মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান

হাদীস নং: ২৪১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদ : যদি কেউ হদ্দের উপযুক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে, কিন্তু কৃত অপরাধের নাম না বলে তবে তার উপর হদ্দ জারি করা হবে না।
২৪১। ওয়াসিলা ইবন আসকা' (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর প্রদত্ত হদ্দ অপরিহার্য হয় এমন পাপ করেছি। তাই আপনি আমার উপর হদ্দ জারি করুন। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর সে দ্বিতীয়বার তাঁর কাছে আসল, আর তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর সে তৃতীয়বার তা বলল, আর তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর সালাত কায়েম করা হল। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন তখন সে চতুর্থবার তাঁর কাছে এসে বলল, আমি আল্লাহ প্রদত্ত হদ্দ অপরিহার্য হয় এমন একটি পাপ করেছি। তাই আপনি আমার উপর আল্লাহর প্রদত্ত হদ্দ জারি করুন। তিনি তাকে ডেকে বললেন, তুমি কি ভাল করে অযু করনি, অতঃপর আমাদের সাথে নামাযে উপস্থিত হওনি? সে বলল, নিশ্চয়। তিনি বললেন, তুমি চলে যাও, তা তোমার পাপের কাফফারা।
আহমদ আব্দুর রহমান বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। বুখারীতে আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে এর সাক্ষ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এর পরবর্তী হাদীসটিও একে শক্তিশালী করে।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب من أقر بحد ولم يسمه لم يحد
عن واثلة بن الأسقع (4) قال شهدت رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم وأتاه رجل فقال يا رسولا لله إنى أصبت حداً (5) من حدود الله عز وجل فأقم فىّ حد الله فأعرض عنه، ثم أتاه الثانية فأعرض عنه، ثم قالها الثالثة فأعرض عنه، قم أقيمت الصلاة فلما قضى الصلاة أتاه الرابعة فقال إنى أصبت حداً من حدود الله عز وجل فأقم فيّ حد الله عز وجل، قال فدعاه فقال ألم تحسن الطهور أو الوضوء ثم شهدت الصلاة معنا آنفا؟ قال بلى، قال ذاهب فهى كفارتك

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীছে যে সাহাবীর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, তিনি এতটাই অস্থির হয়ে পড়েছিলেন যে, নিজ অপরাধকে হদ্দের উপযুক্ত গণ্য করে ফেলেন। হদ্দ বলা হয় শরী'আত প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট শাস্তি, যেমন চুরির ক্ষেত্রে হাত কাটা, ব্যভিচারের ক্ষেত্রে বিবাহিত হলে পাথর মেরে হত্যা করা, অবিবাহিত হলে একশ দোররা মারা। অথচ তিনি এ পর্যায়ের পাপ করেননি।

ইমাম নববী রহ. বলেন, اصبت حدا (আমি হদ্দের উপযুক্ত অপরাধ করেছি)-এর অর্থ এমন অপরাধ, যে কারণে তা'যীর (বিচারকের বিবেচনা অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি) আরোপিত হয়। এর দ্বারা প্রকৃত শরী'আতী হদ্দ (সুনির্দিষ্ট শাস্তি) বোঝানো উদ্দেশ্য নয়। যেমন ব্যভিচারের শাস্তি মদপানের শাস্তি ইত্যাদি। কেননা এসকল শাস্তি নামায দ্বারা রহিত হয় না এবং ইমামের জন্য তা মওকুফ করাও জায়েয হয় না।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু তার উপর হদ্দ জারি করেননি; বরং তাকে এই বলে আশ্বস্ত করেছেন যে, নামায পড়ার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা তার গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন, তাই বোঝা যাচ্ছে তার দ্বারা চূড়ান্ত পর্যায়ের গুনাহ হয়নি। তিনি তার কৃত গুনাহকে প্রকৃত অবস্থার চেয়েও কঠিনরূপে দেখেছেন নিজ অনুশোচনার তীব্রতা ও আল্লাহভীতির গভীরতার কারণে।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. গুনাহ সগীরা হোক বা কবীরা, কোনওটাতেই জড়ানো উচিত নয়। কেননা আল্লাহ তা ঘৃণা করেন। আর এ কারণেই নিজ দয়ায় তিনি তা মোচনের ব্যবস্থা করেছেন।

খ. যে-কোনও পাপকর্ম হয়ে যাওয়ার পর নিশ্চিন্তে বসে থাকতে নেই। আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার আশায় অতিদ্রুত লজ্জা ও অনুতাপের সঙ্গে তাওবা করে ফেলা চাই।

গ. পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায়ে যত্নবান থাকা চাই। কেননা এ নামায আমাদের পাপমোচনের ব্যবস্থাও বটে।

ঘ. এ হাদীছ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ক্ষমাপ্রাপ্তির ব্যাপারে আমাদের আশান্বিত করে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান