প্রবন্ধ
নামাজ আত্মশুদ্ধির জন্য নয়! হেযবুত তওহীদ। পর্ব–৬৯
৯ অক্টোবর, ২০২৫
২১৫২
০
পবিত্র কুরআনেই উল্লেখ্য রয়েছে যে, ইসলামের এ সকল গুরুত্বপূর্ণ বিধানের মূল টার্গেটই হলো, আল্লাহকে স্বরণ করা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকা। আর আত্মশুদ্ধির মূল টার্গেটও কিন্তু এটাই।
হেযবুত তওহীদ কী বলে?
হেযবুত তওহীদের দাবী হলো–
আকিদার বিকৃতির কারণে সালাহ-কে শুধু একটি এবাদত,একটি আত্মশুদ্ধির প্রক্রিয়া হিসাবে নেয়া যে কতখানি আহম্মকী তার কয়েকটি কারণ পেশ করছি। –ইসলামের প্রকৃত সালাহ, পৃ. ২২
সালাহ চরিত্র গঠণের মুখ্যত দুর্ধর্ষ,অপরাজেয় যোদ্ধার চরিত্র গঠণের প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া; এই আকীদা বদলে একে অন্যান্য ধর্মের মতো এবাদতের, উপাসনার শুধু আত্মিক উন্নতির প্রক্রিয়া বলে মনে করার ফলে আজ সেই যোদ্ধার চরিত্র গঠণ তো হয়ই না এমন কি সালাতের বাহ্যিক চেহারা পর্যন্ত বদলে গেছে। –ইসলামের প্রকৃত সালাহ, পৃ. ৩২
অর্থাৎ তারা বলতে চায়, নামাজ আত্মশুদ্ধির জন্য মনে করা বোকামী।
ইসলাম কী বলে?
অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, নামাজ আত্মা পবিত্র রাখে। মহান রব্ব বলেন,
اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ
(হে নবী!) ওহীর মাধ্যমে তোমার প্রতি যে কিতাব নাযিল করা হয়েছে, তা তিলাওয়াত করো ও নামায কায়েম করো। নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর যিকিরই তো সর্বাপেক্ষা বড় জিনিস । তোমরা যা-কিছু করো, আল্লাহ তা জানেন। –সুরা আনকাবুত : ৪৫
উক্ত আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নামাজ মানুষের গুনাহ থেকে পবিত্র রাখে। আর গুনাহ থেকে পবিত্র থাকাই তো আত্মশুদ্ধি। তাহলে নামাজকে যদি আত্মশুদ্ধির প্রক্রিয়া বলা আহাম্মকী হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলাও কি সে সংজ্ঞায় পড়ে যাবেন না? নাউযুবিল্লাহ।
আলেমদের নামায হয় না!
যুগে যুগে ইসলামের সকল বিধিবিধান গুরুত্বের সাথে শিখেছেন এবং আমল করে থাকেন সর্বপ্রথম উলামায়ে কেরাম। এই শেখার জন্যই তাদেরকে আলেম বলা হয়। অথচ হেযবুত তওহীদের দাবী হলো, নামাজ হলো জিহাদের ট্রেণিং, যেহেতু আলেমরা তা মনে করেন না, সেহেতু তাদের নামাজই হয় না। দেখুন, তারা কী বলে-
সবচে বড় কথা হচ্ছে, বর্তমান মুসলিম বলে পরিচিত এ জনগোষ্ঠীর পণ্ডিতগণ সালাহকে সামরিক প্রশিক্ষণ হিসাবে তো মানেই না বরং তারা সালাহকে যে ধ্যান বলে প্রচার করে তারা সেই ধ্যানও করে না অর্থাৎ ওরা ট্রেনিংও করে না আবার ধ্যানও করে না। তাদের কোনটাই হয় না। –ইসলামের প্রকৃত সালাহ, পৃ. ৩৫
কী আশ্চর্য! নিজেরা অন্ধত্বের মধ্যে ডুবে থেকে নামাজেরের বিকৃত উদ্দেশ্যকে আসল উদ্দেশ্য মনে করে নিজেদের নামাজই নষ্ট করে দায় চাপাচ্ছে আলেমদের উপর। আসলে অজ্ঞলোক তার অজ্ঞতা সম্পর্কে নিজেই অজ্ঞ থেকে অন্যকে ভুল ধরে।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
খৃষ্টধর্ম না পৌলবাদ (৭ম ও শেষ পর্ব)
খৃষ্টধর্ম কি কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী ধর্ম কোন ধর্মের দাওয়াত ও প্রচারের জন্য ধর্মের কার্যকরিতা জরুরি...
সত্য ইমাম মাহদী ও ভণ্ড ইমাম মাহদী [শেষ পর্ব]
...
تحریک استشراق کی حقیقت اور استشراقی لٹریچر کے اثرات
تعارف: استشراق( Orientalism ) اور مستشرق کا لغوی و اصطلاحی معنی استشراق عربی زبان کے مادہ( ش۔ر۔ق) سے...
খৃষ্টধর্ম না পৌলবাদ (৩য় পর্ব)
মানুষ যাতে তাঁকে নিয়ে বাড়াবাড়ির স্বীকার না হয় সেজন্য তিনি নিজেও নিজের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করে দ...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন