মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৫৪ টি
হাদীস নং: ১২১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক জিব্রীলকে (আ) তাঁর প্রকৃত সৃষ্টিগত আকৃতিতে দর্শন এবং রাসূল (ﷺ) কি মি'রাজ রজনীতে তাঁর রবের দর্শন লাভ করেছিলেন?
(১২১) ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমি আমার রব্ব তাবারাকা ওয়া তা'আলাকে দেখেছি।
(আবদুল্লাহ ইব্নল ইমাম আহমদ) বলেন, আমি এই হাদীসটি আমার পিতার কাছ থেকে অন্যত্র শ্রবণ করেছি।
(হাদীসটি গরীব।)
(আবদুল্লাহ ইব্নল ইমাম আহমদ) বলেন, আমি এই হাদীসটি আমার পিতার কাছ থেকে অন্যত্র শ্রবণ করেছি।
(হাদীসটি গরীব।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب رؤية النبى صلى الله عليه وسلم جبريل عليه السلام فى صورته التى خلق عليها وهل رآى ربه عز وجل ليلة المعراج ام لا؟
عن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم رأيت ربى تبارك وتعالى (قال عبد الله بن الامام احمد) وقد سمعت هذا الحديث من ابى املى على فى موضع آخر
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক জিব্রীলকে (আ) তাঁর প্রকৃত সৃষ্টিগত আকৃতিতে দর্শন এবং রাসূল (ﷺ) কি মি'রাজ রজনীতে তাঁর রবের দর্শন লাভ করেছিলেন?
(১২২) আবদুল্লাহ ইবন্ শাক্বীক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু যর (রা)-কে বলেছিলাম, যদি আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) দেখতে পেতাম তাহলে তাঁকে একটি প্রশ্ন করতাম। তিনি বললেন, কী প্রশ্ন করতে? বললাম, তাঁকে প্রশ্ন করতাম যে, তিনি তাঁর মহামহিম রবকে দর্শন করেছেন কি? আবূ যর (রা) বললেন, আমি তাঁকে এই প্রশ্নটি করেছিলাম। উত্তরে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি এক নূর (জ্যোতি) দেখেছেন এবং বলেছেন, তাকে কিরূপে দেখব?
(হাদীসটি গরীব।)
(হাদীসটি গরীব।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب رؤية النبى صلى الله عليه وسلم جبريل عليه السلام فى صورته التى خلق عليها وهل رآى ربه عز وجل ليلة المعراج ام لا؟
حدّثنا همام ثنا قتادة عن عبد الله بن شقيق قال قلت لأبى ذر لو رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم سألته، قال وما كنت تسأله؟ قال كنت اسأله هل رأى ربه عز وجل، قال فانى قد سألته فقال قد رأيته نورًا انّى أراه (ومن طريق ثان) قال حدّثنا وكيع وبهز قالا ثنا يزيد ابن ابراهيم عن قتادة قال بهز ثنا قتادة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক জিব্রীলকে (আ) তাঁর প্রকৃত সৃষ্টিগত আকৃতিতে দর্শন এবং রাসূল (ﷺ) কি মি'রাজ রজনীতে তাঁর রবের দর্শন লাভ করেছিলেন?
(১২৩) দ্বিতীয় ধারায় বর্ণিত (আবদুল্লাহ্ ইব্ন শাক্বীক থেকে) আমি আবূ যরকে (রা) বললাম, আমি যদি রাসূলকে (ﷺ) পেতাম, তাহলে একটি প্রশ্ন করতাম। তিনি বললেন, কী সম্পর্কে? বললাম, তিনি তাঁর রবকে দেখেছেন কী? আবূ যর (রা) বললেন, আমি এ প্রশ্নটি তাঁকে করেছিলাম। তিনি ইতিবাচক উত্তরে বলেছেন, আলোকময় সত্তা দেখেছি।
(মুসলিম উভয় ধারায় এবং তায়ালিসী প্রথম ধারায়।)
(মুসলিম উভয় ধারায় এবং তায়ালিসী প্রথম ধারায়।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب رؤية النبى صلى الله عليه وسلم جبريل عليه السلام فى صورته التى خلق عليها وهل رآى ربه عز وجل ليلة المعراج ام لا؟
عن عبد الله بن شقيق قال قلت لأبى ذر لو ادركت رسول الله صلى الله عليه وسلم لسألته، قال عن أى شئ؟ قلت هل رايت ربك؟ قال قد سألته فقال نور رانيّ أراه يعنى على طريق الايجاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক জিব্রীলকে (আ) তাঁর প্রকৃত সৃষ্টিগত আকৃতিতে দর্শন এবং রাসূল (ﷺ) কি মি'রাজ রজনীতে তাঁর রবের দর্শন লাভ করেছিলেন?
(১২৪) 'আমির থেকে ইসমাঈল বর্ণনা করেন, (একদা) মাসরুক আয়েশার (রা) কাছে আগমন করেন এবং জিজ্ঞেস করেন, ইয়া উম্মাল মু'মিনীন, মুহাম্মদ (ﷺ) কি তাঁর রব্বকে দর্শন করেছেন? আয়েশা (রা) বলেন, সুবহানাল্লাহি...! আমার চুল দাঁড়িয়ে গেছে তোমার প্রশ্ন শুনে। (এ কী বলছো তুমি?)। তুমি তিনটি বিষয় সম্পর্কে কোথায় রয়েছ? কেউ যদি তোমার কাছে তা বর্ণনা করে তবে সে মিথ্যাই বলে। যদি কেউ তোমাকে বলে যে, মুহাম্মদ (ﷺ) তাঁর রব্বকে দেখেছেন, তবে সে মিথ্যা বলেছে। অতঃপর আয়েশা (রা) এই আয়াত পাঠ করেন
لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ
(অর্থাৎ কোন চক্ষুই তাঁকে প্রত্যক্ষ করতে পারবে না, অথচ তিনি সকল চক্ষু ও দৃষ্টিকে প্রত্যক্ষ করছেন)।
وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًّا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ
কোন মানুষের সাধ্য নেই যে, ওহীর মাধ্যম কিংবা পর্দার অন্তরাল ব্যতীত আল্লাহর সাথে কথোপকথন করবে।
আর যে ব্যক্তি তোমাকে আগামীকালের সংবাদ দিবে (ভবিষ্যতবাণী করবে), সে মিথ্যা বলছে। এরপর তিনি (আয়েশা) এই আয়াত পাঠ করেন-
إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ
নিশ্চয়ই কিয়ামত (-এর ক্ষণ) সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহরই কাছে আছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করান, গর্ভাশয়ে যা কিছু আছে, তা তিনি সম্যক অবগত...।"
আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর কোন আয়াত গোপন করেছেন, সে মিথ্যা বলেছে। এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করেন-
يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ
“ রাসূল আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার উপর যা কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা পৌছে দিন।”
অবশ্য এটা সত্য যে, রাসূল (ﷺ) জিব্রীলকে (আ) তাঁর স্বআকৃতিতে দুইবার দেখেছেন।
দ্বিতীয় ধারায়ও মাসরূক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশার (রা) কাছে হেলান দিয়ে বসে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে আবূ আয়েশা, আমি এই বিষয়ে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, সে তো জিব্রীল। আমি তাঁকে দুইবার মাত্র তাঁর সৃষ্টিগত রূপে দেখেছি। তাঁকে আমি দেখেছি আকাশ ও জমিনের মধ্যস্থিত শূন্যস্থান পূর্ণ করে আদিগন্ত বিস্তৃত অবস্থায়।
(উভয় ধারা উদ্ধৃত করেছেন মুসলিম।)
لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ
(অর্থাৎ কোন চক্ষুই তাঁকে প্রত্যক্ষ করতে পারবে না, অথচ তিনি সকল চক্ষু ও দৃষ্টিকে প্রত্যক্ষ করছেন)।
وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًّا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ
কোন মানুষের সাধ্য নেই যে, ওহীর মাধ্যম কিংবা পর্দার অন্তরাল ব্যতীত আল্লাহর সাথে কথোপকথন করবে।
আর যে ব্যক্তি তোমাকে আগামীকালের সংবাদ দিবে (ভবিষ্যতবাণী করবে), সে মিথ্যা বলছে। এরপর তিনি (আয়েশা) এই আয়াত পাঠ করেন-
إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ
নিশ্চয়ই কিয়ামত (-এর ক্ষণ) সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহরই কাছে আছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করান, গর্ভাশয়ে যা কিছু আছে, তা তিনি সম্যক অবগত...।"
আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর কোন আয়াত গোপন করেছেন, সে মিথ্যা বলেছে। এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করেন-
يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ
“ রাসূল আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার উপর যা কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা পৌছে দিন।”
অবশ্য এটা সত্য যে, রাসূল (ﷺ) জিব্রীলকে (আ) তাঁর স্বআকৃতিতে দুইবার দেখেছেন।
দ্বিতীয় ধারায়ও মাসরূক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশার (রা) কাছে হেলান দিয়ে বসে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে আবূ আয়েশা, আমি এই বিষয়ে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, সে তো জিব্রীল। আমি তাঁকে দুইবার মাত্র তাঁর সৃষ্টিগত রূপে দেখেছি। তাঁকে আমি দেখেছি আকাশ ও জমিনের মধ্যস্থিত শূন্যস্থান পূর্ণ করে আদিগন্ত বিস্তৃত অবস্থায়।
(উভয় ধারা উদ্ধৃত করেছেন মুসলিম।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب رؤية النبى صلى الله عليه وسلم جبريل عليه السلام فى صورته التى خلق عليها وهل رآى ربه عز وجل ليلة المعراج ام لا؟
حدّثنا يحيى عن اسماعيل ثنا عامر قال اتى مسروق عائشة رضي الله عنها فقال يا أم المؤمنين هل رأى محمد صلى الله عليه وسلم ربه؟ قالت سبحان الله لقد قف شعرى لما قلت، اين انت من ثلاث من حدثكهن فقد كذب، من حدثك أن محمدًا صلى الله عليه وسلم رأى ربه فقد كذب، ثم قرات {لا تدركه الأبصار وهو يدرك الأبصار} {وما كان لبشر ان يكلمه الله إلا وحيا او من وراء حجاب} ومن أخبرك بما فى غد فقد كذب ثم قرات {ان الله عنده علم الساعة وينزل الغيث ويعلم ما في الأرحام هذه الآية} ومن اخبرك ان محمدًا صلى الله عليه وسلم كتم فقد كذب ثم قرأت {يا ابها الرسول بلغ ما أنزل اليك من ربك} ولكنه راى جبريل فى صورته مرتين (ومن طريق ثان) عن مسروق ايضًا قال كنت متكئا عند عائشة رضي الله عنها فقالت يا أبا عائشة أنا اول من سأل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عن هذه قال ذلك جبريل لم اره فى صورته التى خلق الا مرتين، رأيته منهبطا من السماء سادًا عظم خلقه ما بين السماء والارض
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক জিব্রীলকে (আ) তাঁর প্রকৃত সৃষ্টিগত আকৃতিতে দর্শন এবং রাসূল (ﷺ) কি মি'রাজ রজনীতে তাঁর রবের দর্শন লাভ করেছিলেন?
(১২৫) ইবন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিব্রীলকে তাঁর স্বরূপে দেখার আকাঙ্খা পেশ করেন। জিব্রীল (আ) বলেন, আপনি তাহলে আপনার রব্বের কাছে দোয়া করুন। রাসূল (ﷺ) তাঁর রব্বের কাছে দোয়া করলেন। ফলে পূর্ব দিগন্তে উদয় হলো এক মূর্তি, যা ক্রমে উপরে উঠছিল ও বিস্তার লাভ করছিল। নবী করীম (ﷺ) (সে বিশাল-ভয়াল মূর্তিতে) তাকে দেখে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর জিব্রীল (আ) এসে তাঁকে উত্তোলন করলেন এবং তাঁর মুখের দু'পাশ থেকে গাঁজ মুছে দিলেন।
(হাইছামী ও তাবারানী)
(হাইছামী ও তাবারানী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب رؤية النبى صلى الله عليه وسلم جبريل عليه السلام فى صورته التى خلق عليها وهل رآى ربه عز وجل ليلة المعراج ام لا؟
عن ابن عباس قال سأل النبى صلى الله عليه وسلم جبريل أن يراه فى صورته فقال ادع ربك قال فدعا ربه فطلع عليه سواد من قبل المشرق قال فجعل يرتفع وينتشر قال فلما رآه النبي صلى الله عليه وسلم صعق فأتاه فنعشه ومسح البزاق عن شدقيه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক জিব্রীলকে (আ) তাঁর প্রকৃত সৃষ্টিগত আকৃতিতে দর্শন এবং রাসূল (ﷺ) কি মি'রাজ রজনীতে তাঁর রবের দর্শন লাভ করেছিলেন?
(১২৬) আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, মহামহিম আল্লাহ্ তা'আলা নিদ্রা যান না। এবং নিদ্রা যাওয়া তাঁর পক্ষে শোভনও নয়। তিনি (সর্বদা) ন্যায়দণ্ড উঁচু-নীচু করে থাকেন। তাঁর আচ্ছাদনপর্দা হচ্ছে আগুন। সেই পর্দা যদি তিনি উঠিয়ে দিতেন, তাহলে তাঁর চেহারার তীব্ররশ্মি তাঁর দৃষ্টির আওতাধীন সবকিছুকে ভস্মীভূত করে দিত। এরপর আবু উবাইদা এই আয়াত পাঠ করেন-
نُودِيَ أَنْ بُورِكَ مَنْ فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ.
“এবং এই বলে আহ্বান করা হয়- অগ্নিস্থিত সেই সত্তা বরকতময়, আর সবকিছু রয়েছে তাঁর চতুষ্পার্শে। সমগ্র বিশ্বজাহানের প্রভু আল্লাহ্ তা'আলা পূত-পবিত্র ও মহিমান্বিত।”
نُودِيَ أَنْ بُورِكَ مَنْ فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ.
“এবং এই বলে আহ্বান করা হয়- অগ্নিস্থিত সেই সত্তা বরকতময়, আর সবকিছু রয়েছে তাঁর চতুষ্পার্শে। সমগ্র বিশ্বজাহানের প্রভু আল্লাহ্ তা'আলা পূত-পবিত্র ও মহিমান্বিত।”
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب رؤية النبى صلى الله عليه وسلم جبريل عليه السلام فى صورته التى خلق عليها وهل رآى ربه عز وجل ليلة المعراج ام لا؟
عن أبى عبيدة عن أبى موسى (يعنى الأشعرى) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله عز وجل لا ينام ولا ينبغى له أن ينام، يخفض القسط ويرفعه، حجابه النار لو كشفها لأحرقت سبحات وجهه كل شئ أدركه بصره، ثم قرأ أبو عبيدة {نودي أن بورك من فى النار ومن حولها وسبحان الله رب العالمين}
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ইসরা ও মি'রাজ শেষে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) মক্কায় প্রত্যাবর্তন, কুরাইশদেরকে তাঁর দেখা বিষয়সমূহের সংবাদ প্রদান ও কুরাইশ কর্তৃক তাঁকে মিথ্যা প্রতিপাদন
(১২৭) ইবন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, ইসরা রজনী শেষে ভোরে আমি মক্কায় ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিলাম, কারণ, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, মানুষ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। তাই তিনি জনবিচ্ছিন্ন ও চিন্তিত অবস্থায় ঘরে বসে থাকলেন। এমন সময় তাঁর পাশ দিয়ে আল্লাহর দুশমন আবু জাহল যাচ্ছিল। সে তাঁর কাছে এসে বসলো এবং ঠাট্টাচ্ছলে বললো, "কোন কিছু ঘটেছে কি?” রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। সে বললো, সেটা কী? তিনি বললেন, গতরাতে আমাকে ভ্রমণ করানো হয়েছে। সে বললো, কোথায়? তিনি বললেন, বাইতুল মাকদিসে। সে বললো, সেই ভ্রমণ শেষ করে তুমি সকাল বেলায় আমাদের সম্মুখে হাজির? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে তখন এমন ভাব প্রদর্শন করলো যে, রাসূল (ﷺ) যেন বুঝতে না পারেন সে তাঁর কথা অবিশ্বাস করছে, যাতে সে যখন তার গোত্রের লোকদের ডেকে নিয়ে আসবে তখন তিনি নিজ কথা অস্বীকার না করেন। সে বললো, আমি যদি তোমার গোত্রের লোকদের ডেকে নিয়ে আসি, তাহলে কি তুমি আমাকে যা বলেছ তা বলবে? রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। তখন আবু জাহল তাদেরকে বললো, হে বনূকা'ব ইব্ন লুয়াই-এর লোকসকল, তোমরা দ্রুত এখানে আস। তখন সবাই নিজ নিজ বৈঠক বাদ দিয়ে, তাঁদের কাছে চলে আসলো এবং তাঁদের পাশে বসে গেল। আবূ জাহল বললো, এবার তুমি তোমার গোত্রীয় লোকদের সেই ঘটনা বল, যা তুমি আমাকে বলেছ। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, গত রাতে আমাকে এক (অসাধারণ) ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁরা জিজ্ঞেস করলো, কোথায়? আমি বললাম, বাইতুল মাকদিসে। তাঁরা বললো, অতঃপর তুমি (এক রাত্রের মধ্যেই ভ্রমণ শেষ করে) আমাদের মাঝে হাজির হয়ে গেলে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ব্যাপারটি অবিশ্বাস্য ও বিস্ময়কর মনে করে তারা এটিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করল। কেউ চিৎকার করে উঠলো আবার কেউ বা মাথায় হাত দিল। (শেষে) তারা বললো, তুমি কি আমাদের কাছে সেই মসজিদটির (মসজিদুল আকসা) বর্ণনা দিতে পারবে? সমবেতদের মধ্যে কেউ কেউ সেই দেশে সফর করেছিল এবং মসজিদও দেখেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তখন আমি মসজিদের বর্ণনা দিতে শুরু করলাম এবং একপর্যায়ে কিছু বর্ণনায় তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল। এই সময় মসজিদটি আমার সম্মুখে নিয়ে আসা হল। এমনকি সেটি আকীল বা 'উকাইল এর বাড়ির সামনে রেখে দেওয়া হল। আমি দেখে দেখে তার বর্ণনা দিলাম। রাবী বলেন, কিছু বর্ণনা আমি মনে রাখতে পারিনি। তখন সমবেত লোকজন বললো, আল্লাহর শপথ, বর্ণনা যা দিয়েছে, তা তো সঠিক।
(হাইছামী, বায্যার, তাবারনী ও তায়ালিছী।)
(হাইছামী, বায্যার, তাবারনী ও তায়ালিছী।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب رجوعه صلى الله عليه وسلم بعد الاسراء والمعراج إلى مكة وإخبار قريش بما رآى وتكذيبهم اياه
عن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما كانت ليلة أسرى بى وأصبحت بمكة فظعت أمرى وعرفت أن الناس مكذبيّ فقعد معتزلا حزينا، قال فمر عدو الله أبو جهل فجاء حتى جلس اليه فقال له كالمستهزئ هل كان من شئ؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم، قال ما هو؟ قال إنه أسرى به الليلة، قال الى أين؟ قال الى بيت المقدس، قال ثم أصبحت بين ظهرانينا؟ قال نعم، قال فلم ير أنه يكذبه مخافة ان يجحده الحديث اذا دعا قومه اليه، قال أرأيت إن دعوت قومك تحدثهم ما حدثتنى؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم، فقال هيا معشر بنى كعب بن لؤى، قال فانتفضت اليه المجالس، وجاءوا حتى جلسوا اليهما، قال حدث قومك بما حدثتنى، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انى أسرى بى الليلة، قالوا الى أين؟ قلت الى بيت المقدس، قالوا ثم أصبحت بين ظهرانينا، قال نعم، قال فمن بين مصفق ومن بين واضع يده على رأسه متعجبا للكذب زعم قالوا وهل تستطيع ان تنعت لنا المسجد؟ وفى القوم من قد سافر الى ذلك البلد ورأى المسجد، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فذهبت انعت فما زلت انعت حتى التبس على بعض النعت، قال فجيئ بالمسجد وأنا أنظر حتى وضع دون دار عقال أو عقيل فنعته وأنا أنظر اليه قال وكان مع هذا نعت لم احفظه قال فقال القوم اما النعت فوالله لقد اصاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ইসরা ও মি'রাজ শেষে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) মক্কায় প্রত্যাবর্তন, কুরাইশদেরকে তাঁর দেখা বিষয়সমূহের সংবাদ প্রদান ও কুরাইশ কর্তৃক তাঁকে মিথ্যা প্রতিপাদন
(১২৮) ইব্ন 'আব্বাস (রা) থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, মিরাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) বাইতুল মাকদিসে নিয়ে যাওয়া হয়, তিনি সেখান থেকে ঐ রজনীতেই ফিরে আসেন এবং তাঁর সেই সফরের কথা লোকজনদের কাছে বর্ণনা করেন। এছাড়া বাইতুল মাকদিসের আলামত বা চিহ্নসমূহ হুবহু বর্ণনা করেন। লোকজন তাঁর বর্ণনা শুনে বললো, আমরা মুহাম্মদের কথা সত্য বলে স্বীকার করবো। অতঃপর তারা মুরতাদ হয়ে কাফির হয়ে গেল। আল্লাহ্ তা'আলা আবূ জাহলসহ তাদের গর্দান উড়িয়ে দেন (বদরের যুদ্ধে নিহত হয়)। আবু জাহল বলেছিল, মুহাম্মদ আমাদেরকে যাক্কুম বৃক্ষের ভয় দেখায়। তোমরা খেজুর আর যবের ছাতু নিয়ে মিশ্রিত করে যাক্কুম তৈয়ার কর (এবং স্বাদ গ্রহণ কর, এতে ভয়ের কী আছে?)। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মিরাজ সফরে দাজ্জালকে তার স্বীয় আকৃতিতে দেখেছেন; তিনি দেখেছেন স্বচক্ষে (বাস্তবে) নিদ্রায় স্বপ্নযোগে নয়। তিনি আরও দেখেছেন- ঈসা, মূসা ও ইব্রাহীমকে (আ)। রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) জিজ্ঞেস করা হয়েছিল দাজ্জাল সম্পর্কে। তিনি বলেছিলেন, সে ধবধবে সাদা রঙবিশিষ্ট ও বিশালদেহী। তার চোখ একটি। অপর চোখের কোন অস্তিত্বই নেই। তার চোখটি উজ্জ্বল তারকার ন্যায়; তার মাথার চুল ঘন কালো (যেন বৃক্ষশাখা)। ঈসাকে (আ) দেখেছি- ফর্সা রঙের সুঠাম দেহের অধিকারী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন, ঘনচুলবিশিষ্ট এক যুবক। মূসাকে (ﷺ) দেখেছি- অধিক চুলবিশিষ্ট সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, মজবুত গড়নের সুপুরুষ। আর আমি ইব্রাহীমের (আ) প্রতি দৃষ্টিপাত করে দেখেছি, তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি যেন তোমাদের এই সঙ্গীর ন্যায়। জিব্রীল (আ) আমাকে বললেন, মালিক (জাহান্নামের প্রধান রক্ষী)-কে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম।
(ইবন্ কাছীর, আহমদ, নাসাঈ ও হাইছামী)
(ইবন্ কাছীর, আহমদ, নাসাঈ ও হাইছামী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب رجوعه صلى الله عليه وسلم بعد الاسراء والمعراج إلى مكة وإخبار قريش بما رآى وتكذيبهم اياه
وعنه ايضا قال اسرى بالنبى صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم الى بيت المقدس ثم جاء من ليلته فحدثهم بمسيره وبعلامة بيت المقدس وبعيرهم فقال ناس نحن نصددق محمدا بما يقول فارتدوا كفارا، فضرب الله أعناقهم مع أبى جهل وقال أبو جهل يخوفنا محمد شجرة الزقوم هاتوا تمرا وزبدا فتمزقوا وراى الدجال فى صورته رؤيا عين ليس رؤيا منام وعيسى وموسى وابراهيم صلوات الله عليهم فسئل النبى صلى الله عليه وسلم عن الدجال فقال اقمر هجانا قال حسن قال رأيته فيلمانيا اقمر هجانا إحدى عينيه قائمة كأنها كوكب درى كأن شعر رأسه أغصان شجرة ورأيت عيسى شابا أبيض جعد الرأس حديد البصر مبطن الخلق ورأيت موسى أسحم آدم كثير الشعر قال حسن (الشعرة) شديد الخلق، ونظرت الى ابراهيم فلا أنظر اللا إرب من آرابه الا نظرت اليه منى كأنه صاحبكم فقال جبريل عليه السلام سلم على مالك فسلمت عليه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ইসরা ও মি'রাজ শেষে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) মক্কায় প্রত্যাবর্তন, কুরাইশদেরকে তাঁর দেখা বিষয়সমূহের সংবাদ প্রদান ও কুরাইশ কর্তৃক তাঁকে মিথ্যা প্রতিপাদন
(১২৯) জাবির ইবন আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) বলতে শুনেছি, বাইতুল মাকদিস পর্যন্ত ভ্রমণ করানোর রজনীতে আমাকে কুরাইশরা যখন মিথ্যার অপবাদ দিল, তখন আমি হিজর (হাতীম)-এর কাছে (চিন্তাক্লিষ্ট মনে) দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন আল্লাহ্ তা'আলা আমার জন্য বাইতুল মাকদিসকে উদ্ভাসিত করে তুলে ধরলেন। আর আমি সেই দিকে তাকিয়ে দেখে দেখে বাইতুল মাকদিসের চিহ্নসমূহের খবর তাদেরকে শুনিয়ে দিলাম।
(ইবন্ কাছীর, আহমদ, বায়হাকী। তাছাড়া যুহরীর বর্ণনাধারা অনুসারে বুখারী ও মুসলিমও উদ্ধৃত করেছেন।)
(ইবন্ কাছীর, আহমদ, বায়হাকী। তাছাড়া যুহরীর বর্ণনাধারা অনুসারে বুখারী ও মুসলিমও উদ্ধৃত করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب رجوعه صلى الله عليه وسلم بعد الاسراء والمعراج إلى مكة وإخبار قريش بما رآى وتكذيبهم اياه
عن جابر بن عبد الله يحدث أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لما كذبتنى قريش حين أسرى بى الى بيت المقدس قمت فى الحجر فجلا الله لى بيت المقدس فطفقت أخبرهم عن آياته وأنا أنظر اليه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক হজ্জের মওসুমে মীনায় তাঁবুতে তাঁবুতে গিয়ে আরব গোত্রসমূহের কাছে স্বীয় অবস্থান তুলে ধরে তাঁকে সাহায্য-সহযোগিতা করার এবং যারা তাঁকে মিথ্যার অপবাদ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছে, তাদেরকে প্রতিহত করার অনুরোধ
(১৩০) মুহাম্মদ ইব্নল মুনকাদির আমাদের বলেছেন যে, তিনি রবীয়া ইব্ন 'আব্বাদ আল-দীলীকে বলতে শুনেছেন; আমি মীনায় রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) শিবিরে শিবিরে গিয়ে মানুষের কাছে ঘুরতে দেখেছি। সময়টি ছিল মদীনায় হিজরতের পূর্বে। তিনি বলছিলেন, হে লোকসকল, নিশ্চয় আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক না কর। রাবী বলেন, তাঁর পেছনে জনৈক ব্যক্তি বলে যাচ্ছিল, এই (মুহাম্মদ) তোমাদেরকে তোমাদের বাপ- দাদার ধর্ম পরিত্যাগ করতে নির্দেশ দিচ্ছে। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই লোকটি কে? বলা হলো এ হচ্ছে আবু লাহাব।
রবীয়া ইব্ন আব্বাদ থেকেই দ্বিতীয় ধারায় বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, আমার অবশ্যই রাসূল (ﷺ) সম্পর্কে স্মরণ আছে, তিনি মীনায় (হজ্জের মওসুমে) শিবিরে শিবিরে ঘুরে ঘুরে মানুষের কাছে গিয়ে দাওয়াত পেশ করেছেন; আমি আমার পিতার সাথে ছিলাম। তখন আমি এক তরুণ যুবক। দেখলাম আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) পেছনে দু'ভাগে বিভক্ত ঘন লম্বা কেশরাজিবিশিষ্ট সুন্দর চেহারার এক লোক। রাসূল (ﷺ) যখনই কোন গোত্রের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, আমি আল্লাহর রাসূল। তিনি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা তাঁরই ইবাদত কর, এবং তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক না কর। তখনই তাঁর পেছনের সেই লোকটি বলছিল, নিশ্চয় এই (মুহাম্মদ) তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছে যেন তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার ধর্ম পরিত্যাগ কর। লাত ও উয্যাকে অপমানিত কর এবং বনূ মালিক ইবন আইয়াশের সাথে মৈত্রীচুক্তি ভঙ্গ কর। সে আহ্বান জানাচ্ছে নতুন ধর্মমত (বিদআত) ও ভ্রষ্টতার দিকে। রাবী বলেন, তখন আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম লোকটি কে? পিতা বললেন, এ হচ্ছে তাঁর চাচা আবু লাহাব আবদুল উয্যা ইব্ন আবদুল মুত্তালিব।
(ইবন ইসহাক ও বায়হাক্বী।)
রবীয়া ইব্ন আব্বাদ থেকেই দ্বিতীয় ধারায় বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, আমার অবশ্যই রাসূল (ﷺ) সম্পর্কে স্মরণ আছে, তিনি মীনায় (হজ্জের মওসুমে) শিবিরে শিবিরে ঘুরে ঘুরে মানুষের কাছে গিয়ে দাওয়াত পেশ করেছেন; আমি আমার পিতার সাথে ছিলাম। তখন আমি এক তরুণ যুবক। দেখলাম আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) পেছনে দু'ভাগে বিভক্ত ঘন লম্বা কেশরাজিবিশিষ্ট সুন্দর চেহারার এক লোক। রাসূল (ﷺ) যখনই কোন গোত্রের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, আমি আল্লাহর রাসূল। তিনি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা তাঁরই ইবাদত কর, এবং তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক না কর। তখনই তাঁর পেছনের সেই লোকটি বলছিল, নিশ্চয় এই (মুহাম্মদ) তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছে যেন তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার ধর্ম পরিত্যাগ কর। লাত ও উয্যাকে অপমানিত কর এবং বনূ মালিক ইবন আইয়াশের সাথে মৈত্রীচুক্তি ভঙ্গ কর। সে আহ্বান জানাচ্ছে নতুন ধর্মমত (বিদআত) ও ভ্রষ্টতার দিকে। রাবী বলেন, তখন আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম লোকটি কে? পিতা বললেন, এ হচ্ছে তাঁর চাচা আবু লাহাব আবদুল উয্যা ইব্ন আবদুল মুত্তালিব।
(ইবন ইসহাক ও বায়হাক্বী।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى عرض رسول الله صلى الله عليه وسلم نفسه الكريمة على احياء العرب فى مواسم الحج بمنى فى منازلهم على أن يأووه وينصروه ويمنعوه ممن كذبه وخالفه
حدّثنا بن المنكدرأنه سمع ربيعة بن عباد الديلى رضي الله عنه يقول رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يطوف على الناس بمنى فى منازلهم قبل أن يهاجر الى المدينة يقول يا أيها الناس ان الله عز وجل يامركم أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئا، قال ووراءه رجل يقول هذا يأمركم أن تدّعوا دين أبائكم فسألت من هذا الرجل؟ فقيل هذا أبو لهب (ومن طريق ثان) عن ربيعة بن عباد ايضا قال والله انى لاذكره (يعنى النبى صلى الله عليه وسلم) يطوف على المنازل لمنى وأنا مع أبى غلام شاب ووراءه رجل حسن الوجه أحول ذو غديرتين فلما وقف رسول الله صلى الله عليه وسلم على قوم قال أنا رسول الله يامركم أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئا، ويقول الذى خلفه ان هذا يدعوكم الى أن تفارقوا دين آبائكم وأن تسلخوا اللات والعزى وحلفاءكم من بنى مالك ابن اقيش الى ما جاء به من البدعة والضلال قال فقلت لابى من هذا قال عمه أبو لهب عبد العزى بن عبد المطلب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক হজ্জের মওসুমে মীনায় তাঁবুতে তাঁবুতে গিয়ে আরব গোত্রসমূহের কাছে স্বীয় অবস্থান তুলে ধরে তাঁকে সাহায্য-সহযোগিতা করার এবং যারা তাঁকে মিথ্যার অপবাদ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছে, তাদেরকে প্রতিহত করার অনুরোধ
(১৩১) আশ্'আছ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে বনু মালিক ইব্ন কিনানা গোত্রের জনৈক বৃদ্ধ বলেছেন; আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) দেখেছি যুলমাজায নামক বাজারে (লোকদের কাছে) ঘুরে ঘুরে বলছেন, হে লোকসকল, তোমরা বল- "লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ” তাহলে তোমরা নাজাত পাবে। অপরদিকে আবু জাহল তাঁর উপর মাটি বা ধুলিকণা ছড়াচ্ছিল, আর বলে যাচ্ছিল, লোকসকল, এ যেন তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে বিপথগামী করতে না পারে। সে (মুহাম্মদ) তো চাচ্ছে তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ কর; লাত ও উয্যাকে পরিত্যাগ কর। কিন্তু আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছিলেন না। রাবী বলেন, আমরা সেই বৃদ্ধকে বললাম, রাসূলুল্লাহর (ﷺ) দৈহিক বর্ণনা শোনান। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন দুইটি চাঁদর পরিহিত, রক্তিম বর্ণের, সজীব, সুঠাম, সুন্দর চেহারা, মিশমিশে কালো কেশধারী, অতিশয় ফর্সা, ঘন ও লম্বা চুলের অধিকারী এক সুপুরুষ।
(ইবন্ কাছীর ও বায়হাকী, সনদ উত্তম।)
(ইবন্ কাছীর ও বায়হাকী, সনদ উত্তম।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى عرض رسول الله صلى الله عليه وسلم نفسه الكريمة على احياء العرب فى مواسم الحج بمنى فى منازلهم على أن يأووه وينصروه ويمنعوه ممن كذبه وخالفه
عن أشعث قال حدثنى شيخ من بنى مالك بن كنانة قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم بسوق ذى المجاز يتخللها يقول يا أيها الناس قولوا لا إله الا الله تفلحوا قال وأبو جهل يحثى عليه التراب ويقول يا أبها الناس لا يغرنكم هذا عن دينكم فانما يريد لتتركوا الهتكم وتتركوا اللات والعزى، قال وما يلتفت اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم قال قلنا أنعت لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بين بردين احمرين مربوع كثير اللحم حسن الوجه شديد سواد الشعر أبيض شديد البياض سابغ الشعر
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বনূ আশহাল গোত্রীয় লোকজন মক্কার কুরাইশদের সাথে মৈত্রীচুক্তির মাধ্যমে খাযরাজ গোত্রের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে মক্কায় আগমন করলে পর রাসূল (ﷺ) কর্তৃক তাদের কাছে স্বীয় অবস্থান তুলে ধরা, ইয়াস ইবন্ মু'আযের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও বু'আস যুদ্ধ প্রসংগ
(১৩২) 'আব্দুল-আশহাল গোত্রীয় মাহমুদ ইব্ন লাবীদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনূ আবদুল আশহালের একদল লোক নিয়ে আবুল জালীস আনাস ইব্ন রাফি' (মদীনা থেকে) মক্কায় আগমন করেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন ইয়াস ইব্ন মু'আয। তাদের আগমনের উদ্দেশ্য ছিল কুরাইশদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া, যাতে করে তাদের গোত্র খাযরাজ গোত্র কর্তৃক আক্রান্ত হলে পরে তারা কুরাইশদের সর্বাত্মক সাহায্য পায়। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের আগমন সংবাদ অবগত হওয়ার পর তাদের কাছে গেলেন এবং তাদের সাথে বসলেন। তিনি তাদের বললেন, যে লক্ষ্যে আপনারা এসেছেন, তার চেয়েও অধিকতর কল্যাণকর বিষয়ে আপনাদের আগ্রহ আছে কি? তারা বললো, সেটি কী? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল। তিনি আমাকে তাঁর বান্দাদের কাছে প্রেরণ করেছেন, আমি তাদেরকে আহ্বান জানাই তারা যেন এক আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে অন্য কিছু শরীক না করে। আল্লাহ্ আমার উপর কিতাব নাযিল করেছেন। এরপর তিনি ইসলামের দাওয়াত পৌছালেন এবং তাদেরকে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করে শোনালেন। ইয়াস ইব্ন মু'আয -সেই সময় সে একজন তরুণ যুবক- বললো, হে সম্প্রদায়, আল্লাহর শপথ, তোমরা যে লক্ষ্য নিয়ে এখানে আগমন করেছ-তার চেয়ে এটি উত্তম। রাবী বলেন, (এ কথা শুনে) দলপতি আবূ জালীস প্রস্তরাকীর্ণ সরু মরু থেকে একটি পাথর উঠিয়ে নিয়ে ইয়াস ইবন্ মু'আযের চেহারায় আঘাত করলো। অতঃপর রাসূল (ﷺ) সেখান থেকে ফিরে আসেন। তারাও মদীনায় প্রত্যাবর্তন করে। এরপর আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে বুআছের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। রাবী বলেন, এর কিছুদিন পর ইয়াস ইব্ন মু'আয মৃত্যুবরণ করেন। মাহমূদ ইবন্ লাবীদ বলেন, তাঁর মৃত্যুর সময় যারা কাছে ছিলেন, তারা তাঁকে মৃত্যুকালীন সময়ে আল্লাহর হামদ-ছানা, তাকবীর-তাহলীল ও তাসবীহ পাঠ করতে শুনেছেন। তারা কখনো সন্দেহ করতো না যে, সে মুসলিম হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। তাঁর হৃদয়-পটে ইসলাম সেই বৈঠকেই স্থান করে নিয়েছিল, যে বৈঠকে তিনি আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) কাছ থেকে যা শুনবার তা শুনেছিলেন।
(মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ও হাফিয আসক্বালানী)
(মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ও হাফিয আসক্বালানী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى عرضه صلى الله عليه وسلم الاسلام على فتية بنى الأشهل حينما جاءوا يلتمسون الحلف من قريش على قومهم من الخزرج ومنقبة لإياس بن معاذ وذكر وقعه بعاث
عن محمود بن لبيد أخى بنى عبد الأشهل قال لما قدم أبو الجليس أنس بن رافع مكة ومعه فتية من بنى عبد الأشهل فيهم إياس بن معاذ يلتمسون الحلف من قريش على قومهم من الخزرج سمع بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتاهم فجلس اليهم، فقال لهم هل لكم الى خير مما جئتم له؟ قالوا وما ذاك؟ قال أنا رسول الله بعثنى الى العباد ادعوهم الى أن يعبدوا الله لا يشركوا به شيئا وأنزل على كتابا ثم ذكر الاسلام وتلا عليهم القرآن. فقال اياس بن معاذ وكان غلاما حدثا أى قوم هذا والله خير مما جئتم له، قال فأخذ أبو جليس أنس بن رافع حفنة من البطحاء فضرب بها فى وجه اياس بن معاذ، وقام رسول الله صلى الله عليه وسلم عنهم وانصرفوا الى المدينة فكانت وقعة بعاث بين الأوس والخزرج قال ثم لم يلبث اياس بن معاذ ان هلك، قال محمود بن لبيد فأخبرني من حضره من قومي عند موته انهم لم يزالوا يسمعونه يهلل الله ويكبره ويحمده ويسبحه حتى مات فما كانوا يشكون ان قد مات مسلما، لقد كان استشعر الاسلام فى ذلك المجلس حين سمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم ما سمع
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বনূ আশহাল গোত্রীয় লোকজন মক্কার কুরাইশদের সাথে মৈত্রীচুক্তির মাধ্যমে খাযরাজ গোত্রের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে মক্কায় আগমন করলে পর রাসূল (ﷺ) কর্তৃক তাদের কাছে স্বীয় অবস্থান তুলে ধরা, ইয়াস ইবন্ মু'আযের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও বু'আস যুদ্ধ প্রসংগ
(১৩৩) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বু'আছের যুদ্ধ ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলের (ﷺ) জন্য (একটি বিশেষ) করুণার বিষয়। এরই সুবাদে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মদীনায় আগমন করেন। কাফির-মুশরিকদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, তাদের নেতৃস্থানীয়রা নিহত হয় এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের (ﷺ) মহব্বতে অবশিষ্টরা ইসলামে প্রবেশ করে।
(বুখারী)
(বুখারী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى عرضه صلى الله عليه وسلم الاسلام على فتية بنى الأشهل حينما جاءوا يلتمسون الحلف من قريش على قومهم من الخزرج ومنقبة لإياس بن معاذ وذكر وقعه بعاث
عن عائشة رضي الله عنها قالت كان يوم بعاث يوما قدمه الله عز وجل لرسوله صلى الله عليه وسلم فقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وقد افترق ماؤهم وقتلت سرواتهم ورفقوا لله عز وجل ولرسوله فى دخولهم فى الاسلام
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বনূ আশহাল গোত্রীয় লোকজন মক্কার কুরাইশদের সাথে মৈত্রীচুক্তির মাধ্যমে খাযরাজ গোত্রের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে মক্কায় আগমন করলে পর রাসূল (ﷺ) কর্তৃক তাদের কাছে স্বীয় অবস্থান তুলে ধরা, ইয়াস ইবন্ মু'আযের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও বু'আস যুদ্ধ প্রসংগ
(১৩৪) জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (হজ্জ মওসুমে আরাফাতে) শিবিরসমূহে গিয়ে (আগত) মানুষের কাছে স্বীয় অবস্থা ও অবস্থান (নবী হিসেবে) তুলে ধরতেন। তিনি বলতেন, এমন কেউ কি আছেন, যিনি আমাকে তার গোত্রে নিয়ে যাবেন; কেননা, কুরাইশরা আমার রব্ব আল্লাহ্ শানুহুর বাণী প্রচার করতে বাধা দিচ্ছে। রাসূলের (ﷺ) আহ্বানে সাড়া দিয়ে হামাদান গোত্রীয় জনৈক লোক এগিয়ে এলেন। রাসূল (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কোন গোত্রীয়? তিনি বললেন, হামাদানের। রাসূল (ﷺ) বললেন, আপনার গোত্রে এমন নিরাপত্তা বিধানকারী হিতৈষী আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ আছে। কিন্তু পরক্ষণে তিনি এই ভেবে শঙ্কিত হয়ে পড়লেন যে, পাছে তার গোত্র তাকে তিরস্কার করে। (তাই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রাসূলকে (ﷺ) সাথে নিতে সম্মত হতে পারলেন না)। যাহোক, তিনি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) (এই বলে আশ্বস্ত করলেন) বললেন, আমি তাদের কাছে ফিরে গিয়ে আপনার সংবাদ জানাবো, এরপর আগামী বছর পুনরায় আপনার কাছে আসবো। রাসূল (ﷺ) বললেন, ঠিক আছে। লোকটি চলে গেলেন এবং রজব মাসে আনসারীদের একটি প্রতিনিধিদল আগমন করলো।
(মালিক, তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ।)
(মালিক, তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى عرضه صلى الله عليه وسلم الاسلام على فتية بنى الأشهل حينما جاءوا يلتمسون الحلف من قريش على قومهم من الخزرج ومنقبة لإياس بن معاذ وذكر وقعه بعاث
عن جابر بن عبد الله قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرض نفسه على الناس بالموقف فيقول هل من رجل يحملنى الى قومه فان قريشا قد منعونى أن ابلغ كلام ربى عز وجل، فاتاه رجل من همدان فقال ممن أنت فقال الرجل من همدان، قا فهل عند قومك من منعة؟ قال نعم، ثم إن الرجل خشي أن يحقره قومه فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقاله آتيهم فأخبرهم ثم آتيك من عام قابل، قال نعم، فانطلق وجاء وفد الأنصار فى رجب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আনসারীগণের মধ্য থেকে বারজন লোকের মদীনা থেকে আগমন এবং 'আকাবার প্রথম বাই'য়াত
(১৩৫) 'উবাদা ইবনস্ সামিত (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আক্বাবার প্রথম বাইয়াতে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন আমি ছিলাম তাঁদের অন্যতম। আমরা সংখ্যায় ছিলাম বারজন পুরুষ। নারীদের বাইআতে যে ধারাসমূহ বর্ণিত হয়েছে আমরা তার উপর বাই'আত সম্পন্ন করি, আর এটি ছিল যুদ্ধ (জিহাদ) ফরয হওয়ার পূর্বের ঘটনা। আমরা রাসূলের (ﷺ) সাথে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছিলাম যে, আল্লাহর সাথে শরীক করবো না, চুরি করবো না, ব্যভিচার করবো না, আমাদের সন্তানদের হত্যা করবো না, কারো বিরুদ্ধে হাত ও পায়ের মাধ্যমে (প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য) মিথ্যা অপবাদ রটাবো না এবং ন্যায়সঙ্গত ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) অবাধ্যতা বা বিরুদ্ধাচরণ করবো না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, এসব অঙ্গীকার পূরণ করলে তোমাদের জন্য জান্নাত রয়েছে। আর এর কোন একটি ভঙ্গ করলে তোমাদের পরিণতি আল্লাহর হাতে ন্যস্ত থাকবে। ইচ্ছে করলে তিনি শান্তি দেবেন, ইচ্ছে করলে মাফ করে দেবেন।
দ্বিতীয় একটি ধারায় বর্ণিত হয়েছে উবাদা ইবনল ওয়ালীদ ইবন উবাদা ইবন্ সামিত থেকে, তিনি তার পিতা আল-ওয়ালীদ থেকে, তিনি তাঁর দাদা উবাদা ইবনস সামিত থেকে যিনি ছিলেন সম্প্রদায়ের একজন নকীব বা সর্দার। তিনি বলেন, আমরা রাসূলের (ﷺ) সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে বাইআত (অঙ্গীকার) করলাম। 'উবাদাহ ছিলেন সেই বারজনের অন্যতম যাঁরা প্রথম আক্বাবার বাইয়াতে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাতে নারীদের বাইয়াতের অনুরূপ বিষয়বস্তুর উপর বায়'আত গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা অংগীকার করেছিলাম যে, শোকে দুঃখে আনন্দ-বেদনায়, খারাপ-ভাল সর্বাবস্থায় তাঁর আনুগত্য করব। কোন বিষয়ে তার প্রকৃত হকদারের সাথে বিবাদে লিপ্ত হব না। ন্যায় ও সত্য যেখানেই থাকবে আমরা তার সমর্থন করব। আর আল্লাহর রাস্তায় আমরা কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় (গ্রাহ্য) করবো না।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
দ্বিতীয় একটি ধারায় বর্ণিত হয়েছে উবাদা ইবনল ওয়ালীদ ইবন উবাদা ইবন্ সামিত থেকে, তিনি তার পিতা আল-ওয়ালীদ থেকে, তিনি তাঁর দাদা উবাদা ইবনস সামিত থেকে যিনি ছিলেন সম্প্রদায়ের একজন নকীব বা সর্দার। তিনি বলেন, আমরা রাসূলের (ﷺ) সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে বাইআত (অঙ্গীকার) করলাম। 'উবাদাহ ছিলেন সেই বারজনের অন্যতম যাঁরা প্রথম আক্বাবার বাইয়াতে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাতে নারীদের বাইয়াতের অনুরূপ বিষয়বস্তুর উপর বায়'আত গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা অংগীকার করেছিলাম যে, শোকে দুঃখে আনন্দ-বেদনায়, খারাপ-ভাল সর্বাবস্থায় তাঁর আনুগত্য করব। কোন বিষয়ে তার প্রকৃত হকদারের সাথে বিবাদে লিপ্ত হব না। ন্যায় ও সত্য যেখানেই থাকবে আমরা তার সমর্থন করব। আর আল্লাহর রাস্তায় আমরা কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় (গ্রাহ্য) করবো না।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قدوم اثنى عشر رجلا من الأنصار الى المدينة وبيعة العقبة الأولى
عن عبادة بن الصامت قال كنت فيمن حضر العقبة الأولى وكنا اثني عشر رجلا فبايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على بيعة النساء وذلك قبل أن يفترض الحرب على أن لا نشرك بالله شيئا ولا نسرق ولا نزنى ولا نقتل أولادنا ولا نأتى ببهتان نفتريه بين أيدينا وأرجلنا ولا نعصيه فى معروف فان وفيتم فلكم الجنة، وإن غشيتم من ذلك شيئا فأمركم الى الله ان شاء عذبكم وان شاء غفر لكم (ومن طري ثان) عن عبادة بن الوليد بن عبادة ابن الصامت عن أبيه الوليد عن جده عبادة بن الصامت وكان أحد النقباء قال بايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بيعة الحرب وكان عبادة من الاثنى عشر الذين بايعوا فى العقبة الأولى على بيعة النساء فى السمع والطاعة فى عسرنا ويسرنا ومنشطنا ومكرهنا ولا ينازع فى الأمر أهله وأن نقول بالحق حيثما كان لا نخاف فى الله لومة لائم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : প্রথম 'আকাবার বায়'আতের পর আনসারীগণের মধ্য থেকে সত্তরজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার আগমন যা দ্বিতীয় আক্বাবার বায়'আত নামে পরিচিত
(১৩৬) জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দশ বছর উকায মেলায়, মাজান্নায় ও মীনায় প্রতি হজ্জের মওসুমে শিবিরে শিবিরে গিয়ে মানুষের কাছে ইসলামের দা'ওয়াত দিয়ে কাটান। তিনি মানুষকে লক্ষ্য করে বলতেন, কে আমাকে আশ্রয় দিবে? কে আমাকে সাহায্য করবে? যাতে করে আমি আমার রবের বাণী পৌছে দিতে পারি, বিনিময়ে তার জন্যে রয়েছে জান্নাত। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে কখনও কখনও ইয়ামনী অথবা মুদার গোত্রীয় কোন পুরুষ এগিয়ে আসতো, রাসূলের (ﷺ) কওমের লোকেরা তাদেরকে সতর্ক করে দিত এই বলে যে, তোমরা কুরাইশী এই যুবকের খপ্পর থেকে বেঁচে থাকবে। এই বলে তারা ঐসব গোত্রের লোকদের মধ্যে হেঁটে হেঁটে রাসূলের (ﷺ) প্রতি অঙ্গুলি নিদেশ করে দেখিয়ে দিত। এমন এক অবস্থার মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলা ইয়াছরিব থেকে আমাদেরকে তাঁর কাছে প্রেরণ করেন। অতঃপর আমরা তাঁকে আশ্রয় দিলাম এবং সত্য বলে মেনে নিলাম। আমাদের মধ্যকার এক একজন করে এগিয়ে আসতো এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনতো। তিনি তাকে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন। অতঃপর সে নিজ পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যেত এবং তারাও তাদের নিকট থেকে ইসলাম গ্রহণ করত। এমনকি আনসারীদের মধ্যে কোন একটি ঘরও অবশিষ্ট থাকল না, যেখানে মুসলিমদের একটি দল গড়ে ওঠেনি এবং তারা প্রকাশে ইসলাম প্রচার করেনি। (এই অবস্থার প্রেক্ষিতে) কুরাইশী কাফির মুশরিকরা সামগ্রিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আমরা বললাম, আর কতকাল আমরা আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) এভাবে ফেলে রাখব যে, তিনি মক্কার পাহাড়ে-পাহাড়ে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় তাড়িত হতে থাকবেন? অতঃপর আমাদের মধ্য থেকে তাঁর কাছে হজ্জের মওসুমে সত্তরজন পুরুষ আগমন করে। আমরা 'আকাবার গিরি-সঙ্কটে তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় ধার্য করি। আমরা একজন দু'জন করে তাঁর সাথে সাক্ষাত করি এবং বাইয়াত গ্রহণ করি। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) আমরা আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করতে চাই। তিনি বললেন, তোমরা এই মর্মে বায়'আত গ্রহণ কর যে, উদ্যম ও অবসাদ সর্বাবস্থায় আনুগত্য করবে, সংকটে ও স্বচ্ছলতায় ব্যয় করবে, সৎকর্মের আদেশ ও অসৎকর্মে নিষেধ করবে, তোমরা আল্লাহর পথে কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে তোয়াক্কা করবে না, আর আমি যখন তোমাদের মাঝে (মদীনায়) গমন করবো, তখন তোমরা আমাকে সাহায্য করবে, নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে যেভাবে তোমরা তোমাদের নিজেদের ও স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপত্তা বিধান করে থাক। বিনিময়ে তোমাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। রাবী বলেন, এরপর একে একে আমরা সবাই তাঁর কাছে এগিয়ে গিয়ে বাইয়াত গ্রহণ করলাম। সর্বপ্রথম তাঁর (রাসূলের) হাত ধরলেন আস'আদ ইব্ন যুরারা। তিনি ছিলেন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ। তিনি বললেন, হে ইয়াসরিববাসী, শুনে রাখ, তিনি আল্লাহর রাসূল এটা বিশ্বাস করেই আমরা তার কাছে এসেছি। আজ তাকে এ দেশ থেকে বের করে নেওয়ার মাধ্যমে গোটা আরব জাতির সাথে শত্রুতা অবধারিত হয়ে যাবে। তোমাদের শ্রেষ্ঠজনদের রক্ত দিতে হবে এবং তোমাদের উপর তরবারি চালনা করা হবে। সেক্ষেত্রে তোমরা হয়ত ধৈর্য ধারণ করবে। আর তা করতে পারলে আল্লাহর কাছে রয়েছে তোমাদের প্রতিদান। আর যদি তোমরা তোমাদের জীবনের ভয়ে কাপুরুষতাবশতঃ শঙ্কিত হও; তাও বল। সেটি আল্লাহর কাছে ওযর হিসেবে গণ্য হতে পারে। সমবেত লোকজন বললেন, হে আস'আদ তুমি তোমার হাত সরাও (অর্থাৎ রাসূলের (ﷺ) হাত থেকে)। আল্লাহর শপথ, আমরা এই বাইয়াতকে কখনও পরিত্যাগ করবো না, কখনও তা ভঙ্গ করবো না। রাবী বলেন, এরপর আমরা তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বাইয়াত গ্রহণ করলাম-এই শর্তে যে, এর বিনিময়ে আল্লাহ্ আমাদেরকে জান্নাত প্রদান করবেন। (আল্লাহ্ তা'আলা এঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
(মালিক ও বায়হাকী)
(মালিক ও বায়হাকী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قدوم سبعين رجلا وامرأتين من الأنصار بعد العقبه الأولى بعام وبيعة العقبة الثانية
عن جابرقال مكث رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر سنين يتبع الناس فى منازلهم بعكاظ ومجنّة فى المواسم بمنى يقول من يؤوينى من ينصرنى حتى أبلغ رسالة ربى وله الجنة، حتى ان الرجل ليخرج من اليمن أو من مضر فيأتيه قومه فيقولون احذر من غلام قريش لا يفتنك ويمشى بين رجالهم وهم يشيرون اليه بالاصابع حتى بعثنا الله اليه من يثرب فآويناه وصدقناه فيخرج الرجل منا فيؤمن به ويقرئه القرآن فينقلب الى أهله فيسلمون باسلامه حتى لم يبق دار من دور الانصار الا وفيها رهط من المسلمين يظهرون الاسلام ثم ائتمروا جميعا حتى متى نترك رسول الله صلى الله عليه وسلم يطرد فى جبال مكة ويخاف، فرحل اليه منا سبعون رجلا حتى قدموا عليه فى الموسم فواعدناه شعب العقبة فاجتمعنا عليه من رجل ورجلين حتى توافينا، فقلنا يا رسول الله نبايعك، قال تبايعونى على السمع والطاعة فى النشاط والكسل والنفقة فى العسر واليسر وعلى الأمر بالمعروف والنهى عن المنكر، وأن تقولوا فى الله لا تخافون فى الله لومة لائم، وعلى أن تنصرونى فتمنعونى اذا قدمت عليكم مما تمنعون منه أنفسكم وأزواجكم وأبناءكم ولكم الجنة، قال فقمنا اليه فبايعناه وأخذ بيده اسعد بن زرارة وهو من أصغرهم فقال رويدا يا أهل يثرب فانا لم نضرب أكباد الإبل الا ونحن نعلم أنه رسول الله صلى الله عليه وسلم وان اخراجه اليوم مفارقة العرب كافة وقتل خياركم وان تعضكم السيوف فإما أنتم قوم تصبرون على ذلك وأجركم على الله، وإما أنتم قوم تخافون من أنفسكم جبنة فبينوا ذلك فهو عذر لكم عند الله: قالوا امط عنا يا أسعد فوالله لا ندع هذه البيعة ابدا ولا نسلبها ابدا قال فقمنا اليه فبايعناه فأخذ علينا وشرط يعطينا على ذلك الجنة رضي الله عنهم أجمعين
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : প্রথম 'আকাবার বায়'আতের পর আনসারীগণের মধ্য থেকে সত্তরজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার আগমন যা দ্বিতীয় আক্বাবার বায়'আত নামে পরিচিত
(১৩৭) আবু সা'ঈদ ও 'আফফান রবীয়াহ ইব্ন কুলসুম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবু গাদীয়াহকে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে বাইয়াত গ্রহণ করি। আবু সাঈদ বললেন, আপনার ডান হাত দ্বারা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আক্বাবার ঐ দিনে আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দান করেন। তিনি বলেন, হে লোকসকল, তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের উপর হারাম, সেই দিবস পর্যন্ত যে দিবসে তোমরা তোমাদের মহামহিম রবের সাথে মিলিত হবে। (তোমাদের রক্ত ও সম্পদ এমন সম্মানিত) যেমন তোমাদের জন্য আজকের এই দিন-তোমাদের এই (পবিত্র) মাসে, তোমাদের এই পবিত্র শহর বা জনপদ। আমি কি পৌছিয়ে দিতে পেরেছি? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। রাসূল (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ্, তুমি সাক্ষী থেকো। এরপরে তিনি বললেন, সাবধান, আমার পরে তোমরা যেন আবার কাফির হয়ে না যাও যে, একে অপরকে হত্যায় মেতে না উঠবে।
(হাফিয পূরো হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বুখারী ও মুসলিম ইবন আব্বাসের বর্ণনায় ভাষণের অংশটুকু বর্ণনা করেছেন।)
(হাফিয পূরো হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বুখারী ও মুসলিম ইবন আব্বাসের বর্ণনায় ভাষণের অংশটুকু বর্ণনা করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قدوم سبعين رجلا وامرأتين من الأنصار بعد العقبه الأولى بعام وبيعة العقبة الثانية
حدّثنا أبو سعيد وعفان قال ثنا ربيعه بن كلثوم حدثنى أبى قال سمعت أبا غادية يقول بايعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أبو سعيد فقلت بيمينك قال نعم، قالا جميعا فى الحديث وخطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم العقبة فقال يا أيها الناس ان دمائكم وأموالكم عليكم حرام الى يوم تلقون ربكم عز وجل كحرمة يومكم هذا فى شهركم هذا فى بلدكم هذا، ألا هل بلغت؟ قالوا نعم، قال اللهم اشهد: ثم قال ألا لا ترجعوا بعدى كفارا يضرب بعضكم رقاب بعض
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : প্রথম 'আকাবার বায়'আতের পর আনসারীগণের মধ্য থেকে সত্তরজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার আগমন যা দ্বিতীয় আক্বাবার বায়'আত নামে পরিচিত
(১৩৮) কা'ব ইবন মালিক থেকে বর্ণিত, যিনি স্বয়ং আক্বাবায় উপস্থিত ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহর (ﷺ) হাতে তথায় বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের গোত্রের মুশরিক হাজীদের সাথে (মিলেমিশে হজ্জের উদ্দেশ্যে) রওয়ানা হলাম। আমরা ইতোমধ্যে সালাত আদায়ে অভ্যস্ত হয়েছি ও দীন সম্পর্কে (কিছুটা) জ্ঞান লাভ করেছি। আমাদের (এই কাফেলার) সাথে ছিলেন বারা ইবন মা'রূর, আমাদের প্রবীণ মুরুব্বী ও গোত্রপতি। আমরা সফরের উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে বের হতেই বারা আমাদেরকে বললেন, হে লোকসকল শোন, আল্লাহর শপথ, আমি নিজে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেছি। আল্লাহর শপথ, আমি জানি না তোমরা আমার এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হবে কি না। আমরা তাঁকে বললাম, সেটি কী? তিনি বললেন, আমি স্থির করেছি যে, আমি এই (পবিত্র) গৃহ কা'বাকে সালাতের সময় আমার পেছনে রাখবো না, (বরং) কা'বার দিকে ফিরেই সালাত আদায় করবো। আমরা তাকে বললাম, আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, তাতে আমাদের নবী (ﷺ) সিরিয়ার দিকে (বাইতুল মাকদিস) মুখ করেই সালাত আদায় করেন। আমরা তাঁর বিরোধিতা করতে চাই না। তিনি বললেন, আমি কা'বার দিকেই সালাত আদায় করবো; আমরা বললাম, কিন্তু আমরা তা করতে পারবো না। সুতরাং সালাতের ওয়াক্ত হলে আমরা সিরিয়ার দিকে আর তিনি কাবা শরীফের দিকে মুখ করে সালাত করতে থাকলেন এবং এই অবস্থাতেই আমরা মক্কায় এসে পৌঁছলাম। রাবী বলেন (আমার ভাই বলেছেন) আমরা গোটা রাস্তায় এ বিষয়ে তাঁকে তিরস্কার করতে করতে এসেছি, কিন্তু তিনি তার জিদে অটল থেকেছেন এবং আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করেছেন। মক্কায় পৌঁছার পর তিনি আমাকে বললেন, ভাতিজা, আমাকে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে নিয়ে চলো। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করবো, সারাপথে আমি যা করেছি (যেভাবে সালাত আদায় করেছি) তা ঠিক হলো কি না? এ বিষয়ে তোমাদেরকে যেভাবে আমার বিরুদ্ধে কাজ করতে দেখেছি, তাতে আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে।
রাবী বলেন, অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সন্ধানে বের হলাম। আমরা তাঁকে চিনতাম না এবং ইতিপূর্বে আমরা তাঁকে কখনও দেখিনি। (এমন সময়) জনৈক মক্কাবাসীর সাথে দেখা হলো; আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোথায় আছেন? লোকটি জিজ্ঞেস করলো, তোমরা কি তাঁকে চেন? আমরা বললাম, না। সে বললো, তাঁর চাচা আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিবকে কি চেন? আমরা বললাম, হ্যাঁ।
রাবী বলেন, আমরা আব্বাসকে আগে থেকেই চিনতাম। (কারণ) তিনি আমাদের এলাকা দিয়ে ব্যবসার উপলক্ষে যাতায়াত করতেন। মক্কাবাসী লোকটি বললো, তোমরা মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে যাঁকে আব্বাসের সাথে উপবিষ্ট দেখতে পাবে, তিনিই সেই ব্যক্তি। আমরা মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলাম এবং দেখতে পেলাম আব্বাস বসে আছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার পাশেই বসে আছেন। আমরা সালাম জানিয়ে তাঁর কাছে বসে গেলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আব্বাসকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি এ দু'জনকে চিনেন, হে আবুল ফযল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ইনি হচ্ছেন গোত্রপতি বারা ইবন্ মা'রূর; আর ইনি হলেন- কা'ব ইবন মালিক। এ কথা শুনে রাসূল (ﷺ) বললেন, কবি কা'ব? আল্লাহর শপথ, তার এ কথাটি আমি কোন দিনও ভুলব না। আব্বাস বললেন, হ্যাঁ। তখন রাবী বললেন, হে আল্লাহর নবী, আমি সফরে বের হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ্ আমাকে ইসলাম গ্রহণের তওফীক দিয়েছেন। এরপর আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিলাম যে এই গৃহকে (কাবা শরীফকে) পেছনে রেখে সালাত আদায় করবো না। সেমতে আমি ঐভাবেই সালাত আদায় করে আসছি। কিন্তু আমার সাথীরা আমার মতের বিরোধিতা করেছে। সুতরাং আমার মনে সংশয়ের উদ্রেক হয়েছে। হে আল্লাহর রাসূল, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি একটি কিবলার অনুসরণ করতে, সুতরাং ধৈর্য্য ধারণ করে সেই কিবলার অনুসরণ করাই শ্রেয় ছিল। রাবী বলেন, এরপর বারা রাসূলের অনুসৃত কিবলার দিকে ফিরে আসেন এবং আমাদের সাথে সিরিয়ার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে থাকেন। রাবী বলেন, তবে বারার পরিজন বা আত্মীয় স্বজনরা মনে করে থাকে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কা'বার দিকে মুখ করেই সালাত আদায় করে গেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটি ঠিক নয় যেরূপ তারা বর্ণনা করেছে। কারণ, বারা সম্পর্কে তাদের চেয়ে আমরাই বেশী জানি। এরপর আমরা হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আইয়্যামে তাশরীকের মাঝামাঝি সময়ে আমরা রাসূলের (ﷺ) সাথে মিলিত হওয়ার ওয়াদা করলাম। যেদিন হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শেষ হলো, তার পরবর্তী রাতটিই ছিল রাসূলের (ﷺ) সাথে আমাদের মিলিত হওয়ার প্রতিশ্রুত রাত। তখন আমাদের সাথে ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইব্ন হারাম আবূ জাবির। তিনি ছিলেন আমাদের অন্যতম নেতা। তাকেও আমরা সাথে নিলাম। কিন্তু আমাদের সফরসঙ্গী আমাদের গোত্রের মুশরিকদের কাছ থেকে আমাদের (পরিকল্পিত) বিষয়টি গোপন করে রেখেছিলাম। আমরা আবু জাবিরকে বললাম, হে আবু জাবির আমাদের অন্যতম সম্মানিত নেতা। আপনি যে জীবন-পদ্ধতি অনুসরণ করে চলছেন এটি আমাদের বিবেচনায় অত্যন্ত গর্হিত ব্যাপার। এর কারণে আপনি আগামী দিনে (পরকালে) জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হন, তা আমরা চাই না। এরপর আমি তাঁকে ইসলামের দা'ওয়াত দিলাম এবং রাসূলের (ﷺ) সাথে আমাদের মিলিত হওয়ার নির্ধারিত সময়ের কথা জানালাম। আবু জাবির তখন ইসলাম কবুল করলেন এবং আমাদের সাথে আকাবার বাইয়াতে অংশগ্রহণ করলেন। তিনি ছিলেন একজন নকীব (আহ্বায়ক বা সর্দার)। রাবী বলেন, সেই রাতে আমরা কওমের অন্যান্য লোকদের সাথে কাফিলার মধ্যেই নিদ্রা গেলাম। রাত এক তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমরা অতি সন্তর্পণে রাসূলকে (ﷺ) দেওয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আকাবার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। নিশাচর পাখির ন্যায় অতি সন্তর্পণে ও গোপনে পথ চলতে চলতে আমরা আকাবার গিরিসংকটে গিয়ে সমবেত হলাম। আমরা সংখ্যায় সত্তরজন পুরুষ। দুইজন স্ত্রীলোকও ছিলেন। তাঁরা হলেন নু'সাইবা বিনতি কা'ব, যিনি উমারার মাতা ও বনূ মাযিন ইবন্ নাজ্জার গোত্রীয় মহিলা। অপরজন আসমা বিনতি আমর ইবন 'আদী ইবন সাবিত, ইনি উম্মু মানী' (বা মানী'র মাতা) ও বনূ সালামা গোত্রীয় মহিলা।
.....রাবী (কা'ব ইবন মালিক রা) বলেন, আমরা গিরিসংকটে সমবেত হয়ে রাসুলুল্লাহর (ﷺ) প্রতীক্ষায় ছিলাম। এমন সময় তিনি তাঁর চাচা 'আব্বাস ইব্ন 'আব্দুল মুত্তালিবকে সাথে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। আব্বাস তখনও তার কওমের দ্বীনের উপর ছিলেন (তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি)। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর ভাতিজার এই গুরুত্বপর্ণ বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা এবং তাঁর নিরাপত্তা বিধানের পক্ষেই রাসূলের (ﷺ) সাথে এসেছিলেন। আমরা যখন (বৈঠকে) বসলাম, তখন সর্বপ্রথম কথা বললেন আব্বাস। তিনি বললেন, হে খাযরাজ গোত্রের সম্মানীয়) লোকজন, (রাবী বলেন, উল্লেখ্য যে, আরবরা আনসারীদেরকে সাধারণভাবে খাযরাজ নামে অভিহিত করত, তা খাযরাজ গোত্রের লোকই হোক বা আওস গোত্রের হোক।) মুহাম্মদ আমাদের মধ্যে কিরূপ মর্যাদার অধিকারী তা আপনাদের নিশ্চয় জানা আছে। আমরা তাঁকে তাঁর সম্প্রদায়ের এমন সব লোকদের যুলুম-নির্যাতন থেকে রক্ষা করেছি, যারা তাঁর ব্যাপারে আমাদের মতই ধারণা রাখে। ফলে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ে সম্মান ও স্বদেশে নিরাপত্তার সাথেই আছেন। রাবী বলেন, আমরা বললাম, (হে আবুল ফযল আল-আব্বাস) আমরা আপনার বক্তব্য শুনলাম। এবার আপনি বলুন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) এবং আপনার ও আপনার রবের পক্ষে যেরূপ প্রতিশ্রুতি আপনি পছন্দ করবেন, সেইরূপ গ্রহণ করুন। এবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর কথা বললেন। প্রথমে তিনি আল-কুরআন থেকে তিলাওয়াত করলেন, আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর দিকে দাওয়াত দিলেন এবং ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে (সবাইকে) অনুপ্রাণিত করলেন। তারপর বললেন, আমি আপনাদের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করি যে, তোমরা তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে যেভাবে রক্ষা করে থাকো, আমাকেও সেভাবে রক্ষা করবে। (তৎক্ষনাৎ) বারা ইব্ন মা'রূর রাসুলুল্লাহর (ﷺ) হাত ধরে বললেন, হ্যাঁ। যে মহান সত্তা আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আমরা যেভাবে আমাদের স্ত্রী-স্বজনদের রক্ষা করে থাকি, আপনাকেও সেভাবে রক্ষা করবো। অতঃপর আমরা রাসূলের (ﷺ) হাতে এই মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম (এবং আমরা তাঁকে এও জানালাম যে.) আমরা যুদ্ধ ও অস্ত্রের মধ্যেই লালিত পালিত। আমরা বংশানুক্রমে (উত্তরাধিকার সূত্রে) যোদ্ধা জাতি।
রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে বারার কথাবার্তা শেষ হতে না হতেই বনু আবদুল আশহাল গোত্রের মিত্র আবুল হাইছাম ইবনুত তায়্যিহান বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ইয়াহুদীদের সাথে আমাদের মৈত্রী চুক্তি রয়েছে, আমরা তা ছিন্ন করতে চাচ্ছি। আমরা তা করার পর (ইয়াহুদীদের সাথে মৈত্রী চুক্তি ছিন্ন করার পর) আল্লাহ্ যদি আপনাকে বিজয় দান করেন, আপনি কি আমাদেরকে পরিত্যাগ করে নিজ গোত্রে ফিরে যাবেন? একথা শুনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুচকি হেসে বললেন, আমি বরং তোমাদের জীবন-মরণ ও সুখ- দুঃখের চিরসঙ্গী হয়ে থাকবো, আমি (চিরদিন) তোমাদের থাকব এবং তোমরাও আমার থাকবে। তোমাদের রক্তপাতকে আমার রক্তপাত বলে মনে করবো। তোমরা যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আমিও তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো, আর তোমরা যার সাথে আপোষ বা সন্ধি করবে, আমিও তাদের সাথে আপোষ করবো।
(এ পর্যায়ে) রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্য থেকে বারজন প্রতিনিধি (নকীব) চয়ন করে আমার কাছে পাঠাও, যেন তাঁরা নিজ নিজ গোত্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে (এবং এই বাইয়াতে সামিল করে নিতে পারে)। তখন তাঁরা তাঁদের মধ্য থেকে বারজন নকীব ঠিক করেন; তন্মধ্যে নয়জন খাযরাজ ও তিনজন আউস গোত্রীয়। যিনি সর্বপ্রথম রাসূলের (ﷺ) হাত ধরে বাইআত করেন, তিনি ছিলেন বারা ইবন মা'রূর। পরে একের পর এক অন্যরা বাইআতে শামিল হয়। রাবী বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহর সাথে বাই'আত সম্পন্ন করলাম, তখন আক্বাবার পর্বত শীর্ষ থেকে শয়তান এমন জোরে চিৎকার করে উঠলো যে ওরকম বিকট চিৎকার আমি আর কোন দিন শুনিনি। সে চিৎকার করে বলছিল, হে মীনার অধিবাসীরা, তোমরা কি লক্ষ্য করলে না, এই যে 'মুযাম্মাম' নিন্দিত ব্যক্তির সাথে ধর্মত্যাগীরা যোগসাজস করে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌছে গেছে? (ইবন ইসহাক বলেন, আল্লাহ্ শত্রুরা মুহাম্মদ (ﷺ)-কে 'মুযাম্মাম' বলতো। অর্থাৎ মুহাম্মদ হচ্ছে প্রশংসিত-নন্দিত, কিন্তু তারা বলতো মুযাম্মাম বা নিন্দিত।) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, এটি হচ্ছে আকাবার শয়তান ইবনে উযাইবের চিৎকার। শুনে রাখ, হে আল্লাহর দুশমন, আল্লাহর শপথ, তোর আধিপত্যের দিন অবশ্যই শেষ হতে যাচ্ছে। অতঃপর রাসূল (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিলেন, তোমরা নিজ নিজ কাফিলায় ফিরে যাও। (এই সময়) আব্বাস ইব্ন উবাদা ইব্ন নাদলা বললেন, যে মহান সত্ত্বা আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ, আপনি চাইলে আমরা আগামীকাল সকলেই মীনায় অবস্থানকারী (মুশরিকদের উপর) তরবারী নিয়ে হামলা চালাবো। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমি এ ব্যাপারে (এখনও) আদিষ্ট হইনি। অতঃপর আমরা কাফিলায় ফিরে আসলাম এবং সকাল পর্যন্ত নিদ্রায় কাটালাম। সকাল হতেই কুরাইশদের এক বিরাট দল আমাদেরকে ঘিরে ধরলো। এমনকি তারা আমাদের শিবিরে প্রবেশ করে বললো, হে খাযরাজ গোত্রের লোকজন, আমরা জানতে পেরেছি যে, তোমরা আমাদের গোত্রীয় সাথীকে (মুহাম্মদকে) আমাদের কাছ থেকে বের করে নিয়ে যেতে এসেছ এবং আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তার সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছ। আল্লাহর শপথ, আরবের অন্য কোন গোত্রের সাথে যুদ্ধ করার চেয়ে তোমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া আমাদের কাছে সবচেয়ে অপ্রীতিকর। (তাদের এসব কথা শুনে) আমাদের কাফিলার গোত্রীয় মুশরিকরা আল্লাহর নামে শপথ করে তাদেরকে বলতে লাগলো, এ ধরনের কোন কিছু ঘটেনি (বা কোন ষড়যন্ত্র হয়নি) এবং আমরা এর কিছুই জানি না। বস্তুতঃ তারা সত্য কথাই বলছিল, কারণ তারা আমাদের ঐ বিষয়ে কিছুই জানতে পারেনি। (এই সময় আমরা কোন কথা না বলে) আমরা একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম। তখন কুরাইশী কাফিররা হারিছ ইব্নল মুগীরা আল- মাখযূমীসহ দণ্ডায়মান হলো; হারিছের পায়ে ছিল এক জোড়া নতুন জুতা। রাবী বলেন, তখন আমি কুরাইশীদের মনোযোগ অন্যদিকে আকর্ষিত করার লক্ষ্যে বললাম, হে আবু জাবির, আপনি আমাদের অন্যতম প্রধান নেতা। আপনি কি কুরাইশী এই যুবকের (হারিছ) জুতার ন্যায় এক জোড়া জুতা ব্যবহার করতে পারেন না? হারিছ আমার কথাটি শুনতে পায় এবং জুতাজোড়া খুলে আমার দিকে নিক্ষেপ করে দিয়ে বললো, আল্লাহর শপথ, তুমি এগুলো পায়ে পড়ে নাও। আবু জাবির (রা) বললেন, হায়, তুমি তো এই যুবকটিকে ক্ষেপিয়ে দিলে, তার জুতাগুলো ফেরত দাও। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ, আমি তা ফেরত দেব না। এটি একটি শুভ লক্ষণ। এই লক্ষণ যদি সত্য হয়, তাহলে আমি অবশ্যই যুদ্ধের ময়দানে একে পরাজিত করে তা ছিনিয়ে নেব।
(ইবনে হিশাম ইবন ইসহাক থেকে।)
রাবী বলেন, অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সন্ধানে বের হলাম। আমরা তাঁকে চিনতাম না এবং ইতিপূর্বে আমরা তাঁকে কখনও দেখিনি। (এমন সময়) জনৈক মক্কাবাসীর সাথে দেখা হলো; আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোথায় আছেন? লোকটি জিজ্ঞেস করলো, তোমরা কি তাঁকে চেন? আমরা বললাম, না। সে বললো, তাঁর চাচা আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিবকে কি চেন? আমরা বললাম, হ্যাঁ।
রাবী বলেন, আমরা আব্বাসকে আগে থেকেই চিনতাম। (কারণ) তিনি আমাদের এলাকা দিয়ে ব্যবসার উপলক্ষে যাতায়াত করতেন। মক্কাবাসী লোকটি বললো, তোমরা মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে যাঁকে আব্বাসের সাথে উপবিষ্ট দেখতে পাবে, তিনিই সেই ব্যক্তি। আমরা মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলাম এবং দেখতে পেলাম আব্বাস বসে আছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার পাশেই বসে আছেন। আমরা সালাম জানিয়ে তাঁর কাছে বসে গেলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আব্বাসকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি এ দু'জনকে চিনেন, হে আবুল ফযল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ইনি হচ্ছেন গোত্রপতি বারা ইবন্ মা'রূর; আর ইনি হলেন- কা'ব ইবন মালিক। এ কথা শুনে রাসূল (ﷺ) বললেন, কবি কা'ব? আল্লাহর শপথ, তার এ কথাটি আমি কোন দিনও ভুলব না। আব্বাস বললেন, হ্যাঁ। তখন রাবী বললেন, হে আল্লাহর নবী, আমি সফরে বের হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ্ আমাকে ইসলাম গ্রহণের তওফীক দিয়েছেন। এরপর আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিলাম যে এই গৃহকে (কাবা শরীফকে) পেছনে রেখে সালাত আদায় করবো না। সেমতে আমি ঐভাবেই সালাত আদায় করে আসছি। কিন্তু আমার সাথীরা আমার মতের বিরোধিতা করেছে। সুতরাং আমার মনে সংশয়ের উদ্রেক হয়েছে। হে আল্লাহর রাসূল, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি একটি কিবলার অনুসরণ করতে, সুতরাং ধৈর্য্য ধারণ করে সেই কিবলার অনুসরণ করাই শ্রেয় ছিল। রাবী বলেন, এরপর বারা রাসূলের অনুসৃত কিবলার দিকে ফিরে আসেন এবং আমাদের সাথে সিরিয়ার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে থাকেন। রাবী বলেন, তবে বারার পরিজন বা আত্মীয় স্বজনরা মনে করে থাকে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কা'বার দিকে মুখ করেই সালাত আদায় করে গেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটি ঠিক নয় যেরূপ তারা বর্ণনা করেছে। কারণ, বারা সম্পর্কে তাদের চেয়ে আমরাই বেশী জানি। এরপর আমরা হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আইয়্যামে তাশরীকের মাঝামাঝি সময়ে আমরা রাসূলের (ﷺ) সাথে মিলিত হওয়ার ওয়াদা করলাম। যেদিন হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শেষ হলো, তার পরবর্তী রাতটিই ছিল রাসূলের (ﷺ) সাথে আমাদের মিলিত হওয়ার প্রতিশ্রুত রাত। তখন আমাদের সাথে ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইব্ন হারাম আবূ জাবির। তিনি ছিলেন আমাদের অন্যতম নেতা। তাকেও আমরা সাথে নিলাম। কিন্তু আমাদের সফরসঙ্গী আমাদের গোত্রের মুশরিকদের কাছ থেকে আমাদের (পরিকল্পিত) বিষয়টি গোপন করে রেখেছিলাম। আমরা আবু জাবিরকে বললাম, হে আবু জাবির আমাদের অন্যতম সম্মানিত নেতা। আপনি যে জীবন-পদ্ধতি অনুসরণ করে চলছেন এটি আমাদের বিবেচনায় অত্যন্ত গর্হিত ব্যাপার। এর কারণে আপনি আগামী দিনে (পরকালে) জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হন, তা আমরা চাই না। এরপর আমি তাঁকে ইসলামের দা'ওয়াত দিলাম এবং রাসূলের (ﷺ) সাথে আমাদের মিলিত হওয়ার নির্ধারিত সময়ের কথা জানালাম। আবু জাবির তখন ইসলাম কবুল করলেন এবং আমাদের সাথে আকাবার বাইয়াতে অংশগ্রহণ করলেন। তিনি ছিলেন একজন নকীব (আহ্বায়ক বা সর্দার)। রাবী বলেন, সেই রাতে আমরা কওমের অন্যান্য লোকদের সাথে কাফিলার মধ্যেই নিদ্রা গেলাম। রাত এক তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমরা অতি সন্তর্পণে রাসূলকে (ﷺ) দেওয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আকাবার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। নিশাচর পাখির ন্যায় অতি সন্তর্পণে ও গোপনে পথ চলতে চলতে আমরা আকাবার গিরিসংকটে গিয়ে সমবেত হলাম। আমরা সংখ্যায় সত্তরজন পুরুষ। দুইজন স্ত্রীলোকও ছিলেন। তাঁরা হলেন নু'সাইবা বিনতি কা'ব, যিনি উমারার মাতা ও বনূ মাযিন ইবন্ নাজ্জার গোত্রীয় মহিলা। অপরজন আসমা বিনতি আমর ইবন 'আদী ইবন সাবিত, ইনি উম্মু মানী' (বা মানী'র মাতা) ও বনূ সালামা গোত্রীয় মহিলা।
.....রাবী (কা'ব ইবন মালিক রা) বলেন, আমরা গিরিসংকটে সমবেত হয়ে রাসুলুল্লাহর (ﷺ) প্রতীক্ষায় ছিলাম। এমন সময় তিনি তাঁর চাচা 'আব্বাস ইব্ন 'আব্দুল মুত্তালিবকে সাথে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। আব্বাস তখনও তার কওমের দ্বীনের উপর ছিলেন (তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি)। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর ভাতিজার এই গুরুত্বপর্ণ বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা এবং তাঁর নিরাপত্তা বিধানের পক্ষেই রাসূলের (ﷺ) সাথে এসেছিলেন। আমরা যখন (বৈঠকে) বসলাম, তখন সর্বপ্রথম কথা বললেন আব্বাস। তিনি বললেন, হে খাযরাজ গোত্রের সম্মানীয়) লোকজন, (রাবী বলেন, উল্লেখ্য যে, আরবরা আনসারীদেরকে সাধারণভাবে খাযরাজ নামে অভিহিত করত, তা খাযরাজ গোত্রের লোকই হোক বা আওস গোত্রের হোক।) মুহাম্মদ আমাদের মধ্যে কিরূপ মর্যাদার অধিকারী তা আপনাদের নিশ্চয় জানা আছে। আমরা তাঁকে তাঁর সম্প্রদায়ের এমন সব লোকদের যুলুম-নির্যাতন থেকে রক্ষা করেছি, যারা তাঁর ব্যাপারে আমাদের মতই ধারণা রাখে। ফলে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ে সম্মান ও স্বদেশে নিরাপত্তার সাথেই আছেন। রাবী বলেন, আমরা বললাম, (হে আবুল ফযল আল-আব্বাস) আমরা আপনার বক্তব্য শুনলাম। এবার আপনি বলুন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) এবং আপনার ও আপনার রবের পক্ষে যেরূপ প্রতিশ্রুতি আপনি পছন্দ করবেন, সেইরূপ গ্রহণ করুন। এবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর কথা বললেন। প্রথমে তিনি আল-কুরআন থেকে তিলাওয়াত করলেন, আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর দিকে দাওয়াত দিলেন এবং ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে (সবাইকে) অনুপ্রাণিত করলেন। তারপর বললেন, আমি আপনাদের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করি যে, তোমরা তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে যেভাবে রক্ষা করে থাকো, আমাকেও সেভাবে রক্ষা করবে। (তৎক্ষনাৎ) বারা ইব্ন মা'রূর রাসুলুল্লাহর (ﷺ) হাত ধরে বললেন, হ্যাঁ। যে মহান সত্তা আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আমরা যেভাবে আমাদের স্ত্রী-স্বজনদের রক্ষা করে থাকি, আপনাকেও সেভাবে রক্ষা করবো। অতঃপর আমরা রাসূলের (ﷺ) হাতে এই মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম (এবং আমরা তাঁকে এও জানালাম যে.) আমরা যুদ্ধ ও অস্ত্রের মধ্যেই লালিত পালিত। আমরা বংশানুক্রমে (উত্তরাধিকার সূত্রে) যোদ্ধা জাতি।
রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে বারার কথাবার্তা শেষ হতে না হতেই বনু আবদুল আশহাল গোত্রের মিত্র আবুল হাইছাম ইবনুত তায়্যিহান বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ইয়াহুদীদের সাথে আমাদের মৈত্রী চুক্তি রয়েছে, আমরা তা ছিন্ন করতে চাচ্ছি। আমরা তা করার পর (ইয়াহুদীদের সাথে মৈত্রী চুক্তি ছিন্ন করার পর) আল্লাহ্ যদি আপনাকে বিজয় দান করেন, আপনি কি আমাদেরকে পরিত্যাগ করে নিজ গোত্রে ফিরে যাবেন? একথা শুনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুচকি হেসে বললেন, আমি বরং তোমাদের জীবন-মরণ ও সুখ- দুঃখের চিরসঙ্গী হয়ে থাকবো, আমি (চিরদিন) তোমাদের থাকব এবং তোমরাও আমার থাকবে। তোমাদের রক্তপাতকে আমার রক্তপাত বলে মনে করবো। তোমরা যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আমিও তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো, আর তোমরা যার সাথে আপোষ বা সন্ধি করবে, আমিও তাদের সাথে আপোষ করবো।
(এ পর্যায়ে) রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্য থেকে বারজন প্রতিনিধি (নকীব) চয়ন করে আমার কাছে পাঠাও, যেন তাঁরা নিজ নিজ গোত্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে (এবং এই বাইয়াতে সামিল করে নিতে পারে)। তখন তাঁরা তাঁদের মধ্য থেকে বারজন নকীব ঠিক করেন; তন্মধ্যে নয়জন খাযরাজ ও তিনজন আউস গোত্রীয়। যিনি সর্বপ্রথম রাসূলের (ﷺ) হাত ধরে বাইআত করেন, তিনি ছিলেন বারা ইবন মা'রূর। পরে একের পর এক অন্যরা বাইআতে শামিল হয়। রাবী বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহর সাথে বাই'আত সম্পন্ন করলাম, তখন আক্বাবার পর্বত শীর্ষ থেকে শয়তান এমন জোরে চিৎকার করে উঠলো যে ওরকম বিকট চিৎকার আমি আর কোন দিন শুনিনি। সে চিৎকার করে বলছিল, হে মীনার অধিবাসীরা, তোমরা কি লক্ষ্য করলে না, এই যে 'মুযাম্মাম' নিন্দিত ব্যক্তির সাথে ধর্মত্যাগীরা যোগসাজস করে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌছে গেছে? (ইবন ইসহাক বলেন, আল্লাহ্ শত্রুরা মুহাম্মদ (ﷺ)-কে 'মুযাম্মাম' বলতো। অর্থাৎ মুহাম্মদ হচ্ছে প্রশংসিত-নন্দিত, কিন্তু তারা বলতো মুযাম্মাম বা নিন্দিত।) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, এটি হচ্ছে আকাবার শয়তান ইবনে উযাইবের চিৎকার। শুনে রাখ, হে আল্লাহর দুশমন, আল্লাহর শপথ, তোর আধিপত্যের দিন অবশ্যই শেষ হতে যাচ্ছে। অতঃপর রাসূল (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিলেন, তোমরা নিজ নিজ কাফিলায় ফিরে যাও। (এই সময়) আব্বাস ইব্ন উবাদা ইব্ন নাদলা বললেন, যে মহান সত্ত্বা আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ, আপনি চাইলে আমরা আগামীকাল সকলেই মীনায় অবস্থানকারী (মুশরিকদের উপর) তরবারী নিয়ে হামলা চালাবো। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমি এ ব্যাপারে (এখনও) আদিষ্ট হইনি। অতঃপর আমরা কাফিলায় ফিরে আসলাম এবং সকাল পর্যন্ত নিদ্রায় কাটালাম। সকাল হতেই কুরাইশদের এক বিরাট দল আমাদেরকে ঘিরে ধরলো। এমনকি তারা আমাদের শিবিরে প্রবেশ করে বললো, হে খাযরাজ গোত্রের লোকজন, আমরা জানতে পেরেছি যে, তোমরা আমাদের গোত্রীয় সাথীকে (মুহাম্মদকে) আমাদের কাছ থেকে বের করে নিয়ে যেতে এসেছ এবং আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তার সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছ। আল্লাহর শপথ, আরবের অন্য কোন গোত্রের সাথে যুদ্ধ করার চেয়ে তোমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া আমাদের কাছে সবচেয়ে অপ্রীতিকর। (তাদের এসব কথা শুনে) আমাদের কাফিলার গোত্রীয় মুশরিকরা আল্লাহর নামে শপথ করে তাদেরকে বলতে লাগলো, এ ধরনের কোন কিছু ঘটেনি (বা কোন ষড়যন্ত্র হয়নি) এবং আমরা এর কিছুই জানি না। বস্তুতঃ তারা সত্য কথাই বলছিল, কারণ তারা আমাদের ঐ বিষয়ে কিছুই জানতে পারেনি। (এই সময় আমরা কোন কথা না বলে) আমরা একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম। তখন কুরাইশী কাফিররা হারিছ ইব্নল মুগীরা আল- মাখযূমীসহ দণ্ডায়মান হলো; হারিছের পায়ে ছিল এক জোড়া নতুন জুতা। রাবী বলেন, তখন আমি কুরাইশীদের মনোযোগ অন্যদিকে আকর্ষিত করার লক্ষ্যে বললাম, হে আবু জাবির, আপনি আমাদের অন্যতম প্রধান নেতা। আপনি কি কুরাইশী এই যুবকের (হারিছ) জুতার ন্যায় এক জোড়া জুতা ব্যবহার করতে পারেন না? হারিছ আমার কথাটি শুনতে পায় এবং জুতাজোড়া খুলে আমার দিকে নিক্ষেপ করে দিয়ে বললো, আল্লাহর শপথ, তুমি এগুলো পায়ে পড়ে নাও। আবু জাবির (রা) বললেন, হায়, তুমি তো এই যুবকটিকে ক্ষেপিয়ে দিলে, তার জুতাগুলো ফেরত দাও। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ, আমি তা ফেরত দেব না। এটি একটি শুভ লক্ষণ। এই লক্ষণ যদি সত্য হয়, তাহলে আমি অবশ্যই যুদ্ধের ময়দানে একে পরাজিত করে তা ছিনিয়ে নেব।
(ইবনে হিশাম ইবন ইসহাক থেকে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قدوم سبعين رجلا وامرأتين من الأنصار بعد العقبه الأولى بعام وبيعة العقبة الثانية
حدّثنا يعقوب قال ثنا أبى عن ابن اسحاق قال فحدثنى معبد بن كعب بن مالك بن أبى كعب بن القين أخو بنى سلمة ان أخاه عبد الله بن كعب وكان من أعلم الانصار حدثه أن أباه كعب بن مالك وكان كعب ممن شهد العقبة وبايع رسول الله صلى الله عليه وسلم بها قال خرجنا فى حجاج قومنا من المشركين وقد صلينا وفقهنا ومعنا البراء بن معرور كبيرنا وسيدنا، فلما تواجهنا لسفرنا وخرجنا من المدينة قال البراء لنا يا هؤلاء انى قد رأيت والله رأيا وانى والله ما أدرى توافقونى عليه أم لا؟ قال قلنا له وما ذاك؟ قال قد رأيت ان لا أدع هذه البنية منى ظبهر، يعنى الكعبة وان أصلى اليها، قال فقلنا والله ما بلغنا أن نبينايصلى الا الى الشام وما نريد ان نخالفه، فقال انى أصلى اليها: قال فقلنا له لكنا لا نفعل، فكنا اذا حضرت الصلاة صلينا الى الشام وصلى الى الكعبة حتى قدمنا مكة قال أخي وقد كنا عبنا عليه ما صنع وأبى الا الأقامة عليه، فلما قدمنا مكة قال يا ابن أخى انطلق الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاسأله عما صنعت فى سفرى هذا فانه والله قد وقع فى نفسى منه شئ لما رأيت من خلافكم إياى فيه، قال فخرجنا نسأل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وكنا لا نعرفه لم نره قبل ذلك، فلقينا رجل من أهل مكة فسألناه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال هل تعرفانه، قال قلنا لا، قال فهل تعرفان العباس بن عبد المطلب عمه؟ قلنا نعم، قال وكنا نعرف العباس، كان لا يزال يقدم علينا تاجرا: قال فاذا دخلتما المسجد فهو الرجل الجالس مع العباس قال فدخلنا المسجد فاذا العباس جالس ورسول الله صلى الله عليه وسلم معه جالس فسلمنا ثم جلسنا اليه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للعباس هل تعرف هذين الرجلين يا أبا الفضل؟ قال نعم: هذا البراء بن معرور سيد قومه وهذا كعب بن مالك قال فوالله ما أنسى قول رسول الله صلى الله عليه وسلم الشاعر؟ قال نعم، قال فقال البراء بن معرور يا نبى الله انى خرجت من سفرى هذا وهدانى الله للاسلام فرأيت أن لا أجعل هذه البنية منى بظهر فصليت اليها وقد خالفنى أصحابى فى ذلك حتى وقع فى نفسى من ذلك شئ فماذا ترى يا رسول الله؟ قال لقد كنت على قبلة لو صبرت عليها قال فرجع البراء الى قبلة رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى معنا الى الشام، قال وأهله يزعمون أنه صلى الى الكعبة حتى مات وليس ذلك كما قالوا، نحن أعلم به منهم قال وخرجنا الى الحج فوعدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم العقبة من أوسط أيام التشريق فلما رفغنا الحج وكانت الليلة التى وعدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعنا عبد الله بن عمرو بن حرام أبو جابر سيد من ساداتنا وكنا نكتم من معنا من قومنا من المشركين أمرنا فكلمناه وقلنا له يا أبا جابر انك سيد من ساداتنا وشريف من أشرافنا، وإنا نرغب بك عما أنت فيه ان تكون حطبا للنار غدا: ثم دعوته الى الاسلام وأخرته بميعاد رسول الله صلى الله عليه وسلم فأسلم وشهد معنا العقبة وكان نقيبا، قال فنمنا تلك الليلة مع قومنا فى رحالنا حتى اذا مضى ثلث الليل خرجنا من رحالنا لميعاد رسول الله صلى الله عليه وسلم نتسلل مستخفين تسلل القطا حتى اجتمعنا فى الشعب عن دالعقبة ونحن سبعون رجلا ومعنا امرأتان من نسائهم: نسيبة بنت كعب أم عمارة احدى نساء بنى مازن بن النجار واسماء بنت عمرو بن عدى بن ثابت احدى نساء بنى سلمة وهى أم منيع، قال فاجتمعنا بالشعب ننتظر رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى جاءنا ومعه يومئذ عمه العباس بن عبد المطلب وهو يومئذ على دين قومه إلا أنه احب ان يحضر امر ابن اخيه ويتوثق له، فلما جلسنا كان العباس بن عبد المطلب اول متكلم فقال يا معشر الخزرج، قال وكانت العرب مما يسمون هذا الحى من الانصار الخزرج أوسها وخزرجها: إن محمدا منا حيث قد علمتم وقد منعناه من قومنا ممن هو على مثل رأينا فيه وهو فى عز من قومه ومنعة فى بلده قال فقلنا قد سمعنا ما قلت فتكلم يا رسول الله فخذ لنفسك ولربك ما أحببت، قال فتكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم فتلا ودعا الى الله عز وجل ورغّب فى الاسلام قال أبايعكم على أن تمنعونى مما تمنعون منه نساءكم وأبناءكم: قال فأخذ البراء بن معرور بيده ثم قال نعم والذى بعثك بالحق لنمنعنك مما نمنع منه أزرنا فبايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فنحن أهل الحروب وأهل الحلقة ورثناها كابرًا عن كابر، قال فاعترض القول والبراء يكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم أبو الهيثم ابن التيهان حليف بنى عبد الأشهل فقال يا رسول الله ان بينا وبين الرجال حبالا وانا قاطعوها يعنى العهود، فهل عسيت إن نحن فعلنا ذلك ثم أظهرك الله ان ترجع الى قومك وتدعنا؟ قال فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال بل الدم الدم والهدم الهدم انا منكم وانتم منى أحارب من حاربتم وأسالم من سالمتم، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اخرجوا الى منكم اثني عشر نقيبا يكونون على قومهم فأخرجوا منهم اثنى عشر نقيبا منهم تسعة من الخزرج وثلاثة من الأوس، وأما معبد بن كعب فحدثني فى حديثه عن أخيه عن أبيه كعب بن مالك قال كان أول من ضرب على يد رسول الله صلى الله عليه وسلم البراء بن معرور ثم تتابع القوم، فلما بايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صرخ الشيطان من رأس العقبة بأبعد صوت سمعته قط يا أهل الجباجب والجباجب المنازل هل لكم فى مذمّم. الصباة معه قد أجمعوا على حربكم، قال على يعنى ابن اسحاق ما يقول عدو الله محمد، ففال رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا أزب العقبة هذا ابن ازيب اسمع أي عدو الله أما والله لا فرغن لك، ثم قال، رسول الله صلى الله عليه وسلم أرجعوا الى رحالكم، قال فقال له العباسي بن عبادة بن نضلة والذى بعثك بالحق لئن شئت لنميلن على أهل منى غدا بأسيافنا، قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لم أومر بذلك، قال فرجعنا فنمنا حتى أصبحنا فلما أصبحنا غدت علينا جلة قريش حتى جاءونا في منازلنا فقالوا يا معشر الخزرج انه قد بلغنا انکم قد جئتم الى صاحبنا هذا تستخرجونه من بين أظهرنا وتبايعونه على حربنا، والله انه ما من العرب أحد أبغض الينا ان تنشب الحرب بيننا وبينه منكم، قال فانبعث من هنالك من مشركى قومنا يحلفون لهم بالله ما كان من هذا شئ وما علمناه، وقد صدقوا لم يعلموا ما كان منا، قال فبعضنا ينظر الى بعض، قال وقام القوم وفيهم الحارث بن هشام بن المغيرة المخزومي وعليه نعلان جديدان قال فقلت كلمة كأنى أريد أن أشرك القوم بها فيما قالوا: ما تستطيع يا أبا جابر وأنت سيد من ساداتنا أن تتخذ نعلين مثل نعلي هذا الفتى من قريش؟ فسمعهما الحرث فخلعهما ثم رمى بهما الى فقال والله لتنتعلنها: قال يقول أبو جابر أحفظت والله الفتى فاردد عليه نعليه، قال فقلت والله لا أردهما، قال والله صالح لئن صدق الفأل لاسلبنه فهذا حديث كعب بن مالك من العقبة وما حاضر منها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : প্রথম 'আকাবার বায়'আতের পর আনসারীগণের মধ্য থেকে সত্তরজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার আগমন যা দ্বিতীয় আক্বাবার বায়'আত নামে পরিচিত
(১৩৯) আমির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর চাচা আব্বাসসহ আকাবার নিকট একটি বৃক্ষের নীচে সত্তরজন আনুসারীর সাথে মিলিত হতে গমন করলেন। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যিনি (মুখপাত্র) তিনি কথা বলা শুরু করুন। তিনি বক্তব্যের ভূমিকা যেন দীর্ঘ না করেন। কারণ, আপনাদের উপর মুশরিকদের চোখ (গুপ্তচর) রয়েছে। যদি তারা আপনাদের সম্পর্কে জেনে যায়, তবে তারা আপনাদেরকে নিগৃহীত করবে। তখন তাঁদের মধ্যকার মুখপাত্র আবু উমামা বললেন, হে মুহাম্মদ আপনি আপনার রবের জন্য (আমাদের কাছে) কী প্রত্যাশা করেন? তা ব্যক্ত করুন। এরপর আপনার নিজের জন্য এবং আপনার সাহাবীগণের জন্য কী চান, তা ব্যক্ত করুন। অতঃপর আপনি আমাদেরকে সংবাদ প্রদান করুন-যদি আমরা আপনার কথামত সবকিছু ঠিকঠাক সম্পন্ন করি, তাহলে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু এবং আপনারা আমাদেরকে কী প্রতিদান দিবেন? রাসূল (ﷺ) বললেন, আমার মহান রবের জন্য তোমাদের কাছে আমার প্রত্যাশা হচ্ছে- তোমরা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। আর আমার ও আমার সাহাবীগণের জন্য প্রত্যাশা হচ্ছে-তোমরা আমাদের আশ্রয় দিবে, সাহায্য করবে এবং এমনভাবে নিরাপত্তা বিধান করবে যেমন তোমরা নিজেদের জন্য করে যাও। তারা বললো, আমরা এরূপ করলে আমাদের প্রতিদান কী? রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমাদেরকে দেওয়া হবে জান্নাত। তখন তারা বললেন, ঠিক আছে, আপনি যা বললেন তাই হবে।
আমির থেকে দ্বিতীয় একটি সনদে আবূ মাসউদ আল-আনসারী থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে-আবু মাসউদ ছিলেন বয়সে সবচেয়ে কনিষ্ঠ।
(ইবন কাছীর, বায়হাকী ও আহমদ)
আমির থেকে দ্বিতীয় একটি সনদে আবূ মাসউদ আল-আনসারী থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে-আবু মাসউদ ছিলেন বয়সে সবচেয়ে কনিষ্ঠ।
(ইবন কাছীর, বায়হাকী ও আহমদ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قدوم سبعين رجلا وامرأتين من الأنصار بعد العقبه الأولى بعام وبيعة العقبة الثانية
عن عامر قال انطلق النبى صلى الله عليه وسلم ومعه العباس عمه الى السبعين من الأنصار عند العقبة تحت الشجرة فقال ليتكلم متكلمكم ولا يطل الخطبة فان عليكم من المشرکين عينا وأن يعلموا بكم يفضحوكم، فقال قائلهم وهو أبو امامة سل يا محمد لربك ما شئت، ثم سل لنفسك ولأسحابك ما شئت، ثم أخبرنا ما لنا من الثواب على الله عز وجل وعليكم اذا فعلنا ذلك، قال فقال أسألكم لربى عز وجل أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئا: واسألكم لنفسى ولأصحابى أن تؤوونا وتنصرونا وتمنعونا مما منعتم منه أنفسكم، قالوا فما لنا اذا فعلنا ذلك؟ قال كم الجنة، قالوا فلك ذلك (وعنه من طريق ثان) عن أبى مسعود الأنصارى نحو هذا قال وكان أبو مسعود أصغرهم سنا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ কর্তৃক মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত
পরিচ্ছেদ: আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কর্তৃক তাঁর সাহাবীগণকে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের অনুমতি প্রদান
পরিচ্ছেদ: আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কর্তৃক তাঁর সাহাবীগণকে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের অনুমতি প্রদান
(১৪০) আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারা ইব্ন আযিবকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাহাবীগণের মধ্যে সর্বপ্রথম যাঁরা আমাদের কাছে (মদীনায়) আগমন করেন, তাঁরা হলেন মুস'আব ইবন 'উমাইর ও ইবন্ উম্মি মাকতূম। তাঁরা এসেই মানুষকে পবিত্র কুরআন শিক্ষা দিতে শুরু করেন। এরপর (একে একে) আগমন করেন- 'আম্মার, বিলাল ও সা'দ। এরপর আসেন 'উমর ইবনল খাত্তাব (রা) বিশজনের দল নিয়ে। এরপর আগমন করেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)। তাঁর আগমনে মদীনাবাসীগণ যেরূপ খুশী হয়েছিল, আমি তাদেরকে ঐরূপ খুশী হতে আর কখনও দেখিনি। (খুশীর আতিশয্যে) এমনকি ছোট ছোট বাচ্চা-শিশুরা পর্যন্ত বলতে লাগলো, এই যে (আমাদের মাঝে) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এসে গেছেন। তিনি আসার সময়ই আমি দীর্ঘ সূরার অন্যতম সাব্বিহিস্স্না রাব্বিকাল আ'লা سَبْحٍ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى পাঠ করে ফেলেছি।
(এই হাদীসটি বুখারী সুদীর্ঘ আকারে একাধিক স্থানে উদ্ধৃত করেছেন। তাছাড়া মুসলিম আবূ কুরাইব থেকে বর্ণনা করেছেন।)
(এই হাদীসটি বুখারী সুদীর্ঘ আকারে একাধিক স্থানে উদ্ধৃত করেছেন। তাছাড়া মুসলিম আবূ কুরাইব থেকে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب هجرة النبى صلى الله عليه وسلم وأصحابه من مكة الى المدينة
باب اذنه صلى الله عليه وسلم لاصحابه بالهجرة من مكة الى المدينة
باب اذنه صلى الله عليه وسلم لاصحابه بالهجرة من مكة الى المدينة
عن أبى اسحاق قال سمعت البراء بن عازب يقول أول من قدم علينا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم مصعب بن عمير وابن أم مكتوم قال فجعلا يقرآن الناس القرآن، ثم جاء عمار وبلال وسعد، قال ثم جاء عمر بن الخطاب فى عشرين، ثم جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فما رأيت أهل المدينة فرحوا بشيء قط فرحهم به حتى رأيت الولائد والصبيان يقولون هذا رسول الله قد جاء، قال فما قدم حتى قرأت {سبح اسم ربك الأعلى} فى سور من المفصل
তাহকীক: