দীন সচল রাখতে চিন্তা-ফিকিরের গুরুত্ব
দীন সচল রাখতে চিন্তা-ফিকিরের গুরুত্ব
[ দীনকে বুঝে আমল করতে হবে, না বুঝে নয়। শিকারি কুকুর প্রশিক্ষণ পেলেও বুঝে না বলে সওয়াব পায় না, কিন্তু মানুষ বুঝে আমল করে বলে সওয়াব পায়। নিয়ত ও ইখলাসের জন্য বোঝা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা বারবার প্রশ্ন করেছেন "তোমরা কি বোঝ না?"। দেমাগ নষ্ট হলে শরিয়তের আহকাম প্রযোজ্য নয়, তাই বুঝে আমল করা অত্যন্ত জরুরি। অসৎ লোকেরা নিজ স্বার্থে মানুষকে চিন্তা করতে না দিয়ে বোকা বানায়, কিন্তু ইসলাম প্রত্যেককে বুঝে কাজ করার নির্দেশ দেয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের চিন্তা-ফিকির করতে উৎসাহিত করতেন এবং তাঁদের মতামত গ্রহণ করতেন, যাতে দীন অচল না হয়। নতুন পরিস্থিতিতে ফতোয়া দেওয়ার জন্য উম্মতকে চিন্তাশীল বানানো হয়েছে। প্রত্যেক মুসলমান দীনের 'পার্টনার', কর্মচারী নয়; তাই সবাইকে জিম্মাদারির সাথে চিন্তা করতে হবে। ইমামদের মধ্যেও মতভেদ ছিল, যা বেয়াদবি নয় বরং চিন্তার ফল। প্রশ্ন করা বেয়াদবি নয়; সাহাবা-সাহাবিয়াত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করতেন। সাধ্যমত বুঝে আমল করলে ভুল হলেও আল্লাহ কবুল করেন। তাই উলামা ও সাথীদের কাছে জিজ্ঞেস করে বুঝে আমল করতে হবে এবং সাথীদেরকেও ফিকিরবান করতে হবে।]
১৪ই আগস্ট ২০১৫, মোযাকারা, খাজা দেওয়ান ১ম লেন মসজিদ, লালবাগ
দীনকে, আল্লাহর হুকুমকে বোঝা আর বুঝে করা।
আর না বুঝে যদি করি, তো ওইটা ঠিক মানুষের মতো করা হলো না।
হাইওয়ান বা জানোয়ারের ব্যাপারেও শরিয়তের আহকাম আছে। যেমন পোষা শিকারি কুকুর, শিকারি পাখি। শিকারি পাখি যেগুলো শিকার করা শিখেছে, এদেরকে মুআল্লাম বা ইলম প্রাপ্ত বলা হয়।
"আল্লাহ তাআলা তোমাদের যে ইলম দিয়েছেন, তা থেকে তাদেরকে ইলম দাও"।
শিকারি কুকুর শিকার করলে, ও যে শিকার করেছে ওইটা হালাল। আর যেটা শিকারি কুকুর নয়, ওইটার শিকার হালাল নয়। শিকারি মানে যার ইলম আছে। কিন্তু এই যে ইলম দিয়ে সে শিকার করলো, এর জন্য ঐ কুকুর কিন্তু কোনো সওয়াব পাবে না। আর এজন্য সে জান্নাতেও যাবে না। যদিও সে ইলম নিয়েছে আর সেই ইলমের উপর আমলও করেছে, মালিকের কথা মেনেছে। আর তাকে মুআল্লাম বা ইলম প্রাপ্ত বলা হয়।
মানুষ যদি ইলমের উপর আমল করে তাহলে তার জন্য সে সওয়াব পায়। কুকুর ইলমের উপর আমল করলো ঠিকই, কিন্তু সওয়াব পেল না। একটা বড় পার্থক্য, মূল পার্থক্য; কুকুর ইলম অর্জন করেছে, একটা জিনিস শিখেছে কিন্তু না বুঝে। তার সমঝ-বুঝ কিছু নাই, ভাল-মন্দ বুঝে না। আর মানুষ বুঝে করে। আমলের বোঝার অংশ, ওইটা করার অংশের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়ত দিয়ে আমল বিচার করা হয়। নিয়ত করতে হলে তাকে বুঝতে হবে। ফজরের নামাজ পড়ছি, যদি না বুঝি তো কী নিয়ত করবো! এজন্য বুঝতে হবে। ইখলাস— ওইটাও বোঝার সাথে সম্পর্কিত। যদি না বুঝে তাহলে ইখলাসও করতে পারবে না, নিয়তও হবে না।
তো দীনের সব হুকুম আকিল, বালেগ মানুষের উপর। আর তার আকলকে ব্যবহার করা। কুরআন শরিফে এই ধরনের শব্দ আল্লাহ তাআলা বহুবার বলেছেন, "তোমরা কি বোঝ না?"
বোঝার উপর আল্লাহ তাআলা খুব গুরুত্বারোপ করেছেন। বুঝে করি, অন্ধের মতো নয়, না বুঝে নয়।
তো আল্লাহ তাআলা মানুষকে হাত-পা-চোখ-কান এগুলো দিয়েছেন। এই সবগুলোর চেয়ে বেশি মূল্যবান হচ্ছে তার দেমাগ, দিল-দেমাগ। যদি একজন মানুষের চোখ নষ্ট হয়ে যায়, জীবন তবুও চলে। কান নষ্ট হয়ে যায়, জীবন চলে। কিন্তু দেমাগ নষ্ট হয়ে গেলে জীবন চলে না। যদি কারো চোখ নষ্ট হয়, কান নষ্ট হয়ে যায়, তার উপরও শরিয়তের আহকাম প্রযোজ্য, সে দীনের উপর চলতে পারে। কিন্তু যদি দেমাগ নষ্ট হয়ে যায়, তার উপর শরিয়তের আহকাম আর চলবে না। তো বুঝে করা— এটা অত্যন্ত জরুরি জিনিস।
দুর্ভাগ্যবশত আমরা অনেক সময় দীনের মতবাদ শুনেছি যে, 'মানো'। মানা, মানার কথা এতো বেশি শুনেছি যে, এটা ধারণা হয়ে গেছে যে, 'না বুঝেই মানতে হবে'। না বুঝে মানা নয়। মানা ঠিকই, কিন্তু বুঝে মানা। না বুঝে মানা নয়। তো না বুঝে মানার কথা এলো কেমন করে? এটা এসে গেছে কারণ, নিজ স্বার্থে মানুষ অন্যদেরকে বোকা বানাতে চায়। যারা অসৎ, ভণ্ড তারা অন্যদেরকে বোকা বানাতে চায়। যেমন, একজন মানুষ ব্যবসায় আরেকজনকে ঠকায়। একটা জিনিস বিক্রি করছে যে জিনিস ওর কোনো কাজে লাগবে না।
গরমের মৌসুমে একজন খুব দামী একটা উলের সোয়েটার বিক্রি করলো। গরমের মৌসুমে এটা কোনো কাজের জিনিস না। যে খুব চালাক বিক্রেতা, সে ক্রেতাকে ভাবতে-বুঝতে দেয় না। এমন কথার মধ্যে ব্যস্ত করে দিবে যে, ক্রেতাকে এটা চিন্তা করতে দিবে না যে, এই সোয়েটার দিয়ে আমি করবো কী?
মানুষ তার নিজ স্বার্থে অন্যের বুদ্ধিকে নষ্ট করে দেয়। ব্যবসাতে এটা বেশি করে, পলিটিক্সেও এটা করে। পলিটিক্সে সে নিজে মন্ত্রী-এমপি হবে, এই জন্য মেহনত করায় পাবলিককে দিয়ে। ঐ পাবলিকের কোনো স্বার্থ নেই। সে হয়তো তার জানও দিয়ে দিবে, কিন্তু নিজের কোনো স্বার্থ নেই, স্বার্থ তো নেতার। কিন্তু নেতা এই কথা পাবলিককে বুঝতে দেয় না। সে এমনভাবে কথা বলে যেন তারই (পাবলিকের) স্বার্থ। আর তার বুদ্ধিতে কাজ করতে দেয় না। বর্তমান দুনিয়াতে যত আর্মি আছে, সেগুলোতে সিপাহিদের ভাবতে দেয় না। এদেরকে বোকা বানিয়ে রাখে, না বুঝে করে। আর আর্মিতে ঢুকার পরেই প্রথম এক বছর এমন ধরনের ট্রেনিং দেয় যে; যা বলে, অর্ডার দেয় ওইটাই করতে হয়। না বুঝেই। এজন্য বলা হয় যে সিপাহিরা বোকা হয়, তাদের বুদ্ধি পায়ের মধ্যে।
দীন এরকম নয়। দীন হচ্ছে প্রত্যেক ব্যক্তি বুঝে কাজ করবে, না বুঝে একজনও নয়। কিন্তু জাহেরি জগতে দেখা যায় যে, অন্যান্য বে-দীনি যত ধর্ম আছে, যেমন হিন্দু ধর্ম, হিন্দুদের বই আছে, ধর্মগ্রন্থ বেদ, ব্রাহ্মণরা এটা পড়ে আর পড়তে পারে। সাধারণ হিন্দুরা, নিচের বর্ণের যারা যেমন নমশূদ্ররা, তারা এটা পড়তে পারে না আর তার জন্য এটা পড়া নিষেধ। মারাত্মক ভাবে নিষেধ! এগুলো ব্রাহ্মণরা করেছে তাদের নিজ সুবিধার জন্য। একজন নমশূদ্র যদি কান পেতে শুনে যখন একজন ব্রাহ্মণ পড়ছে, তাহলে এটা তার জন্য অপরাধ, আর তার শাস্তি হচ্ছে তার কানে গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া। কেন শুনল! তো নিজে তো পড়তে পারবেই না, শুনতেও পারবে না। এর মোকাবেলায় ইসলামে একজন সাধারণ থেকে সাধারণ মুসলমান, সে নামাজ পড়ার সময় তাকেই সূরা ফাতিহা ও অন্যান্য সূরা পড়তে হবে। আর পড়ার ক্ষেত্রে উত্তম হলো বুঝে পড়া। তাহলে বেশি সওয়াব, বেশি ফায়দা। তো সাধারণ থেকে সাধারণ একজন মানুষ; তারও দায়িত্ব সে যেন বুঝে যে আল্লাহ আমাকে কী বলেছেন। এর মোকাবেলায় হিন্দুরা; তাদের জন্য বোঝা নিষেধ, যদি বোঝার চেষ্টা করে তবে কঠোর শাস্তি।
খ্রিষ্টানদেরও ওইরকম, শাস্তি নয় কিন্তু ক্যাথলিক যারা আছে তাদের বাইবেল হচ্ছে ল্যাটিন ভাষায়, সাধারণ মানুষ এগুলো পড়েও না, বুঝেও না, তাদের দরকারও নাই।
বিদআতিরা এরকম করে, যত বিদআতি পীররা আছে, বিদআতি পীরদের বড় শত্রু হচ্ছে মাদ্রাসা। কোনো বিদআতি পীর তার এলাকাতে মাদ্রাসা করতে দেবে না। নানান গণ্ডগোল পাকাবে। কারণ মাদ্রাসা যদি হয় আর মানুষজন যদি ইলম পেয়ে যায়, তাহলে ওর ব্যবসা চলবে না, মানুষ ওকে গুরু-ছাগল দেবে না। এক জায়গায় তাফসীর ছিল, কথা প্রসঙ্গে এলো আগের জামানায় একজন পীর খোঁজছেন, তো উনি একটু রসিকতা করে বললেন, বর্তমান যমানায় যদি কেউ পীর খোঁজে তো দেখবে যে কোথায় গুরুর লাইন! গুরুর লেজ ধরে ধরে গিয়ে পীর পাবে! আগের যমানায় তো এরকম ছিল না যে গুরুর লেজ ধরে পীর খোঁজা, গুরুর লেজ ধরে খুঁজলে গুরুর পীর পাবে, মানুষের পীর কীভাবে পাবে?
এই যে গুরু দিচ্ছে, যে পীরকে টাকা দিচ্ছে, তার নিজের মা বাবের হয়তো টাকার দরকার আছে, হয়তো ওর খালা ফুফু চিকিৎসার টাকা নাই, নিজের ভাই বোনের টাকা দরকার আছে, এদেরকে না দিয়ে দিচ্ছে ঐ পীরকে যার কোটি কোটি টাকা আছেও। তার আহলে হক কে বাদ দিয়ে, তার রক্তের সম্পর্ক, তার প্রতিবেশী এদেরকে বাদ দিয়ে ঐ পীরকে টাকা দিচ্ছে। ও যদি ইলমওয়ালা হয় তাহলে ও তো দেবে না। ইলম না থাকলে দেবে। সেজন্য ওদেরকে বোকা বানায় যাতে তার কোনো বুদ্ধি কাজ না করে, মাসলা মাসায়েল কাজ না করে। সিজদা করে, আমাদের দেশে অসংখ্য পীর আছে যাদেরকে মুরিদরা গিয়ে সিজদা করে। সেই মুরিদ যদি একটু ইলম পেয়ে যায় তাহলে আর সিজদা করবে না। আর সিজদা যদি না করে, তাহলে পরে আর টাকাও দেবে না। এজন্য তাকে জেহালতের মধ্যে রাখতে চায়, 'এগুলো তোমরা বুঝবে না, বোঝার কাজ এগুলো আমার, তোমার জান্নাতে যাওয়া— এটা আমার দায়িত্ব'।
নিজ স্বার্থে মানুষ অন্যকে নির্বোধ বানায়। আর এর মোকাবেলায় আল্লাহ তাআলা দীন দিয়েছেন যে, প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব সে যেন তার সাধ্যমতো দীনকে বুঝে, বোঝার চেষ্টা করে। সাহাবাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে তৈয়ার করেছেন যে বুঝে চল, আর চলার দরকার। একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
"তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে জালিম হোক বা মজলুম হোক"।
সাহাবারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা মানতেন ঠিকই, কিন্তু বুঝে মানতেন, বোঝার চেষ্টা করতেন। সাহাবারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার ভাই যদি মজলুম হয় তাকে সাহায্য করব— এটাতো বুঝে আসে, কিন্তু আমার ভাই যদি জালিম হয় তাহলে কেমন করে সাহায্য করব? সে তো অন্যায় কাজ করছে, জালিম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বুঝিয়ে দিলেন যে, তার সাহায্যমানে হলো তাকে জুলুম থেকে বাধা দেওয়া, এটা হলো সাহায্য। তখন সাহাবারা বললেন, হ্যাঁ এবার বুঝতে পেরেছি।
তো সাহাবারা বুঝে করতেন, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা কাজ করলে তারপরেও চিন্তা করতেন। বদরের যুদ্ধের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জায়গায় অবস্থান নিলেন যে আমরা এই জায়গায় থাকবো। একজন সাহাবী, হুব্বাব ইবনে মুনজির রাদিআল্লাহু আনহু, তিনি এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন যে, আপনি যে এটা বলছেন এটা কি আল্লাহর হুকুমে বলছেন নাকি নিজ বিবেচনায় বলেছেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিজ বিবেচনায়। ঐ সাহাবী বললেন, তাহলে আমারও একটা রায় আছে। কী? আমরা এখানে না থেকে ওখানে অবস্থান করি, একটু সামনে। ওখানে থাকলে পানি আমাদের দখলে থাকবে, আর এখানে পায়ের নিচে পাথর, ওখানে পায়ের নিচে মাটি থাকবে। বড় কথা হলো পানি। দ্বিতীয়ত ওখানে চলাফেরাও সুবিধা, এখানে পাথরের কারণে চলাফেরায় কষ্ট হয়, তুলনামূলক ভাবে মাটিতে চলাফেরা সহজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা মানলেন এবং অবস্থান পরিবর্তন করলেন।
এরকম নয় যে 'আল্লাহর নবী বলেছেন, আর আমরা কিছু ভাববো না', তা নয়। একবার সফরের খাবার শেষ হয়ে গেছে, কায়েস ইবনে সাদ ইবনে উবাদা রাদিআল্লাহু আনহু সাথীদের কাছ থেকে বাকিতে উটক্রয় করছেন আর জবাই করে খাওয়াচ্ছেন। পরে মদিনাতে গিয়ে দাম দেবেন। জবাই করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন, আর রওয়ানা হয়েছেন জবাই করার জন্য। উমর রাদিআল্লাহু আনহু দেখলেন, দেখে জিজ্ঞেস করলেন কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন, উট জবাই করার জন্য। উমর রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, উট জবাই করে যদি আমরা খেয়ে ফেলি তাহলে মদিনাতে ফিরে যাব কেমন করে? উট আমাদের বাহন, সওয়ারি। তিনি জবাব দিলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি।
উমর রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, আবার চল। দুজন আবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলেন। এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উমর রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, যদি আমরা উটগুলো খেয়ে ফেলি তাহলে মদিনায় ফিরে যাব কেমন করে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেনে নিলেন। অথচ অনুমতি দেওয়া হয়ে গেছে। উমর রাদিআল্লাহু আনহুর কথায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা পরিবর্তন করলেন।
আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহুকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুতা মোবারক দিলেন। আর দিয়ে বললেন বাইরে গিয়ে ঘোষণা কর "যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে সে জান্নাতে যাবে"। আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু গেলেন, প্রথমেই দেখা হলো উমর রাদিআল্লাহু আনহুর সাথে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী? আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জুতা মোবারক। কী কথা? 'যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে সে জান্নাতে যাবে'। উমর রাদিআল্লাহু আনহু উনার বুকের উপর ধাক্কা দিয়ে বললেন যাও, ফিরে যাও। আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু ফিরে গেলেন, গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে কেঁদে দিলেন। মনে কষ্ট পেয়েছেন। পেছন পেছন উমর রাদিআল্লাহু আনহু এসেছেন। এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি পাঠিয়েছেন নাকি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। উমর রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, এরকম করবেন না, এতে মানুষ আমল করা ছেড়ে দেবে। বলবে যে 'জান্নাতি তো হয়ে গেছি আর কিছু লাগবে না', আমল করা ছেড়ে দেবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা মেনে নিলেন। এরকম অসংখ্য ঘটনা আছে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা কথা বলছেন, সাহাবারা এর বিপরীত আরেকটা কথা বলছেন, কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা মেনে নিচ্ছেন। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নারাজ হচ্ছেন তা নয়, বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা চাচ্ছেন যে, তারাও ফিকির করুক। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে চলে যাবেন, আর সাহাবারা যদি ফিকিরমন্দের জামাত না হয় তাহলে দীন থেমে যাবে।
আজকাল যেরকম, কেউ কিডনি ট্রান্সফার করবে। একজনের কিডনি আরেকজন লাগাবে। তো মুফতিকে জিজ্ঞেস করলো যে এটা জায়েজ কিনা? মুফতিকে এই ফতোয়া দিতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো এ ব্যাপারে কিছু বলেন নি। এটা ছিলও না। মুফতি ফতোয়া দেবেন, তো ফতোয়া কোত্থেকে দেবেন? উনার নিজ বুদ্ধি বিবেচনা থেকে দেবেন। তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বুদ্ধি বিবেচনা করা তখন থেকেই শিখিয়েছেন। যাতে দীন অচল হয়ে না যায়।
সাহাবারা মিশরে যখন গেলেন তো মহিষ পেলেন। আরবে মহিষ নাই, মক্কা মদিনা কোথাও মহিষ নাই কিন্তু মিশরে আছে। আর কুরআন শরিফে, হাদিস শরিফে কোথাও মহিশের কোনো উল্লেখ নাই। তো সাহাবারা মিশরে গিয়ে মহিষ পাওয়ার সাথে সাথে এই প্রশ্ন উঠলো যে এর দুধ, গোশত হালাল না হারাম? এই সমস্যার সমাধান করতে হবে, ফতোয়া দিতে হবে। কিন্তু কুরআন শরিফেও উল্লেখ নাই, হাদিস শরিফেও উল্লেখ নাই কোত্থেকে ফতোয়া দেবেন? নিজ বুদ্ধি বিবেচনা প্রয়োগ করে। তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বুদ্ধি বিবেচনা করা— এটা খুব গুরুত্ব দিয়ে শিখিয়েছেন। আর এত বেশি শিখিয়েছেন যে, এক সময় আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু এবং উমর রাদিআল্লাহু আনহু এই দুজনকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা দুজন যদি কোনো বিষয়ে একমত হয়ে যাও তাহলে আমি তোমাদের ভিন্নমত পোষণ করব না।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দীন দিয়েছেন, এই দীনের প্রত্যেক ব্যক্তি যেন তার সাধ্যমত চিন্তা ফিকির করেনওয়ালা হয়। মাশোয়ারার মধ্যে এই কথা হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন যে,
"রায় দেনা, রায় লেনা, রায় নিকালনা"।
কিছু নতুন সাথী আছে, তারা চুপ করে বসে থাকে, নিজে রায় দেয়ও না আর মনে করে 'মুরব্বীরা যা ভাল মনে করে'। না, তাকেও চিন্তা করতে অভ্যস্ত করতে হবে। রায় নিকালনা মানে বলতে চায় না কিন্তু জিজ্ঞেস করে করে বের করা, সে যেন রায় দেয়। কারণ, রায় যদি না দেয় তাহলে সে চিন্তা ফিকির করবে না। এই দীনকে তিজারত বলা হয়েছে।
এই তিজারতের মধ্যে কোনো ব্যক্তি 'কর্মচারী' নয়, প্রত্যেক মুসলমান— সে 'পার্টনার'। কর্মচারী আর পার্টনারের মধ্যে বিরাট পার্থক্য। কর্মচারী আদেশ পালন করে, কিন্তু কোনো দায়িত্ব নেয় না। আর যে পার্টনার বা মালিক; সে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয়।
টঙ্গীর ইজতেমার পরে প্রত্যেক বছর হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি থাকতেন, যাওয়ার আগে কাকরাইল ওয়ালাদেরকে কিছু কথা বলতেন। কয়েক বছর আগে একবার, হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহির বিগত কয়েক বছরের জমা করা কথাগুলো পড়ে শোনানো হলো। বেশিরভাগ কথা এই জিম্মাদারির উপর ছিলো। যেমন একবার হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি বয়ান আরম্ভ করলেন এক কথা দিয়ে, "ইয়ে কাম কিয়া হ্যায়"? নিজেই প্রশ্ন করলেন, আবার নিজেই উত্তর দিলেন— "এক জিম্মাদারি হ্যায়"। কর্মচারী কিন্তু জিম্মাদার নয়, কাজ করে ঠিকই, বেতন পায় কিন্তু জিম্মাদারি নেই। আর মালিক যে, সে জিম্মাদার, সে চিন্তা ফিকির করে। ভবিষ্যতের চিন্তা ফিকিরও করে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের দীনের কাজ দিয়েছেন যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি সে যেন জিম্মাদারের মতো কাজ করে, সে যত ছোটই হোক না কেন। সবাই সব কথা বুঝতে পারে না, কিন্তু বোঝার চেষ্টা যেন সবাই করে। যতটুকু পারে ততটুকু যেন সবাই বুঝে। মানুষের রায় বিভিন্ন রকম হতে পারে। আমার রায় কারো সাথে মিলবে এটা কোনো জরুরি না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথেও অনেক সময় সাহাবাদের রায় মিলেনি। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারাজও হননি। রায় মিলে যাওয়া কোনো জরুরি জিনিস নয়, কিন্তু সে যেন চিন্তা-ফিকির করে।
আমাদের নেসাবের কিতাবের মধ্যে আছে— আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির ফতোয়া হচ্ছে— চব্বিশ ঘণ্টার চেয়ে কম সময়ে ইতেকাফ হয় না। আমরা কিন্তু পাঁচ মিনিটের ইতেকাফও করি। বলা হয় মসজিদে ঢুকে ইতেকাফের নিয়ত করলাম, যতক্ষণ মসজিদে থাকি। আমরা তো হানাফি। আমরা হানাফি মাযহাব মানি, আর ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির ফতোয়া হচ্ছে চব্বিশ ঘণ্টার কম সময়ে ইতেকাফ হয় না; আর আমরা পাঁচ মিনিটেরও ইতেকাফ করি— ব্যাপারটা কেমন হলো? ইমাম মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহির ফতোয়া হচ্ছে— অল্প সময়েরও ইতেকাফ হয়। ইমাম মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির শাগরিদ। তো শাগরিদের ফতোয়া উস্তাদের ফতোয়ার চেয়ে ভিন্ন। মানুষ বলবে, 'কত বড় বেয়াদবি'! না, এটাই শিক্ষা। আর পরবর্তীতে হানাফি মাযহাবের উলামারা মূল আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির ফতোয়াকে গ্রহণ না করে তাঁর শাগরিদ মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহির ফতোয়াকে গ্রহণ করেছেন, এটাই হানাফি ফতোয়া। আর তাঁরা এটা চেয়েছেন যে আমি এমন লোক তৈরি করে যাবো, যে আমার বদল হয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত আর এর আগের নবুওয়াতের মধ্যেও একটা পার্থক্য হলো যে, এর আগের নবীরা তাঁদের বদল তৈরি করে যাননি, আর এর দরকারও ছিল না। আল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে আরেক নবী পাঠাবেন, সেই নবী এসে কাজ করবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'খাতামুন নাবিয়্যীন' হওয়ার কারণে তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না। সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তাঁর বদল তৈরি করে গেছেন, যে নিজ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারে।
একজন নবী নতুন শরিয়ত নিয়ে আসেন। এই উম্মতের মধ্যে প্রায়ই নতুন শরিয়তের দরকার পড়ে। যেমন একটু আগে বললাম যে কিডনি ট্রান্সফার। একজনের কিডনি আরেকজন লাগাতে পারবে কিনা? রক্ত নিতে পারবে কিনা? রোজা রেখে ইনজেকশন দেওয়া জায়েজ হবে কিনা? ইত্যাদি বহু প্রচলন যেগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যমানায় ছিল না, এগুলো এখন আছে। তো যে ফতোয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেননি, সেই ফতোয়া এখন দিতে হচ্ছে। তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের মধ্যে থেকে এমন লোক তৈরি করে গেছেন যে, তারা যেন নতুন নতুন পরিস্থিতিতেও নিজেরা ফতোয়া দিতে পারে। আর এটা না হলে দীন অচল হয়ে পড়বে। শর্ত হলো— প্রত্যেকেই যেন ফিকিরবান হয়, বুঝে। রায় নাও মিলতে পারে। ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির সাথেও তাঁর শাগরিদের রায় মিলেনি। এতে এটাকে বেয়াদবীও বলা হয় না, বিদ্রোহীও বলা হয় না, কোনটাই নয়।
তো দীনের ব্যাপারে আমাদের দায়িত্ব হলো বুঝে করা। এখন আমাদের কাছে নতুন নতুন সাথীরা আসবে, 'কী ব্যাপার'? প্রথম কথা হলো— ভাই, তুমি ব্যাপারটা আগে বোঝ। আমার কথা মানতে হবে এটা জরুরি নয়, কিন্তু বোঝ। না বুঝে যদি করি, তো এটা মুসলমানের মতো হবে না। এটা ঐ নমশূদ্রদের মতই হলো।
প্রথম কথা হলো— বোঝ। বুঝতে গেলে প্রশ্ন করতে হয়। এখন যদি বলে যে, 'প্রশ্ন করা বেয়াদবি'! না, এটা বেয়াদবি নয়। প্রশ্ন করতে হবে। সাহাবারা-সাহাবিয়ারা এসে এসে কত প্রশ্ন করেছেন যেগুলো মজলিসের মধ্যে করতে লজ্জা লাগে। একজন মহিলা এসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে প্রশ্ন করেছেন যে, স্বামী-স্ত্রী মিলনে কোন অবস্থায় গোসল ফরজ হয়? আর এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে তো বিস্তারিত কথা বলতে হয়। কিন্তু যিনি প্রশ্ন করেছেন তিনি এ কথা বলেননি যে, 'লজ্জা লাগে, এই প্রশ্ন করবো না'। তিনি প্রশ্ন করেছেন, আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বিস্তারিত উত্তরও দিয়েছেন যে, এইটুকু হলে গোসল করতে হবে, আর এর চেয়ে কম হলে গোসল না করলেও চলবে।
প্রশ্ন করতে হবে। আর প্রশ্ন করতে গেলে অনেক সময় এরকম অনেক প্রশ্ন করতে হয় যেগুলো জাহেরিভাবে মনে হবে আদবের খেলাফ। কিন্তু প্রশ্ন যদি করে— এটা কোনো আদবের খেলাফ নয়। ডাক্তার যদি রোগীর রোগকে বুঝতে চায়, তাহলে তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হয়। অনেকগুলো জিনিস রোগী বলতে চায় না। অন্যের কাছে বলবেও না, কিন্তু ডাক্তারের কাছে সে বলবে আর বলার দরকার। সেজন্য বুঝুক। আর বুঝতে হলে তো প্রশ্ন করতে হবে। প্রশ্ন করার পরে তোমার দিল যেটায় ইতমিনান হয় সেটার উপর আমল করো। আল্লাহর উপর ভরসা করে নামাজ পড়ো, দোয়া করো....... (অস্পষ্ট)।
সাফ দিলে যদি প্রশ্ন করে, তার কথা যদি ভুলও হয়, কিন্তু সে যেন বোঝার চেষ্টা করে। এরপরেও যদি ভুল হয় আল্লাহ তাআলা তার জন্য...... (অস্পষ্ট)।
নির্জন কোনো জায়গায় গেলাম, এশার নামাজ পড়বো। কিবলা কোন দিকে বুঝতে পারছি না। আশেপাশে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম। যাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম তারাও না জেনে কিবলার ভুল দিক দেখিয়ে দিল। তো কিবলা একদিকে আর নামাজ পড়ছি আরেকদিকে ফিরে। কিন্তু আমার সাধ্যমত খোঁজ-খবর করেছি। তো খোঁজ-খবর করে তারপর যদি আমি ভুল দিকেও নামাজ পড়ি, আল্লাহ তাআলা আমার নামাজকে কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ। কারণ আমি আমার সাধ্যমত জানার চেষ্টা করেছি, লোকজনকে জিজ্ঞাসাও করেছি। আর যদি আমি অপরিচিত কোনো জায়গায় গিয়ে নামাজ ঠিকই কিবলার দিকেই ফিরে পড়লাম, কিন্তু কাউকে জিজ্ঞাসা করলাম না। আর ভাবলাম জিজ্ঞাসা করার কী দরকার, পড়ে নিলেই হলো! 'পড়ে নিলেই হলো' এটা ভেবে কোনো গুরুত্বই দিলাম না, নামাজ পড়লাম, 'বাইচান্স' কিবলার দিকেই হলো, কিন্তু এটাকে আমি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ করলাম না। যদিও হয়ে গেছে বাইচান্স কিবলার দিকে, এই নামাজ হবে না। কারণ, কিবলার নিয়তই করিনি, খোঁজও করিনি। কিন্তু কিবলার উল্টো দিকে ফিরেও যদি কেউ পড়ে কিন্তু খোঁজ-খবর করে তারপর পড়েছে, তারটা ঠিক।
তো আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দীন দিয়েছেন, এই দীন আমার কাছে দাবি করে আমি যেন বোঝার চেষ্টা করি। সাধ্যমত জিজ্ঞেস করে হোক, বুঝে হোক। তারপর রায় মিলতে পারে, না মিলতে পারে এটা কোনো দোষারোপ করাও যাবে না। সেক্ষেত্রে যদি কেউ আল্লাহ তাআলার পছন্দ নয়— সেটার উপরই যদি আমল করে, আল্লাহ তাআলা ওইটাকেও কবুল করবেন।
বদরের কয়েদি যারা ছিলেন তাদের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরামর্শ করে কয়েদিদেরকে মুক্তিপণ দিয়ে ছেড়ে দিলেন। পরে কুরআন শরিফের আয়াত নাযিল হলো যে, এটা ঠিক হয়নি। আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় ছিল এদেরকে কতল করা। কিন্তু যেহেতু পরামর্শ ইত্যাদি করে তারপর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আল্লাহ তাআলা এটাকেই কবুল করলেন। তো আমরা সাধ্যমত বোঝার চেষ্টা করব, উলামাদের কাছে জিজ্ঞেস করব, আল্লাহওয়ালাদেরকে জিজ্ঞেস করব, সাথীদেরকে জিজ্ঞেস করব, তারপরেও যদি ভুল হয় আল্লাহ তাআলা ইনশাআল্লাহ ওইটাকে কবুল করবেন। তো আমরা চিন্তা-ফিকির করি, নিজেও বুঝি, সাথীদেরকেও ফিকিরবান করি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তৌফিক নসিব করুন।
[সমাপ্ত]
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
নিভৃতচারী আল্লাহওয়ালাদের খোঁজে
হজরতের গড়া ছোট্ট, অথচ সুন্দর মাদ্রাসা। মাদ্রাসা থেকে এক ছাত্রকে রাহবার হিসেবে সাথে নিয়ে যখন হজরতের ব...
মাওলানা ডাঃ মোহাম্মদ মাসীহ উল্লাহ
১০ নভেম্বর, ২০২৪
১১৪৯৫
জরুরত - মানুষের প্রয়োজন ও ইবাদত
আল্লাহ তায়ালা বলেন: وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২০ জানুয়ারী, ২০২৬
৩৬৩৮
প্রত্যাশা-হিসাব ও তাওয়াক্কুল-বরকত
"যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও ক...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
৩৮৮২
ত্যাগের বিনিময়ে সম্পর্ক: উম্মতের মহব্বতের বুনিয়াদ
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] স্থান: গাউসনগর জামে মসজিদ, ইস্কাটন রোড, ঢাকা তারিখ: ৯ জুন ২০০৬,বেলা:৩.৩...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১২ জানুয়ারী, ২০২৬
১৯৫৮
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন