বাউল ধর্মে লিভ টুগেদার! বাউল মতবাদ। পর্ব—৩৯
বাউল ধর্মে লিভ টুগেদার! বাউল মতবাদ। পর্ব—৩৯
নাস্তিক্যবাদ (Living together) বা নারী-পুরুষের একত্রে মেলামেশা, বসবাসকে বৈধতা দিয়ে সমাজে অনাচার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধ পরিকর। সেই একই মিশন নিয়ে কাজ করছে বাউল সম্প্রদায়। বাউল সম্প্রদায়ে বিবাহের প্রতি অনিহা থাকলেও অবৈধ যৌনচর্চা তাদের কাছে অনেক প্রিয় সাধনা। নিন্মে তাদের যৌনচর্চার সামান্য কয়েকটা নমুনা তুলে ধরা হলো—
দেহবাদের আড়ালে সমাজে যৌনাচারমূলক কর্মকাণ্ডকে একশ্রেণীর মানুষ ধর্মীয় চেতনা হিসেবে লালন করে আসছে। এরা সমাজে বিবাহবন্ধনকেও অস্বীকার করে নারী-পুরুষের একত্রে মেলামেশা, বসবাসকে (Living together) দর্শন হিসেবে অনুসরণ করে আসছে। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ২৪)
বাউলসাধনায় অংশগ্রহণকারী মহিলা বা সেবাদাসী এ বিষয়ে তার যা যা করণীয় সবকিছুই গুরু কর্তৃক নির্দেশিত হয়। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৩৯৩)
দেহসাধনায় নারীই প্রধান। এই নারীকে বাউল ‘চেতন গুরু' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কারণ দেহসাধনায় এই নারীর হাতেই মূল চাবিকাঠি। নারীকে বাউলের সাধনসঙ্গিনী এবং সেবাদাসী হিসেবেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৩৭২)
সাধনসঙ্গিনীকেও ‘গুরু' নামে অভিহিত করা হয়। মূলত সাধনসঙ্গিনীর সক্রিয় সাহায্য ও সহযোগিতা ব্যতিরেকে সাধনায় সিদ্ধি লাভ করা যায় না। তাই তাকে ‘চেতনগুরু' বলা হয়। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ২১)
শক্তিনাথ ঝা তাঁর গ্রন্থে পশ্চিম বাংলার মুসলিম বাউলসাধকদের সাধনপ্রণালী উল্লেখ করেছেন। যেমন : “দেহমিলনের আগে সাধক-সাধিকা পরস্পরের দেহকে পূজা করবে। সাধক নারীদের পাঁচটি স্থান স্পর্শ করে সেখানে ‘সেজদা' দেবে।
প্রথম পায়ে প্রণাম। সেজদার মন্ত্র—
গুরু সত্য, মা সত্য, মার নামে জয় হোক, আমার মনের বাঞ্ছা পূর্ণ হোক।
মা তুমি গতি তুমি রতি তুমি জীবের নিস্তারণ,
আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ কর খাদেম মোক্তারগণ
সেজদা দিলাম এখানে, সেজদা যায় মা বরকতের চরণে
এই সেজদা মূল, এই সেজদা কবুল কর আল্লা মহম্মদ রসুল ॥
দ্বিতীয় সেজদা মক্কায় (জন্মস্থানে); মন্ত্র—
খাতনে মা জিন্নাত জহুর হুশিয়ার
দিনহীনকে দ্বীন দিয়ে কর মা উদ্ধার।
ও মা বরকত দাউনদার
এই কাবাতে মারিফাতে আল্লাহো আকবার !
আল্লাওলি মহম্মদ কলি মা বরকত দাউনদার
এই কাবাতে মারিফাতে নিষ্ঠা করে সেজদা করি
আল্লাহো আকরব
... ... ...
আল্লা বীজ মহম্মদ ডাল
মাদার নাথ আমার বাঞ্ছা পূর্ণ কর দীননাথ। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৩৯৮)
ভারতীয় উপমহাদেশে দেহবাদী সাধনা অত্যন্ত প্রাচীন। তন্ত্র সাধনায় দেহবাদের উন্মেষ রাধাকৃষ্ণকে কেন্দ্র করে বৈষ্ণব ধারায় দেহতত্ত্বের রূপায়ণ । সহজিয়া বৈষ্ণব ও বৌদ্ধ সহজিয়া মতবাদে এর বিকাশ। চৈতন্য দেবের সময় পরকীয়া প্রেমও বিন্দু সাধনায় (বীর্য নিয়ন্ত্রণ) বৈষ্ণব ধর্মে অন্তর্ভুক্ত হয়। দেশজ বাউল সাধনায় তার ব্যাপ্তি ঘটে। এখানে তাই অলক্ষ্যে এই ধর্মমতের প্রসার ঘটেছিল। এই মতের অনুসারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তার প্রচারণা নিয়ন্ত্রিত রেখেছে কেবল দীক্ষিতজনদের কাছেই। গানগুলির দ্ব্যর্থবোধকতা তা প্রমাণ করে। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ২৩-২৪)
উক্ত লেখাগুলো থেকে বোঝা যায়—বাউল সম্প্রদায় নৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। তারা শুধুমাত্র কুকর্মেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং অবৈধ যৌনাচারকেও বৈধতার আলোকে প্রচার করে এখানেই শেষ নয়, বরং তারা লিখেছে—
নারীদেহে সাধনার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে পুরো
সাধনপদ্ধতিই বৃথা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মুর্শিদ সঠিক নির্দেশনা দিতে পারে । সেই ঘোর বিপদ' থেকে উদ্ধারে ত্রাণকর্তা কিংবা কাণ্ডারি হিসেবে মুর্শিদের নাম-স্মরণ বা জপ করাই শিষ্যের জন্য উত্তম। —(বাউলসাধনা, পৃ. ৮০
ইসলাম কী বলে?
ইসলামে জেনা বা ব্যভিচার সম্পূর্ণরূপে হারাম। শুধু তাই নয়, ব্যভিচারের দিকে যাওয়াও নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলে—
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। —(সুরা ইসরা : ৩২)
তাছাড়া ব্যভিচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মহান রব্ব বলেন,
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
“এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে।” —(সুরা ফুরকান : ৬৮)
এই ব্যাভিচার যদি অবিবাহিত থেকে প্রকাশ পায়, তাহলে প্রকাশ্যে একশত বেত্রাঘাত করতে হবে। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ
“ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত করো। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।” —(সুরা নূর : ২)
আর যদি বিবাহিত কেউ ব্যভিচার করে, তাহলে তাতে প্রকাশ্য পাথর মেরে হত্যা করা হবে। হযরত উবাদা ইবনু সামিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—
خُذُوا عَنِّي، فَقَدْ جَعَلَ اللهُ لَهُنَّ سَبِيلًا، الثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ، وَالْبِكْرُ بِالْبِكْرِ، الثَّيِّبُ جَلْدُ مِائَةٍ، ثُمَّ رَجْمٌ بِالْحِجَارَةِ، وَالْبِكْرُ جَلْدُ مِائَةٍ، ثُمَّ نَفْيُ سَنَةٍ
“তোমরা আমার নিকট থেকে জেনে নাও যে, আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারীদের ব্যাপারে পন্থা বাতলে দিয়েছেন। বিবাহিত পুরুষ বিবাহিত নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করলে এবং অবিবাহিত পুরুষ অবিবাহিতা নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করলে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। (সুতরাং শাস্তি হলো যে,) বিবাহিতকে একশ’ বেত্রাঘাত করা হবে, অতঃপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হবে। আর অবিবাহিতকে একশ’ বেত্রাঘাত করা হবে, অতঃপর এক বছরের জন্য দেশান্তর করা হবে।” —(সহিহ মুসলিম, হাদীস নং : ১৬৯০)
সুতরাং, এই নিকৃষ্ট হারাম কর্মকে যারা হালাল মনে করে, তারা কাফের। অতএব, নাস্তিক্যবাদী এই বাউল সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের এখনই সতর্ক ও জোরালোভাবে প্রতিবাদ করা জরুরি।