জরুরত - মানুষের প্রয়োজন ও ইবাদত
জরুরত - মানুষের প্রয়োজন ও ইবাদত
(প্রদত্ত বয়ান হতে সংগৃহীত)
স্থান: আলাইপুর মারকাজ মসজিদ, নাটোর
তারিখ: ১৬ নভেম্বর,২০০৭ ,শুক্রবার
ফজরের নামাজের পর।
أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ،
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَىٰ -
"তোমার পরিবারবর্গকে নামাজের আদেশ দাও এবং নিজেও এতে অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে রিজিক চাই না, আমিই তোমাকে রিজিক দিই। আর শুভ পরিণাম তাকওয়ার জন্য।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ، قُولُوا لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ تُفْلِحُوا - "হে মানুষেরা! তোমরা বলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', তাহলে তোমরা সফল হবে।"
দুনিয়া জরুরিয়াতের জায়গা
দুনিয়া হচ্ছে জরুরিয়াত তথা প্রয়োজনের জায়গা। প্রত্যেকে তার নিজ জ্ঞানবুদ্ধি ও স্বভাব অনুযায়ী এই জরুরিয়াত পূরণের চেষ্টা করে। মানুষও করে, জীবজন্তুও করে। তবে জীবজন্তুর জরুরত শুধু তার শরীরের প্রয়োজন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে শরীরের প্রয়োজনও আছে, মনের প্রয়োজনও আছে। আর কোনোটাই কম নয়।
শরীরের প্রয়োজন না মিটলে - খেতে না পেলে, পানি না পেলে - মানুষ উপবাসে-পিপাসায় মরে যাবে। আর বিশ্রাম করতে না পারলেও টিকতে পারবে না। এই শরীরের প্রয়োজন জীবজন্তুরও আছে।
কিন্তু মনের অতিরিক্ত প্রয়োজন আছে - এটা শুধু মানুষের, জীবজন্তুর নয়। মনের প্রয়োজন না মিটলে মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরে যায়, এমনকি নিজেই মরে যেতে চায়। সেজন্য এই জগতে শুধু মানুষই আত্মহত্যা করে। গরু-ছাগল করে না। তাদের মনের এই প্রয়োজন নেই বলে স্বাভাবিকভাবে নিজে থেকে মরে যায় না।
ক্ষুধার কারণে বাঘ হোক, গরু হোক - খেতে না পেলে দুর্বল হতে হতে মরে যাবে। কিন্তু মনের কারণে সরাসরি মরে না - তবে নিজে থেকে মরে যেতে চায়। অন্যান্য জীবজগতে তাদের মনের প্রয়োজন নেই বলে মরে যেতে চাওয়ার বিষয়ও নেই। মানুষের মনের প্রয়োজন আছে, আর তা পূরণ না হলে সে বাঁচতে চায় না।
আল্লাহর কাছ থেকে চাওয়ার শিক্ষা
এসব প্রয়োজনের ব্যাপারেই আল্লাহ তায়ালা দীন দিয়েছেন - যে, আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নাও। মানুষের জীবন ভিন্ন। দুনিয়ায় বাকি জীবজগত চলে, কিন্তু তাদের কোনো এখতিয়ার দেওয়া হয়নি। তারা অনেক কাজ করে, মনে হয় তারা করছে, কিন্তু আসলে তারা করছে না - তাদের দিয়ে করানো হচ্ছে।
যেমন বাবুই পাখিকে ডিম থাকা অবস্থায় অন্য দেশে নিয়ে গেলে, যেখানে অন্য কোনো বাবুই পাখি নেই। সে বড় হলো। যখন তার বাসা বানানোর সময় আসবে - সে তো কখনো বাবুই পাখির বাসা দেখেনি, কোনো বাবুই পাখির সাথে সাক্ষাৎও হয়নি। কিন্তু ঘর যখন বানাবে, দেখা যাবে ঠিক বাবুই পাখি যেভাবে বাসা বানায় সেভাবেই বাসা বানাবে। এই ডিজাইন সে কোথা থেকে শিখল? সে শেখেনি, নিজে করছেও না। আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়ে করাচ্ছেন একেবারে অজান্তে। এ ব্যাপারে তার কোনো এখতিয়ার নেই।
আর এটা শুধু বাবুই পাখির ব্যাপারে নয়। আমরাও বেশুমার কাজ করি যেখানে আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। ভাত খেলাম, খাওয়ার পরে হজম করি - এই হজম করা বা না করার ব্যাপারে আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের দিয়েই, পেটের ভেতরে, হজম করাচ্ছেন - যেমন বাবুই পাখি দিয়ে বাসা বানাচ্ছেন।
পার্থক্য শুধু এইটুকু - পেটের ভেতরে হজম করা, এই বে-এখতিয়ারি কাজ ভেতরে হয়। বাইরের কোনো কাজ মানুষ বে-এখতিয়ারিভাবে করে না। কিন্তু জীবজগতে মানুষ যেরকম ভেতরের অনেক কাজে বে-এখতিয়ারি - যেমন হজম করা, পেটে বাচ্চা বড় হওয়া - এসবে কোনো এখতিয়ার নেই। তার চিন্তা নেই, ডিজাইন নেই, পরিকল্পনা নেই, চেষ্টা নেই যে এরকম না ওরকম ছেলে বানাব - কোনো এখতিয়ারই নেই।
বাবুই পাখির যেরকম বাসার ব্যাপারে কোনো এখতিয়ার নেই, মানুষেরও তার বাচ্চার ব্যাপারে কোনো এখতিয়ার নেই। ঠিক যে কথা বাবুই পাখির ব্যাপারে বলা যায় - কোনো বাবুই পাখির পরামর্শ নিল না, কোনো বাসাও দেখল না, কিন্তু বাসা যখন বানাবে তখন ঠিক বাবুই পাখির মতোই বাসা বানাবে। মানুষের ব্যাপারেও এই কথা - একজন মানুষ আলাদা হয়ে গেল, অন্য কোনো নারীর সাথে দেখা হলো না, কারও পরামর্শও নিল না, কিন্তু বাচ্চা যখন জন্ম দিল তখন দেখা গেল দুনিয়ার বাকি মানুষ যেভাবে বাচ্চা জন্ম দেয় ঠিক সেই জাতীয় বাচ্চাই। নাক, কান - এই ডিজাইন কোথা থেকে শিখল?
বাবুই পাখি যেরকম কোনো ডিজাইন শেখেনি, তার বে-এখতিয়ারিভাবে আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়ে করাচ্ছেন, মানুষকেও আল্লাহ তায়ালা বে-এখতিয়ারিভাবে তাকে দিয়ে করাচ্ছেন। সে কোনো ডিজাইন শিখে সচেতনভাবে করছে না।
তবে মানুষের ব্যাপারে পার্থক্য এই যে, বাইরের কাজগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে এখতিয়ার দিয়েছেন। ভেতরের কাজ - পেটে বাচ্চা হওয়া, হজম হওয়া - এসবে কোনো এখতিয়ার নেই। আর জীবজগতে ভেতরেরগুলোর যেরকম এখতিয়ার নেই, বাইরেরগুলোরও সেরকম এখতিয়ার নেই।
গরু ঘাস খাচ্ছে - সে চিন্তা করে খাচ্ছে তা নয়, আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়ে খাওয়াচ্ছেন। গিলে, তারপর আবার সন্ধ্যায় বা রাতে জাবর কাটে - এটা মাঝামাঝি ধরনের একটা কাজ, একবারে বাইরেরও নয়, একেবারে ভেতরেরও নয়। কিন্তু এসবে তার কোনো এখতিয়ার নেই। যেহেতু এখতিয়ার নেই, অতএব এগুলোর ব্যাপারে তার কোনো বিচারও নেই, ভালোও নেই, মন্দও নেই।
মানুষকে আল্লাহ তায়ালা বাইরের কাজগুলোর ব্যাপারে এখতিয়ার দিয়েছেন, ভেতরেরগুলোর কোনো এখতিয়ার নেই।
---
সে তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য চেষ্টা করে। প্রয়োজনের একটা অংশ শরীরের সাথে জড়িত, আরেকটা অংশ মনের সাথে জড়িত। দুটোর জন্যই সে চেষ্টা করে। আল্লাহ তায়ালা এই দুই ব্যাপারেই আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে পাঠিয়েছেন।
সব প্রয়োজনের ব্যাপারে তুমি যেভাবে মনে করো যে সরাসরি জিনিসের খোঁজ করবে, চেষ্টা করবে - এরকম নয়। বরং দোয়ার মাধ্যমে, ইবাদতের মাধ্যমে চেষ্টা করবে।
শরীরের প্রয়োজন - থাকা-খাওয়া - এটাকে বলা হয় 'আহসানুত তালাব' অর্থাৎ সুন্দরভাবে তালাব করো। তার মধ্যে আল্লাহ তায়ালা যেসব আহকাম দিয়েছেন সেই আহকাম অনুযায়ী। কৃষিকাজ, ব্যবসাবাণিজ্য - এগুলোও করবে, সেগুলোও আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী করবে, হুকুম হিসেবে করবে। আর দোয়া করবে, সেগুলোও হুকুম হিসেবে করবে। এর কোনোটাই জীবজগতে নেই।
গরু ঘাস খায় ঠিকই, কিন্তু গরু কোনোদিন ঘাস কেনেও না, বেচেও না, ঘাসের বাগানও লাগায় না, চাষও করে না, বীজও বপন করে না - শুধু খাওয়ার সময় খেয়ে নেয়। খাওয়ার সাথে জড়িত অন্য কোনো কাজ করে না।
মানুষ জমি কেনে, দরকার হলে জমির জন্য মোকদ্দমা করে, হাল চাষ করে, বীজ বপন করে, প্রয়োজন হলে অন্য লোকের ফসল কেনে - এই কাজগুলো শুধু মানুষের জগতেই আছে। এই সব কাজ - যাকে আসবাব এখতিয়ার করা বলা হয় - এ ব্যাপারেও আল্লাহ তায়ালা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে পাঠিয়েছেন মানুষকে হুকুম শেখানোর জন্য। যে, এই আসবাব এখতিয়ার করার ব্যাপারে আসলে হুকুম পালন করবে, আর আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। এই হুকুম পালনগুলোও দোয়ারই একটা অংশ।
নামাজ পড়ে, নামাজের শেষে দোয়া করে। রোজা রাখে, ইফতারের আগে দোয়া করে - তো সম্পূর্ণ রোজাটাও তার দোয়ারই একটা অংশ। সম্পূর্ণ নামাজ পড়ল, নামাজ পড়ে দোয়া করছে - নামাজটাও দোয়ারই একটা অংশ, দোয়ার মধ্যে কবুলিয়াত পয়দা করা।
দোয়ার মধ্যে যেরকম বিভিন্ন ধরনের আমল থাকে, সুন্নত তরিকামতো কেউ যদি ব্যবসা করে, চাকরিবাকরি করে - এগুলোও ওই আমলের অংশ হিসেবে করে। এই কথা শেখানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে পাঠিয়েছেন।
---
একই কাজ বিভিন্নভাবে করা যায়। একজন বেদ্বীনও কৃষিকাজ করবে - জমি থেকে পাওয়ার আশায়। জমির মধ্যে সার আছে, উৎপাদনের ক্ষমতা আছে - সেই ক্ষমতা থেকে পাওয়ার আশায় সে কৃষিকাজ করবে।
একজন ঈমানদার ওই কাজই করবে, কিন্তু জমি থেকে পাওয়ার আশায় নয় - আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আশায়। এই বড় পার্থক্য। এই পার্থক্য শেখানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা নবিদের পাঠিয়েছেন।
করবে ওই কাজই, কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আশায় করবে। আর আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আশায় যদি করে তো ওটা আমলের অংশ হয়ে যায়। ওই একই কাজ করল - জমি থেকে পাওয়ার আশায় করল, ওটা কুফরি অংশ হলো। আর আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আশায় করল, ওটা ঈমানি অংশ হলো।
পুরো দুনিয়ার মানুষকে কুফরি জীবন থেকে, কুফরি বুনিয়াদ থেকে ঈমানি বুনিয়াদের দিকে ডাকা - মানুষের জন্যই আল্লাহ তায়ালা নবিদের পাঠিয়েছেন। কেননা মানুষেরই এই এখতিয়ার আছে। তার কুফরি আমল করারও এখতিয়ার আছে, ঈমানি আমল করারও এখতিয়ার আছে। জমি থেকে আশা করারও এখতিয়ার আছে, আল্লাহর থেকে আশা করারও এখতিয়ার আছে।
বাকি জীবজগতের কোনোটারই এখতিয়ার নেই। সে আশা কী বোঝেই না। গরু ঘাস খাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ঘাস জমি দিচ্ছে না আল্লাহ দিচ্ছেন - এ ব্যাপারে তার কোনো এখতিয়ার নেই। মজবুর করেছেন, সে তার ইবাদত করতে থাকবে। এর জন্য তার কোনো বিচার বলে কোনো জিনিস নেই। মানুষের আছে।
---
আল্লাহ তায়ালা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে পাঠিয়েছেন মানুষকে আমলের দিকে ডাকার জন্য।
আমল দুই ধরনের। কিছু আমল - ইবাদত যেগুলোকে বলা হয় - যেগুলোর আসবাবের জগতের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। ঈমানদার যদি না হয়, তাহলে সে ওই কাজ করবে না। যেমন নামাজ পড়া, রোজা রাখা, জাকাত, হজ করা ইত্যাদি। এগুলোর আসবাবের জগতের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। সেজন্য দেখা যায় কোনো অমুসলমান নামাজ পড়ছে না। কারণ নামাজ এমন ধরনের হুকুম যে, আসবাবি জগতের কারণে এটা পড়ার কোনো প্রয়োজন অনুভূত হয় না।
আবার কিছু আমল এমন ধরনের যে ঈমানদাররাও করে, কাফিররাও করে। যেমন ব্যবসা। কিন্তু পার্থক্য এটা যে, ঈমানদার আল্লাহর হুকুম মনে করে করবে, আর কাফির আসবাব থেকে করবে। কিন্তু ওই আমলগুলো এমন ধরনের যে আসবাবের জগতের সাথে তার একটা সম্পর্ক আছে। ঈমানদার যদি নাও হয় তবুও সে ওটা করবে।
ঈমানদার না হলে নামাজ পড়বে না - কারণ নামাজ পড়ার মধ্যে সে কোনো কারণ দেখে না। ঈমানি কারণ ছাড়া নামাজের সাথে জড়িত অন্য কোনো কারণ নেই। আল্লাহ নামাজ পড়তে বলেছেন - এই কারণে যদি কেউ নামাজ পড়ে তো পড়ল, কিন্তু অন্য কোনো কারণে নামাজ পড়বে না।
ব্যবসার ক্ষেত্রে তা নয়। আল্লাহওয়ালারা ব্যবসা করবে কারণ আল্লাহ তায়ালা হুকুম দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর হুকুম যদি নাও হয় আরেকজন ব্যবসা করবে। ওই একই কাজ, কিন্তু আল্লাহর দিকে তার নজর নেই - ব্যবসা থেকে লাভ হবে।
আল্লাহওয়ালা বীজ বপন করবে সওয়াবের জন্য - নামাজ যেরকম পড়ে সওয়াবের জন্য। বীজ বপন করবে যে এর মধ্যে সওয়াব আছে। গাছ বড় হবে, তাতে ছায়া হবে, ছায়ার মধ্যে পথিক বসবে - তার সওয়াব পাবে। পাখি বসবে - পাখির সওয়াব পাবে। ফসল খাবে - ফসলের সওয়াব পাবে।
ঈমানওয়ালা বীজ বপন করবে আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আশায়। কিন্তু ওই একই কাজ করা যায় জমি থেকে পাওয়ার আশায়। একজন কাফিরও বীজ বপন করে, গাছ লাগায়, কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আশা সে করে না। সে মনে করে যে গাছ যদি বড় হয় তো আমার ফায়দা হবে। গাছ বড় হবে কেমন করে? জমি বড় করবে। জমির মধ্যে সার আছে, ওই সার থেকে বড় হবে।
আমল দুই ধরনের আছে:
১. **ইবাদত**: কিছু আমল আছে এমন ধরনের যেগুলো আসবাবের জগতের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলোকে সাধারণত ইবাদত বলা হয়। আসবাবের সাথে সম্পর্ক না থাকার কারণে ঈমানদার ছাড়া অন্যরা করে না। তার মনে করার কোনো চাহিদা জাগে না, ঈমানদার ছাড়া।
২. **দুনিয়াবি আমল**: আমলের আরেকটা অংশ আছে যেগুলোর আসবাবের জগতের সাথে একটা জাহিরি সম্পর্কও আছে। সম্পর্ক থাকার কারণে ঈমানদার ঈমানের বুনিয়াদের ওপর করে, কিন্তু বেঈমানরাও করে অন্য বুনিয়াদের ওপর। কাজ ওই একই।
ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, বিয়ে-শাদি ইত্যাদি এসব কাজ অমুসলমানরাও করে। অমুসলমানরা বিয়ে-শাদি করে কিন্তু হুকুম মনে করে না, অন্য কারণে করে। ব্যবসা-বাণিজ্য করে, কৃষিকাজ করে—হুকুম মনে করে না, অন্য কোনো কারণে। তাই নবীরা প্রথমত এসেছেন ইবাদত শেখানোর জন্য। যেগুলো অন্য লোকেরা করবেই না, সর্বপ্রথম তার ওপর জোর দিয়েছেন।
মানুষকে ইবাদতের ওপর অভ্যস্ত করার পর তাঁরা দ্বিতীয় কাজের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। তা হলো, দুনিয়াবি কাজকর্মের ভিত্তি পরিবর্তন করে দিয়েছেন। মানুষ আগে ইবাদত করত না। তাঁরা ইবাদত শিখিয়েছেন। কিন্তু মানুষ আগে দুনিয়াবি কাজকর্ম করত, তাঁরা সেগুলোর ভিত্তি বদলে দিয়েছেন ইবাদতের দিকে। নামাজ তো আগে পড়তই না, তাকে নামাজের দিকে ডাকা। কৃষিকাজ আগে থেকেই করত, কিন্তু জমি থেকে পাওয়ার আশায় করত, এখন আল্লাহ থেকে পাওয়ার আশায়—এই ভিত্তি পরিবর্তনের জন্য।
দোয়ার মাধ্যমে জরুরত পূরণ
আল্লাহ তায়ালা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে পাঠিয়েছেন, এক তো হলো যে তাঁর জরুরত পূরণ করবে দোয়ার মাধ্যমে, ইবাদতের মাধ্যমে। এমনকি একেবারে ছোট একটা জিনিস, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে জুতার ফিতা ছিঁড়ে যায় তো আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নাও। পকেটে আমার দু'টো টাকা আছে, কাছেই দোকান আছে, দোকানে জুতার ফিতা পাওয়া যায়, আর আমি যেতে পারি। তো পকেটে টাকা আছে, দোকানে ফিতা আছে, দু-কদম হেঁটে গেলেই দোকান থেকে দুই টাকা দিলে জুতার ফিতা দিয়ে দেবে—এটা আমি জানি, আগেও এরকম করেছি।
কিন্তু এখন আল্লাহ তাকে শেখাচ্ছেন যে, পকেটে টাকা এটাও ঠিক, দোকানে ফিতা আছে এটাও ঠিক, তুমি হেঁটে গিয়ে কিনতে পার এটাও ঠিক, কিন্তু তোমার আকিদা পরিবর্তন করো, আর আল্লাহর কাছে দোয়া করো, আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নাও। একেবারে সহজ জিনিস যেটা আসবাবের জগতে পাওয়া যায়ও জাহিরিভাবে, আর এর জন্য যে দোয়া করে না—মুসলমান হোক দোয়া করে না—তারও যদি জুতার ফিতা দরকার হয় ওরকমই গিয়ে কিনে নেয়, কোনো অসুবিধা হয় না। আরেকজন অমুসলমান, সে দোয়া করা জানেই না, তার জুতার ফিতা দরকার হয়, সে খুব সহজে কিনে নেয়। কোনোই অসুবিধা হয় না।
মাঝখানে আমার এমন কী দোয়ার দরকার পড়ল? কত লোক বিনা দোয়াতে কিনছে, তাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। কিন্তু, ব্যস এই কথা শিখিয়েছেন, আর এই জায়গাগুলো বরং নামাজ পড়ার চেয়ে অনেক কঠিন।
নামাজ পড়া খুব একটা কঠিন না, আর নামাজ যে পড়বে, সে আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আশাই করবে, কারণ নামাজের যে আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক তার সাথে নেই। কিন্তু জুতার ফিতা নেবে এর জন্য দোয়া করবে—এই দোয়া করা বড় কঠিন। কারণ বারবার করে মনে হয়, কত দিন আমি জুতার ফিতা কিনেছি কোনো দোয়া করিনি। আর কত লোক এখনো কেনে, তারাও কোনো দোয়া করে না। আর বিনা দোয়াতে তাদের সবারই জুতার ফিতা হচ্ছে। আমার আবার দোয়ার কী দরকার পড়বে।
কিন্তু এতেই আমলের দিকে অভ্যস্ত করা যে, ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে তার আসবাবের জগতের সাথে তার কোনো সম্পর্ক না থাকে। যদিও পকেটে টাকা আছে, দোকান আছে, তাকে জঙ্গলে যেতেও হবে না, পকেটের টাকা ফেলে দিতেও হবে না, থাকবে সবই, কিন্তু সম্পর্ক চলে যাবে ইবাদতের দিকে। না থাকত, সহজ ছিল—ঠিক যেরকম বাড়িতে খাবারই নেই, তো রোজা রাখা সহজ, আর খাবারও আছে, বন্দোবস্তও আছে, তারপরও রোজা রাখে। তো পকেটে টাকা না থাকত বা দোকানে ফিতা না থাকত, তখন তো দোয়া করা সহজ ছিল; কিন্তু পকেটে টাকাও আছে, দোকানে ফিতাও আছে, কোনো অসুবিধা নেই, দোয়ার কোনো প্রয়োজন বোধ হচ্ছে না—এই সময় দোয়া করা বড় কঠিন, বিনা দোয়াতে চলে।
আল্লাহ তায়ালা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে পাঠিয়েছেন আমলের দিকে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য। এক তো হলো এইসব আমল যেগুলোকে ইবাদত বলা হয়, ইবাদত থেকে ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে তাকে ওই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে আসবাবের জগতের যেগুলোর হওয়া দেখা নজরে আসে, এগুলো যেন আমল থেকে হয়, এগুলো জরুরতের ব্যাপার।
আর যে-কথা বলছিলাম যে, মানুষের আরও প্রবল দরকার হচ্ছে, মনের একটা প্রয়োজন আছে, যে প্রয়োজন মানুষ, মানুষের সাথে সম্পর্কের দ্বারা ওইটা পূরণ করে। আর এই প্রয়োজন মানুষের কিছু কম নয়, কোনোটাই বাদ দেওয়া না। বাড়িকে ছেড়ে, বউ-বাচ্চাকে ফেলে দিয়ে, সারা বছর গিয়ে ঢাকায় চাকরি করে, ব্যবসা-বাণিজ্য করে। কেন? প্রয়োজন আছে। বউ-বাচ্চার কাছে থাকতে ভালো লাগে ঠিকই, কিন্তু এখানে থেকে তার উপার্জন হবে না। উপার্জন করতে হলে ঢাকায় যেতে হবে, তো সারা বছর গিয়ে ঢাকায় উপার্জন করবে।
আবার ঈদের সময় জামাকাপড় কিছু কিনে-টিনে যার যেরকম সামর্থ্য, তো আবার বাড়িতে যাবে। বাড়িতে যাবার কী প্রয়োজন হলো? এটারও খুব প্রয়োজন। এমনকি লঞ্চে ইত্যাদিতে উঠতে যাচ্ছে, পত্রিকায় প্রায়ই দেখা যায়, লঞ্চ ডুবে গেছে, মানুষ মারা গেছে। সে যে লঞ্চে উঠতে যাচ্ছে, সেই ওঠার আগেই তার ভয় হচ্ছে যে, বোধহয় লঞ্চ ডুববে। যেরকম বেশি প্যাসেঞ্জার, আর এখনই ডুবুডুবু ভাব, আর কিছুক্ষণ পরে না ডোবে—সব আশঙ্কা আছে। সব আশঙ্কা থাকার পরেও তবুও সে নৌকায় উঠতে গেছে। কেন? আপনজনকে কাছে পাওয়ার প্রয়োজন—এটাও কোনো ছোট প্রয়োজন নয়।
কোনোটাই বাদ দিতে পারে না। তার উপার্জনের প্রয়োজন—জরুরত যেগুলিকে বলে, থাকা-খাওয়া এগুলি প্রয়োজন। এগুলি বাদ দিতে পারে না বলে সবাইকে ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়, আবার মনের প্রয়োজন ওইটাকে বাদ দিতে পারে না বলে এইসব আশঙ্কার ভেতর দিয়ে আবার বাড়ি যায়।
যে কথা বলছিলাম, মানুষের দুটি প্রয়োজন আছে। এই দুই প্রয়োজনের ব্যাপারেই আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমল দিয়েছেন যে, তোমার জাহিরি জগতের যত জরুরত আছে, ছেঁড়া জুতার ফিতাই হোক আর শত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচাই হোক—একটা বড় একটা ছোট—আল্লাহর কাছ থেকে এই দুটোই চেয়ে নাও। আর মনের যে প্রয়োজন আছে, ওইটাও আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নাও।
সেজন্য ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে জাহিরি জরুরতের ব্যাপারে আল্লাহর কাছ থেকে চাওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা উর্বর দেশ থেকে মরুভূমিতে পাঠালেন। উর্বর ভূমিতে সবকিছু মনে হয়, জমি থেকে বের হয়। শাম দেশ, উর্বর দেশ, ফলফসল পাওয়া যায়—তো উর্বর জমিতে আছে, পাঠালেন মরুভূমিতে। ওখানে গিয়ে আল্লাহর কাছ থেকে চাওয়া শেখো, আর পুরো দুনিয়ার মানুষকে শেখাও যে, ফল খাবে ঠিকই—এই কথা বলছেন না যে ফল খাওয়া বাদ দিয়ে দেবে; বরং ফল খাবে, কিন্তু মাটি থেকে নয় আল্লাহর কাছ থেকে।
ওখানে গিয়ে নামাজ কায়েম করালেন আর নামাজের বুনিয়াদের ওপর দোয়া করালেন—হে আল্লাহ! আমি আমার আওলাদকে রেখে এসেছি, বংশধরকে রেখে এসেছি—**وَارْزُقْهُم مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ** "তাদেরকে ফল খাওয়াও, যেন তারা শোকর আদায় করে।" এই কথা বলেননি ফল খাওয়াও যেন বেঁচে যায়। বেঁচে থাকা খাওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। আল্লাহ তায়ালা যদি বাঁচিয়ে রাখতে চান, তো বিনা খাওয়াতে বাঁচতে পারে।
তো সেজন্য আল্লাহ তায়ালা যে দোয়া করাচ্ছেন সেই ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে, এই কথা বলেননি যে হে আল্লাহ! তুমি তাদের খাওয়াও যেন তারা বেঁচে থাকতে পারে। বরং এই কথা বললেন যে, তাদেরকে ফল খাওয়াও যেন তারা শোকর করে। বেঁচে থাকার এর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই—শোকর করার জন্য।
শাম দেশে যেসব ফল পাওয়া যায়, সেগুলো কি সেখানকার জমি দিচ্ছে, না কি আল্লাহই দেন? কেউ যদি দিল থেকে বলে যে আমি নামাজ পড়লাম, তারপর দোয়া করলাম, তারপর বীজ বপন করলাম, ফসল পেলাম—তবুও বারবার করে মনে সন্দেহ হবে যে আল্লাহই দিলো না জমি দিলো। কারণ এমন জায়গা থেকে যে, জমি থেকে দেওয়া আদত অনুযায়ী আসে। এজন্য এই সন্দেহ যাতে দূর হয়, দুনিয়ার মানুষকে পরিষ্কার করে দেখানো যায়, সেজন্য আল্লাহ তায়ালা মরুভূমিতে নিয়ে গিয়ে ফলের দোয়া করালেন, যেখানে জমি থেকে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। শুধু আল্লাহর কাছ থেকে পাবে, ওখানে গিয়ে দোয়া করালেন।
আর দ্বিতীয় যে মনের সম্পর্ক আছে যে, আপনজনের কাছ থেকে মনের তৃপ্তি পাওয়া যায়, আর এই কথা যে বলছিলাম যে এটা মানুষের কোনো ছোট প্রয়োজন নয়। ভাত-পানি যেরকম প্রয়োজন, এ ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না—তো মনের প্রয়োজনও তেমন, এ ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। ভাত-পানি না পেলে ধপাস করে পড়ে যায়, মরে যায়; মনের প্রয়োজন না মেটে, তো পাগল হয়ে যায়, নেশা করে, আত্মহত্যা করে—এটাও কম প্রয়োজন নয়।
ওইটার জন্য বললেন, বউকে ছাড়ো, বাচ্চাকে ছাড়ো। পরে আবার তবুও মন লাগতে চায়, আবার বললেন যে জবাই করো। এই সবগুলো করে কী, যে আল্লাহওয়ালা, তার মনের মানুষের সাথে সব সম্পর্ক কেটে গেল। কিন্তু দুনিয়াদার যেরকম, ওর যদি মনের সব সম্পর্ক কেটে যায় তাহলে সে আর বাঁচতে পারে না, পাগল হয়ে যায়, অস্বাভাবিক আচরণ করবে; কিন্তু যে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করতে পেরেছে, এই দুনিয়ার সব সম্পর্ক কেটে যাওয়ার পরেও পুরোপুরি আনন্দের সাথে সুস্থ থাকে এবং বাঁচতেও পারে।
সেজন্য দুনিয়াদারকে যদি জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যাদের আল্লাহর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, মানুষের সাথে সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো—জেল মানে হলো, জেলে তো অন্য কোনো অসুবিধা নেই। জেলে, বরং গরিব মানুষের জন্য জেল তো বড় ভালো জায়গা, কোনো কামাই-টামাই কিছু করতে হচ্ছে না, একেবারে সরকারের পক্ষ থেকে খাওয়ার ব্যবস্থা। একজন গরিব মানুষের জন্য যে বাইরে থেকে দেখা যায় যে জেল হলো তার থেকে ভালো। ধনী না হয় বাইরে খুব বিলাসিতার খাওয়া খায়, গরিব যে বাইরে তো বড় নিম্নমানের খাবার খায়, তার থেকে তো জেলে ভালো। কিন্তু সেও জেলে থাকতে রাজি হয় না, কারণ তার কাছের লোকের থেকে সে বিচ্ছিন্ন থাকবে না, যাদের কাছে থাকতে চায়। ওখানে আরামে ঘুমাবে—মোটেই রাজি হয় না।
আল্লাহওয়ালা, আল্লাহওয়ালা যেরকম আসবাব থেকে সরে যায়, মরুভূমিতে পড়ে যায়, তাও কোনো পেরেশানি নেই। আল্লাহ খাওয়াবে, আল্লাহওয়ালাদেরকে যদি জেলে দিয়ে দেয়—কোনো অসুবিধা নেই, আরও শোকর আদায় করবে। এইখানে বসে বসে আমি আমার আপনজনের সাথে খুব আছি। আল্লাহর সাথে যার সম্পর্ক নেই, বউ-বাচ্চা থেকে আলাদা করে দিলো, তাকে যখন জেলে দেবে, সে বলবে যে হায় হায় আমি এখানে একা কেমন করে থাকব। আল্লাহওয়ালা যদি জেলে যায়, সে নিজেকে একাকী পায় না—আমি আল্লাহর সাথে আছি, **إِنَّ اللهَ مَعِيْ**—তার কোনো পেরেশানি নেই, পুরো মুতমাইন, শোকর আদায় করবে।
ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তায়ালা আসবাব থেকে সরালেন, যাতে খাওয়াদাওয়ার সম্পর্ক যেন সরাসরি ইবাদত থেকে আসে ওইটা আন্দাজের মধ্যে আসে। আর আপনজন থেকেও সরালেন, যাতে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক থেকে তৃপ্তি আসে।
তো আল্লাহ তায়ালা নামাজকে, সব আমলকে এই দুই জিনিসের জন্যই দিয়েছেন। একটা অংশ হলো যে নামাজ থেকে রিজিক পাবে—**وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى**—তোমার কাছ থেকে আল্লাহ তায়ালা রিজিক চায়নি, নেক আমল থেকে ইবাদত থেকে আল্লাহ তায়ালা রিজিক দেবেন, নামাজের সাথে আল্লাহ তায়ালা রিজিকের ওয়াদা করেছেন।
মনের প্রয়োজন—আপনজনের সাথে সম্পর্ক, ওখান থেকে আসে মনে তৃপ্তি যে, এটাও কোনো মানুষের কাছ থেকে, মাখলুকের সাথে সম্পর্ক করে মনের আনন্দ তাও নয়, বরং ইবাদতের মাধ্যমে, আল্লাহকে স্মরণ করে মনের আনন্দ। নামাজের মধ্যে, নামাজের প্রধান উদ্দেশ্য আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করা—**وَأَقِيْمُوا الصَّلاَةَ لِذِكْرِيْ**—ওটাই লক্ষ্য। সাথে সাথে দ্বিতীয় প্রয়োজন যেটা জরুরত আছে, এটাও সাথে হয়ে যায়।
নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা এটাও দেন, কিন্তু নামাজের এটা লক্ষ্য না, লক্ষ্য বলা হয়েছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। সেজদা করো আর নিকট হও। **وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ**—নামাজ পড়ো, আল্লাহকে স্মরণ করো, তো আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য নামাজ।
নামাজ শব্দের ভিতরেও ওই একই অর্থ - সালাত, মানে সম্পর্ক স্থাপন করা। আর নামাজে কিরাআতে ভুল করলো, আর বাইরে থেকে একজন লোকমা দিল, এই লোকমা শুনে তার কিরাআত সংশোধন করলো - নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে। কেন ফাসিদ হবে? কোনো খারাপ কাজ তো করেনি। এজন্য ফাসিদ হবে যে বাইরের সাথে সম্পর্ক রেখেছে।
আর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করা - এটা হলো নামাজের প্রধান হুকুম। এর থেকে কিরাআতে ভুল হওয়া অত বড় দোষ নয়, বাইরের সাথে সম্পর্ক রাখা যত বড় দোষ।
হজের মৌসুম, হজের শুরু ওই একই জিনিসে - ইহরাম দিয়ে। তাহরিমা, ইহরাম হলো মূল শব্দ, একই শব্দ থেকে হারাম - নিষিদ্ধকরণ। অন্য সব সম্পর্ক থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করা, আর আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়া।
বাকি যেটা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "তোমার কাছে রিজিক চাই না" - এটা নামাজের লক্ষ্য নয়, এটা আনুষঙ্গিক জিনিস, এসে যায়।
কারও সাথে বাসায় দেখা করতে গেল, মেহমান গেল - গিয়ে তো তার সাথে দেখা করার জন্যই গেছে। বাকি যদি যায় তো খাওয়াদাওয়ার ইন্তেজাম মেজবান করবেই। কিন্তু খাওয়ার জন্য যায়নি। যে খাওয়ার জন্য গিয়েছে, ও মেহমান নয় - ও ফকির, সায়েল। আর মেহমান যে, ও খাওয়ার জন্য যায়নি, গিয়েছে সম্পর্কের জন্য। সম্পর্কের জন্য যে যাবে, ওর খাওয়ার বন্দোবস্ত হয়েই যাবে।
ইবাদতের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা জরুরিয়াত পূরা করাও দিয়েছেন, কিন্তু জরুরিয়াত পূরা করা ইবাদতের লক্ষ্য না। ইবাদতের লক্ষ্য আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করা।
তো মানুষের এই দুই প্রয়োজন আছে - তার শরীরের প্রয়োজন আছে, যেটা বাকি জীবজগতেও আছে। আর তার মনের প্রয়োজনও আছে, যেটা জীবজগতে নেই। আর দুটোর জন্যই আল্লাহ তায়ালা ইবাদত দিয়েছেন। ইবাদতের মাধ্যমে বাকি সব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে শুধু আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করা - এমন বেশি, যে দুনিয়ার সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হলে তার কোনো আক্ষেপ না থাকে, কোনো ভ্রুক্ষেপ না থাকে।
বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইন্তিকালের সময়, আত্মীয়স্বজন সবাই চারপাশে বসে কান্নাকাটি করছে। আর আরবে যেরকম রেওয়াজ ছিল, অনেক সময় বলত "হায়" - মানুষ দুঃখ প্রকাশ করত। আত্মীয়স্বজন সবাই কাছে থেকে, তার মৃত্যু একদম কাছে, আর তারা দুঃখ করছে - "ওয়া কারাবা, ওয়া কারাবা!" হায় দুঃখ! হায় আফসোস! যে আমাদের আপনজন চলে যাচ্ছে, সম্পর্কহারা - এটাই।
বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু, উনার উত্তর বরং উল্টো - "ওয়া ফারাহা, ওয়া ফারাহা!" হে আনন্দ! **"غَدًا نَلْقَى الْأَحِبَّةَ مُحَمَّدًا وَحِزْبَهُ"** - মুহাম্মদ ও আমার প্রিয়জনদের সাথে আমি সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছি।
তো দুনিয়ার যে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, এটার উপর কোনো দুঃখ নয়, কোনো কষ্ট নয়, কোনো আক্ষেপ নয়। বরং আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলকে কাছে পাচ্ছে - ওইটার আনন্দ বেশি তখন।
সেজন্য মৃত্যুর সময়, দুনিয়ার সব মানুষের মৃত্যুতে যে কষ্ট হয় - মৃত্যুর প্রধান কষ্ট হলো তার সম্পর্কগুলো ছুটে যায়। এটা তার মৃত্যুর প্রধান কষ্ট। আল্লাহওয়ালাদের ওই কষ্ট নেই, বরং আনন্দ। সেজন্য আল্লাহওয়ালারা মওতকে ভয় করে না। আর প্রধান কারণ ওই ভয় না-হওয়ার যে বিচ্ছিন্ন হওয়ার যে ভয়, যেটা আসলে মানুষের কাছে কষ্ট - এটা নয়, বরং সাক্ষাতের আনন্দ, ওইটাই বেশি প্রবল, রীতিমতো খুশির সাথে।
আবু জর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু, উনার শেষ সময়, স্ত্রী বসে কাঁদছেন। কেন কাঁদছ? - তোমার বিদায়ের সময়, আর দাফন-কাফনই-বা কে করবে? আবু জর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে এতে কোনো চিন্তা করবে না, একটা কাফেলা আসবে, তারা দাফন-কাফনের বন্দোবস্ত করবে। মরে যাচ্ছে - এই ব্যাপারে কোনো দুঃখ নেই, দাফন-কাফনের ব্যাপারে সেই ইন্তেজাম হয়ে গেছে।
কাফেলা এলো - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আর উনারা এসে দাফন-কাফনের সব ইন্তেজাম করলেন।
মুআজ রাদিয়াল্লাহু আনহু প্লেগে মারা গেছেন। প্লেগের সময়, প্লেগের যে রোগ - ওইটাতে ফোঁড়ার মতো হয়। ছোট ফোঁড়া বের হয়, তারপর বড় হয়, তারপর ওইটাতেই পেকে মারা যায়। মাত্র অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায় - একদিন-দেড়দিন হয়তো, এই ধরনের।
তো তারও হাতের মধ্যে ওইরকম কোথাও ফোঁড়া একটা বের হচ্ছে। ব্যাপকভাবে প্লেগ হচ্ছে, আর যার ফোঁড়া বের হচ্ছে, তো আশঙ্কা - মারা যাবে। তো উনারও ফোঁড়া বের হচ্ছে, ওইটার দিকে উনি তাকাচ্ছেন, আর হাত দিয়ে একটু দেখছেন যে ফোঁড়াটা বোধহয় - একেবারে প্রথম দিকে, বোঝাবোঝি যাচ্ছে না ফোঁড়াটা উঠেছে কি না।
কাছে কে ছিল, কোনো কারণবশত বলেছে - ওইটা কিছু না। কিন্তু বুঝতে পেরেছেন এটা প্লেগের, বা তার তা ধারণা। সাথি যখন বলছেন কিছু না - উনি হয়তো সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলেছেন না কীসের জন্য বলেছেন, বোঝা মুশকিল।
কিন্তু মুআজ রাদিয়াল্লাহু আনহু উনি উত্তরে বললেন - না না, হবে হবে! খুব আশাবাদী। যেখানে মানুষ ভয় পায় যে প্লেগ বোধহয় হয়ে গেল, ওখানে উনি আশা পাচ্ছেন, খুব আশাবাদী, খুব খুশির সাথে বলছে - না না, হবে হবে!
এতে খুশি কীসের? বাড়িতে যাওয়ার জন্য মানুষ যেরকম খুশি থাকে। ঈদের এই ভিড়ের মধ্যে, এত কষ্টের মধ্যে এত খুশি কীসের? আপনজনকে পাব
আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু, উনিও প্লেগের মধ্যে ছিলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন খবর পেলেন যে ওখানে প্লেগ লেগেছে, তো কোনোভাবে আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে উদ্ধার করতে চাইলেন।
আর তারপর উনাকে একজন করলেন এমন ধরনের লোক ছিলেন - একটা পুরো উম্মত যেরকম। আল্লাহ তায়ালা ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে বলেছেন - **"إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا"**। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরআন সম্বন্ধে বলছিলেন - **"إِنَّ مُعَاذًا كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ"**। আর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এ কথা যদিও বলেননি, কিন্তু উনার কাছেও আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এমন ধরনের লোক যে একটা উম্মতের ওজন রাখে।
উনাকে উদ্ধার করতে চাইলেন - সবাইকে তো পারা যাবে না। উনাকে চিঠি লিখলেন, খুব দ্রুত চিঠি পাঠালেন মদিনা থেকে, আর বললেন যে তোমার প্রয়োজন আছে, এই চিঠি পাওয়ামাত্র চলে এসো। আদেশ দিলেন - খলিফার আদেশ পালন শরয়ি হুকুম।
কিন্তু মানুষ যখন কিছু করতে চায় বা যখন করতে চায় না, তো দুনিয়ার সব মানুষ যেরকম তার পক্ষে দলিল বের করে। যেটা করতে চায়, ওটার পক্ষে টেনেটুনে কোনো-না-কোনোভাবে দলিল বের করে ফেলবে।
আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু - আমিরের হুকুম-আদেশ পালন করাটা এগুলো শরিয়তে বড় তাকিদ, কুরআন শরিফে হুকুম আছে, প্লেগ থেকে সরাতে চায়। বুঝতে পেরেছেন, বুঝতে পেরে টালবাহানা করে দেরি করে ইন্তেকাল করলেন।
তার জীবনী আলোচনার মধ্যে যে জীবনে একবারই আদেশ অমান্য করেছেন - সারা জীবন আদেশ পালন করলেন, আর বাঁচার ব্যাপারে এটা আর মানতে পারলেন না। এমন লোভের জিনিস কে ছাড়বে? কারণ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করেছেন।
তো আল্লাহ তায়ালা ইবাদত দিয়েছেন - প্রথম হলো এই যে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়া। আর সম্পর্ক যার হয়েই যাবে, জরুরিয়াত তার পূরা হয়েই যাবে। মেহমানের যেরকম জরুরিয়াত পূরা হয়েই যায়, আর যদি নাও হয় - ওইটা কোনো দুঃখ লাগে না।
লম্বা সফরে যে বাড়িতে যাচ্ছে, এই ঈদের ভিড়ের মধ্যে, ট্রেন-বাস - কত বড় লম্বা সফর! মাঝখানে কোনো খাওয়াদাওয়া কিছু হয়ও না, আর না হওয়ার জন্য এমন মনে কিছু কষ্টও হয় না - ওইটা হচ্ছে প্রস্তুতি।
তো আল্লাহ তায়ালা আমাদের দ্বীন দিয়েছেন, ইবাদত দিয়েছেন - দুই জরুরতই মেটানোর জন্য, একটা বড়, একটা ছোট।
**বড় জরুরত** হলো যে মনের সম্পর্ক, মনের আনন্দ - যাতে অন্য কোনো সম্পর্কে আর কোনো প্রয়োজন বাকি না থাকে। না ছেলেমেয়েদের সাথে সম্পর্ক, না জাতির সম্পর্ক, না দেশের সম্পর্ক, না বন্ধুর সম্পর্ক, না আত্মীয়র সম্পর্ক, না স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক - সব সম্পর্ক তার জন্য নিষ্প্রয়োজন হয়ে যায়, কারণ এক সম্পর্ক সব দখল করে ফেলেছে।
আর ঠিক ওইরকম ইবাদত দখল করেছে - বাকি সব আসবাব যেন তার কাছে নিষ্প্রয়োজন হয়ে যায়। না ব্যবসার প্রয়োজন, না কৃষিকাজের প্রয়োজন, না কোনো কিছুর প্রয়োজন। রাখবে সবগুলোই, কিন্তু আদবের খাতিরে রাখবে, হুকুকের জন্য রাখবে।
আল্লাহওয়ালারা স্বামী-স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব - সবারই সাথে সম্পর্ক রাখেন, কিন্তু এইগুলো হুকুক আদায় করার জন্য, সামাজিক সৌজন্যে।
রাসুল কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেরকম সবার সাথে দিনে সাক্ষাৎ করতেন - গাসসান ছিলেন, মুচকি হেসে। অথচ রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিফতের মধ্যে এই কথা বলা হয়েছে - **মুতাওয়াখিরুল আহযান** - দিলের মধ্যে ব্যথা নিয়ে থাকতেন সবসময়, আর সাক্ষাৎ যখন কাউকে করতেন, মুচকি হেসে করতেন।
এতেই বোঝা যায় যে এই হাসি কোনো সম্পর্কের হাসি নয় - সৌজন্যের, হুকুকের। যে মেহমান এসেছে, মেহমানের হক আছে যে তাকে যেন কদর করা হয় - সেই হক আদায় করার জন্য করছেন। মনে ব্যথা, আর মুচকি হাসছেন মেহমানের মেহমানদারি হিসাবে।
তো সব সম্পর্ক আল্লাহওয়ালাদের এইভাবেই ছিল - মনের অবস্থা তো আল্লাহর সাথেই সম্পর্ক, আর এগুলো আদায় করার জন্য যেটা। যেরকম মানুষের হক আদায় করে, তো দুনিয়ারও সমাজের কিছু প্রচলনের হক আছে। মানুষের হক হলো - মেহমান এসেছে তার সাথে মুচকি হাসা। জাগতিক দুনিয়ার একটা হক আছে যে দুনিয়ার নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, ঠিক না।
তো আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দ্বীন দিয়েছেন - আল্লাহর পথে হয়ে আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হই। দুনিয়ার সাথে যে সম্পর্ক থাকবে, শুধু একটা নিয়ম রক্ষার খাতিরে, একটা আদবের খাতিরে।
মনের সম্পর্ক আল্লাহর সাথে, আসবাবের নির্ভরশীলতার ব্যাপারেও আল্লাহর কাছে। দোয়া করে জুতার ফিতা হোক, তাও আল্লাহর কাছ থেকেই চাইব। আর শত্রু আক্রমণ করুক, নিজের জান বাঁচানো হোক - তাও আল্লাহর কাছেই চাইব।
সেজন্য আল্লাহর পথে বের হয়ে সব নির্ভরশীলতা সম্পূর্ণ আল্লাহর ওপর আনার চেষ্টা করি। আসবাব থেকেও নিজেকে মুক্ত করা, আর দুনিয়ার সম্পর্ক থেকেও নিজেকে মুক্ত করা। ঠিক না ভাই, ইনশাআল্লাহ?
আল্লাহর পথে বের হয়ে মেহনত করি, আল্লাহ আমাদের তাওফিক নসিব করুক। মোকামি কাজ এই জন্যই, বাইরের সফরও এই জন্যই, আর দোয়া-ইবাদত সবই। আল্লাহ আমাদের তাওফিক নসিব করুক।
**سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ، وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، آمِينَ.**
---
**বয়ান সমাপ্ত**
#mushfiqsir
#bayan
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
অনলাইন দাওয়াহ
অনলাইনে দাওয়াহর মূল উদ্দেশ্য কী? মূল টার্গেট অডিয়েন্স কারা? লেখালেখিসহ অন্যান্য কন্টেন্টের কোন উদ্...
আসিফ আদনান
১০ নভেম্বর, ২০২৪
১৪৪৬৩
প্রত্যাশা-হিসাব ও তাওয়াক্কুল-বরকত
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] أعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ، بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
১৪২৯
নফি ও ইসবাত: দ্বীনের মৌলিক ভিত্তি
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، فَاعۡلَمۡ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلّ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১২ জানুয়ারী, ২০২৬
১৪৮৫
বাহ্যিক উন্নতি নাকি আত্মিক সমৃদ্ধি?
اَلحَمْدُ لِلّٰهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَعُوذُ بِاللهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَا...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২০ জানুয়ারী, ২০২৬
২১৬
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন