মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৫৪ টি
হাদীস নং: ১০১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর পর কুরাইশের নির্যাতনের ভয়াবহতায় অতিষ্ঠ হয়ে রাসূল (ﷺ)-এর তায়েফ যাত্রা এবং সেখানে তাঁর প্রতি তায়েফবাসীদের জঘন্যতম আচরণ
(১০১) জুনদুব আল-বাজালী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর অঙ্গুলীতে কোন কিছু দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হন; জাফর (এ হাদীসের জনৈক রাবী) বলেন, পাথর দ্বারা (আঘাতপ্রাপ্ত হন) এবং আঘাত থেকে রক্তপাত হতে থাকে। (এ ঘটনা তায়েফে অবস্থানকালীন সময়)। তখন রাসূল (ﷺ) বলেন, هَلْ أَنْتِ إِلَّا إِصْبَعٌ دَمِيْتِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا لَقِيْتِ অর্থাৎ, “তুমি একটি অঙ্গুলী মাত্র, যে রক্তাক্ত হয়েছে। আর তুমি যে কষ্ট পেয়েছ তা আল্লাহর রাস্তায়ই পেয়েছ।"
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী। হাদীসটি গরীব।)
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী। হাদীসটি গরীব।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في ذهابه صلى الله عليه وسلم إلى الطائف لما اشتد عليه ايذاء قريش بعد موت عمه أبى طالب مستنجدًا وردهم عليه أسوأ ردّ
عند جندب البجلى قال أصاب أصبع النبى صلى الله عليه وسلم بشئ وقال جعفر (احد الرواة) حجر فدميت فقال (هل أنت الا اصبع دميت. وفي سبيل الله ما لقيت)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ইসরা ও মি'রাজের ঘটনা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ : এ সম্পর্কে আনাস ইবন মালিক ইবন সা'সা'আ (রা)-এর বর্ণিত ঘটনাসংক্রান্ত বর্ণনা
পরিচ্ছেদ : এ সম্পর্কে আনাস ইবন মালিক ইবন সা'সা'আ (রা)-এর বর্ণিত ঘটনাসংক্রান্ত বর্ণনা
(১০২) কাতাদাহ (রা) থেকে বর্ণিত, আনাস ইবন মালিক (রা) জানিয়েছেন যে, মালিক ইবন সা'সা'আ (রা) জানিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) তাদেরকে তাঁর ইসরা-রজনী সম্পর্কে এইরূপ জানিয়েছেন, আমি কা'বা শরীফের হাতীমে অবস্থান করছিলাম। অবশ্য কাতাদাহ কখনও কখনও বলেছেন যে, হিজরে (হাতীমে) শায়িত ছিলাম। এমন সময় একজন আগন্তুক (জিব্রীল আ) এলেন এবং তাঁর সঙ্গীকে (মিকাইল আ.) যে ছিল তিনজনের মাঝখানে, কি যেন বলতে লাগলেন। তিনি (মিকাইল আ) এসে (আমাকে) ফেঁড়ে ফেললেন। রাবী বলেন, আমি কাতাদাহকে বলতে শুনেছি, "অতঃপর তিনি এখান থেকে এইখান পর্যন্ত ফেঁড়ে ফেললেন।" কাতাদাহ বলেন, আমি জারাদকে (জনৈক বর্ণনাকারী) জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি আমার পাশেই ছিলেন, "এইখান থেকে এইখান পর্যন্ত” এর অর্থ কী! তিনি বলেছিলেন, কণ্ঠনালীর গোড়া থেকে বক্ষদেশের শেষ পর্যন্ত (বক্ষে লোম গজানোর স্থান) অবশ্য তিনি এও বলে থাকতে পারেন مِنْ قَصهِ إِلَى شِعْرَتِهِ (যাহোক) তাঁরা আমার (বক্ষ বিদারণ করে) কালব (হৃদয়) বের করে নিয়ে আসেন। এরপর সোনার তৈরি তশতরী আনা হয়; তা ছিল ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ। তাঁরা আমার হৃদয় ধৌত করলেন (এবং তাতে ঈমান ও হিকমত ভরে দিলেন), অতঃপর তা যথাস্থানে পুনস্থাপিত করা হলো। এরপর খচ্চর ও গাধার মাঝামাঝি আকারের একটি প্রাণী আনা হলো। জারাদ বলেন, হে আবু হামযা! সেটি ছিল 'বুরাক'? তিনি বলেন, হ্যাঁ। সে প্রাণীটি তার প্রতিটি কদম রাখত তার দৃষ্টির শেষ সীমানায়। (অর্থাৎ অতিশয় দ্রুতগতি সম্পন্ন)। আমাকে সেই জন্তুর উপর সওয়ার করানো হয়। এরপর জিব্রীল (আ) আমাকে নিয়ে (উপরের দিকে) অগ্রসর হতে থকেন। একপর্যাযে দুনিয়ার আকাশে (প্রথম আকাশ) পৌঁছান এবং ফটক খুলতে বলেন। জিজ্ঞাসা করা হলো- আপনি কে? উত্তর হলো আমি জিব্রীল। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো আপনার সাথে কে? উত্তর দিলেন- মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হরো- তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? জিব্রীল বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম, কতই না মর্যাদাবান আগন্তুক তিনি। ফটক খুলে দেওয়া হলো। সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম আদমকে (আ)। জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি আপনার পিতা আদম, তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুসন্তান ও সুযোগ্য নবীকে স্বাগতম। এরপর জিব্রীল (আ) (আমাকে নিয়ে) উপরের দিকে উঠতে লাগলেন এবং দ্বিতীয় আকাশে পৌছালেন। ফটক উন্মুক্ত করতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? উত্তর জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন হ্যাঁ। বলা হলো, তাঁকে সুস্বাগতম, কতই সম্মানিত আগন্তুক আগমন করেছেন। ফটক খুলে দেওয়া হলো। সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম দুই খালাতো ভাই ইয়াহইয়া ও 'ঈসাকে (আ)। জিব্রীল পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, এঁরা হচ্ছেন ইয়াহইয়া ও ঈসা। এঁদেরকে সালাম করুন। আমি সালাম করলাম। তাঁরা সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুযোগ্য ভাই ও সুযোগ্য নবীকে স্বাগতম। এরপর জিব্রীল (আ) উপরের দিকে উঠতে থাকলেন এবং তৃতীয় আকাশে পৌঁছে ফটক খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (এবার) বলা হলো তাঁকে স্বাগতম, কতই না মর্যাদাবান আগন্তুক আগমন করেছে। ফটক খুলে দেওয়া হলো। সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম ইউসুফকে (আ)। জিব্রীল (আ) বললেন ইনি হচ্ছেন ইউসুফ, তাঁকে সালাম করুন। আমি সালাম করলাম, তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুযোগ্য ভ্রাতা ও সুযোগ্য নবীকে স্বাগতম। জিব্রীল আবারও উপরের দিকে উঠতে থাকলেন এবং চতুর্থ আকাশে আরোহণ করে ফটক খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম। কতই না সম্মানিত আগন্তুক তিনি। ফটক খুলে দেওয়া হলো। সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম ইদ্রিসকে (আ)। জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি হচ্ছেন ইদ্রিস, তাঁকে সালাম করুন। আমি সালাম করলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুযোগ্য ভাই ও সুযোগ্য নবীকে স্বাগতম। আবারও জিব্রীল (আ) উপরের দিকে উঠতে লাগলেন এবং পঞ্চম আকাশে আরোহণ করে ফটক খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম। কতই না সম্মানিত আগন্তুক আগমন করেছেন। ফটক খুলে দেওয়া হলো। আমি সেখানে প্রবেশ করে হারুনকে (আ) দেখতে পেলাম। জিব্রীল (আ) বললেন ইনি হচ্ছেন- হারূন। এঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুযোগ্য ভাই ও সুযোগ্য নবী তোমায় স্বাগতম। জিব্রীল আবারও (আ) আবারো উপরের দিকে উঠতে লাগলেন এবং ষষ্ঠ আকাশে আরোহণ করলেন, ফটক খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? বলেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম, কতই না সম্মানিত আগন্তুক এসেছেন। ফটক খুলে দেওয়া হলো। আমি প্রবেশ করেই দেখতে পেলাম মূসাকে (আ)। জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি হচ্ছেন মূসা। এঁকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর প্রদান করলেন এবং বললেন, স্বাগতম সুযোগ্য ভাই ও সুযোগ্য নবীকে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমি যখন তাঁকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। বলা হলো, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, কাঁদছি এজন্য যে, এই যে, যুবকটি (মুহাম্মদ) তাঁকে পাঠানো হলো আমার পরে, অথচ তাঁর উম্মতের যে সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে, তা আমার উম্মতের জান্নাতে প্রবেশকারীর সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশী। অতঃপর জিব্রীল (আ) আবারো উপরের দিকে উঠতে থাকলেন এবং সপ্তম আকাশে এসে (থামলেন) এবং ফটক খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো তাঁকে স্বাগতম। কতই না সম্মানিত আগন্তুক আগমন করেছেন। ফটক খুলে দেওয়া হলো। আমি সেখানে প্রবেশ করেই দেখতে পেলাম ইব্রাহীমকে (আ)। জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি ইব্রাহীম (আ)। তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুযোগ্য পুত্র ও সুযোগ্য নবীকে স্বাগতম। এরপর আমাকে উত্থিত করা হলো সিদ্রাতুল মুনতাহায়। সেই বৃক্ষের ফল হাজার (ইযামানের একটি অঞ্চল)-রে মটকার মত। আর তার পাতা হাতির কানের মত।
জিব্রীল (আ) বললেন, এটি হচ্ছে- সিদ্রাতুল মুনতাহা। সেখানে চারটি ঝর্ণা দেখা গেল। তন্মধ্যে দু'টি সুপ্ত আর দু'টি ব্যক্ত। আমি বললাম এটি কী হে জিব্রীল? তিনি বললেন, সুপ্ত দুটি ঝর্ণা হচ্ছে জান্নাতের, প্রকাশমান দু'টি হচ্ছে নীল ও ফুরাত। এরপর আমাকে 'বাইতুল মা'মূর'-এ উত্থিত করা হলো। ক্বাতাদাহ বলেন এবং আবু হুরাইরাহ (রা)-এর বর্ণনায় হাসান আমাদের বলেছেন যে, নবী (ﷺ) বাইতুল মা'মুর দেখেছেন। সেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফিরিশতা প্রবেশ করেন কিন্তু তাঁরা কখনই আর সেখানে ফিরে আসেন না।
যাহোক, রাবী পুনরায় আনাসের (রা) হাদীসে ফিরে আসেন। রাসূল (ﷺ) বলেন, অতঃপর আমাকে একপাত্র শরাব (মদ্য), একপাত্র দুধ এবং একপাত্র মধু দেওয়া হলো। আমি দুধের পাত্র গ্রহণ করলাম (এবং কিছু দুধ পান করলাম)। জিব্রীল (আ) বললেন, এটিই ফিতরাত (স্বভাব-ধর্ম তথা ইসলামের লক্ষণ)। আপনি ও আপনার উম্মত এই ফিতরতের উপরই প্রতিষ্ঠিত আছেন। এরপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়। রাসূল (ﷺ) বলেন, এরপর আমি মূসার (আ) নিকট ফিরে আসি। তিনি বললেন, আপনাকে কী নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে? বললাম, প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। এ বিষয়ে আপনার পূর্বে মানুষকে আমি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি প্রভুর কাছে ফিরে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি প্রভুর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আমি পুনরায় মুসার (আ) কাছে ফিরে আসলে জিজ্ঞেস করলেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে? বললাম, চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত প্রতিদিন। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি মানুষকে আপনার পূর্বে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি আবার প্রভুর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি আরো দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। মূসার কছে (আ) ফিরে এলাম। মূসা (আ) জিজ্ঞেস করলেন কী নির্দেশ আপনাকে প্রদান করা হলো? আমি বললাম, দৈনিক ত্রিশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন আপনার উম্মত ত্রিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনার রবের নিকট ফিরে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি ফিরে গেলাম। আমার উপর থেকে তিনি আরো দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আবার মূসার (আ) কাছে ফিরে এলাম। তিনি বললেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হলো আপনাকে? আমি বললাম, বিশ ওয়াক্ত সালাত প্রতিদিন। মূসা (আ) বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক বিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেছি, আর বনী ইসরাঈলকে দিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি রবের কাছে তখন আমাকে দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেওয়া হলো। মূসার (আ) আবারও ফিরে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন আপনাকে কী নির্দেশ প্রদান করা হরো। আমি বললাম, দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি (আবারো) বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাত পালনে 'সক্ষম হবে না। কারণ, আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আবার ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। সুতরাং আমি আবার রবের কাছে ফিরে গেলাম, এবার আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশপ্রাপ্ত হলাম। আমি মূসার (আ) কাছে গেলে পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হলো আপনাকে? আমি বললাম, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি। তিনি পুনরায় বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষযে মানুষকে পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি পুনরায় আপনার রবের কাছে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। এইবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমি আমার রবের কাছে (বহুবার) প্রার্থনা করেছি। কিন্তু এখন লজ্জাবোধ করছি। আমি বরং সন্তুষ্টচিত্তে (আল্লাহর সর্বশেষ নির্দেশ) মেনে নিচ্ছি। এবার আমি যখন সেখান থেকে প্রস্থান করছি, আমি আহ্বানকারীর আহ্বান শুনলাম-আমি আমার ফরয পূর্ণ করে দিলাম আর আমার বান্দার উপর থেকে দায়িত্বের চাপ হালকা করে দিলাম।
আনাস ইবন মালিক মালিক ইবনে সা'সা'আহ্ থেকে নবীর (ﷺ) বরাতে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেন, আমি কা'বার সন্নিকটে নিদ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি একটি অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় জনৈক কথককে (জিব্রীল (আ)) বলতে শুনলাম, তিনি এ তিনজনের (আমাদের মধ্যে) একজনকে বলছেন... অতঃপর হাদীস বর্ণনা করেন (সংক্ষিপ্তাকারে) এইভাবে-অতঃপর আমাদেরকে বাইতুল মা'মূরে উত্তোলন করা হলো, যেখান দৈনিক সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে বের হয়ে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পান না। এরপর আমাকে উঠানো হলো 'সিদরাতুল মুনতাহায়'। এই বৃক্ষটির পাতা হাতির কানের মত (বৃহৎ)। এর পরের অংশ...এইরূপ, রাসূল (ﷺ) বলেন, আমি আমার মহামহিম রবের কাছে বারংবার ফিরে গিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত লজ্জাবশতঃ তাঁর নির্দেশ সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছি। যখন আমি প্রস্থান করতে উদ্যত, তখন আমাকে এই বলে ডাক দেওয়া হলো- নিশ্চয় আমি আমার বান্দার উপর থেকে দায়িত্বভার হালকা করে দিয়েছি এবং আমার ফরযসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছি। আর প্রতিটি সৎকর্মের বিনিময় নির্ধারণ করেছি দশগুণ।
তৃতীয় আরেকটি সনদে ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ পূর্বোক্ত রাবী (মালিক) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমি বাইতুল্লাহ শরীফের কাছে নিদ্রা ও জাগরণের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলাম। তখন (আমাকে ইঙ্গিত করে) বলা হলো এই দুইজনের মধ্যবর্তী তৃতীয়জন। অতঃপর একট স্বর্ণের তশতরী (পাত্র) আনা হলো যা হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। এরপর (আমার) কণ্ঠদেশ থেকে পেটের উপরিভাগ পর্যন্ত বিদীর্ণ করে হৃদপিণ্ডটি (আমার) যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করা হলো। এরপর সেটি হিকমত ও ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হলো। এরপর একটি জন্তু নিয়ে আসা হলো, যার আকৃতি খচ্চরের চেয়ে ছোট কিন্তু গাধার চেয়ে বড়। (সেটিতে সওয়ার হয়ে) আমি জিব্রীলের (আ) সাথে চলতে থাকলাম এবং (প্রথমেই) আমরা উপনীত হলাম পৃথিবীর আকাশে। তখন জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ (ﷺ)। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম। কতই না সম্মানিত আগন্তুক আগমন করেছেন। এর পরবর্তী অংশ পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
(এই হাদীসের প্রথম বর্ণনাধারা বুখারী কর্তৃক, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধারার বর্ণনাদ্বয় মুসলিম কর্তৃক উদ্ধৃত হয়েছে। অন্যদিকে নাসাঈ ও তিরমিযী খুব সংক্ষিপ্তভাবে উদ্ধৃত করেছেন।)
জিব্রীল (আ) বললেন, এটি হচ্ছে- সিদ্রাতুল মুনতাহা। সেখানে চারটি ঝর্ণা দেখা গেল। তন্মধ্যে দু'টি সুপ্ত আর দু'টি ব্যক্ত। আমি বললাম এটি কী হে জিব্রীল? তিনি বললেন, সুপ্ত দুটি ঝর্ণা হচ্ছে জান্নাতের, প্রকাশমান দু'টি হচ্ছে নীল ও ফুরাত। এরপর আমাকে 'বাইতুল মা'মূর'-এ উত্থিত করা হলো। ক্বাতাদাহ বলেন এবং আবু হুরাইরাহ (রা)-এর বর্ণনায় হাসান আমাদের বলেছেন যে, নবী (ﷺ) বাইতুল মা'মুর দেখেছেন। সেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফিরিশতা প্রবেশ করেন কিন্তু তাঁরা কখনই আর সেখানে ফিরে আসেন না।
যাহোক, রাবী পুনরায় আনাসের (রা) হাদীসে ফিরে আসেন। রাসূল (ﷺ) বলেন, অতঃপর আমাকে একপাত্র শরাব (মদ্য), একপাত্র দুধ এবং একপাত্র মধু দেওয়া হলো। আমি দুধের পাত্র গ্রহণ করলাম (এবং কিছু দুধ পান করলাম)। জিব্রীল (আ) বললেন, এটিই ফিতরাত (স্বভাব-ধর্ম তথা ইসলামের লক্ষণ)। আপনি ও আপনার উম্মত এই ফিতরতের উপরই প্রতিষ্ঠিত আছেন। এরপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়। রাসূল (ﷺ) বলেন, এরপর আমি মূসার (আ) নিকট ফিরে আসি। তিনি বললেন, আপনাকে কী নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে? বললাম, প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। এ বিষয়ে আপনার পূর্বে মানুষকে আমি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি প্রভুর কাছে ফিরে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি প্রভুর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আমি পুনরায় মুসার (আ) কাছে ফিরে আসলে জিজ্ঞেস করলেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে? বললাম, চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত প্রতিদিন। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি মানুষকে আপনার পূর্বে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি আবার প্রভুর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি আরো দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। মূসার কছে (আ) ফিরে এলাম। মূসা (আ) জিজ্ঞেস করলেন কী নির্দেশ আপনাকে প্রদান করা হলো? আমি বললাম, দৈনিক ত্রিশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন আপনার উম্মত ত্রিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনার রবের নিকট ফিরে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি ফিরে গেলাম। আমার উপর থেকে তিনি আরো দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আবার মূসার (আ) কাছে ফিরে এলাম। তিনি বললেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হলো আপনাকে? আমি বললাম, বিশ ওয়াক্ত সালাত প্রতিদিন। মূসা (আ) বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক বিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেছি, আর বনী ইসরাঈলকে দিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি রবের কাছে তখন আমাকে দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেওয়া হলো। মূসার (আ) আবারও ফিরে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন আপনাকে কী নির্দেশ প্রদান করা হরো। আমি বললাম, দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি (আবারো) বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাত পালনে 'সক্ষম হবে না। কারণ, আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আবার ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। সুতরাং আমি আবার রবের কাছে ফিরে গেলাম, এবার আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশপ্রাপ্ত হলাম। আমি মূসার (আ) কাছে গেলে পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হলো আপনাকে? আমি বললাম, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি। তিনি পুনরায় বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষযে মানুষকে পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি পুনরায় আপনার রবের কাছে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। এইবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমি আমার রবের কাছে (বহুবার) প্রার্থনা করেছি। কিন্তু এখন লজ্জাবোধ করছি। আমি বরং সন্তুষ্টচিত্তে (আল্লাহর সর্বশেষ নির্দেশ) মেনে নিচ্ছি। এবার আমি যখন সেখান থেকে প্রস্থান করছি, আমি আহ্বানকারীর আহ্বান শুনলাম-আমি আমার ফরয পূর্ণ করে দিলাম আর আমার বান্দার উপর থেকে দায়িত্বের চাপ হালকা করে দিলাম।
আনাস ইবন মালিক মালিক ইবনে সা'সা'আহ্ থেকে নবীর (ﷺ) বরাতে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেন, আমি কা'বার সন্নিকটে নিদ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি একটি অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় জনৈক কথককে (জিব্রীল (আ)) বলতে শুনলাম, তিনি এ তিনজনের (আমাদের মধ্যে) একজনকে বলছেন... অতঃপর হাদীস বর্ণনা করেন (সংক্ষিপ্তাকারে) এইভাবে-অতঃপর আমাদেরকে বাইতুল মা'মূরে উত্তোলন করা হলো, যেখান দৈনিক সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে বের হয়ে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পান না। এরপর আমাকে উঠানো হলো 'সিদরাতুল মুনতাহায়'। এই বৃক্ষটির পাতা হাতির কানের মত (বৃহৎ)। এর পরের অংশ...এইরূপ, রাসূল (ﷺ) বলেন, আমি আমার মহামহিম রবের কাছে বারংবার ফিরে গিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত লজ্জাবশতঃ তাঁর নির্দেশ সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছি। যখন আমি প্রস্থান করতে উদ্যত, তখন আমাকে এই বলে ডাক দেওয়া হলো- নিশ্চয় আমি আমার বান্দার উপর থেকে দায়িত্বভার হালকা করে দিয়েছি এবং আমার ফরযসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছি। আর প্রতিটি সৎকর্মের বিনিময় নির্ধারণ করেছি দশগুণ।
তৃতীয় আরেকটি সনদে ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ পূর্বোক্ত রাবী (মালিক) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমি বাইতুল্লাহ শরীফের কাছে নিদ্রা ও জাগরণের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলাম। তখন (আমাকে ইঙ্গিত করে) বলা হলো এই দুইজনের মধ্যবর্তী তৃতীয়জন। অতঃপর একট স্বর্ণের তশতরী (পাত্র) আনা হলো যা হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। এরপর (আমার) কণ্ঠদেশ থেকে পেটের উপরিভাগ পর্যন্ত বিদীর্ণ করে হৃদপিণ্ডটি (আমার) যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করা হলো। এরপর সেটি হিকমত ও ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হলো। এরপর একটি জন্তু নিয়ে আসা হলো, যার আকৃতি খচ্চরের চেয়ে ছোট কিন্তু গাধার চেয়ে বড়। (সেটিতে সওয়ার হয়ে) আমি জিব্রীলের (আ) সাথে চলতে থাকলাম এবং (প্রথমেই) আমরা উপনীত হলাম পৃথিবীর আকাশে। তখন জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ (ﷺ)। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম। কতই না সম্মানিত আগন্তুক আগমন করেছেন। এর পরবর্তী অংশ পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
(এই হাদীসের প্রথম বর্ণনাধারা বুখারী কর্তৃক, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধারার বর্ণনাদ্বয় মুসলিম কর্তৃক উদ্ধৃত হয়েছে। অন্যদিকে নাসাঈ ও তিরমিযী খুব সংক্ষিপ্তভাবে উদ্ধৃত করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب قصة الإسراء والمعراج برسول الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى ذلك عن انس بن مالك عن مالك بن صعصعة رضي الله عنهما
باب ما ورد فى ذلك عن انس بن مالك عن مالك بن صعصعة رضي الله عنهما
حدّثنا عفان قال ثنا همام بن يحيى قال سمعت قتادة يحدث عن أنس بن مالك رضي الله عنه ان مالك بن صعصعه رضي الله عنه حدثه أن نبى الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم حدثهم عن ليلة أسري به قال بينا أنا فى الحطيم وربما قال قتادة فى الحجر مضطجع إذ أتانى آت فجعل يقول لصاحبه الأوسط بين الثلاثة قال فاتانى فقده وسمعت قتادة يقول فشق ما بين هذه إلى هذه، قال قتادة فقلت للجارود وهو الى جنبى ما يعنى قال من ثغرة نحره الى شعرته وقد سمعته يقول من قصه إلى شعرته قال فاستخرج قلبى فأتيت بطست من ذهب مملوءة ايمانا وحكمة فغسل قلبى ثم حشى ثم أعيد ثم اتيت بدابة دون البغل وفوق الحمار أبيض قال فقال الجارود هو البراق يا أبا حمزة قال نعم خطوه عند اقصى طرفه قال فحملت عليه فانطلق بى جبريل عليه السلام حتى أتى بى السماء الدنيا فاستفتح فقيل من هذا؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه، قال نعم، قيل مرحبا به ونعم المجيء جاء: قال ففتح فلما خلصت فاذا فيها آدم عليه السلام فقال هذا أبوك آدم فسلم عليه، فسلمت عليه فرد السلام ثم قال مرحبا بالابن الصالح والنبى الصالح، ثم صعد حتى أتى إلى السماء الثانية فاستفتح فقيل من هذا؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، قيل مرحبا به ونعم المجئ جاء: قال ففتح فلما خلصت فاذا يحيى وعيسى وهما ابنا الخالة، فقال هذا يحيى وعيسى فسلم عليهما، قال فسلمت فردا السلام ثم قالا مرحبا بالأخ الصالح والنبى الصالح، ثم صعد حتى أتى السماء الثالثه فاستفتح فقيل من هذا؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، قيل مرحبا به ونعم المجئ جاء قال ففتح فلما خلصت فإذا يوسف عليه السلام، قال هذا يوسف فسلم عليه قال فسلمت عليه فرد السلام وقال مرحبا بالأخ الصالح والنبى الصالح، ثم صعد حتى أتى السماء الرابعة فاستفتح، فقيل من هذا؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، فقيل مرحبا به ونعم المجئ جاء: قال ففتح فلما خلصت قال فاذا ادريس عليه السلام قال هذا ادريس فسلم عليه، قال فسلمت عليه فرد السلام، ثم قال مرحبا بالأخ الصالح والنبى الصالح، قال ثم صعد حتى أتى السماء الخامسة فاستفتح، فقيل من هذا؟ قال جبريل قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، قيل مرحبا به ونعم المجئ جاء: قال ففتح فلما خلصت فاذا هرون عليه السلام، قال هذا هرون فسلم عليه، قال فسلمت عليه، قال فرد السلام ثم قال مرحبا بالأخ الصالح والنبى الصالح، قال ثم صعد حتى أتى السماء السادسة فاستفتح، فقيل من هذا؟ قال جبريل قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، قيل مرحبا به ونعم المجئ جاء، ففتح فلما خلصت فاذا أنا بموسى عليه السلام، قال هذا موسى فسلم عليه، فسلمت عليه فرد السلام ثم قال مرحبا بالأخ الصالح والنبى الصالح قال فلما تجاوزت بكى: قيل له ما يبكيك؟ قال أبكى لأن غلاما بعث بعدى ثم يدخل الجنة من أمته أكثر مما يدخلها من أمتى، قال ثم صعد حتى أتى السماء السابعة فاستفتح قيل من هذا؟ قال جبريل قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، قيل مرحبا ونعم المجئ جاء، قال ففتح فلما خلصت فاذا ابراهيم عليه السلام، فقال هذا ابراهيم فسلم عليه فسلمت عليه فرد السلام ثم قال مرحبا بالابن الصالح والنبى الصالح: قال ثم رفعت إلى سدرة المنتهى فاذا نبقها مثل قلال هجر واذا ورقها مثل آذان الفيلة فقال هذه سدرة المنتهى، قال واذا أربعة أنهار نهران باطنان ونهران ظاهران، فقلت ما هذا يا جبريل؟ قال أما الباطنان فنهران فى الجنة وأما الظاهران فالنيل والفرات قال ثم رفع إلى البيت المعمور قال قتادة وحدثنا الحسن عن أبى هريرة عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه رأى البيت المعمور يدخله كل يوم سبعون الف ملك ثم لا يعودون اليه، ثم رجع، إلى حديث أنس قال: ثم أتيت باناء من خمر واناء من لبن واناء من عسل، قال فأخذت اللبن، قال هذه الفطرة أنت عليها وأمتك، قال ثم فرضت الصلاة خمسين صلاة كل يوم، قال فرجعت على موسى عليه السلام فقال بماذا أمرت؟ قال أمرت بخمسين صلاة كل يوم، قال ان امتك لا تستطيع خمسين صلاة وانى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشد المعالجة فارجع إلى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فرجعت فوضع عنى عشرًا قال فرجعت فمررت على موسى فقال بما أمرت؟ قلت بأربعين صلاة كل يوم، قال ان أمتك لا تستطيع أربعين صلاة كل يوم، وإنى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشدّ المعالجة فارجع الى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فرجعت فوضع عنى عشرا أخر، فرجعت الى موسى فقال لى بما أمرت؟ قلت أمرت بثلاثين صلاة كل يوم، قال ان امتك لا تستطيع لثلاثين صلاة كل يوم وانى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشد المعالجة فارجع الى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فرجعت فوضع عنى عشرا أخر، فرجعت الى موسى فقال لى بما أمرت؟ قلت بعشرين صلاة كل، يوم فقال ان امتك لا تستطيع العشرين صلاة كل يوم وانى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشد المعالجة فارجع الى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فرجعت فأمرت بعشر صلوات كل يوم، فرجعت الى موسى فقال بما أمرت؟ قلت بعشرين صلاة كل، يوم فقال ان امتك لا تستطيع لعشر صلوات كل يوم فانى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشد المعالجة فارجع الى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فرجعت فأمرت بخمس صلوات كل يوم، فرجعت الى موسى فقال بما أمرت؟ قلت بخمس صلوات كل يوم، فقال ان امتك لا تستطيع خمس صلوات كل يوم، وانى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشد المعالجة فارجع الى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال قلت قد سألت ربى حتى استحييت، منه ولكن ارضى واسلم فلما نفذت نادى مناد قد امضيت فريضتي وخففت عن عبادى (ومن طريق ثان) قال حدّثنا محمد بن جعفر قال ثنا سعيد بن أبى عروية عن قتادة بن دعامة عن أنس بن مالك عن مالك بن صعصعة عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه قال بينما أنا عند الكعبة بين النائم واليقظان فسمعت قائلا يقول أحد الثلاثة فذكر الحديث قال ثم رفع لنا البيت المعمور يدخله كل يوم سبعون الف ملك إذا خرجوا منه لم يعودوا فيه آخر ما عليهم قال ثم رفعت الى سدرة المنتهى فاذا ورقها مثل آذان الفيلة فذكر الحديث: قال فقلت لقد اختلفت الى ربى عز وجل حتى استحييت لا ولكن أرضى وأسلم، قال فلما جاوزته نوديت انى قد خففت على عبادى وأمضيت فرائضى وجعلت لكل حسنة عشر أمثالها (ومن طرييق ثالث) قال حدّثنا يحيى بن سعيد قال ثنا هشام الدستوائى قال ثنا قتادة عن أنس بن مالك عن مالك بن أبى صعصعة أن النبى صلى الله عليه وسلم قال بينا أنا عند البيت بين النائم واليقظان إذ قيل أحد الثلاثة بين الرجلين، فأتيت بطست من ذهب ملأه حكمة وايمانا فشق من النحر الى مراق البطن فغسل القلب بماء زمزم ثم ملئ حكمة وايمانا ثم اتيت بدابة دون البغل وفوق الحمار ثم انطلقت مع جبريل عليه السلام فأتينا السماء الدنيا فقيل من هذا؟ قيل جبريل قيل ومن معك قال محمد قيل وقد أرسل اليه قال نعم قيل مرحبا به ونعم المجئ جاء فذكر الحديث بنحو ما تقدم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: এ প্রসঙ্গে উবাই ইব্ন কা'ব (রা) থেকে আনাস ইবন মালিক (রা) এর বর্ণনা
(১০৩) ইব্ন শিহাব থেকে বর্ণিত, আনাস ইবন মালিক বলেন, উবাই ইবন কা'ব এইমর্মে হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আমি মক্কায় থাকা অবস্থায় আমার গৃহের ছাদ বিদীর্ণ হয়ে যায়। আর জিব্রীল (আ) অবতরণ করেন। তিনি আমার বক্ষ বিদারণ করেন। এরপর (বক্ষস্থ হৃদপিণ্ড ইত্যাদি) যমযমের পানির সাহায্যে ধৌত করেন। এরপর ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের পাত্র নিয়ে আসেন এবং আমার বক্ষে ঢেলে দেন। অতঃপর তা জোড়া দেওয়া হয়। অতঃপর জিব্রীল (আ) আমার হাত ধরে উর্ধ্বলোকে আকাশের দিকে উঠে গেলেন। দুনিয়ার আকাশে পৌছানোর পর তিনি ফটক খুলতে বললেন, কিন্তু ফটকের দায়িত্বশীল বললেন, আপনি কে? বললেন, জিব্রীল। বললেন আপনার সাথে অন্য কেউ আছে কি? জিব্রীল বললেন, আমার সাথে আছেন মুহাম্মদ। তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? জিব্রীল (আ) বললেন, হ্যাঁ। তখন ফটক খুলে দিলেন। দুনিয়ার আকাশের উপর ওঠার পর এক ব্যক্তিকে দেখা গেল, যার ডান পাশে রয়েছে একদল মানুষের রূহ, আবার তাঁর বাম পাশেও রয়েছে একদল মানুষের রূহ। তিনি যখন ডান দিকে ফিরে তাকান, তখন তাঁর মুখে হাসির রেখা ফুটে ওঠে। আর বাম দিকে দৃষ্টিপাত করলে পর তিনি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলে উঠলেন, স্বাগতম সুযোগ্য নবীকে, স্বাগতম সুসন্তানকে। রাসূল (ﷺ) বলেন, আমি জিব্রীলকে (আ) জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বললেন, আদম (আ)। তাঁর ডানে ও বামে বিরাজমান আত্মাসমূহ হচ্ছে তাঁর সন্তানাদি। ডান পাশের সন্তানাদি হচ্ছে জান্নাতবাসী, আর তাঁর বাম পাশের আত্মাসমূহ হচ্ছে নরকবাসী। সুতরাং তিনি যখন ডান দিকে তাকান, তখন হাসেন; আর বাম দিকে যখন তাকান, তখন তিনি কাঁদেন। রাসূল (ﷺ) বলেন, অতঃপর জিব্রীল (আ) আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশ অতিক্রম করলেন। রক্ষককে ফটক খুলে দিতে বললেন। ফটকরক্ষক তাঁকে দুনিয়ার আকাশের ফটক রক্ষক যা বলেছিলেন তাই বললেন এবং শেষে ফটক খুলে দিলেন। আনাস ইবন মালিক বলেন, অতপর রাসূল (ﷺ) বলেন যে, তিনি আকাশসমূহে আদম, ইদ্রীস, মূসা, ঈসা ও ইব্রাহীমের (আ) সাক্ষাত লাভ করেন। অবশ্য তিনি কোন আকাশে কে ছিলেন, তা সঠিক করে বলেননি। কেবল এতটুকু বলেছেন যে, আদমকে (আ) পেয়েছেন দুনিয়ার আকাশে আর ইব্রাহীমকে (আ) পেয়েছেন ষষ্ঠ আকাশে। আনাস বলেন, যখন জিব্রীল (আ) ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইদ্রীসের (আ) পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, সুযোগ্য নবী ও সুযোগ্য ভ্রাতাকে স্বাগতম। আমি জিব্রীলকে (আ) জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইনি কে? বললেন, ইদ্রীস। অতঃপর আমি মূসাকে (আ) অতিক্রম করেছি, তিনি (আমার উদ্দেশ্যে) বলেছেন, স্বাগতম সুযোগ্য নবী ও সুযোগ্য ভ্রাতাকে। আমি জিজ্ঞেস বলেছিলাম, ইনি কে? জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি মূসা (আ)। অতঃপর আমি ঈসার (আ) পাশ দিয়ে গেলাম। তিনিও বললেন, স্বাগতম সুযোগ্য নবী ও সুযোগ্য ভাইকে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বললেন, ঈসা ইবন্ মারইয়াম (আ)। অতঃপর আমি ইব্রাহীমকে (আ) অতিক্রম করলাম, তিনি বললেন, স্বাগতম সুযোগ্য নবীকে, স্বাগতম সুযোগ্য সন্তানকে। আমি বললাম, ইনি কে? জিব্রীল বললেন, ইনি ইব্রাহীম (আ)।
ইবন্ শিহাব বলেন, আমাকে ইবন্ হাযম বলেছেন যে, ইব্ন আব্বাস (রা) ও আবূ হাব্বাহ আল-আনসারী (রা) বলেছেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, তারপর আমাকে নিয়ে আরো উপরে আরাহণ করা হলো এবং এমন এক পর্যায়ে উপনীত করা হলো যে, কলমসমূহের লেখার (খসখস্) শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।
ইব্ন হাযম ও আনাস ইবন মালিক বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তাবারাকা ও তা'আলা আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছিলেন, তাই নিয়ে আমি ফিরে আসি, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি মূসার (আ) নির্দেশ পাই। তিনি (মূসা আ.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আপনার উম্মতের উপর কী ফরয করলেন? আমি বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। মূসা (আ) আমাকে বললেন, আপনার রব তাবারাকা ওয়া তা'আলার শরণাপন্ন হোন, কারণ আপনার উম্মত তা পারবে না অতঃপর আমি মহামহিম রব্বের শরণাপন্ন হই, তিনি অর্ধেক বাদ দিয়ে দেন। মুসার (আ) নিকট ফিরে এসে খবর দিলাম, তিনি আবারো বললেন, আপনার রবের কাছে যান, কারণ, আপনার উম্মত এইটুকু পালনেও সক্ষম হবে না। সুতরাং আবার আমার মহামহিম রবের অনুগ্রহের শরণাপন্ন হলাম। তিনি বললেন, এই হচ্ছে পাঁচ আর এই পাঁচই পঞ্চাশ। আমার নিকট কথার কোন রকম পরিবর্তন নেই। রাসূল (ﷺ) বলেন, তিনি আবারও বললেন, আপনার রবের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এবার আমি বললাম, আমি আমার রব তাবারাকা ওয়া তা'আলার কাছে (একই আর্জি নিয়ে আবারও) যেতে লজ্জাবোধ করছি। এরপর জিব্রীল (আ) আমাকে নিয়ে চলতে চলতে 'সিদরাতুল মুনতাহা' পর্যন্ত পৌছালেন। অতঃপর তা ঢাকা পড়ে গেল বিভিন্ন রংয়ে। আমি জানি না, তা কী? এরপর আমাকে প্রবেশ করানো হলো জান্নাতে। জান্নাতের গম্বুজসমূহ মনি-মুক্তার আর এর মাটি (মেঝে) হচ্ছে মিশক-এর (সুগন্ধিমিশ্রিত)।
(মুসলিম ইউনুসের বরাতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া হাইছামীও হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।)
ইবন্ শিহাব বলেন, আমাকে ইবন্ হাযম বলেছেন যে, ইব্ন আব্বাস (রা) ও আবূ হাব্বাহ আল-আনসারী (রা) বলেছেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, তারপর আমাকে নিয়ে আরো উপরে আরাহণ করা হলো এবং এমন এক পর্যায়ে উপনীত করা হলো যে, কলমসমূহের লেখার (খসখস্) শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।
ইব্ন হাযম ও আনাস ইবন মালিক বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তাবারাকা ও তা'আলা আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছিলেন, তাই নিয়ে আমি ফিরে আসি, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি মূসার (আ) নির্দেশ পাই। তিনি (মূসা আ.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আপনার উম্মতের উপর কী ফরয করলেন? আমি বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। মূসা (আ) আমাকে বললেন, আপনার রব তাবারাকা ওয়া তা'আলার শরণাপন্ন হোন, কারণ আপনার উম্মত তা পারবে না অতঃপর আমি মহামহিম রব্বের শরণাপন্ন হই, তিনি অর্ধেক বাদ দিয়ে দেন। মুসার (আ) নিকট ফিরে এসে খবর দিলাম, তিনি আবারো বললেন, আপনার রবের কাছে যান, কারণ, আপনার উম্মত এইটুকু পালনেও সক্ষম হবে না। সুতরাং আবার আমার মহামহিম রবের অনুগ্রহের শরণাপন্ন হলাম। তিনি বললেন, এই হচ্ছে পাঁচ আর এই পাঁচই পঞ্চাশ। আমার নিকট কথার কোন রকম পরিবর্তন নেই। রাসূল (ﷺ) বলেন, তিনি আবারও বললেন, আপনার রবের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এবার আমি বললাম, আমি আমার রব তাবারাকা ওয়া তা'আলার কাছে (একই আর্জি নিয়ে আবারও) যেতে লজ্জাবোধ করছি। এরপর জিব্রীল (আ) আমাকে নিয়ে চলতে চলতে 'সিদরাতুল মুনতাহা' পর্যন্ত পৌছালেন। অতঃপর তা ঢাকা পড়ে গেল বিভিন্ন রংয়ে। আমি জানি না, তা কী? এরপর আমাকে প্রবেশ করানো হলো জান্নাতে। জান্নাতের গম্বুজসমূহ মনি-মুক্তার আর এর মাটি (মেঝে) হচ্ছে মিশক-এর (সুগন্ধিমিশ্রিত)।
(মুসলিম ইউনুসের বরাতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া হাইছামীও হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى ذلك من رواية أنس بن مالك عن أبى بن كعب رضي الله عنهما
عن ابن شهاب قال أنس بن مالك كان ابى بن كعب يحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فرج سقف بيتي وأنا بمكة فنزل جبريل ففرج صدرى ثم غسله من ماء زمزم ثم جاء بطست من ذهب ممتلئ حكمة وايمانا فأفرغها فى صدرى ثم أطبقه ثم أخذ بيدى فعرج بى إلى السماء، فلما جاء السماء الدنيا فافتتح فقال من هذا؟ قال جبريل، قال هل معك أحد؟ قال نعم، معى محمد، قال أرسل اليه؟ قال نعم، ففتح فلما علونا السماء الدنيا اذا رجل عن يمينه أسودة وعن يساره أسودة، وإذا نظر قبل يمينه تبسم، وإذا نظر قبل يساره بكى، قال مرحبًا بالنبى الصالح والابن الصالح، قال لجبريل عليه السلام من هذا؟ قال هذا آدم وهذه الأسودة عن يمينه وشماله نسم بنيه فأهل اليمين هم أهل الجنة، والأسودة التى عن شماله أهل النار، فإذا نظر قبل يمينه ضحك، واذا نظر قبل شماله بكى، قال ثم عرج بى جبريل حتى جاوز السماء الثانية فقال لخازنها افتح، فقال له خازنها مثل ما قال خازن السماء الدنيا ففتح له، قال انس بن مالك فذكر انه وجد فى السموات آدم وادريس وموسى وعيسى وابراهيم عليهم الصلاة والسلام ولم يثبت لى كيف منازلهم غير أنه ذكر انه وجد آدم فى السماء الدنيا وابراهيم فى السماء السادسه قال أنس فلما مر جبريل عليه السلام ورسول الله صلى الله عليه وسلم بادريس قال مرحبا بالنبى الصالح والأخ الصالح، قلت من هذا؟ قال هذا ادريس، قال ثم مررت بموسى فقال مرحبا بالنبى الصالح والأخ الصالح، قلت من هذا؟ قال هذا موسى، ثم مررت بعيسى فقال مرحبا بالنبى الصالح والأخ الصالح، قلت من هذا؟ قال هذا عيسى بن مريم، قال ثم مررت بابراهيم فقال مرحبا بالنبى الصالح ولابن الصالح قلت من هذا؟ قال هذا ابراهيم عليه السلام، قال ابن شهاب وأخبرنى ابن حزم أن ابن عباس وأبا حبَّة الأنصارى يقولان قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم عرج بى حتى ظهرت بمستوى أسمع صريف الاقلام، قال ابن حزم وانس بن مالك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فرض الله تبارك وتعالى على امتى خمسين صلاة، قال فرجعت بذلك حتى أمر على موسى عليه السلام فقال ماذا فرض ربك تبارك وتعالى على أمتك؟ قلت فرض عليهم خمسين صلاة، فقال لى موسى عليه السلام راجع ربك تبارك وتعالى فإن أمتك لا تطيق ذلك، قال فراجعت ربى عز وجل فوضع شطرها فرجعت الى موسى فاخبرته فقال راجع ربك فان أمتك لا تطيق ذلك، قال فراجعت ربى عز وجل فقال هى خمس وهى خمسون لا يبدل القول لدى، قال فرجعت الى موسى عليه السلام فقال راجع ربك فقلت قد استحييت من ربى تبارك وتعالى، قال ثم انطلق بى حتى أتى بى سدرة المنتهى، قال فغشيها الوان ما أدرى ما هى قال ثم ادخلت الجنة فاذا فيها جنابذ اللؤلؤ وإذا ترابها المسك
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আনাস ইব্ন মালিকের (রা) বর্ণনায় এ বিষয়ে আরো যা উল্লেখিত হয়েছে
(১০৪) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমার কাছে একটি বুরাক আনা হলো। এটি হচ্ছে সাদা রঙের একটি জন্তু, যা আকৃতিতে গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট; দৃষ্টির শেষ প্রান্তে এর কদম পড়ে (এত দ্রুতগতিসম্পন্ন)। আমি তাতে সওয়ার হলাম। সে আমাকে নিয়ে রাত্রিতে চলতে থাকলো এবং শেষ পর্যন্ত বাইতুল মাকদিসে নিয়ে পৌছালো। আমি জন্তুটিকে সেই খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলাম, যে খুটিতে অন্যান্য নবীগণ (আ) বাহন বেঁধে রাখতেন। এরপর আমি সেই মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে বের হলাম। এই সময় জিব্রীল (আ) আমার কাছে একটি মদের পাত্র ও আরেকটি দুধের পাত্র এগিয়ে দিলেন। আমি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। জিব্রীল (আ) বললেন, আপনি সঠিক (বাছাই) করেছেন এবং ফিতরতকে (আল-ইসলাম) গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে দুনিয়ার আকাশের পানে উঠে গেলেন। জিব্রীল (আ) আকাশের ফটক খুলতে বললেন। তখন বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন দরজা খুলে দিলেন। (সেখানে প্রবেশ করার পর) দেখলাম আমার দুই ভাই ইয়াহইয়া ও ঈসা (আ)। তাঁরা আমাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করলেন এবং আমার কল্যাণ কামনা করলেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে তৃতীয় আকাশে আরোহণ করলেন। জিব্রীল (আ) দরজা খুলতে বললেন। বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ তাকে ডাকা হয়েছে। এবার দরজা আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন সেখানে দেখা হলো ইউসুফ (আ) এর সাথে। সমস্ত সৌন্দর্যের অর্ধেক দান করা হয়েছে তাঁকে। তিনি অভিনন্দন জ্ঞাপন করলেন এবং দোয়া করলেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে উঠে গেলেন চতুর্থ আকাশে। জিব্রীল (আ) দরজা খুলে দিতে বললেন। বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ, ডেকে পাঠানো হয়েছে। এবার দরজা খুলে দিলেন। সেখানে দেখতে পেলাম ইদ্রীসকে (আ)। তিনি আমাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করলেন এবং আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। তার বিষয়েই তো মহামহিম আল্লাহ্ বলেন,
وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا
আর আমি তাঁকে সুউচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করলাম।
এরপর আমাদেরকে পঞ্চম আকাশে উত্থিত করা হলো। জিব্রীল (আ) ফটক খুলে দেওয়ার কথা বললো। বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ, ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন তিনি (রক্ষী) ফটক খুলে দিলেন। সেখানে পেলাম হারূনকে (আ)-কে, তিনি অভিনন্দন জানালেন এবং আমার মঙ্গল কামনা করলেন। এরপর আমরা উপনীত হলাম ষষ্ঠ আকাশে। জিব্রীল (আ) ফটক খুলতে বললেন, তখন বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য ফটক খুলে দিলেন। সেখানে পেলাম মূসাকে (আ)। তিনি অভিনন্দন জানালেন এবং আমার কল্যাণ কামনা করে দোয়া করলেন। এরপর আমরা উপনীত হলাম সপ্তম আকাশে। জিব্রীল (আ) দরজা খুলতে বললেন। তখন বলা হলো, আপনি কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ, বলে পাঠানো হয়েছে। অতঃপর ফটক খুললেন। এখানে পেলাম ইব্রাহীমকে (আ)। তিনি বাইতুল মা'মূরে ঠেস দিয়ে বসে ছিলেন। প্রতিদিন সেখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, তাঁরা সেখানে আর ফিরে আসেন না। রাসূল (ﷺ) বলেন, এরপর আমাকে নিয়ে গেলেন সিদরাতুল মুনতাহায়। এর পত্রসমূহ হাতির কানের মত বড়। আর এর ফলগুলো হাজার (ইয়ামানের একটি অঞ্চল)-এর মটকার মত। এরপর আমার রব্বের নির্দেশে বৃক্ষটিকে যা আচ্ছন্ন করবার তা আচ্ছন্ন করল। ফলে তাতে এমন পরিবর্তন ঘটল যে, আল্লাহর কোন সৃষ্টির পক্ষে তার সৌন্দর্য বর্ণনা করা সম্ভবপর নয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, অতঃপর মহামহিম আল্লাহ আমার প্রতি ওহী নাযিল করলেন যা তিনি চেয়েছেন। এবং আমার উপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। এরপর আমি সেখান থেকে অবতরণ করে মুসার (আ) নিকট পৌছালাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার রব আপনার উম্মতের উপর কী ফরয করলেন? আমি বললাম, দিবা-রাত্রি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন, আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আরো হালকা দায়িত্বের প্রার্থনা করেন। কারণ, আপনার উম্মত তা পালনে সক্ষম হবে না এবং আমি ইতিপূর্বে বনী ইসলাঈলকে পরীক্ষা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সুতরাং আমি আমার মহামহিম রবের কাছে ফিরে গিয়ে আরজ করলাম, ইয়া রব, আমার উম্মতের জন্য হালকা করে দেন। তিনি সেমতে পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। মূসার কাছে আমি ফিরে আসার পর তিনি জানতে চাইলেন, কি করলেন? আমি বললাম, পাঁচ ওয়াক্ত কমানো হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত তা পালনেও সক্ষম হবে না, আপনি আপনার রবের কাছে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য আরো হালকা দায়িত্বের আর্জি পেশ করুন। রাসূল (ﷺ) বলেন, এইভাবে আমি একবার আমার রবের দরবারে আরেকবার মুসার (আ) কাছে যাতায়াত করতে থাকলাম। পাঁচ ওয়াক্ত পাঁচ ওয়াক্ত করে প্রতিবার আল্লাহ্ তা'আলা কমাতে থাকলেন। পরিশেষে রব বললেন, হে মুহাম্মদ, এই হল দিবা-রাত্রি মিলিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। প্রতিটি সালাতের বিনিময়ে রয়েছে দশ দশটি সালাত, এইভাবে পূর্ণ করা হলো সেই পঞ্চাশ ওয়াক্ত। আর যে ব্যক্তি একটি নেক কাজের নিয়্যত বা পরিকল্পনা করলো অথচ তা করলো না (বা করতে পারলো না), তার বিনিময়ে একটি নেকী লেখা হবে। আর যদি সেই নেক কাজটি কার্যকর করে, তবে তার বিনিময়ে দশটি নেকী লেখা হবে। আর যদি কেউ খারাপ (নিষিদ্ধ) কাজের নিয়ত বা পরিকল্পনা করে, কিন্তু তা কার্যকর না করে, তবে তার বিপরীতে কিছুই লেখা হবে না। কিন্তু যদি তা কার্যে বাস্তবায়ন করে, তবে এর বিপরীতে একটিমাত্র গোনাহ লেখা হবে। এরপর আমি সেখান থেকে অবতরণ করে আবার মুসার (আ) কাছে গিয়ে তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি এইবারও আমাকে বললেন, আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজতর দায়িত্ব প্রার্থনা করুন। কেননা, আপনার উম্মত তা পালনে সক্ষম হবে না। (কিন্তু) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (এবার) বললেন, আমি আমার রবের কাছে বার বার ফিরে গেছি, এখন লজ্জাবোধ করছি।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا
আর আমি তাঁকে সুউচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করলাম।
এরপর আমাদেরকে পঞ্চম আকাশে উত্থিত করা হলো। জিব্রীল (আ) ফটক খুলে দেওয়ার কথা বললো। বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ, ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন তিনি (রক্ষী) ফটক খুলে দিলেন। সেখানে পেলাম হারূনকে (আ)-কে, তিনি অভিনন্দন জানালেন এবং আমার মঙ্গল কামনা করলেন। এরপর আমরা উপনীত হলাম ষষ্ঠ আকাশে। জিব্রীল (আ) ফটক খুলতে বললেন, তখন বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য ফটক খুলে দিলেন। সেখানে পেলাম মূসাকে (আ)। তিনি অভিনন্দন জানালেন এবং আমার কল্যাণ কামনা করে দোয়া করলেন। এরপর আমরা উপনীত হলাম সপ্তম আকাশে। জিব্রীল (আ) দরজা খুলতে বললেন। তখন বলা হলো, আপনি কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ, বলে পাঠানো হয়েছে। অতঃপর ফটক খুললেন। এখানে পেলাম ইব্রাহীমকে (আ)। তিনি বাইতুল মা'মূরে ঠেস দিয়ে বসে ছিলেন। প্রতিদিন সেখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, তাঁরা সেখানে আর ফিরে আসেন না। রাসূল (ﷺ) বলেন, এরপর আমাকে নিয়ে গেলেন সিদরাতুল মুনতাহায়। এর পত্রসমূহ হাতির কানের মত বড়। আর এর ফলগুলো হাজার (ইয়ামানের একটি অঞ্চল)-এর মটকার মত। এরপর আমার রব্বের নির্দেশে বৃক্ষটিকে যা আচ্ছন্ন করবার তা আচ্ছন্ন করল। ফলে তাতে এমন পরিবর্তন ঘটল যে, আল্লাহর কোন সৃষ্টির পক্ষে তার সৌন্দর্য বর্ণনা করা সম্ভবপর নয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, অতঃপর মহামহিম আল্লাহ আমার প্রতি ওহী নাযিল করলেন যা তিনি চেয়েছেন। এবং আমার উপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। এরপর আমি সেখান থেকে অবতরণ করে মুসার (আ) নিকট পৌছালাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার রব আপনার উম্মতের উপর কী ফরয করলেন? আমি বললাম, দিবা-রাত্রি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন, আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আরো হালকা দায়িত্বের প্রার্থনা করেন। কারণ, আপনার উম্মত তা পালনে সক্ষম হবে না এবং আমি ইতিপূর্বে বনী ইসলাঈলকে পরীক্ষা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সুতরাং আমি আমার মহামহিম রবের কাছে ফিরে গিয়ে আরজ করলাম, ইয়া রব, আমার উম্মতের জন্য হালকা করে দেন। তিনি সেমতে পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। মূসার কাছে আমি ফিরে আসার পর তিনি জানতে চাইলেন, কি করলেন? আমি বললাম, পাঁচ ওয়াক্ত কমানো হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত তা পালনেও সক্ষম হবে না, আপনি আপনার রবের কাছে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য আরো হালকা দায়িত্বের আর্জি পেশ করুন। রাসূল (ﷺ) বলেন, এইভাবে আমি একবার আমার রবের দরবারে আরেকবার মুসার (আ) কাছে যাতায়াত করতে থাকলাম। পাঁচ ওয়াক্ত পাঁচ ওয়াক্ত করে প্রতিবার আল্লাহ্ তা'আলা কমাতে থাকলেন। পরিশেষে রব বললেন, হে মুহাম্মদ, এই হল দিবা-রাত্রি মিলিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। প্রতিটি সালাতের বিনিময়ে রয়েছে দশ দশটি সালাত, এইভাবে পূর্ণ করা হলো সেই পঞ্চাশ ওয়াক্ত। আর যে ব্যক্তি একটি নেক কাজের নিয়্যত বা পরিকল্পনা করলো অথচ তা করলো না (বা করতে পারলো না), তার বিনিময়ে একটি নেকী লেখা হবে। আর যদি সেই নেক কাজটি কার্যকর করে, তবে তার বিনিময়ে দশটি নেকী লেখা হবে। আর যদি কেউ খারাপ (নিষিদ্ধ) কাজের নিয়ত বা পরিকল্পনা করে, কিন্তু তা কার্যকর না করে, তবে তার বিপরীতে কিছুই লেখা হবে না। কিন্তু যদি তা কার্যে বাস্তবায়ন করে, তবে এর বিপরীতে একটিমাত্র গোনাহ লেখা হবে। এরপর আমি সেখান থেকে অবতরণ করে আবার মুসার (আ) কাছে গিয়ে তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি এইবারও আমাকে বললেন, আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজতর দায়িত্ব প্রার্থনা করুন। কেননা, আপনার উম্মত তা পালনে সক্ষম হবে না। (কিন্তু) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (এবার) বললেন, আমি আমার রবের কাছে বার বার ফিরে গেছি, এখন লজ্জাবোধ করছি।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى ذلك من رواية أنس بن مالك رضي الله عنه من مسنده
عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أتيت بالبراق وهو دابة أبيض فوق الحمار ودون البغل يضع حافره عند منتهى طرفه، فركبته فسار بى حتى أتيت بيت المقدس فربطت الدابة بالحلقة التي يربط فيها الأنبياء ثم دخلت فصليت فيه ركعتين ثم خرجت فجاءنى جبريل عليه السلام بإناء من خمر وإناء من لبن، فاخترت اللبن قال جبريل أصبت الفطرة ثم عرج بنا إلى السماء الدنيا فاستفتح جبريل فقيل ومن أنت؟ قال جبريل قيل ومن معك؟ قال محمد، فقيل وقد أرسل اليه؟ قال قد أرسل اليه، ففتح لنا فاذا أنا بآدم فرحب ودعا لى بخير، ثم عرج بنا الى السماء الثانية فاستفتح جبريل فقيل ومن أنت؟ قال جبريل، فقيل ومن معك؟ قال محمد، فقيل وقد أرسل اليه؟ قال قد أرسل اليه، قال ففتح لنا فاذا أنا بابنى الخالة يحيى وعيسى فرحبا ودعوا لى بخير، ثم عرج بنا إلى السماء الثالثة فاستفتح جبريل فقيل من أنت؟ فقال جبريل، فقيل ومن معك؟ قال محمد، فقيل وقد أرسل اليه؟ قال قد أرسل اليه، ففتح لنا فاذا أنا بيوسف عليه السلام وإذا هو قد أعطى شطر الحسن فرحب ودعا لى بخير، ثم عرج بنا إلى السماء الرابعة فاستفتح جبريل فقيل من أنت؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد صلى الله عليه وسلم، فقيل وقد أرسل اليه؟ قال قد أرسل اليه، ففتح الباب فاذا أنا بادريس فرحب بى ودعا لى بخير، ثم قال يقول الله عز وجل ورفعناه مكانا عليا، ثم عرج بنا إلى السماء الخامسة فاستفتح جبريل فقيل من أنت؟ قال جبريل، فقيل ومن معك؟ قال محمد، فقيل قد بعث اليه؟ قال قد بعث اليه، ففتح لنا فاذا أنا بهرون فرحب ودعا لى بخير، ثم عرج بنا إلى السماء السادسة فاستفتح جبريل فقيل من أنت؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد، يستطيع أن يصفها من حسنها، قال فأوحى الله عز وجل إلى ما أوحى وفرض على فى كل يوم وليلة خمسين صلاة فنزلت حتى انتهيت إلى موسى فقال ما فرض ربك على أمتك؟ قال قلت خمسين صلاة فى كل يوم وليلة، قال ارجع إلى ربك فاسأله التخفيف، فان أمتك لا تطيق ذلك وانى قد بلوت بنى اسرائيل وخبرتهم، قال فرجعت إلى ربى عز وجل فقلت أى رب خفف عن أمتى فحط عنى خمسًا، فرجعت الى موسى فقال ما فعلت؟ قلت حط عنى خمسًا، قال إن أمتك لا تطيق ذلك فارجع إلى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فلم أزل أرجع بين ربى وبين موسى ويحط عنلا خمسًا خمسا حتى قال يا محمد هى خمس صلوات فى كل يوم وليلة بكل صلاة عشر فتلك خمسون صلاة، ومن هم بحسنة فلم يعملها كتبت حسنة، فان عملها كتبت عشرا، ومن هم بسيئة فلم يعملها لم تكتب شيئًا، فان عملها كتبت سيئة واحدة، فنزلت حتى انهيت إلى موسى فأخبرته فقال ارجع إلى ربك فاسأله التخفيف لأمتك فان أمتك لا تطيق ذاك فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لقد رجعت الى ربى حتى لقد استحييت
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরার রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক বাইতুল মাকদিসে সালাত আদায়কে হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান কর্তৃক অস্বীকার
(১০৫) যিরর ইবন হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হুযাইফা ইবনল ইয়ামান (রা)-এর কাছে গেলাম। ঐ সময় তিনি রাসূলের (ﷺ) ইসরা রজনী (মি'রাজ) সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করছিলেন। তাঁর ভাষায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছেন, অতঃপর আমি অথবা আমরা এগিয়ে চললাম (বা অগ্রসর হতে থাকলাম) এবং পরিশেষে বাইতুল মাকদিসে এসে পৌছালাম। রাবী (হুযাইফা) বলেন, কিন্তু তাঁরা সেখানে প্রবেশ করেননি। আমি (যিরর) বললাম, না, রাসূল (ﷺ) সেই রাত্রে সেখানে প্রবেশ করেছেন এবং সালাত আদায় করেছেন। তিনি বললেন, হে টেকো, তোমার নাম কী? তোমার চেহারা আমার পরিচিত, কিন্তু নামটা কি জানি না। আমি বললাম, আমি যিরর ইবন হুবাইশ। তিনি বললেন, তোমাকে কে শেখালো যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ রাত্রে সেখানে সালাত আদায় করেছেন? আমি বললাম পবিত্র কুরআন এ বিষয়ে আমাকে সংবাদ জানিয়েছে। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কুরআনের ভিত্তিতে কথা বলে, সে তার প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয়। আচ্ছা পড়ে শোনাও দেখি। সুতরাং আমি পবিত্র কুরআনের
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ .
পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তার বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম হতে মসজিদুল আকসায়, যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (নবী ইসরাঈল: ১)।
আয়াত পাঠ করে শোনালাম। তিনি বললেন, রাসূল (ﷺ) সেখানে সালাত আদায় করেছেন- এর উল্লেখ আমি এখানে পেলাম না। তিনি বললেন, হে টেকো, তুমি কি পেয়েছ, তিনি সালাত আদায় করেছেন? আমি বললাম, জ্বি না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ সেই রাত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সেখানে সালাত আদায় করেননি। তিনি যদি সেখানে সালাত আদায় করতেন, তাহলে সেখানে সালাত করা তোমাদের উপরও ফরয হয়ে যেত। যেমনটি হয়েছে বাইতুল্লাহ শরীফে তোমাদের উপর সালাত আদায় করা। আল্লাহর শপথ, বুরাক তাঁদেরকে নিয়ে (উপরের দিকে) আরোহণ করতে থাকে এবং তাঁদের জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তাঁরা জান্নাত, জাহান্নাম ও আখিরাতের যাবতীয় ওয়াদাসমূহ পরিদর্শন করেন। এরপর তাঁরা উভয়ই যাত্রা শুরুর স্থানে ফিরে আসেন। রাবী বলেন, (এসব বলার পর) তিনি হেসে ফেললেন। আমি তাঁর মাড়ির দন্তগুলোও দেখতে পেলাম। তিনি বলেন, লোকেরা বলে থাকে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বুরাককে বেঁধে রেখেছিলেন যেন তা ছুটে পালিয়ে না যায়। অথচ বুরাককে গুপ্ত ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞাতা আল্লাহ তাঁর জন্য একান্ত অনুগত করে পাঠিয়েছিলেন।
রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ আবদুল্লাহ, বুরাক কী ধরনের জন্তু? তিনি বলেন, এই রকম দীর্ঘ ও সাদা একটি প্রাণী, দৃষ্টির শেষ সীমানায় যে এক একটি কদম রাখে।
হুযাইফা ইব্নল ইয়ামান থেকেই দ্বিতীয় একটি বর্ণনায় (আসেম ইব্ন বাহদালাহর মাধ্যমে) বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, বুরাক হচ্ছে একটি সাদা ও দীর্ঘকায় জন্তু, দৃষ্টির শেষ প্রান্তে যার একেকটি কদম পড়ে। এমনি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন বুরাক আমার কাছে নীত হলো। আমি আর জিব্রীল বুরাকের পিঠে সওয়ার হয়ে বাইতুল মাকদিসে উপনীত হলাম। অতঃপর আকাশের দরজাসমূহ আমাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম। হুযাইফা ইবনল ইয়ামান বলেন, তিনি বাইতুল মাকদিসে সালাত আদায় করেননি। যিরর বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ তিনি সালাত আদায় করেছেন। হুযাইফা বললেন, তোমার নাম কি হে টেকো? আমি তোমার চেহারা চিনি, কিন্তু তোমার নাম জানি না। আমি বললাম, আমি যিরর ইবনু হুবাইশ। তিনি বললেন, তোমাকে কে বললো যে, তিনি সেখানে সালাত আদায় করেছেন? আমি বললাম, আল্লাহ্ জাল্লা শানুহ্ বলেছেন:
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ.
পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তার বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম হতে মসজিদুল আকসায়, যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (নবী ইসরাঈল: ১)।
তিনি বললেন, এখানে তিনি সালাত আদায় করেছেন, এ কথা কি পেয়েছ? যদি তিনি সালাত আদায় করতেন, তাহলে তোমরাও সেখানে সালাত আদায় করতে, যেমনটি তোমরা মসজিদুল হারামে আদায় করে থাক। যির বলেন, (তবে) তিনি জন্তুটিকে সেই খুঁটির সাথে বেঁধেছিলেন, যে খুঁটির সাথে অন্যান্য নবীগণ (আ) বাঁধতেন। প্রতি উত্তরে হুযাইফা বললেন, তবে কি তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, জন্তুটি সেখান থেকে চলে যাবে? অথচ আল্লাহ্ তা'আলাই সেটি তাঁকে দিয়েছিলেন।
(ইব্ন কাছীর, আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ প্রমুখ।)
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ .
পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তার বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম হতে মসজিদুল আকসায়, যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (নবী ইসরাঈল: ১)।
আয়াত পাঠ করে শোনালাম। তিনি বললেন, রাসূল (ﷺ) সেখানে সালাত আদায় করেছেন- এর উল্লেখ আমি এখানে পেলাম না। তিনি বললেন, হে টেকো, তুমি কি পেয়েছ, তিনি সালাত আদায় করেছেন? আমি বললাম, জ্বি না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ সেই রাত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সেখানে সালাত আদায় করেননি। তিনি যদি সেখানে সালাত আদায় করতেন, তাহলে সেখানে সালাত করা তোমাদের উপরও ফরয হয়ে যেত। যেমনটি হয়েছে বাইতুল্লাহ শরীফে তোমাদের উপর সালাত আদায় করা। আল্লাহর শপথ, বুরাক তাঁদেরকে নিয়ে (উপরের দিকে) আরোহণ করতে থাকে এবং তাঁদের জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তাঁরা জান্নাত, জাহান্নাম ও আখিরাতের যাবতীয় ওয়াদাসমূহ পরিদর্শন করেন। এরপর তাঁরা উভয়ই যাত্রা শুরুর স্থানে ফিরে আসেন। রাবী বলেন, (এসব বলার পর) তিনি হেসে ফেললেন। আমি তাঁর মাড়ির দন্তগুলোও দেখতে পেলাম। তিনি বলেন, লোকেরা বলে থাকে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বুরাককে বেঁধে রেখেছিলেন যেন তা ছুটে পালিয়ে না যায়। অথচ বুরাককে গুপ্ত ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞাতা আল্লাহ তাঁর জন্য একান্ত অনুগত করে পাঠিয়েছিলেন।
রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ আবদুল্লাহ, বুরাক কী ধরনের জন্তু? তিনি বলেন, এই রকম দীর্ঘ ও সাদা একটি প্রাণী, দৃষ্টির শেষ সীমানায় যে এক একটি কদম রাখে।
হুযাইফা ইব্নল ইয়ামান থেকেই দ্বিতীয় একটি বর্ণনায় (আসেম ইব্ন বাহদালাহর মাধ্যমে) বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, বুরাক হচ্ছে একটি সাদা ও দীর্ঘকায় জন্তু, দৃষ্টির শেষ প্রান্তে যার একেকটি কদম পড়ে। এমনি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন বুরাক আমার কাছে নীত হলো। আমি আর জিব্রীল বুরাকের পিঠে সওয়ার হয়ে বাইতুল মাকদিসে উপনীত হলাম। অতঃপর আকাশের দরজাসমূহ আমাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম। হুযাইফা ইবনল ইয়ামান বলেন, তিনি বাইতুল মাকদিসে সালাত আদায় করেননি। যিরর বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ তিনি সালাত আদায় করেছেন। হুযাইফা বললেন, তোমার নাম কি হে টেকো? আমি তোমার চেহারা চিনি, কিন্তু তোমার নাম জানি না। আমি বললাম, আমি যিরর ইবনু হুবাইশ। তিনি বললেন, তোমাকে কে বললো যে, তিনি সেখানে সালাত আদায় করেছেন? আমি বললাম, আল্লাহ্ জাল্লা শানুহ্ বলেছেন:
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ.
পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তার বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম হতে মসজিদুল আকসায়, যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (নবী ইসরাঈল: ১)।
তিনি বললেন, এখানে তিনি সালাত আদায় করেছেন, এ কথা কি পেয়েছ? যদি তিনি সালাত আদায় করতেন, তাহলে তোমরাও সেখানে সালাত আদায় করতে, যেমনটি তোমরা মসজিদুল হারামে আদায় করে থাক। যির বলেন, (তবে) তিনি জন্তুটিকে সেই খুঁটির সাথে বেঁধেছিলেন, যে খুঁটির সাথে অন্যান্য নবীগণ (আ) বাঁধতেন। প্রতি উত্তরে হুযাইফা বললেন, তবে কি তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, জন্তুটি সেখান থেকে চলে যাবে? অথচ আল্লাহ্ তা'আলাই সেটি তাঁকে দিয়েছিলেন।
(ইব্ন কাছীর, আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ প্রমুখ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب إنكار حذيفة بن اليمان صلاة النبى صلى الله عليه وسلم ببيت المقدس ليلة الاسراء
عن زر بن حبيش قال أتيت على حذيفة بن اليمان (رضي الله عنه وهو يحدث عن ليلة اسرى بمحمد صلى الله عليه وسلم وهو يقول فانطلقت أو انطلقنا فلقينا حتى أتينا على بيت المقدس فلم يدخلاه، قال قلت بل دخله رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلتئذ وصلى فيه، قال ما اسمك يا أصلع فإني أعرف الجنة والنار ووعد الآخرة اجمع: ثم عادا عودهما على بدئهما، قال ثم ضحك حتى رأيت نواجذه قال ويحدثون أنه ربطه لئلا يفر منه، وانما سخره له عالم الغيب والشهادة، قال قلت أبا عبد الله أى دابة البراق؟ قال دابة أبيض طويل هكذا خطوه مد البصر (ومن طريق ثان) عن عاصم بن بهدلة عن زر بن حبيش عن حذيفة بن اليمان أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أتيت بالبراق وهو دابة أبيض طويل يضع حافره منتهى طرفه فلم نزايل ظهره انا وجبريل حتى اتيت بيت المقدس ففتحت لنا أبواب السماء ورأيت الجنة والنار، قال حذيفة بن اليمان ولم يصل فى بيت المقدس، قال زر فقلت له بلى قد صلى، قال حذيفة ما اسمك يا أصلع؟ اننى اعرف وجهك ولا أعرف اسمك، فقلت أنا زر بن حبيش، قال وما يدريك أنه قد صلى؟ قال فقال يقول الله عز وجل {سبحان الذى أسرى بعبده ليلا من المسجد الحرام الى المسجد الأقصى الذى باركنا حوله لنريه من آياتنا إنه هو السميع البصير} قال فهل تجده صلى لو صلى لصليتم فيه كما تصلون فى المسجد الحرام، قال زر وربط الدابة بالحلقة التى يربط بها الأنبياء عليهم السلام، قال حذيفة أو كان يخاف ان تذهب منه وقد آتاه الله بها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : যারা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইসরা ও মি'রাজ রজনীতে বাইতুল মাকদিসে সমস্ত নবীগণ সমেত (আ) সালাত আদায় করেছেন
(১০৬) ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে রজনীতে আল্লাহর নবীকে (ﷺ) ভ্রমণ করানো হয় এবং তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন, সেখানে জান্নাতের পাশে তিনি মৃদু শব্দ শুনতে পান। জিব্রীলকে (আ) জিজ্ঞেস করেন, এটি কী? তিনি বললেন, ইনি হচ্ছেন মুয়াযযিন বিলাল। অতঃপর রাসূল (ﷺ) যখন মানুষের কাছে ফিরে আসেন, তখন বলেন, নিশ্চয় বিলাল সফল হয়ে গেছে, আমি তাঁর সম্পর্কে এই এই দেখেছি। রাবী বলেন, এরপর রাসূল (ﷺ) মূসার (আ) সাক্ষাত লাভ করেন, তিনি তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, উম্মী নবীকে স্বাগতম। তিনি (মূসা আ.) হচ্ছেন তামাটে রংবিশিষ্ট দীর্ঘদেহী আকর্ণলম্বিত কেশবিশিষ্ট একজন সুপুরুষ। রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? বললেন, মূসা (আ)। রাসূল (ﷺ) আরও এগিয়ে গেলেন। এবার ঈসার (আ) সাথে সাক্ষাত হলো। তিনি তাঁকে স্বাগত জানালেন। রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি হচ্ছেন ঈসা (আ)। এরপর তিনি আরও এগিয়ে গেলেন এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সুদর্শন বৃদ্ধের সাথে দেখা হলো। তিনি তাঁকে অভিনন্দন ও সালাম প্রদান করলেন; তাছাড়া সবাই তাঁকে সালাম জানালেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? জিব্রীল (আ) বললেন, আপনার পিতা ইব্রাহীম (আ)। এরপর রাসূল (ﷺ) জাহান্নামের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং দেখতে পেলেন সেখানে একদল লোক মরা খাচ্ছে। রাসূল (ﷺ) বললেন, এরা কারা হে জিব্রীল? এরা হচ্ছে সেই সব লোক যারা মানুষের মাংস ভক্ষণ করে (গীবত করে)। (এছাড়া) তিনি একজন লাল-বাদামী রংবিশিষ্ট এবং নীল চক্ষুবিশিষ্ট সুস্বাস্থ্যের অধিকারী উষ্কখুষ্ক চুলওয়ালা পুরুষকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন হে জিব্রীল, ইনি কে? বললেন, ইনি হচ্ছেন সেই সালিহ (আ)এর উটনীর ঘাতক। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মসজিদুল আকসায় প্রবেশ করেন, তখন সালাত আদায়ে দাঁড়ান এবং এপাশ ওপাশ তাকিয়ে দেখতে পান যে, সমস্ত নবীগণ (আ) তাঁর সাথে সালাত আদায় করছেন। যখন তিনি (রাসূল সা) ফিরে আসেন, তখন তাঁর সম্মুখে ডানে ও বামে দু'টি পেয়ালা আনা হলো। একটিতে দুধ, অপরটিতে মধু। রাসূল (ﷺ) দুধের পেয়ালা নিয়ে কিছুটা পান করলেন। যাঁর কাছে পেয়ালা ছিল, তিনি রাসূলকে (ﷺ) উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনি সঠিক ফিতরত (স্বভাব ধর্ম) বেছে নিয়েছেন।
(ইবন্ কাছীর ও আহমদ।)
(ইবন্ কাছীর ও আহমদ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب من روى انه صلى الله عليه وسلم صلى فى بيت المقدس ليلة الأسراء والمعراج بالنبيين أجمعين عليهم الصلاة وأتم التسليم
عن ابن عباس قال ليلة أسرى بنبى الله صلى الله عليه وسلم ودخل الجنة فسمع من جانبها وجساً قال يا جبريل ما هذا؟ قال هذا بلال المؤذن، فقال نبى الله صلى الله عليه وسلم حين جاء الى الناس قد أفلح بلال رأيت له كذا وكذا قال فلقيه موسى صلى الله عليه وسلم فرحب به وقال مرحبا بالنبي الأمي، قال فقال وهو رجل آدم طويل سبط شعره مع أذنيه أو فوقهما فقال من هذا يا جبريل؟ قال هذا موسى عليه السلام، قال فمضى فلقيه عيسى فلقيه عيسى فرحب به وقال من هذا يا جبريل؟ قال هذا عيسى، قال فمضى فلقيه شيخ جليل مهيب فرحب به وسلم عليه وكلهم بسلم عليه، قال من هذا يا جبريل؟ قال هذا أبوك ابراهيم، قال فنظر فى النار فاذا قوم يأكلون الجيف، فقال من هؤلاء يا جبريل؟ قال هؤلاء الذين يأكلون لحوم الناس، ورأى رجلا احمر أزرق جعدا شعثا اذا رأيته، قال من هذا يا جبريل؟ قال هذا عافر الناقة قال فلما دخل النبى صلى الله عليه وسلم المسجد الأقصى قام يصلى فالتفت ثم التفت فاذا النبيون أجمعون يصلون معه فلما انصرف فجئ احدهما عن اليمين والآخر عن الشمال فى احدهما لبن وفى الآخر عسل فأخذ اللبن فشرب منه فقال الذى كان معه القدح اصبت الفطرة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফেরেশতা, নবীকুল (আ) ও অন্যান্য কাফির-পাপিষ্ঠদের পরিদর্শন এবং তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য
(১০৭) আবুল 'আলিয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে তোমাদের নবীর (ﷺ) চাচার পুত্র (আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রা.) হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ বলেন, কোন বান্দার এইরূপ বলা সঙ্গত নয় যে, আমি ইউনুস ইব্ন মাত্তা থেকে উত্তম, এভাবে তার পিতার সাথে সম্পৃক্ত করে বলেছেন (অর্থাৎ মাত্তা তার পিতার নাম)। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁকে রাত্রিকালীন ভ্রমণ (ইসরা ও মি'রাজ) করানো হয়েছে। তিনি সেখানে মূসাকেও (আ) দেখেছেন; বাদামী রংয়ের দীর্ঘকায় যেন শানুয়া গোত্রের কোন লোক। তিনি ঈসাকে (আ) দেখেছেন। ঈসা (আ) মাঝারী গড়নের, লাল-সাদা মিশ্রিত বর্ণের সুগঠিত দেহের পুরুষ। এছাড়া রাসূল (ﷺ) দাজ্জালকে দেখেছেন এবং জাহান্নামের প্রধান রক্ষী মালিককেও দেখেছেন।
(এই হাদীসের তাখরীজ 'বিশ্বসৃষ্টি অধ্যায়ে' ৫৯ নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।)
(এই হাদীসের তাখরীজ 'বিশ্বসৃষ্টি অধ্যায়ে' ৫৯ নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر من رآهم النبى صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء والمعراج من الملائكة والنبيين وآخرين من الكفار والمذنبين وصفة بعضهم
عن أبى العالية حدثنى أبى حدثنى حجاج حدثنى شعبة عن قتادة عن أبى العالية قال حدثنى ابن عم نبيكم صلى الله عليه وسلم (يعنى ابن عباس رضي الله عنهما) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الله عز وجل ما ينبغى لعبد أن يقول أنا خير من يونس بن متى ونسبه الى أبيه، وذكر أنه أسرى به وأنه رأى موسى عليه السلام آدم طوالا كأنه من رجال شنوءة وذكر أنه رأى عيسى مربوعا الى الحمرة والبياض جعدًا وذكر أنه رأى الدجال ومالكا خازن النار
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফেরেশতা, নবীকুল (আ) ও অন্যান্য কাফির-পাপিষ্ঠদের পরিদর্শন এবং তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য
(১০৮) ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ইসরার রজনীতে আমি মূসা ইব্ন 'ইমরানকে (আ) দেখেছি-বাদামী রংয়ের দীর্ঘকায়, সুগঠিত দেহবিশিষ্ট। মনে হয় যেন তিনি শানুয়া গোত্রের কোন লোক। আর 'ঈসা ইবন মারইয়ামকে (আ) দেখেছি-মাঝারী গড়নের লাল-সাদা মিশ্রিত বর্ণের সোজা ও নরম কেশধারী পুরুষ।
(এই হাদীসের সনদ, ব্যাখ্যা ও বরাত "আহাদীসুল আম্বিয়া" অধ্যায়ে ৫১ নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।)
(এই হাদীসের সনদ, ব্যাখ্যা ও বরাত "আহাদীসুল আম্বিয়া" অধ্যায়ে ৫১ নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر من رآهم النبى صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء والمعراج من الملائكة والنبيين وآخرين من الكفار والمذنبين وصفة بعضهم
عن ابن عباس قال قال نبى الله صلى الله عليه وسلم رأيت ليلة أسرى بى موسى بن عمر ان رجلا آدم طوال جعدا كأنه من رجال شنوءة ورأيت عيسى بن مريم عليهما السلام مربوع الخلق إلى الحمرة والبياض سبط الرأس
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফেরেশতা, নবীকুল (আ) ও অন্যান্য কাফির-পাপিষ্ঠদের পরিদর্শন এবং তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য
(১০৯) ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমি ঈসা ইব্ন মারইয়াম, মূসা ও ইব্রাহীমকে (আ) দেখেছি। ঈসা (আ) হচ্ছেন সুগঠিত দেহী বাদামী রঙের। মুসা (আ) বিশালদেহী। তাঁরা (সাহাবীগণ) জিজ্ঞেস করলেন, ইব্রাহীম (আ) কেমন? রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমাদের সঙ্গীর দিকে চেয়ে দেখ, অর্থাৎ স্বয়ং তাঁর মত দেখতে।
(এই হাদীসের বরাত "কিতাবু আহাদীসিল আম্বিয়া" অধ্যায়ে ৩২ নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।)
(এই হাদীসের বরাত "কিতাবু আহাদীসিল আম্বিয়া" অধ্যায়ে ৩২ নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر من رآهم النبى صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء والمعراج من الملائكة والنبيين وآخرين من الكفار والمذنبين وصفة بعضهم
وعنه أيضا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم رأيت عيسى ابن مريم وموسى وابراهيم فأما عيسى فأحمر جعد عريض الصدر، وأما موسى فانه جسيم، قالوا له فابراهيم، قال انظروا إلى صاحبكم يعنى نفسه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফেরেশতা, নবীকুল (আ) ও অন্যান্য কাফির-পাপিষ্ঠদের পরিদর্শন এবং তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য
(১১০) আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে রজনীতে আমাকে ভ্রমণ করানো হলো, আমাকে উপরের দিকে উঠানো হলো (কোন কোন কপিতে) অন্যান্য নবীগণ বাইতুল মাকদিসে তাঁদের কদম (পা) যেখানে রেখেছিলেন আমি সেই স্থানে (তাঁদের পদাঙ্কে) আমার পা রেখেছি। আমার সম্মুখে হাজির করা হয় ঈসা ইবন মারইয়মাকে-তিনি হচ্ছেন সাদৃশ্যের দিক থেকে 'উরওয়াহ ইবন মাসউদের কাছাকাছি। আমার সম্মুখে মূসাকে (আ) হাজির করা হয়। তিনি একজন মধ্যম গড়নের পুরুষ, যেন শানুয়া গোত্রের লোক। ইব্রাহীমকেও (আ) আমার সম্মুখে হাজির করা হয়। তিনি সাদৃশ্যের বিচারে তোমাদের এই সঙ্গীর সাথে তুল্য।
(মুসলিম থেকে অনুরূপ একটি হাদীস এই পরিচ্ছেদেই আসছে। এছাড়া অন্য কেউ এটি উদ্ধৃত করেছেন বলে জানা যায়নি।)
(মুসলিম থেকে অনুরূপ একটি হাদীস এই পরিচ্ছেদেই আসছে। এছাড়া অন্য কেউ এটি উদ্ধৃত করেছেন বলে জানা যায়নি।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر من رآهم النبى صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء والمعراج من الملائكة والنبيين وآخرين من الكفار والمذنبين وصفة بعضهم
عن أبى هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ليلة أسرى بى وصعدت قدمى (وفى نسخة) وضعت قدمى حيث توضع أقدام الأنبياء من بيت المقدس فعرض على عيسى بن مريم، قال فاذا أقرب الناس به شبها عروة بن مسعود، وعرض على موسى فاذا رجل ضرب من الرجال كأنه من رجال شنوءة وعرض على إبراهيم قال فاذا هو أقرب الناس شبها بصاحبكم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফেরেশতা, নবীকুল (আ) ও অন্যান্য কাফির-পাপিষ্ঠদের পরিদর্শন এবং তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য
(১১১) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যখন মি'রাজ রজনীতে ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন আমি মূসার (আ) পাশ দিয়ে গিয়েছি, তখন তিনি তাঁর কবরে সালাতে রত ছিলেন লাল রঙের টিলার কাছে।
(এই হাদীসের ব্যাখ্যা ও বরাত কিতাবু আহাদীসিল আম্বিয়া" ৯৫ নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।)
(এই হাদীসের ব্যাখ্যা ও বরাত কিতাবু আহাদীসিল আম্বিয়া" ৯৫ নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر من رآهم النبى صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء والمعراج من الملائكة والنبيين وآخرين من الكفار والمذنبين وصفة بعضهم
عن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أسرى بى مررت على موسى وهو قائم يصلى فى قبره عند الكئيب الأحمر
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফেরেশতা, নবীকুল (আ) ও অন্যান্য কাফির-পাপিষ্ঠদের পরিদর্শন এবং তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য
(১১২) জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন (ইসরার রজনীতে) আমার সম্মুখে মূসা (আ) কে হাজির করা হয়। তিনি মধ্যম গড়নের পুরুষ। তাঁকে শানুয়া গোত্রের একজন বলে মনে হয়। অতঃপর আমি ঈসাকে (আ) দেখলাম। তাঁকে সাদৃশ্যের দিক দিয়ে উরওয়া ইবন মাসউদের ন্যায় মনে হলো। ইব্রাহীম (আ)-কে দেখলাম সাদৃশ্যের বিচারে তোমাদের সঙ্গীর স্বয়ং রাসূলের (ﷺ) ন্যায়। জিব্রীল (আ)-কে দেখলাম তিনি সাদৃশ্যের দিক থেকে দিহয়া আল-কালবীর ন্যায়।
(মুসলিম)
(মুসলিম)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر من رآهم النبى صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء والمعراج من الملائكة والنبيين وآخرين من الكفار والمذنبين وصفة بعضهم
عن جابر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال عرض على الانبياء فاذا موسى رجل ضرب من الرجال كأنه من رجال شنوأة فرأيت عيسى بن مريم عليهما السلام فاذا أقرب من رأيت به شبها عروة بن مسعود ورأيت ابراهيم عليه السلام فاذا أقرب من رأيت به شبها صاحبكم يعنى نفسه صلى الله عليه وسلم ورأيت جبريل عليه السلام فاذا أقرب من رأيت به شبها دحية
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফেরেশতা, নবীকুল (আ) ও অন্যান্য কাফির-পাপিষ্ঠদের পরিদর্শন এবং তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য
(১১৩) আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে রজনীতে আমাকে উর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়, সে রজনীতে আমরা সপ্তম আকাশে পৌঁছালাম; আমি উপর দিকে দৃষ্টিপাত করলাম (জনৈক রাবী আফফান বলেন- "আমার উপরে তাকালাম।")। মেঘমালা, বিদ্যুতের চমক ও বজ্রের আওয়াজ সেখানে দেখতে ও শুনতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, এরপর আমি আসলাম এমন কিছু লোকের কাছে যাদের পাকস্থলী গৃহের ন্যায়, সেখানে অনেক সাপ যা পেটের বাহির থেকে দেখা যাচ্ছে। আমি জিব্রীলকে (আ) জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তিনি বললেন, এরা সুদখোর। যখন আমি দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করলাম, তখন আমার নীচের দিকে দৃষ্টিপাত করলাম। দেখতে পেলাম, ধূলিকণা, ধোঁয়া ও বিভিন্ন ধরনের আওয়াজ। আমি জিব্রীলকে (আ) জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি? তিনি বললেন, এরা হচ্ছে সেই সব শয়তান যারা বনী আদমের দৃষ্টিতে অন্তরায় সৃষ্টি করে, যাতে তারা ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলসমূহের সৃষ্টি ও স্রষ্টা সম্পর্কে গভীর চিন্তা-ভাবনা করতে না পারে। বা যদি এইরূপ করা না হতো, তাহলে আদমসন্তানরা অবশ্যই বিস্ময়কর বিষয়াদি অবলোকন করতে পারতো।
(ইব্ন কাছীর, আহমদ ও ইবন মাজাহ)
(ইব্ন কাছীর, আহমদ ও ইবন মাজাহ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر من رآهم النبى صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء والمعراج من الملائكة والنبيين وآخرين من الكفار والمذنبين وصفة بعضهم
عن أبى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة أسرى بى لما انتهينا إلى السماء السابعة فنظرت فوق قال عفان، فوقى فاذا أنا برعد وبرق وصواعق، قال فاتيت على قوم بطونهم كالبيوت فيها الحيات ترى من خارج بطونهم، قلت من هؤلاء يا جبريل؟ قال هؤلاء اكلة الربا، فلما نزلت الى السماء الدنيا نظرت أسفل منى فاذا انا برهج ودخان وأصوات فقلت ما هذا يا جبريل؟ قال هذه الشياطين يحومون على أعين بنى آدم ان لا يتفكروا فى ملكوت السموات والأرض، ولولا ذلك لرأوا العجائب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফেরেশতা, নবীকুল (আ) ও অন্যান্য কাফির-পাপিষ্ঠদের পরিদর্শন এবং তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য
(১১৪) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে রজনীতে আমাকে উর্ধ্বলোকে ভ্রমণ করানো হলো, সেই রজনীতে আমি এমন একদল লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যাদের মুখ আগুনের কাঁচি দ্বারা কাটা হচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তাঁরা (ফেরেশতারা) বললেন, এরা দুনিয়াবাসীদের মধ্য থেকে সেইসব বক্তা (ওয়ায়েয) যারা মানুষকে সৎকাজের উপদেশ দান করতো কিন্তু নিজেদেরকে ভুলে যেত (অর্থাৎ উপদেশ অনুসারে আমল করতো না।)। তারা কিতাব পাঠ করতো তবু তারা কি অনুধাবন করবে না?
(ইবন্ কাছীর, ইবন্ মারদুইয়াহ, ইবন্ হিব্বান, ইব্ন আবী হাতিম ।)
(ইবন্ কাছীর, ইবন্ মারদুইয়াহ, ইবন্ হিব্বান, ইব্ন আবী হাতিম ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر من رآهم النبى صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء والمعراج من الملائكة والنبيين وآخرين من الكفار والمذنبين وصفة بعضهم
عن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مررت ليلة أسرى بى على قوم تقرض شفاههم بمقاريض من نار، قال قلت من هؤلاء قالوا خطباء من أهل الدنيا كانوا يأمرون الناس بالبر وينسون أنفسهم وهم يتلون الكتاب أفلا يعقلون
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফেরেশতা, নবীকুল (আ) ও অন্যান্য কাফির-পাপিষ্ঠদের পরিদর্শন এবং তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য
(১১৫) আনাস ইবন মালিক থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যখন আমার রব আমাকে ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যান, তখন (এক পর্যায়ে) আমি এমন কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, যাদের নখ (শক্ত) তামার তৈরী। তারা তাদের চেহারা ও বক্ষ নিজেরাই খামচিয়ে আহত করছে। আমি জিব্রীল (আ) কে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তিনি বললেন, এরা হচ্ছে সেই সব পাপিষ্ঠ যারা মানুষের মাংস ভক্ষণ করে এবং তাদের সম্মানহানি করে থাকে।
(ইবন্ কাছীর, আহমদ, আবু দাউদ)
(ইবন্ কাছীর, আহমদ, আবু দাউদ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فى ذكر من رآهم النبى صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء والمعراج من الملائكة والنبيين وآخرين من الكفار والمذنبين وصفة بعضهم
وعنه أيضا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما عرج بى ربى عز وجل مررت بقوم لهم اظفار من نحاس يخمشون وجوههم وصدورهم، فقلت من هؤلاء يا جبريل؟ قال هؤلاء الذين يأكلون لحوم الناس ويقعون فى أعراضهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি
(১১৬) আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত, ঊর্ধ্বলোকে ভ্রমণের রজনীতে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে জিন ও লাগামসহ বুরাক হাজির করা হয়, যেন তিনি তাতে সওয়ার হতে পারেন। কিন্তু তাতে চড়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াল। তখন জিব্রীল (আ) বোরাককে উদ্দেশ্য করে বললেন, তুমি এরূপ ছটফট করছ কেন? আল্লাহর শপথ, আল্লাহর কাছে এই আরোহণকারীর চেয়ে বেশী সম্মানিত কেউ কখনই তোমার উপর আরোহন করেননি। তখন বোরাকের (লজ্জায়) ঘাম ছোটে (এবং শান্ত হয়ে যায়)।
(তিরমিযী)
(তিরমিযী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى أمور متفرقه تتعلق بالاسراء والمعراج
عن أنس أن النبى صلى الله عليه وسلم أتى بالبراق ليلة اسرى به مسرجا ملجما ليركبه فاستصعب عليه وقال له جبريل ما يحملك على هذا؟ فوالله ما ركبك أحد قط أكرم على الله عز وجل منه قال فارفض عرقا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি
(১১৭) আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে রজনীতে আমাকে উর্ধ্বলোকে ভ্রমণ করানো হয় সেই রজনীতে আমার সম্মুখে দুটি পাত্র পেশ করা হয়; একটি দুধের এবং অপরটি শরাবের। আমি দু'টো পাত্রই অবলোকন করলাম এবং দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। তখন জিব্রীল (আ) বললেন, "সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর যিনি আপনাকে ফিতরত (আর-ইসলাম)-এর প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেছেন। (কারণ) যদি আপনি শরাব-পাত্র গ্রহণ করতেন, তাহলে আপনার উম্মত নিশ্চিত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী।)
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى أمور متفرقه تتعلق بالاسراء والمعراج
عن أبى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة أسرى بى أتيت بقدحين قدح لبن وقدح خمر فنظرت اليهما فأخذت اللبن، فقال جبريل الحمد لله الذى هداك للفطرة لو أخذت الخمر غوت أمتك
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি
(১১৮) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে রজনী ভ্রমণের সময়ে সিদ্রাতুল মুনতাহায় পৌছানো হয়। সিদরাতুল মুনতাহার অবস্থান ষষ্ঠ আকাশে। দুনিয়া থেকে যা কিছু উর্ধ্বলোকে পৌঁছায়, তা এখানে এসেই ক্ষান্ত হয় এবং এখান থেকেই তা তুলে নেওয়া হয়। (অপরদিকে) তার উপর থেকে যা কিছু নীচের দিকে ধাবিত হয় (বা প্রেরণ করা হয়) তাও এখানে (সিদরাতুল মুনতাহায়) এসে থেকে যায়, এবং সেখান থেকে তা গৃহীত হয়। আল্লাহর বাণী- إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى এর অর্থ হচ্ছে স্বর্ণনির্মিত প্রজাপতি সিদরাতুল মুনতাহাকে আচ্ছন্ন করে ফেলছিল। মি'রাজের এই ভ্রমণে রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) তিনটি বস্তু প্রদান করা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, সূরা আল-বাক্বারার শেষাংশ এবং তাঁর উম্মতের মধ্যে যারা আল্লাহর একত্বে কোন কিছু শরীক সাব্যস্ত না করবে, তাদের গোনাহসমুহ ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি।
(ইবন্ কাছীর, মুসলিম ও বায়হাকী)
(ইবন্ কাছীর, মুসলিম ও বায়হাকী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى أمور متفرقه تتعلق بالاسراء والمعراج
عن عبد الله قال لما أسرى برسول الله صلى الله عليه وسلم انتهى به إلى سدرى المنتهى وهى فى السماء السادسة: اليها ينتهى ما يعرج به من الأرض فيقبض منها، واليها ينتهى ما يهبط به من فوقها فيقبض منها قال {اذ يغشى السدرة ما يغشى} قال فراش من ذهب قال فاعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثا أعطى الصلوات الخمس وأعطى خواتيم سورة البقرة وغفر لمن لا يشرك بالله من أمته المقحمات
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি
(১১৯) আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, (মি'রাজ রজনীতে) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহায় উত্তোলন করা হয়। সেটির অবস্থান সপ্তম আকাশে। এর ফল হাজার (ইয়ামানের একটি এলাকা)-এর মটকার মত এবং পাতা হাতির কানের মত। এর পার্শ্ব থেকে দু'টি প্রকাশ্য নহর (নদী) আর দু'টি গুপ্ত নহর প্রবাহিত হয়। আমি জিব্রীল (আ) কে জিজ্ঞেস করলাম, এ দু'টি কী? তিনি বললেন, গুপ্ত দু'টি জান্নাতে, আর প্রকাশমান দু'টি হচ্ছে নীল ও ফুরাত।
(হাদীসটি সহীহ ও বুখারী কর্তৃক উদ্ধৃত।)
(হাদীসটি সহীহ ও বুখারী কর্তৃক উদ্ধৃত।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى أمور متفرقه تتعلق بالاسراء والمعراج
عن أنس أن النبى صلى الله عليه وسلم قال رفعت لى سدرة المنتهى فى السماء السابعة نبقها مثل قلال هجر وورقها مثل آذان الفيلة يخرج من ساقها نهران ظاهران ونهران باطنان، فقلت يا جبريل ما هذان؟ قال اما الباطنان ففى الجنة واما الظاهران فالنيل والفرات
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মি'রাজ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি
(১২০) আনাস (রা) থেকে আরও বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, মি'রাজ রজনীতে আমি সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছে দেখতে পাই যে, এই বৃক্ষের ফলসমূহ মটকার ন্যায়, আর এর পাতা হাতির কানের মত। এরপর আল্লাহর নির্দেশে যখন তা আচ্ছাদিত হয়ে যায়, তখন তা মনি-মুক্তা বা ইয়াকুত অথবা যামরাদ কিংবা এ ধরনের অন্যকিছুর রূপ পরিগ্রহ করে।
(শেষাংশ ব্যতীত বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক উদ্ধৃত। এটি আহমদের ছুলাছিয়্যাতের অন্যতম একটি হাদীস।)
(শেষাংশ ব্যতীত বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক উদ্ধৃত। এটি আহমদের ছুলাছিয়্যাতের অন্যতম একটি হাদীস।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى أمور متفرقه تتعلق بالاسراء والمعراج
وعنه ايضا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انتهيت الى السدرة فاذا نبقها مثل الجرار واذا ورقها مثل آذان الفيلة، فلما غشيها من امر الله ما غشيها تحولت ياقوتاً أو زمردا او نحو ذلك
তাহকীক: