মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৪৪ টি

হাদীস নং: ৩২১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শরীয়তে নির্দিষ্ট করা হয়নি এমন শাস্তির পরিমাণ এবং অভিযোগের ভিত্তিতে বন্দী করে রাখার প্রসঙ্গ।
৩২১। মুআবিয়া ইবন হাইদাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) কোন অভিযোগে আমার গোত্রের কিছু লোককে ধরে বন্দী করলেন। আমার গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে তাঁর সাহাবীগণ (রা)- কে উপদেশ দেয়ার সময় এসে বলল, হে মুহাম্মদ আপনি কেন আমার প্রতিবেশীদেরকে বন্দী করে রাখছেন? নবী (ﷺ) তার কথার কোন উত্তর দেয়া থেকে নীরব থাকলেন। সে বলল, মানুষ বলে, আপনি মন্দ কাজ করতে নিষেধ করেন, অথচ তা করেন। নবী (ﷺ) বললেন, সে কি বলে? তিনি বলেন, আমি তাঁদের মাঝে অস্পষ্ট করে কথা বললাম এ ভয় করে যে, যদি তিনি তার কথা শুনে আমার গোত্রকে বদ দোয়া দেন তবে তারপর তারা কখনও কৃতকার্য হবে না। নবী (ﷺ) সে কি কথা বলছে তা বুঝতে চেষ্টা করলেন। তিনি তার কথা বুঝার পর বললেন, তারা তা বলেছে বা তাদের থেকে কেউ তা বলেছে? আল্লাহর শপথ, আমি যদি তা করি তবে আমিই সেজন্যে দায়ী হব তারা সে জন্য দায়ী হবে না তোমরা তার প্রতিবেশীদেরকে ছেড়ে দাও।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, হাকিম। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى قدر التعزير والحبس فى التهم
عن بهز بن حكيم بن معاوية (1) عن أبيه عن جده (2) قال أخذ النبى صلى الله عليه وسلم ناسا من قومى فى تهمة فحبسهم، فجاء رجل من قومى (3) إلى النبى صلى الله عليه وسلم وهو يخطب فقال يا محمد علام تحبس جيرتى؟ فصمت النبى صلى الله عليه وسلم عنه، فقال إن ناسا ليقولون إنك تنهى عن الشر وتستخلى (4) به، فقال النبى صلى الله عليه وسلم ما يقول؟ قال فجعلت أعرَّض (5) بينهما بالكلام مخافة أن يسمعها فيدعو على قومى دعوة لا يفلحون بعدها أبدًا. فلم يزل النبى صلى الله عليه وسلم به حتى فهمها، فقال قد قالوها أو قائلها منهم؟ والله لو فعلت لكان علىّ (6) وما كان عليهم خلوا له عن جيرانه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বিদ্রোহী ও দস্যুদের সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে।
৩২২। আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উকল গোত্রের আট ব্যক্তি নবী (ﷺ)- এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করল। তারা রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণে মদীনায় অবস্থান করা অপছন্দ করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে যাকাতের উটের কাছে যাওয়ার আর তার পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা তা করল এবং সুস্থ হল। অতঃপর তারা ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করল এবং রাখালদেরকে হত্যা করে উটগুলো তাড়িয়ে নিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সন্ধানে একদল লোক পাঠালেন, যারা পদচিহ্ন দেখে তাদের বের করবে। তাদেরকে ধরে আনা হল। তিনি তাদের হাত এবং পা কাটলেন। তিনি তাদের কর্তিত স্থানে রক্তপড়া বন্ধ করার জন্য লোহার দাগ দিলেন না। অবশেষে তাদের মৃত্যু হয়। তিনি তাদের চোখও ফুঁড়ে দিলেন।
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনাসূত্রে বর্ণিত হয়েছে, উকল গোত্রের আট ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁর হাতে ইসলামের বাইআত গ্রহণ করল। মদীনার জমিন তাদের পক্ষে স্বাস্থ্যসম্মত হল না। তাদের শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ল। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে অভিযোগ করল। অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন যার শেষে আছে, অতঃপর তাদেরকে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রোদে ফেলে রাখা হল।
আর তাঁর থেকে তৃতীয় এক বর্ণনা সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মত বর্ণিত হয়েছে। আর তাতে আছে, তিনি তাদের হাত এবং পা বিপরীত দিক থেকে কাটলেন, গরম লোহা দিয়ে তাদের চোখ ফুঁড়ে দিলেন, আর তাদেকে কালো পাথর পূর্ণ ভূমিতে ফেলে রাখলেন। আনাস (রা) বলেন, আমি তাদের একজনকে দেখেছি মুখ দিয়ে মাটি কামড়াচ্ছে এমনকি তারা মারা গেল।
তিনি অন্য এক বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ করেন যে, কাতাদা (র) মুহাম্মদ ইবন সীরীন (র) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে এ শাস্তি দেন শরয়ী শাস্তি অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে।
(বুখারী, মুসলিম, শাফিয়ী, বায়হাকী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى المحاربين وقطاع الطريق
عن أنس بن مالك (7) قال قدم على النبى صلى الله عليه وسلم ثمانية نفر من عكل (8) فأسلموا فاجتووا المدينة (9) فأمرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يأتوا إبل الصدقة فيشربوا من أبوالها وألبانها (10) ففعلوا فصحوا فارتدوا (11) وقتلوا رعاتها أو رعاءها وساقوها (12) فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم فى طلبهم قافة (13) فأتى بهم فقطع أيديهم وأرجلهم ولم يحسمهم حتى ماتوا وسمل (1) أعينهم (وعنه من طريق ثان) (2) أن نفرا من عكل ثمانية قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم وبايعوه على الإسلام فاستوخموا (3) الأرض فسقمت أجسامهم فشكوا ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر نحوه، وفى آخره ثم نبذوا فى الشمس حتى ماتوا (وعنه من طريق ثالث) (4) بنحوه وفيه) فقطع أيديهم وأرجلهم من خلاف وسمر أعينهم وألقاهم بالحرة (5) قال أنس قد كنت أرى أحدهم يكدم (6) الأرض بفيه حتى ماتوا (زاد فى رواية) قال قتادة عن محمد بن سيرين انما كان هذا قبل أن تنزل الحدود
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ যাদু, ভাগ্য গণনা এবং জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ : যাদুর বাস্তবতা, তার ক্রিয়া আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় প্রকাশ পাওয়া আর এতে অন্যরকম বিশ্বাস স্থাপনকারীর প্রতি হুঁশিয়ারী বাণী।
৩২৩। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুরাইক গোত্রের লাবীদ ইবন আ'সম নামক জনৈক ইহুদী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যাদু করল। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ধারণা করতেন যে, তিনি এরূপ একটি কাজ করছেন, অথচ তা করছেন না। তিনি বলেন, এমনকি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন একদিন বা এক রাতে দু'আ করলেন। অতঃপর দু'আ করলেন। অতঃপর বললেন, হে আয়েশা তুমি বুঝতে পেরেছ কি যে আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট যে বিষয়ে জানতে চেয়েছি তিনি আমাকে তা অবহিত করেছেন? আমার নিকট দু'ব্যক্তি আসল। তাঁদের একজন আমার মাথার নিকট এবং অন্যজন আমার পায়ের নিকট বসল। যে ব্যক্তি আমার মাথার নিকট ছিল সে আমার পায়ের নিকটের ব্যক্তিকে বা যে ব্যক্তি আমার পায়ের নিকট ছিল সে আমার মাথার নিকটের ব্যক্তিকে বলল, এ ব্যক্তির কি যন্ত্রনা? সে বলল, তাকে যাদু করা হয়েছে। সে বলল, তাকে কে যাদু করেছে? সে বলল, লাবীদ ইবন আসম। সে বলল, কোন বস্তুতে যাদু করেছে? সে বলল, চিরুনি ও চিরুনিতে উঠে আসা চুলে এবং নর খেজুর গাছের ফুলের কোষে। সে বলল, তা কোথায়? সে বলল, আরওয়ান কূপে। তিনি বলেন, তিনি তাঁর কতিপয় সাহাবী (রা) কে নিয়ে কূপটির নিকট আসলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, নবী (ﷺ) কূপটির নিকট গিয়ে তার দিকে তাকালেন এবং তার পার্শ্ববর্তী খেজুর গাছ দেখলেন। অতঃপর তিনি এসে বললেন, হে আয়েশা! তার পানি মেহেদি ভিজানো পানির মত লাল এবং তার পার্শ্ববর্তী খেজুর গাছের মাথা শয়তানের মত। আমি বললাম, আপনি কেন তা জ্বালিয়ে দেননি? অন্য এক বর্ণনায় আছে: আপনি সেটা জ্বালিয়ে দিন। তিনি বললেন, না, আল্লাহ তা'আলা আমাকে সুস্থ করেছেন। আর আমি যাদুর বিষয় প্রকাশ করে মানুষের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করা অপছন্দ করেছি। তিনি বলেন, তিনি কূপটিকে ভরাট করতে নির্দেশ দিলেন। আর তা ভরাট করে দেওয়া হল।
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছয় মাস পর্যন্ত ধারণা করতেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট আসছেন, অথচ তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট আসছেন না। তাঁর নিকট দু'জন ফেরেশতা (আ) আসলেন। তাঁদের একজন তাঁর মাথার নিকট আর অন্য জন তাঁর পায়ের নিকট বসলেন। তাঁদের একজন অন্যজনকে বললেন, তাঁর অবস্থা কি? তিনি বললেন, তাঁকে যাদু করা হয়েছে। তিনি বললেন, তাঁকে কে যাদু করেছে? তিনি বললেন, লাবীদ ইবন আ'সম। তিনি বললেন, কিসে যাদু করেছে? তিনি বললেন, চিরুনি ও চিরুনিতে উঠে আসা চুলে নর খেজুর গাছের ফুলের কোষে যারওয়ান কূপের নীচে স্থাপিত পাথরের নীচে। নবী (ﷺ) ঘুম থেকে জেগে বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি অবগত হওনি আমি আল্লাহর নিকট যে বিষয়ে জানতে চেয়েছি তিনি আমাকে তা অবহিত করেছেন। তিনি কূপটির নিকট এসে তা বের করতে নির্দেশ দিলেন। তা বের করা হল। তিনি বললেন, এই সেই কূপ যা আমাকে দেখানো হয়েছে। আল্লাহর শপথ! তার পানি মেহেদি ভিজানো পানির মত লাল, এবং তার পার্শ্ববর্তী খেজুর গাছের মাথা শয়তানের মত। আয়েশা (রা) বললেন, যদি আপনি ঝাঁড় ফুক করতেন। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তা'আলা আমাকে তা থেকে আরোগ্য দান করেছেন। তাই আমি তা প্রকাশ করে মানুষের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করতে অপছন্দ করছি।
তাঁর থেকে তৃতীয় এক বর্ণনা সূত্রে উপরোক্ত বর্ণনার ন্যায় বর্ণিত হয়েছে, আর তাতে রয়েছে যে তিনি বললেন, সে চিরুনি ও চিরুনি দিয়ে আচড়ানোর সময় পড়ে যাওয়া চুল এবং পুরুষ খেজুর গাছের কাঁদির আবরণে যাদু করেছে তিনি বললেন, তা কোথায়? তিনি বললেন, আরওয়ান কূপে। আর তাতে রয়েছে: আয়েশা (রা) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তা মানুষকে দেখানোর জন্য বের করেছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে আরোগ্য দান করেছেন। তাই আমি তা বের করে মানুষের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করতে অপছন্দ করেছি।
(বুখারী, মুসলিম, শাফেয়ী, বায়হাকী এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب السحر والكهانة والتنجيم

باب ما جاء فى ثبوت السحر وتأثيره بإرادة الله تعالى ووعيد من صدقه بغير ذلك
عن عائشة رضى الله عنها (8) قالت سحر رسول الله صلى الله عليه وسلم يهودى من يهود بنى زريق (9) يقال له لبيد بن الأعصم حتى كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخيل إليه أنه يفعل الشئ وما يفعله (1) قالت حتى إذا كان ذات يوم أو ذات ليلة دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم دعا (2) قال يا عائشة شعرت أن الله عز وجل قد أفتانى فيما استفتيته فيه (3)، جاءنى رجلان (4) فجلس أحدهما عند رأسى والآخر عند رجليّ (5) فقال الذى عند رأسى للذى عند رجلي أو الذى عند رجلى للذى عند رأسى (6) ما وجع الرجل؟ قال مطبوب (7)، قال من طبه قال لبيد بن الأعصم، قال فى أى شئ؟ قال فى مشط (8) ومشاطة وجف (9) طلعةٍ ذكرٍ، قال وأين هو؟ قال فى بئر أروان (10)، قالت فأتاها فى ناس من أصحابه (وفى لفظ فذهب النبى صلى الله عليه وسلم إلى البئر فنظر إليها وعليها نخل) ثم جاء فقال يا عائشة كأن ماءها نقاعة (1) الحناء ولكأن نخلها رءوس الشياطين (2)، قلت يا رسول الله فهلا أحرقته؟ وفى لفظ فأحرقه (3) قال لا، أمّا أنا فقد عافانى الله عز وجل وكرهت أن أثير على الناس منه شرا، قالت فأمر بها فدفنت (وعنها من طريق ثان) (4) قالت لبث رسول الله صلى الله عليه وسلم ستة أشهر (5) يرى أنه يأتى ولا يأتى فأتاه ملكان فجلس أحدهما عند رأسه والآخر عند رجليه فقال أحدهما للاخر ما باله؟ قال مطبوب، قال من طبه؟ قال لبيد بن الأعصم، قال فيم؟ قال فى مشط ومشاطة فى جف طلعةٍ ذكر فى بئر ذروان تحت رعوفة (6) فاستيقظ النبى صلى الله عليه وسلم من نومه (7) فقال أى عائشة ألم ترى (8) أن الله أفتاني فيما استفتيته فأتى البئر فأمر به فأخرج (1) فقال هذه البئر التى أريتها والله كأن ماءها نقاعة الحناء وكأن رءوس نخلها رءوس الشياطين فقالت عائشة لو أنك كأنها تعنى أن ينتشر (2)، قال أما والله قد عافانى الله وأنا أكره أن أثير على الناس منه شرا (وعنها من طريق ثالث) بنحوه (3) وفيه قال فى مشط ومشاطة وجب (4) أو جف طلعة ذكر قال فأين هو؟ قال فى ذى أروان (5) - وفيه قالت عائشة فقلت يا رسول الله فأخرجته للناس؟ فقال امّا (6) الله عز وجل فقد شفانى وكرهت أن أثور (7) على الناس منه شرا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ যাদু, ভাগ্য গণনা এবং জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ : যাদুর বাস্তবতা, তার ক্রিয়া আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় প্রকাশ পাওয়া আর এতে অন্যরকম বিশ্বাস স্থাপনকারীর প্রতি হুঁশিয়ারী বাণী।
৩২৪। যায়িদ ইবন আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ইহুদী নবী (ﷺ)-কে যাদু করল। তিনি তাতে কিছু দিন অসুস্থ থাকলেন। তিনি বলেন, জিবরাঈল (আ) এসে বললেন, জনৈক ইয়াহুদী চুলে কতগুলো গিরা দিয়ে এরূপ কূপে আপনাকে যাদু করেছে। আপনি সেখানে কাউকে পাঠান যে তা নিয়ে আসবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রা)-কে পাঠালেন। তিনি তা বের করে এনে খুললেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে দাঁড়ালেন যেন তাকে বাঁধন মুক্ত করা হয়েছে। আর তিনি সে জন্য ইহুদীকে কোন কিছু বলেননি। আর ইহুদী ও তার মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি তাঁর অসন্তুষ্ট হওয়া উপলব্ধি করতে পারেনি।
(নাসাঈ, ইবনে সা'দ। হাফিয ইবন হাজার বলেছেন, হাকিম এবং আবদ ইবন হুমাইদ, হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে এর সমর্থক হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন, তাবারানী হাদীসটিকে একাধিক সনদে বর্ণনা করেছেন। এর এক সনদের বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب السحر والكهانة والتنجيم

باب ما جاء فى ثبوت السحر وتأثيره بإرادة الله تعالى ووعيد من صدقه بغير ذلك
عن زيد بن أرقم (8) قال سحر النبى صلى الله عليه وسلم رجل من اليهود قال فاشتكى لذلك أياما قال فجاء جبريل عليه السلام فقال إن رجلا من اليهود سحرك عقد لك عقدا عقدا (9) فى بئر كذا وكذا (10) فأرسل إليها من يجيء بها فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عليا رضى الله عنه فاستخرجها بها فحللها قال فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم كأنما نشط (11) من عقال فما ذكر لذلك اليهودى ولا رآه فى وجهه قط حتى مات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ যাদু, ভাগ্য গণনা এবং জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ : যাদুর বাস্তবতা, তার ক্রিয়া আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় প্রকাশ পাওয়া আর এতে অন্যরকম বিশ্বাস স্থাপনকারীর প্রতি হুঁশিয়ারী বাণী।
৩২৫। আমরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়েশা (রা) অসুস্থ হলেন। আর তাঁর অসুস্থতা দীর্ঘ হল। জনৈক চিকিৎসক মদীনায় আগমন করলে তার ভাতিজারা তার কাছে গিয়ে তাঁর ব্যধি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। সে বলল, আল্লাহ শপথ! তোমরা যাদুগ্রস্থ মহিলার বর্ণনা দিচ্ছ। সে বলল, এই মহিলাকে তাঁর ক্রীতদাসী যাদু করেছে। ক্রীতদাসীটি বলল, হাঁ। আমি আপনার মৃত্যুর কামনা করেছি যাতে আমি আযাদ হতে পারি। তিনি বলেন, আয়েশা (রা) কথা দিয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুর পর সে আযাদ হয়ে যাবে। আয়েশা (রা) বললেন, তোমরা তাকে আরবের অধিকতর কঠোর মনিবের নিকট বিক্রয় করবে। আর তার বিক্রিমূল্য তার মত ক্রীতদাসীতে ব্যয় করবে।
(হাদীসটির উৎস গোলাম আযাদ করার পর্বে, “মনিবের গোলামকে তার মৃত্যুর পর আযাদ করা, আর প্রয়োজনে তার ঐ গোলামকে বিক্রয় করা” শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب السحر والكهانة والتنجيم

باب ما جاء فى ثبوت السحر وتأثيره بإرادة الله تعالى ووعيد من صدقه بغير ذلك
عن عمرة (2) قال اشتكت عائشة رضى الله عنها فطال شكواها، فقدم انسان المدينة يتطبب فذهب بنو أخيها يسألونه عن وجعها فقال والله إنكم تنعتون نعت امرأة مطبوبة، قال هذه امرأة مسحورة سحرتها جارية لها، قالت نعم أردت أن تموتى فأعتق، قالت وكانت مدبّرة قالت بيعوها فى أشد العرب ملكة واجعلوا ثمنها فى مثلها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ যাদু, ভাগ্য গণনা এবং জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ : যাদুর বাস্তবতা, তার ক্রিয়া আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় প্রকাশ পাওয়া আর এতে অন্যরকম বিশ্বাস স্থাপনকারীর প্রতি হুঁশিয়ারী বাণী।
৩২৬। আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পাঁচ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, মদ্যপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি, যাদুতে বিশ্বাসকারী, আত্মীয়তা ছিন্নকারী, জ্যোতিষী এবং খোঁটাদানকারী।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। এর সনদে মানদাল ইবন আলী এবং আতীয়া আউফী আছেন। তাঁরা দূর্বল বর্ণনাকারী। পরবর্তী হাদীস এ হাদীসটিকে শক্তিশালী করে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب السحر والكهانة والتنجيم

باب ما جاء فى ثبوت السحر وتأثيره بإرادة الله تعالى ووعيد من صدقه بغير ذلك
عن أبى سعيد الخدرى (3) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يدخل الجنة صاحب خمس (4) مدمن خمر، ولا مؤمن بسحر (5) ولا قاطع رحم (6)، ولا كاهن (7)، ولا منان
হাদীস নং: ৩২৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ যাদু, ভাগ্য গণনা এবং জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ : যাদুর বাস্তবতা, তার ক্রিয়া আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় প্রকাশ পাওয়া আর এতে অন্যরকম বিশ্বাস স্থাপনকারীর প্রতি হুঁশিয়ারী বাণী।
৩২৭। আবূ মূসা আশয়ারী (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, মদ্যপানে অভ্যস্থ ব্যক্তি, আত্মীয়তা ছিন্নকারী এবং যাদুতে বিশ্বাসকারী। যদি কোন ব্যক্তি মদ্য পানে অভ্যস্ত অবস্থায় মারা যায় আল্লাহ তাকে যেনাকারী মহিলাদের লজ্জা স্থান থেকে নির্গত পানি পান করাবেন।
(তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর, হাকিম, ইবন হিব্বান। হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب السحر والكهانة والتنجيم

باب ما جاء فى ثبوت السحر وتأثيره بإرادة الله تعالى ووعيد من صدقه بغير ذلك
عن أبى موسى الأشعرى (9) أن النبى صلى الله عليه وسلم قال ثلاثة لا يدخلون الجنة، مدمن خمر، وقاطع رحم، ومصدق بالسحر ومن مات مدمنا للخمر سقاه الله من نهر الغوطة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ যাদু, ভাগ্য গণনা এবং জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ : যাদুর বাস্তবতা, তার ক্রিয়া আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় প্রকাশ পাওয়া আর এতে অন্যরকম বিশ্বাস স্থাপনকারীর প্রতি হুঁশিয়ারী বাণী।
৩২৮। উসমান ইবন আবুল আস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, দাউদ নবী (ﷺ) (আ) রাতের কোন এক সময় উঠে তাঁর পরিবারকে সজাগ করে বলতেন, হে দাউদ (আ)-এর পরিবার! তোমরা উঠে নামায পড়। কেননা এই সময় আল্লাহ যাদুকারী এবং কর উসুলকারী ছাড়া সকলের দু'আ কবুল করেন।
(হাদীসটি ক্রয়-বিক্রয় এবং উপার্জনের পর্বে কর উসুলকারীর উপার্জন শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب السحر والكهانة والتنجيم

باب ما جاء فى ثبوت السحر وتأثيره بإرادة الله تعالى ووعيد من صدقه بغير ذلك
عن عثمان بن أبى العاص (1) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كان لداود نبى الله عليه السلام من الليل ساعة يوقظ فيها أهله فيقول يا آل داود قوموا فصلوا فان هذه ساعة يستجيب الله فيها الدعاء إلا لساحر وعشار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যাদুকরের হদ্দ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
৩২৯। বাজালাহ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আহনাফ ইবন কইস (র)-এর চাচা জায ইবন মুআবিয়া (র)-এর অনুলেখক ছিলাম। উমর (রা)-এর মৃত্যুর এক বৎসর পূর্বে আমাদের কাছে তাঁর ফরমান আসল, তোমরা প্রত্যেক পুরুষ এবং মহিলা যাদুকরকে হত্যা করবে, বিবাহ করা হারাম এমন মহিলাকে বিবাহকারী সকল অগ্নি পূজারীকে তার স্ত্রী থেকে পৃথক করবে, আর তারা খাওয়ার সময় যে বিশেষ শব্দ করে তাদের তা করতে নিষেধ করবে। তখন আমরা তিনজন যাদুকরকে হত্যা করলাম। (আর সূরা নিসার ২৩ নম্বর আয়াত অনুযায়ী) বিবাহ করা হারাম এমন মহিলাকে বিবাহকারী অগ্নিপূজারী পুরুষ এবং তার স্ত্রীকে পৃথক করলাম। জায (র) বিপুল খাবার প্রস্তুত করলেন, নিজ উরুর উপর তলোয়ার রাখলেন আর অগ্নি পূজারীদেরকে জিযিয়া আদায় করার নির্দেশ দিলেন। তারা তাঁর সামনে এক খচ্চরের বা দু' খচ্চরের বোঝা পরিমাণ রৌপ্য মুদ্রা রাখল। আর তারা বিশেষ শব্দ না করে খাবার খেল। উমর (রা) অগ্নিপূজারীদের থেকে জিযিয়া নেননি যে পর্যন্ত না আব্দুর রহমান ইবন আউফ সাক্ষ্য দেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজারের অগ্নি পূজারীদের থেকে জিযিয়া গ্রহণ করেছেন।
ইমাম আহমদ বলেন, সুফইয়ান ইবন উয়াইনা বলেছেন, বাজালাহ মুসয়াব ইবন জুবাইর (র)-এর সাথে সত্তর হিজরীতে হজ্জ পালন করেন।
(আবূ দাউদ এবং বায়হাকী হাদীসটিকে অনুরূপ দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন। আর বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ এবং শাফিয়ী সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন, শাফিয়ী বলেছেন, বাজালাহর হাদীস ধারাবাহিক এবং সুপ্রমাণিত।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى حد الساحر
حدّثنا سفيان (2) عن عمرو سمع بجالة (3) يقول كنت كاتبا لجزء (4) بن معاوية عم الأحنف بن قيس فأتانا كتاب عمر قبل موته بسنة أن اقتلوا كل ساحر، وربما قال سفيان وساحرة، وفرقوا بين كل ذى محرم من المجوس (5) وانهرهم عن الزمزمة (6) فقتلنا ثلاثة سواحر وجعلنا نفرق بين الرجل وبين حريمته فى كتاب الله (7) وصنع جزء طعاما كثيرا وعرض السيف على فخذه ودعا المجوس (8) فألقوا وقر بغل أو بغلين من ورق فأكلوا من غير زمزمة ولم يكن عمر أخذ وربما قال سفيان قبل الجزية من المجوس حتى شهد عبد الرحمن بن عوف أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذها من مجوس هجر (1) وقال أبى (2) قال سفيان حج بجاله مع مصعب سنة سبعين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ভাগ্য গণনা, এর উৎস এবং গণক কোন কোন বিষয়ে কিরূপে সত্য বলে।
৩৩০। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূরুল্লাহ তাঁর একদল আনসার সাহাবী (রা) এর সাথে বসা ছিলেন। এ সময় একটি বড় তারকা নিক্ষিপ্ত হল, আর চতুর্দিক আলোকিত হল। তিনি বললেন, যদি ইসলাম পূর্ব যুগে এরূপ তারকা নিক্ষিপ্ত হতে দেখলে কী বলতে হত? তিনি বললেন, আমরা বলতাম, একজন মহান ব্যক্তির জন্ম হবে বা একজন মহান ব্যক্তির মৃত্যু হবে। এ হাদীসের এক বর্ণনাকারী মা'মার বলেন, আমি যুহরী (র)-কে বললাম, ইসলাম পূর্ব যুগে তা কি নিক্ষেপ করা হত? তিনি বললেন, হাঁ, কিন্তু তা বৃদ্ধি পায় যখন নবী (ﷺ) নবুয়াত প্রাপ্ত হন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কারো মৃত্যুতে বা কারো জন্ম গ্রহণে তা নিক্ষেপ করা হয় না। যদি আমাদের মহিমান্বিত প্রভু কোন বিষয়ের ফয়সালা করেন তাহলে আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ (আ) তাসবীহ পড়েন। অতঃপর তাদের নিকটবর্তী আসমানবাসী ফেরেশতাগণ (আ) তাসবীহ পড়েন। সবশেষে প্রথম আসমানবাসী ফেরেশতাগণ (আ) তাসবীহ পড়েন। অতঃপর আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের কাছে তাদের নিকটবর্তী ফেরেশতাগণ তা জানতে চান। তারা আরশবাসী ফিরিশতাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আপনাদের প্রভু কি বলেছেন? তাঁরা তাদেরকে তা অবহিত করেন। আর প্রত্যেক আসমানবাসী ফেরেশতাগণ (আ) তাঁদের নিকটবর্তী আসমানবাসী ফেরেশতাগণ (আ)-কে তা অবহিত করেন। পরিশেষে প্রথম আসমানবাসী ফেরেশতাগণ (আ) তা অবহিত হন। জিনেরা আড়ি পেতে দ্রুত তা শুনে ফেলে। তখন তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়। তারা কোন পরিবর্তন করা ছাড়া যা অবহিত করে তা সত্য, তবে তারা তাতে বহু মিশ্রিত করে এবং হাস-বৃদ্ধি করে।
(মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, বায়হাকী)
ইমাম আহমদ হাদীসটিকে আউযায়ীর বর্ণনাসূত্রে ও আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু আনসারী সাহাবী (রা) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- -এর সাথে বসা থাকাকালিন একটি তারকা নিক্ষিপ্ত হল। অবশিষ্ট হাদীসটি প্রথম বর্ণনার মত। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাতে বলেছেন, "যখন আমাদের প্রভু কোন বিষয়ের ফয়সালা করেন তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ (আ) তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করেন। অতঃপর তাদের নিকটবর্তী ফেরেশতাগণ (আ) তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করেন। এমনকি প্রথম আসমানের ফেরেশতাগণ (আ)ও তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করেন। অতঃপর আরশ বহনকারী ফেরেশতাদেরকে তাদের নিকটবর্তী ফেরেশতাগণ বলেন, আপনাদের প্রভু কি বলেছেন। তিনিই সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মহান। আর তাঁরা বলেন, তিনি এরূপ এরূপ বলেছেন। আসমানবাসী ফেরেশতাগণ একে অপরকে তা অবহিত করেন। এমনকি প্রথম আসমানবাসী ফেরেশতাগণ তা অবহিত হন। তিনি বলেন, শয়তানের দল এসে সে সংবাদ কান পেতে শুনে আর তাদের বন্ধুদেরকে জানায়। যদি তারা সে সংবাদ সঠিকভাবে বলে তাহলে তা সত্য। তবে তারা তাতে প্রক্ষেপণ করে এবং বাড়ায়-কমায়”।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى الكهانة وأصل مأخذها وكيف يصدق الكاهن فى بعض الأمور
حدّثنا محمد بن جعفرثنا معمر وعبد الرزاق أنبأنا معمر أنبأنا الزهرى عن على بن حسين (عن ابن عباس) قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم جالسا فى نفر من أصحابه قال عبد الرزاق من الأنصار فرمى بنجم عظيم فاستنار، قال ما كنتم تقولون إذا كان مثل هذا فى الجاهلية؟ قال كنا نقول يولد عظيم أو يموت عظيم، قلت للزهرى أكان يرمى بها فى الجاهلية؟ قال نعم ولكن غلظت حين بعث النبى صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم (4) فانه لا يرمى بها لموت أحد ولا لحياته ولكن ربنا تبارك اسمه اذا قضى أمرا سبح (وفى لفظ سبحه) حملة العرش ثم سبح أهل السماء الذين يلونهم حتى يبلغ التسبيح هذه السماء الدنيا، ثم يستخبر أهل السماء الذين يلون حملة العرش فيقول الذين يلون حملة العرش لحملة العرش ماذا قال ربكم؟ فيخبرونهم، ويخبر أهل كل سماء سماءا حتى ينتهى الخبر الى هذه السماء ويخطف (5) الجن السمع فيرمون، فما جاءوا به على وجهه فهو حق ولكنهم يقذفون (1) ويزيدون (وفى لفظ وينقصون) قال عبد الله (يعنى ابن الامام احمد) قال أبى قال عبد الرزاق (2) وبخطف الجن ويرمون
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ভাগ্য গণনা, এর উৎস এবং গণক কোন কোন বিষয়ে কিরূপে সত্য বলে।
৩৩১। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিনরা অহী শুনত। তারা একটি কথা শুনত এবং তাতে দশটি কথা বাড়াত। তাই তারা যা শুনত তা সত্য হত এবং যা বাড়াত তা মিথ্যা হত। ইতিপূর্বে উল্কা নিক্ষেপ করা হত না। যখন নবী (ﷺ) নবুয়াতপ্রাপ্ত হলেন তখন তাদের কেউ আড় পেতে শোনার স্থানে আসলে তাকে উল্কা নিক্ষেপ করা হত। তার শরীরের যে অংশে তা লাগত তা পুড়ে যেত। তারা ইবলীসের কাছে এর অভিযোগ করল। সে বলল, বিশেষ কোন ঘটনা ঘটবে। তাই এসব হচ্ছে। কোন ঘটনা ঘটবে। তাই এসব হচ্ছে। সে তার সৈন্যদেরকে ছড়িয়ে দিল। তারা নবী (ﷺ)-কে নাখলার দু' পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে নামায পড়তে দেখল। তারা ইবলিসের কাছে আসল আর তাকে তাঁর নামায পড়া সম্পর্কে অবহিত করল। সে বলল, এটাই সে ঘটনা যা পৃথিবীতে ঘটেছে।
(ইবন জারীর তাবারী তাফসীরে, তিরমিযী, নাসাঈ সুনানে সগীরে এবং সুনান কবীরে। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى الكهانة وأصل مأخذها وكيف يصدق الكاهن فى بعض الأمور
عن ابن عباس (3) قال كان الجن يسمعون الوحى فيستمعون الكلمة فيزيدون فيها عشرا فيكون ما سمعوا حقا وما زادوه باطلا وكانت النجوم لا يرمى بها (4) قبل ذلك فلما بعث النبى صلى الله عليه وسلم كان أحدهم لا يأتى مقعده الا رمى بشهاب يحرق ما أصاب (5) فشكوا ذلك الى ابليس فقال ما هذا الا من أمر قد حدث فبث جنوده فاذا هم بالنبى صلى الله عليه وسلم يصلى بين جبلي نخلة (6) فأتوه فأخبروه فقال هذا الحدث الذى حدث فى الارض
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ভাগ্য গণনা, এর উৎস এবং গণক কোন কোন বিষয়ে কিরূপে সত্য বলে।
৩৩২। নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কতিপয় সাহাবী (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে গণকদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদেরকে বললেন, তাদের কথা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, তারা কখনও এমন কথা বলে যা সত্য হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, একজন জিন আড় পেতে দ্রুত একটি সত্য কথা শোনে। আর মুরগির মত তা তার মিত্রের কানে মুখ রেখে বারবার বলে। অতঃপর তারা তার সাথে একশত মিথ্যা মিশ্রিত করে।
(বুখারী, মুসলিম, বায়হাকী এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى الكهانة وأصل مأخذها وكيف يصدق الكاهن فى بعض الأمور
عن عائشة (7) زوج النبى صلى الله عليه وسلم قالت سأل اناس رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الكهان (8) فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ليسوا بشئ (9) فقالوا يا رسول الله انهم يحدثون أحيانا بشئ يكون حقا (1) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم تلك الكلمة من الحق (2) يخطفها الجنى فيقرها (3) فى أذن وليه قر الدجاجة فيخلطون فيها مائة كذبة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : দৈবজ্ঞ বা গণকের কাছে যাওয়ার নিষিদ্ধতা এবং যে তার কাছে যায় ও তার কথা বিশ্বাস করে তার প্রতি সতর্কবাণী।
৩৩৩। আবূ হুরায়রা (রা) এবং হাসান (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) গণকের কাছে যায় আর তার কথা বিশ্বাস করে তাহলে সে মুহাম্মদ বলেছেন, যদি কেউ দৈবজ্ঞ বা -এর উপর অবতীর্ণ কুরআনকে অস্বীকার করে।
(হাকিম, বায়হাকী। যাহাবী বলেছেন হাদীসটির সনদ শক্তিশালী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن اتيان الكاهن أو العراف ووعيد من أتاه وصدقه
عن أبى هريرة والحسن (5) عن النبى صلى الله عليه وسلم قال من أتى كاهنا (6) أو عرافا فصدقه بما يقول (7) فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : দৈবজ্ঞ বা গণকের কাছে যাওয়ার নিষিদ্ধতা এবং যে তার কাছে যায় ও তার কথা বিশ্বাস করে তার প্রতি সতর্কবাণী।
৩৩৪। সফিয়্যা বিনতে আবূ উবায়দ ইবন মাসউদ (রা) নবী (ﷺ)-এর জনৈকা স্ত্রী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে নবী (ﷺ) বলেছেন, যদি কেউ গণকের কাছে যায় এবং তার কথা বিশ্বাস করে তাহলে তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল হয় না।
(মুসলিম, বায়হাকী)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن اتيان الكاهن أو العراف ووعيد من أتاه وصدقه
عن صفية (8) عن بعض ازواج النبى صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم (9) عن النبى صلى الله عليه وسلم قال من أتى عرافا فصدقه بما يقول لم تقبل له صلاة أربعين يومًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : দৈবজ্ঞ বা গণকের কাছে যাওয়ার নিষিদ্ধতা এবং যে তার কাছে যায় ও তার কথা বিশ্বাস করে তার প্রতি সতর্কবাণী।
৩৩৫। মুআবিয়া ইবন হাকাম সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন, আমরা ইসলাম পূর্ব যুগে কিছু কাজ করতাম আপনি আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত করুন। আমরা কোন কিছু থেকে কুলক্ষণ গ্রহণ করতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি তুমি তোমার অন্তরে ঐ কুলক্ষণের অস্তিত্বের টের পাও তবে তা যেন তোমাকে তোমার গন্তব্য থেকে বিরত না রাখে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা গণকদের কাছে যেতাম। তিনি বললেন, তোমরা গণকদের কাছে যাবে না।
(মুসলিম, তাহাবী শরহে মা'আনিল আসার, বায়হাকী এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن اتيان الكاهن أو العراف ووعيد من أتاه وصدقه
عن معاوية بن الحكم السلمى (1) انه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم أرأيت اشياء كنا نفعلها فى الجاهلية، كنا نتطير (2) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك شئ تجده فى نفسك فلا يصدنك (3) قال يا رسول الله كنا نأتى الكهان، قال فلا تأت الكهان
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: গণকদের পারিশ্রমিক এবং গণকদের ঘটনাবলি সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস।
৩৩৬। উকবা ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুকুরের মূল্য, পতিতার আয় এবং গণকদের পারিশ্রমিককে হারাম করেছেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى حلوان الكاهن وأخبار عن الكهان
عن أبى مسعود (4) عقبة بن عامر قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ثمن الكلب ومهر البغى وحلوان الكاهن
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: গণকদের পারিশ্রমিক এবং গণকদের ঘটনাবলি সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস।
৩৩৭। আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে এক সফরে বের হলেন। তাঁরা এক স্থানে খণ্ড খণ্ড দলরূপে অবতরণ করলেন। একদল সফরসংগী অমুকের সাথে এবং অন্য একদল সফর সংগী অমুকের সাথে। আমি আবু বকর (রা)-এর সংগী দলে যুক্ত হয়ে অবতরণ করলাম। জনৈক মরুবাসী বেদুঈন আমাদের সাথে ছিল। আমরা এক বেদুঈন পরিবারের মেহমান হলাম। তাদের একজন মহিলা গর্ভবতী ছিল। দামাদের সংগী বেদুঈনটি তাকে বলল, যদি তুমি আমাকে একটি বকরী দান কর তাহলে তোমার জন্য পুত্র সন্তান প্রসব করা সহজ হবে। সে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করল, আর তাকে একটি বকরী দান করল। সে তার জন্য অনেক ছন্দোবদ্ধ ভাষা ব্যবহার করল। তিনি বলেন, সে বকরীটি যবেহ করল। যখন লোকেরা খাবার খেতে বসল তখন জনৈক ব্যক্তি বলল, আপনারা কি এ বকরী সম্পর্কে অবগত আছেন? সে তাদেরকে তার সম্পর্কে অবগত করল। তিনি বলেন, আমি আবূ বকর (রা) কে দেখলাম সে খাবার ত্যাগ করলেন এবং জোর করে বমি করে তা পেট থেকে বের করলেন।
(ইবন আবি শায়বা। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ উত্তম এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى حلوان الكاهن وأخبار عن الكهان
عن أبى سعيد الخدرى (5) أنهم خرجوا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فى سفر فنزلوا رفقاء، رفقة مع فلان ورفقة مع فلان فنزلت فى رفقة أبى بكر فكان معنا أعرابى من أهل البادية فنزلنا بأهل بيت من الأعراب وفيهم امرأة حامل، فقال لها الأعرابى أيسرك أن تلدى غلاما إن أعطيتنى شاة، فولدت غلاما فأعطته شاة وسجع (6) لها أساجيع قال فذبح الشاة فلما جلس القوم يأكلون قال رجل أتدرون ما هذه الشاة؟ فاخبرهم قال فرأيت أبا بكر متبرئا مستنبلا متقيئا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: গণকদের পারিশ্রমিক এবং গণকদের ঘটনাবলি সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস।
৩৩৮। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, কুরাইশরা জনৈকা গণক মহিলার কাছে এসে তাকে বলল, এই মর্যাদা (নবুওয়াত) যে লাভ করবে, তার সাথে আমাদের মধ্যে কার সাদৃশ্য বেশি? আপনি আমাদেরকে তা অবহিত করুন। সে বলল, যদি তোমরা এই সমতল ভূমিতে কাপড় বিছাও, অতঃপর তার উপর দিয়ে হাঁট তাহলে আমি তোমাদেরকে তা অবহিত করব। কাপড় বিছানো হল। অতঃপর কুরাইশের উপস্থিত লোকেরা তার উপর দিয়ে হাঁটল। সে মুহাম্মদ-এর পদচিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে বলল, তার সাথে এই ব্যক্তিরই সাদৃশ্য বেশি, তারা তারপর বিশ বৎসর বা তার নিকটবর্তী বা আল্লাহ যতকাল চাইলেন কাটাল। অতঃপর তিনি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হলেন।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিমের বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى حلوان الكاهن وأخبار عن الكهان
عن ابن عباس (2) أن قريشا أتوا كاهنة فقالوا لها اخبرينا بأقربنا شبها بصاحب هذا المقام (3)، فقالت ان انتم جررتم كساء على هذه السهلة ثم مشيتم عليها أنبأتكم فجرّ، ثم مشى الناس عليها فأبصرت أثر محمد صلى الله عليه وسلم فقالت هذا أقربكم شبها به، فمكثوا بعد ذلك عشرين سنة او قريبا من عشرين سنة او ما شاء الله ثم بعث صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: গণকদের পারিশ্রমিক এবং গণকদের ঘটনাবলি সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস।
৩৩৯। আবূ বুরদাহ যাফারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, গণকদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে, সে গভীর মনোযোগ সহকারে কুরআন অধ্যায়ন করবে, যেরূপ অধ্যায়ন তারপরে কেউ করবে না।
(হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ, বাযযার এবং তাবারানী আল মু'জামুল কাবীরে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মুআকিব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহর দাদা থেকে। আমি আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পিতা সম্পর্কে অবহিত নই। তবে ইবন আবূ হাতিম আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেছেন এবং বুখারী (র) মু'আকিবের উল্লেখ করেছেন। আর কেউ তাঁদের দোষ তুলে ধরেননি।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى حلوان الكاهن وأخبار عن الكهان
عن ابى بردة الظفرى (4) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يخرج من الكاهنين رجل يدرس (5) القرآن دراسة لا يدرسها أحد يكون بعده
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৪০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : পাখী উড়িয়ে শুভ-অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা, জমিনে রেখা টানা এবং কোন কিছু দিয়ে অশুভ লক্ষণ গ্রহণ প্রসঙ্গ
৩৪০। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জনৈক নবী (ﷺ) জমিনে রেখা টানতেন। যদি কারো বিদ্যা তার বিদ্যা অনুযায়ী হয় তাহলে তার বিদ্যা তাঁর বিদ্যার মত।
(আহমদ আব্দুর রহমান বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট আবু হুরায়রা (রা)- এর হাদীসটি অবগত হইনি। এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিমের বর্ণনাকারী। ইমাম আহমদ এবং মুসলিম মুআবিয়া ইবনুল হাকাম (রা) থেকে এর 'শাহেদ হাদীস' বর্ণনা করেছেন। এর সূত্র এ কিতাবের 'সালাত' পর্বে 'সালাতে কথা বলা হারাম' শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى العيافة والطرق يعنى الخط فى الأرض والطيرة
عن أبى هريرة (6) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كان نبى من الأنبياء (7) يخط فمن وافق علمه (8) فهو علمه
tahqiq

তাহকীক: