মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৫৪ টি
হাদীস নং: ১৪১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরাইশ গোত্রীয় কাফির সম্প্রদায় কর্তৃক রাসূল (ﷺ) কে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু কর্তৃক হিজরতের নির্দেশ
(১৪১) ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর বাণী : وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِيُثْبِتُوكَ ("অর্থাৎ যখন কাফিররা আপনার ব্যাপারে ষড়যন্ত্র করছিল...)" সম্পর্কে বলেন, এক রাত্রে কুরাইশরা মক্কায় বসে ষড়যন্ত্র করলো। তাদের কেউ বললো, সকাল হলে পর তাকে অর্থাৎ নবী (ﷺ) কে শক্ত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলবে। কেউ কেউ বললো, বরং তাকে হত্যা করে ফেলবে। আবার কেউ কেউ বললো, তাকে বহিষ্কার করে দিবে। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তাঁর নবীকে (ﷺ) তাদের এই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অবহিত করে সতর্ক করেছেন। সেমতে সেই রাত্রে আল্লাহর নবীর (ﷺ) বিছানায় আলী (রা) শয়ন করেন এবং নবী (ﷺ) বের হয়ে গিয়ে পর্বতগুহায় পৌছান। মুশরিকরা সারা রাত আলীকে (রা) পাহারা দিয়ে রাখে এই ভেবে যে, ইনিই নবী (মুহাম্মদ (ﷺ))। কিন্তু সকাল বেলায় তারা যখন তাঁর দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লো, তখন দেখতে পেল তিনি আলী (রা)। এইভাবে আল্লাহ্ তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেন। তখন তারা বললো, তোমার সঙ্গী কোথায়? আলী (রা) বললেন, জানি না। তারা (কালবিলম্ব না করে) তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ করে খোঁজাখুজি করতে লাগলো। পর্বতের কাছে পৌঁছে বিভ্রান্ত হলো (অর্থাৎ পদচিহ্ন হারিয়ে ফেললো)। (তারপরও) তারা পর্বতে আরোহণ করলো। সেই গুহার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তারা লক্ষ্য করলো গুহার প্রবেশমুখে মাকড়সার জাল। (এই দেখে) তারা বললো, (মুহাম্মদ) যদি এখানে প্রবেশ করতো, তাহলে এর প্রবেশদ্বারে মাকড়সার জাল থাকতো না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেখানে তিন রাত অবস্থান করেন।
(এই হাদীসের বরাত "কিতাবুল খিলাফাহ ওয়াল ইমারাহ" অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে। দ্র.)
(এই হাদীসের বরাত "কিতাবুল খিলাফাহ ওয়াল ইমারাহ" অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে। দ্র.)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب تآمر كفار قريش على قتل النبى صلى الله عليه وسلم وأمر الله عز وجل له بالهجرة
عن ابن عباس فى قوله تعالى {وإذ يمكر بك الذين كفروا ليثبتوك} قال تشاورت قريش ليلة بمكة فقال بعضهم إذا أصبح فأثبتوه بالوثاق يريدون النبى صلى الله عليه وسلم، وقال بعضهم بل اقتلوه، وقال بعضهم بل أخرجوه فأطلع الله عز وجل نبيه على ذلك فبات على على فراش النبى صلى الله عليه وسلم تلك الليلة، وخرج النبى صلى الله عليه وسلم حتى لحق بالغار، وبات المشركون يحرسون عليا يحسبونه النبى صلى الله عليه وسلم فلما أصبحوا ثاروا اليه فلما رأوه عليا رد الله مكرهم، فقالوا اين صاحبك هذا؟ قال لا أدرى، فاقتصوا أثره، فلما بلغوا الجبل خلط عليهم، فصعدوا فى الجبل فمروا بالغار فرأوا على بابه نسج العنكبوت، فقالوا لو دخل ها هنا لم يكن نسج العنكبوت على بابه فمكث فيه ثلاث ليال
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরাইশ গোত্রীয় কাফির সম্প্রদায় কর্তৃক রাসূল (ﷺ) কে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু কর্তৃক হিজরতের নির্দেশ
(১৪২) ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রা) আল্লাহর নবীর (ﷺ) বস্ত্র পরিধান করে তাঁর শয়নস্থানে নিদ্রা যান। এদিকে মুশরিকরা আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করছিল। এমতাবস্থায় আবু বকর (রা) (নবীগৃহে) আগমন করেন। আলী (রা) (নবীর বস্ত্র পরিহিত অবস্থায়) তখনও নিদ্রিত বা শায়িত। আবূ বকর ভেবেছিলেন, নিশ্চয় ইনিই আল্লাহ্ নবী (ﷺ)। তাই তিনি "হে আল্লাহর নবী" বলে তাঁকে ডাক দিলেন। তখন আলী (রা) বললেন, আল্লাহ্ নবী (ﷺ) "বি'র-ই-মায়মুন"-এর দিকে চলে গেছেন। তার সাথে গিয়ে মিলিত হোন। আবূ বকর (রা) চলতে চলতে নবীর (ﷺ) সাথে গুহায় প্রবেশ করেন। (এদিকে কাফিরদের পক্ষ থেকে) আলীর উপর (রাতভর) পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছিল, যেমনটি আল্লাহর নবীর (ﷺ) উপর করা হতো। আর তিনি পাথরের আঘাত থেকে নিজকে রক্ষা করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। তিনি বস্ত্র দ্বারা তাঁর মাথা আবৃত করে রেখেছিলেন এবং সকাল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তা খোলেননি। সকালে যখন তিনি মাথা থেকে কাপড় সরিয়ে নিলেন, তখন কাফিররা বললো, তুমি নিশ্চয় ধিকৃত। আমরা তোমার সঙ্গীর (মুহাম্মদের) উপর পাথর ছুড়ে মারতাম, কিন্তু সে উহ্-আহ্ করতো না, কিন্তু তুমি তা করেছ। এই বিষয়টি আমাদেরকে সংশয়াপন্ন করেছিল। (কারণ, রাসূলের (ﷺ) কাছ থেকে পাথর নিক্ষেপকালীন সময়ে এ ধরনের আচরণটি ছিল তাদের কাছে অপরিচিত)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب تآمر كفار قريش على قتل النبى صلى الله عليه وسلم وأمر الله عز وجل له بالهجرة
وعنه ايضا قال ليس على ثوب النبى صلى الله عليه وسلم ثم نام مكانه، قال وكان المشركون يرمون رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء أبو بكر وعلى نائم قال وأبو بكر يحسب أنه نبى الله، قال فقال يا نبى الله، قا فقال له على إن نبى الله صلى الله عليه وسلم قد انطلق نحو بئر ميمون فأدركه، قال فانطلق أبو بكر فدخل معه الغار، قال وجعل على يرمى بالحجارة كما كان يرمى نبى الله وهو يتضور قد لف رأسه فى الثوب لا يخرجه حتى أصبح ثم كشف عن رأسه فقالوا انك للئيم، كان صاحبك نرميه فلا يتضور وأنت تتضور وقد استنكرنا ذلك
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরাইশ গোত্রীয় কাফির সম্প্রদায় কর্তৃক রাসূল (ﷺ) কে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু কর্তৃক হিজরতের নির্দেশ
(১৪৩) ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কায় অবস্থান করছিলেন। এরপর (নির্ধারিত সময়ে) তাঁকে হিজরত করার নির্দেশ প্রদান করা হয় এবং তাঁর উপর এই আয়াত নযিল হয়,
وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْ خَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا .
"এবং আপনি বলুন, হে আমার রব আমাকে প্রবেশ করান কল্যাণের সাথে এবং আমাকে বের করেন কল্যাণের সাথে এবং আপনার নিকট হতে আমাকে দান করুন সাহায্যকারী শক্তি।" (বনী ইসরাইল: ৮০)
(এই হাদীসের ব্যাখ্যা, সনদ ও তাখরীজ ১৮শ খণ্ডের ২৩১ নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।)
وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْ خَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا .
"এবং আপনি বলুন, হে আমার রব আমাকে প্রবেশ করান কল্যাণের সাথে এবং আমাকে বের করেন কল্যাণের সাথে এবং আপনার নিকট হতে আমাকে দান করুন সাহায্যকারী শক্তি।" (বনী ইসরাইল: ৮০)
(এই হাদীসের ব্যাখ্যা, সনদ ও তাখরীজ ১৮শ খণ্ডের ২৩১ নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب تآمر كفار قريش على قتل النبى صلى الله عليه وسلم وأمر الله عز وجل له بالهجرة
عن ابن عباس كان رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة ثم أمر "بالهجرة" وأنزل عليه {وقل رب أدخلنى مدخل صدق وأخرجنى مخرج صدق واجعل لى من لدنك سلطانا نصيرًا}
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: নবী (ﷺ) এর হিজরত। হিজরতে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে আবু বকর (রা)-কে নির্বাচন, সফরের প্রস্তুতি এবং তাঁদের মক্কা থেকে গারে-ছওরে প্রবেশ
(১৪৪) 'উরওয়া ইবনয যুবাইর আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আশৈশব আমার মা-বাবাকে দীনে ইসলামের অনুসারীরূপে পেয়েছি এবং এমন কোন দিন আমাদের অতিবাহিত হয়নি, যেদিন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সকাল ও বিকেল দু'বেলা আমাদের কাছে না আসতেন। মুসলিমদের উপর যুলুম-নির্যাতনের পরীক্ষা যখন শুরু হলো, তখন আবু বকর (রা) হাবশার (আবিসিনিয়া) দিকে হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়লেন। তিনি যখন "বারকুল গিমাদ" নামক স্থানে পৌঁছান, তখন তাঁর সাথে কার-গোত্রপ্রধান ইব্ন দাগিনা' এর দেখা হয়। ইব্দ দাগিনা বললেন, কোন্ দিকে যাচ্ছেন, হে আবু বকর? আবূ বকর বললেন, আমার গোত্রীয় লোকেরা আমাকে বহিষ্কার করে দিয়েছে, এরপর তিনি পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি (যা বুখারী কর্তৃক উদ্ধৃত) বর্ণনা করেন।
এদিকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুসলিমদেরকে বললেন, আমি তোমাদের হিজরতের স্থান (বা এলাকা) দেখেছি। কালো, অনুর্বর, প্রস্তরময় উঁচু ভূমি যেখানে খেজুর উৎপন্ন হয়। রাসূলের বক্তব্য শুনে অনেকেই মদীনার দিকে হিজরত করে চলে গেলেন এবং মুসলিমদের মধ্যে যাঁরা ইতোমধ্যে হাবশার দিকে হিজরত করছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন। এদিকে আবু বকর (রা) হিজরতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে বললেন, একটু ধৈর্য্য ধারণ করুন, আমি আশা করছি যে, আমাকেও (হিজরতের) অনুমতি প্রদান করা হবে। আবূ বকর বললেন, আমার বাবা-মা কুরবান হোন, সত্যি কি আপনি এরূপ আশা করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আবূ বকর রাসূলের (ﷺ) সান্নিধ্য লাভের আশায় হিজরত করা থেকে (আপাততঃ) বিরত থাকলেন এবং তিনি তাঁর দু'টি সওয়ারীকে (উষ্ট্রী) চার মাস ধরে ঘাস-পাতার মাধ্যমে পর্যাপ্ত খাবার দিয়ে যাচ্ছিলেন (অর্থাৎ সওয়ারী দু'টিকে ভাল খাবার খাইয়ে মোটাতাজা ও শক্তিশালী করে তুলছিলেন)। আয়েশা (রা) বলেন, এমনি সময় একদিন দুপুরের রৌদ্রের তীব্রতার সময় ঘরে বসে ছিলাম, তখন কে একজন ডেকে আবু বকরকে (রা) বললো, ঐ যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মাথা আবৃত করে এগিয়ে আসছেন। ঐ সময়ে তিনি কখনও আমাদের (বাসার) কাছে আসতেন না। তখন আবু বকর (রা) বললেন, তাঁর জন্যে আমার মা-বাবা কুরবান হোন, এই সময় তিনি কোন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আসেননি। যাহোক, রাসূল (ﷺ) এসে গৃহে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন; তাঁকে অনুমতি প্রদান করা হলো। গৃহে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবূ বকরকে বললেন, অন্য যারা গৃহে আছে তাঁদেরকে বের করে দিন। আবূ বকর (রা) বললেন, যাঁরা গৃহে আছেন, তাঁরা আপনারই পরিজন (আয়শা ও আসমা রা.), আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমাকে বের হওয়ার (হিজরতের) অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। আবূ বকর (রা) বললেন, আমি কি আপনার সফরসঙ্গী হবো না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবূ বকর (রা) বললেন, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোন, আপনি এ দু'টি সওয়ারীর যে কোন একটি গ্রহণ করুন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমি গ্রহণ করবো, তবে মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে। আয়েশা (রা) বলেন, অতঃপর আমরা তাঁদের জন্য আমাদের মনমত (উত্তম পন্থায়) সফর সামগ্রী গুছিয়ে দিলাম, খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে একটি থলিতে রাখলাম; এবং আসমা (রা) বিনতি আবু বকর তাঁর ব্যবহারের কোমরবন্দ বস্ত্র ছিড়ে (ফিতার মত করে) ঐ খাদ্যের পাত্রটি ভাল করে বেঁধে দিলেন। এ কারণে তাঁকে (আসমাকে) 'যাতুন্ নিতাকাইন' বা দুই কোমরবন্দ বিশিষ্ট বলা হতো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবূ বকর (রা) একটি পর্বত গুহায় প্রবেশ করলেন এবং সেখানে তিন রাত অবস্থান করলেন।
এদিকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুসলিমদেরকে বললেন, আমি তোমাদের হিজরতের স্থান (বা এলাকা) দেখেছি। কালো, অনুর্বর, প্রস্তরময় উঁচু ভূমি যেখানে খেজুর উৎপন্ন হয়। রাসূলের বক্তব্য শুনে অনেকেই মদীনার দিকে হিজরত করে চলে গেলেন এবং মুসলিমদের মধ্যে যাঁরা ইতোমধ্যে হাবশার দিকে হিজরত করছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন। এদিকে আবু বকর (রা) হিজরতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে বললেন, একটু ধৈর্য্য ধারণ করুন, আমি আশা করছি যে, আমাকেও (হিজরতের) অনুমতি প্রদান করা হবে। আবূ বকর বললেন, আমার বাবা-মা কুরবান হোন, সত্যি কি আপনি এরূপ আশা করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আবূ বকর রাসূলের (ﷺ) সান্নিধ্য লাভের আশায় হিজরত করা থেকে (আপাততঃ) বিরত থাকলেন এবং তিনি তাঁর দু'টি সওয়ারীকে (উষ্ট্রী) চার মাস ধরে ঘাস-পাতার মাধ্যমে পর্যাপ্ত খাবার দিয়ে যাচ্ছিলেন (অর্থাৎ সওয়ারী দু'টিকে ভাল খাবার খাইয়ে মোটাতাজা ও শক্তিশালী করে তুলছিলেন)। আয়েশা (রা) বলেন, এমনি সময় একদিন দুপুরের রৌদ্রের তীব্রতার সময় ঘরে বসে ছিলাম, তখন কে একজন ডেকে আবু বকরকে (রা) বললো, ঐ যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মাথা আবৃত করে এগিয়ে আসছেন। ঐ সময়ে তিনি কখনও আমাদের (বাসার) কাছে আসতেন না। তখন আবু বকর (রা) বললেন, তাঁর জন্যে আমার মা-বাবা কুরবান হোন, এই সময় তিনি কোন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আসেননি। যাহোক, রাসূল (ﷺ) এসে গৃহে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন; তাঁকে অনুমতি প্রদান করা হলো। গৃহে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবূ বকরকে বললেন, অন্য যারা গৃহে আছে তাঁদেরকে বের করে দিন। আবূ বকর (রা) বললেন, যাঁরা গৃহে আছেন, তাঁরা আপনারই পরিজন (আয়শা ও আসমা রা.), আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমাকে বের হওয়ার (হিজরতের) অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। আবূ বকর (রা) বললেন, আমি কি আপনার সফরসঙ্গী হবো না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবূ বকর (রা) বললেন, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোন, আপনি এ দু'টি সওয়ারীর যে কোন একটি গ্রহণ করুন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমি গ্রহণ করবো, তবে মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে। আয়েশা (রা) বলেন, অতঃপর আমরা তাঁদের জন্য আমাদের মনমত (উত্তম পন্থায়) সফর সামগ্রী গুছিয়ে দিলাম, খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে একটি থলিতে রাখলাম; এবং আসমা (রা) বিনতি আবু বকর তাঁর ব্যবহারের কোমরবন্দ বস্ত্র ছিড়ে (ফিতার মত করে) ঐ খাদ্যের পাত্রটি ভাল করে বেঁধে দিলেন। এ কারণে তাঁকে (আসমাকে) 'যাতুন্ নিতাকাইন' বা দুই কোমরবন্দ বিশিষ্ট বলা হতো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবূ বকর (রা) একটি পর্বত গুহায় প্রবেশ করলেন এবং সেখানে তিন রাত অবস্থান করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب هجرة النبى صلى الله عليه وسلم واختيار أبا بكر رضي الله عنه ليكون رفيقه فى الهجرة وتجهيزهما لذلك وخروجهما من مكة إلى أن دخلا غار ثور
حدّثنا عبد الرزاق عن معمر قال الزهرى وأخبرنى عروة بن الزبير أن عائشة رضي الله عنها قالت لم اعقل أبواى قط إلا وهم يدينان الدين ولم يمر علينا يوم إلا يأتينا فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم طرفى النهار بكرة وعشية، فلما ابتلى المسلمون خرج أبو بكر مهاجرا قبل أرض الحبشة حتى اذا بلغ برك الغماد لقيه ابن الدّغنة وهو سيد القارة فقال ابن الدغنة اين يا أبا بكر؟ فقال أبو بكر أخرجنى قومى فذكر الحديث قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم المسلمين قد رأيت دار هجرتكم أريت سبخة ذات نخل بين لابتين وهما حرتان فخرج من كان مهاجرا قبل المدينة حين ذكر ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجع إلى المدينة بعض من كان هاجر الى أرض الحبشة من المسلمين وتجهرز أبو بكر مهاجرا فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم على رسلك فانى ارجو ان يؤذن لى، فقال أبو بكر وترجو ذلك بأبى أنت وأمى؟ قال نعم، فحبس أبو بكر نفسه على رسول الله صلى الله عليه وسلم لصحبته وعلف راحلتين كانتا عنده من ورق السمر أربعة اشهر قال الزهرى قال عروة قالت عائشة فبينا نحن يومًا جلوسا فى بيتنا فى نحر الظهيرة قال قائل لأبى بكر هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقبلا متقنعا فى ساعة لم يكن ياتينا فيها، فقال أبو بكر فداء له أبى وأمى أن جاء به فى هذه الساعة إلا أمر؟ فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستأذن فأذن له فدخل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين دخل لأبى بكر أخرج من عندك فقال أبو بكر انما هم أهلك بأبى أنت وأمى يا رسول الله، فقال النبى صلى الله عليه وسلم فانه قد أذن لى فى الخروج فقال أبو بكر فالصحابة بأبى أنت يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم فقال أبو بكر فخذ بأبى أنت يا رسول الله إحدى راحلتى هاتين، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بالثمن قالت فجهزنا هما أحب الجهاز وصنعنا لهما سفرة فى جراب فقطعت اسماء بنت أبى بكر من نطاقها فأوكت الجراب فلذلك كانت تسمى ذات النطاقين ثم لحق رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وأبو بكر بغار فى جبل يقال له ثور فمكثا فيه ثلاث ليال
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: নবী (ﷺ) এর হিজরত। হিজরতে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে আবু বকর (রা)-কে নির্বাচন, সফরের প্রস্তুতি এবং তাঁদের মক্কা থেকে গারে-ছওরে প্রবেশ
(১৪৫) আসমা বিনতি আবীবকর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (মদীনার উদ্দেশ্যে) বের হলেন, এবং তাঁর সঙ্গী হিসেবে আবূ বকর (রা) বের হলেন, তখন আবুবকর তাঁর (সঞ্চিত) সব সম্পদ সাথে করে নিয়ে নেন। (পরিমাণ ছিল) পাঁচ হাজার অথবা ছয় হাজার দিরহাম। এসবই তিনি তাঁর সাথে করে নিয়ে যান। (তিনি চলে যাওয়ার পর) আমার দাদা আবু কুহাফা আগমন করেন। তাঁর দৃষ্টিশক্তি বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি এসে বললেন, আল্লাহর শপথ, আমার মনে হচ্ছে সে (আবু বকর) তোমাদেরকে বিপন্ন করে গেছে-তার সাথে তার যাবতীয় সম্পদ নিয়ে চলে গিয়ে। আমি বললাম, না দাদাজান, তিনি (আব্বা) আমাদের জন্য অনেক সম্পদ রেখে গেছেন। আসমা (রা) বলেন, এরপর আমি বেশকিছু পরিমাণ পাথর নিয়ে ছেড়ে দিলাম (যাতে শব্দ হলো); এবং তা গৃহের নির্ধারিত কুঠরীর মধ্যে তা রেখে দিলাম, যেখানে আমার আব্বা তাঁর সম্পদ রাখতেন। এরপর (ঐ পাথরগুলোর) উপর কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলাম। এবার তাঁর হাত ধরে (সেখানে দিয়ে গেলাম) বললাম, দাদাজান, এই সম্পদের উপর আপনার হাত রাখুন। অতঃপর আবু কুহাফা তাঁর হাত সেখানে রাখলেন এবং বললেন, ঠিক আছে, সে যদি তোমাদের জন্য এই সম্পদ রেখে গিয়ে থাকে, তাহলে সে ভালই করেছে। এতে তোমাদের চলে যাবে।
রাবী (আসমা রা.) বলেন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর শপথ, আব্বা আমাদের জন্য কিছুই রেখে যাননি। আমি কেবল এর মাধ্যমে বৃদ্ধকে সান্ত্বনা দিতে চেয়েছি।
রাবী (আসমা রা.) বলেন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর শপথ, আব্বা আমাদের জন্য কিছুই রেখে যাননি। আমি কেবল এর মাধ্যমে বৃদ্ধকে সান্ত্বনা দিতে চেয়েছি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب هجرة النبى صلى الله عليه وسلم واختيار أبا بكر رضي الله عنه ليكون رفيقه فى الهجرة وتجهيزهما لذلك وخروجهما من مكة إلى أن دخلا غار ثور
عن يحيى بن عباد بن عبد الله بن الزبيران أباه حدثه عن جدته أسماء بنت أبى بكر قالت لما خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم وخرج معه أبو بكر احتمل أبو بكر ماله كله معه خمسة آلاف درهم أو ستة آلاف درهم، قالت وانطلق بها معه، قالت فدخل علينا جدى أبو قحافة وقد ذهب بصره فقال والله انى لأراه قد فجعكم بماله مع نفسه، قالت قلت كلا يا أبت انه قد ترك لنا خيرا كثيرا، قالت فأخذت أحجارًا فتركتها فوضعتها فى كوة ببيت كان أبى يضع فيها ماله، ثم وضعت عليها ثوبا ثم أخذت بيده فقلت يا أبت ضع يدك على هذا المال قالت فوضع يده عليه فقال لا بأس إن كان قد ترك لكم هذا فقد أحسن، وفى هذا لكم بلاغ، قالت لا والله ما ترك لنا شيئا ولكني قد أردت أن أسكن الشيخ بذلك
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: নবী (ﷺ) এর হিজরত। হিজরতে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে আবু বকর (রা)-কে নির্বাচন, সফরের প্রস্তুতি এবং তাঁদের মক্কা থেকে গারে-ছওরে প্রবেশ
(১৪৬) আনাস (ইবন্ মালিক) থেকে বর্ণিত, আবু বকর (রা) তাঁকে (আনাসকে) বলেছেন, আমি নবীকে (ﷺ) গিরিগুহায় অবস্থানের সময় বললাম, (অন্য আরেকবার বলেন, আমরা গিরিগুহায় অবস্থানের সময় বললাম), তাদের (কুরাইশী মুশরিকদের) কেউ যদি তাঁর পদদ্বয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করে, তাহলে অবশ্যই আমাদেকে দেখে ফেলবে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, হে আবু বকর, আপনি এমন দুইজন সম্পর্কে কী মনে করেন, যাদের সংগে তৃতীয় জন হচ্ছেন আল্লাহ্।
(বুখারী ও মুসলিম এ হাদীসটি জাম্মারের হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।)
(বুখারী ও মুসলিম এ হাদীসটি জাম্মারের হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب هجرة النبى صلى الله عليه وسلم واختيار أبا بكر رضي الله عنه ليكون رفيقه فى الهجرة وتجهيزهما لذلك وخروجهما من مكة إلى أن دخلا غار ثور
عن أنس أن أبا بكر حدثه قال قلت للنبى صلى الله عليه وآله وسلم وهو فى الغار وقال مرة ونحن فى الغار لو ان احدهم نظر الى قدميه لأبصرنا تحت قدميه، قال فقال يا أبا بكر ما ظنك باثنين الله ثالثهما
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সুরাকা ইব্ন মালিকের সাথে রাসূল (ﷺ) ও আবু বকরের ঘটনা এবং মদীনায় যাওয়ার পথে তাঁদের সাথে তার কথোপকথন
(১৪৭) বারা ইব্ন আযিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রা) একদা আযিবের নিকট থেকে তের দিরহামের বিনিময়ে একটি জিন ক্রয় করেন। তারপর তিনি আযিবকে অনুরোধ করলেন যে, বারাকে বলুন, জিনটি আমার বাসায় যেন পৌছে দেয়। আযিব বললেন, (ঠিক আছে) তার আগে আপনি (দয়া করে) বলুন কীভাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আপনাকে সাথে নিয়ে মক্কা থেকে বের হয়ে আসলেন। তখন আবূ বকর (রা) বললেন, আমরা রওয়ানা করেছিলাম রাত্রির প্রথম অথবা শেষ প্রহরে, আমরা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম এবং শেষপর্যন্ত যোহরের সময় সেখানে পৌছালাম। তখন দ্বিপ্রহরের গরম ও উত্তাপের তীব্রতা ছিল প্রচণ্ড। আমি চতুষ্পার্শে দৃষ্টিপাত করে কোথাও ছায়া পাওয়া যায় কি না তা দেখতে লাগলাম, যাতে করে আমরা ছায়ার নীচে একটুখানি আশ্রয় নিতে পারি। এমন সময় একটি বিশাল পাথর দেখতে পেলাম, কাছে গিয়ে দেখতে পেলাম তার ছায়া অবশিষ্ট আছে। আমি রাসূলের (ﷺ) জন্যে জায়গাটি সমান করে দিলাম এবং তার জন্য একটি চামড়া বিছিয়ে দিলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), আপনি শুয়ে বিশ্রাম করুন। এরপর বাইরে এসে আমি লক্ষ্য করলাম যে, যারা আমাদের খুঁজে বেড়াচ্ছিল, তাদের কাউকে দেখা যায় কি না। এমন সময় আমি একজন মেষপালককে দেখতে পেলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কার শ্রমিক হে যুবক? সে উত্তর দিল, আমি কুরাইশ গোত্রীয় এক ব্যক্তির শ্রমিক। সে তার মনিবের নাম বললো এবং তাকে চিনতে পারলাম। (যাহোক) আমি তাকে বললাম, তোমার পালের কোন বক্রি বা ছাগলের দুধ আছে কি? সে বললো, হ্যাঁ, আমি বললাম, তুমি কি আমার জন্য (কিছু পরিমাণ) দুধ দোহন করবে? সে বললো, হ্যাঁ। আমি তাকে নির্দেশ দিলাম, তবে দাও। তখন সে একটি ছাগী পাল থেকে বেঁধে নিল। এরপর আমার নির্দেশক্রমে সে ছাগীর উলানের ধূলাবলি পরিষ্কার করলো। তারপর আমার নির্দেশক্রমে তার হাতের তালুদ্বয় থেকে ধুলাবালি পরিষ্কার করে নিল। তার দুধ দোহন করার পাত্রটি আমি ধরে রাখলাম, ঐ পাত্রের মুখে একটি ছাঁকনী ছিল। সে আমার জন্য এক পেয়ালা পরিমাণ দুধ দোহন করলো। আমি পাত্রের নিম্নাংশে পানি ছিটিয়ে দিলাম, ফলে পাত্রের নিম্নাংশ ঠাণ্ডা হলো। এরপর আমি রাসূলের (ﷺ) কাছে এসে ডাক দিলে তিনি জাগ্রত হন। তখন আমি বললাম, (এটি) পান করুন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। তিনি পান করলেন। আমার হৃদয় খুশীতে ভরে গেল। এরপর আমি বললাম, কখন যাত্রা শুরু করবেন? আমরা (তৎক্ষণাৎ) যাত্রা শুরু কলাম; আর শত্রুরা আমাদের খুঁজে ফিরছে। কিন্তু একমাত্র সুরাকা ইব্ন মালিক ইবন্ জু'শুম তাঁর ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে আমাদের কাছাকাছি পৌছাতে সক্ষম হলো। সে ছাড়া অন্য কেউ আমাদের নাগাল পায়নি। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) এই সন্ধানী তো আমাদেরকে তার নাগালে পেয়ে গেছে। রাসূল (ﷺ) বললেন, দুশ্চিন্তা করবেন না, আল্লাহ্ আমাদের সাথে রয়েছেন। কিন্তু সে আমাদের খুব কাছাকাছি এসে পৌঁছে গেছে, আর মাত্র এক, দুই অথবা তিনটি তীর নিক্ষেপের সমান দূরত্বে এসে গেছে। আমি (ভয়ে) কেঁদে ফেললাম। রাসূল (ﷺ) বললেন, কাঁদছো কেন? আমি বললাম, আল্লাহর শপথ, আমি আমার জন্য কাঁদছি না, আমি কাঁদছি আপনার জন্য (আপনার জীবনাশঙ্কায়)। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) তার উপর বদ দোয়া করে বললেন, হে আল্লাহ্, আপনি যেভাবে খুশী তার আক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। ফলে সুরাকার ঘোড়ার পাগুলো পাকস্থলী পর্যন্ত শুষ্ক ও শক্ত মাটিতে দেবে গেল এবং সে আছড়ে পড়ে গেল। সে পড়ে গিয়ে বললো, হে মুহাম্মদ, আমি জানি এটি আপনারই কাজ। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করুন যাতে তিনি আমাকে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন। আল্লাহর শপথ, আমি আমার পেছনে যেসব ধাওয়াকারী আছে, তাদের দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করে দেব (যাতে তারা আপনার সন্ধান না পায়)। এই যে আমার তৃনীর, এখান থেকে আপনি একটি তীর উঠিয়ে নিন; আপনি সম্মুখে অমুক অমুক স্থানে আমার উট ও ছাগলের পালের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবেন; সেই পাল থেকে আপনি আপনার প্রয়োজনানুসারে নিয়ে নিবেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, আমার তাতে কোন প্রয়োজন নেই। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার জন্য দোয়া করলেন, সে মুক্ত হয়ে তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে গেল। (এদিকে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে অগ্রসর হতে থাকেন এবং একপর্যায়ে আমরা মদীনায় এসে উপস্থিত হই। মদীনার লোকজন তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে আসতে থাকে; (তারা তাঁকে দেখার জন্য) ঘর-বাড়ী ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে এবং খোলা ছাদের উপর আরোহণ করে। উৎসুক জনতা এবং ছোট্ট ছেলে-মেয়েরা রাস্তায় এসে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে থাকে। তারা বলতে থাকে, রাসূল (ﷺ) এসে গেছেন। মুহাম্মদ এসে গেছেন। রাসূল (ﷺ) কোথায় উঠবেন (কার মেহমান হবেন), এ নিয়ে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আজকের (প্রথম) রজনীতে আমি আবদুল মুত্তালিবের মামার গোষ্ঠী বনূ নাজ্জারের গোত্রে তাদের সম্মানার্থে আতিথ্য গ্রহণ করবো। সকাল হলে পরবর্তীতে তিনি আদিষ্ট স্থানে চলে গেলেন।
বারা ইব্ন 'আযিব বলেন, মুহাজিরগণের মধ্যে সর্বপ্রথম আমাদের মাঝে আগমন করেন মুস'আব ইবন 'উমাইর (বনূ আবদুদ্ দার গোত্রীয় মুহাজির), তারপর আসেন ইবন্ উম্মি মাকতৃম (যিনি অন্ধ ছিলেন এবং বনূ ফিহর গোত্রীয় ছিলেন)। তাঁর পর উমর ইবনল খাত্তাব (রা) বিশজনের দল নিয়ে সওয়ার হয়ে আসেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কী করেছেন? তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমার পরেই আগমন করবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমন করেন। আবু বকর (রা) তাঁর সাথে ছিলেন। বারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমনের পূর্বেই আমি মুফাস্সাল থেকে কয়েকটি সূরা পড়ে ফেলেছিলাম।
ইসরাঈল (জনৈক রাবী) বলেন, বারা ইবন্ আযিব ছিলেন আনসারীদের মধ্যে বনু হারিছা গোত্রের লোক।
(ইব্ন কাছীর ও আহমদ ছাড়াও বুখারী ও মুসলিম ভিন্ন ধারায় হাদীসটি বর্ণনা করেন।)
বারা ইব্ন 'আযিব বলেন, মুহাজিরগণের মধ্যে সর্বপ্রথম আমাদের মাঝে আগমন করেন মুস'আব ইবন 'উমাইর (বনূ আবদুদ্ দার গোত্রীয় মুহাজির), তারপর আসেন ইবন্ উম্মি মাকতৃম (যিনি অন্ধ ছিলেন এবং বনূ ফিহর গোত্রীয় ছিলেন)। তাঁর পর উমর ইবনল খাত্তাব (রা) বিশজনের দল নিয়ে সওয়ার হয়ে আসেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কী করেছেন? তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমার পরেই আগমন করবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমন করেন। আবু বকর (রা) তাঁর সাথে ছিলেন। বারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমনের পূর্বেই আমি মুফাস্সাল থেকে কয়েকটি সূরা পড়ে ফেলেছিলাম।
ইসরাঈল (জনৈক রাবী) বলেন, বারা ইবন্ আযিব ছিলেন আনসারীদের মধ্যে বনু হারিছা গোত্রের লোক।
(ইব্ন কাছীর ও আহমদ ছাড়াও বুখারী ও মুসলিম ভিন্ন ধারায় হাদীসটি বর্ণনা করেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قصتهما مع سراقه بن مالك وما جرى لهما فى الطريق
عن أبى اسحاق عن البراء بن عازب قال اشترى أبو بكر رضي الله عنه من عازب سرجا بثلاثة عشر درهما، قال فقال أبو بكر لعازب مر البراء فليحمله الى منزلى فقال حتى تحدثنا كيف صنعت حين خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنت معه، قال فقال أبو بكر خرجنا فأدلجنا فأحثثنا يومنا وليلتنا حتى أظهرنا وقام قائم الظهيرة فضربت ببصرى هل أرى ظلا نأوى اليه فاذا أنا بصخرة فاهويت اليها فاذا بقية ظلها فسوّيته لرسول الله صلى الله عليه وسلم وفرشت له فروة وقلت اضطجع يا رسول الله فاضطجع ثم خرجت انظر هل أرى أحدا من الطلب فاذ أنا براعى غنم فقلت لمن انت يا غلام؟ فقال لرجل من قريش فسماه فعرفته فقلت هل فى غنمك من لبن؟ قال نعم، قال قلت هل أنت حالب لى؟ قال نعم، فأمرته فاعتقل شاة منها ثم أمرته فنفض ضرعها من الغبار ثم أمرته فنفض كفيه من العبار ومعي اداواه على فمها خرقة فجلب لى كثبة من اللبن فصببت يعنى الماء على القدح حتى برد أسفله ثم أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فوافيته وقد استيقظ فقلت اشرب يا رسول الله، فشرب حتى رضيت ثم قلت أنى الرحيل؟ قال فارتحلنا والقوم يطلبونا فلم يدركنا أحد منهم الا سراقة بن مالك بن جعشم على فرس له فقلت يا رسول الله هذا الطلب قد لحقنا فقال لا تحزن ان الله معنا حتى اذا دما منا فكان بيننا وبينه قدر رمح أو رمحين أو ثلاثة، قال قلت يا رسول الله هذا الطلب قد لحقنا وبكيت قال لم تبكى؟ قال قلت أما والله ما على نفسى أبكى ولكن أبكى عليك، قال فدعا عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اللهم اكفناه بما شئت فساخت قوائم فرسه الى بطنها فى أرض صلد ووثب عنها وقال يا محمد قد علمت أن هذا عملك فادع الله أن ينجينى مما أنا فيه، فوالله لأعمين على من ورائى من الطلب وهذه كنانتى فخذ منها سهما فانك بابلى وغنمى فى موضع كذا وكذا فخذ منها حاجتك، قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا حاجة لى فيها، قال ودعا له رسول الله صلى الله عليه وسلم فأطلق فرجع الى اصحابه ومضى رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا معه حتى قدمنا المدينة فتلقاه الناس فخرجوا فى الطريق وعلى الاجاجير فاشتد الخدم والصبيان فى الطريق يقولون الله اكبر، جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم جاء محمد صلى الله عليه وسلم قال وتنازع القوم ايهم ينزل علهي، قا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انزل الليلة على بنى النجار اخوال عبد المطلب لاكرمهم بذلك، فلما اصبح غدا حيث أمر، قال البراء بن عازب اول من كان قدم علينا من المهاجرين مصعب بن عمير أخو بنى عبد الدار ثم قدم علينا ابن ام مكتوم الأعمى أخو بنى فهر ثم قدم علينا عمر بن الخطاب فى عشرين راكبا فقلنا ما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال هو على أثري ثم قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر معه قال البراء ولم يقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قرأت سورا من المفصل قال اسرائيل وكان البراء من الأنصار من بنى حارثة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সুরাকা ইব্ন মালিকের সাথে রাসূল (ﷺ) ও আবু বকরের ঘটনা এবং মদীনায় যাওয়ার পথে তাঁদের সাথে তার কথোপকথন
(১৪৮) সুরাকা ইবন মালিক ইব্ন জু'শুমের ভাতিজা আবদুর রহমান বিন মালিক আল-মুদলিজী বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি সুরাকাকে বলতে শুনেছেন- আমাদের কাছে মক্কার কুরাইশ গোত্রীয় কাফিরদের বার্তাবাহকেরা এসে এই মর্মে ঘোষণা দেয় যে, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবু বকরকে (একত্রে অথবা পৃথকভাবে) যে কেউ হত্যা করলে অথবা বন্দী করলে তার জন্যে রয়েছে (উচ্চ মূল্যমানের) পুরস্কার। আমি ঐ সময় আমার বনু মুদলিজ গোত্রীয় বৈঠকসমূহের কোন একটি বৈঠকে বসে ছিলাম। এমন সময় তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমাদের কাছে এগিয়ে এল এবং বললো, হে সুরাকা, আমি একটু আগে সমুদ্র তীরবর্তী রাস্তায় কয়েকজন লোকের একটি ক্ষুদ্র দল দেখলাম; আমার বিশ্বাস এটি মুহাম্মদ ও তার সাথীদের দল হবে। সুরাকা বললো, আমি বুঝতে পারলাম যে, ঐ দলটি নিশ্চয় তাদেরই সেই দল। কিন্তু আমি (মুখে) বললাম, না এটি তাদের সেই দল নয়, আমি তো একটু আগে দেখেছি অমুক অমুক ঐ দিক দিয়ে চলে যাচ্ছিল। অতঃপর কিছু সময় আমি ঐ মজলিসেই বসে থাকলাম। এরপর সেখানে থেকে উঠে এসে গৃহে প্রবেশ করলাম এবং আমার দাসীকে নির্দেশ দিলাম আমার ঘোড়াটি বের করতে। ঘোড়াটি তখন একটি টিলার পিছনে ঘাস খাচ্ছিল। দাসী ঘোড়াটি নিয়ে এল। আমি আমার বল্লমটি নিয়ে ঘর থেকে বের হলাম। (এসবই সে করছিল অতি সন্তর্পণে এককভাবে পুরস্কার লাভের আশায়)। বল্লমের সাহায্যে মাটিতে রেখা টানলাম এবং বল্লমের উপরের অংশটি নীচের দিকে নামিয়ে দিলাম (যাতে দূর থেকে কেউ বুঝতে না পারে)। ঘোড়ার কাছে এসে তাতে আরোহণ করলাম এবং দ্রুত হাঁকিয়ে দিলাম। (অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই) ঘোড়া আমাকে নিয়ে তাদের (মুহাম্মদ ও আবু বকরের) দলের কাছাকাছি পৌছে গেল। যখন তাদের এত কাছে এসে পৌছালাম যে তাদের কথাবার্তার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ ঘোড়া হোঁচট খেল এবং আমি পড়ে গেলাম। আমি উঠে দাঁড়িয়ে তীর ভর্তি তুনীর থেকে শুভাশুভ নির্ণয়ের জন্য একটি তীর হাত দিয়ে বের করে নিলাম। আমি তীরের সাহায্যে যাত্রার ভাগ্য পরীক্ষা করলাম, অর্থাৎ শুভ না কি অশুভ। পরীক্ষায় দেখা গেল নেতিবাচক (অশুভ) তীর বের হয়ে আসলো অর্থাৎ আমি তাঁদের কোন ক্ষতি করতে পারবো না। কিন্তু আমি এই পরীক্ষার ফলাফল উপেক্ষা করে পুনরায় ঘোড়ায় সওয়ার হলাম এবং দ্রুত হাঁকিয়ে দিলাম। (সহজেই) তাদের কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। (আবারও) আমার ঘোড়া হোঁচট খেল। আমি ছিটকে পড়ে গেলাম। এবার উঠে হাত বাড়িয়ে তৃনীর থেকে একটি তীর বের করে যাত্রার ভাগ্য পরীক্ষা করলাম। এবারও সেই নেতিবাচক (অশুভ) তীর উঠে আসলো, যার অর্থ হচ্ছে, আমি তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারবো না। আমি ভাগ্য পরীক্ষার ফলাফল উপেক্ষা করে আবার ঘোড়ায় চাপলাম এবং দ্রুত হাঁকিয়ে দিলাম। (একটু পরেই) তাদের কাছাকাছি এসে পৌছালাম। এত কাছে পৌঁছালাম যে, নবীর (ﷺ) ক্বিরাত শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু তিনি মোটেও বিচলিত ছিলেন না (আমার দিকে ভ্রুক্ষেপ করছিলেন না)। কিন্তু আবু বকর (রা) বারংবার এদিক-সেদিক তাকাচ্ছিলেন (বিচলিত বোধ করছিলেন)। (এমন সময় হঠাৎ) আমার ঘোড়ার সম্মুখের পদদ্বয় মাটিতে দেবে গেল; হাঁটু পর্যন্ত পুঁতে গেল। আমি ছিটকে পড়ে গেলাম। অনেক পীড়াপীড়ি ও চেষ্টা তদবীর করেও ঘোড়া তার পা উঠাতে পারছিল না। (পরিশেষে) ঘোড়া যখন স্বাভাবিক অবস্থায় দাঁড়ালো দেখা গেল ঘোড়ার পায়ে কোন (ধূলাবালি বা ময়লার) চিহ্ন নেই। বরং তা থেকে আকাশে উছান বা সুস্পষ্ট ধোঁয়া উৎক্ষিপ্ত হচ্ছিল। রাবী বলেন, আবু আমর ইব্নল আলাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম 'উছান' (عثان) কী? তিনি কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর বললেন, 'উছান' হচ্ছে অগ্নিবিহীন ধোঁয়া। যুহরী তাঁর হাদীসে বলেছেন- আযলামের (তীর) সাহায্যে ভাগ্য পরীক্ষায় যখন দেখা গেল যে, আমি তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারবো না, তখন আমি তাঁদেরকে নিরাপত্তার সাথে (নির্ভয় দিয়ে) ডাক দিলাম। তাঁরা থামলেন। আমি ঘোড়ায় চড়ে তাঁদের কাছে পৌছালাম। সাক্ষাতের সময় বারংবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আমার মন বলছিল, নিশ্চয় রাসূলের (ﷺ) বিষয়টি (নবুয়ত) প্রকাশ পাবে এবং বিজয়ী হবে। তখন আমি তাঁকে বললাম যে, আপনার কওম আপনার বিষয়ে পুরস্কার ঘোষণা করেছে (অর্থাৎ আপনাকে হত্যা অথবা বন্দী করতে পারলে অনেক পুরস্কার দেওয়া হবে)। তাছাড়া আমি তাঁদেরকে তাঁদের সফরের বিষয়ে খবরাখবর দিলাম এবং লোকজন তাঁদের পেছনে কিভাবে হন্যে হয়ে খুঁজছে, তাও বললাম। এরপর আমি তাঁদেরকে কিছু মাল-সামান (খাদ্য বা সফর সামগ্রী) পেশ করলাম। কিন্তু তাঁরা কিছুই গ্রহণ করেননি। তাঁরা শুধু তাঁদের অবস্থান বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য আমাকে অনুরোধ করলেন। আমি তাঁকে অনুরোধ জানালাম তিনি যেন আমাকে একটি বিদায়ী পত্রে নিরাপত্তা লিখে দেন। তিনি আমার অনুরোধক্রমে আমির ইবন্ ফুহাইরাকে (রা) নির্দেশ দিলেন। তিনি চামড়ার একটি টুকরায় তা লিখে দিলেন। অতঃপর তারা (মদীনার উদ্দেশ্যে) চলে গেলেন।
(বুখারী, ইবন ইসহাক ও অন্যান্য)
(বুখারী, ইবন ইসহাক ও অন্যান্য)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قصتهما مع سراقه بن مالك وما جرى لهما فى الطريق
حدّثنا عبد الرازق عن معمر عن الزهرى قال الزهرى واخبرنى عبد الرحمن بن مالك المدلجى وهو ابن أخى سراقة بن مالك بن جشعم ان اباه اخبره أنه سمع سراقة يقول جاءنا رسل كفار قريش يجعلون فى رسول الله صلى الله عليه وسلم وفى أبى بكر رضي الله عنه دية كل واحد منهما لمن قتلهما أو أسرهما فبينا انا جالس فى مجلس من مجالس قومى بنى مدلج اقبل رجل منهم حتى قام علينا فقال يا سراقة انى رأيت آنفا اسودة بالساحل انى أراها محمدًا وأصحابه، قال سراقة فعرفت أنهم هم فقلت انهم ليسوا بهم ولكن رأيت فلانا وفلانا انطلق آنفا قال ثم لبثت فى المجلس ساعة حتى قمت فدخلت بيتى فأمرت جاريتى أن تخرج لى فرسى وهى من وراء أكمة فتحبسها على وأخذت رمحى فخرجت به من ظهر البيت فخططت برمحى الأرض وخفضت عالية الرمح حتى اتيت فرسى فركبتها فرفعتها تقرب بى حتى رايت أسودتهما فلما دنوت منهم حيث يسمعهم الصوت عثرت بى فرسى فخررت عنها فقمت فأهويت بيدى الى كنانتى فاستخرجت منها الأزلام فاستقسمت بها أضرهم أم لا فخرج الذي اكره أن لا أضرهم فركبت فرسى وعصيت الأزلام فرفتها تقرب لى حتى اا دنوت منهم عثرت بى فرسى فخررت عنها فقمت فأهوبت بيدى الى كنانتى فأخرجت الأزلام فاستقسمت بها فخرج الذى أكره ان لا اضرهم، فعصيت الأزلام وركبت فرسى فرفعتها تقرب بى حتى اذا سمعت قراءة النبى صلى الله عليه وسلم وهو لا يلتفت وأبو بكر رضي الله عنه يكثر الالتفات ساخت يدا فرسى فى الارض حتى بلغت الركبتين فخررت عنها فزجرتها فنهضت فلم تكد تخرج يديها فلما استوت قائمة اذ لا أثر بها عثان ساطع فى السماء مثل الدخان قلت لأبى عمرو بن العلاء مالعثان؟ فسكت ساعة ثم قال هو الدخان من غير نار قال الزهرى فى حديثه فاستقسمت بالازلام فخرج الذى اكره ان لا أضرهم فناديتهما بالأمان فوقفوا فركبت فرسى حتى جئتهم فوقع فى نفسي حين لقيت ما لقيت من الحبس عنهم انه سيظهر أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت له ان قومك قد جعلوا فيك الدية وأخبرتهم من أخبار سفرهم وما يريد الناس بهم وعرضت عليهم الزاد والمتاع فلم يرزءونى شيئًا ولم يسألونى الا ان أخف عنا فسألته ان يكتب لى كتاب موادعة آمن به، فأمر عامر ابن فهيرة رضي الله تبارك وتعالى عنه فكتب لى فى رقعة من أديم ثم مضى
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সুরাকা ইব্ন মালিকের সাথে রাসূল (ﷺ) ও আবু বকরের ঘটনা এবং মদীনায় যাওয়ার পথে তাঁদের সাথে তার কথোপকথন
(১৪৯) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবু বকর (রা) কে সহযাত্রী বানিযে মদীনা অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকেন। আবু বকর ছিলেন বয়স্ক (বৃদ্ধ) তাঁকে চেনা যেত। (অর্থাৎ তিনি বয়সের কারণে এবং ব্যবসায়িক সফরের কারণে অনেকের কাছে পরিচিত ছিলেন)। কিন্তু আল্লাহর নবী (ﷺ) ছিলেন (তুলনামূলকভাবে) যুবক, সে কারণে তাঁকে কেউ চিনতো না। লোকজন সাক্ষাতের জন্য এসে জিজ্ঞেস করেন, হে আবু বকর, আপনার সম্মুখে ইনি কে? আবু বকর বলেন, ইনি হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি আমাকে সঠিক রাস্তার সন্ধান দেন। তখন কেউ কেউ মনে করে নিত যে, তিনি বোধ হয় রাহবর (পথপ্রদর্শক)। অবশ্য তিনি এর অর্থ ধরেছেন কল্যাণের রাস্তা (জীবন বিধান)। এমন সময় আবূ বকর (রা) তাকিয়ে দেখতে পান একজন ঘোড়সওয়ার তাদের কাছে চলে এসেছে। তিনি বললেন, ইয়া নাবীআল্লাহ্, এই ঘোড়সওয়ার আমাদের কাছে চলে এসেছে (তার উদ্দেশ্য ভাল মনে হচ্ছে না)। তখন নবী (ﷺ) সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন এবং দোয়া করলেন, ইয়া আল্লাহ্ আপনি একে আটকিয়ে দেন। অতঃপর তার ঘোড়া আটকে গেল এবং সে পড়ে গেল। এরপর ঘোড়া উঠে দাঁড়াল এবং শব্দ করলো। ঘোড়সওয়ার লোকটি তখন বললো, হে আল্লাহর নবী, আপনি আমাকে যা খুশী হুকুম করুন। রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি তোমার এই স্থানে অপেক্ষা করবে এবং অন্য কাউকেই (শত্রুদের) আমার পিছু নেওয়ার সুযোগ দিবে না, (তাদেরকে অবশ্যই প্রতিহত করে ঠেকিয়ে রাখবে)। (আল্লাহর কী কুদরত) সেই লোকটি দিবসের প্রথম দিকে ছিল নবীর (ﷺ) হত্যাকারী, আর দিবসের শেষভাগে হয়ে গেল রাসূলের (ﷺ) রক্ষক বা প্রহরী। অতঃপর আল্লাহ্ নবী (ﷺ) হাররার দিকে অবতরণ করেন এবং তিনি আনসারীদেরকে খবর পাঠান। তাঁরা খবর পেয়ে নবীর (ﷺ) কাছে এসে উভয়কে সালাম জানালেন এবং শান্তি ও নিরাপত্তার আশ্বাস প্রদান করলেন।
(বুখারী ও অন্যান্য)
(বুখারী ও অন্যান্য)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قصتهما مع سراقه بن مالك وما جرى لهما فى الطريق
عن أنس بن مالك قال اقبل نبى الله صلى الله عليه وسلم إلى المدينة وهو مردف ابا بكر وأبو بكر شيخ يعرف ونبى الله صلى الله عليه وسلم شاب لا يعرف قال فيلقى الرجل ابا بكر فيقول يا أبا بكر من هذا الرجل الذى بين يديك؟ فيقول هذا الرجل يهدينى الى السبيل فيحسب الحاسب انه انما يهديه الى الطريق وانما يعنى سبيل الخير فالتفت ابو بكر رضي الله عنه فاذا هو بفارس قد لحقهم فقال يا نبى الله هذا فارس قد لحق بنا قال فالتفت نبى الله صلى الله عليه وسلم فقال اللهم اصرعه: فصرعته فرسه ثم قامت تحمحم قال ثم قال يا نبى الله مرنى بما شئت قال قف مكانك لا تتركن احدا يلحق بنا قال فكان أول النهار جاهدا على نبى الله وكان آخر النهار مسلحة له قال فنزل نبى الله جانب الحرة ثم بعث الى الانصار فجاؤا نبى الله صلى الله عليه وسلم فسلموا عليهما وقالوا ركبا آمنين مطمئنين
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হিজরতের পথপ্রদর্শক সা'দ এর হাদীস, আসলাম গোত্রীয় দুই চোরের ইসলাম গ্রহণ এবং কুবায় বনু আমর ইবন 'আউফের বাড়ীতে রাসূলের (ﷺ) মেহমান হওয়া
(১৫০) ফাইদ (যিনি আবাদিল এর আযাদকৃত গোলাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইব্রাহীম ইবন আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন রবী'য়া-এর সাথে বের হলাম। ইব্রাহীম (পথিমধ্যে) ইবন সা'দকে ডেকে পাঠালেন। আমরা যখন 'আরজ নামক স্থানে পৌছালাম তখন ইবন সা'দ ও সা'দ আমাদের কাছে এসে পৌঁছালেন, যিনি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) রাকুবার পথ চিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই ইব্রাহীম বললেন, তোমার পিতা যে হাদীস তোমাকে বর্ণনা করে শুনিয়েছেন, তা তুমি আমাদের শোনাও। ইব্ন সা'দ বললেন, আমার পিতা বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবু বকরকে সাথে নিয়ে আমাদের কাছে আসলেন। আবু বকরের (রা) একটি পালক কন্যা (তাঁর স্ত্রীর দুধ পান করেছিল) আমাদের কছে ছিল। যাহোক, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) চাচ্ছিলেন মদীনার রাস্তায় সফর সংক্ষিপ্ত করতে। তখন সা'দ তাঁকে বললেন, এই তো গাইর নামক পাহাড় (মদীনায় অবস্থিত) দেখা যাচ্ছে। সেখানে আসলাম গোত্রের দু'জন ডাকু থাকে যাদেরকে 'মুহানান' (ধিকৃত বা নিন্দিত) বলা হয়ে থাকে। আপনি চাইলে আমরা তাদের পাকড়াও করতে পারি। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমাদেরেকে তাদের কাছে নিয়ে চলো। সাদ বলেন, তখন আমরা সেদিকে রওয়ানা করলাম। ঐ দুই ডাকুর একজন আমাদেরকে খুব সম্মান করলো। সে তার অপর সঙ্গী ডাকুকে বললো, ইনি হচ্ছেন আল-ইয়ামনী। তখন রাসূল (ﷺ) এদেরকে কাছে ডাকলেন এবং তাদের কাছে ইসলামের দা'ওয়াত দিলেন; তারা ইসলাম গ্রহণ করলো। রাসূল (ﷺ) তাদের নাম জিজ্ঞেস করলেন। তারা বললো আমরা 'মুহানান' (ধিকৃত/নিন্দিত)। রাসূল (ﷺ) বললেন, না; বরং তোমরা 'মুকরামান' (সম্মানিত/নন্দিত)। রাসূল (ﷺ) তাদেরকে মদীনায় আসারও নির্দেশ দিলেন। এরপর আমরা পুনরায় রওয়ানা হলাম এবং কুবার উপকণ্ঠে উপনীত হলাম। বনূ আমর ইবন 'আউফের লোকজন তাঁর সাথে সাক্ষাত করলো। রাসূল (ﷺ) বললেন আবু উমামা আস'আদ ইব্ন যুরারাহ কোথায়? সা'দ ইব্ন বাহমাহ বললেন, সে আগেই চলে গেছে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ); এ বিষয়ে আমি তাঁকে সংবাদ দেব না কি? এরপর রাসূল (ﷺ) আরও অগ্রসর হয়ে খেজুর বাগানের কাছে পৌঁছালেন। খেজুর বৃক্ষের গোড়ার পাশে পানিভর্তি চৌবাচ্চা। এবার রাসূল (ﷺ) আবু বকরের দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আবু বকর এই সেই স্থান যা আমাকে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি অবতরণ করবো সেখানে বনু মুদলিজ গোত্রের চৌবাচ্চাসমূহের ন্যায় চৌবাচ্চা থাকবে।
(আহমদ ও ইবন কাছীর)
(আহমদ ও ইবন কাছীর)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب حديث سعد الدليل فى طريق الهجرة واسلام اللصين من اسلم ونزوله صلى الله عليه وسلم بقباء على بنى عمرو بن عوف
عن فائد مولى عبادل قال خرجت مع ابراهيم بن عبد الرحمن بن عبد الله بن أبى ربيعة فأرسل ابراهيم بن عبد الرحمن الى ابن سعد حتى اذا كنا بالعرج اتانا ابن سعد وسعد: الذى دل رسول الله صلى الله عليه وسلم على طريق ركوبة فقال إبراهيم أخبرني ما حدثك أبوك؟ قال ابن سعد حدثي أبى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتاهم ومعه أبو بكر وكان لأبى بكر عندنا بنت مسترضعة وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم أراد الاختصار فى الطريق الى المدينة فقال له سعد الغائر من ركوبه وبه لصان من أسلم يقال لهما المهانان فإن شئت أخذنا عليهما، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم خذ بنا عليهما، قال سهل فخرجنا حتى أشرفنا اذا أحدهما يقول لصاحبه هذا اليمانى فدعاهما رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرض عليهما الاسلام فاسلما ثم سألهما عن أسمائهما فقالا نحن المهانان فقال بل انتما المكرمان وأمرهما أن يقدما عليه المدينة فخرجنا حتى أتينا ظاهر قباء فتلقاه بنو عمرو بن عوف فقال النبى صلى الله عليه وسلم اين أبو امامة أسعد بن زرارة فقال سعد بن خثمة أنه أصاب قبلى يا رسول الله أفلا أخبره ذلك؟ ثم مضى حتى اذا طلع على النخل فاذا الشرب مملوء، فالتفت النبي صلى الله عليه وسلم الي أبي بكر رضي الله عنه فقال يا أبا بكر هذا المنزل رأيتني أنزل علي حياض کحياض بني مدلج
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হিজরতের পথপ্রদর্শক সা'দ এর হাদীস, আসলাম গোত্রীয় দুই চোরের ইসলাম গ্রহণ এবং কুবায় বনু আমর ইবন 'আউফের বাড়ীতে রাসূলের (ﷺ) মেহমান হওয়া
(১৫১) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন (মক্কা থেকে) আগমন করেন, তখন তিনি মদীনার উচ্চ অঞ্চলে বনূ 'আমর ইবন 'আউফ নামক এক গোত্রের মেহমান হন এবং সেখানে চৌদ্দ রাত অবস্থান করেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب حديث سعد الدليل فى طريق الهجرة واسلام اللصين من اسلم ونزوله صلى الله عليه وسلم بقباء على بنى عمرو بن عوف
عن أنس بن مالك قال لما قدم رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم نزل فى علو المدينة فى حي يقال لهم بنو عمرو بن عوف فاقام فيهم أربع عشرة ليلة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর মদীনায় আগমন, মদীনাবাসী স্ত্রী পুরুষগণ সবাই মিলে তাঁকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন এবং আবু আইয়ুব আল-আনসারীর (রা) গৃহে তাঁর অবস্থান
(১৫২) আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন হিজরতের সময় আগমন করেন, তখন রাসূল (ﷺ) সওয়ারীর উপর আরোহণ করে আসছিলেন; আর আবূ বকর (রা) তাঁর পেছনে বসা ছিলেন। আবু বকর (রা) সিরিয়ায় যাতায়াত করতেন বিধায় পথিমধ্যে (লোকজনের কাছে) পরিচিত ছিলেন। তাই তাঁরা যখন বিভিন্ন গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, তখন তারা আবূ বকরকে (রা) জিজ্ঞেস করেন, আপনার সম্মুখে উপবিষ্ট ইনি কে? আবু বকর (রা) বলেন, ইনি আমার পথ প্রদর্শক। তাঁরা যখন মদীনার সন্নিকটে উপনীত হন, তখন তারা আনসারী মুসলিমগণের কাছে তথা আবু উমামা ও তাঁর সাথীদের কাছে খবর প্রেরণ করেন। তখন তাঁরা (আনসারগণ) এগিয়ে আসেন এবং বলেন, স্বাগতম, শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে আপনারা প্রবেশ করুন। অতঃপর তারা প্রবেশ করেন। আনাস বলেন, যেদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবু বকর (রা) মদীনায় প্রবেশ করেন, সেদিনের ন্যায় অত্যধিক আলোকিত ও সুন্দর দিন আমরা আর কখনও দেখিনি। পক্ষান্তরে আমি তাঁর ওফাতও প্রত্যক্ষ করেছি, আর সেদিনের ন্যায় এত অধিক অন্ধকারাচ্ছন্ন ও খারাপ দিন প্রত্যক্ষ করিনি।
(বুখারী, ইবন ইসহাকও এই মর্মে হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।)
(বুখারী, ইবন ইসহাকও এই মর্মে হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في قدومه صلى الله عليه وسلم الى المدينة وخروج اهلها به واستقبالهم اياه جميعا رجالا ونساء ونزوله بدار أبى أيوب الانصارى
عن أنس قال لما هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يركب وأبو بكر رديفه وكان أبو بكر يعرف فى الطريق لا ختلافه الى الشام وكان يمر بالقوم فيقولون من هذا بين يديك يا أبا بكر؟ فيقول هاد يهدينى فلما دنوا من المدينة بعث الى القوم الذين اسلموا من الانصار الى أبى امامة وأصحابه فخرجوا اليهما فقالوا ادخلا آمنين مطاعين فدخلا، قال انس فما رأيت يوما قط انور ولا احسن من يوم دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر المدينة. وشهدت وفاته فما رأيت يوما قط أظلم ولا اقبح من اليوم الذى توفى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর মদীনায় আগমন, মদীনাবাসী স্ত্রী পুরুষগণ সবাই মিলে তাঁকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন এবং আবু আইয়ুব আল-আনসারীর (রা) গৃহে তাঁর অবস্থান
(১৫৩) আনাস (রা) হতে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মদীনায় আগমন করেন, তখন এই আনন্দের আতিশয্যে হাবশিরা তাঁর আগমন উপলক্ষে বর্শাযুদ্ধ খেলায় মেতে ওঠেন। (এমনকি ঈদের দিনের আনন্দের চেয়েও তারা অধিক আনন্দিত হয়েছিলেন।)
(তিরমিযী, সনদ সহীহ।)
(তিরমিযী, সনদ সহীহ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في قدومه صلى الله عليه وسلم الى المدينة وخروج اهلها به واستقبالهم اياه جميعا رجالا ونساء ونزوله بدار أبى أيوب الانصارى
وعنه أيضًا قال لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المديمنة لعبت الحبشة لقدومه بحرابهم فرحا بذلك
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর মদীনায় আগমন, মদীনাবাসী স্ত্রী পুরুষগণ সবাই মিলে তাঁকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন এবং আবু আইয়ুব আল-আনসারীর (রা) গৃহে তাঁর অবস্থান
(১৫৪) জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) যখন মদীনায় আগমন করেন, (সেদিন আনন্দের আতিশয্যে) তারা উট অথবা গরু জবাই করেন। (জাবির অন্য একবার বলেছেন- نَحَرْتُ جَزُورًا أَوْ بَقَرَةً আমি উট অথবা গরু জবাই করেছি)।
(আহমদ, সনদ সহীহ।)
(আহমদ, সনদ সহীহ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في قدومه صلى الله عليه وسلم الى المدينة وخروج اهلها به واستقبالهم اياه جميعا رجالا ونساء ونزوله بدار أبى أيوب الانصارى
عن محارب بن دثار عن جابر أن النبى صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم لما قدم المدينة نحروا جزورا او بقرة وقال مرة نحرت جزورا أو بقرة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর মদীনায় আগমন, মদীনাবাসী স্ত্রী পুরুষগণ সবাই মিলে তাঁকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন এবং আবু আইয়ুব আল-আনসারীর (রা) গৃহে তাঁর অবস্থান
(১৫৫) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, আমি বালকদের সাথে দৌড়াচ্ছিলাম। তারা বলছিল, মুহাম্মদ এসে গেছেন। আমি দৌড়াচ্ছিলাম, কিন্তু কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। আবারও তারা বলছিল, মুহাম্মদ এসে গেছেন, আমি (তাঁকে দেখার জন্য) আবারও দৌড়ালাম, কিন্তু কিছু দেখতে পেলাম না। (অবশেষে) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর সাথী আবু বকরকে (রা) সাথে নিয়ে উপস্থিত হলেন। আমরা সে সময় মদীনার কোন এক কৃষ্ণ ও প্রস্তরময় স্থানে ছিলাম (তাঁদের প্রতীক্ষায়)। তখন মদীনাবাসী জনৈক ব্যক্তিকে ডেকে আনাসারগণকে তাঁদের আগমনবার্তা জানাতে বলেন। অতঃপর পাঁচশ আনসারের একটি বড় দল তাঁদেরকে স্বাগত জানাতে তাঁদের কাছে এগিয়ে গেল। আনসারীগণ বললেন, এখানে (কুবায়) অবস্থান করুন পূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে, আপনাদের নির্দেশাবলী পালিত হবে। অতঃপর রাসূল (ﷺ) ও তাঁর সাথী (তাদের) সম্মুখে অগ্রসর হতে থাকেন (দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে)। মদীনাবাসীগণ রাস্তায় বের হয়ে আসেন। এমনকি যুবতী মেয়েরাও ঘরের ছাদের উপর উঠে তাঁকে দেখার চেষ্টা করতে থাকে, তারা বলতে থাকে, তিনি (মুহাম্মদ) কোনজন? রাবী বলেন, ঐ দিনের ন্যায় আমি এমন কোন দৃশ্য আর কখনও দেখিনি। আনাস (রা) বলেন, আমি রাসূলকে দেখেছি যেদিন তিনি আমাদের মাঝে আগমন করলেন, আবার যেদিন তিনি ইন্তিকাল করেন সে দিনটিও দেখেছি; এই দু'টি বিশেষ দিনের সাথে তুল্য আর কোন দিন আমি দেখিনি।
(বায়হাকী ও মালিক)
(বায়হাকী ও মালিক)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في قدومه صلى الله عليه وسلم الى المدينة وخروج اهلها به واستقبالهم اياه جميعا رجالا ونساء ونزوله بدار أبى أيوب الانصارى
عن ثابت عن أنس بن مالك قال انى لاسعى فى الغلمان يقولون جاء محمد فأسعى فلا أرى شيئًا ثم يقولون جاء محمد فأسعى فلا أرى شيئًا قال حتى جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم وصاحبه أبو بكر فى بعض حرار المدينة ثم بعثنا رجل من أهل المدينة ليؤذن بهما الانصار فاستقبلهما زهاء خمسمائة من الأنصار حتى انتهو اليهما فقالت الأنصار انطلقا آمنين مطاعين، فاقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم وصاحبه بين اظهرهم فخرج أهل المدينة حتى ان العواتق لفوق البيوت يتراءينه يقلن ايهم هو ايهم هو؟ قال فما رأينا منظرا مشبها به يومئذ فان أنس ولقد رأيته يوم دخل علينا ويوم قبض فلم أر يومين مشبها بهما
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর মদীনায় আগমন, মদীনাবাসী স্ত্রী পুরুষগণ সবাই মিলে তাঁকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন এবং আবু আইয়ুব আল-আনসারীর (রা) গৃহে তাঁর অবস্থান
(১৫৬) জুবাইর ইবন নুফাইর (রহ.) আবূ আইয়্যুব আল-আনসারী (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মদীনায় আগমন করেন, তখন আনসারগণ লটারীর ব্যবস্থা করেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কার বাড়ীতে মেহমান হবেন। লটারীতে আবূ আইয়্যুব বিজয়ী হলেন; রাসূল (ﷺ) তার বাড়ীতেই অবস্থান করলেন। রাসূলুল্লাহর কাছে হাদিয়া স্বরূপ খাবার আসতো, তিনি তা থেকে আবূ আইয়্যুবকে হাদিয়া দিতেন। একদিন আবু আইয়্যুব (রা) গৃহে প্রবেশ করে দেখতে পান যে, একটি খাবারের পাত্রে পেঁয়াজ রয়েছে (এবং রাসূল তা গ্রহণ করেন নি), তিনি জিজ্ঞেস করলেন ব্যাপার কী? তারা (পরিবারের লোকজন) বললো, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এটি ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। আবূ আইয়্যুব (রা) তখন রাসূলের (ﷺ) কাছে হাজির হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, ঐ পাত্রের খাবার গ্রহণে আপনি কেন বিরত থাকলেন। রাসূল (ﷺ) উত্তর দিলেন, আমি তাতে পেঁয়াজ দেখলাম, তাই। আনসারী বললেন, পেঁয়াজ কি তাহলে আমাদের জন্য হালাল নয়? রাসূল (ﷺ) বললেন, হাঁ হালাল। তোমরা খাও। কিন্তু আমার (আমার পক্ষে একটু অসুবিধা) এমন জনের সাথে কথা-বার্তা বলতে হয় (যাঁরা এই গন্ধ পছন্দ করেন না), যা তোমাদের করতে হয় না। হাইওয়াহ বলেন- إِنَّهُ يَغْشَانِي مَا لَا يَغْشَاكُمْ (শাব্দিক সামান্য পার্থক্য থাকলেও অর্থ একই অর্থাৎ ফেরেশতা ইত্যাদি।)
(আহমদ)
(আহমদ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في قدومه صلى الله عليه وسلم الى المدينة وخروج اهلها به واستقبالهم اياه جميعا رجالا ونساء ونزوله بدار أبى أيوب الانصارى
عن جبير بن نفيرعن أبى أيوب الانصارى قال لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة اقترعت الأنصار ايهم يأوى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقرعهم أبو أيوب فآوى رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان اذا اهدى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم طعام اهدى لأبى ايوب قال فدخل ابو ايوب يوما فاذا قصعة فيها بصل فقال ما هذا؟ فقالوا ارسل بها رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فاطلع ابو ايوب الى النبى صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ما منعك من هذه القصعة قال رأيت فيها بصلا، قال ولا يحل لنا البصل؟ قال بلى فكلوه ولكن يغشانى مالا يغشاكم وقال حيوة إنه يغشانى ما يغشاكم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর মদীনায় আগমন, মদীনাবাসী স্ত্রী পুরুষগণ সবাই মিলে তাঁকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন এবং আবু আইয়ুব আল-আনসারীর (রা) গৃহে তাঁর অবস্থান
(১৫৭) আবূ আইয়্যুবের আযাদকৃত গোলাম আফলাহ্ আবূ আইয়্যুব আল-আনসারী (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন তাঁর গৃহে মেহমান হয়ে ওঠেন, তখন নবী (ﷺ) ছিলেন নীচতলায় আর আবূ আইয়্যুব (রা) ছিলেন দোতলায়। (তাঁর বাড়ীটি ছিল দ্বিতলবিশিষ্ট)। একরাতে (হঠাৎ) আবূ আইয়্যুবের খেয়াল হলো, একি (বেয়াদবী) আমরা রাসূলের (ﷺ) মাথার উপর দিয়ে চলাচল করছি! সেই রাতে তিনি পরিজনসহ দোতলার এক পাশে রাত্রিযাপন করলেন। পরদিন সকালে তিনি রাসূলকে (ﷺ) বিষয়টি অবহিত করলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, নীচ তলাই আমার জন্য বেশী সুবিধাজনক। আবূ আইয়্যুব (রা) বললেন, আপনি যে ছাদের নীচে থাকতেন, সেই ছাদের উপরে আমি উঠবো না। অতঃপর আবূ আইয়্যুব (রা) নীচতলায় এবং রাসূল (ﷺ) উপরতলায় অবস্থান করলেন। আবূ আইয়্যুব নবীর (ﷺ) জন্য খাবার তৈয়ার করে (উপরে) পাঠাতেন। খাবারের অবশিষ্টাংশ রাসূলের (ﷺ) কাছ থেকে ফেরত আসার পর তিনি জিজ্ঞেস করে জেনে নিতেন রাসূল (ﷺ) খাবারের কোন পাশ (বা অংশ) তাঁর অঙ্গুলির স্পর্শ পেয়েছে; কারণ তিনি রাসূল (ﷺ)-এর আংগুলের স্পর্শের স্থান থেকে (বরকতের জন্য) খাবার শুরু করতেন। একদিন তাঁর জন্য খাবার তৈরী হলো, তাতে পেঁয়াজ ছিল। রাসূল (ﷺ) সেই খাবার ফেরত পাঠিয়ে দেন। আবূ আইয়্যুব (যথারীতি) খাবার গ্রহণের সময় রাসূলের (ﷺ) অঙ্গুলির স্পর্শের স্থান সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তখন তাঁকে বলা হলো, রাসূল (ﷺ) (এই খাবার) খাননি। আবু আইয়্যুব (ﷺ) তৎক্ষণাৎ উপরে উঠে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐটি (পেঁয়াজ) কি হারাম? উত্তরে তিনি বললেন, (না), আমি এটি অপছন্দ করি (অন্য কারণে)। আবূ আইয়্যুব (রা) বললেন, আপনি যা অপছন্দ করেন, আমিও তা অপছন্দ করবো (অথবা যা আপনি অপছন্দ করেছেন)। বস্তুতঃ রাসূলের (ﷺ) কাছে ফেরেশতা ও ওহী নাযিল হতো (আর এটিই ছিল সেই বিশেষ কারণ)।
(মুসলিম ও বায়হাকী)
(মুসলিম ও বায়হাকী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في قدومه صلى الله عليه وسلم الى المدينة وخروج اهلها به واستقبالهم اياه جميعا رجالا ونساء ونزوله بدار أبى أيوب الانصارى
عن افلح مولى أبى أيوب عن أبى ايوب رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نزل عليه فنزل النبى صلى الله عليه وسلم أسفل وابو ايوب فى العلو فانتبه ابو أيوب ذات ليلة فقال نمشى فوق رأس رسول الله صلى الله عليه وسلم فتحول فباتوا فى جانب، فلما أصبح ذكر ذلك للنبى صلى الله عليه وسلم فقال النبى صلى الله عليه وسلم السَّفل أرفق بى، فقال أبو أيوب لا أعلو سقيفة أنت تحتها فتحول أبو أيوب فى السفل والنبى صلى الله عليه وسلم فى العلو فكان يصنع طعام النبى صلى الله عليه وسلم فيبعث اليه فاذا رد اليه سال عن موضع أصابع النبى صلى الله عليه وسلم فيتبع أثر أصابع النبى صلى الله عليه وسلم فيأكل من حيث أثر أصابعه فصنع ذات يوم طعاما فيه ثوم فأرسل به اليه فسأل عن موضع اثر أصابع النبى صلى الله عليه وسلم فقيل لم يأكل فصعد اليه فقال أحرام هو فقال النبى صلى الله عليه وسلم أكرهه قال فانى أكره ما تكره أو ما ككرهته وكان النبى صلى الله عليه وسلم يؤتى
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হিজরতের বিধানাবলী সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ: হিজরতের ফযীলত ও কোন ধরনের হিজরত উত্তম
পরিচ্ছেদ: হিজরতের ফযীলত ও কোন ধরনের হিজরত উত্তম
(১৫৮) জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তুফাইল ইবন 'আমর আদ্-দাওসী রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে এসে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) আপনার কি কোন সুরক্ষিত ও শক্তিশালী দুর্গের প্রয়োজন আছে? বর্ণনাকারী বলেন, জাহিলী যুগে দাওস গোত্রের একটি দুর্গ ছিল। (এর দ্বারা সেদিকেই ইশারা করা হয়েছে) কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সেখানে যেতে অস্বীকার করেন। কারণ, সেই সম্মানটুকু আল্লাহ তা'আলা মদীনার আনসারগণের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন হিজরত করে মদীনায় আগমন করেন, তখন তুফাইল ইব্ন 'আমরও মদীনায় হিজরত করেন এবং তাঁর সাথে তাঁর স্বগোত্রীয় অপর এক ব্যক্তিও (মদীনায়) হিজরত করেন। কিন্তু মদীনার আবহাওয়া তাঁদের জন্য প্রতিকূল হওয়ায় সেই লোকটি পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন এবং তা তীব্র আকার ধারণ করে। (অসুখের যন্ত্রণার তীব্রতায় অতিষ্ঠ হয়ে) তিনি তীরের ফলার অগ্রভাগের সাহায্যে তাঁর হাতের অঙ্গুলীর উপরিভাগের গিরা কেটে দেন। ফলে প্রচুর রক্তপাত হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। তুফাইল ইবন্ 'আমর (তাঁর মৃত্যুর পর) তাকে স্বপ্নে দেখতে পান খুবই ভাল অবস্থায়। কিন্তু তাঁর হাত ছিল আবৃত। তুফাইল স্বপ্নে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার রব তোমার সাথে কিরূপ আচরণ করলেন? (অর্থাৎ তুমি কী অবস্থায় আছ?) উত্তরে বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা শুধু নবীর (ﷺ) সাথে হিজরতের কারণে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তুফাইল বললেন, তোমার হাত আচ্ছাদিত কেন? উত্তরে তিনি জানালেন, আমাকে বলা হয়েছে, যা আমি নিজে নষ্ট করে দিয়েছি, সেটি আর সঠিক করা হবে না। তুফাইল তাঁর এই স্বপ্নের বৃত্তান্ত রাসূলুল্লাহকে (ﷺ), অবহিত করলেন। রাসূল (ﷺ) সেই সাহাবীর (রা) জন্য দোয়া করলেন এই বলেঃ
اَللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِرْ
“হে আল্লাহ্ তার হাত দু'টোকেও ক্ষমা করে দিন।”
(আহমদ। হাদীসের সনদ সহীহ)
اَللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِرْ
“হে আল্লাহ্ তার হাত দু'টোকেও ক্ষমা করে দিন।”
(আহমদ। হাদীসের সনদ সহীহ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب أحكام الهجرة
باب ما ورد فى فضلها وأى الهجرة أفضل
باب ما ورد فى فضلها وأى الهجرة أفضل
عن أبى الزبير عن جابر بن عبد الله أن الطفيل بن عمرو الدوسى أتى النبى صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هل لك فى حصن حصينة ومنعة قال فقال حصن كان لدوس فى الجاهلية فابى ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم للذى ذخر الله عز وجل للانصار فلما هاجر النبى صلى الله عليه وسلم إلى المدينة هاجر اليه الطفيل بن عمرو وهاجر معه رجل من قومه فاجئووا المدينة فمرض فجزع فأخذ مشاقص له فقطع بها براجمه فشخبت يداه حتى مات فرآه الطفيل بن عمرو فى منامه فرآه فى هيئة حسنة ورآه مغطيا يده فقال له ما صنع بك ربك قال غفر لي بهجرتى الى نبيه صلى الله عليه وسلم قال فما لى أراك مغطيا يدك قال قال لى لن نصلح منك ما أفسدت قال فقصها الطفيل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم وليديه فاغفر
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হিজরতের বিধানাবলী সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ: হিজরতের ফযীলত ও কোন ধরনের হিজরত উত্তম
পরিচ্ছেদ: হিজরতের ফযীলত ও কোন ধরনের হিজরত উত্তম
(১৫৯) জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবীর (ﷺ) কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ হিজরত উত্তম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)? উত্তরে নবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু যা অপছন্দ করেন তা থেকে হিজরত (পরিত্যাগ) করা।
(এই হাদীসের ব্যাখ্যা ও বয়াত ১৯তম খন্ডে باب الترغيب في خصال مجتمعة من افضل اعمال البر নামক পরিচ্ছদে ২৫ নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।)
(এই হাদীসের ব্যাখ্যা ও বয়াত ১৯তম খন্ডে باب الترغيب في خصال مجتمعة من افضل اعمال البر নামক পরিচ্ছদে ২৫ নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب أحكام الهجرة
باب ما ورد فى فضلها وأى الهجرة أفضل
باب ما ورد فى فضلها وأى الهجرة أفضل
عن جابر بن عبد الله قال أتى النبى صلى الله عليه وسلم رجل فقال يا رسول الله أى الهجرة أفضل قال من هجر ما كره الله عز وجل
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হিজরতের বিধানাবলী সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ: হিজরতের ফযীলত ও কোন ধরনের হিজরত উত্তম
পরিচ্ছেদ: হিজরতের ফযীলত ও কোন ধরনের হিজরত উত্তম
(১৬০) আবদুল্লাহ্ ইব্ন 'আমর ইব্নল 'আস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) কোন্ ইসলাম উত্তম? রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমার হাত ও তোমার জিহ্বা (মুখ) থেকে মুসলিমগণের নিরাপদে থাকা (হচ্ছে উত্তম কর্ম)। আবার দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কোন্ হিজরত উত্তম? উত্তরে রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমার রব যা অপছন্দ করেন, তা পরিত্যাগ করা। আর হিজরত হচ্ছে দুই প্রকার। নগরবাসীর ও মরু (পল্লী) বাসীর হিজরত। মরু (পল্লী) বাসীর হিজরত হলো, যখন তাকে আহ্বান করা হবে, তখন সে সাড়া দিবে; যখন নির্দেশ প্রদান করা হবে, তখন সে তা পালন করবে। পক্ষান্তরে নগরবাসীর হিজরত বেশ কঠিন এবং এর প্রতিদানও সর্বোত্তম।
(তাইয়ালাসী। এই হাদীসের সনদ সহীহ, সামান্য কমবেশী করে এটি আবূ দাউদ, হাকেম ও যাহাবীও উদ্ধৃত করেছেন।)
(তাইয়ালাসী। এই হাদীসের সনদ সহীহ, সামান্য কমবেশী করে এটি আবূ দাউদ, হাকেম ও যাহাবীও উদ্ধৃত করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب أحكام الهجرة
باب ما ورد فى فضلها وأى الهجرة أفضل
باب ما ورد فى فضلها وأى الهجرة أفضل
عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال قام رجل فقال يا رسول الله أى الاسلام أفضل قال أن يسلم المسلمون من لسانك ويدك فقام ذاك وآخر فقال يا رسول الله أى الهجرة أفضل قال أن تهجر ما كره ربك والهجرة هجرتان الحاضر والبادى فهجرة البادى أن يجيب اذا دعى ويطيع اذا أمر والحاضر أعظمها بلية وأفضلها أجرا
তাহকীক: