মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৪৪ টি
হাদীস নং: ২৪১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : যদি কেউ হদ্দের উপযুক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে, কিন্তু কৃত অপরাধের নাম না বলে তবে তার উপর হদ্দ জারি করা হবে না।
২৪১। ওয়াসিলা ইবন আসকা' (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর প্রদত্ত হদ্দ অপরিহার্য হয় এমন পাপ করেছি। তাই আপনি আমার উপর হদ্দ জারি করুন। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর সে দ্বিতীয়বার তাঁর কাছে আসল, আর তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর সে তৃতীয়বার তা বলল, আর তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর সালাত কায়েম করা হল। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন তখন সে চতুর্থবার তাঁর কাছে এসে বলল, আমি আল্লাহ প্রদত্ত হদ্দ অপরিহার্য হয় এমন একটি পাপ করেছি। তাই আপনি আমার উপর আল্লাহর প্রদত্ত হদ্দ জারি করুন। তিনি তাকে ডেকে বললেন, তুমি কি ভাল করে অযু করনি, অতঃপর আমাদের সাথে নামাযে উপস্থিত হওনি? সে বলল, নিশ্চয়। তিনি বললেন, তুমি চলে যাও, তা তোমার পাপের কাফফারা।
আহমদ আব্দুর রহমান বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। বুখারীতে আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে এর সাক্ষ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এর পরবর্তী হাদীসটিও একে শক্তিশালী করে।
আহমদ আব্দুর রহমান বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। বুখারীতে আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে এর সাক্ষ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এর পরবর্তী হাদীসটিও একে শক্তিশালী করে।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب من أقر بحد ولم يسمه لم يحد
عن واثلة بن الأسقع (4) قال شهدت رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم وأتاه رجل فقال يا رسولا لله إنى أصبت حداً (5) من حدود الله عز وجل فأقم فىّ حد الله فأعرض عنه، ثم أتاه الثانية فأعرض عنه، ثم قالها الثالثة فأعرض عنه، قم أقيمت الصلاة فلما قضى الصلاة أتاه الرابعة فقال إنى أصبت حداً من حدود الله عز وجل فأقم فيّ حد الله عز وجل، قال فدعاه فقال ألم تحسن الطهور أو الوضوء ثم شهدت الصلاة معنا آنفا؟ قال بلى، قال ذاهب فهى كفارتك
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : যদি কেউ হদ্দের উপযুক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে, কিন্তু কৃত অপরাধের নাম না বলে তবে তার উপর হদ্দ জারি করা হবে না।
২৪২। আবু উসামা (রা) থেকে নবী (ﷺ)-এর উপরোক্ত হাদীসের মত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর তাতে রয়েছে: নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন, তুমি কি তোমার ঘর থেকে বের হয়ে সুন্দর করে অযু করনি এবং আমাদের সাথে নামায পড়নি? লোকটি বলল, নিশ্চয়ই। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তোমার হদ্দ বা তিনি বলেছেন তোমার পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন।
মুসলিম তওবা পর্বে, আবু দাউদ শরয়ী পর্বে। এ কিতাবের তাফসীর পর্বে আল্লাহ তা'আলার ইরশাদ,
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
(আর আপনি কায়িম করুন সালাত দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের প্রথম ভাগে। নিশ্চয়ই নেক কাজ দূর করে বদকাজ। এ এক উপদেশ উপদেশ গ্রহণকারীর জন্য। (সূরা হুদ: ১১৪)
এর তাফসীরে হযরত ইবন আব্বাস (রা) ও ইবন মাসউদ (রা)-এর সূত্রে বর্ণিত অনুরূপ হাদীস উদ্ধৃত হবে।
মুসলিম তওবা পর্বে, আবু দাউদ শরয়ী পর্বে। এ কিতাবের তাফসীর পর্বে আল্লাহ তা'আলার ইরশাদ,
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
(আর আপনি কায়িম করুন সালাত দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের প্রথম ভাগে। নিশ্চয়ই নেক কাজ দূর করে বদকাজ। এ এক উপদেশ উপদেশ গ্রহণকারীর জন্য। (সূরা হুদ: ১১৪)
এর তাফসীরে হযরত ইবন আব্বাস (রা) ও ইবন মাসউদ (রা)-এর সূত্রে বর্ণিত অনুরূপ হাদীস উদ্ধৃত হবে।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب من أقر بحد ولم يسمه لم يحد
عن أبى أمامة (7) عن النبى صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم بنحوه (وفيه) فقال له النبى صلى الله عليه وسلم أليس خرجت من منزلك توضأت فأحسنت الوضوء وصليت معنا؟ قال الرجل بلى، قال فإن الله عز وجل قد غفر لك حدك أو ذنبك (8)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যিনার স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করা এবং কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন মহিলার সাথে যিনার স্বীকারোক্তি করা এবং মহিলা কর্তৃক তা অস্বীকার করা প্রসঙ্গ।
২৪৩। জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে সাহাবীগণ (রা) মাইয (রা)-কে পাথর মেরেছিলেন আমি তাদের অন্যতম ছিলাম। যখন আমরা তাকে পাথর মারলাম তখন সে পাথরের আঘাতে ব্যথিত হয়ে বলল। হে লোক সকল, তোমরা আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, কেননা আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে এবং আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। তারা বলেছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে হত্যা করবেন না । তিনি বলেন। আমরা তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে পাথর মারা থেকে বিরত হলাম না। তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ফিরে আসলাম এবং তাঁর কাছে তার কথা উল্লেখ করলাম, তিনি বললেন, তোমরা কেন লোকটিকে পাথর মারা থেকে বিরত হলে না, আর তাকে আমার কাছে নিয়ে আসলে না? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর এ কথা বলার উদ্দেশ্য হল মাইয (রা)-এর যিনা করার বিষয় নিশ্চিত হওয়া।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ উত্তম। বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী আবূ সালামা ইবন আব্দুর রহমানের বর্ণনা সূত্রে জাবির (রা) থেকে এর এক অংশ বর্ণনা করেছেন।)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ উত্তম। বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী আবূ সালামা ইবন আব্দুর রহমানের বর্ণনা সূত্রে জাবির (রা) থেকে এর এক অংশ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب فيما يذكر في الرجوع عن الإقرار - ومن أقر أنه زنى بامرأة فجحدت
عن جابر بن عبد الله (1) قال كنت فيمن رجم الرجل يعنى ماعزاً إنَّا لما رجمناه وجد مس الحجارة فقال أي قوم ردونى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قان قومى قتلونى وغرونى من نفسى وقالوا إن رسول الله صلى الله عليه وسلم غير قاتلك، قال فم ننزع عنه (2) حتى فرغنا منه، قال فلما رجعنا إلى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم ذكرنا له قوله، فقال ألا تركتم الرجل وجئتمونى به (3)؟ إنما أراد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يثبت في أمره (4)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যিনার স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করা এবং কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন মহিলার সাথে যিনার স্বীকারোক্তি করা এবং মহিলা কর্তৃক তা অস্বীকার করা প্রসঙ্গ।
২৪৪। নাছর ইবন দাহর আসলামী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের আসলাম গোত্রের মাইয ইবন খালিদ ইবন মালিক (রা) নামের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে যিনার করার কথা স্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে তাকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। আমরা নিয়ার বংশের কালো পাথুরে ভূমিতে বের হলাম এবং তাকে পাথর মারলাম। যখন সে পাথরের আঘাত প্রাপ্ত হল তখন প্রচণ্ড অস্থিরতা প্রকাশ করল। যখন আমরা তাকে হত্যা করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ফিরে আসলাম এবং তাঁকে তার অস্থিরতার কথা জানালাম। তিনি বললেন, তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?
(হাফিয ইবন হাজর আল ইসাবায় নাছর ইবন দাহার আসলামী (রা)-এর জীবনীতে হাদীসটি উল্লেখ করে নাসাঈর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, আর এর সনদকে উত্তম বলেছেন।)
(হাফিয ইবন হাজর আল ইসাবায় নাছর ইবন দাহার আসলামী (রা)-এর জীবনীতে হাদীসটি উল্লেখ করে নাসাঈর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, আর এর সনদকে উত্তম বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب فيما يذكر في الرجوع عن الإقرار - ومن أقر أنه زنى بامرأة فجحدت
عن أبي الهيثم (1) بن نصر بن دهر الأسلمى عن أبيه قال أتى ماعز بن خالد (2) بن مالك رجل (3) منا رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم فاستودى (4) على نفسه بالزنا فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم برجمه فخرجنا إلى حرة (5) بنى نيار فرجمناه فلما وجد مس الحجارة جزع جزعاً شديداً: فلما فرغنا منه ورجعنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكرنا له جزعة فقال هلا تركتموه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যিনার স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করা এবং কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন মহিলার সাথে যিনার স্বীকারোক্তি করা এবং মহিলা কর্তৃক তা অস্বীকার করা প্রসঙ্গ।
২৪৫। আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আমর কুরাশী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে জনৈক সাহাবী (রা) বর্ণনা করেছেন, যিনি নবী (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত ছিলেন, যখন মক্কা মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে জনৈক ব্যক্তিকে পাথর মেরে হত্যা করার আদেশ করেন। তিনি বলেন, যখন সে পাথরের আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তখন পালাতে শুরু করল। (অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, যখন সে পাথরের আঘাত প্রাপ্ত হয়, তখন পাথর মারার স্থান থেকে বের হয়ে পালাতে শুরু করল নবী (ﷺ) তা অবগত হয়ে বললেন, তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?
(আহমদ আব্দুর রহমান বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে একে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ একে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
(আহমদ আব্দুর রহমান বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে একে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ একে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب فيما يذكر في الرجوع عن الإقرار - ومن أقر أنه زنى بامرأة فجحدت
عن عبد العزيز (6) بن عبد الله بن عمرو القرشى قال حدثنى من شهد (7) النبى صلى الله عليه وسلم وأمر برجم رجل بين مكة والمدينة (8) فلما أصابته الحجارة فرّ (وفى لفظ فلما وجد مس الحجارة خرج فهرب) (9) فبلغ ذلك النبى صلى الله عليه وسلم قال فهلا تركتموه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যিনার স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করা এবং কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন মহিলার সাথে যিনার স্বীকারোক্তি করা এবং মহিলা কর্তৃক তা অস্বীকার করা প্রসঙ্গ।
২৪৬। সাহল ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, আসলাম বংশের জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর কাছে এসে বলল, সে অমুক মহিলার সাথে যিনা করেছে। নবী (ﷺ) ঐ মহিলাকে তাঁর কাছে উপস্থিত করার জন্য লোক পাঠালেন। আর সে যা বলেছে তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে তা অস্বীকার করল। তিনি তাকে শরয়ী শাস্তি দিলেন। আর মহিলাটিকে ছেড়ে দিলেন।
(আবূ দাউদ, বায়হাকী, দারে কুতনী, হাকিম। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার কথা সমর্থন করেছেন।)
(আবূ দাউদ, বায়হাকী, দারে কুতনী, হাকিম। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার কথা সমর্থন করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب فيما يذكر في الرجوع عن الإقرار - ومن أقر أنه زنى بامرأة فجحدت
عن سهل بن سعد (10) أن رجلاً من أسلم جاء إلى النبى صلى الله عليه وسلم فقال أنه زنى بامرأة سماها فأرسل النبى صلى الله عليه وسلم إلى المرأة فدعاها فأسلها عما قال فأنكرت فحده وتركها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পাথর মারা শুরু করবে সাক্ষী আর ব্যভিচার যদি ব্যভিচারীর স্বীকারোক্তি দ্বারা প্রমাণ হয়, তবে শুরু করবে দেশের শাসক। বিবাহিত ব্যভিচারীকে পাথর ও চাবুক উভয়ই মারা হবে।
২৪৭। আমির ইবন শারাহীল (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুফা বাসীনী শারাহা হামদানীয়ার স্বামী সিরিয়ার প্রবাসী ছিল, আর সে গর্ভধারণ করল। তার মনিব তাকে আলী (রা)-এর কাছে নিয়ে এসে বলল, এ মহিলা যিনা করেছে। আর সে যিনা করার কথা স্বীকার করল। আলী (রা) বৃহস্পতিবার তাকে একশত চাবুক মারলেন, আর জুমআর দিন তার জন্য তার নাভি পর্যন্ত গর্ত খনন করে তাকে পাথর মেরে হত্যা করলেন। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)র পাথর মারার বিধান প্রবর্তন করেছেন। যদি কেউ এ মহিলার যিনা করার সাক্ষ্য দিত তাহলে সাক্ষীদাতাই প্রথম পাথর মারত এবং তার পাথর তার সাক্ষ্যের অনুগামী হত। কিন্তু এ মহিলা যিনার স্বীকারোক্তি করেছে। তাই আমি তাকে সর্ব প্রথম পাথর মারব। তিনি তাকে পাথর মারলেন। অতঃপর উপস্থিত লোকেরা তাকে পাথর মারল। আমিও তাদের সাথে তাকে পাথর মারলাম। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, আমি তার অন্যতম হত্যাকারী ছিলাম।
আমির ইবন শারাহীল শা'বী (র) থেকে বর্ণিত, শারাহা হামদানীয়া আলী (রা)-এর কাছে এসে বলল, আমি যিনা করেছি। তিনি বললেন, হয়তো তুমি স্বপ্ন দেখেছ যে, তোমার সাথে কেউ যিনা করেছে। হয়তা তোমাকে যিনা করতে বাধ্য করা হয়েছে। (অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, হয়তো তোমার স্বামী তোমার কাছে এসেছে) প্রত্যেকবার সে বলল, না। তিনি বৃহস্পতিবার তাকে চাবুক মারলেন, আর জুমআর দিন পাথর মারলেন, অতঃপর বললেন, আমি তাকে কুরআন অনুযায়ী চাবুক মেরেছি, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী পাথর মেরেছি।
(প্রথম বর্ণনা সূত্রের উৎস, আবু দাউদ, নাসাঈ, দারাকুতনী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ উত্তম। এর মূল বক্তব্য বুখারী এবং মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় বর্ণনা সূত্রের উৎস, হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে একে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ একে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনাকারী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, দারাকুতনী এবং বায়হাকী সবিস্তারে দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন।)
আমির ইবন শারাহীল শা'বী (র) থেকে বর্ণিত, শারাহা হামদানীয়া আলী (রা)-এর কাছে এসে বলল, আমি যিনা করেছি। তিনি বললেন, হয়তো তুমি স্বপ্ন দেখেছ যে, তোমার সাথে কেউ যিনা করেছে। হয়তা তোমাকে যিনা করতে বাধ্য করা হয়েছে। (অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, হয়তো তোমার স্বামী তোমার কাছে এসেছে) প্রত্যেকবার সে বলল, না। তিনি বৃহস্পতিবার তাকে চাবুক মারলেন, আর জুমআর দিন পাথর মারলেন, অতঃপর বললেন, আমি তাকে কুরআন অনুযায়ী চাবুক মেরেছি, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী পাথর মেরেছি।
(প্রথম বর্ণনা সূত্রের উৎস, আবু দাউদ, নাসাঈ, দারাকুতনী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ উত্তম। এর মূল বক্তব্য বুখারী এবং মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় বর্ণনা সূত্রের উৎস, হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে একে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ একে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনাকারী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, দারাকুতনী এবং বায়হাকী সবিস্তারে দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب أن السنة بداءة الشاهد بالرجم وبداءة الإمام به إذا ثبت بالإقرار: وفيه أن الزانى المحصن يجلد ويرجم
عن عامر (12) قال كان لشراحة (13) زوج غائب بالشام وأنها حملت فجاء بها مولاها (1) إلى على بن أبى طالب رضى الله عنه فقال إن هذه زنت فاعترفت فجلدها يوم الخميس مائة ورجمها يوم الجمعة (2) وحفر لها إلى السرة وأنا شاهد ثم قال إن الرجم سنة سنها رسول الله صلى الله عليه وسلم (3) ولو كان شهد على هذه أحد لكان أول من يرمى الشاهد يشهد ثم يتبع شهادته حجره ولكنها أقرت فأنا أول من رماها فرماها بحجر (4) ثم رمى الناس وأنا فيهم قال فكنت والله فيمن قتلها
عن الشعبى) (5) أن شراحة الهمدانية أتت علياً (6) رضى الله عنه فقالت إنى زنيت فقال لعلك غيرى. لعلك رأيت في منامك. لعلك استكرهت. (وفى لفظ لعل زوجك جاءك) فكلّ تقول لا فجلدها يوم الخميس ورجمها يوم الجمعة، وقال جلدتها بكتاب الله (7) ورجمتها بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم
عن الشعبى) (5) أن شراحة الهمدانية أتت علياً (6) رضى الله عنه فقالت إنى زنيت فقال لعلك غيرى. لعلك رأيت في منامك. لعلك استكرهت. (وفى لفظ لعل زوجك جاءك) فكلّ تقول لا فجلدها يوم الخميس ورجمها يوم الجمعة، وقال جلدتها بكتاب الله (7) ورجمتها بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত গর্ভবতীর হদ্দ স্থগিতকরণ।
২৪৮। বুরায়দা আসলামী (রা) থেকে বর্ণিত, একবার আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন গামিদ বংশের জনৈকা মহিলা তাঁর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ), আমি যিনা করেছি। আপনি আমাকে যিনার পাপ থেকে পবিত্র করুন। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি ফিরে যাও। সে পরের দিনও তাঁর কাছে এসে যিনার স্বীকারোক্তি করে বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ), আপনি আমাকে যিনার পাপ থেকে পবিত্র করুন। হয়তো আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিবেন যেরূপ আপনি মা'ইয ইবন মালিক (রা)- কে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আল্লাহর শপথ, আমি গর্ভবতী। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি আমার কাছ থেকে ফিরে যাও এবং তোমার আবাস স্থলে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত অবস্থান কর। সন্তান প্রসব করার পর সে তার শিশুকে বহন করে নবী (ﷺ)-এর কাছে আসল। বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ), আমি এ শিশুকে প্রসব করেছি। তিনি বললেন, তুমি চলে যাও এবং তাকে দুধ খাওয়াতে থাক- যাবৎ না দুধ ছাড়ানোর বয়স হয়। দুধ ছাড়ানোর পর সে তাকে নিয়ে আসল। তখন শিশুটির হাতে এক টুকরা রুটি ছিল। সে বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ), আমি এ শিশুটিকে বুকের দুধ ছাড়িয়েছি। নবী (ﷺ) শিশুটিকে তার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন, তার জনৈক মুসলমান ব্যক্তিকে তার লালন পালনের দায়িত্ব দিলেন। তিনি তার জন্য গর্ত খনন করার আদেশ করলেন। তার জন্য গর্ত খনন করা হল। তাতে তাকে তার বুক পর্যন্ত পোঁতা হল। অতঃপর তিনি উপস্থিত সাহাবীগণ (রা)-কে পাথর মেরে হত্যা করতে নির্দেশ দিলেন। খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা) একটি পাথর নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং তা তার মাথায় নিক্ষেপ করলেন। ফলে খালিদ (রা)-এর গালে তার রক্তের ছিটা লাগল। তাই তিনি তাকে গালি দিলেন। নবী (ﷺ) তা শুনে বললেন, হে ওয়ালীদের বেটা খালিদ! থাম। তাকে গালি দিও না। যে সত্ত্বার হাতে আমার জীবন তার শপথ, সে যেরূপ তওবা করেছে যদি অন্যায়ভাবে কর উসুলকারী সেরূপ তওবা করত তাহলে তাকেও ক্ষমা করা হত। তিনি তাকে কাফন পরানোর এবং সমাধিস্থ করানোর নির্দেশ দিলেন। তার জানাযা নামায পড়া হল, আর তাকে সমাধিস্থ করা হল।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, বায়হাকী, দারাকুতনী)
(মুসলিম, আবূ দাউদ, বায়হাকী, দারাকুতনী)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب تأخير الحد عن الحبلى حتى تضع حملها
عن عبد الله بن بريدة عن أبيه (9) قال كنت جالساً عند النبى صلى الله عليه وسلم فجاءته امرأة من غامد (10) فقالت يا نبى الله إنى قد زنيت وأنا أريد أن تطهرنى، فقال لها النبى ارجعى (11)، فلما أن كان من الغد أتته أيضاً فاعترفت عنده بالزنا فقالت يا رسول الله إنى قد زنيت وأنا أريد أن تطهرنى، فقال لها النبى صلى الله عليه وسلم ارجعى، فلما أن كان من الغد أتته أيضاً فاعترفت عنده بالزنا، فقالت يا نبى الله طهرنى فلعلك أن ترّددنى (1) كما ردَّدت ماعز بن مالك، فوالله إنى لحبلى، فقال لها النبى صلى الله عليه وسلم ارجعى حتى تلدى، فلما ولدت جاءت بالصبى تحمله فقالت يا نبى الله هذا قد ولدت، قال فاذهبى فأرضعيه حتى تفطميه، فلما فطمته جاءت بالصبى في يده كسرة خبز، قال يا نبى الله هذا قد فطمته، فأمر النبى صلى الله عليه وسلم بالصبى فدفعه إلى رجل من المسلمين وأمر بها فحفر لها حفرة فجعلت فيها إلى صدرها ثم أمر الناس أن يرجموها (2) فاقبل خالد بن الوليد بحجر فرمى رأسها فنضح (3) الدم على وجنة خالد فسبها، فسمع النبى صلى الله عليه وسلم سبه غياها فقال مهلاً يا خالد بن الوليد لا تسبها، فوالذى نفسى بيده لقد تابت توبة لو تابها صاحب مكس (4) لغفر له فأمر بها فصلى (5) عليها ودفنت
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত গর্ভবতীর হদ্দ স্থগিতকরণ।
২৪৯। ইমরান ইবন হুসায়ন (রা) থেকে বর্ণিত, জুহায়না গোত্রের জনৈকা মহিলা (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে যিনার স্বীকারোক্তি করে বলল, আমি গর্ভবতী। নবী (ﷺ) তার অভিভাবককে ডেকে বললেন, তুমি তার প্রতি ভাল ব্যবহার করবে। যখন সে সন্তান প্রসব করবে তখন তুমি আমাকে তা অবহিত করবে। সে তাঁর আদেশ যথাযথ পালন করল। তারপর নবী (ﷺ) এর হুকুমে তার কাপড় তার শরীরে ভালভাবে জড়িয়ে দেওয়া হল। অতঃপর তিনি সাহাবীগণ (রা)-কে তাকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হল। অতঃপর তিনি তার জানাযা নামায পড়লেন। উমর ইবন খাত্ত্বাব (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তাকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর তার জানাযার নামায পড়ছেন? অতঃপর তিনি বলেন, সে যে তওবা করেছে যদি তা সত্তরজন মদীনা বাসীর মধ্যে বণ্টন করা হত তাহলে তা তাদের জন্য যথেষ্ট হত। সে যে মহিমান্বিত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে তুমি তা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কোন বস্তু পেয়েছ কি?
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب تأخير الحد عن الحبلى حتى تضع حملها
عن عمران بن حصين (6) إن امرأة من جهينة (7) اعترفت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم بزنا وقالت أنا حبلى فدعا النبي صلى الله عليه وسلم وليها فقال أحسن إليها (1) فإذا وضعت فأخبرنى، ففعل فأمر النبى صلى الله عليه وسلم فكشت (2) عليها ثياباًَ ثم أمر برجمها فرجمت ثم صلى عليها (3) فقال عمر بن الخطاب يا رسول الله رجمتها ثم تصلى عليها؟ قال لقد تابت توبة لو قسمت بين سبعين من أهل المدينة لوسعتهم (4) وهل وجدت شيئاً أفضل من أن جادت بنفسها (5) لله تبارك وتعالى
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত গর্ভবতীর হদ্দ স্থগিতকরণ।
২৫০। আব্দুর রহমান ইবন আবু বকরা (র) থেকে বর্ণিত, আবু বকরা (রা) তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, যে তিনি দেখলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্থির দাঁড়িয়ে থাকা একটি খচ্চরের উপর সওয়ার হয়ে আছেন। এ অবস্থায় সাহাবীগণ (রা) একজন গর্ভবতী মহিলাকে নিয়ে তাঁর কাছে আসলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলল, আমি যিনা করেছি। তাই আপনি আমাকে রজম করুন। রাসুলুল্লাহ তাকে বললেন, তুমি তোমার অপরাধ গোপন কর, আল্লাহ তা'আলাও তোমার অপরাধ গোপন করবেন। সে ফিরে গেল। অতঃপর নবী (ﷺ) এর খচ্চরের উপর সওয়ার থাকা অবস্থায় সে তাঁর নিকট দ্বিতীয়বার এসে বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ), আপনি আমাকে রজম করুন। তিনি বললেন, তুমি তোমার অপরাধকে গোপন কর, আল্লাহ তা'আলাও তোমার অপরাধ গোপন করবেন। সে ফিরে গেল। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সে তাঁর নিকট আসল এবং তাঁর খচ্চরের লাগাম ধরে বলল, আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, আপনি আমাকে রজম করুন। তিনি বললেন, তুমি ফিরে যাও এবং সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। সে চলে গেল এবং একটি পুত্র সন্তান প্রসব করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁর সাথে কথা বলল। তিনি তাকে বললেন তুমি ফিরে যাও এবং প্রসূতি অবস্থার রক্ত থেকে পবিত্র হও। সে চলে গেল। অতঃপর নবী (ﷺ)ন্দ্র-এর নিকট এসে বলল, সে পবিত্র হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কতিপয় মহিলাকে প্রসূতি অবস্থার রক্ত থেকে সে পরিস্কার হয়েছে কিনা জানার জন্য পাঠালেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ফিরে এসে তার পবিত্র হওয়ার সাক্ষ্য দিল। তিনি তার জন্য তার বক্ষদেশ পর্যন্ত গর্ত খনন করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং মুসলমানগণ আসলেন, আর নবী (ﷺ) চানাবুটের মত ছোট কংকর নিয়ে তার শরীরে নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর তিনি উপস্থিত মুসলমানগণকে তার মুখমণ্ডল ছাড়া তার শরীরের অন্য স্থানে পাথর মারার নির্দেশ দিয়ে প্রস্থান করলেন। যখন তার জীবন প্রদীপ নিভে গেল তখন তিনি গর্ত থেকে তাকে বের করতে নির্দেশ দিলেন। আর তার জানাযার নামায পড়লেন। অতঃপর তিনি বললেন, যদি তার সওয়াব হিজাজবাসীদের মধ্যে বণ্টন করা হত তাহলে তা তাদের জন্য যথেষ্ট হত।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ। হাদীসটির সনদে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ। হাদীসটির সনদে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب تأخير الحد عن الحبلى حتى تضع حملها
عن عبد الرحمن بن أبى بكرة (6) أن أبا بكرة حدثهم أنه شهد رسول الله صلى الله عليه وسلم على بغلته واقفاً (7) غذ جاءوا بامرأة (8) حبلى فقالت إنها زنت أو بغت فارجمها (9)، فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم استترى يستر الله عز وجل، فرجعت ثم جاءت الثانية والنبى صلى الله عليه وسلم على بغلته فقالت أرجمها يا نبى الله، فقال استرى يستر الله تبارك وتعالى (1)، فرجعت ثم جاءت الثالثة وهو واقف حتى أخذت بلجام بغلته فقالت أنشدك الله إلا رجمتها، فقال اذهبى حتى تلدى، فانطلقت فولدت غلاماً ثم جاءت فكلمت رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم قال اذهبى فتطهرى من الدم، فانطلقت ثم أتت النبى صلى الله عليه وسلم فقالت إنها قد تطهرت، فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم نسوة فأمرهن أن يسبرئن (2) المرأة فجئن وشهدن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم بطهرها فأمر لها بحفيرة إلى ثندوتها (3)، ثم جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم والمسلمون فأخذ النبى صلى الله عليه وسلم حصاة مثل الحمصة فرماها (4) ثم مال رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال للمسلمين ارموها، وإياكم ووجهها (5)، فلما طفئت أمر بإخراجها فصلى عليها ثم قال لو قسم أجرها بين أهل الحجاز وسعهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত গর্ভবতীর হদ্দ স্থগিতকরণ।
২৫১। আলী (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) -এর পরিবারের জনৈকা ক্রীতদাসী যিনা করল এবং গর্ভবতী হল। আলী (রা) নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে সে সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, তুমি তাঁকে চাবুক মারা থেকে অব্যাহতি দিবে যতক্ষণ না সে সন্তান প্রসব করে এবং পবিত্র হয়। অতঃপর তুমি তাকে চাবুক মারবে।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদে আব্দুল আ'লা সা'লাবী আছেন। তিনি দূর্বল বর্ণনাকারী। মুসলিম এবং আহমদ অন্য এক সহীহ বর্ণনা সূত্রে এর সমর্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা আবূ আব্দুর রহমান সুলামী (র) থেকে সা'দ ইবন উবাইদা (র) বর্ণনা করেছেন। সামনে 'মনিব তার ক্রীতদাসের উপর শরয়ী শাস্তি প্রতিষ্ঠা করবে' শীর্ষক পরিচ্ছেদে তা উদ্ধৃত হবে।)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদে আব্দুল আ'লা সা'লাবী আছেন। তিনি দূর্বল বর্ণনাকারী। মুসলিম এবং আহমদ অন্য এক সহীহ বর্ণনা সূত্রে এর সমর্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা আবূ আব্দুর রহমান সুলামী (র) থেকে সা'দ ইবন উবাইদা (র) বর্ণনা করেছেন। সামনে 'মনিব তার ক্রীতদাসের উপর শরয়ী শাস্তি প্রতিষ্ঠা করবে' শীর্ষক পরিচ্ছেদে তা উদ্ধৃত হবে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب تأخير الحد عن الحبلى حتى تضع حملها
عن على رضى الله عنه (6) أن أمة لهم (7) زنت فحملت فأتى عليّ النبى صلى الله عليه وسلم فأخبره فقال له دعها حتى تلد وتضع (8) ثم اجلدها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত গর্ভবতীর হদ্দ স্থগিতকরণ।
২৫২। একই সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ)-এর জনৈকা সেবিকা যিনা করল। তিনি আমাকে তার উপর হদ্দ জারি করার আদেশ করলেন। আমি তার কাছে আসলাম এবং তাকে প্রসব পরবর্তী স্রাব বন্ধ না হওয়া অবস্থায় পেলাম। আমি তাঁর কাছে এসে তাঁকে সে সম্পর্কে অবহিত করলাম। তিনি বললেন, যখন তার প্রসব পরবর্তী স্রাব বন্ধ হবে তখন তুমি তার উপর হদ্দ জারি করবে। তোমরা তোমাদের ক্রীতদাস এবং ক্রীতদাসীদের উপর হদ্দ কায়েম করো।
(আবূ দাউদ, নাসাই, বায়হাকী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি পূর্ববর্তী হাদীসের মত। এর সনদেও আব্দুল আ'লা সা'লাবী আছেন। তিনি দূর্বল বর্ণনাকারী।)
(আবূ দাউদ, নাসাই, বায়হাকী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি পূর্ববর্তী হাদীসের মত। এর সনদেও আব্দুল আ'লা সা'লাবী আছেন। তিনি দূর্বল বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب تأخير الحد عن الحبلى حتى تضع حملها
وعنه أيضاً (9) أن خادماً للنبى صلى الله عليه وسلم أحدثت (10) فأمرنى صلى الله عليه وسلم أن أقيم عليها الحد فأتيتها فوجدتها لم تجف من دمها، فأتيته فأخبرته فقال إذا جفت من دمها (11) فأقم عليها الحد، أقيموا الحدود على ما ملكت أيمانكم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রোগীর উপর হদ্দ জারি করা প্রসঙ্গ
২৫৩। সাঈদ ইবন সা'দ ইবন উবাদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশীদের নিকট জনৈক অসম্পূর্ণ দূর্বল লোক ছিল। বাড়ীর লোকেরা তাকে বাড়ীর জনৈকা ক্রীতদাসীর সাথে যিনা করতে দেখে ঘাবড়ে গেল। সে মুসলমান ছিল। সা'দ (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তার যিনা করার অভিযোগ পেশ করলেন। তিনি বললেন, তোমরা তার উপর হদ্দ জারি কর। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, সে অতি দূর্বল তা সইতে পারবে না। যদি আমরা তাকে একশত চাবুক মারি, তবে তাকে মেরে ফেলব। তিনি বললেন, তোমরা তাকে মারার জন্য একশত প্রশাখা বিশিষ্ট একটি খেজুরের কাঁদি নিয়ে তাকে তা দিয়ে একবার আঘাত করবে, তারপর তাকে ছেড়ে দেবে।
(শাফিয়ী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী, দারাকুতনী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন। হাদীসটির অনেক মারফু এবং মুরসাল বর্ণনা সূত্র রয়েছে। এর একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করে।)
(শাফিয়ী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী, দারাকুতনী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন। হাদীসটির অনেক মারফু এবং মুরসাল বর্ণনা সূত্র রয়েছে। এর একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء في إقامة الحد على المريض
عن سعيد ابن سعد بن عبادة (1) قال كان بين أبياتنا (2) إنسان مخدج (3) ضعيف لم يرع (4) أهل الدار إلا وهو على أمة من إماء الدار يخبث (5) بها وكان مسلماً فرفع شأنه سعد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اضربوه حده، قالوا يا رسول الله إنه أضعف من ذلك، إن ضربناه مائة قتلناه، قال فخذوا له عثكالاً (6) فيه مائة شمراخ فاضربوه ضربة واحدة وخلوا سبيله
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রজম করার জন্য গর্ত খনন করা।
২৫৪। আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে মাইয ইবন মালিক (রা)-কে রজম করতে নির্দেশ দিলেন। আমরা তাকে নিয়ে বাকী'র কবর স্থানের দিকে বের হলাম। আল্লাহর শপথ, আমরা তাকে পাথর মারার জন্য গর্তও খনন করলাম না। আর তাকে দৃঢ়ভাবে রশি দ্বারাও বাঁধলাম না। কিন্তু সে আমাদের জন্য দাঁড়াল, আর আমরা তাকে হাড় ও মাটির পাত্রের ভাঙ্গা টুকরা দিয়ে মারলাম। সে ব্যাথা বোধ করল এবং দৌড়াতে লাগল, এমনকি আমাদের জন্য কালো পাথর পূর্ণ ভূমিতে গিয়ে দাঁড়াল। সেখানে আমরা তাকে তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত পাথর মারলাম।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী)
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء في الحفر للمرجوم
عن أبى سعيد الخدرى (7) قال لما أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نرجم ماعز بن مالك خرجنا به إلى البقيع (8) فوالله ما حفرنا له (9) ولا أوثقناه ولكنه قام لنا فرميناه بالعظام والخزف (10) فاشتكى فخرج يشتد حتى انتصب لنا في عرض (11) الحرة فرميناه بجلاميد (1) الجندل حتى سكت
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রজম করার জন্য গর্ত খনন করা।
২৫৫। আবূ বকরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) জনৈকা মহিলাকে রজম করার ফায়সালা দেন। তার জন্য তার বুক পর্যন্ত গর্ত খনন করা হয়।
(আবূ দাউদ, বায়হাকী। হাদীসটির সনদে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।)
(আবূ দাউদ, বায়হাকী। হাদীসটির সনদে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء في الحفر للمرجوم
عن أبى بكرة (3) أن النبى صلى الله عليه وسلم رجم امرأة فحفر لها إلى الثندوة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রজম করার জন্য গর্ত খনন করা।
২৫৬। আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) জনৈকা মহিলাকে পাথর মেরে হত্যা করার ফয়সালা দেন। আর তিনি আমাকে তার জন্য গর্ত খনন করার আদেশ দেন। আমি তার জন্য আমার নাভি পর্যন্ত গর্ত খনন করলাম।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারো নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। এর সনদে একজন বর্ণনাকারী আছেন যার সম্পর্কে আমি অবগত নই।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারো নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। এর সনদে একজন বর্ণনাকারী আছেন যার সম্পর্কে আমি অবগত নই।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء في الحفر للمرجوم
عن أبى ذر (5) أن النبى صلى الله عليه وسلم رجم امرأة فأمرنى أن أحفر لها فحفرت لها إلى سرتى
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: নিজ স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করা প্রসঙ্গ।
২৫৭। হাবীব ইবন সালিম (র), নু'মান ইবন বশীর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, কুরকুর উপাধি প্রাপ্ত আব্দুর রহমাদন ইবন হুনায়ন নামের জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করল। তিনি বলেন, নু'মান ইবন বশীর আনসারী (রা)-এর কাছে তাকে বিচারের জন্য পেশ করা হল। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিচার অনুযায়ী তোমার বিচার করব। যদি সে তোমাকে তার সাথে সহবাস করার অনুমতি দিয়ে থাকে তাহলে আমি তোমাকে একশত চাবুক মারব। আর যদি সে তোমাকে তার সাথে সহবাস করার অনুমতি না দিয়ে থাকে তাহলে আমি তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করব। তিনি বলেন, সে তাকে তার সাথে সহবাস করার অনুমতি দিয়েছিল। তাই তিনি তাকে একশত চাবুক মারলেন।
(আবু দাউদ, বায়হাকী, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি হাসান।)
(আবু দাউদ, বায়হাকী, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি হাসান।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فيمن وطئ جارية امرأته
حدّثنا بهز ثنا أبان بن يزيد وهو العطار ثنا قتادة حدثنى خالد بن عرفطة عن حبيب بن سالم عن النعمان بن بشير أن رجلاً يقال له عبد الرحمن بن حنين وكان ينبز (7) قرقوراً وقع على جارية امرأته قال فرفع إلى النعمان بن بشير الأنصارى فقال لأقضين فيك بقضاء رسول الله صلى الله عليه وسلم (8)، إن كانت أحلتها لك (9) جلدتك مائة (10)، وإن لم تكن أحلتها لك رجمتك بالحجارة، قال وكانت قد أحلتها له فجلده مائة، وقال سمعت أبانا (11) يقول وأخبرنا قتادة أنه كتب فيه إلى حبيب بن سالم وكتب إليه بهذا (12)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: নিজ স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করা প্রসঙ্গ।
২৫৮। হাবীব ইবন সালিম (র) নু'মান ইবন বশীর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তাঁর কাছে জনৈকা মহিলা এসে বলল, তার স্বামী তার দাসীর সাথে সহবাস করেছে। তিনি বললেন, আমার কাছে সে সমস্যার সমাধানকারী হাদীস আছে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছ থেকে তা শিক্ষা করেছি। যদি তুমি তাকে তার সাথে সহবাস করার অনুমতি দিয়ে থাক তাহলে আমি তাকে একশত চাবুক মারব। আর যদি তুমি তাকে তার সাথে সহবাস করার অনুমতি না দিয়ে থাক তাহলে আমি তাকে পাথর মেরে হত্যা করব। উপস্থিত লোকেরা তাকে লক্ষ্য করে বলল, তোমার স্বামীকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে? তুমি বল, তুমি তাকে তার সাথে সহবাস করার অনুমতি দিয়েছিলে, সে বলল, আমি তাকে তার সাথে সহবাস করার অনুমতি দিয়েছিলাম। তিনি তাকে সামনে এনে একশত চাবুক মারলেন।
(আবূ দাউদ, তিরমিযী, বায়হাকী। খাত্তাবী বলেছেন, হাদীসটির সনদ ধারাবাহিক নয়। আর এর অনুযায়ী আমল করা হয় না।)
(আবূ দাউদ, তিরমিযী, বায়হাকী। খাত্তাবী বলেছেন, হাদীসটির সনদ ধারাবাহিক নয়। আর এর অনুযায়ী আমল করা হয় না।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فيمن وطئ جارية امرأته
حدّثنا هشيم (1) عن أبي بشر عن حبيب بن سالم (عن النعمان بن بشير) قال أتته امرأة فقالت ان زوجها وقع على جاريتها قال أما إن عندى فى ذلك خبرا شافيا أخذته عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، إن كنت أذنت له ضربته مائة، وان كنت لم تأذنى له رجمته، قال فأقبل الناس عليها فقالوا زوجك يرجم؟ (2) قولى إنك قد كنت أذنت له، فقالت قد كنت أذنت له فقدمه فضربه مائة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: নিজ স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করা প্রসঙ্গ।
২৫৯। হাবীব ইবন সালিম (র) নু'মান ইবন বশীর (র) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা নু'মান ইবন বশীর (রা)-এর কাছে আসল। অতঃপর তিনি উপরোক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কেউ হাদীসটিকে খালিদ হাযযার বর্ণনা সূত্রে হাবীব ইবন সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। খালিদ হাযযা হাদীসের ছয় কিতাবের বর্ণনাকারী। তিনি ছিকা।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কেউ হাদীসটিকে খালিদ হাযযার বর্ণনা সূত্রে হাবীব ইবন সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। খালিদ হাযযা হাদীসের ছয় কিতাবের বর্ণনাকারী। তিনি ছিকা।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فيمن وطئ جارية امرأته
حدّثنا على بن عاصم (3) عن خالد الحذاء عن حبيب بن سالم (عن النعمان بن بشير) قال جاءت امرأة إلى النعمان بن بشير فذكر نحوه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: নিজ স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করা প্রসঙ্গ।
২৬০। সালামা ইবন মুহাব্বাক (রা) থেকে বর্ণিত, জনৈকা ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করল। (অন্য এক বর্ণনায় আছে, জনৈক ব্যক্তি এক অভিযানে বের হল। তার সাথে তার স্ত্রীর দাসী ছিল। সে তার সাথে সহবাস করল।) বিষয়টা নবী (ﷺ) এর কাছে পেশ করা হলে, তিনি বললেন, যদি দাসী তার আনুগত্য করে থাকে, তবে সে তার মালিকানায় চলে যাবে আর তার কর্তব্য অনুরূপ একটি দাসী তার স্ত্রীকে দেওয়া। আর যদি সে দাসীকে বাধ্য করে থাকে তবে সে আযাদ। আর তার কর্তব্য অনুরূপ একটি দাসী তার স্ত্রীকে দেয়া।
এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিচার করেন, যদি সে তাকে বাধ্য করে থাকে তাহলে সে আযাদ। আর তার কর্তব্য অনুরূপ একটি দাসী তার স্ত্রীকে দেয়া।
(আবূ-দাউদ। বায়হাকী প্রথম বর্ণনা সূত্রে এবং আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী দ্বিতীয় বর্ণনা সূত্রে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারীর নিকট উভয় বর্ণনায় সূত্র দূর্বল।)
এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিচার করেন, যদি সে তাকে বাধ্য করে থাকে তাহলে সে আযাদ। আর তার কর্তব্য অনুরূপ একটি দাসী তার স্ত্রীকে দেয়া।
(আবূ-দাউদ। বায়হাকী প্রথম বর্ণনা সূত্রে এবং আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী দ্বিতীয় বর্ণনা সূত্রে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারীর নিকট উভয় বর্ণনায় সূত্র দূর্বল।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فيمن وطئ جارية امرأته
عن سلمة بن المحبق (5) أن رجلا وقع على جارية امرأته (وفى لفظ أن رجلا خرج فى غزاة ومعه جارية لامرأته فوقع بها) فرفع ذاك إلى النبى صلى الله عليه وسلم فقال ان كانت طاوعته فهى له وعليه مثلها لها (6)، وان كان استكرهها فهى حرة وعليه مثلها لها (وعنه من طريق ثان) (7) قال قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى رجل وطئ جارية امرأته إن كان استكرهها فهى حرة وعليه لسيدتها مثلها
তাহকীক: