মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৫৪ টি

হাদীস নং: ২১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাদীজা বিনতু খুয়াইলিদের (রা) সাথে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) বিবাহ
(২১) ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) খাদীজা (রা) প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। খাদীজা (রা) এর পিতা রাসূলের (ﷺ) এর সাথে তাঁর বিবাহে অনিচ্ছুক ছিল। অতঃপর তিনি (খাদীজা) খানাপিনার আয়োজন করেন এবং তাঁর পিতামহ কুরাইশ নেতৃবৃন্দকে দা'ওয়াত করেন। তারা খাদ্যসামগ্রী আহার ও পানীয় (শরাব) গ্রহণ করে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় খাদীজা (রা) তাঁর পিতাকে বললেন, মুহাম্মদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন; সুতরাং আপনি আমাকে তাঁর সাথে বিবাহ দিয়ে দিন। তখন তাঁর পিতা তাঁর সাথে খাদীজার বিবাহ সম্পন্ন করে। খাদীজা (রা) তখন তাঁর পিতাকে জাফরানমিশ্রিত সুগন্ধি মাখিয়ে দেন এবং একজোড়া কাপড় পরিয়ে দেন। তৎকালীন আরবের প্রথা অনুসারে কনের পিতাকে বিবাহের আসরে ঐরূপ করা হতো। কিন্তু যখন তার নেশা কেটে গেল, তখন দেখতে পেল যে, সে সুগন্ধিমথিত এবং তাঁর পরিধানে সেই কাপড়। তখন সে বলে উঠল! এ কী? খাদীজা (রা) বললেন, তুমি আমাকে মুহাম্মদ ইব্‌ন আবদুল্লাহর সাথে বিবাহ দিয়েছ। পিতা বলল, আবু তালিবের এতীমের সাথে আমি বিবাহ দেব! আমার জীবনের শপথ, কখনও না। খাদীজা (রা) বললেন, আপনার লজ্জা করে না? কুরাইশদের কাছে তোমার সম্মান ভুলুণ্ঠিত করতে চাও? তারা জেনে যাক যে, তুমি নেশাগ্রস্ত ছিলে? অগত্যা তাঁর পিতা রাজি হয়ে যায়।
(হাইছামী, আহমাদ ও তাবারানী।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في ذكر زواجه صلى الله عليه وسلم بالسيدة المصونة خديجة بنت خويلد رضي الله عنها
عن ابن عباس (1) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر خديجة (2) وكان أبوها يرغب عن يزوجه (3) فصنعت طعامًا وشرابًا فدعت أباها وزمرًا من قريش فطعموا وشربوا حتى ثملوا، فقالت خديجة لأبيها إن محمد بن عبد الله يخطبنى فزوجنى إياه، فزوجها إياه فخلقته (1) وألبسته حلة وكذلك كانوا يفعلون بالأباء (2) فلما سرى عنه سكره نظر فإذا هو مخلق وعليه حلة، فقال ما شأنى ما هذا؟ قالت زوجتى محمد بن عبد الله، قال أزوج يتيم أبى طالب لا لعمرى (3) فقالت خديجة أما تستحى؟ تريد أن تسفة نفسك عند قريش تخبر الناس أنك كنت سكران، فلم تزل به حتى رضى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে কুরাইশ কর্তৃক কাবা গৃহ পুনঃনির্মাণ, হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য, এই বিষয়ে রাসূলকে (ﷺ) শালিস মানা এবং জাহেলিয়াতের যুগে তাঁকে আল-আমীন খেতাব দান
(২২) আবুত তুফাইল থেকে বর্ণিত, তিনি জাহেলিয়াতের যুগে কাবা নির্মাণ প্রসঙ্গ উল্লেখপূর্বক বলেন, কুরাইশরা কা'বা ঘর ভেংগে পুনরায় তা উপত্যকার পাথর দ্বারা পুননির্মাণ করতে থাকে। কুরাইশরা কাঁধে করে পাথর বহন করে আনে। এইভাবে তারা কাবা শরীফের দেওয়াল বিশ গজ পর্যন্ত উঁচু করে। ঐ সময় নবী (ﷺ) আজইয়াদ থেকে একটি পাথর বহন করে আনেন। তাঁর পরিধানে ছিল একটি ডোরাকাটা চাঁদর যা তার ছোট হচ্ছিল। তিনি সেটি কাঁধ পর্যন্ত উঠাতে গেলে, নিচ থেকে সতর দেখা যাচ্ছিল। যেহেতু চাঁদরটি ছোট ছিল তখন অদৃশ্য আওয়াজ আসল, হে মুহাম্মদ তোমার সতর চাঁদর দ্বারা আবৃত কর (অন্য বর্ণনায় এসেছে তোমার সতর উন্মুক্ত করো না। তখন তিনি পাথর ফেলে দেন এবং কাপড় পরিধান করেন) এরপর আর কখনও তাঁকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখা যায়নি।
(হাকেম ও যাহাবী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في ذكر تجديد قريش بناء الكعبة قبل البعث بخمس سنين واختلافهم في رفع الحجر وتحكيمه صلى الله عليه وسلم في رفعه وتسميته في الجاهلية بالأمين
وعن أبى الطفيل (4) وذكر بناء الكعبة في الجاهلية (5) قال فهدمتها قريش وجعلوا يبنونها بحجارة الوادي تحملها قريش على رقابها فرفعوها في السماء عشرين ذراعًا، فبينا النبي صلى الله عليه وسلم يحمل حجارة من أجياد (1) وعليه نمرة فضاقت عليه النمرة فذهب يضع النمرة على عاتقه فيرى عورته من صغر النمرة، فنودى يا محمد خمر عورتك (3) (وفي روايه فنودى لا تكشف عورتك فألقى الحجر ولبس ثوبه) فلم ير عريانًا بعد ذلك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে কুরাইশ কর্তৃক কাবা গৃহ পুনঃনির্মাণ, হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য, এই বিষয়ে রাসূলকে (ﷺ) শালিস মানা এবং জাহেলিয়াতের যুগে তাঁকে আল-আমীন খেতাব দান
(২৩) 'আমর ইব্‌ন দীনার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবিরকে (রা) বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের সাথে (কুরাইশদের সাথে) কাবা গৃহ নির্মাণের সময় পাথর বহন করছিলেন, তখন তাঁর পরিধানে ছিল ইযার। তাঁর চাচা আব্বাস বললেন, হে ভাতিজা, তোমার ইযারটি খুলে তোমার কাঁধে পাথরের নীচে দিয়ে নিতে পার। তখন তিনি ইযারটি খুলে তাঁর কাঁধে স্থাপন করলেন। অমনি তিনি বেহুঁশ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। ঐ দিনের পর আর কখনও তাঁকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখা যায়নি।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في ذكر تجديد قريش بناء الكعبة قبل البعث بخمس سنين واختلافهم في رفع الحجر وتحكيمه صلى الله عليه وسلم في رفعه وتسميته في الجاهلية بالأمين
عن عمرو بن دينار (1) سمعت جابرًا يحدث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ينقل معهم حجارة الكعبة وعليه إزار، فقال له العباس عمه ياابن أخي لو حللت إزارك فجعلنه على منكبيك دون الحجارة (2) قال فحله فجعله على منكبيه (3) فسقط مغشيًا عليه (4) فما رؤى بعد ذلك اليوم عريانًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে কুরাইশ কর্তৃক কাবা গৃহ পুনঃনির্মাণ, হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য, এই বিষয়ে রাসূলকে (ﷺ) শালিস মানা এবং জাহেলিয়াতের যুগে তাঁকে আল-আমীন খেতাব দান
(২৪) মুজাহিদ সায়িব ইব্‌ন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তাঁকে বলেছেন যে, তিনি জাহেলিয়াতের যুগে কাবাগৃহ নির্মাণকারীদের অন্যতম ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমার একটি পাথর ছিল (সম্ভবতঃ কাবার অভ্যন্তরে) যা আমি স্বহস্তে খোদাই করতাম এবং আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলাকে বাদ দিয়ে তার পূজা করতাম। আমি গরম দুধ নিজে না খেয়ে তার কাছে নিয়ে আসতাম এবং তার উপর তা ঢেলে দিতাম। তারপর কুকুর এসে তার গা চাটত এবং চাটা শেষ হলে এক পা উচিয়ে তার গায়ে পেশাব করে দিত, যা হোক আমরা কাবাগৃহ নির্মাণ (পুনঃনির্মাণ) করতে থাকলাম এবং একপর্যায়ে আমরা হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত পৌছে যাই। কিন্তু পাথরটি কেউ দেখতে পাচ্ছিল না। হঠাৎ দেখা গেল সেটি আমাদের অন্যান্য পাথরের মধ্যখানে পড়ে রয়েছে। দেখতে অনেকটা মানুষের মাথার মত। এত স্বচ্ছ যে, তার ভেতর যেন মানুষের চেহারা দেখা যাচ্ছিল। এই সময় কুরাইশ বংশীয় কবীলাসমূহ বলতে লাগলো আমরা এটি প্রতিস্থাপন করবো। (সবাই একই দাবি করছিল)। অবশেষে তারা বললো, তোমাদের মধ্যে একজন সালিশ নির্ধারণ কর। তারা বললো, সালিশ হবেন (তিনিই), যিনি সর্বপ্রথম এই প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে আগমন করবেন। অতঃপর নবী (ﷺ) সেই রাস্তায় আগমন করলেন। তাঁকে দেখে সবাই বললো, (উত্তম হয়েছে) তোমাদের কাছে আল-আমীন এসে গেছেন। তারা অতঃপর তাঁকে (ঘটনা খুলে) বললো। রাসূল (ﷺ) একটি বস্ত্রে হাজরে আসওয়াদ রাখলেন এবং কবীলাসমূহকে ডাকলেন (অর্থাৎ নেতৃস্থানীয়দের)। তারা সবাই তাঁর সাথে বস্ত্রের কিনারায় ধরে বহন করলো; অবশেষে রাসূল (ﷺ) নিজে তা (যথাস্থানে) স্থাপন করলেন।
(মালিক ও যাহাবী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في ذكر تجديد قريش بناء الكعبة قبل البعث بخمس سنين واختلافهم في رفع الحجر وتحكيمه صلى الله عليه وسلم في رفعه وتسميته في الجاهلية بالأمين
عن مجاهد عن مولاه (5) (يعنى السائب ابن عبد الله) أنه حدثه أنه كان فيمن يبنى الكعبة في الجاهلية قال ولى لحته بيدى أعبده من دون الله تبارك وتعالى فاجئ باللبن الخاثر (6) الذي أنفسه على نفسي فأصبه عليه فيجئ الكلب فيلحسه ثم يشغر (7) فيبول فبنينا حتى بلغنا موضع الحجر (8) وما يرى الحجر أحد، فإذا هو وسط حجارتنا مثل رأس الرجل يكاد يتراءى منه وجه الرجل (9) فقال بطن (10) من قريش نحن نضعه، وقال آخرون نحن نضعه، فقالوا اجعلوا بينكم حكمًا، قالوا اول رجل يطلع من الفج (11) فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا أتاكم الأمين (12) فقالوا له فوضعه في ثوب ثم دعا بطونهم (13) فأخذوا بنواحيه فوضعه هو صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে কুরাইশ কর্তৃক কাবা গৃহ পুনঃনির্মাণ, হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য, এই বিষয়ে রাসূলকে (ﷺ) শালিস মানা এবং জাহেলিয়াতের যুগে তাঁকে আল-আমীন খেতাব দান
(২৫) সা'ঈদ ইবন্ মীনা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবন্ যুবাইরকে (রা) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমার খালা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা) আমাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে বলেছেন, যদি তোমার সম্প্রদায় (অর্থাৎ কুরাইশ) ইসলামে নবদীক্ষিত না হতো অথবা জাহিলিয়াত ছেড়ে আসা নতুন মুসলিম না হতো, তাহলে আমি অবশ্যই কা'বাগৃহ ভেঙ্গে যমিনের সাথে মিলিয়ে নির্মাণ করতাম, দু'টি দরজা একটি পূর্বদিকে অপরটি পশ্চিম দিকে তৈয়ার করতাম এবং হিজর (হাতীম) থেকে আরো ছয় গজ বর্ধিত করে দিতাম। কারণ কুরাইশরা কা'বা পুনঃনির্মাণের সময় তা ছোট করে ফেলেছিল।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في ذكر تجديد قريش بناء الكعبة قبل البعث بخمس سنين واختلافهم في رفع الحجر وتحكيمه صلى الله عليه وسلم في رفعه وتسميته في الجاهلية بالأمين
عن سعيد بن مينا (1) قال سمعت ابن الزبير رضي الله عنهما يقول حدثني خالتي عائشة (أم المؤمنين رضي الله عنها) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لها لولا أن قومك حديث عهد بشرك أو بجاهلية لهدمت الكعبة فألزقتها بالأرض، وجعلت لها بابين، بابا شرقيا وبابا غربيا، وزدت فيها من الحجر ستة أذرع، فأن قريشا اقتصر بها حين بنت الكعبة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে কুরাইশ কর্তৃক কাবা গৃহ পুনঃনির্মাণ, হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য, এই বিষয়ে রাসূলকে (ﷺ) শালিস মানা এবং জাহেলিয়াতের যুগে তাঁকে আল-আমীন খেতাব দান
(২৬) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যদি তোমার সম্প্রদায় কুফর থেকে ইসলামে নবদীক্ষিত না হতো, তবে আমি অবশ্যই কাবাগৃহ ভেঙ্গে ইবরাহীম (আ) এর ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতাম। কেননা কুরাইশরা কাবা পুনঃনির্মাণের সময় তা ছোট করে ফেলেছিল। আর আমি এর পেছনেও আর একটি দরজা রাখতাম।
আবূ উছামা 'খালফান' শব্দের পরিবর্তে خِلْفًا 'খিলফান' ব্যবহার করেছেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في ذكر تجديد قريش بناء الكعبة قبل البعث بخمس سنين واختلافهم في رفع الحجر وتحكيمه صلى الله عليه وسلم في رفعه وتسميته في الجاهلية بالأمين
من عائشة (2) رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لولا حداثة عهد قومك بالكفر لنقضت ثم جعلتها على رأس ابراهيم (3) عليه السلام فان قريشل يوم بنتها استقصرت (4) ولجعلت لها خلفا (5) قال أبو أسامة خلفا
হাদীস নং: ২৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলের (ﷺ) আগমনের সুসংবাদ, তাওরাতে বর্ণিত তাঁর বৈশিষ্ট্য ও নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী
(২৭) জাবির ইবন সামুরা থেকে (রা) বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আমি অবশ্যই মক্কার একটি পাথরকে জানি, সেটি আমার নবুয়তপ্রাপ্তির পূর্বে (অন্য বর্ণনায়, আমার নবুয়তপ্রাপ্তির কয়েক রাত পূর্বেই) আমাকে সালাম করতো; এবং আমি অবশ্যই সেটি এখনও চিনি।
(মুসলিম ও তিরমিযি)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في العلامات الدالة على نبوته والتبشير بمبعثه صلى الله عليه وسلم وصفته في التوارة
عن جابر بن سمرة (6) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إني لأعرف حجرًا بمكة يسلم على قبل أن أبعث (1) (وفي رواية ليالى بعثت) (2) إنى لأعرف الآن
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলের (ﷺ) আগমনের সুসংবাদ, তাওরাতে বর্ণিত তাঁর বৈশিষ্ট্য ও নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী
(২৮) আবূ সখর আল-উক্বাইলী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে জনৈক বেদুঈন বলেন, রাসূলুল্লাহর (ﷺ) জীবদ্দশায় আমি একদা মদীনায় পণ্য নিয়ে আসলাম। তা বিক্রি শেষ হওয়ার পর আমি (মনে মনে) বললাম, আমি অবশ্যই এই ব্যক্তির সাথে মিলিত হবো এবং তাঁর কাছ থেকে তা শুনবো। আমি তাঁর সাক্ষাত পেলাম আবুবকর ও ওমর (রা) এর সাথে তিনি পায়ে হেঁটে অগ্রসর হচ্ছেন। আমি তাঁদের পেছনে পেছনে চললাম। তাঁরা জনৈক ইয়াহুদী ব্যক্তির কাছে এসে থামলেন। সেই ব্যক্তি তাওরাত খুলে তা পাঠ করছিল এবং তাঁর মুমূর্ষু ছেলের মৃত্যুকষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে দোয়া করছিল। ছেলেটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয়। রাসূল (ﷺ) বললেন, যিনি তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন, তাঁর শপথ, তুমি কি তাওরাতে আমার কোন গুণ-বৈশিষ্ট্যের সন্ধান পেয়েছ? সে তার মাথা নাড়িয়ে না বাচক উত্তর দিল। তখন সেই ছেলেটি বললো, যিনি তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন তাঁর শপথ, আমরা অবশ্যই আমাদের এই কিতাবে আপনার গুণবৈশিষ্ট্যের সন্ধান পেয়ে থাকি এবং আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি-আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই এবং আপনি নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, এ হচ্ছে তোমাদের ভাই, তোমাদের এই ভাইয়ের কাছ থেকে ইয়াহুদীকে সরিয়ে দাও। অতঃপর রাসূল (ﷺ) তার কাফনের ব্যবস্থা করলেন, তাকে সুগন্ধি মথিত করলেন এবং তার জানাযা পড়লেন।
(ইব্‌ন কাছীর ও আহমদ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في العلامات الدالة على نبوته والتبشير بمبعثه صلى الله عليه وسلم وصفته في التوارة
عن أبى صخر العقيلى (3) حدثنى رجل من الأعراب قال جلبت جلوبة إلى المدينة في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما فرغت من بيعى قلت لألقين هذا الرجل فلا سمعن منه قال فتلقاني بين أبى بكر وعمر يمشون فتبعهم في أقفائهم (4) حتى أتوا على رجل من اليهود ناشرًا التوراة يقرؤها يعزى بها نفسها على ابن له في الموت (5) كأحسن الفتيان وأجمله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أنشدك بالذي أنزل التوراة هل تجد في كتابك ذا صفتى ومخرجى (6) فقال برأسه هكذا أى لا (7) فقال ابنه أنى والذي أنزل التوراة أنا لنجد في كتابنا صفتك ومخرجك وأشهد أن لا إله إلا الله وأنك رسول الله، فقال أقيموا اليهود عن أخيكم (8) ثم ولى كفنه وحنطه وصلى عليه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলের (ﷺ) আগমনের সুসংবাদ, তাওরাতে বর্ণিত তাঁর বৈশিষ্ট্য ও নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী
(২৯) আতা ইব্‌ন ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন 'আমর ইবনুল 'আস (রা) এর সাথে সাক্ষাত করি এবং তাওরাতে বর্ণিত আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) গুণ-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করি। উত্তরে তিনি বললেন, জ্বি হ্যাঁ, আল্লাহ্ শপথ, পবিত্র কুরআনে যেমন তাঁর গুণ-বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে তাওরাতেও তেমনি বর্ণনা আছে।
পবিত্র কুরআনে যেমন-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا
"হে নবী আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি"
বলা হয়েছে-তাওরাতেও বলা হয়েছে, হে নবী আমি আপনাকে উম্মীদের আশ্রয়দাতা ও ভরসাস্থল করে প্রেরণ করেছি; এবং আপনি আমার বান্দা ও রাসূল। আমি আপনার নামকরণ করেছি "আল-মুতাওয়াক্কিল'। আপনি কঠিন অন্তকরণ ও পাষাণ প্রকৃতির নন। এমনকি আপনি বাজারসমূহে শোরগোলকারী নন। ইউনুস (এই হাদীসের জনৈক রাবী) سَخابٍ এর পরিবর্তে صَخابٍ বলেছেন। (উভয় শব্দের অর্থ শোরগোল, হট্টগোল, অযথা চিৎকারকারী ইত্যাদি)। খারাপ (কথা বা আচরণ)-এর মুকাবিলা তিনি খারাপ দ্বারা করেন না; বরং তিনি ক্ষমা ও অনুকম্পা প্রদর্শন করেন। (এবং) যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্ তাঁর পবিত্র অন্তকরণ দ্বারা দ্বীনের যাবতীয় বক্রতা বা আবিলতা দূর না করবেন এবং লোকদেরকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে অন্ধ চোখ, বধির কর্ণ ও অবুখ (ময়লা আবৃত) অন্তরকে সতেজ ও সজীব না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাঁর প্রাণ হরণ করবেন না। বর্ণনাকারী আতা বলেন, আমি এই হাদীস বিষয়ে কা'ব-কে (কা'ব আল-আহবার একজন বিজ্ঞ ইয়াহুদী আলিম) জিজ্ঞেস করেছিলাম, দেখা গেল দুইজনের বর্ণনায় নিম্নোক্ত শাব্দিক পরিবর্তন ছাড়া মৌলিক কোন পরিবর্তন নেই। কা'ব-এর বর্ণনায় এসেছে- أعْيُنًا عُمُومَى وَآذَانَا صُمُومَى وَقُلُوبًا غُلُوفَى قَالَ يُونُسُ غُلْفَى.
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في العلامات الدالة على نبوته والتبشير بمبعثه صلى الله عليه وسلم وصفته في التوارة
عن عطاء بن يسار (9) قال لقيت عبدالله بن عمرو بن العاص فقلت أخبرني عن صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في التوراة، فقال أجل، والله إنه لموصوف في التوراة بصفته في القرآن (ياأيها النبي إنا أرسلناك شاهدًا ومبشرًا ونذيرًا) وحرزًا للاميين وأنت عبدى ورسولي سميتك المتوكل لست بفظ ولا غيلظ ولا سخاب بالأسواق، قال يونس (1) ولا صخاب في الأسواق ولا يدفع السيئة بالسيئة، ولكن يعفو ويغفر، ولن يقبضه حتى يقيم به الملة العوجاء بأن يقولوا لا إله إلا الله: فيفتح بها أعينا وعميا وآذانا صما وقلوبا غلفا: قال عطاء لقيت كعبا فسألته فما اختلفا في حرف إلا أن كعبا يقول بلغته (2) اعينا عمومى وأذانا صمومى وقلوبا غلوفى، قال يونس غلفى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলের (ﷺ) আগমনের সুসংবাদ, তাওরাতে বর্ণিত তাঁর বৈশিষ্ট্য ও নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী
(৩০) মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইব্‌ন আবস নামক জনৈক শায়েখ (বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি) আমাদের সাথে থাকা অবস্থায় আমরা রূডিস যুদ্ধাভিযানে ছিলাম। তিনি জাহেলিয়াতের যুগ পেয়েছিলেন। তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমি একদা আমাদের পরিবারের একটি গাভী চরাচ্ছিলাম। এমন সময় গাভীর পেট থেকে আওয়াজ শুনতে পেলাম, হে যুরাইহ গোত্রীয় সন্তান জনৈক পুরুষ ঘোষণা করবেন (অচিরেই), বিশুদ্ধ বাণী, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। অতঃপর আমরা মক্কায় আগমন করে দেখতে পেলাম যে নবী করীম (ﷺ) মক্কায় আবির্ভূত হয়েছেন।
(হায়ছামী ও আহমদ। রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في العلامات الدالة على نبوته والتبشير بمبعثه صلى الله عليه وسلم وصفته في التوارة
عن مجاهد (3) قال حدثنا شيخ أدرك الجاهلية ونحن في غزوة رودس يقال له ابن عباس قال كنت أسوق لأل لنا بقرة، قال فسمعت من جوفها يا آل ذريح. قول فصيح. رجل يصيح. لا إله إلا الله، قال فقدمنا مكة فوجدنا النبي صلى الله عليه وسلم قد خرج بمكة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলের (ﷺ) আগমনের সুসংবাদ, তাওরাতে বর্ণিত তাঁর বৈশিষ্ট্য ও নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী
(৩১) আবূ সা'ঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (জনৈক রাখাল ছাগপাল চরাচ্ছিল) নেকড়ে এসে একটি ছাগলের উপর হামলা করল এবং সেটি ধরে ফেলল। রাখাল সেটি খোঁজ করতে থাকল। পরিশেষে নেকড়ের কাছ থেকে ছাগলটি কেড়ে নিল। তখন নেকড়ে তার লেজের উপর (সামনের দু'পা খাড়া করে কুকুরের ন্যায়) বসলো এবং রাখালকে উদ্দেশ্য করে বললো, তুমি কি আল্লাহকে ভয় কর না? তুমি আমার কাছ থেকে আমার রিযিক (খাবার) ছিনিয়ে নিলে, যা আল্লাহ্ আমার কাছে পৌছিয়ে দিয়েছিলেন। রাখাল বলে উঠলো, কী আশ্চর্য! নেকড়েটি তো দেখছি তার লেজের উপর উপবিষ্ট হয়ে আমার সাথে মানুষের ন্যায় কথা বলছে। নেকড়েটি বললো, এ আর কী? এর চেয়েও অধিক আশ্চর্যের বিষয তোমাকে জানাবো নাকি? (শোন) ইয়াসরিবে (মদীনায়) আবির্ভূত মুহাম্মদ (ﷺ) মানুষকে পূর্ববর্তীদের (বিগত উম্মতদের) সংবাদাদি অবহিত করে থাকেন। রাবী বলেন, অতঃপর সেই রাখাল তার ছাগপাল নিয়ে চলে আসে এবং মদীনায় প্রবেশ করে এবং ছাগলগুলোকে মদীনার এক প্রান্তে নির্ধারিত স্থানে রেখে দেয়। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সকাশে হাযির হয়ে ঘটনা খুলে বলে। এই সময় রাসূল (ﷺ) জামাতে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেন এবং সেমতে আযান দেওয়া হয়। সালাত সমাপনান্তে রাসূল (ﷺ) বের হয়ে আসেন এবং রাখালকে বলেন, মানুষকে তোমার এই ঘটনা অবহিত কর। সে তাদেরকে তা অবহিত করল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, রাখাল সত্য বলেছে। আমার জীবন যাঁর হাতে, সেই সত্তার শপথ, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না হিংস্রপ্রাণী মানুষের সাথে কথা বলবে। লোকের সাথে কথা বলবে তার লাঠির মাথা, তার জুতার ফিতা এবং তাকে তার উরুদেশ অবহিত করবে, তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী কী ঘটিয়েছে।
একই রাবী (অর্থাৎ আবূ সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী করীম (ﷺ) বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন মদীনার কোন এক প্রান্তে ছাগপাল চরাচ্ছিল। নেকড়ে এসে তার এক ছাগলের উপর চড়াও হয় এবং একটি ছাগল নিয়ে যায়। (বাকী অংশ পূর্বের বর্ণনার ন্যায়, তবে এতে বলা হয়েছে- নেকড়ে বেদুঈনকে বললো) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আছেন দুই হাররার মাঝখানে কঙ্করময় ও কৃষ্ণকায় ভূমিতে (অর্থাৎ মদীনা শরীফে)। তিনি মানুষকে অতীতকালের ঘটনাবলী ও ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য বিষয়ের সংবাদ প্রদান করে থাকেন। অতঃপর বেদুঈন ছাগল নিয়ে আসে এবং মদীনার পার্শ্বে কোন এক স্থানে ছাগলগুলোকে জড়ো করে রাখে। পরে সে নবীর (ﷺ) সকাশে উপস্থিত হয়ে দরজার কড়া নাড়ে। (রাসূল (ﷺ) তখন নামায আদায় করছিলেন)। নামায শেষে রাসূল (ﷺ) বললেন, রাখাল বেদুঈন কোথায়? বেদুঈন তখন দণ্ডায়মান হলে রাসূল (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি যা শুনেছ এবং দেখেছ তা মানুষের মধ্যে প্রচার করে দাও।

(একই রাবী থেকে তৃতীয় বর্ণনায় এসেছে) আসলাম গোত্রীয় এক ব্যক্তি যুল-হুলাইফা উপত্যকায় তার ছাগপাল চরাচ্ছিল। এমন সময় এক নেকড়ে এসে আক্রমণ করলো এবং তার পাল থেকে একটি ছাগল নিয়ে গেল। লোকটি তৎক্ষণাৎ জোরে হুঙ্কার দিয়ে নেকড়ের প্রতি একটি পাথর নিক্ষেপ করলো, ফলে ছাগলটি নেকড়ের কবল থেকে রক্ষা পেল। কিন্তু (তাতে নেকড়েটি চলে গেল না) নেকড়েটি লোকটির দিকে অগ্রসর হয়ে লেজের উপর ভর দিয়ে লোকটির সামনা-সামনি বসলো...। হাদীসের বাকী অংশটি শু'আইব ইব্‌ন আবী হামযার হাদীসের অনুরূপ।
(আল-কাস্তাল্লানী, তিরমিযী ও হাকেম)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في العلامات الدالة على نبوته والتبشير بمبعثه صلى الله عليه وسلم وصفته في التوارة
عن أبى سعيد الخدرى (4) قال عدا الذئب على شاة فأخذها فطلبه الراعى فانتزعها منه فأقعى (5) الذئب على ذنبه قال ألا تتقى الله تنزع عنى رزقا ساقه الله إلى؟ فقال ياعجبى ياعجبى مقع على ذنبه يكلمنى كلام الإنس، فقال الذئب ألا أخبرك بأعجب من ذلك، محمد صلى الله عليه وسلم بيرب (6) يخبر الناس بانباء ما قد سبق (7) قال فأقبل الراعى يسوق غنمه حتى دخل المدينة فزواها (8) الى زواية من زواياها ثم إتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره: فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فنودى الصلاة جامعة: ثم خرج فقال للراعى أخبرهم (9) فأخبرهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم صدق، والذي نفسى بيده لا تقوم الساعة حتى يكلم السباع الأنس، ويكلم الرجل عذبة (10) سوطه وشراك نعله ويخبره فخذه بما أحدث أهله (11) بعده (وعنه من طريق ثان) (12) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال بينا اعرابى فى بعض نواحى المدينة فى غنم له عدا عليه الذئب فأخذ شاة من غنمه (فذكر نحو الطريق الأولى، وفيه أن الذئب قال للأعرابى) رسول الله صلى الله عليه وسلم فى النخلتين بين الحرتين يحدث الناس عن نباء ما قد سبق وما يكون بعد ذلك قال فنعق الاعرابى بغنمه حتى الجأها الى بعض المدينة ثم مشى الى النبى صلى الله عليه وسلم حتى ضرب عليه بابه فلما صلى النبي صلى الله عليه وسلم وقال أين الاعرابي صاحب الغنم؟ فقام الأعرابي فقال له النبي صلى الله عليه وسلم حدث الناس بما سمعت وما رأيت الحديث (وعنه من طريق ثالث) قال بينا رجل من أسلم فى غنيمة له يهش عليها فى بيداء ذى الحليفة إذ عدا عليه ذئب فانتزع شاة من غنمه فجهجأه الرجل فرماه بالحجارة حتى استنقذ منه شاته، ثم أن الذئب أقبل حتى أقعى مستثفرا بذنبه مقابل الرجل: فذكره نحو حديث شعيب بن أبي حمزة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমন সম্পর্কে গণকদের ভবিষ্যদ্বাণী
(৩২) জাবির ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সম্পর্কে আমরা সর্বপ্রথম অবহিত হই এভাবে- যে, জনৈকা মহিলার এক (জিন্ন) অনুগামী ছিল। একদা সে পাখির আকৃতি ধারণ করে সেই মহিলার কাছে হাযির হলো এবং তাদের একটি গাছের গোড়ায় বসলো। মহিলা বললো, তুমি কি নীচে আসবে না? তোমাকে কিছু খবর জানাতাম, আর তুমিও আমাদেরকে কিছু খবরাখবর বলতে! সে (জ্বিন) বললো, নিশ্চয় মক্কায় এক মানব আবির্ভূত হয়েছেন, তিনি আমাদের জন্য ব্যভিচার (যিনা) হারাম করে দিয়েছেন এবং জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করতে নিষেধ করেছেন।
(হাইছামী, আহমদ ও তাবারানী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى إخبار الكهان بظهور بعثته صلى الله عليه وسلم
عن جابر بن عبد الله قال إن أول خبر قدم علينا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أمرأة كانت لها تابع قال فأتاها فى صورة طير فوقع على جذع لهم، قال فقالت ألا تنزل فنخبرك وتخبرنا؟ قال إنه قد خرج رجل بمكة حرم علينا الزنا ومنع من الفرار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৩৩) ইবন্ 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খাদীজাকে (রা) বলেন, আমি (মাঝেমাঝে) আলোকরশ্মি দেখতে পাই এবং আওয়াজ শুনতে পাই। আমার আশঙ্কা হয় যে, আমাকে মস্তিষ্ক বিকৃতি পেয়ে বসেছে। খাদীজা (রা) বলেন, হে ইব্‌ন আবদুল্লাহ, আল্লাহ্ কখনও আপনার সাথে এরূপ (আচরণ) করবেন না। অতঃপর খাদীজা (রা) ওয়ারাকা ইব্‌ন্ নওফাল-এর কাছে গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন। ওয়ারাকা বলেন, যদি মুহাম্মদের কথা সত্যি হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই তা 'নামূস' (জিব্রীল ফিরিস্তা), মুসার (আ) নামূসের ন্যায় (অর্থাৎ মূসা (আ) এর কাছে যে ফেরেশতা আগমন করতেন, ইনিও সেই একই ফেরেশতা-জিব্রীল আ.)। আমি যদি তাঁর নবুয়তপ্রাপ্তির সময় জীবিত থাকি, তাহলে আমি তাঁকে সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করবো এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনবো।
(হাইছামী, আহমদ ও তাবারানী।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن ابن عباس أن النبى صلى الله عليه وسلم قال لخديجة (رضي الله عنها) إنى أرى ضوءًا وأسمع صوتا وانى أخشى أن يكون بى جننٌ قالت لم يكن الله ليفعل ذلك بك يا ابن عبد الله: ثم أتت ورقة بن نوفل فذكرت ذلك له فقال ان يك صادقا فان هذا ناموسٌ مثل ناموس موسى، فان بعث وأنا حى فسأعززه وأنصره وأومن به
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৩৪) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলের (ﷺ) প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোকরশ্মির ন্যয় সত্যরূপে উদ্বাসিত হয়ে উঠতো। অতঃপর নির্জনতা বা একাকী জীবন যাপনের প্রতি তিনি আকৃষ্ট হন। তিনি হেরা গুহাতে এসে একাধারে কয়েক রাত ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং এর জন্য তিনি সাথে পাথেয় (খাবার ও পানীয়) নিয়ে যেতেন। (খাবার সামগ্রী ফুরিয়ে গেলে) পুনরায় তিনি খাদীজার (রা) কাছে ফিরে আসতেন এবং খাদ্য-সামগ্রী নিয়ে গুহাতে ফিরে যেতেন। (অবশেষে) একদিন তাঁর কাছে সত্য সমাগত হলো। রাসূল (ﷺ) তখন হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন। এমন সময় ফেরেশতা (জিব্রীল আ.) আগমন করে বললেন, পড়ুন। রাসূল (ﷺ) বলেন, আমি বললাম, আমি তো পাঠ করতে পারি না। অতঃপর তিনি আমাকে কাছে টেনে নিলেন এবং এত জোরে আলিঙ্গন করলেন যে, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম; তিনি আমাকে আলিঙ্গনমুক্ত করে বললেন, পড়ুন। উত্তরে আমি বললাম, আমি পড়তে পারি না। পুনরায় দ্বিতীয়বার তিনি আমাকে কাছে টেনে খুব জোরে চেপে ধরলেন, ফলে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এরপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি পড়তে জানি না। অতঃপর ফেরেশতা আমাকে তৃতীয় বার তাঁর কাছে টেনে দৃঢ়ভাবে আলিঙ্গন করলেন, ফলে আমি আরও ক্লান্ত হয়ে উঠলাম। এরপর তিনি আমাকে আলিঙ্গনমুক্ত করে বললেন,
اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ .
পাঠ করুন, আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন...
এমনিভাবে তিনি مَا لَمْ يَعْلَمُ পর্যন্ত পাঠ করে শোনান। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) তা নিয়ে ফিরে আসলেন। (ভয়ে) তাঁর কাঁধের পেশি কাঁপছিল। তিনি খাদীজার গৃহে প্রবেশ করে বললেন, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তারা তখন তাঁকে বস্ত্রাবৃত করেন। যখন তাঁর ভয়-ভীতি বিদূরিত হয়ে গেল, তখন তিনি খাদীজাকে (রা) বললেন, আমার এ কী হলো খাদীজা! অতঃপর সমস্ত ঘটনা বিবৃত করলেন এবং বললেন, আমি আমার শঙ্কাবোধ করছি। খাদীজা (রা) বললেন, কখনও না। সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর শপথ, তিনি কখনও আপনাকে অপমানিত করবেন না। নিশ্চয় আপনি আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখেন, সদা সত্য বলেন, অসহায়দের অভাব দূর করেন, অতিন্দ্রিয় সেবা করেন। অপরের বিপদে সাহায্য করেন। অতঃপর খাদীজা (রা) রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) সাথে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইব্‌ন নওফাল ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উয্যা ইবন্ কুসাই-এর কাছে গেলেন। ওয়ারাকা জাহেলী যুগে ঈসায়ী ধর্মে দীক্ষা নিয়েছিলেন। তিনি আরবী ভাষায় পুস্তকাদি লিখতেন। এমনকি তিনি আরবী ভাষায় ইঞ্জিলের কিছু অংশ, যা আল্লাহর ইচ্ছা হয়েছিল, লিখেছিলেন। তাঁর বয়সও হয়েছিল অনেক এবং দৃষ্টিশক্তিও লোপ পেয়েছিল। খাদীজা (রা) তাঁকে বললেন, ভাই (চাচাত), আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রের কাছ থেকে (ঘটনার বিবরণ) শুনুন। ওয়ারাকা বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি কী দেখেছ? তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যা দেখেছিলেন, সব খুলে বর্ণনা করলেন। (ঘটনা শুনে) ওয়ারাকা বললেন, ইনি হচ্ছেন 'নামুস' (জিব্রীল আ.), যাঁকে মূসার (আ) কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। হায় আফসোস! আমি যদি সেই সময় বেঁচে থাকতাম, যখন তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা তোমাকে বহিষ্কার করে দেবে! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বিস্ময়ের সাথে জিজ্ঞেস করলেন- তারা কি আমাকে বিতাড়িত করবে? ওয়ারাকা বললেন, হ্যাঁ, যিনিই তোমার ন্যায় এইরূপ সত্য নিয়ে আগমন করেছেন (অতীতে), তাঁকেই দেশ থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে। তোমার জীবনের ঐ দিনগুলোতে যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে আমি সর্বশক্তি দিয়ে তোমাকে সাহায্য করবো। কিন্তু এরপর ওয়ারাকা বেশী দিন বেঁচে থাকেননি এবং কিছুদিনের জন ওহী আসা বন্ধ হয়ে যায়। ওহীর এই বিরতির একপর্যায়ে আল্লাহর রাসূল খুব পেরেশান ও চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে পড়েন। এমনকি তিনি কয়েকবার পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করে সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহননের ইচ্ছা করেন। কিন্তু যখনই তিনি পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করতেন, সেখান থেকে নীচে পড়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে, তখনই জিব্রীল (আ) তাঁর সম্মুখে ভেসে উঠতেন এবং সান্ত্বনা দিয়ে বলতেন, হে মুহাম্মদ, সত্যি আপনি আল্লাহর রাসূল। এতে তাঁর মনের অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা দূরীভূত হয়ে যেত এবং তিনি ফিরে আসতেন। এরপরও যখন ওহীর বিরতিমাত্রা দীর্ঘায়িত হতো, তিনি আবারো বিচলিত হয়ে পড়তেন। যখনই পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করতেন, তখনই জিব্রীল (আ) তাঁর সম্মুখে প্রতিভাত হয়ে পূর্বের ন্যায় সান্ত্বনা বাণী শুনতেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن عائشة رضي الله عنها قالت أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحى الرؤيا الصادقة فى النوم، وكان لا يرى رؤيا الا جاءت مثل فلق الصبح ثم حبب اليه الخلاء فكان يأتى غار حراء فيتحنث فيه وهو التعبد الليالى ذوات العدد ويتزود لذلك ثم يرجع الى خديحة فتزوده لمثلها حتى فجأه الحق وهو فى غار حراء فجاءه الملك فيه فقال اقرأ، فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم فقلت ما أنا بقارئ قال فأخذني فغطني حتى بلغ منى الجهد ثم أرسلنى فقال اقرأ، فقلت ما أنا بقارئ فأخذنى فغطنى الثانية حتى بلغ منى الجهد، ثم أرسلنى فقال اقرأ، فقلت ما أنا بقارئ، فأخذنى فغطنى الثالثة حتى بلغ منى الجهد، ثم أرسلنى فقال اقرأ باسم ربك الذى خلق حتى بلغ ما لم يعلم: قال فرجع بها ترجف بواد حتى دخل على خديجة فقال زملونى زملونى فزملوه حتى ذهب عنه الروع فقال يا خديجة مالى فأخبرها الخبر، قال وقد خشيت على نفسى فقالت له كلا: ابشر فوالله لا يخزيك الله أبدا انك لتصل الرحم وتصدق الحديث وتحمل الكل وتقرى الضيف وتعين على نوائب الخق ثم انطلقت به خديجة حتى أتت به ورقة بن نوفل بن أسد بن عبد العزى بن قصى وهو ابن عم خديجة أخى أبيها وكان امرأ تنصر فى الجاهلية وكان يكتب الكتاب العربى فكتب بالعربية من الانجيل ما شاء الله أن يكتب، وكان شيخأ كبيرا قد عمى، فقالت خديجة اى ابن عم اسمع من ابن أخيك، فقال ورقة ابن أخى ما ترى؟ فأخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم ما رأى، فقلا ورقة هذا الناموس الذى أنزل على موسى عليه السلام ياليتنى فيها جذعا أكون حيًا حين يخرجك قومك فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أو مخرجى هم؟ فقال ورقة نعم، لم يأت رجل قط بما جئت به الا عودى وإن يدركنى يومك انصرك نصرا مؤزرا ثم لم ينشب ورقة أن توفي وفتر الوحي فترة حتى حزن رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما بلغنا حزنا غدا منه مرارا كى يتردى من رءوس شواهق الجبال فكلما أوفى بذروة جبل لكى يلقى نفسه منه تبدّى له جبريل عليه السلام فقال يا محمد انك رسول الله حقا فيسكن ذلك جأشه وتقر نفسه عليه الصلاة والسلام فيرجع فاذا طالبت عليه وفتر الوحى غدا لمثل ذلك، فاذا أوفى بذروة جبل تبدّى له جبريل فقال له مثل ذلك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৩৫) ইব্‌ন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর উপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। এরপর তিনি মক্কায় ছিলেন তের বছর আর মদীনায় দশ বছর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن ابن عباس قال أنزل على النبى صلى الله عليه وسلم وهو ابن أربعين، وكان بمكة ثلاث عشرة سنة، وبالمدينة عشرا، فمات وهو ابن ثلاث وستين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৩৬) ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে আরো বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কায় পনের বছর অবস্থান (বা অতিবাহিত) করেন। তন্মধ্যে সাত বছর যাবত তিনি আলোকরশ্মি দেখতেন এবং (বিশেষ ধরনের) শব্দ শুনতে পেতেন। আর আট বছর তিনি ওহী (প্রত্যাদেশ) পেতেন। তিনি মদীনায় দশ বছর অতিবাহিত করেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য। তবে হাদীসটি গরীব।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
وعنه أيضا قال أقام النبى صلى الله عليه وعلى آله وسلم بمكة خمس عشرة سنة سبع سنين يرى الضوء ويسمع الصوت. وثمان سنين يوحى اليه، وأقام بالمدينة عشر سنين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৩৭) বনু হাশিমের মাওলা (আযাদকৃত গোলাম) আম্মার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবন 'আব্বাসকে (রা) জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইন্তিকালের সময় রাসূলের (ﷺ) বয়স কত হয়েছিল? তিনি বলেন, (কী আশ্চর্য!) তাঁর গোত্রে এ বিষয়টা তোমার মত লোকের অজানা থাকবে তা আমি ভাবতে পারিনি। আমি বললাম, আমি (বিষয়টা সম্পর্কে অনেককে) জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে বিভিন্ন কথা বলেছে। তাই আমি এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য অবগত হতে আগ্রহী। তিনি বলেন, তুমি কি হিসাব (অংক) কষতে জান? বললাম, হাঁ। তখন তিনি বললেন, (তাহলে) চল্লিশ বছর তাঁর (রাসূলের সা.) নবুয়তপ্রাপ্তির জন্য ধর; পনর বছর মক্কায় অবস্থান নিরাপদে ও ভয়-ভীতির মধ্য দিয়ে কাটান। এরপর হিজরত করে মদীনায় দশ বছর কালাতিপাত করেন।
(মুসলিম)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن عمار مولى بني هاشم قال سألت ابن عباس كم أتى لرسول الله صلى الله عليه وسلم يوم مات؟ قال ما كنت أرى مثلك فى قومه يخفى عليك ذلك، قال قلت انى سألت فاختلف على، فاحببت أن أعلم قولك فيه، قال اتحسب؟ قلت نعم، قال أمسك أربعين بعث لها، وخمس عشرة أقام بمكة يأمن ويخاف، وعشرا مهاجرا بالمدينة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৩৮) আল-'আলা ইব্‌ন যিয়াদ আল-'আদাওয়ী থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবন মালিককে (রা) জিজ্ঞেস করেন; হে আবূ হামযা, নবুওয়াতপ্রাপ্তির সময় রাসূলুল্লাহর (ﷺ) বয়স কত হয়েছিল? উত্তরে তিনি (আনাস রা.) বললেন, তাঁর বয়স হয়েছিল চল্লিশ বছর। রাবী বলেন, এরপর কী? আনাস (রা) বলেন, অতঃপর মক্কায় ছিলেন দশ বছর এবং মদীনায় দশ বছর। সুতরাং তাঁর বয়স পূর্ণ ষাট বছর। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে তাঁর কাছে উঠিয়ে নেন। রাবী পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, ঐ সময় (ওফাতের সময়) তাঁর বয়স (বা স্বাস্থ্য) কেমন ছিল? আনাস (রা) বলেন, ঐ সময় তিনি ছিলেন সুঠামদেহী, সুন্দরতম, সর্বাধিক কমনীয় যুবকের ন্যায়। এরপর রাবী বলেন, হে আবু হামযা, আপনি কি তাঁর সাথে কোন যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি তাঁর সাথে হুনাইনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম।
(হাদীসটি গরীব। বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن العلاء بن زياد العدوى أنه قال لأنس بن مالك يا أبا حمزة من أى الرجال كان نبى الله صلى الله عليه وسلم إذ بعث؟ قال ابن أربعين سنة، قال ثم كان ماذا؟ قال كان بمكة عشرة سنين، وبالمدينة عشر سنين، فتمت له ستون سنة ثم قبضه الله عز وجل اليه قال سن أى الرجال هو يومئذ؟ قال كأشبّ الرجال وأحسنه وأجمله وألحمه، قال يا أبا حمزة هل غزوت مع نبى الله صلى الله عليه وسلم؟ قال نعم غزوت معه يوم حنين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৩৯) জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন- আমি হেরা গুহায় এক মাস অতিবাহিত করলাম। যখন আমার প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিঃশেষ হয়ে গেল, তখন আমি সেখান থেকে অবতরণ করে 'বাতনুল ওয়াদী' এর মধ্যখানে উপস্থিত হলাম। এমন সময় আমাকে ডাক দেওয়া হলো; আমি দৃষ্টিপাত করলাম আমার সম্মুখে, পেছনে, ডানে ও বামে, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। এরপর আবারও আমাকে ডাক দেওয়া হলো। আমি দৃষ্টিপাত করলাম, কিন্তু কাউকে দেখলাম না। পুনরায় আমাকে ডাক দেওয়া হলো। এবার আমি উপরের দিকে মাথা উঁচু করে তাকালাম। এবার আমি তাঁকে দেখতে পেলাম- শূন্যে সিংহাসনে উপবিষ্ট। (অন্য বর্ণনায় তিনি আসমান ও যমীন বরাবর বিশাল সিংহাসনে উপবিষ্ট। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম। এবং খাদীজার কাছে এসে বললাম, আমাকে কম্বল মুড়ি দিয়ে দাও। অতঃপর তাঁরা আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দিলেন, আর আমার উপর পানি ছিটিয়ে দিলেন। ঠিক এই সময়ে আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করেন,
يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِرُ قُمْ فَأَنْذِرُ وَرَبَّكَ فَكَبِرُ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ
হে বস্ত্রাবৃত! ওঠ এবং মানুষকে সতর্ক কর। এবং নিজ প্রতিপালকের তাকবীর বল (মহিমা ঘোষণা কর)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم جاورت بحراء شهرا فلما قضيت جواوى نزلت فاستبطنت بطن الوادى فنوديت فنظرت أمامى وخلفى وعن يمينى وعن شمالى فلم أر أحدًا، ثم نوديت فنظرت فلم أر أحدًا: ثم نوديت فرفعت رأسى فاذا هو على العرش فى الهواء (وفي رواية فاذا هو قاعد على عرش بين السماء والأرض) فأخذتنى رجفة شديدة فأتيت خديجة فقلت دثرونى: فدثرونى وصبوا على ماءا فأنزل الله عز وجل {يا أيها المدثر قم فأنذر وربك فكبر وثيابك فطهر}
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : ওহীর সূচনা ও কীভাবে জিব্রাইল (আ) রাসূলের (ﷺ) কাছে আসতেন এবং কীরূপে তিনি তাঁকে দেখতেন?
(৪০) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, জিব্রীল (আ) রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে আগমন করেন তুর্কী ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে তাঁর মাথায় পাগড়ি যার প্রান্ত ছিল দুই কাঁধের মাঝে। আমি তাঁর বিষয়ে রাসূলকে (ﷺ) জিজ্ঞেস করলাম। রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি তাঁকে দেখতে পেয়েছ? ইনি তো জিব্রীল (আ)।
(আহমদ)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب في بدء الوحي وكيف كان يأتيه ورؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام
عن عائشة رضي الله عنها ان جبريل عليه السلام اتى النبى صلى الله عليه وسلم على برذون وعليه عمامة طرفها بين كتفيه فسألت النبى صلى الله عليه وسلم فقال رأيته؟ ذاك جبريل عليه السلام
tahqiq

তাহকীক: