মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭১ টি

হাদীস নং: ১৪৩
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরআন দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা।
১৪৩। তারই সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল লোককে পাঠালেন। আমিও তাদের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম। আমরা (সফর করে) এক জনপদে আসলাম এবং সেখানকার লোকদের নিকট মেহমানদারী চাইলাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে কিছু খাওয়াতে অস্বীকৃতি জানাল। তারপর আমাদের নিকট জনপদের একলোক এসে বলল, হে আরব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে কি কেউ ঝাড়ফুঁক করতে পারে? আবূ সাঈদ (রা) বলেন, আমি বললাম, তোমাদের কী হয়েছে? সে বলল, জনপদের প্রধান মরে যাচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তার সঙ্গে গেলাম এবং তাকে সূরা ফাতিহা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করলাম। আমি কয়েকবার এটা পড়ে তার ওপর ঝাড়ফুঁক দিলাম। এর ফলে সে সুস্থ হয়। এরপর লোকেরা আমাদের নিকট কিছু খাবার উপস্থিত করে এবং কিছু ছাগল হাঁকিয়ে আনে। তখন আমার সাথীবৃন্দ বললেন, নবী (ﷺ) আমাদের নিকট এ সম্বন্ধে কিছু বলেন নি। সুতরাং আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট না গিয়ে এ সব গ্রহণ করব না। (বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর আমরা ছাগলগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে এসে নবী (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমরা তাঁকে এ ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, তুমি এগুলো ভোগ কর এবং তোমার সঙ্গে আমাদেরকেও ভোগ করাও। তুমি কি করে জানলে যে, এটা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা যায়? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমার অন্তরে এটা জেগেছে।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب الرقية بالقرآن
وعنه أيضاً (1) قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثاً فكنت فيهم فأتينا على قرية فاستطعمنا أهلها فأبوا أن يطعمونا شيئاً، فجاءنا رجل من أهل القرية فقال يا معشر العرب فيكم رجل يرقى؟ فقال أبو سعيد قلت وما ذاك؟ قال ملك القرية يموت قال فانطلقنا معه فرقيته بفاتحة الكتاب فرّددتها عليه مراراً فعوفى، فبعث إلينا بطعام وغنم تساق، فقال أصحابى لم يعهد إلينا النبى صلى الله عليه وسلم في هذا بشئ لا نأخذ منه شيئاً حتى نأتى النبى صلى الله عليه وسلم فسقنا الغنم حتى أتينا النبى صلى الله عليه وسلم فحدثناه فقال كل وأطعمنا معك، وما يدريك أنها رقية؟ قال قلت ألفى في روعى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৪৪
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে সব ঝাড়ফুঁক, তাবীয এবং অনুরূপ জিনিস বৈধ নয়।
১৪৪। হুসায়ন ইবন আবদির রহমান (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি সা'ঈদ ইবন জুবায়র (র)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, গতরাতে যে তারকাটি বিচ্যুত হয়েছিল তা কি তোমরা কেউ দেখেছ? আমি বললাম, আমি দেখেছি। এরপর বললাম, তবে সে সময় আমি সালাত আদায়রত ছিলাম না। আমাকে বিচ্ছু দংশন করেছিল (এ জন্য রাতে বিনিদ্র ছিলাম।) সা'ঈদ (র) বললেন, দংশন করার পর তুমি কী করেছ? আমি বললাম, আমি ঝাড়ফুঁক করেছি। তিনি বললেন, তোমাকে এ কাজ কিসে উদ্বুদ্ধ করল? আমি বললাম, এক হাদীস, যা শা'বী (র) বুরায়দা আসলামী (রা) থেকে আমাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বদ-নযর অথবা বিষাক্ত প্রাণীর দংশন ব্যতীত অন্য কোন ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁক করা যাবে না। এরপর সা'ঈদ ইবন জুবায়র (র) বললেন, যে ব্যক্তি স্বীয় বর্ণনাকে শ্রুত কথার ওপর সীমাবদ্ধ রেখেছে, সে উত্তম কাজ করেছে। তারপর তিনি বললেন, আমার কাছে ইবন আব্বাস (রা) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, (স্বপ্নযোগে) আমার সামনে (পূর্বযুগের) সমস্ত উম্মতকে পেশ করা হয়। সে সময় আমি দেখলাম যে, কোন নবী (ﷺ)র সঙ্গে ছোট একটি দল রয়েছে, আর কোন নবী (ﷺ) সঙ্গে একজন বা দু'জন লোক, আবার কোন নবী (ﷺ)র সঙ্গে কোন কেউ নেই। আমার সামনে হঠাৎ এক বিরাট দল দেখা গেল। আমি বললাম, এরা আমার উম্মাত? তখন আমাকে বলা হল, তিনি হযরত মূসা (আ) ও তার উম্মাত। তবে আপনি ঊর্ধ্ব দিগন্তে তাকিয়ে দেখুন। তখন দেখা গেল, বিশাল দল। আমাকে বলা হল, এবার অপর দিকে দেখুন। দেখা গেল, সেদিকেও বিশাল দল। আমাকে বলা হল, এরা আপনার উম্মাত। এদের মধ্যে সত্তর হাজার এমন লোক আছে, যারা হিসাব-নিকাশ এবং শাস্তি ভোগ করা ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বর্ণনাকারী বলেন,) এরপর উপস্থিত লোকদের মধ্যে অনেকে বললেন, তাঁরা হয়ত সে সকল লোক, যাঁরা নবী (ﷺ)-এর সংশ্রব পেয়েছেন। আবার কেউ বললেন, তাঁরা হয়ত সে সকল লোক, যারা ইসলামের ওপর জন্মলাভ করেছেন এবং পরবর্তীতে কোন সময় আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেন নি। এবং তারা আরো অনেক (সম্ভাব্য) কথা বললেন। তারপর তাদের নিকট নবী (ﷺ) বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, তোমরা কী নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত ছিলে? তখন তারা নিজেদের বক্তব্য তাঁকে অবহিত করলেন। তিনি বললেন, এরা সে সব লোক, যারা আগুনে পোড়ানো লোহা দ্বারা দাগ লাগিয়ে চিকিৎসা করে না, ঝাড়ফুঁক গ্রহণ করে না এবং শুভাশুভের লক্ষণ বিশ্বাস করে না। (অন্য বর্ণনায় "যারা আগুনে পোড়ানো লোহা দ্বারা দাগ লাগিয়ে চিকিৎসা করে না" এর পরিবর্তে রয়েছে "যারা পাখী দ্বারা শুভাশুভের লক্ষণ বিশ্বাস করে না।) আর তারা স্বীয় রবের ওপর ভরসা করে। তখন উক্কাশা ইবন মিহসান আসাদী (রা) উঠে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমি কি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবো? তিনি বললেন, তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এরপর অপর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমি কি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবো? তিনি বললেন, এই সুযোগ উক্কাশা (রা) তোমার পূর্বে গ্রহণ করে নিয়েছে।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما لا يجوز من الرقى والتمائم ونحوها
عن حصين بن عبد الرحمن (3) قال كنت عند سعيد بن جبير قال أيكم رأى الكوكب الذي انقض (4) البارحة؟ قلت أنا، ثم قلت أما إنى لم أكن في صلاة ولكنى لدغت (5) قال وكيف فعلت؟ قلت استرقيت؛ قال وما حملك على ذلك قلت حديث حدثناه الشعبى عن بريدة الأسلمى أنه قال لا رقية إلا من عين (6) أو حمة فقال سعيد يعنى ابن جبير قد أحسن من انتهى إلى ما سمع (7) ثم قال، حدثنا ابن عباس رضى الله عنهما عن النبى صلى الله عليه وسلم قال عرضت علىّ الأمم فرأيت النبى ومعه الرهط (8) والنبى ومعه الرجل والرجلين، والنبى وليس معه أحد إذ رفع لى سواد (9) عظيم فقلت هذه أمتى؟ فقيل هذا موسى وقومه ولكن انظر إلى الأفق فإذا سواد عظيم (10) ثم قيل انظر إلى هذا الجانب الآخر فغذا سواد عظيم (11) فقيل هذه أمتك ومعهم سبعون ألفاً (12) يدخلون الجنة بغير حساب ولا عذاب، فقال بعضهم لعلهم الذين صحبوا النبى صلى الله عليه وسلم، وقال بعضهم لعلهم الذين ولدوا في الإسلام ولم يشركوا بالله شيئاً قط وذكروا أشياء، فخرج إليهم النبى صلى الله عليه وسلم فقال ما هذا الذي كنتم تخوضون فيه؟ فأخبروه بمقالتهم، فقال هم الذين لا يكتوون ولا يسترقون (1) ولا يتطيرون (وفى رواية ولا يعتافون بدل يكتوون) وعلى ربهم يتوكلون فقام عكاشة (2) بن محصن الأسدى فقال أنا منهم يا رسول الله؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أنت فيهم (3) ثم قام الآخر فقال أنا منهم يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم سبقك بها عكاشة
হাদীস নং: ১৪৫
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে সব ঝাড়ফুঁক, তাবীয এবং অনুরূপ জিনিস বৈধ নয়।
১৪৫। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর স্ত্রী যায়নাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (আমার স্বামী) আবদুল্লাহ (রা) কোন প্রয়োজন সেরে (ঘরে) আসতেন, তখন দরজার নিকট পৌছে তিনি গলা খাঁকার দিতেন এবং থুথু ফেলতেন, যাতে আমার নিকট এসে তিনি তার অপসন্দনীয় কোন কিছু দেখতে না পান। একদা তিনি ঘরে আসার সময় গলা খাঁকার দিলেন। তিনি বলেন, সে সময় আমার নিকট এক বৃদ্ধা উপস্থিত ছিল, সে আমাকে লাল ফোস্কা রোগ-এর জন্য ঝাড়ফুক করছিল। তখন আমি তাকে খাটের নীচে ঢুকিয়ে দিলাম। তারপর তিনি আসলেন এবং আমার ঘাড়ে একটি সুতা দেখে বললেন, এটা কিসের সুতা? আমি বললাম, এটা একটি সুতা, আমার জন্য এতে মন্ত্র পড়া হয়েছে। তখন তিনি এটা ধরে ছিড়ে ফেললেন। তারপর বললেন, নিশ্চয় আবদুল্লাহর পরিবার শিরক (আল্লাহর অংশীদার সাব্যস্ত করা)-এর প্রতি মুখাপেক্ষী নয়। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় ঝাড়ফুঁক, তাবীয, যাদুটোনা শিরক। আমি তাকে বললাম, আপনি কেন এরূপ কথা বলছেন? একদা আমি চক্ষুরোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম। তখন আমি অমুক ইয়াহুদীর নিকট যাওয়া আসা করতাম, সে আমাকে এর জন্য ঝাড়ফুক করত। তখন সে ঝাড়ফুঁক করল, তখন চক্ষুদ্বয় শান্ত হয়ে পড়ল। আবদুল্লাহ (রা) বললেন, এটা শয়তানের কাজ। সে নিজের হাত দিয়ে চোখে আঘাত করছিল। যখন তুমি ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিলে তখন সে বিরত হল। তোমার কেবল এ দু'আ পড়াই যথেষ্ট ছিল, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন।
أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اِشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا.
"হে মানুষের প্রভু। দুঃখ-বেদনা দূর করুন। রোগ নিরাময় করুন। আপনিই একমাত্র রোগ নিরাময়কারী। আপনার শিফা ব্যতীত কোন শিফা নেই। আপনি রোগ এমনভাবে নিরাময় করুন, যাতে কোন রোগ অবশিষ্ট না থাকে”।
(আবু দাউদ, ইবন মাজাহ, হাকিম, ইবন হিব্বান। হাকিম (রা) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী (র) তাকে সমর্থন করেছেন।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما لا يجوز من الرقى والتمائم ونحوها
عن زينب امرأة عبد الله ابن مسعود (4) قالت كان عبد الله إذا جاء من حاجة فانتهى إلى الباب تنحنح وبزق كراهية أن يهجم منها على شئ يكرهه، قالت وإنه جاء ذات يوم فتنحنح قالت وعندى عجوز ترقينى من الحمرة (5) فأدخلتها تحت السرير فدخل فجلس إلى جنبى فرأى في عنقى خيطاً قال ما هذا الخيط؟ قالت قلت خيط أرقى لى فيه، قالت فأخذه فقطعه ثم قال إن آل عبد الله لأغنياء عن الشرك، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن الرقى (6) والتمائم والتولة شرك (7) قالت فقلت له لم تقول هذا وقد كانت عينى تقذف فكنت أختلف إلى فلان اليهودى يرقيها وكان إذا رقاها سكنت قال إنما ذلك عمل الشيطان، كان ينخسها بيده فإذا رقيتيها كف عنها إنما كان يكفيك أن تقولى كما قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم اذهب البأس رب الناس اشف أنت الشافى لا شافى إلا شفاءك شفاءاً لا يغادر سقماً
হাদীস নং: ১৪৬
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে সব ঝাড়ফুঁক, তাবীয এবং অনুরূপ জিনিস বৈধ নয়।
১৪৬। হাসান (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে 'ইমরান ইবন হুসায়ন (রা) সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) এক লোকের বাহুতে পিতলের আংটা দেখে বললেন, ধিক তোমাকে! এটা কী? তিনি বললেন, এটা দূর্বলতার কারণে ব্যবহার করেছি। তিনি বললেন, সাবধান! এটা তো তোমার দূর্বলতা আরো বাড়াবে। এটা তোমার নিকট হতে ছুঁড়ে মার। কেননা, যদি তুমি মৃত্যুবরণ কর, আর এটা তোমার গায়ে থাকে, তবে তুমি কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।
(হায়ছামী (র) বলেছেন, এটা আহমাদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বর্ণনাকারী মুবারাক ইবন ফাযালা নির্ভরযোগ্য। তবে তার মধ্যে সামান্য দূর্বলতা রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما لا يجوز من الرقى والتمائم ونحوها
عن الحسن (1) قال أخبرنى عمران بن حصين أن النبى صلى الله عليه وسلم أبصر على عضد رجل حلقة من صفر (2) فقال ويحك ما هذا؟ قال من الواهة (3) قال أما أنها لا تزيدك إلا وهناً، انبذها عنك فإنك لو مت وهى عليك ما أفلحت أبداً
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৪৭
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে সব ঝাড়ফুঁক, তাবীয এবং অনুরূপ জিনিস বৈধ নয়।
১৪৭। উকবা ইবন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলায়, আল্লাহ তার লক্ষ্য পূর্ণ করবেন না। আর যে ব্যক্তি (বদ-নযর হতে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে) সামুদ্রিক পাথর শিশুর গলায় ঝুলায়, আল্লাহ তাকে রক্ষা করবেন না।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ, আবু ইয়া'লা, তাবারানী, হাকিম। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। হাকিম (র) এটাকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী (র) তাকে সমর্থন করেছেন।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما لا يجوز من الرقى والتمائم ونحوها
عن عقبة بن عامر (4) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من علق تميمة فلا أتم الله له، ومن تعلق ودعة (5) فلا ودع الله له
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৪৮
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে সব ঝাড়ফুঁক, তাবীয এবং অনুরূপ জিনিস বৈধ নয়।
১৪৮। তারই সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (দশজনের) একদল লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি নয়জন হতে বায়'আত গ্রহণ করেন। আর একজন হতে বিরত থাকেন। লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! নয়জন হতে বায়'আত নিয়েছেন আর এই লোককে অবশিষ্ট রেখেছেন। তিনি বললেন, তার গায়ে তাবীয আছে। তারপর সে লোক (তার গায়ের) ভিতরে হাত ঢুকিয়ে তাবীযটি বের করল। তখন তিনি তার নিকট হতে বায়'আত গ্রহণ করলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলায়, সে শিরকী কাজ করে।
(হায়ছামী (র) বলেছেন, হাদীসটির আহমাদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন। আহমাদ-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما لا يجوز من الرقى والتمائم ونحوها
وعنه أيضاً (6) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبل عليه رهط فبايع تسعة وأمسك عن واحد فقالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم بايعت تسعة وتركت هذا؟ قال إن عليه تميمة فأدخل يده فقطعها (7) فبايعه وقال من علق تميمة فقد أشرك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৪৯
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে সব ঝাড়ফুঁক, তাবীয এবং অনুরূপ জিনিস বৈধ নয়।
১৪৯। 'ঈসা ইবন আবদির রহমান (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা আবদুল কারীম ইবন উকায়ম (রা)-এর নিকট গেলাম। সে সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাকে বলা হল, যদি আপনি (তাবীয জাতীয়) কিছু শরীরে ঝুলিয়ে নেন, তবে ভাল হয়ে যেতেন? তিনি বললেন, আমি কিছু ঝুলাৰ, অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি (স্বীয় শরীরে) কোন কিছু ঝুলায় তাকে তার প্রতি সোপর্দ করা হবে।
(তিরমিযী, হাকিম। হাকিম (র) হাদীসটি সম্বন্ধে কোন মন্তব্য করেন নি।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما لا يجوز من الرقى والتمائم ونحوها
عن عيسى بن عبد الرحمن (2) قال دخلنا على عبد الله بن عكيم رضى الله عنه وهو مريض نعوده فقيل له لو تعلقت شيئاً (3) فقال أتعلق شيئاً وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من تعلق شيئاً (4) وُكل إليه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫০
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে সব ঝাড়ফুঁক, তাবীয এবং অনুরূপ জিনিস বৈধ নয়।
১৫০। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-কে নাশরা (মন্ত্র বিশেষ। জাহিলী যুগে কোন ব্যক্তি জিন-পরী দ্বারা প্রভাবিত হলে তাকে উক্ত মন্ত্র পড়ে ঝাড়া হত।) সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এটা শয়তানের কাজ।
(আবূ দাউদ। তিনি এবং মুনযিরী (র) হাদীসটি সম্বন্ধে কোন মন্তব্য করেন নি।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما لا يجوز من الرقى والتمائم ونحوها
عن جابر بن عبد الله (5) قال سئل النبى صلى الله عليه وسلم عن النشرة (6) فقال من عمر الشيطان
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫১
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদ-নযর লাগা সত্য।
১৫১। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন বদ-নযর লাগা সত্য। এটা সুউচ্চ পাহাড়কেও স্থানচ্যুত করে দেয়।
(তবারানী, হাকিম। হাকিম (র) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী (র) তাকে সমর্থন করেছেন।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما جاء في العين وأنها حق
عن ابن عباس (8) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم العين حق: العين حق (9) تستنزل الحالق
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদ-নযর লাগা সত্য।
১৫২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বদ-নযর লাগা সত্য। এবং তিনি শরীরে উল্কি আঁকতে নিষেধ করেছেন।
(হাদীসটি বুখারী এবং মুসলিম (উল্কি আঁকা) ব্যতীত বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما جاء في العين وأنها حق
عن أبي هريرة (1) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم العين حق ونهى عن الوشم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৩
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদ-নযর লাগা সত্য।
১৫৩। তারই সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বদ-নষর লাগা সত্য। শয়তান এটা নিয়ে উপস্থিত হয় এবং মানুষের প্রতি হিংসা করে।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। হায়ছামী (র) এটা বর্ণনা করে বলেছেন, আহমাদ (রা)-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما جاء في العين وأنها حق
وعنه أيضاً (3) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم العين حق ويحضر بها الشيطان (4) وجسد ابن آدم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৪
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদ-নযর লাগা সত্য।
১৫৪। আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় বদ-নযর আল্লাহর নির্দেশে মানুষের ওপর পড়ে। এমনকি এটা তাকে উঁচু পাহাড়ে উঠিয়ে সেখান থেকে তাকে নীচে ফেলে দেয়।
(আবূ ইয়া'লা। হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ ও বাযযার বর্ণনা করেছেন। আহমাদ- এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما جاء في العين وأنها حق
عن أبى ذر (5) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن العين لتولع (6) بالرجل بإذن الله حتى يصعد حالقاً (7) ثم يتردى منه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৫
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কারো কোন বস্তু পসন্দ হলে সে কী বলবে এবং বদ-নযর আক্রান্ত ব্যক্তিকে কী করতে হবে?
১৫৫। আবু উমামা ইবন সাহল ইবন হুনায়ফ (র) থেকে বর্ণিত যে, তার পিতা তাকে বর্ণনা করেছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হলেন। তাঁর সঙ্গে তিনিও রওয়ানা হলেন। যখন তারা জুহফা এলাকার শি'আবুল খাযযার নাম স্থানে পৌঁছলেন, তখন সাহল ইবন হুনায়ফ (রা) গোসল করলেন। তিনি ছিলেন সাদা বর্ণের মানুষ। তার দৈহিক গঠন ও তার ত্বক ছিল অত্যন্ত সুন্দর। সে সময় বনূ 'আদী ইবন কা'ব গোত্রের আমির ইবন রাবী'আ তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন। সে সময় তিনি গোসল করছিলেন। তিনি বললেন, আমি আজকের মত আর কোনদিন দেখি নি এবং পর্দার আড়ালে রক্ষিত (অর্থাৎ কুমারী কন্যার) কোন চামড়াও এরূপ আমি দেখি নি। (বর্ণনাকারী বলেন,) এরপর সাহল মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। তারপর তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আনা হল। তাকে বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আপনি কি সাহল (রা) এর জন্য কিছু করতে পারেন? আল্লাহর শপথ! সে তার মাথা উঠাতে পারছে না এবং তার জ্ঞান ফিরে আসছে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কি কাউকে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কর? তারা বললেন, তাঁর প্রতি আমির ইবন রাবী'আ নযর করে ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'আমির ইবন রাবী'আকে ডেকে পাঠান এবং তার প্রতি কঠোরবাণী উচ্চারণ করেন এবং বলেন, তোমাদের কেউ তার অপর ভাইকে কেন হত্যা করে? যখন তুমি এমন কিছু দেখলে যা তোমার নিকট বিস্ময়কর মনে হয়েছে, তখন তুমি কেন কল্যাণের দু'আ করলে না? তারপর তিনি তাকে বললেন, তুমি তার জন্য (তোমার শরীরের কিছু অঙ্গ ধুয়ে দাও? এরপর আমির ইবন রাবী'আ তার মুখমণ্ডল, দুই হাত, দুই কনুই, দুই হাটু, দুই পায়ের আঙ্গুলসমূহ এবং ইযারের ভিতরের অঙ্গ ধুয়ে পানি একটি পাত্রে রাখলেন। এরপর এই পানি সাহল (রা)-এর ওপর ঢেলে দেওয়া হল। এক ব্যক্তি তার মাথায়, পিছনের পিঠে ঢেলে দিল। এরপর পাত্রটি তার পিছনে উপুড় করে ফেলে দিল। এরূপ করা হলে, সাহল (রা) সুস্থ হয়ে লোকদের সঙ্গে হেটে আসলেন। তার শরীরের আর কোন সমস্যা থাকল না।
(নাসাঈ, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান। ইবন হিব্বান (র) ও হায়ছামী (র) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما يقول من رأى شيئاً أعجبه وما يفعل بالمصاب بالعين
عن أبى أمامة (8) بن سهل بن حنيف أن أباه حدثه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج وسار معه نحو مكة حتى إذا كانوا بشعب الخرار (9) من الجحفة اغتسل سهل بن حنيف وكأن رجلاً أبيض حسن الجسم والجلد فنظر إليه عامر بن ربيعة أخو بنى عدى بن كعب وهو يغتسل فقال ما رأيت كاليوم ولا جلد مخبأة (10) فلبط سهل فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقيل له يا رسول الله هل لك في سهل والله ما يرفع رأسه وما يفيق، قال هل تتهمون فيه من أحد قالوا نظر إليه عامر بن ربيعة، فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عامراً فتغيظ عليه وقال علام يقتل أحدكم أخاه؟ هلا إذا رأيت ما يعجبك برّكت (1) ثم قال له اغتسل له (2) فغسل وجهه ويديه ومرفقيه وركبتيه وأطراف رجليه وداخلة إزاره (3) في قدح ثم صب ذلك الماء عليه يصبه رجل على رأسه وظهره من خلفه ثم يكفئ القدح وراءه ففعل به ذلك فراح سهل مع الناس ليس به بأس
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৬
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কারো কোন বস্তু পসন্দ হলে সে কী বলবে এবং বদ-নযর আক্রান্ত ব্যক্তিকে কী করতে হবে?
১৫৬। আবদুল্লাহ ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমির ইবন রাবী'আ ও সাহল ইবন হুনায়ফ (রা) গোসল করার উদ্দেশ্যে বের হলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর (সেখানে পৌঁছে) তারা সতর (আড়াল) খুঁজতে লাগলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমির (রা) তার গায়ে পরিহিত পশমের জুব্বা খুললেন। সে সময় আমি তার দিকে তাকালাম এবং আমার দু'চোখ (বদ-নযর) দ্বারা তাকে আক্রান্ত করলাম। তারপর তিনি গোসল করার জন্য পানিতে নামলেন। বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় আমি পানিতে শব্দ শুনলাম। তারপর আমি তার নিকট এসে তিনবার ডাক দিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে জবাব দিলেন না। তারপর আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে তাকে এ বিষয়ে অবহিত করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি পায়ে হেটে এসে পানিতে নামলেন। আমি যেন এখনো তার গোছার শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করছি। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি স্বীয় হাত দ্বারা তার বক্ষে আঘাত করলেন এবং বললেন,
اللَّهُمَّ أَذْهِبْ عَنْهُ حَرَّهَا، وَبَرْدَهَا، وَوَصَبَهَا
(হে আল্লাহ! চোখের উষ্ণতা, শীতলতা এবং ইহার ব্যাথা-বেদনা দূর করে দিন।)
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমির (রা) উঠে দাঁড়ান। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের কাছে বা নিজের কাছে অথবা তার মালের মধ্যে এমন আশ্চর্জজনক কিছু দেখে, তবে সে যেন বরকতের দু'আ করে। কেননা, বদ-নযর লাগা সত্য।
(হাকিম। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী (র) তাকে সমর্থন করেছেন।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما يقول من رأى شيئاً أعجبه وما يفعل بالمصاب بالعين
عن عبد الله بن عامر (4) قال انطلق عامر بن ربيعة وسهل بن حنيف يريدان الغسل قال فانطلقا يلتمسان الخمر (5) قال فوضع عامر جبة كانت عليه من صوف فنظرت إليه فأصبته بعينى فنزل الماء يغتسل قال فسمعت له في الماء فرقعة فأتيته فناديته ثلاثاً فلم يجبنى، فأتيت النبى صلى الله عليه وسلم فأخبرته، قال فجاء يمشى فخاض الماء كأنى أنظر إلى بياض ساقيه، قال فضرب صدره بيده (6) ثم قال اللهم أذهب عنه حرها وبردها ووصبها (7) قال فقام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا رأى أحدكم من أخيه أو من نفسه أو من ماله ما يعجبه فليبرِّكه فإن العين حق
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৭
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কারো কোন বস্তু পসন্দ হলে সে কী বলবে এবং বদ-নযর আক্রান্ত ব্যক্তিকে কী করতে হবে?
১৫৭। সুহায়ব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়ন যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাত আদায় শেষে কিছু বলে তার উভয় ঠোট নাড়তেন। ইতোঃপূর্বে আমরা তাকে এমন করতে দেখি নি। (অন্য বর্ণনায়: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় শেষে ঠোট নাড়িয়ে কিছু বলতেন, যা আমরা বুঝতাম না এবং তিনি এটা আমাদের নিকট বর্ণনা করতেন না।) আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমরা (সম্প্রতি) আপনাকে এক বিশেষ কাজ করতে দেখছি, যা আপনি ইতোঃপূর্বে করেন নি। আপনি (সালাত আদায় শেষে) কী বলে আপনার ঠোট নাড়েন? (অন্য বর্ণনায়: এর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আমার অবস্থা দেখে বুঝে ফেলেছ? তখন এক ব্যক্তি বললেন, হ্যাঁ।) তিনি বললেন, তোমাদের পূর্বযুগের এক নবী (ﷺ) তার উম্মতের আধিক্যতা দেখে খুশি হয়ে বলেছিলেন, তাদেরকে কোন কিছু লক্ষ্যস্থল বানাতে পারবে না। (অন্য বর্ণনায় তাদের সমকক্ষ কে আছে?) তখন আল্লাহ তার নিকট ওহী পাঠালেন যে, তুমি তোমার উম্মাতকে তিনটি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার দাও। হয়ত আমি তাদের ওপর বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতা দান করব; তারা তাদেরকে হত্যা করবে অথবা তাদের ওপর দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিব অথবা তাদের ওপর মৃত্যু পাঠাব। এরপর নবী (ﷺ) তাদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। (অন্য বর্ণনায়: এরপর তিনি তার সম্প্রদায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করলেন।) তারা বলল, আপনি আল্লাহর নবী (ﷺ)। আমরা আপনার ওপর বিষয়টি ন্যস্ত করলাম। আপনি আমাদের জন্য তিন বিষয়ের কোন একটি বেঁছে নিন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি সালাত আদায়ে দণ্ডায়মান হলেন। তারা যখন ভয়ের সম্মুখীন হতেন, তখন সালাতের আশ্রয় নিতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সালাত আদায় করে বললেন, শত্রুর বিষয়ে আমরা বলবো যে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে সামর্থ্য রাখি না। আর দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে আমরা বলব যে, আমরা এটা সইতে পারবো না। আমাদেরকে মৃত্যু দিতে পারেন। তারপর তাদের ওপর মৃত্যু চাপিয়ে দেওয়া হল। তাদের মধ্যে হতে তিন দিনে সত্তর হাজার লোক মারা গেল। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যখন তাদের (সাহাবীগণের), চোখে তাদেরকে অধিক মনে হয়েছে, তখন আমি দু'আ শুরু করছি,
اللَّهُمَّ بِكَ أَحَاوِلُ، وَبِكَ أَصَاوِلُ، وَبِكَ أَقَاتِلُ
(হে আল্লাহ! আপনার নামে আমি চেষ্টা করি, আপনার নামে আমি আক্রমণ করি, আপনার নামে আমি লড়াই করি।)
(অন্য বর্ণনায়:
اللَّهُمَّ يَأْ رَبِّ بِكَ أَقَاتِلُ، وَبِكَ أَصَاوِلُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
(হে আল্লাহ! হে আমার প্রভু! আপনার নামে আমি লড়াই করি, আপনার নামে আমি আক্রমণ করি। আল্লাহর ক্ষমতা ব্যতীত আত্মরক্ষার সামর্থ্য এবং আক্রমণের সামর্থ্য আমাদের নেই।)
(মুসলিম, তিরমিযী, দারিমী)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب ما يقول من رأى شيئاً أعجبه وما يفعل بالمصاب بالعين
عن صهيب (9) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان أيام حنين يحرك شفتيه بعد صلاة الفجر بشئ لم نكن نراه يفعله (وفى رواية كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا صلى همس شيئاً لا نفهمه ولا يحدثنا به) فقلنا يا رسول الله إنا نراك تفعل شيئاً لم تكن تفعله فما هذا الذي تحرك شفتيك (وفى رواية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فطنتم لى قال قائل نعم) قال إن نبياً فيمن كان قبلكم أعجبته كثرة أمته فقال لن يروم (1) هؤلاء شئ (وفى رواية فقال من يكافئ (2) هؤلاء) فأوحى الله إليه أن خِّير أمتك بين إحدى ثلاث، إما أن نسلط عليهم عدواً من غيرهم فيستبيحهم أو الجوع، وإما أن أرسل عليهم الموت: فشاورهم (وفى رواية فاستشار قومه في ذلك) فقالوا أنت نبى الله نكل ذلك إليك فخر لنا قال فقام إلى صلاته قال وكانوا يفزعون إذا فزعوا إلى الصلاة (3) قال فصلى فقالوا (وفى رواية فقال) أما العدو فلا طاقة لنا بهم وأما الجوع فلا صبر لنا عليه ولكن الموت: فأرسل عليهم الموت فمات منهم في ثلاثة أيام سبعون ألفاً قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فأنا أقول الآن حيث رأى كثرتهم (4) اللهم بك أحاول وبك أصاول وبك أقاتل (وفى رواية اللهم يارب بك أقاتل وبك أصاول ولا حول ولا قوة إلا بالله)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৮
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদ-নযর হতে রক্ষা পাওয়ার ঝাড়ফুঁক।
১৫৮। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তাঁকে বদ-নযর হতে (বেঁচে থাকার জন্য) ঝাড়ফুঁক করতে নিষেধ করেছেন।
(বুখারী, মুসলিম, ইবন মাজাহ, হাকিম ও অন্যান্য)
তারই সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) (কোন ঘরে) প্রবেশ করে এক শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। তখন বললেন, তোমাদের এই শিশুর কী হল? সে কেন কাঁদছে? বদ-নযর হতে রক্ষার জন্য তাকে কেন ঝাড়ফুঁক কর নি?
(হাদীসটি এই শব্দে অন্যত্র পাওয়া যায়নি। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب الرقية من العين
عن عائشة رضى لاله عنها (5) أن النبى صلى الله عليه وسلم أمرها أن تسترقى من العين (6) (وعنها أيضاً) (7) قالت دخل النبي صلى الله عليه وسلم فسمع صوت صبي يبكي، فقال ما لصبيكم هذا يبكى فهلا استرقيتم له من العين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৯
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদ-নযর হতে রক্ষা পাওয়ার ঝাড়ফুঁক।
১৫৯। তারই সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বদ-নযর হতে (রক্ষার জন্য) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ঝাড়ফুঁক করতাম। আমি আমার হাত তাঁর বক্ষদেশে রেখে বলতাম,
امْسَحُ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ بِيَدِكَ الشَّفَاءُ، لَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا أَنْتَ.
"হে মানুষের রব! দুঃখ-বেদনা নিরাময় করুন। কেবল আপনার হাতে রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা রয়েছে। আপনি ব্যতীত কেউ বিপদ হতে মুক্তি দানকারী নেই।
(মুসলিম)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب الرقية من العين
وعنها أيضاً (1) قالت كنت أرقى رسول الله صلى الله عليه وسلم من العين فأضع يدى على صدره، امسح البأس (2) رب الناس بيدك الشفاء لا كاشف له إلا أنت
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬০
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদ-নযর হতে রক্ষা পাওয়ার ঝাড়ফুঁক।
১৬০। উবায়দুল্লাহ ইবন রিফা'আ যারকী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিনতে উমায়স (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), জা'ফর (রা)-এর সন্তানাদির ওপর বদ-নযর লাগে। আমি কি তাদের জন্য ঝাড়ফুঁক করাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কেননা, যদি কোন বস্তু তাকদীরের ওপর অগ্রগামী হতে পারত, তবে বদ-নযর তার অগ্রগামী হত।
(তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, তাহাবী। তিরমিযী (র) বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب الرقية من العين
عن عبيد الله بن رفاعة الزرقى (3) قال قالت أسماء (بنت عميس) رضى الله عنها يا رسول الله إن بنى جعفر (4) تصيبهم العين أفأسترقى لهم؟ قال نعم فلو كان شئ سابق القدر (5) لسبقته العين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬১
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগ সংক্রমণ, অশুভ ও শুভ লক্ষণ, প্লেগ ও আকস্মিক মৃত্যু প্রসঙ্গ

পরিচ্ছেদ: রোগ সংক্রমণ হয় না।
১৬১। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সংক্রামক ব্যাধি, সফর মাসের কু-লক্ষণ, (নিশাচর) পাখীর কু-লক্ষণ বলে কিছু নেই।* এক বেদুঈন বলল, তা হলে উটের এই অবস্থা কেন হয় যে, উটপাল বালুকাময় ময়দানে হরিণের ন্যায় বিচরণ করে, তখন তাদের সঙ্গে চর্ম রোগাক্রান্ত একটি উট এসে মিশে যায় এবং সে অন্যান্য উটকেও চর্মরোগী বানিয়ে দেয়? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তা হলে প্রথম উটে চর্মরোগ কে দিল?
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ ও অন্যান্য)
*জাহেলী যুগের লোকদের ধারণা ছিল যে, সফর মাস অশুভ। এজন্য তারা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কোন সময় মুহাররমকে সফর আর কোন সময় সফরকে মুহাররাম বানিয়ে নিত। এর আরো একটি অর্থ হলো, বড় ক্রিমি জাতীয় সাপের মত এক প্রকার প্রাণী, যা পেটে জন্ম নিত। জাহিলী যুগের লোকদের ধারণা অনুযায়ী এটা চর্মরোগের ন্যায় সংক্রামক।
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
أبواب ما جاء في العدوى والطيرة والفأل والطاعون وموت الفجأة

باب ما جاء في نفى العدوى
عن أبى هريرة (7) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا عدوى (8) ولا صفر ولا هامة (9) قال أعرابى فما بال الإبل تكون في الرمل كأنها الظباء (1) فيخالطها البعير الأجرب فيجربها (2) فقال النبى صلى الله عليه وسلم فمن كان أعدى الأول
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬২
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগ সংক্রমণ, অশুভ ও শুভ লক্ষণ, প্লেগ ও আকস্মিক মৃত্যু প্রসঙ্গ

পরিচ্ছেদ: রোগ সংক্রমণ হয় না।
১৬২। তারই সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এক বস্তুর মধ্যে সংক্রমিত হয় না। তিনবার বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর জনৈক বেদুঈন উঠে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! এক উটের ঠোটে বা তার লেজে চর্মরোগ হয়, তারপর এটা তো অন্যান্য উটের মধ্যে চর্মরোগ ছড়িয়ে দেয়? বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। তারপর বললেন, তা হলে প্রথম উটে চর্মরোগ কে দিল? বস্তুত সংক্রামক ব্যাধি, সফর মাসের কু-লক্ষণ, (নিশাচর) পাখীর কু-লক্ষণ বলে কিছু নেই। আল্লাহ প্রত্যেক আত্মা সৃষ্টি করে তার জীবন, মরণ, বিপদাপদ এবং রিযক নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
(বুখারী, মুসলিম। আবূ দাউদ ও অন্যান্যগণ ভিন্ন ভিন্ন শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে সবগুলো সমার্থক।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
أبواب ما جاء في العدوى والطيرة والفأل والطاعون وموت الفجأة

باب ما جاء في نفى العدوى
وعنه أيضاً قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يعدى شئ شيئاً ثلاثاً (5) قال فقام أعرابى فقال يا رسول الله إن النقبة (6) تكون بمشفر البعير (7) أو بعجبه فتشمل الإبل جرباً، قال فكست ساعة فقال ما أعدى الأول؟ لا عدوى ولا صفر ولا هامة، خلق الله كل نفس فكتب حياتها وموتها ومصيباتها ورزقها (8)
tahqiq

তাহকীক: