মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৪৪ টি

হাদীস নং: ২১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে কারণে কোন মুসলমানকে হত্যা করা বৈধ।
২১। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এরূপ কোন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা জায়েয নয়, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আর আমি আল্লাহর রাসূল তবে তিন ব্যক্তি ব্যতিক্রম (১) বিবাহিত ব্যভিচারী, (২) কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যাকারী (৩) দ্বীন ত্যাগকারী, মুসলমানদের জা'মাত থেকে পৃথক ব্যক্তি।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما يبيح دم المسلم
(21) عن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحل دم امرئٍ مسلم يشهد أن لا إله إلا الله واني رسول الله إلا بإحدى ثلاث الثيب الزاني: والنفس بالنفس: والتارك لدينه المفارق للجماعة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে কারণে কোন মুসলমানকে হত্যা করা বৈধ।
২২। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করেছে, অতঃপর তাকে হত্যা করা হয়েছে, বা যে ব্যক্তি বিবাহ করার পরে ব্যভিচার করেছে, বা যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ (স্বধর্মত্যাগী) হয়েছে, সে ছাড়া কোন মুসলমান ব্যক্তিকে হত্যা করা জায়েয নয়।
(নাসাঈ, হাকিম। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما يبيح دم المسلم
(22) عن عائشة رضي الله عنها) (9) قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحل دم امرئِ مسلم إلا رجل قتل فقتل، أو رجل زنى بعد ما أحصن، أو رجل ارتد بعد إسلامه.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে কারণে কোন মুসলমানকে হত্যা করা বৈধ।
২৩। হযরত আয়েশা (রা) থেকেই বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যদি কোন ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তির দিকে তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে অস্ত্র তাক করে তাহলে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব।
(হাকিম। তিনি বলেছেন, হাদীসটি বুখারী এবং মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, যদিও তাঁরা হাদীসটিকে বর্ণনা করেননি। যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন। সুয়ূতী ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما يبيح دم المسلم
(23) وعنها أيضًا قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من أشار بحديدةٍ (2) إلى أحد المسلمين يريد قتله فقد وحب دمه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যে কারণে কোন মুসলমানকে হত্যা করা বৈধ।
২৪। আবু সাওয়ার কাজী থেকে বর্ণিত, তিনি আবু বারযা আসলামী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি আবু বকর (রা)-এর সাথে রূঢ় ব্যবহার করল। আবু বারযা বললেন, আমি কি তাকে হত্যা করব না? তিনি তাঁকে ধমক দিলেন। আর বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরে কারো ক্ষেত্রে এটা বৈধ নয় (অর্থাৎ রূঢ় ব্যবহারের কারণে কাউকে হত্যা করা বৈধ নয়।)
(আবু দাউদ, নাসাঈ, তাবারানী, আল মু'জামুল আউসাত, হাকিম। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما يبيح دم المسلم
(24) عن أبي سوار القاضي يقول عن أبي برزة الأسلمي قال أغلظ رجل إلى أبي بكرٍ الصديق رضي الله عنه قال فقال أبو برزة إلا اضرب عنقه؟ فقال فانتهزه وقال ما هي لأحدٍ بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসলামী রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ কাফের এবং ইসলামী রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করার নিষেধাজ্ঞা এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী।
২৫। আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কেউ ইসলামী রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ কাফিরকে হত্যা করে তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।
(বুখারী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب تحريم قتل المعاهد وأهل الذمة والتشديد في ذلك
(25) عن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قتل قتيلًا من أهل الذمة لم برح رائحة الجنة وإن ريحها ليوجد من مسيرة أربعين عامًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসলামী রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ কাফের এবং ইসলামী রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করার নিষেধাজ্ঞা এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী।
২৬। হিলাল ইবন ইয়াসাফ জনৈক সাহাবী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, অচিরেই এরূপ এক জাতি হবে যারা ইসলামী রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবে। যদি কেউ তাদের কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ সত্তর বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারো নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে বলেছেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب تحريم قتل المعاهد وأهل الذمة والتشديد في ذلك
(26) عن هلال بن يساف عن رجل عن النبي صلى الله عليه وسلم قال سيكون قوم لهم عهد فمن قتل رجلًا منهم لم يرح رائحة الجنة وإن ريحها ليوجد من مسيرة سبعين عامًا
হাদীস নং: ২৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসলামী রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ কাফের এবং ইসলামী রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করার নিষেধাজ্ঞা এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী।
২৭। আবু বকরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কেউ ইসলামী রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ কাফিরকে অন্যায় ভাবে হত্যা করে তাহলে আল্লাহ তার উপর জান্নাত এবং তার ঘ্রাণ পাওয়াকে হারাম করেন।
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই জান্নাতের ঘ্রাণ একশত বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়। যদি কেউ ইসলামী রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ কাফিরকে হত্যা করে তাহলে মহান আল্লাহ তার উপর জান্নাত এবং তার ঘ্রাণ পাওয়াকে হারাম করেন। আবূ বকরা (রা) বললেন, যদি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ হাদীস বলতে না শুনে থাকি তাহলে আল্লাহ যেন আমার কানকে বধির করেন।
(আবূ দাউদ, তাবারানী আল মু'জামুল কাবীরে, হাকিম, ইবন হিব্বান। হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب تحريم قتل المعاهد وأهل الذمة والتشديد في ذلك
(27) عن أبي بكرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قتل نفسًا معاهدةً بغير حلها (2) حرم الله عليه الجنة (3) أن يجد ريحها (وعنه من طريقٍ ثان) (4) قال سمعت رسول لله صلى الله عليه وسلم يقول إن ريح الجنة يوجد من مسيرة مائة عام، وما من عبدٍ يقتل نفسًا معاهدةً إلا حرم الله تبارك وتعالى عليه الجنة، ورائحتها أن يجدها. قال أبو بكرة أصم الله أدني إن لم أكن سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقولها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কবাণী তা যে বস্তু দিয়েই হোক।
২৮। আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কেউ অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করে, তাহলে ঐ অস্ত্র তার হাতে থাকবে। আর সে জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে তা দিয়ে তাৱ পেটে আঘাত করবে। আর যদি কেউ বিষপান করে আত্মহত্যা করে তাহলে তা তার হাতে থাকবে, আর সে জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে তা পান করবে। আর যদি কেউ পাহাড় থেকে পতিত হয়ে আত্মহত্যা করে, তাহলে সে স্থায়ীভাবে জাহান্নামের উপর থেকে নিচে পতিত হবে।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ তায়ালিসী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وعيد من قتل نفسه بأي شيءٍ كان
(28) عن أبي هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قتل نفسه بحديدةٍ فحديدته بيده يجابها (6) في بطنه في نار جهنم خالدًا مخلدًا (7) فيها أبدًا، ومن قتل نفسه بسمٍ فسمه (8) بيده يتحساه (9) في نار جهنم خالدًا مخلدًا فيها أبدًا، ومن تردى (10) من جبلٍ فقتل نفسه فهو يتردى (11) في نار جهنم خالدًا مخلدًا فيها أبدًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কবাণী তা যে বস্তু দিয়েই হোক।
২৯। এ হাদীসটিও তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি বর্শা দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যা করে, তাহলে সে দোযখেও বর্শা দিয়ে নিজেকে আঘাত করতে থাকবে। আর যদি কোন ব্যক্তি দুনিয়ার আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, তাহলে সে দোযখের আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর যদি কোন ব্যক্তি শ্বাসরোধ করে আত্মহত্যা করে, তাহলে সে জাহান্নামেও নিজের শ্বাসরোধ করবে।
(বুখারী শরীফে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা- "وَالَّذِي يَتَقَحِمُ فِيمَا يَتَقَحَّمُ فِي النَّارِ" (আর যদি কোন ব্যক্তি দুনিয়ার আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে তাহলে সে জাহান্নামের আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়বে) এ অংশটুকু নেই।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وعيد من قتل نفسه بأي شيءٍ كان
(29) وعنه أيضًا عن النبي صلى الله عليه وسلم الذي يطعن (13) نفسه إنما يطعنها في النار والذي يتفحم فيها يتفحم في النار (1) والذي يخنق نفسه يخنقها في النار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কবাণী তা যে বস্তু দিয়েই হোক।
৩০। সাবিত ইবন দ্বাহহাক আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, যদি কেউ কোন বস্তু দিয়ে আত্মহত্যা করে তাহলে আল্লাহ জাহান্নামের আগুনে তাকে তা দিয়ে শাস্তি দিবেন।
(বুখারী, মুসলিম, শাফিয়ী, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وعيد من قتل نفسه بأي شيءٍ كان
عن ثابت بن الضحاك (2) الأنصاري أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من قتل نفسه بشيءٍ عذبه الله به في نار جهنم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কবাণী তা যে বস্তু দিয়েই হোক।
৩১। জুনদুব বাজালী (রা) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি আহত হলে তাকে তার বাড়ীতে নিয়ে আসা হল। তার জখম তাকে কষ্ট দিলে সে তার তুনীর থেকে একটি তীর বের করল। অতঃপর তা দিয়ে তার বুকের উপরের অংশে আঘাত করল। তাঁরা নবী (ﷺ)কে তা জানালেন। তিনি তাঁর মহান প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করলেন যে, তিনি বলেছেন, সে নিজের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করল।
(বুখারী, মুসলিম এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وعيد من قتل نفسه بأي شيءٍ كان
عن جندب البجلي (3) أن رجلًا أصابته جراحة فحمل على بيته فآلمت جراحته فاستخرج سمها من كنانته (4) فطعن به في لبته (5) فذكروا ذلك عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال فيما يروي عن ربه عز وجل سابقني بنفسه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কবাণী তা যে বস্তু দিয়েই হোক।
৩২। জাবির ইবন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)র এর যুগে জনৈক ব্যক্তি মারা গেল। জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, অমুক ব্যক্তি মারা গেছে। তিনি বললেন, সে মারা যায়নি। অতঃপর সে তাঁর নিকট দ্বিতীয়বার আসল। অতঃপর সে তাঁর নিকট তৃতীয়বার আসল। আর তাঁকে তার মৃত্যুর খবর অবহিত করল। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, সে কিভাবে মারা গেছে? সে বলল, সে ধারাল তীরের ফলা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। জাবির (রা) বলেন, এ কারণে তিনি তার জানাযা পড়লেন না। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বললেন, আমি তার জানাযা নামায পড়ব না।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وعيد من قتل نفسه بأي شيءٍ كان
عن جابر بن سمرة (7) قال مات رجل على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتاه رجل فقال يا رسول الله مات فلان قال لم يمت، ثم أتاه الثانية ثم الثالثة فأخبره فقال له النبي صلى الله عليه وسلم كيف مات؟ قال نحر نفسه بمشقص (8) قال فلم يصل عليه (وفي لفظٍ قال إذًا لا أصلي عليه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কবাণী তা যে বস্তু দিয়েই হোক।
৩৩,৩৪। জাবির ইবন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী (রা) আহত হলেন। তাকে তার জখম ব্যথিত করল। তিনি ধীরে ধীরে ধারাল তীরের ফলার নিকট গেলেন। আর তা দিয়ে আত্মহত্যা করলেন। নবী (ﷺ) তার জানাযা নামায পড়েননি।
এ হাদীসের এক বর্ণনাকারী শরীক বলেন, নবী (ﷺ)-কর্তৃক আত্মহত্যাকারীর জানাযা না পড়ার উদ্দেশ্য হল, তাকে তার অপরাধের শাস্তি দেয়া এবং অন্যকে তা থেকে সতর্ক করা।
(ইমাম আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ মুসনাদে আহমদে কিছু হাদীস সংযোজন করেছেন। এ হাদীসটি তার। মুসলিম, তিরমিযী, ইবন মাজাহ হাদীসটিকে মুসনাদে আহমদের মত সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করেছেন। আর আবূ দাউদ হাদীসটিকে দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وعيد من قتل نفسه بأي شيءٍ كان
(ز) (حدثنا عبد الله بن عامر) (9) ابن زرارة ثنا شريك عن سماك (يعني ابن حرب) (عن جابر بن سمرة) أن رجلًا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم جرح فآذته الجراحة فدب (10) إلى مشاقص فذبح به نفسه فلم يصل عليه النبي صلى الله عليه وسلم وقال كل ذلك أدب منه (11) هكذا أملاه علينا عبد الله بن عامر (12) من كتابه ولا أحسب هذه الزيادة إلا من قول شريك قوله ذلك أدب منه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কবাণী তা যে বস্তু দিয়েই হোক।
৩৫। আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল্লাহ ইবন কা'ব ইবন মালিক (র) থেকে বর্ণিত, খায়বরে যাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন তাদের কোন এক ব্যক্তি তাঁকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বললেন, এ ব্যক্তি জাহান্নামী। অতঃপর যখন লড়াই শুরু হল তখন লোকটি তীব্র লড়াই করল, এমনকি তার শরীরে বহু জখম হল। নবী (ﷺ) -এর সাহাবীগণ (রা) তাঁর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করুন, যাকে আপনি বলেছেন, সে জাহান্নামী। আল্লাহর শপথ! সে আল্লাহর রাস্তায় তীব্র লড়াই করেছে এবং তার শরীরে বহু জখম রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই সে জাহান্নামী। কতিপয় সাহাবী (রা)-এর মনে সন্দেহ সৃষ্টির উপক্রম হল। এ অবস্থায় লোকটি জখমের ব্যথায় অস্থির হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত তার হাত তুনীরের দিকে বাড়াল। তা থেকে একটি তীর বের করল এবং তা দিযে আত্মহত্যা করল। জনৈক মুসলিম ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট দৌড়িয়ে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ), আল্লাহ আপনার কথা সত্য প্রমাণিত করেছেন। অমুক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে।
(ইমাম আহমদ হাদীসটিকে এভাবে আবূ হুরায়রা (রা) এবং সাহল ইব্‌ন্ সায়িদী (রা) থেকেও বর্ণনা করেছেন। যার উল্লেখ এ কিতাবের জিহাদ পর্বে আন্তরিকতার সাথে জিহাদের নিয়ত করার অধ্যায়ে উদ্ধৃত হয়েছে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وعيد من قتل نفسه بأي شيءٍ كان
عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعبٍ بن مالك أنه أخبره بعض من شهد النبي صلى الله عليه وسلم (1) بخيبر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لرجلٍ ممن معه (2) إن هذا لمن أهل النار، فلما حضر القتال قاتل الرجل أشد القتال حتى كثرت به الجراح فأتاه (3) رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله أرأيت الرجل الذي ذكرت أنه من أهل النار فقد والله قاتل في سبيل الله أشد القتال وكثرت به الجراح فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أما إنه من أهل النار وكاد بعض الصحابة أن يرتاب (4) فبينما هم على ذلك وجد الرجل ألم الجراح فأهوى بيده إلى كنانته فانتزع منها سهمًا فانتحر به فاشتد (5) رجل من المسلمين إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا نبي الله قد صدق الله حديثك قد انتحر فلان فقتل نفسه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আত্মরক্ষা করা এবং মৃত্যুর বিপজ্জনক স্থান পরিহার করা ওয়াজিব।
৩৬। আবূ ইমরান জাওনী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন পারস্যের দিকে যুদ্ধ করছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন এক সাহাবী (রা) আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কেউ বেষ্টনীবিহীন কোন ছাদে রাত্রিযাপন করে অতঃপর সে পড়ে গিয়ে মারা যায়, তবে তার থেকে (আল্লাহ কর্তৃক হেফাজতের) যিম্মাদারী রহিত হয়ে যায়। আর যদি কেউ সাগরের প্রচণ্ড ঢেউয়ের সময় নৌযানে ভ্রমণ করে, অতঃপর মারা যায়, তার থেকে যিম্মাদারী রহিত হয়ে যায়।
(বুখারী, মুসলিম। হাদীসটির বরাত হজ্জের পর্বে সফরের পাথেয় এবং বাহন শীর্ষক পরিচ্ছেদে প্রদত্ত হয়েছে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وجوب المحافظة على النفس وتجنب ما يظن فيه هلاكها
عن أبي عمران الجوني قال حدثني بعض أصحاب محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم وغزونا نحو فارس فقال قال رسول الله صلى الله صلى الله عليه وسلم من بات فوق بيتٍ ليس له إجار (7) فوقع فمات فقد برئت منه الذمة (8)، ومن ركب البحر عند ارتجاجه (9) فمات فقد برئت منه الذمة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আত্মরক্ষা করা এবং মৃত্যুর বিপজ্জনক স্থান পরিহার করা ওয়াজিব।
৩৭। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) কাত হয়ে পড়া একটি দেয়াল অতিক্রম করছিলেন। তিনি সেখান থেকে খুব দ্রুত হেঁটে চলে গেলেন। তাঁকে তার কারণ জিজ্ঞাসা করা হল? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি আকস্মিক মৃত্যুকে ভয় করি।
(হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ এবং আবু ইয়ালা হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সনদ দূর্বল।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وجوب المحافظة على النفس وتجنب ما يظن فيه هلاكها
عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم مر بجدارٍأو حائطٍ مائل فأسرع المشي فقيل له، فقال إني أكره موت الفوات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আত্মরক্ষা করা এবং মৃত্যুর বিপজ্জনক স্থান পরিহার করা ওয়াজিব।
৩৮। হুযায়ফা ইবন ইয়ামান (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, কোন মুসলিমের উচিৎ নয় নিজেকে লাঞ্চিত করা। বলা হল, কিরূপে সে নিজেকে লাঞ্চিত করে? তিনি বললেন, সে (স্বেচ্ছায়) এরূপ বিপদের মুখোমুখি হয় যাতে ধৈর্য ধারণ করতে সে সক্ষম নয়।
(তিরমিযী, ইবন মাজাহ, আবু ইয়ালা, তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর, তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান, গরীব)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وجوب المحافظة على النفس وتجنب ما يظن فيه هلاكها
عن حذيفة بن اليمان عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا ينبغي لمسلمٍ أن يذل نفسه، قيل وكيف يذل نفسه؟ قال يتعرض من البلاء لما لا يطيق
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ যে সকল প্রাণী হত্যা করা জায়েয এবং যে সকল প্রাণী হত্যা করা জায়েয নয় সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)র-কর্তৃক ক্ষতিকর প্রাণীসমূহকে হত্যা করার আদেশ।
৩৯। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মক্কার হারামে পাঁচটি ক্ষতিকর প্রাণী হত্যা করা যাবে: বিচ্ছু, ইঁদুর, চিল, হিংস্র কুকুর এবং কাক। অন্য এক বর্ণনায় আছে: ধূসর বর্ণের কাক।
(হাদীসটির এবং এর পরবর্তী হাদীস (৪০-এর) উৎস বর্ণিত হয়েছে হজ্জ পর্বের হজ্জ বা ওমরার এহরামরত অবস্থায় যে সকল প্রাণী হত্যা করা বৈধ, শীর্ষক পরিচ্ছেদে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب ما يجوز قتله من الحيوان وما لا يجوز

باب الأمر بقتل الفواسق من الحيوان
عن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم خمس فواسق يقتلن في الحرم العقرب والفأرة. والحديا، والكلب العقور والغراب (وفي لفظ) الغراب الأبقع
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ যে সকল প্রাণী হত্যা করা জায়েয এবং যে সকল প্রাণী হত্যা করা জায়েয নয় সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)র-কর্তৃক ক্ষতিকর প্রাণীসমূহকে হত্যা করার আদেশ।
৪০। ওয়াবরা (র) ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইঁদুর, কাক এবং নেকড়ে বাঘ হত্যা করতে আদেশ করেছেন। তিনি বলেন, ইবন উমর (রা) কে বলা হল, সাপ এবং বিচ্ছু কি হত্যা করা যাবে? তিনি বললেন, তা হত্যা করতে বলা হত।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب ما يجوز قتله من الحيوان وما لا يجوز

باب الأمر بقتل الفواسق من الحيوان
عن وَبَرَة عن ابن عمر قال: أمَر رسول الله -صلي الله عليه وسلم - بقتل الفأرة، والغراب، والذئب، قال: قيل لابن عمر: الحَيّة والعقرب؟، قال: قد كان يُقَال ذلك.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ যে সকল প্রাণী হত্যা করা জায়েয এবং যে সকল প্রাণী হত্যা করা জায়েয নয় সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)র-কর্তৃক ক্ষতিকর প্রাণীসমূহকে হত্যা করার আদেশ।
৪১। আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আদেশ করেছেন। এ হাদীসের এক বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া বলেন, দু'টি কালো প্রাণী হল- সাপ এবং বিচ্ছু।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান, হাকিম। তিরমিযী বলেছেন, আবূ হুরায়রা (রা)-এর হাদীস হাসান, সহীহ।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب ما يجوز قتله من الحيوان وما لا يجوز

باب الأمر بقتل الفواسق من الحيوان
عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بقتل الأسودين في الصلاة قال يحيى والأسودان الحية والعقرب