোনের বিবাহের প্রতিবাদে)। কিন্তু তিনি (আবদ) ইসলাম গ্রহণের পর বলেছিলেন, আমি কতই না নির্বোধ ছিলাম যে, আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে সাওদার বিয়ের দিনে আমার মাথায় মাটি নিক্ষেপ করেছিলাম।
আয়েশা (রা) বলেন, অতঃপর আমরা মদীনায় আগমন করলাম। সেখানে বনু হারিছ ইবনল খাযরাজ গোত্রের অধীন 'সুনহ' নামক স্থানে অবতরণ করলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের (সেখানকার) গৃহে প্রবেশ করলেন। তাঁর আগে অনেক আনসারী নারী ও পুরুষ সমবেত হলো। (এমন সময়) আমার মা আমার কাছে আসলেন। আমি তখন দুই খেজুর শাখায় ঝুলন্ত দোলনায় বসে দোল খাচ্ছিলাম)। মা আমাকে দোলনা থেকে নামালেন। আমার চুল ছিল কাঁধ বরাবর। মা তা দুই ভাগে বিভক্ত করে দিলেন এবং পানি জাতীয় কিছু দ্বারা আমার মুখমণ্ডল মুছে দিলেন। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে গৃহপানে অগ্রসর হতে লাগলেন এবং পরিশেষে দরজার কাছে এসে থামলেন। আমি তখনও জোরে নিশ্বাস নিচ্ছিলাম। যখন আমি স্বাভাবিক হলাম, তখন তিনি আমাকে নিয়ে গৃহে প্রবেশ করলেন (আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে) দেখতে পেলাম আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের গৃহের মধ্যে চৌকির উপর উপবিষ্ট। তাঁর কাছে অনেক আনসারী পুরুষ ও মহিলা রয়েছেন। মা আমাকে তাঁর কোলে বসালেন এবং বললেন, এঁরা হচ্ছেন তোমার স্বজন। তাঁদের মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলা তোমায় বরকত দান করুন; আর তোমার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে বরকতময় করুন। নারী-পুরুষ সবাই ভীড় করলেন এবং পরে সবাই বের হয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার সাথে রইলেন-আমাদের সেই গৃহে। (এই অনুষ্ঠানে) কোন উট যবাহ করা হয়নি এমনকি জবাহ্ করা হয়নি কোন ছাগল। ঐ সময় সা'দ ইবন 'উবাদা খাবার ভর্তি তশতরী আমাদের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন তাঁর স্ত্রীগণের সাথে রাত্রিযাপন করতেন, তখন সা'দ (খাবার পাঠানোর) এ কাজটি বরাবরই করতেন। এই সময় আমি নয় বছরের কিশোরী।
(হাইছামী। এই হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন আহমদ।)
অতঃপর খাওলা (রা) পুনরায় বের হলেন এবং সাওদা বিনতে যাম'আর কাছে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বললেন, আপনার গৃহে আল্লাহ্ তা'আলা কতই না কল্যাণ ও বরকত রেখেছেন! তিনি বললেন, সেটা কী? খাওলা (রা) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি রাজি। তবে আপনি আমার পিতার কাছে যান এবং তাকে এই প্রস্তাবের বিষয় খুলে বলুন। তাঁর পিতা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ (বয়সের ভারে ন্যূব্জ)। অধিক বয়সের কারণে তিনি সেই বছর হজ্জও পালন করতে পারেননি। খাওলা (রা) তার কাছে গিয়ে জাহেলিয়াত যুগের প্রথানুযায়ী অভিবাদন করলেন। তিনি বললেন, তুমি কে? উত্তর দিলেন খাওলা বিনতি হাকীম। বললেন, কেন এসেছ? খাওলা (রা) বললেন, আমাকে মুহাম্মদ (ﷺ) ইব্ন আবদুল্লাহ সাওদাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রেরণ করেছেন। সাওদার পিতা বললেন, মহান পাত্র। তা তোমার বান্ধবী (সাওদা) কী বলে? খাওলা বললেন, তিনি প্রস্তাবে রাজী। পিতা বললেন, তাহলে সাওদাকে আমার কাছে ডাক; আমি তাঁকে ডাকলাম। পিতা বললেন, হে বেটি, এই খাওলা বলছে যে, মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ (ﷺ) তোমার বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে তাকে পাঠিয়েছেন। তিনি একজন মহান পাত্র। তুমি কি চাও আমি তার সাথে তোমার বিবাহ দিই? সাওদা (রা) বললেন, হ্যাঁ। বৃদ্ধ বললেন, তবে তাঁকে (মুহাম্মদকে) ডেকে নিয়ে আস। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার কাছে আগমন করলেন এবং বৃদ্ধ পিতা তাঁর সাথে কন্যার বিবাহ সম্পন্ন করে দিলেন। বিয়ের পর সাওদার (রা) ভাই আবদ ইবন্ যামআা হজ্জ শেষে প্রত্যাবর্তন করলেন। সে তার মাথায় মাটি ঢেলে দিতে লাগলো (অর্থাৎ রাসূলের (ﷺ) সাথে বোনের বিবাহের প্রতিবাদে)। কিন্তু তিনি (আবদ) ইসলাম গ্রহণের পর বলেছিলেন, আমি কতই না নির্বোধ ছিলাম যে, আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে সাওদার বিয়ের দিনে আমার মাথায় মাটি নিক্ষেপ করেছিলাম।
আয়েশা (রা) বলেন, অতঃপর আমরা মদীনায় আগমন করলাম। সেখানে বনু হারিছ ইবনল খাযরাজ গোত্রের অধীন 'সুনহ' নামক স্থানে অবতরণ করলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের (সেখানকার) গৃহে প্রবেশ করলেন। তাঁর আগে অনেক আনসারী নারী ও পুরুষ সমবেত হলো। (এমন সময়) আমার মা আমার কাছে আসলেন। আমি তখন দুই খেজুর শাখায় ঝুলন্ত দোলনায় বসে দোল খাচ্ছিলাম)। মা আমাকে দোলনা থেকে নামালেন। আমার চুল ছিল কাঁধ বরাবর। মা তা দুই ভাগে বিভক্ত করে দিলেন এবং পানি জাতীয় কিছু দ্বারা আমার মুখমণ্ডল মুছে দিলেন। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে গৃহপানে অগ্রসর হতে লাগলেন এবং পরিশেষে দরজার কাছে এসে থামলেন। আমি তখনও জোরে নিশ্বাস নিচ্ছিলাম। যখন আমি স্বাভাবিক হলাম, তখন তিনি আমাকে নিয়ে গৃহে প্রবেশ করলেন (আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে) দেখতে পেলাম আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের গৃহের মধ্যে চৌকির উপর উপবিষ্ট। তাঁর কাছে অনেক আনসারী পুরুষ ও মহিলা রয়েছেন। মা আমাকে তাঁর কোলে বসালেন এবং বললেন, এঁরা হচ্ছেন তোমার স্বজন। তাঁদের মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলা তোমায় বরকত দান করুন; আর তোমার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে বরকতময় করুন। নারী-পুরুষ সবাই ভীড় করলেন এবং পরে সবাই বের হয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার সাথে রইলেন-আমাদের সেই গৃহে। (এই অনুষ্ঠানে) কোন উট যবাহ করা হয়নি এমনকি জবাহ্ করা হয়নি কোন ছাগল। ঐ সময় সা'দ ইবন 'উবাদা খাবার ভর্তি তশতরী আমাদের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন তাঁর স্ত্রীগণের সাথে রাত্রিযাপন করতেন, তখন সা'দ (খাবার পাঠানোর) এ কাজটি বরাবরই করতেন। এই সময় আমি নয় বছরের কিশোরী।
(হাইছামী। এই হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন আহমদ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تاريخ وفاة خديجة وزواجه صلى الله عليه وسلم بعائشة وسودة رضي الله عنهن
حدثنا أبو سلمة ويحيى قال لما هلكت خديجة جاءت بنت حكم امرأة عثمان بن مظعون قالت يا رسول الله ألا تزوَّج؟ قال من؟ قالت إن شئت بكرًا وإن شئت ثيبا، قال فمن البكر؟ قالت ابنة أحب خلق الله عز وجل اليك عائشة بنت أبى بكر، قال ومن الثيب؟ قالت سودة ابنة زمعة قد آمنت بك واتبعتك على ما تقول قال فاذهبى فاذكريهما على، فدخلت بيت أبى بكر فقالت يا أم رومان ماذا أدخل الله عليكم من الخير والبركة، قالت وما ذاك؟ قالت أرسلنى رسول الله صلى الله عليه وسلم أخطب عليه عائشة، قالت انتظرى أبا بكر حتى يأتى فجاء أبو بكر فقالت يا أبا بكر ماذا أدخل الله عليكم من الخير والبركة؟ قال وما ذاك، قالت أرسلنى رسول الله صلى الله عليه وسلم أخطب عليه عائشة، قال وهل تصلح له انما هى ابنة أخيه، فرجعت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرت له ذلك، قال ارجعى اليه فقولى له أنا أخوك وأنت أخى فى الاسلام وابنتك تصلح لى، فرجعت فذكرت ذلك له قال انتظرى وخرج، قالت أم رومان ان مطعم بن عدى قد كان ذكرها على ابنه فوالله ما وعد وعدًا قط فأخلفه لأبى بكر، فدخل أبو بكر رضي الله عنه على مطعم بن عدى وعنده امرأته أم الفتى، فقالت يا ابن أبى قحافة لعلك مصب صاحبنا مدخله فى دينك الذي أنت عليه بسنتين أو ثلاث وأنا بنت سبع سنين إن تزوج البك قال أبو بكر للمطعم بن عدى اقول هذه تقول، قال انها تقول ذلك فخرج من عنده وقد اذهب الله عز وجل ما كان فى نفسه من عدته التى وعده، فرجع فقال ادعى لى رسول الله صلى الله عليه وسلم فدعته فزوجها اياه وعائشة يومئذ بنت ست سنين، ثم خرجت فدخلت على سودة بنت زمعة فقالت ماذا أدخل الله عز وجل عليك من الخير والبركة؟ قالت وما ذاك؟ قالت أرسلنى رسول الله صلى الله عليه وسلم اخطبك عليه، قالت وددت: ادخلى إلى أبى فاذكرى ذاك له: وكان شيخا كبيرًا قد ادركه السن قد تخلف عن الحج فدخلت عليه فحييته بتحية الجاهلية، فقال من هذه؟ فقالت خولة بنت حكيم، قال فما شأنك؟ قالت أرسلنى محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم اخطب عليه سودة، قال كفء كريم، ماذا تقول صاحبتك؟ قالت تحب ذاك، قال ادعها الى فدعيتها قال أى بنية إن هذه تزعم أن محمد بن عبد الله بن عبد المطلب قد أرسل يخطبك وهو كفء كريم اتحبين أن أزوجك به؟ قالت نعم قال أدعيه لى فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم اليه فزوجها اياه، فجاءها أخوها عبد بن زمعة من الحج فجعل يحثى فى رأسه التراب فقال بعد أن أسلم لعمرك انى لسفيه يوم أحثى فى رأسى التراب ان تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم سودة بنت زمعة قالت عائشة فقدمنا المدينة فنزلنا فى بنى الحارث بن الخزرج في السُّنح قالت فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخل بيتنا واجتمع اليه رجال من الأنصار ونساء فجاءتنى أمى وانى لفى ارجوحة بين عذقين ترجح بى فانزلتنى من الأرجوحة ولى جميمة ففرقتها ومسحت وجهى بشى من ماء ثم أقبلت تقردنى حتى وقفت بى عند الباب وانى لانهج حتى سكن من نفسى ثم دخلت بى فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم جالس على سرير فى بيتنا وعنده رجال ونساء من الأنصار فاجلستنى فى حجرة ثم قالت هؤلاء أهلك فبارك الله لك فيهم وبارك لهم فيك، فوثب الرجال والنساء فخرجوا وبنى بى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى بيتنا ما نحرت على جزور ولا ذبحت على شاة حتى أرسل الينا يعد بن عبادة بجفنة كان يرسل بها الى رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا دار الى نسائه وأنا يومئذ بنت تسع سنين
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীর (ﷺ) উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীনি ও তাকে সত্য বলে প্রতিপন্নকারিনী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতি খুয়াইলিদ (রা) এর মর্যাদা
(৯২) আবূ যুর'আ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাকে (রা) বলতে শুনেছি, একদা জিব্রীল (আ) রাসূল (ﷺ) এর নিকট আগমন করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), ঐ যে খাদীজা আসছেন, তাঁর হাতে রয়েছে একটি পাত্র যার মধ্যে রয়েছে ব্যঞ্জন অথবা খাবার অথবা পানীয়। (যাহোক) তিনি আপনার কাছে আসলে পরে তাঁর রবের ও আমার পক্ষ থেকে তাঁর উপর সালাম পাঠ করবেন; এবং তাঁকে জান্নাতে এমন একটি আলয়ের সুসংবাদ প্রদান করবেন, যা স্বচ্ছ মণি-মুক্তায় নির্মিত এবং যেখানে কোন কোলাহল ও কস্ট-ক্লেশ থাকবে না।
(বুখারী, মুসলিম, তাবারানী ও তাইলাসী)
(বুখারী, মুসলিম, তাবারানী ও তাইলাসী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى فضل أم المؤمنين خديجة بنت خويلد
عن أبى زرعة قال سمعت أبا هريرة يقول اتى جبريل النبى صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هذه خديجة قد أتتك باناء معها فيه ادام أو طعام أو شراب فاذا أتتك فاقرأ عليها السلام من ربها ومنى وبشرها ببيت فى الجنة من قصب لا صخب فيه ولا نصب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীর (ﷺ) উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীনি ও তাকে সত্য বলে প্রতিপন্নকারিনী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতি খুয়াইলিদ (রা) এর মর্যাদা
(৯৩) আবদুল্লাহ ইবন জা'ফর ইব্ন আবী তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আমি নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি যেন খাদীজাকে জান্নাতের এমন একটি আলয়ের সুসংবাদ জ্ঞাপন করি যা স্বচ্ছ মণি-মুক্তায় নির্মিত এবং যা হবে কোলাহল ও কষ্টমুক্ত।
(হাদীসটি গরীব)
(হাদীসটি গরীব)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى فضل أم المؤمنين خديجة بنت خويلد
عن عبد الله بن جعفر بن أبى طالب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أمرت ان ابشر خديجة ببيت من قصب لا صخب ولا نصب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীর (ﷺ) উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীনি ও তাকে সত্য বলে প্রতিপন্নকারিনী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতি খুয়াইলিদ (রা) এর মর্যাদা
(৯৪) ইসমা'ঈল ইব্ন আবু খালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবী আবদুল্লাহ ইব্ন আবু আউফাকে (রা) জিজ্ঞেস করেছিলাম- রাসূল (ﷺ) কি খাদীজাকে (রা) সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। তাকে জান্নাতে (তাঁর জন্যে) স্বচ্ছ মণি-মুক্তার একটি এমন আলয়ের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, যেখানে কোন কোলাহল ও কষ্ট থাকবে না। ই'য়ালা বলেন- একবার বলেছিলেন صَخَبَ অথবা لَا لَغوَ فِيْهِ وَلَا نَصَبَ ।
(হাদীসটি গরীব)
(হাদীসটি গরীব)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى فضل أم المؤمنين خديجة بنت خويلد
عن اسماعيل (يعنى ابن أبى خالد) قال قلت لعبد الله بن أبى أوفى صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم أكان رسول الله صلى الله عليه وسلم بشر خديجة رضي الله عنها؟ قال نعم بشرها ببيت فى الجنه من قصب لا صخب فيه ولا نصب، قال يعلى وقال مرة لا صخب أولا لغو فيه ولا نصب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীর (ﷺ) উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীনি ও তাকে সত্য বলে প্রতিপন্নকারিনী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতি খুয়াইলিদ (রা) এর মর্যাদা
(৯৫) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কোন স্ত্রীলোকের প্রতি এত ঈর্ষান্বিত হইনি, যেমনটি আমি হয়েছি খাদীজার (রা) উপর। অথচ তিনি আমার বিয়ের তিন বছর পূর্বে ইন্তিকাল করেছেন। ঈর্ষার কারণ, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর কথা প্রায়ই উল্লেখ করতেন (যা ছিল খাদীজার প্রতি তাঁর গভীর ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ)। (তাছাড়া) রাসূলকে (ﷺ) তাঁর রব্ব এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তিনি যেন খাদীজার জন্য জান্নাতে স্বচ্ছ মনি-মুক্তায় নির্মিত একটি বিশেষ নিবাসের সুসংবাদ প্রদান করেন। উপরন্ত, কোন ছাগল জবাই করা হলে এর অংশবিশেষ খাদীজার বান্ধবীদের জন্য রাসূল (ﷺ) হাদিয়া হিসেবে প্রেরণ করতেন।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ ও অন্যান্য।)
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ ও অন্যান্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى فضل أم المؤمنين خديجة بنت خويلد
عن عائشة رضي الله عنها قالت ما غرت على امرأة ما غرت على خديجة، ولقد هلكت قبل أن يتزوجنى بثلاث سنين لما كنت أسمعه يذكرها ولقد أمره ربه أن يبشرها ببيت من قصب فى الجنة: وان كان ليذبح الشاة ثم يهدى فى خلتها منها
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীর (ﷺ) উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীনি ও তাকে সত্য বলে প্রতিপন্নকারিনী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতি খুয়াইলিদ (রা) এর মর্যাদা
(৯৬) ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মাটিতে চারটি রেখা অংকন করেন এবং জিজ্ঞেস করেন- তোমরা কি জান এটি কী? উপস্থিত সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) সর্বোত্তম জ্ঞাতা। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, জান্নাতে মহিলাদের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছেন- খাদীজা বিনতি খুয়াইলিদ, ফাতেমা বিনতি মুহাম্মদ (ﷺ), ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া বিনতি মুযাহিম ও মারইয়াম বিনতি ইমরান (রা)।
(এই হাদীসের ব্যাখ্যা, সনদ ও বরাত 'মারইয়াম'-এর মর্যাদা বিষয়ক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।)
(এই হাদীসের ব্যাখ্যা, সনদ ও বরাত 'মারইয়াম'-এর মর্যাদা বিষয়ক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى فضل أم المؤمنين خديجة بنت خويلد
عن ابن عباس قال خط رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الأرض أربعة خطوط قال تدرون ما هذا؟ فقالوا الله ورسوله أعلم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أفضل نساء أهل الجنة خديجة بنت خويلد. وفاطمة بنت محمد صلى الله عليه وسلم. وآسية بنت مزاحم امرأة فرعون ومريم بنت عمران رضي الله عنهن
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীর (ﷺ) উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীনি ও তাকে সত্য বলে প্রতিপন্নকারিনী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতি খুয়াইলিদ (রা) এর মর্যাদা
(৯৭) আনাস ইবন মালিক (রা) নবী (ﷺ) থেকে এই মর্মে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(এই হাদীসের সনদ, ব্যাখ্যা ও তাখরীজ উপর্যুক্ত পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।)
(এই হাদীসের সনদ, ব্যাখ্যা ও তাখরীজ উপর্যুক্ত পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى فضل أم المؤمنين خديجة بنت خويلد
عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم بمعناه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীর (ﷺ) উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীনি ও তাকে সত্য বলে প্রতিপন্নকারিনী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতি খুয়াইলিদ (রা) এর মর্যাদা
(৯৮) আলী (রা) বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, সর্বোত্তম নারী হলেন মারইয়াম বিনতে ইমরান এবং খাদিজা (রা)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى فضل أم المؤمنين خديجة بنت خويلد
عن على رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول خير نسائها مريم بنت عمران وخير نسائها خديجة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীর (ﷺ) উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীনি ও তাকে সত্য বলে প্রতিপন্নকারিনী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতি খুয়াইলিদ (রা) এর মর্যাদা
(৯৯) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন খাদীজা বিষয়ে কথা বলতেন, তখন তাঁর প্রশংসা করতেন এবং খুব সুন্দর পন্থায় প্রশংসা করতেন। আয়শা (রা) বলেন, এমনি একদিন (খাদীজার প্রশংসা শুনে) ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠলাম এবং রাসূলকে (ﷺ) বললাম, আপনি একজন দন্তবিহীন থুরথুরে বৃদ্ধার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর পরিবর্তে আপনাকে আরো উত্তম বদলা দিয়েছেন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর চাইতে উত্তম বদলা দেননি (তিনি ছিলেন অনুপমা)। তিনি আমার প্রতি ঈমান এনেছেন সেই সময়, যখন লোকজন আমাকে অস্বীকার করেছে। তিনি আমাকে সত্যায়ন করেছেন সেই সময়, যখন লোকজন আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। তিনি আমাকে তার অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন, যখন লোকজন আমাকে বঞ্চিত করেছে। আর আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর গর্ভেই আমার সন্তানাদি দান করেছেন, অন্য কোন স্ত্রীর গর্ভে নয়।
আয়েশা (রা) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে- তিনি বলেন, একদিন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) খাদীজা প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন এবং তাঁর খুব বেশী প্রশংসা করতে থাকেন। তখন স্ত্রীলোকদের স্বভাবগত একধরনের ঈর্ষা আমাকে পেয়ে বসে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) আল্লাহ্ তা'আলা আপনার কাছ থেকে কুরাইশ বংশীয়া একজন রূপ-লাবণ্য ও দন্তবিহীন বৃদ্ধাকে উঠিয়ে নিয়েছেন। (আমার কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুখমণ্ডল এমন পরিবর্তিত হয়ে গেল, যেরূপ পরিবর্তন কেবল ওহী নাযিল হওয়ার সময় এবং আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখার সময়ই (বিপদের আশংকায়) আমি দেখেছি। অন্য কোন সময় নয়। মেঘের ঘনঘটা দেখলে তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়তেন-যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি নিশ্চিত হতেন যে, আসন্ন মেঘমালা রহমতের লক্ষণ, না আযাবের।
(বুখারী ও মুসলিম হাদীসটির অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন। এছাড়া হাইছামী, আহমদ, তাবরানীও উল্লেখ করেছেন।)
আয়েশা (রা) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে- তিনি বলেন, একদিন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) খাদীজা প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন এবং তাঁর খুব বেশী প্রশংসা করতে থাকেন। তখন স্ত্রীলোকদের স্বভাবগত একধরনের ঈর্ষা আমাকে পেয়ে বসে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) আল্লাহ্ তা'আলা আপনার কাছ থেকে কুরাইশ বংশীয়া একজন রূপ-লাবণ্য ও দন্তবিহীন বৃদ্ধাকে উঠিয়ে নিয়েছেন। (আমার কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুখমণ্ডল এমন পরিবর্তিত হয়ে গেল, যেরূপ পরিবর্তন কেবল ওহী নাযিল হওয়ার সময় এবং আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখার সময়ই (বিপদের আশংকায়) আমি দেখেছি। অন্য কোন সময় নয়। মেঘের ঘনঘটা দেখলে তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়তেন-যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি নিশ্চিত হতেন যে, আসন্ন মেঘমালা রহমতের লক্ষণ, না আযাবের।
(বুখারী ও মুসলিম হাদীসটির অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন। এছাড়া হাইছামী, আহমদ, তাবরানীও উল্লেখ করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى فضل أم المؤمنين خديجة بنت خويلد
عن عائشة رضي الله عنها قالت كان النبى صلى الله عليه وسلم اذا ذكر خديجة اثنى عليها فاحسن الثناء، قالت فغرت يوما فقلت ما اكثر ما تذكرها حمراء الشدق قد أبدلك الله عز وجل بها خيرًا منها، قال ما أبدلنى الله عز وجل خيرًا منها، قد آمنت بى إذ كفر بى الناس، وصدقتنى إذ كذبنى الناس، وواستنى بمالها إذ حرمنى الناس، ورزقنى الله عز وجل ولدها إذ حرمنى أولاد النساء (وعنها من طريق ثان) قالت ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما خديجة فأطنب فى الثناء عليها فادركنى ما يدرك النساء من الغيرة فقلت لقد أعقبك الله يا رسول الله من عجوز من عجائز قريش حمراء الشدقين، قالت فتغير وجه رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تغيرا لم أره تغير عند شئ قط إلا عند نزول الوحى وعند المخيلة حتى يعلم رحمة أو عذاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর পর কুরাইশের নির্যাতনের ভয়াবহতায় অতিষ্ঠ হয়ে রাসূল (ﷺ)-এর তায়েফ যাত্রা এবং সেখানে তাঁর প্রতি তায়েফবাসীদের জঘন্যতম আচরণ
(১০০) আবদুর রহমান ইবন্ খালিদ আল 'আদওয়ানী থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেন- রাবী রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) তায়েফের হাক্বীক গোত্রের পূর্বপাশে ধনুক অথবা লাঠির উপর ভর দিয়ে দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখেছেন। এটা সেই সময়, যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাহায্য সহযোগিতার আশায় তাদের কাছে গিয়েছিলেন। রাবী বলেন, আমি শুনতে পাচ্ছিলাম, তিনি সূরা وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত পাঠ করছিলেন। আমি জাহেলিয়াতের ঐ সময় সেই সূরাটি শুনে মুখস্থ করে ফেলেছিলাম, অথচ আমি তখনও একজন মুশরিক। ইসলাম গ্রহণ করার পরও আমি সেই সুরাটি (মুখস্থ) পাঠ করেছি। (যাহোক) একটু পর ছাক্বীফ গোত্রের লোকেরা আমাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস কররো, ঐ লোকটির কাছ থেকে কী শুনলে? তখন আমি সেই সুরাটি তাদেরকে পাঠ করে শুনালাম। কুরাইশদের কিছুসংখ্যক লোক যারা তাদের সাথে উপস্থিত ছিল, তারা বললো, আমাদের সহচর (বা স্বগোত্রীয়) সম্পর্কে আমরাই সবচেয়ে বেশী অবগত। সে যা বলছে, তা যদি আমরা সত্য মনে করতাম, তাহলে আমরা অবশ্যই তার অনুসরণ করতাম।
(আহমদ, সনদ উত্তম)
(আহমদ, সনদ উত্তম)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في ذهابه صلى الله عليه وسلم إلى الطائف لما اشتد عليه ايذاء قريش بعد موت عمه أبى طالب مستنجدًا وردهم عليه أسوأ ردّ
عن عبد الرحمن بن خالد العدوانى عن ابيه انه أبصر رسول الله صلى الله عليه وسلم في مشرق ثقيف وهو قائم على قوس أو عصا حين أتاهم يبتغى عندهم النصر، قال فسمعته يقرأ أو السماء والطارق حتى ختمها، قال فوعيتها فى الجاهلية وأنا مشرك ثم قرأتها فى الاسلام، قال فدعتنى ثقيف فقالوا ماذا سمعت من هذا الرجل؟ فقرأتها عليهم، فقال من معهم من قريش نحن أعلم بصاحبنا، لو كنا نعلم ما يقول حقا لتبعناه
তাহকীক: