দাওয়াতের সার্বজনীনতা (উম্মতের হারানো আমানত এবং তার পুনরুদ্ধার)
দাওয়াতের সার্বজনীনতা (উম্মতের হারানো আমানত এবং তার পুনরুদ্ধার)
দাওয়াতের সার্বজনীনতা
(উম্মতের হারানো আমানত এবং তার পুনরুদ্ধার)
[ মাওলানা ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপমা দিয়ে বলেছেন যে, বড় আলেমরা যেমন বাঘের মতো শক্তিশালী, তেমনি সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে উইপোকার মতো কাজ করলে আরও বেশি কার্যকর হতে পারে। কুরআনেও আল্লাহ তায়ালা দুই নবীকে তৃতীয় দিয়ে শক্তিশালী করেছেন, যা প্রমাণ করে সংখ্যার নিজস্ব শক্তি আছে। দাওয়াতের কাজ উম্মতের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে কারণ দীনের একটি আলাদা তবকা তৈরি হয়েছিল, যাদের দায়িত্ব মনে করা হতো শুধু দীন টিকিয়ে রাখা। ফলে সাধারণ মানুষ এই দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছিল। পুলিশ বাহিনীর উপমা দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে, যে কাজ সবার, সেটা যদি কয়েকজনের দায়িত্ব হয়, তাহলে বাকিরা নিজেদের দায়িত্বমুক্ত মনে করে এবং সেই কাজ আর হয় না। নামাজ-রোজা না করলে মানুষ অপরাধবোধ অনুভব করে, কিন্তু দাওয়াত না করায় কোনো অনুশোচনা হয় না, কারণ তারা এটাকে নিজেদের দায়িত্ব মনে করে না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে দাওয়াত ও ইবাদত আলাদা ছিল না। তিনি নামাজের মধ্যেও বাচ্চার কান্না শুনে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন, হুজায়ফা রা.-কে নামাজেই চাদর দিয়ে উষ্ণতা দিয়েছিলেন এবং মিরাজেও উম্মতের খেয়াল রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে ইবাদত ও দাওয়াত বিভক্ত হয়ে গেছে। দাওয়াতের কাজ উম্মতের কাছ থেকে ছুটে যাওয়ার মূল কারণ হলো যারা দীনের খাস দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, তারা শুধু মুখে বলেছেন কিন্তু নিজেরা আমল করে দেখাননি। হুদায়বিয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে আমল না করা পর্যন্ত সাহাবারাও করেননি। যদিও আদেশেরই গুরুত্ব বেশি, কিন্তু বাস্তবে নিজে যেটা আমল করে সেটাই সমাজে টেকে। তাই দাওয়াতের এই হারানো আমানত পুনরুদ্ধার করতে হলে আলেম-উলামা ও খাস দায়িত্বশীলদেরও নিজে দাওয়াতের কাজে নামতে হবে, শুধু বলা নয়, নিজে আমল করে দেখাতে হবে। তবেই সাধারণ মানুষ এই কাজ করবে এবং দীন সমাজে টিকে থাকবে।]
তারিখ: ৯ই ডিসেম্বর,২০০৬, শনিবার। বাদ যহর
স্থান: মাদানী নগর মাদ্রাসা, নারায়ণগঞ্জ,ঢাকা।
অনুষ্ঠানঃ বার্ষিক ইসলাহি জোড় ।
আলেমদের জমায়।
أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ، بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
وَقَالَ تَعَالَى: لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَনَةٌ
وَقَالَ تَعَالَى: وَقَالُوا مَالِ هَذَا الرَّسُولِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي الأَسْوَاقِ
وَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صَلَّوْا كَمَا رَأَيْتُمُوْنِيْ أُصَلِّى، أَوْ كَمَا قَالَ عَلَيْهِ الصَّلاَةُ وَالسَّلَامُ
একবার জনাব আবদুল ওয়াহাব সাব মাওলানা আবদুল ওয়াহাব মাজহারুল্লাহিল আলাইহি হযরত মাওলানা ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহির খেদমতে একটা মনের অসুবিধা বা প্রশ্ন পেশ করলেন এবং বললেন যে, আমরা সাধারণ মানুষ, আর আবদুল ওয়াহাব সাব তো আলেম নন, তো সেটার দিকেই বিশেষ করে ইঙ্গিত করে, আর সর্ব অর্থেই সাধারণ, রাজা-বাদশাহও নন, কিছুই নন, আলেম নন, পীর নন, মুর্শিদ নন, সাধারণ মানুষ, তো আমাদের মতো সাধারণ মানুষ, আমাদের দ্বারা দীনের কাজ কতটুকু অগ্রসর হবে? যখন চোখের সামনে বড় বড় দৃষ্টান্ত আছে এবং দৃষ্টান্তের মধ্যে সম্ভবত কয়েকটা নামও উল্লেখ করলেন, হোসাইন আহমদ মাদানি রহমতুল্লাহি আলাইহি, আশরাফ আলী থানভি রহমতুল্লাহি আলাইহি—তাদের মতো বড় বড় হস্তীরা তাদের জীবন শেষ করে দিয়েছেন দীনের কাজে, আর সেই জায়গায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষ কিছু কাজ করে কী আর করবে?
হযরত মাওলানা ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উত্তরে বললেন যে, তারা বাঘ ছিলেন, বাঘের মতো মোকাবিলা করেছেন, আর তোমরা উইপোকার মতো খেয়ে ফেলবে! বড় শুদ্ধ এবং বড় ভারী শক্তিশালী উত্তর!
এই কথা কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মোকাবিলায় তারা বাঘ বা তার চেয়ে অনেক বেশি। আবার এই কথাতেও সন্দেহ নেই, একটা উইপোকা বাঘ হাতির সাথে কোনো মোকাবিলা করবে না, কিন্তু উইপোকা একটা জাত হিসেবে একটা দল হিসেবে ওটা বাঘের চেয়ে হাতির চেয়ে বেশি শক্তিশালী।
মূল কথা এখানে ছিল যে, যে কাজ ইজতেমায়ীভাবে করা হয়, সেই করণীয়ালাদের যত ছোট, যত তুচ্ছ, যত দুর্বল হোক না কেন, যদি সম্মিলিতভাবে এই কাজ করে, তাহলে বড় বড় লোক, বড় বড় হস্তীরা নিজস্ব বড় শক্তি প্রয়োগ করে দিয়েও যে নতিজা উপার্জন করতে পারে, তার চেয়ে বেশি করতে পারবে। কারণ, আল্লাহ তায়ালা মজমার মধ্যে বড় জবরদস্ত শক্তি রেখেছেন।
সংখ্যার তার নিজস্ব একটা শক্তি আছে। যদিও এটাকে কখনো কখনো অতিমাত্রায় নিয়ে যায়, তার সীমানার বাইরে, প্রত্যেক জিনিসের সীমানা আছে। তো সংখ্যারও একটা শক্তি আছে, যদিও বর্তমান জামানায় এই শক্তিকে তার সীমানার বাইরে নিয়ে যায়। সংখ্যার শক্তির ব্যাপারে কুরআন শরীফে এই ধরনের ইঙ্গিত আছে:
إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُم مُّرْسَلُونَ
আল্লাহ তায়ালা যখন দুজন নবী পাঠালেন, মিথ্যারোপ করল এবং তারা মানল না, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে শক্তিশালী করলেন তৃতীয় দিয়ে, অর্থাৎ ওই একই ধরনের কিন্তু সংখ্যায় বেশি। গুণে-মানে বেশি আর উত্তম উত্তম দিয়ে এই কথা নয়, বেশি দিয়ে—
فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ
তো সংখ্যার বড় জবরদস্ত শক্তি আছে। যদিও আবার বলছি আধুনিক জামানায় এই সংখ্যার শক্তিকে মানুষ বড় অতিরঞ্জিত করেছে। বড় সংখ্যা যদি বলে তাহলে ঠিক আছে। একজন বললে, ২ জন বললে, ১০ জন বললে, কিতাবে বললে ভুল আর সবাই বললে ঠিক।
তো মিথ্যা কথা তো আর সংখ্যার কারণে সত্য হয়ে যাবে না। কিন্তু সংখ্যার নিজস্ব একটা শক্তি আছে। যার কারণে আল্লাহ তায়ালাও ২ জনের জামাতকে তৃতীয় দিয়ে শক্তিশালী করেছেন।
فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ
তো দীনের এই দাওয়াতের কাজ পুরা উম্মতের মধ্যে যে দীন আসবে, ওটা তো তখন আসবে, যখন পুরা উম্মত দীনের কাজের মধ্যে থাকবে। না-করণীয়ালারা ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে, এরকম নয় যে, করণীয়ালারাই ব্যতিক্রমের মধ্যে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, উম্মতের মধ্যে থেকে এক পর্যায়ে আমভাবে দাওয়াতের কাজ ছুটে গেল। করণীয়ালারা, যারা দাওয়াতের কাজ করছে, তারা হয়ে গেল ব্যতিক্রমী। আর না করাটাই হয়ে গেল সাধারণ।
অথচ উম্মতের মধ্যে হরেক জামানায় ছোট হোক, বড় হোক, একটা দীনদার, দীনকে নিয়ে চলনেওয়ালা একটা তবকা হামেশাই ছিল। কখনো কখনো সেই তবকা খুব ছোট হয়ে গেছে, কখনো কখনো আবার বড় হয়েছে, কিন্তু ছিল।
আওয়াম থেকে ছুটে গেল। আওয়াম থেকে কীভাবে ছুটে গেল এটা আমাদের বোঝার হয়তো প্রয়োজন আছে। কারণ, রোগের চিকিৎসার মধ্যে রোগের কারণ বোঝাও চিকিৎসার একটা অংশ।
একবার গাশতে গিয়েছি এক জায়গায়, তিনি একজন রিটায়ার্ড আইজি ছিলেন। পুলিশের ইন্সপেক্টর, ইন্সপেক্টর জেনারেল, পুলিশের মধ্যে সবচেয়ে উপরের পদ যেটা, আইজি রিটায়ার্ড ছিলেন। তার ওখানে গাশতে গিয়েছি। কথা প্রসঙ্গে বললাম যে, পুলিশ বাহিনীর অস্তিত্ব সমাজে অপরাধ বাড়াবে। পুলিশ বাহিনীর অস্তিত্ব থাকাটাই সমাজে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার কারণ হবে এবং হচ্ছে।
এই কথা বলে বেশিরভাগ লোক ধারণা করে যে, ইঙ্গিত করছি পুলিশের অসততার দিকে। আমি কথা পরিস্কার করলাম। আমি অসৎ পুলিশ বাহিনীর কথা বলছি না। পুলিশ বাহিনীর সবাই যদি মুত্তাকি হয়, পরহেজগার হয়, তাদের দায়িত্ব তাদের সাধ্যমতো নিষ্ঠার সাথে পালন করে, তবুও পুলিশ বাহিনীর অস্তিত্ব সমাজে অপরাধ বাড়াবার কারণ হবে।
এখন তিনি বললেন যে, তা আবার কেন হবে? পুলিশ বাহিনী যদি সৎ হয়, নিষ্ঠাবান হয়, তাদের দায়িত্ব পালন করে, তাহলে তাদের অস্তিত্ব সমাজে অপরাধ কেন বাড়াবে? তাদের দায়িত্ব অপরাধ কমানো এবং তারা সৎ, চেষ্টাও করছে। আমি বললাম যে, এই জন্যই তাদের অস্তিত্ব সমাজে অপরাধ বাড়াবে।
কারণ সমাজের বড় অংশ, বাকি মানুষ মনে করবে যে, অপরাধ দমন এটা পুলিশের দায়িত্ব, আমাদের দায়িত্ব নয়। আর যে কাজ সবাই করবার—ওই কাজ যদি অল্প কয়েকজন করে, তাহলে সেই কাজ তারা করতে পারবে না, সেই অল্প কয়েকজন তাদের জীবন উৎসর্গই করে দিক, তবুও করতে পারবে না।
সমাজে পুলিশ আছে কতজন, কতজন থাকা স্বাভাবিক একটা সমাজে, হাজারে একটা পুলিশও তো সম্ভব নয়। তো যে কাজ এক হাজার জনে করবার, সেই কাজ যদি ১ জনে করে আর ৯৯৯ জন দায়িত্ব ছেড়ে দেয়, সেই একজন বেচারা যদি তার জীবনও শেষ করে দেয়, তাহলে হাজার জনের কাজ তো সে করতে পারবে না।
তো পুলিশ বাহিনীর অস্তিত্ব যেরকম অপরাধ বাড়াবে, দীনের মধ্যে যদি এরকম একটা তবকা থাকে, যাদের সম্বন্ধে লোকের ধারণা বা তাদের নিজেদেরই ধারণা যে সমাজে দীন টিকিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব, বা অন্যরা মনে করে যে ওদের দায়িত্ব, সেই তবকা সে যত দীনদার হোক, যত পরহেজগার হোক, যত মুত্তাকি হোক আর যত মেহনত করুক, আর যত কুরবানিওয়ালা হোক, সেই তবকার অস্তিত্ব সমাজের দীনকে ধ্বংস করে দেবে।
যদি বাকিরা মনে করে যে দীন টিকিয়ে রাখা শুধু ওদের দায়িত্ব, আর তারাও যদি এটা মনে করে, এক তরফা তো আর মনে করতে পারবে না, দুই তরফা মনে করতে হবে। সমাজের মানুষ যেরকম মনে করবে যে, অপরাধ দমন পুলিশের দায়িত্ব, ওটা তখনই সমাজের লোক মনে করবে, যদি পুলিশরা নিজেরাও মনে করে যে অপরাধ দমন আমাদেরই দায়িত্ব।
অন্যান্য বাতিল ধর্মগুলোর মধ্যে বিভিন্ন কারণে আলাদা একটা ধর্মের দায়িত্ব পালনের আরেকটা আলাদা একটা তবকার সৃষ্টি হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণ তবকা, পুরোহিত তবকা, পাদ্রি তবকা—আর মূল তো বাতিলই। আর দীন মিটে যাওয়ার এটা একটা কারণ হয়েছে যে, দীনের জন্য একটা আলাদা নির্ধারিত তবকা হয়ে গেছে।
আল্লাহ তায়ালা শরিয়তের মধ্যে এমন আহকাম রেখেছেন যে, মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা ওইরকম একটা তবকা গড়ে নেওয়ার হলেও শরিয়ত এটা করতে দেয় না। বিভিন্নভাবে এটার উপর বাধা দেয়। আলাদা তবকা হতে পারবে না। সে জন্য যদিও সাধারণ মানুষ অবচেতনভাবে না জেনেই আলাদা একটা পীর-মুর্শিদের তবকা, এভাবে বিভিন্ন ধরনের শ্রেণী বানাতে চায়। কিন্তু কিছুদিন পরপরই মুজাদ্দিদরা এসে তাদের এই গড়নকে ভেঙে ফেলেন। ওরা আবার এসে মিলিয়ে দেয়।
আমাদের আলোচনা হলো ইসলামী তবকা নিয়ে। বেদীন তবকার মধ্যে কী হয়েছে, ওটা আমাদের জানা বেশি জরুরি নয়। তো মুসলমানদের মধ্যে দুর্বলতা এলো কেমন করে বা প্রথম এসেছে কি না। এই কথা তো বোঝা প্রয়োজন যে, আমভাবে দীনের দাওয়াতের কাজ উম্মতের কাছ থেকে ছুটে গিয়েছিল কি না। না, এমনি শুধু একটা কথা। এটা ছুটেছিল। এ অর্থে ছুটেছিল যে—
বেনামাজি সমাজে প্রচুর আছে, কিন্তু নামাজ যে দীনের একটা অঙ্গ এটা স্বীকার করত। এ কথা বলে না যে, নামাজ দীনের অংশ নয়; বা নামাজিদের ব্যাপারে এ ধারণা করে না যে, এ আবার কিসের লোক, যারা নতুন জিনিস আবিষ্কার করছে। তারা কিন্তু দীনের দাওয়াত সম্বন্ধে ধারণা করে না। এই না করার কারণে তাদের মধ্যে কোনো অপরাধবোধও নেই।
নামাজ না পড়ার কারণে, রোজা না রাখার কারণে, অন্যান্য আহকাম আদায় না করার কারণে একজন সাধারণ মানুষ অন্তত জুমার সময় দুঃখিত হয়, কিন্তু দাওয়াতের কাজ না করার কারণে সে কোনো অপরাধবোধ নিয়ে দুনিয়া থেকে যায় না। সে মনে করে না যে, আমি আমার একটা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছি। যেটা নামাজের ব্যাপারে মনে করে, রোজার ব্যাপারে মনে করে, কখনো কখনো পারলে একটু আসিয়াতও করে।
শোনা কথা, আরবের কোনো বড় একজন আলেম হযরতজি মাওলানা ইউসুফ রহমাতুল্লাহির শানে কাসিদা লিখলেন, বেশ আগে যখন হযরতজি মাওলানা ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আরব জগতে অত পরিচিত ছিলেন না। তার পরিচিতি বেশি পেয়েছে ওই হায়াতুস সাহাবার প্রসারের পরে। যখন যিনি কাসিদা লিখেছেন তিনি বড় আলেম, পরিচিত আলেম, যার সম্বন্ধে লিখেছেন তাকে কেউ চেনে না।
লোকে তাকে প্রশ্ন করল, জিজ্ঞেস করল যে, কী ব্যাপার, কার ব্যাপারে লিখেছেন? তিনি নাকি বলেছিলেন যে, এই হিন্দের লোকের কাছে আমি একটা কথা শুনেছি, যে কথা বড় সত্য, বড় গভীর, কিন্তু যেদিকে আমার মন ছিল না। তিনি দোয়ার সময় দোয়া করছিলেন যে, হে আল্লাহ, আমাদের চোখের সামনে দীন মিটল আর আমরা রয়ে গেলাম, আমাদের এই জুলুমে আজিমকে মাফ করো। তার একটা গদ্য ছিল:
**همارے سامنے دين مٹتا رها اور هم نه مٹے، همارے اس جرم عظيم كو معاف فرما**
(হামারে সামনে দীন মিটতা রাহা আওর হাম নাহ মিটে, হামারে ইস জুরমে আজিম কো মাফ ফরমা।)
তো দীনের কাজ না করা যে একটা জুলুমে আজিম, এই কথা তো খেয়াল করিনি। চুরি করা, ডাকাতি করা, নামাজ না পড়া, রোজা না রাখা, কিন্তু দীনের কাজ না করায় যে আমি অপরাধী এই কথা তো খেয়ালে ছিল না।
তো বোঝা যায় যে, ঠিকই সমাজের মধ্যে ছিল না, আমভাবে মুসলমান এটাকে ছেড়ে দিয়েছিল। এখন পর্যন্ত দুনিয়াতে এরকম পাওয়া যাবে না যে, কিছু লোক নামাজ পড়ে বলে মসজিদ কমিটি বলে যে, এসব লোককে এখানে আসতে দেবো না। বা বলে যে এই নামাজিরা ঢুকেছিল, মসজিদকে ধাও। কিন্তু দাওয়াতের কাজ করে বলে এদেরকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না, মসজিদকে ধুতে হবে এরকম লোক তো এখানেও আছে।
সে জন্য দাওয়াতের কাজ ছুটেছে যে, এ কথা পরিষ্কার। নামাজ না পড়নেওয়ালা বহুত আছে কিন্তু ইনকার করনেওয়ালা নেই। অথচ দাওয়াতের ব্যাপারে ইনকার করনেওয়ালা আছে, আম তরফে। এখন তো কমে গেছে, আর প্রথমে তো আরও ব্যাপকভাবে ছিল। এটা হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে।
উলামারা, একটা ঘটনা, শোনা কথা অথবা পড়েছি, হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাবলিগের দাওয়াতের কাজকে পেশ করার জন্য হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভি রহমাতুল্লাহি আলাইহির খেদমতে গেলেন। আর এই যে দাওয়াতের কাজ যেভাবে করা হচ্ছে, মোটামুটিভাবে একটা নকশা তার সামনে পেশ করলেন।
হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এটাকে গ্রহণ করতে পারলেন না। কয়েকটা আপত্তি তার খেয়ালের মধ্যে এলো, তার মধ্যে একটা ছিল যে, অজানা সাধারণ মানুষ, মানুষের মধ্যে দীনের কথা বলবে, এতে ভুল কথা বলবে আর বেদাত বাড়বে। আর বেদাতের ব্যাপারে তিনি বড় ফিকিরমন্দ ছিলেন। আর গোটা দুনিয়াকে বিশেষ করে হিন্দুস্থানকে বেদাতের বিরুদ্ধে তিনি তার সম্পূর্ণ শক্তি খরচ করেছেন।
এই সময় যদি আরেক দল যারা নিজেরা আলেম নয়, লোকের মধ্যে দীনের কথা নিয়ে ঘোরাফেরা করতে আরম্ভ করে, তো সাধারণভাবেই এরা ভুল কথা বলবে আর বেদাতের প্রসার ঘটবে। তিনি এটা আপত্তি করলেন। আর এই আপত্তির উৎপত্তিও একটু বোঝার চেষ্টা করা দরকার।
প্রথম হলো দাওয়াত বলতে হযরত থানভি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তালিম ভেবেছেন, আর তালিমের মধ্যেও মাসায়েলের তালিম ভেবেছেন। আর এই এশকাল তখনই শুদ্ধ, যদি না জেনে কেউ মাসআলা বলতে আরম্ভ করে, তবেই সে ভুল মাসআলা বলবে আর জাহালত বাড়বে। যদি সে মাসআলা বলেই না, তাহলে তো আর এই কথা উঠছে না।
তো দাওয়াতের কথা বললেন আর তালিম ভাবলেন। । এটার কারণ কী?
আম মুসলমান তো দাওয়াত শব্দ এবং অর্থ দুটোই হারিয়েছিল। আর দাওয়াত যেটুকু বাকি ছিল ওটা খাওয়ার দাওয়াত ছিল। এর বাইরে দাওয়াত শব্দ, আমি নিজেও এই দাওয়াতের অর্থে দাওয়াত শব্দ বড় হওয়ার পরে তাবলিগে যাওয়ার পরে শিখেছি। এর আগে পর্যন্ত দাওয়াতের অর্থ খাওয়া হিসেবেই জানতাম।
এইটা হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে। উলামাদের মধ্যে এই অর্থ থাকা সম্ভব নয়, যা কুরআন শরীফের মধ্যে হাদিস শরীফের মধ্যে দাওয়াত শব্দ হয়তো বিভিন্নভাবে এত বেশি বারবার এসেছে যে, উলামাদের মধ্যে দাওয়াত বলতে খাওয়া বোঝায়—এটা উলামাদের মধ্যে থাকা সম্ভব নয়।
কারণ, কুরআন শরীফ পড়তে হয়েছে, হাদিস শরীফ পড়তে হয়েছে, এমনকি ফিকাহের মধ্যেও এটার উল্লেখ বিভিন্নভাবে আছে। কিন্তু পাশাপাশি জিনিসের মধ্যে তার অর্থ হারিয়ে গেছে। আর পাশাপাশি হচ্ছে তালিম। তো যদিও দাওয়াতের অর্থ পড়া পড়ানো বাকি রয়েছে, কিন্তু অজান্তেই এটার অর্থ হয়ে গেছে তালিম। তো এই অর্থ উলামাদের স্তরে কেমন করে এলো?
---
মিসাল, আশরাফ আলী থানভি রহমতুল্লাহি আলাইহি, উলামাদের মুয়াল্লিম। একটা জিনিস যখন সমাজে আম হয়, তখন একেবারে উপর পর্যন্ত যায় এবং ওটাকে একেবারে নিখুঁত বিচারের অর্থেও ভুল বলা যায় না। একটা শব্দের অর্থ সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং ওটাই তখন তার শুদ্ধ অর্থ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সময় বললেন:
**إِنِّيْ أَنَا النَّذِيْرُ الْعُرْيَانُ**
আগের জামানায় কখনো কখনো বড় বিপদ-বিপত্তি কিছু হলে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে নিজের জামা-কাপড় খুলে হাত দিয়ে নাড়াত, দূর থেকে যাতে দেখা যায়, আর দেখাবার জন্য এটাই কাছে, নিজের জামা-কাপড়। আর আরবদের উলঙ্গ হওয়া এমন বেশি আয়েব মনে করত না, সহজেই উলঙ্গ হতে পারত আর মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন।
বড় বিপদের কথা, সে জন্য পাহাড়ের উপরে উঠে উলঙ্গ হয়ে কাপড় উড়াত, আর বিপদের কথা সাবধান করত যে, আক্রমণ হচ্ছে বা কিছু একটা। এইরকম গুরুত্বপূর্ণ বিপদের কথা যে অবগত করছে তাকে বলা হয় النَّذِيْرُ الْعُرْيَانُ
উলঙ্গ সাবধানকারী।
রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেকেও **النَّذِيْرُ الْعُرْيَانُ** বলেছেন। এখানে নাউজুবিল্লাহ রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো ভুল কথা বলবেন না কি? **الْعُرْيَانُ** শব্দ এখানে উলঙ্গ অর্থেই নয়।
তো প্রচলিত সমাজে যে অর্থ সেই অর্থে, যদি এটা উলঙ্গ অর্থে হতো তাহলে কথা শুদ্ধ না, আর রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে শুদ্ধ কথা কে বলবে? তো শব্দের যে অর্থ গ্রহণ করা হয়, ওটা তার ওই সমাজে ওই জামানায় যে অর্থ প্রচলিত সেই অর্থই দাওয়াত।
সে জন্য থানভি রহমতুল্লাহি আলাইহি এখানে উত্তরে ভুল করেননি। এটাই দাওয়াতের অর্থ ছিল। সেই হিসেবে তিনি এভাবে ভেবেছেন যে, দাওয়াতের সময় তালিম। এটাই সমাজে ছিল।
---
দীনকে যে টিকিয়ে রেখেছিল, বেশ কয়েকশো বছর পর্যন্ত, পুরা উম্মতের মধ্যে দীন যে ছিল, তা তালিম এবং যিকির এই দুই মেহনতের জন্যই দীন টিকে ছিল। আর এটার বিপরীত দাওয়াত যেটুকু ছিল, এটার ভেতরেই ঢুকে গেছে। স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ছিল না। এর ভেতরে ছিল:
- নামাজের মধ্যে দাওয়াত আছে
- আজান একটা দাওয়াত
- আর এ ছাড়া নামাজকে দেখেও তার অভ্যাস জাগে
- একজন নামাজ পড়তে দেখল, তো পড়তে দেখেও আরেকজনের উপর তার দাওয়াতের কাজ করে, সে ওদিকে মুতাওয়াজ্জাহ হয়
- মাথায় একজন টুপি দিয়ে মসজিদ থেকে যাচ্ছে বাজারের দিকে, তো এই টুপি দেওয়া অবস্থায় ওর যাওয়া এক ধরনের দাওয়াত
কিন্তু এর মধ্যে দাওয়াতের তাছির যদিও আছে, কিন্তু স্বতন্ত্র এটা দাওয়াতের অস্তিত্ব না। দাওয়াতের কিছু সিফাত এসব আমলের মধ্যে ঢুকে গেছে। তো ওইরকম অন্যান্য আমলের মধ্যে দাওয়াতের কিছু কিছু সিফাত ছিল, কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে দাওয়াতের একটা মুস্তাকিল অস্তিত্ব ছিল না।
এই উম্মতকে মুস্তাকিল অস্তিত্বে দাওয়াত দিয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগের উম্মতগুলোর মধ্যেও বিভিন্ন অবস্থায় দাওয়াতের কিছু কিছু কাজ ছিল। ওই আবেদের কথা, যে আবেদের থাকা অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা গোটা গ্রামকে ধ্বংস করে দেবার হুকুম দিলেন। আর যখন বললেন যে, এমন এক আবেদ আছে যে পলক পরিমাণ গাফিল হয় না। তখন বলা হলো যে, তার সামনে নাফরমানি হয়েছে আর তার কপালে দাগ পড়েনি, ওকে-সহ ধ্বংস করো।
সেই আবেদ তো এই উম্মতের মধ্যে না, আগের উম্মতের মধ্যে থেকে। অথচ এই উম্মতকে কুরআন শরীফে **خَيْرَ أُمَّةٍ** (সর্বোত্তম উম্মত) বলা হয়েছে দাওয়াতের কারণে। তো সেই আবেদের অর্থ কেমন করে হলো?
তো সাময়িকভাবে বিশেষ অর্থে তারাও দাওয়াতের কাজ করতেন, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে দাওয়াতের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ছিল না। তার দৃষ্টান্তটি ছিল এই ধরনের যে:
একজন পথিক পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছে, আর এক বাচ্চা পুকুরে পড়ে গেল। এই পথিক সে বাচ্চাকে উঠালো না, সে চলে গেল। তাকে দোষারোপ করা হবে যে, তুমি বাচ্চাটাকে পড়তে দেখলে, উঠালে না কেন?
এই কথা যদি বলে যে, আমি তো আর এখানকার দারোয়ান না, এটা উত্তর নয়। দারোয়ান হও আর না হও, তোমার সামনে একটা ঘটনা ঘটল, একজন মানুষ হিসেবে তোমার দায়িত্ব ছিল এই বাচ্চাটাকে উদ্ধার করা।
ভিন্ন অবস্থায় পুকুরের পাড়ে একজন দারোয়ানকে নিয়োগ করা হয়েছে, দেখবার জন্য। দারোয়ান অনেক সময় ধরে ওখানে অনুপস্থিত, মালিক বলল যে, তুমি কেন অনুপস্থিত ছিলে, ওখানে দেখলাম না, তুমি ছিলে না। বলল যে, কেউ তো ডোবেনি। এটা উত্তর নয়, তোমার ওখানে থাকাটাই তোমার দায়িত্ব। কোনো ঘটনা ঘটুক না ঘটুক, কিছু আসে যায় না।
তো একটা হলো যে, একটা ঘটনা ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে একটা দায়িত্ব পেয়ে যাওয়া। ওই পথিকের যেমন হয়েছিল, দারোয়ান না হওয়া সত্ত্বেও। কিন্তু সাময়িক একটা দায়িত্ব এসে গেছে। ওই আগের যে আবেদ, ওই পথিক-জাতীয়, দাওয়াতের তার মুস্তাকিল দায়িত্ব নেই, কিন্তু সাময়িক দায়িত্ব এসে গেছে। ঘটনা, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে।
একজন মানুষ ধনী নয়, তার উপর জাকাত ফরজ নয়, তার প্রতিবেশী ভুখা, সে তাকে দিলো না। তুমি কেন দিলে না? বলে যে, আমি ছাহেবে নেসাব না। এটা কোনো উত্তর না। ছাহেবে নেসাব হলে তো তাকে দিতে হতো, কেউ ভুখা থাকুক বা না থাক।
যেরকম দারোয়ান হলে পাহারা দিতে হতো, পুকুরে কেউ পড়ুক বা না পড়ুক। কিন্তু যদি ছাহেবে নেসাবও না হয়, আর একটা জরুরত তার সামনে পেশ হয়ে যায়, তখন সাময়িকভাবে দায়িত্ব এসে যায়। আগের উম্মতগুলোর ওরকম ছিল। আর এই উম্মতের মুস্তাকিল দায়িত্ব।
জাকাত যেরকম মুস্তাকিল দায়িত্ব, এটা সমাজে অভাব থাকার উপর নির্ভরশীল নয়। সমাজে অভাবী থাকুক বা না থাকুক, ওর উপর জাকাত ফরজ। আর অন্যথায় সাদকা হলো সমাজে অভাবী লোক থাকলে সাময়িকভাবে তার উপর দায়িত্ব এসে যায়। আর এটা সবার উপর নয়, যে জানে তার উপর।
তো এই উম্মতের উপর যে দায়িত্ব, যদিও এটা ভিন্নভাবে অন্যান্য আমলের ভেতর দিয়ে কিছু কিছু আদায় হয়ে গেছে, কিন্তু মুস্তাকিল একটা দায়িত্ব অনুভব করে সেই হিসেবে এটা পালন করা সমাজ থেকে উঠে গেছে। আর এত বেশি উঠে গেছে, যেরকম বললাম যে, সব অর্থেই সামাজিক পরিবর্তন হয়ে গেছে।
দাওয়াত দাওয়াতের অর্থ নিয়ে আর থাকবেনা, যার কারণে হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন দাওয়াতের কথা পেশ করলেন, তো থানভি রহমতুল্লাহি আলাইহি এটা তালিম হিসেবে গ্রহণ করলেন। আর সেই হিসেবে এশকাল কিছু পেশ করলেন।
যদিও পরবর্তী সময়ে আবার অনেকদিন পরে হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি তার কাছে আবার গেলেন। তাবলিগের কাজ কিছু আরম্ভ হওয়ার পরে। বোঝাবার চেষ্টা করলেন। আলেম আলেমের সাথে যেভাবে কথা বলে একটু দালায়েল দিয়ে, সম্ভবত সেভাবে কথা আরম্ভ করেছিলেন।
থানভি রহমতুল্লাহি আলাইহি একটু বড় ছিলেন, মাওলানা ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি একটু ছোট হিসেবে, তার উপর ছোটের উপর এই অধিকার প্রয়োগ করলেন, আর কথা বলতে দিলেন না, চুপ করিয়ে দিলেন। আর বললেন, সন্দেহ থাকলে দালায়েলের প্রয়োজন হয়, সন্দেহ নেই, দালায়েলের দরকার নেই। আগে সন্দেহ ছিল, সন্দেহ দূর হয়ে গেছে। এখন আর দালায়েল দিয়ে বোঝাতে হবে না, দিল মেনে নিয়েছে। দালায়েল এখন শুনতেও চাইলেন না, প্রয়োজনও নেই।
অন্য কারও কাছে উক্তি করলেন, হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহমতুল্লাহির পেশ করা এই কাজ সম্বন্ধে:
**مولوی الیاس نے تو ایاس کو آس میں بدل دیا**
(মাওলবি ইলিয়াস তো নিরাশাকে আশায় পরিবর্তন করে দিয়েছেন।)
কিন্তু ওই অনেক দিন পরে।
আবার ফিরে আসি, উম্মতের কাছ থেকে আমল ছুটল কেমন করে, কিতাবের মধ্যে আছে, উলামারা পড়ছেন, পড়াচ্ছেন, বলছেন, ওয়াজ করছেন, শুধু যে ক্লাসরুমের ভেতরে তাই নয়, বাইরে গিয়েও বলছেন। তাহলে কেমন করে ছুটে গেল? আর ওয়াজ ইত্যাদি তো ছিল।
উম্মতের মেজাজ হচ্ছে **আমল দেখে আমল করা**, কথা শুনে আমল করা নয়, বা ব্যাপকভাবে নয়।
- একটা আদেশ যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেন, উৎসাহ দিলেন যে এটা করো, তো ফিকাহের হুকুম হিসেবে এটা শক্তিশালী হুকুম
- কিছু করতে বললেন না, শুধু নিজে করলেন, এটাও সুন্নতের মধ্যে আছে, কিন্তু তার ওজন আদেশের তুলনায় কম
- তো আদেশের তুলনায় আদতের ওজন কম, কিন্তু **উজুদে আসে আদত বেশি এবং দ্রুত**
হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাথা কামাবার আদেশ দিলেন। অথচ কেউ কামালেন না। নিজে যখন কামালেন তখন সবাই আমল করলেন।
**ওজন তো আদেশের বেশি আর আদতের ওজন কম। কিন্তু আদতের মেজাজ হচ্ছে, প্রসার দ্রুত হয়। আর আদেশের প্রসার কম।**
কারণ, ওটা দেখে দেখে করা হয়, এটা সহজ যা ফিতরাতের কাছে। বাচ্চারা দেখে দেখে করে। বুঝে করার জন্য একটা করার শক্তির প্রয়োজন। বোঝা, অনুভব করা, দিলের মধ্যে নেওয়া, এগুলো সবাই পারে না। বিশেষ করে বাচ্চারা পারে না। সে জন্য বাচ্চারা কথা যদিও বোঝে না, কিন্তু দেখে করতে পারে।
**তো দুর্বল মানুষও দেখে করতে পারে, শুনে আমল করা অত সহজ নয়। আর বেশিরভাগ মানুষই দুর্বল।** সে জন্য আমভাবে দেখে করে।
আল্লাহ তায়ালা যে আমলগুলো সবার জন্য করণীয় বানিয়েছেন। শরিয়তের হুকুমের মেজাজ এরকম, **যে হুকুম দুর্বলের জন্য, ওই হুকুম সবার জন্য।**
একটা জামাত চলার মেজাজের মধ্যে হচ্ছে, ১০ জন লোক আছে, একজন দুর্বল, সবচেয়ে দুর্বল যে সে যে গতিতে চলবে, পুরা জামাত যেন সেই গতিতে চলে। সবলরা তার শক্তিতে সে দুর্বলের সাথে মিশতে পারি, দুর্বল নিজেকে সবল বানিয়ে সবার সাথে চলতে পারবে না।
**সে জন্য সবচেয়ে দুর্বল যে, তার উসুলের উপর যেন চলে।** একটা কথা আছে, **শিকলের শক্তি হচ্ছে তার দুর্বলতম কড়ার উপর।**
একটা শিকলের মধ্যে অনেক কড়া দিয়ে শিকল হয়। তো প্রত্যেকে কড়া ১০০ টন ধরতে পারে, ওজন। মাঝখানে একটা কড়া আছে ১০ টনের বেশি বহন করতে পারে না। ১০-এর বেশিতে ওই কড়া ছিঁড়ে যাবে। তাহলে সম্পূর্ণ শিকলের বহনশক্তি কত, বলে ১০ টন ১০০ নয়।
যদিও মাত্র ১টা কড়া ওই ১০ টনের বাকি সবগুলো বেশি শক্তিশালী, কিন্তু শিকলের শক্তি হবে দুর্বলতম কড়ার যে শক্তি সেই শক্তি। জামাতের মধ্যেও দুর্বলতম কড়ার যে শক্তি সেই শক্তিতে জামাত চলবে। সবচেয়ে দুর্বল যে, সে যে গতিতে হাঁটতে পারে, সম্পূর্ণ জামাত সে গতিতে হাঁটে।
সমাজের মধ্যে অনেক লোক আছে, তার রূহানি শক্তি এই ধরনের যে, যদি কোনো নাজায়েজ হারাম দেখে, কোনো মহিলা তার নজরে পড়ে, তাহলে তার দিল মুতাআসসির হবে না। আল্লাহর জ্ঞান তার ওই পরিমাণ আছে, তার দিলের মধ্যে তাকওয়া ওই পরিমাণ আছে যে, যদি কোনো নাজায়েজ দেখে, তাহলে তার দিল এতে মুতাআসসির হবে না।
কিন্তু দুর্বল যে সে যদি দেখে, সে মুতাআসসির হবে। **শরিয়তের হুকুম ওই দুর্বলের জন্য যে হুকুম, সবার জন্য ওই হুকুম। শক্তিশালীর জন্য যে হুকুম দুর্বলের জন্য ওটা প্রযোজ্য নয়। দুর্বলের জন্য যে হুকুম, শক্তিশালীর জন্য ওই হুকুম।**
সে জন্য যে মুত্তাকি, পরহেজগার, আল্লাহওয়ালা, তার উপরও পর্দার ওই হুকুম, একজন ফাহেশ মানুষের জন্য যে হুকুম।
**ওই একই উসুলের উপর যেসব কাজ সবার করবার, ওই কাজ যেন আওয়ামও করে। দাওয়াতের কাজ সবাই করবার কাজ, সাধারণ দাওয়াত, এটা যেন খাওয়াসরা না ছেড়ে দেন; নিজেকে মুস্তাগনি না ভাবেন।**
উমুমি কাজ যেগুলো, নামাজের ব্যাপারে তো আল্লাহ তায়ালা পরিষ্কার বিধান দিয়ে দিয়েছেন, কেউ নিজেকে ব্যতিক্রম বানায়নি। হ্যাঁ, এখানেও মানুষ কিছু চেষ্টা করেছে, বেদাতিরা, এরকম লোক আছে যে ধ্যানের নামাজ পড়ে। আর ওরা কেউ কেউ এরকম আছে যে, ঠিকই ধ্যান-ট্যান ইত্যাদি করে। আর করলে হয়তো কিছু দেখেও। সেটা অস্বীকার করব না। কিন্তু জাহেরি নামাজ ছেড়ে দিয়েছে, তার দরকার নেই। কিন্তু শরিয়তের পাবন্দ লোক তো জাহেরি নামাজকে ছাড়তে পারে না, তার শরিয়তের হুকুম যেহেতু আছে, কিন্তু দাওয়াতের মধ্যে উমুমি কাজ যেগুলো, সেগুলো ছেড়ে দিয়েছে। কারণ, শরিয়ত ওখানে বাধ্য করেনি। আর আল্লাহ তায়ালা উমুমি কাজকে আফজল বলেছেন।
**وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ**
বিভিন্ন হায়সিয়াতে দাওয়াত দেওয়া যায়—আলিম হিসেবে, পীর হিসেবে, বাপ হিসেবে, আরও বিভিন্ন হিসেবে। কিন্তু আহসান কাওল, ওটার সম্পর্ক করা হয়েছে যেটা একজন মুসলিমিন হিসেবে। আলিমও না, পীরও না, কিছুই না; একজন সাধারণ মুসলমান। ওটার সম্পর্ক আহসানের সাথে।
তো আল্লাহ তায়ালা ওখানে ফায়দাও বেশি দিয়ে থাকেন। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বারা আল্লাহ তায়ালা মুজেজা জাহির করেছেন, এটাও দরকার ছিল। নবী হিসেবে একটা দলিল পেশ করাবার জন্য মুজেজা, বরং একেবারে সাদাসিধা কথা, একজন সাধারণ মানুষ যে কথা বলতে পারে:
**إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ**
এর বুনিয়াদের উপর, সেই ধরনের কথার দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছেও বেশি মানুষ মুসলমান হয়েছে।
চাঁদ দুই টুকরা হয়ে গেল, ঈমান তো আনলই না; বলল জাদুকর। আর হিজরতের সময় দেখা হলো, আর বললেন যে, একটা ভালো কথা বলব? জি, হ্যাঁ। বললো:
**لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ**
বলে নিলো। সহজেই ইসলাম কবুল করলেন।
**তো আল্লাহ তায়ালা এই দাওয়াতকে সহজ রেখেছেন এবং সহজ মানুষ স্বাভাবিকভাবে যখন দাওয়াত দেবে, তো আল্লাহ তায়ালা এর ভেতর দিয়ে দেবেন।**
আর মানুষ বিভিন্নভাবে যাদের উপর বিশেষ দায়িত্ব থাকে, তার সামনে ওজর থাকে, আর সে ওজরের পরিপ্রেক্ষিতে যে কাজ মনে করে যে, আমি না করলেও তো চলে, সেই কাজ অন্যের দায়িত্বে দিয়ে দেয়। আর যে কাজ মনে করে যে, আমি ছাড়া পারবে না, ওটা সে নিজেই করবে।
একজন মা তার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান, ওটা তো মাকেই করতে হবে, কাঁথা ধোয়ার কাজ অন্যকে দিয়ে করাতে পারি। ওটার বদল আছে। এটার তো ওজর নাই।
তো সমাজের মধ্যে বুখারি শরীফ পড়ান, ওটার বদল নেই। কিন্তু উমুমি কাজ করার বদলা আছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ করতে পারে।
**আর এই ধরনের যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতেই ধীরে ধীরে, উমুমি কাজ যেগুলো করার জন্য কোনো বিশেষ যোগ্যতার দাবি রাখে না, সেই কাজগুলো তাদের কাছ থেকে ছুটে যায় যারা বিশেষ যোগ্যতার অধিকারী।**
কারণ, এটা তো অন্যরা করতে পারে, তারা করবে। আর যেগুলো অন্য কেউ করতে পারবে না, সেগুলো আমাকেই করতে হবে। তো বিশেষ যোগ্যতার অধিকারী যারা, তাদের কাছ থেকে ওই কাজগুলো ছুটে যায় ধীরে ধীরে, যে কাজগুলো বিশেষ কোনো যোগ্যতার দাবি করে না, সাধারণ মানুষের।
আর যোগ্যতাসম্পন্ন যারা তারা যদি আমলান একটা কাজ না করে, মুখে যত আদেশ দিক, সমাজে ওটা থাকবে না। নিজে করে না দেখালে থাকবে না। মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে ওসব কাজ সম্বন্ধে তাচ্ছিল্য পয়দা হবে।
**তারা ভাববে যে, কাজটি যদি এত বড়ই হতো তাহলে বড় লোকই তো করত। তিনি যখন করেন না, বোঝা গেল, কাজটি তেমন বড় নয়।** যদিও তিনি আমাদের আদেশ দিয়েছেন, কিন্তু তাতে কী! তিনি নিজে তো করেননি! অর্থাৎ অস্বীকার করবে না বটে; কিন্তু অবজ্ঞা করবে।
**দেখুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিষ্কার ভাষায় সাহাবিদের মাথা কামাতে বললেন। সাহাবিগণ কিন্তু তখন কামাননি; বরং কামিয়েছেন তখন, যখন নবীজি নিজেই কামিয়েছেন।**
এর পরবর্তীকালে যত বড় হেদায়েতি, যত তাফসিরি হেদায়েতিই হোক না কেন, করবে না, করবে তো তখনই যখন নিজেও করবে। আদেশে মানুষ করতে পারে না।
**আদেশের উপর করণীয়ালা এই ধরনের মানুষ আল্লাহ তায়ালা মাঝে মাঝেই পয়দা করেন, হামেশা নয়।**
মুজতাহিদ, মুজতাহিদ কারা, যারা বর্তমান সমাজে প্রচলিত যেসব আমল আছে, এসব প্রচলিত আমলের ঊর্ধ্বে কোনো আমল করতে পারে। তারা সেই আমল পেল কোথায়, দালায়েল থেকে। কিতাব থেকে, তাকওয়া থেকে, হাদিস থেকে। নিজে করতে পারে, যেসব আমল ওই প্রচলিত সমাজের মধ্যে নেই।
**এই ধরনের মুজতাহিদিনরা কদাচিৎই আসে, শত বছর পরে, হাজার বছর পরে, হামেশা হয় না। হামেশা তো ওই তবকাই থাকে, যারা দেখে দেখে করে।**
তো দেখানোওয়ালাও নিজেরা যদি না করে, আর শুধু বলে, শুধু বলাতে হবে না, আমল ছুটে যাবে। দেখাতে হবে।
**তো সে জন্য রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেকে একেবারে ন্যূনতম আমলের মধ্যে আমলান শরিক রাখতেন।**
সবাই গিয়ে জঙ্গলে খড়ি কুড়াচ্ছে, তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও খড়ি কুড়াতে গিয়েছেন। বড় গভীর উসুল।
**আমরা বলতে পারি যে, একজন বিশেষ ব্যক্তির অনেক দায়িত্ব আছে, এই সাধারণ কাজ তো আমরাই করতে পারি, তাকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেই হয়। উমুমি গাশত আমিই করতে পারি, তিনি হাদিস শরীফ দরস দিক, যেটা আমরা পারি না বা এই ধরনের কথা।**
যতই যুক্তি হোক না কেন, এসব যুক্তি অনেক বেশি মাত্রায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য প্রযোজ্য ছিল। খড়ি তো আমরা কুড়াতে পারি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ১০টা মিনিট, যদি উম্মতের সামনে কিছু কথা রাখেন, তাহলে ওটা কেয়ামত পর্যন্ত নির্দেশনা থাকবে।
তার ১০টা মিনিট যদি বাঁচানো যায় আর আমরা তার বদলে খড়ি কুড়াই, তাহলে এটা তো একটা যুক্তি ছিল। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মজবুত উসুলকে সাবিত করেছেন, **যেটা অন্যদের করবার ওটা আমাকেও করতে হবে; শুধু বললে হবে না।**
**আর করার দ্বারা মানুষ বড় দ্রুত প্রভাব নেয়। বলার দ্বারা আছর নেয় না।*
বেশ কিছুদিন আগে ঢাকার সুহরাওয়ার্দী বাগে রাস্তা, বড় রাস্তার উপর ঠেলার গাড়ি নিয়ে আটার ভারী ভারী বস্তা নিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে কীভাবে ভার হয়ে গেছে, কাত হয়ে গেছে আর ওই বস্তাগুলো পড়ে গেছে। খুব ভারী বস্তা, আর যারা ঠেলাগাড়ি ঠেলছিল দুজন, ওদের সাধ্যের বাইরে বস্তা উপরে উঠাবার।
আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে দেখলাম, ভাবলাম যে বেচারাদের গিয়ে সাহায্য করা দরকার। যদিও ভারী কাজ আমার মতো লোকের কাজ নয়। রাস্তার অন্য লোক যদি এসে শরিক হয়, তাহলে ওদের কাজ তো হয়ে যাবে। আমি যদি বলি অন্যদের শরিক হওয়ার জন্য, কেউ করবে না কি?
তো আমি ওই উসুল তো জানা আছে, ওটা কাজে লাগালাম, এগিয়ে গিয়ে বস্তা ধরতে লাগলাম। রাস্তার মাঝখানে, যখন গিয়ে ধরবার চেষ্টা করলাম, তাড়াতাড়ি রাস্তার পাশ থেকে বেশ আট-দশ জন লোক দৌড়ে চলে এল, ওরা বস্তা উঠিয়ে দিলো, আমি চলে এলাম।
**আল্লাহ তায়ালা মাফ করুক, বস্তা উঠাবার, নিজের হাত দিয়ে বস্তা উঠাবার নিয়তই ছিল না। ওই নিয়ত করাও আমার সামর্থ্যের বাইরে, ভারী বস্তা, আমার মতো লোকের কাজ নয় এগুলো। কিন্তু আমি গিয়ে শুধু হাত লাগালাম, দেখি কিছু কিছু লোক চলে আসছে এই আসাতেই। চলে এলো, কাজও হয়ে গেল।**
**صَلَّوْا كَمَا رَأَيْتُمُوْنِيْ أُصَلِّىْ**
আল্লাহ তায়ালা দীনকেও এভাবেই দিয়েছেন। **كَمَا عَلَّمْتُ** বা **كما تعلمت** কোনোটাই নেই। **كَمَا رَأَيْتُمُوْنِيْ** দেখে করো।
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তায়ালা উসওয়া দিয়ে পাঠিয়েছেন। উসওয়াও প্রধান অংশ এটা দেখে চলবার। নিদর্শন। তো আল্লাহ তায়ালা হরেক জামানাতে আল্লাহওয়ালাদেরকে পাঠিয়েছেন সাধারণ মানুষ যেন তাদেরকে দেখে চলে।
**তার কাওল, আমল, শুনতে তো জরুর হবে, মানুষ বেশি ফায়দা পাবে তাকে দেখে। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যারা দেখেছে তাদেরই মর্তবা বেশি, সাহাবি তারাই। কারণ, দেখনেওয়ালারা যে ফায়দা পেয়েছে, শুননেওয়ালা ওই ফায়দা পাবে না।**
তো উম্মতের মধ্যে যারা খাওয়াস ছিলেন, তাকওয়া, পরহেজগারি, ইলম, বিভিন্ন কারণে আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে উপরে উঠিয়েছেন, তারা যদি উমুমি কাজগুলো নিজে না করেন, তাহলে উম্মতের কাছ থেকে উমুমি কাজ ছুটে যাবে। আর এই ধরনেরই কিছু ইতিহাসে হয়েছে।
---
ধীরে ধীরে অন্য কাজের মধ্যে চলে এসেছেন। যিকির ও তালিমের মাধ্যমে দাওয়াতের প্রসার হয়েছে। এই দুই কাজের মধ্যেই একটার যোগ্যতা অর্জন করা এক স্তরের বিষয়, আর প্রসার হলো আরেক স্তরের বিষয়। ইলমের মধ্যে ইলম হাসিল করা এক স্তর আর ইলমের প্রসার করা আরেক স্তর।
**জীবনকে ভাগ করা হয়েছে। পড়ার জামানায় সে পড়বে আর পরে সে পড়াবে।** তরিকার মধ্যেও এই একই উসুল। এক জামানায় সে তাজকিয়া অর্জন করবে, খেলাফত পাওয়ার পরে ইজাজত পাওয়ার পরে অন্যের কাছে যাবে। এই বিভক্তিগুলো এটা পরবর্তীকালের।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহির জামানায় জীবনের কাজকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করার তরতিব ছিল না। অনেক জিনিস পরবর্তী জামানায় এসে গেছে, তার মানে এটা নয় যে, ওই তবকার লোকের মতো গিয়ে বলব যে, এই সবকিছু বেদাত।
সেই হিসেবে কুরআন শরীফ যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় লেখা অবস্থায় ছিল না, কুরআন শরীফও বেদাত। আর বুখারিও ছিল না, বুখারিও বেদাত, তো ওই কথা বলছি না।
শুধু একটা উল্লেখ করছি যে, এটা এই বিভক্তি ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হায়াতেও ছিল না, পরবর্তীকালে প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কিছুই গড়তে হয়েছে।
**হাদিস সংকলন করতে হয়েছে, কুরআন শরীফে নুকতা দিতে হয়েছে, হরকত দিতে হয়েছে, ব্যাকরণশাস্ত্র গড়তে হয়েছে, ফিকাহ গড়তে হয়েছে—সবগুলোই করতে হয়েছে।**
সেসব বিভিন্ন কিছু গড়ার মধ্যে এটাও একটা যে, জীবনকে যা বিভিন্ন কাজে ক্ষেত্রবিশেষে ভাগ করা। একটা সমাজের প্রাথমিক পর্যায়ে কিন্তু এই বিভক্তিগুলো থাকে না।
**আমাদের সমাজে যে খায় সেই রান্না করে, বাড়িতে।** যে সমাজগুলো বেশি সংগঠিত, ইউরোপ, আমেরিকা ইত্যাদিতে খানেওয়ালা তবকা আলাদা আর রান্নাওয়ালা তবকা আলাদা। বাড়িতে রুটি বানায় না, আর আজকাল তরকারি ইত্যাদিও বানায় না। এগুলো সবই ঘুরেফিরে গিয়ে ফ্যাক্টরিতে হয়ে গেছে।
**সব জায়গায়ই সমাজের সংগঠন বাড়তে থাকলে এই ভাগগুলো বাড়াতে থাকে।**
আমাদের দেশে আগে গ্রামে যে বাড়িতেই হাঁস, ওই বাড়িতেই মুরগি, ওই বাড়িতে মাছ, ওই বাড়িতে গরু, ওই বাড়িতে মরিচ, কিন্তু ইউরোপে গেলে ওগুলো পাওয়া যাবে না। মরিচ যেখানে শুধু মরিচ, যদি মরিচ থাকে। গরু তো গরুই, বিভক্ত হয়ে যায়।
ভারতে হিন্দু সমাজ বিভিন্ন কাজকে তারা ভাগ করে দেয়, সমাজের বিভিন্ন অংশ বংশানুক্রমে ওই কাজই করবে। নাপিতের পুরো ঊর্ধ্বপুরুষগণ যেমন নাপিত, তেমনই পণ্ডিতের পূর্বসূরিদের সবাও পণ্ডিত। এভাবে গোটা সমাজকে বিভিন্ন কাজে ভাগ করে ফেলেছে।
**এই বিভক্তিগুলি ইসলামের মধ্যে নেই।**
গ্রিক সমাজে, ইউনানি সমাজে সমাজকে বিভক্ত করেনি, কিন্তু জীবনের অংশগুলোকে বিভক্ত করেছে। আফলাতুন (প্লেটো)-এর নাজরিয়াহ (দর্শন) এগুলো কিতাবে এখনো অনাবাদ হিসেবে আছে। তালিম ইত্যাদির মধ্যে আফলাতুনের নাজরিয়াহ এরকম ছিল যে, জীবনে একটা অংশ থাকবে শিক্ষা, একটা অংশ থাকবে শিক্ষা দেওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন ভাগ।
পরবর্তীকালে যেরকম ইউনানি দর্শন থেকে, ইউনানি জীবন থেকে আমাদের দেশে অনেক কিছুই এসেছে। এখনো বিভিন্ন মাদরাসায় মানতিক পড়ানো হয়। এটা কিন্তু ইউনানি বা গ্রিক বস্তু। এই যেমন ইউনানি চিকিৎসাপদ্ধতি। এটাও কিন্তু সেই গ্রিকদের তৈরি। যদিও অনেকে এগুলোকে মুসলমানদের তৈরি মনে করে থাকে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় দাওয়াত এবং তালিম-ইবাদত—এই দুটোর বিভক্তি ছিল না। পরবর্তী সময়ে এই দুটো আলাদা হয়ে গেছে। **দাওয়াতের সময় দাওয়াত আর ইবাদতের সময় ইবাদত। একটা হলে আরেকটা না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় একই থাকত।**
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ পড়ছেন, নামাজের মধ্যে বাচ্চার কান্না শুনলেন। কান্না শুনে নামাজের ভেতরেই ভাবলেন যে, মা হয়তো নামাজ পড়ছে আর বাচ্চা একা। এটাও ভাবলেন যে, বাচ্চারও কষ্ট হচ্ছে আর মায়েরও কষ্ট হচ্ছে। আর এটা একটা সিদ্ধান্তও নিলেন, নামাজকে ছোট করলেন। এই সবগুলো নামাজের ভেতরেই হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের মধ্যে মুস্তাগরেক হতেন না। ইস্তেগরাক, ইস্তেগরাক মানেই হচ্ছে একটা জিনিসের মধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ দিয়ে দেওয়া, সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়া।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাইতে উত্তম নামাজ কারও হবে না; কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের ভেতরেও অন্য খেয়ালও রাখতেন, ক্ষেত্রবিশেষে। নামাজের ভেতরেই এই খেয়ালগুলো রেখেছেন। আর সে জন্য নামাজ সংক্ষিপ্তও করেছেন।
**আর নিশ্চয়ই ওটা ফরজ নামাজ ছিল। জামাতের প্রশ্ন ওঠে না। ফরজ নামাজের ভেতর যদি বাইরের খেয়াল থাকে তাহলে অন্যগুলো কী হবে, আর কত বেশি।**
এই যে বাচ্চার খেয়াল, মায়ের খেয়াল ইত্যাদি আখলাকের অংশ, আর আখলাক দাওয়াতের অংশ; ইবাদতের অংশ নয়। **ইবাদতের সাথেও দাওয়াত এবং আখলাকের অংশ জড়িত ছিল, সম্পর্ক রাখা।**
খন্দকের সময় হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে পাঠিয়েছেন কাফিরদের খোঁজ নিয়ে আসার জন্য। অন্ধকারের মধ্যে তিনি চলে গেছেন, শীতের মধ্যে, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন।
হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ফিরে এসেছেন, এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাজে দেখলেন, আর গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পায়ের পাতার উপর বুক দিয়ে শুয়ে পড়লেন।
**এটাও বোঝা যায় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের সময়ও তাদেরকে গ্রহণ করতেন।** নইলে এই নামাজের ভেতর গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পায়ে জড়িয়ে ধরার সাহস হতো না। মনে করতেন যে নামাজ পড়ছেন এরকম ব্যাঘাত করা ঠিক হবে না।
একটা বাচ্চা যেরকম মায়ের কোলে উঠে যায় নামাজের মধ্যে, তিনি গিয়ে ওরকম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পায়ের মধ্যে বুক দিয়ে শুয়ে পড়লেন। তার গায়ে কাপড় ছিল না, ঠাণ্ডা ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিঠে চাদর ছিল, **নামাজের ভেতরেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাদর টেনে তার পিঠে দিলেন।**
**ইবাদতের মধ্যেও আছেন আবার আরেকজনের আরামেরও চিন্তা করছেন।**
নামাজের মধ্যে দাঁড়াতেন, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার পা হাত দিয়ে সরাতেন। এরপর সিজদার জায়গায় সিজদা দিতেন। এরপর উঠে গেলে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা আবার পা লম্বা করে দিতেন। আবার পা সরাতেন, বিরক্তও হতেন না যে, আমার ইবাদতের সামনে তুমি কেন পা এমন করো? বা একবার পা সরিয়ে দেওয়ার পরেও কেন বাড়াও?
**বরং পা সরালেন, ওই প্রয়োজনমতো দাওয়াত ও আখলাকের খেয়ালগুলো বাইরে রাখলেন।**
আর সবচেয়ে উঁচু মাকাম মিরাজ, ওখানে গিয়েও, যে মাকাম ছিল সবাইকে ভুলে যাওয়ার মাকাম, ওখানেও উম্মতের সাথে সম্পর্ক রেখেছেন।
**আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।**
আসসালামু আলাইকা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একা একা নিজের পক্ষ না নিয়ে ওখানে উম্মতের খেয়াল রেখে উম্মতের পক্ষ থেকে নিলেন। **আসসালামু আলাইনা, আল্লাহ তায়ালা বললেন, আলাইকা, আলাইকুম বলেননি।**
তো মিরাজের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর দেওয়া হাদিয়া উম্মতকে শামিল করে গ্রহণ করলেন, **ওখানেও ওই রিসালাতের অংশকে ভোলেননি।**
মনে জাগতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালাই-বা তা কেন করলেন? এটাও আদব। পীর সাহেবের কাছে বিশাল ডেক দিয়ে বিরিয়ানি পাঠালেন কোনো একজন মহল্লার লোক, ওখানে ইজতেমা চলছে, বিরিয়ানি পাঠালেন আর এই কথা বললেন, হুজুরের খেদমতে। তার মানে কি এই ২ ডেক বিরিয়ানি হুজুর একাই খাবেন?
এই কথা তিনি জানেন যে, হুজুরকে দিলে হুজুর তাদেরকেই খাওয়াবেন। কিন্তু এটা আদবের খেলাফ এই কথা বলা যে, মজমার জন্য আনলাম বা আপনি এবং আপনার সাথে যারা আছেন তাদের জন্য। এটাও আদবের খেলাফ। আদব এটাই যে, হুজুরকেই দিলাম।
**আল্লাহ তায়ালাও ওই এক বচনেই বললেন, আসসালামু আলাইকা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওই জায়গায়ও ওই দাওয়াতকে সাথে রাখলেন, বিভক্তি ছিল না।**
আর এটা স্বাভাবিক কথা যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তায়ালা দানের যেই ইস্তেদাদ দিয়েছেন, ওটা তো অন্যদের মধ্যে থাকে না। থাকার কথাও নয়। যার কারণে ধীরে ধীরে বিভক্ত হয়ে গেছে। এটা হওয়া স্বাভাবিক।
**কিন্তু দাওয়াতের কাজ এ জন্য ধীরে ধীরে ছুটে গেল যে, যারা অন্য কাজের মধ্যে লিপ্ত ছিলেন, তারা দাওয়াতের কাজ করতে বলেছেন আওয়ামকে; নিজেরা করতে পারেননি বা করেননি, যেটাই হোক। কিন্তু অন্য কাজকে দরকার হলে বাদ দিয়েও এটা করা দরকার ছিল, যাতে আওয়ামের মধ্যে এই কাজ টিকে থাকে।**
**আর তা না হলে মানুষের কাছ থেকে এই কাজ ধীরে ধীরে ছুটে যাবে।**
তো আল্লাহ তায়ালা বড় মেহেরবানি করে আমাদেরকে দাওয়াতের কাজের দায়িত্ব আবার দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ আমরা তো করবই, আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে দীনের কাজের খাস দায়িত্বগুলো দিয়েছেন, তারাও তাদের সেই খাস দায়িত্বগুলো আদায় করার সাথে সাথে আওয়ামের কাছ থেকে যে কাজ করাতে চান—ওই কাজ তারা করুক—**ওটা যেন নিজেও করেন।**
**নিজে যদি না করেন আর শুধু যদি তাদেরকে করতে বলেন, তারা করবে না। এনকার করবে না, কিন্তু আমলান করবে না।**
হুদায়বিয়ার সময় সাহাবারা এনকার তো করলেন না, কেউ মাথা কামালেনও না। আমল তো তখনই করবে, যখন নিজেও আমল করবে। যদিও আদেশেরই, নিয়ম অনুযায়ী আদেশেরই গুরুত্ব বেশি; **কিন্তু বাস্তবে নিজে যেটা আমল করে, ওটা সমাজে টেকে।**
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে দীনের কাজ করার তাওফিক নসিব করুক। সাধারণ কাজের দায়িত্ব যাদের তারা তো খাওয়াসের কাজ করতে পারবে না, ওখানে নানা শর্ত আছে, দেখাদেখি করা আমল ওভাবে করাতে লেগে গেলাম, ওটা তো বেকুফি হবে। ওটা দেখাদেখি করবার জিনিস নয়।
**কিন্তু আমার করার যেটা ওটা অন্যদের দেখাদেখিই করতে হবে। নামাজ যেরকম আমার করার, তো নামাজ দেখেই করতে হবে, না দেখে করতে পারবে না
মুফতি জয়নুল আবেদীন সাব রহমতুল্লাহি আলাইহি মিসরে এক জামাতে গিয়েছিলেন, উলামাদের মজমা ছিল, আর তাদের সামনে কথা বলার সময় বললেন যে, একজন যদি হাদিস-কুরআনের উপর ভালো করে তার পড়াশোনা থাকে, আর কাউকে নামাজ পড়তে না দেখে, ওজু করতে না দেখে...
---
**[সমাপ্ত]**
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
নিভৃতচারী আল্লাহওয়ালাদের খোঁজে
হজরতের গড়া ছোট্ট, অথচ সুন্দর মাদ্রাসা। মাদ্রাসা থেকে এক ছাত্রকে রাহবার হিসেবে সাথে নিয়ে যখন হজরতের ব...
মাওলানা ডাঃ মোহাম্মদ মাসীহ উল্লাহ
১০ নভেম্বর, ২০২৪
১১৫৯৬
নফি ও ইসবাত: দ্বীনের মৌলিক ভিত্তি
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، فَاعۡلَمۡ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلّ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১২ জানুয়ারী, ২০২৬
২৫৯৬
আদরের ভাইটিকে বলছি
( দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের আলোকিত পরশে দ্বীন পাওয়া প্রতিটি কলেজ বা ভার্সিটির জেনারেল শিক্ষিত ছাত্র ...
মাওলানা ডাঃ মোহাম্মদ মাসীহ উল্লাহ
১০ নভেম্বর, ২০২৪
১২৪৯৬
আল্লাহর হাতে সোপর্দ: দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনের পথ
ছোট বাচ্চাকে নিয়ে মা-বাবা সফর করছেন। সফরে ট্রেনের ঝামেলা ইত্যাদি নানান অসুবিধায় মা-বাবা পেরেশান! ব...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২০ জানুয়ারী, ২০২৬
৩৯৯৮
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন