বাউলরা বিষ্ণুর ‘বৈষ্ণবধর্মের অনুসারী! ও ইসকনের সাথে বাউলদের যোগসূত্র! বাউল মতবাদ। পর্ব ৪৪—৪৫
বাউলরা বিষ্ণুর ‘বৈষ্ণবধর্মের অনুসারী! ও ইসকনের সাথে বাউলদের যোগসূত্র! বাউল মতবাদ। পর্ব ৪৪—৪৫
বাউলরা বিষ্ণুর ‘বৈষ্ণবধর্মের অনুসারী!
‘বৈষ্ণবধর্ম’ মূলত হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর পূজারী। এই বৈষ্ণব ধর্মের মূল প্রবর্তক বা প্রধান সংস্কারক হলেন ’শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু’ (১৪৮৬-১৫৩৩)। যিনি মূলত 'গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম' প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভগবান বিষ্ণু বা কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি ও প্রেমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এবং বাংলায় এই ধারাটি অত্যন্ত প্রভাবশালী। যদিও বৈষ্ণবধর্মের মূল ধারণা (কৃষ্ণ-বাসুদেব উপাসনা) প্রাচীন, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মাধ্যমেই এর একটি সুসংগঠিত ও জনপ্রিয় রূপ বিকশিত হয়, যা ভক্তিবাদ নামেও পরিচিত। ’। এ সম্পর্কে বাংলা একাডেমীতে লেখা আছে—
বৈষ্ণব : ১ বিষ্ণুর উপাসক সম্প্রদায়। ২ শ্রীচৈতন্যের অনুগামী ব্যক্তি। —(বাংলা একাডেমী, পৃ. ১০১৭)
এ ছাড়াও বৈষ্ণব ধর্মের ব্যাপারে উইকিপিডিয়া থেকে কিছু তথ্য হুবহু তুলে ধরা হলো—
বৈষ্ণববাদ (সংস্কৃত: वैष्णवसम्प्रदायः) হিন্দুধর্মের শাখা সম্প্রদায়। এই সম্প্রদায়ে বিষ্ণু বা তার অবতারগণ (মুখ্যত রাম ও কৃষ্ণ) আদি তথা সর্বোচ্চ ঈশ্বররূপে পূজিত হন। বৈষ্ণব দর্শনে বিষ্ণুকে সমগ্র জগতের পালনকর্তা রূপে গণ্য করা হয়। বিশ্বাস ও ধর্মানুশীলনের ক্ষেত্রে, বিশেষত ভক্তি ও ভক্তিযোগ প্রসঙ্গে, বৈষ্ণব দর্শনের প্রধান তাত্ত্বিক ভিত্তি উপনিষদ ও তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য পৌরাণিক শাস্ত্র। যথা – বিষ্ণুপুরাণ, গরুড় পুড়ান, পদ্মপুরাণ, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা।
বৈষ্ণব সম্প্রদায় অনুসারীদের বৈষ্ণব নামে অভিহিত করা হয়। বৈষ্ণব দর্শনের মূল কথা হলো—আত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন এবং এই একাত্মতার জন্য যে পথ অবলম্বন করা হয়, তা হলো—কেবলমাত্র প্রেম ও ভক্তি এবং সম্পূর্ণরূপে অহিংসা। বৈষ্ণব দর্শনে পরমাত্মার উপাসনার জন্য সকল প্রকার জাগতিক গুন বর্জন করে নির্গুণ হয়ে পরমাত্মার সাথে একাত্ম হওয়ার উপদেশ রয়েছে। প্রাচীন ভারতে গুপ্তযুগেও এই বৈষ্ণব দর্শনের প্রচলন ছিল। এই গুপ্তযুগেই বিখ্যাত বৈষ্ণব ধর্মগ্রন্থ "বিষ্ণুস্মৃতি" রচিত হয়। বৈষ্ণবরা মূলত নিরামিষ ভোজী। বৈষ্ণবরা হিন্দু সমাজের অন্যতম বৃহৎ অংশ।...মুখ্যত, ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদীয়া জেলার অন্তর্গত নবদ্বীপ গ্রামে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর হাত ধরেই এই গৌড়ীয় বৈষ্ণব শাখাটির প্রচলন। চৈতন্য মহাপ্রভুর ভাবধারাকে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসকন "হরে কৃষ্ণ" আন্দোলন জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে ভৌগোলিক প্রসার ঘটিয়ে সম্পাদন করছে। বহু বিদেশিও এই নবদ্বীপে এসে সমগ্র বিশ্বে বৈষ্ণব দর্শনের প্রচারের জন্য অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করে চলেছেন। এছাড়াও অতি সম্প্রতি অন্যান্য বৈষ্ণব সংগঠনও পাশ্চাত্যে ধর্মপ্রচারের কাজ শুরু করেছে। —(উইকিপিডিয়া)
বৈষ্ণব সহজিয়া সকলের মধ্যে উপস্থিত সহজাত বা আদি অবস্থার (সহজ) সাথে মিলনের রূপক হিসেবে কৃষ্ণ ও রাধার মধ্যে প্রণয়কে ব্যবহার করেছেন। তারা তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠানে শারীরিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সেই মিলনকে অনুভব করতে চেয়েছিল। এই লক্ষ্যে, বৈষ্ণব সহজিয়া প্রায়ই তাদের তান্ত্রিক সাধনায় যৌন মিলনের ব্যবহার করতেন। বৈষ্ণব সহজিয়ারা কৃষ্ণকে প্রত্যেক পুরুষের অভ্যন্তরীণ মহাজাগতিক রূপ (স্বরূপ) হিসেবে বুঝতেন এবং একইভাবে রাধাকে নারীর অভ্যন্তরীণ রূপ হিসেবে দেখা হতো। —(উইকিপিডিয়া)
বৈষ্ণব সহজিয়াদের সবচেয়ে বিখ্যাত কবি ছিলেন চণ্ডীদাস। অন্যান্য প্রধান ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছে বিদ্যাপতি, চৈতন্য-দাস, রূপ, সনাতন, বৃন্দাবন, দাস, কৃষ্ণদাস, কবিরাজ, নরহরি ও মুকুন্দদাস। —(উইকিপিডয়া)
এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়—বৈষ্ণব ধর্ম সম্পূর্ণরূপে শিরকি। তাদের মূল সাধনা হলো দেহ সাধনা, এবং এই দেহ সাধনার আড়ালে তারা অনৈতিক যৌনাচারকে বৈধ মনে করে উপভোগ করে। যেহেতু বাউল সম্প্রদায় হিন্দুদের বৈষ্ণব ধর্মের চর্চা করে, এ জন্য বৈষ্ণব ধর্মের সকল শিরকি ও অনৈতিক কর্মকান্ড বাউল সম্প্রদায়ের মধ্যেও বিদ্যমান। এজন্য তারা লিখেছে—
সুফি-বৈষ্ণব সাধকের পক্ষেই কেবল এ বিধান অনুসরণ দ্বারা ‘রূপের তুলনা রূপে' পরিপূর্ণ আত্মদর্শ হয়। —(লালনদর্শন, পৃ. ১০৪)
বাউল সম্প্রদায়ে জাতি ও শ্রেণি বৈষম্য নেই। হিন্দু-মুসলিম ভেদ নেই। হিন্দু গুরুর মুসলিম শিষ্য, মুসলিম গুরুর হিন্দু সাগরেদ গ্রহণে কোনো দ্বিধা-বাধা নেই। —(মহাত্মা লালন, পৃ. ৩৫)
সুতরাং বুঝা গেলো—বাউলরা মূলত বিষ্ণুর পূজারী বৈষ্ণবধর্মের অনুসারী। এজন্য বাউল মতবাদে শিরক আর কুফরের ছড়াছড়ি সবচেয়ে বেশি।
ইসকনের সাথে বাউলদের যোগসূত্র!
বাউলরা শিরক-কুফর ও অবৈধ যৌনতা ছাড়াও বাউলরা আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশকে নিয়ে একটি গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সেটা হলো—মুসলিমবিদ্বেষী ইসকনের এজেন্ট হয়ে তারা কাজ করে থাকে।
ইসকন কী?
বাংলাদেশের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘ইসকন’। তাদের মূল মিশন হলো—অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠা। অর্থাৎ আমাদের বাংলাদেশসহ ভারত থেকে বিভক্ত হওয়া সকল দেশগুলো ভেঙ্গে অবিভক্ত ভারত প্রতিষ্ঠা করা। এই কাজটা সহজলভ্য করাই ‘ইসকন’-এর মূল টার্গেট। আর জানা জরুরি—এই আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) হলো গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতবাদের অনুসারী একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদীয়া জেলার অন্তর্গত নবদ্বীপ গ্রামে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর হাত ধরেই এই গৌড়ীয় বৈষ্ণব শাখাটির প্রচলন। চৈতন্য মহাপ্রভুর ভাবধারাকে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসকন "হরে কৃষ্ণ" আন্দোলন জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে ভৌগোলিক প্রসার ঘটিয়ে সম্পাদন করছে। —(উইকিপিডিয়া)
উইকিপিডিয়ার তথ্য থেকে বুঝতে পারলাম—অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠায় শ্রীচৈতন্যের বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীরা ‘ইসকন’ নামে এই ভূমিকা রাখছে। আর বাউল সম্প্রদায় মূলত ‘বৈষ্ণব’ ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত। এজন্য তারা লিখেছে—
মূলত সুফিমত, বৈষ্ণবীয়, সহজিয়ামত, বৌদ্ধ সহজিয়ামতের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে যে মানবিক সাম্যের পথধারা, মিলনের সুর তাই আজ মরমী আধ্যাত্মিক ভাবসাধনা তত্ত্বের রূপ হিসেবে আমাদের কাছে প্রকাশিত। —(মহাত্মা লালন, পৃ. ৩৩)
সুফি-বৈষ্ণব সাধকের পক্ষেই কেবল এ বিধান অনুসরণ দ্বারা ‘রূপের তুলনা রূপে' পরিপূর্ণ আত্মদর্শ হয়। —(লালনদর্শন, পৃ. ১০৪)
সুতরাং বুঝতে পারলাম—বৈষ্ণবধর্মের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর চেতনার মিশন ইসকন। আর এই বৈষ্ণবধর্মের আরেকটি শাখা হলো বাউল। যে-কারণে বাউল সম্প্রদায়ের লোকেরাও ‘দীনে এলাহী’-এর নাম দিয়ে অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার কথা বলে। দেখুন, বাউলরাই লিখেছে—
ফকির লালন শাহ'র ইসলাম তথা দ্বীনে এলাহি প্রতিষ্ঠিত না হলে সাধুগুরুগণের ‘অখণ্ড ভারতপংথ' নবপ্রাণশক্তিকে উদ্ভাসিত হবে না বিশ্বমানচিত্রে। —(অখণ্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৮১)
এজন্য বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ বাঙালি কবি ও অখন্ডভারতে বিশ্বাসী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বলেছিলো—
“লালন ফকির নামে একজন বাউল সাধক হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের সমন্বয় কী যেনো একটা বলতে চেয়েছেন, আমাদের সবারই সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ। —(মহাত্মা লালন, পৃ. ২৪)
সুতরাং বাউল মতবাদ ও ইসকনের এই গোপন যোগসূত্র সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত।