সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আন-নাজ্‌ম (الـنحـم) | তারা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৬২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالنَّجۡمِ اِذَا ہَوٰی ۙ ١

ওয়ান্নাজমি ইযা-হাওয়া-।

কসম নক্ষত্রের, যখন তা পতিত হয়।

তাফসীরঃ

১. নক্ষত্রের পতন দ্বারা তার অস্ত যাওয়া বোঝানো হয়েছে। সূরার পরিচিতিতে বলা হয়েছে যে, এ সূরার মূল বিষয়বস্তু হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত। তাই সূরার শুরুতে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ওহী সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তা এক নির্ভরযোগ্য ফেরেশতা আসমান থেকে তাঁর কাছে নিয়ে আসেন। তার আগে নক্ষত্রের কসম দ্বারা ইশারা করা হয়েছে, নক্ষত্র যেমন আলো দান করে এবং তা দেখে আরবের লোক পথ চেনে, তেমনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মানুষের জন্য হেদায়াতের আলো। মানুষ তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার পথ চিনতে সক্ষম হবে। তাছাড়া নক্ষত্ররাজির চলার জন্য আল্লাহ তাআলা যে পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তারা সে পথ থেকে বিন্দু পরিমাণ এদিক-ওদিক যায় না এবং বিপথগামিতার শিকারও হয় না। তেমনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, তিনি পথ ভুলে যাননি এবং বিপথগামীও হননি। আবার নক্ষত্র যখন অস্ত যাওয়ার উপক্রম করে তখন তার দ্বারা পথ চেনা বেশি সহজ হয়, তাই অস্তগামী নক্ষত্রের কসম করা হয়েছে। তাছাড়া নক্ষত্রের অস্তগমন পথিকের জন্য একটি বার্তাও বটে। সে যেন ডেকে বলে, আমি বিদায় নিলাম। কাজেই আমার দ্বারা শীঘ্র পথ জেনে নাও। তেমনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ছিলেন এক অস্তগামী নক্ষত্রের মত। দুনিয়ায় তাঁর অবস্থান কাল দীর্ঘ ছিল না। যেন বলা হচ্ছে, তাঁর মাধ্যমে যারা হেদায়াত লাভ করতে চাও, শীঘ্র তা করে নাও। কালক্ষেপণের কিন্তু সময় নেই।

مَا ضَلَّ صَاحِبُکُمۡ وَمَا غَوٰی ۚ ٢

মা-দাল্লা সা-হিবুকুম ওয়ামা-গাওয়া-।

(হে মক্কাবাসীগণ!) তোমাদের সঙ্গী পথ ভুলে যায়নি এবং বিপথগামীও হয়নি।

তাফসীরঃ

২. ‘তোমাদের সঙ্গী’ বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো উদ্দেশ্য। তাঁর জন্য এ শব্দ ব্যবহার করে আল্লাহ তাআলা একটি সত্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বোঝানো হচ্ছে যে, তিনি বাইর থেকে এসে নবুওয়াতের দাবি করেননি; বরং শুরু থেকেই তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন। তার গোটা জীবন উম্মুক্ত গ্রন্থের মত তোমাদের সামনে বিদ্যমান। তোমরা দেখেছ, জীবনে কখনও তিনি মিথ্যা বলেননি, কখনও কাউকে ধোঁকা দেননি। তোমাদের দ্বারাই তিনি সাদিক (সত্যবাদী) ও আমীন (বিশ্বস্ত) খেতাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। এ অবস্থায় এটা কি করে সম্ভব যে, জীবনের সাধারণ ক্ষেত্রসমূহে যিনি মিথ্যা থেকে এতটা দূরে থাকলেন, তিনি আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে মিথ্যা বলে দেবেন?

وَمَا یَنۡطِقُ عَنِ الۡہَوٰی ؕ ٣

ওয়ামা-ইয়ানতিকু‘আনিল হাওয়া-।

সে তার নিজ খেয়াল-খুশী থেকে কিছু বলে না।

اِنۡ ہُوَ اِلَّا وَحۡیٌ یُّوۡحٰی ۙ ٤

ইন হুওয়া ইল্লা-ওয়াহইঊ ইয়ূহা-।

এটা তো খালেস ওহী, যা তাঁর কাছে পাঠানো হয়।

عَلَّمَہٗ شَدِیۡدُ الۡقُوٰی ۙ ٥

‘আল্লামাহূশাদীদুল কুওয়া-।

তাকে শিক্ষা দিয়েছে এক প্রচণ্ড শক্তিমান (ফেরেশতা)

ذُوۡ مِرَّۃٍ ؕ  فَاسۡتَوٰی ۙ ٦

যূ মিররাতিন ফাছতাওয়া

যে ক্ষমতার অধিকারী। সুতরাং সে আত্মপ্রকাশ করল,

তাফসীরঃ

৩. এর দ্বারা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহী নিয়ে আসতেন। বিশেষভাবে তার শক্তির কথা উল্লেখ করে কাফেরদের মনের এই সম্ভাব্য ধারণাকে খণ্ডন করা হয়েছে যে, কোন ফেরেশতা যদি তাঁর কাছে ওহী নিয়ে এসেও থাকেন, তবে মাঝপথে যে কোন শয়তানী কারসাজী হয়নি তার কী নিশ্চয়তা আছে? এ আয়াত জানাচ্ছে, ওহীবাহী ফেরেশতা এমনই শক্তিশালী যে, অন্য কারও পক্ষে তাকে বিভ্রান্ত করা বা তার মিশন থেকে নিরস্ত করা সম্ভব নয়।

وَہُوَ بِالۡاُفُقِ الۡاَعۡلٰی ؕ ٧

ওয়া হুওয়া বিলউফুকিল আ‘লা-।

যখন সে ছিল ঊর্ধ্ব দিগন্তে।

তাফসীরঃ

৪. কাফেরদের প্রশ্ন ছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যে ফেরেশতা ওহী নিয়ে আসেন, তিনি তো মানব আকৃতিতেই আসেন। কাজেই তিনি কী করে বুঝলেন যে, তিনি মানুষ নন, ফেরেশতা? এ আয়াতসমূহে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ফেরেশতাকে অন্ততপক্ষে দু’বার তার প্রকৃতরূপে দেখেছেন। তার মধ্যে একবারের ঘটনা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনা এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে ফরমায়েশ করেছিলেন, তিনি যেন তাঁর আসল আকৃতিতে তাঁর সামনে আসেন। সুতরাং হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম স্ব-মূর্তিতে আকাশ-দিগন্তে আত্মপ্রকাশ করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখলেন।

ثُمَّ دَنَا فَتَدَلّٰی ۙ ٨

ছু ম্মা দানা-ফাতাদাল্লা-।

তারপর সে নিকটে আসল এবং ঝুঁকে গেল।

فَکَانَ قَابَ قَوۡسَیۡنِ اَوۡ اَدۡنٰی ۚ ٩

ফাকা-না কা-বা কাওছাইনি আও আদনা-।

এমনকি দুই ধনুকের দূরত্ব পরিমাণ কাছে এসে গেল, বরং তার চেয়েও বেশি নিকটে।

তাফসীরঃ

৫. এটি আরবী ভাষার একটি বাগধারা। যখন দু’জন লোক পরস্পরে মৈত্রী চুক্তি করত তখন উভয়ে তাদের ধনুক দু’টি মিলিয়ে দিত। এরই থেকে অতি নৈকট্য প্রকাশ করার জন্য বলা হয়ে থাকে, তারা দুই ধনুকের দূরত্ব পরিমাণ নিকটবর্তী হয়ে গেল।
১০

فَاَوۡحٰۤی اِلٰی عَبۡدِہٖ مَاۤ اَوۡحٰی ؕ ١۰

ফাআওহাইলা-‘আবদিহী মাআওহা-।

এভাবে নিজ বান্দার প্রতি আল্লাহর যে ওহী নাযিল করার ছিল তা নাযিল করলেন।
১১

مَا کَذَبَ الۡفُؤَادُ مَا رَاٰی ١١

মা-কাযাবাল ফুআ-দুমা-রাআ-।

সে যা দেখেছে, তার অন্তর তাতে কোন ভুল করেনি।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ এমন হয়নি যে, চোখ প্রকৃতপক্ষে যা দেখেছিল, মন তা বুঝতে ভুল করেছে।
১২

اَفَتُمٰرُوۡنَہٗ عَلٰی مَا یَرٰی ١٢

আফাতুমা-রূনাহূ‘আলা-মা-ইয়ারা-।

তবুও কি সে যা দেখেছে তা নিয়ে তোমরা তার সঙ্গে বিতণ্ডা করবে?
১৩

وَلَقَدۡ رَاٰہُ نَزۡلَۃً اُخۡرٰی ۙ ١٣

ওয়া লাকাদ রাআ-হু নাঝলাতান উখরা-।

বস্তুত সে তাকে (ফেরেশতাকে) আরও একবার দেখেছে।
১৪

عِنۡدَ سِدۡرَۃِ الۡمُنۡتَہٰی ١٤

‘ইনদা ছিদ রাতিল মুনতাহা-।

সিদরাতুল মুনতাহা (সীমান্তবর্তী কুলগাছ)-এর কাছে।
১৫

عِنۡدَہَا جَنَّۃُ الۡمَاۡوٰی ؕ ١٥

‘ইনদাহা-জান্নাতুল মা’ওয়া-।

তারই কাছে অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া।

তাফসীরঃ

৭. এটা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে তার আসল আকৃতিতে দেখার দ্বিতীয় ঘটনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিরাজ সফরে এটা ঘটেছিল। এ সময়ও তিনি তাকে তার স্ব-মূর্তিতে দেখেছিলেন। ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ ঊর্ধ্বজগতের একটি বিশাল বরই গাছ। তারই কাছে জান্নাত অবস্থিত। তাকে ‘জান্নাতুল মাওয়া’ বলা হয়েছে এ কারণে যে, ‘মাওয়া’ অর্থ ঠিকানা। আর জান্নাত হল মুমিনদের ঠিকানা।
১৬

اِذۡ یَغۡشَی السِّدۡرَۃَ مَا یَغۡشٰی ۙ ١٦

ইয ইয়াগশাসসিদরাতা মা -ইয়াগশা-।

তখন সেই কুল গাছটিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল সেই জিনিস যা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।

তাফসীরঃ

৮. একথাও একটি আরবী বাগধারা অনুযায়ী বলা হয়েছে। তরজমার মাধ্যমে এর প্রকৃত মর্ম তুলে আনা কঠিন। বোঝানো হচ্ছে যে, যে জিনিস সে গাছটিকে আচ্ছন্ন করেছিল তা বর্ণনার অতীত। হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ঘটনার যে ব্যাখ্যা করেছেন, তা দ্বারা জানা যায় যে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার জন্য অসংখ্য ফেরেশতা সোনার প্রজাপতি আকারে সেই গাছের উপর একত্র হয়েছিল।
১৭

مَا زَاغَ الۡبَصَرُ وَمَا طَغٰی ١٧

মা-যা-গাল বাসারু ওয়ামা-তাগা-।

(রাসূলের) চোখ বিভ্রান্ত হয়নি এবং সীমালংঘনও করেনি।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ দেখার ব্যাপারে চোখ ধোঁকায় পড়েনি এবং আল্লাহ তাআলা তার জন্য যে সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন, তা লংঘনও করেনি যে, তার সামনে কি আছে তা দেখতে যাবে।
১৮

لَقَدۡ رَاٰی مِنۡ اٰیٰتِ رَبِّہِ الۡکُبۡرٰی ١٨

লাকাদ রাআ-মিন আ-য়া-তি রাব্বিহিল কুবরা-।

বাস্তবিকপক্ষে, সে তার প্রতিপালকের বড়-বড় নিদর্শনের মধ্য হতে বহু কিছু দেখেছে। ১০

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঊর্ধ্বজগতে আল্লাহ তাআলার কুদরত ও হিকমতের বড় বড় নিদর্শন নিজ চোখে দেখেছেন। যেমন সিদরাতুল মুনতাহা, বায়তুল মামুর, জান্নাত, জাহান্নাম, হযরত জিবরীল (আ.)-কে ছয়শ’ ডানাসহ তার প্রকৃত রূপে, দিগন্তজোড়া সবুজ রফরফ প্রভৃতি। -অনুবাদক
১৯

اَفَرَءَیۡتُمُ اللّٰتَ وَالۡعُزّٰی ۙ ١٩

আফারাআইতুমুল্লা-তা ওয়াল ‘উঝঝা-।

তোমরা কি লাত ও উযযা (এর স্বরূপ) সম্বন্ধে চিন্তা করেছ?
২০

وَمَنٰوۃَ الثَّالِثَۃَ الۡاُخۡرٰی ٢۰

ওয়া মানা-তাছছা-লিছাতাল উখরা-।

তৃতীয় আরেকটি সম্বন্ধে যার নাম মানাত? ১১

তাফসীরঃ

১১. লাত, মানাত ও উযযা তিনটিই মূর্তির নাম। আরবের বিভিন্ন গোত্র বিভিন্ন স্থানে এসব মূর্তি স্থাপন করেছিল। তারা এদের মাবুদ মনে করত এবং এদের পূজা-অর্চনা করত। কুরআন মাজীদ বলছে, তোমরা কি ভেবে দেখেছ এগুলো আসলে কী? এগুলো কি পাথর ছাড়া অন্য কিছু? এসব নিষ্প্রাণ পাথরের পূজায় লিপ্ত হওয়া কত বড়ই না মূর্খতা!
২১

اَلَکُمُ الذَّکَرُ وَلَہُ الۡاُنۡثٰی ٢١

আলাকুমুযযাকারু ওয়ালাহুল উনছা-।

তবে কি তোমাদের থাকবে পুত্র সন্তান আর আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান? ১২

তাফসীরঃ

১২. মক্কার মুশরিকগণ ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ তাআলার কন্যা বলত। তাদের এ বিশ্বাস রদ করে বলা হচ্ছে, তোমরা নিজেদের জন্য তো কন্যা সন্তান পছন্দ কর না, অথচ আল্লাহর জন্য পছন্দ করছ, এটা তোমাদের কেমন বিচার? এটা কী রকমের বণ্টন? নিঃসন্দেহে এটা অতি নিকৃষ্ট বণ্টন।
২২

تِلۡکَ اِذًا قِسۡمَۃٌ ضِیۡزٰی ٢٢

তিলকা ইযান কিছমাতুন দীঝা-।

তাহলে তো এটা বড় অন্যায় বণ্টন!
২৩

اِنۡ ہِیَ اِلَّاۤ اَسۡمَآءٌ سَمَّیۡتُمُوۡہَاۤ اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُکُمۡ مَّاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ بِہَا مِنۡ سُلۡطٰنٍ ؕ  اِنۡ یَّتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَہۡوَی الۡاَنۡفُسُ ۚ  وَلَقَدۡ جَآءَہُمۡ مِّنۡ رَّبِّہِمُ الۡہُدٰی ؕ ٢٣

ইন হিয়া ইল্লাআছমাউন ছাম্মাইতুমূহাআনতুম ওয়া আ-বাউকুম মাআনঝালাল্লা-হু বিহা-মিন ছুলতা-নিন ইয়ঁইয়াত্তাবি‘ঊনা ইল্লাজ্জান্না ওয়ামা-তাহওয়াল আনফুছু ওয়া লাকাদ জাআহুম মিররাব্বিহিমুল হুদা-।

(এদের স্বরূপ এর বেশি কিছু নয় যে,) এগুলি কতক নাম মাত্র, যা তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদাগণ রেখেছ। আল্লাহ এর সপক্ষে কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। প্রকৃতপক্ষে তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) কেবল ধারণা এবং মনের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে। অথচ তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদের কাছে এসে গেছে পথ-নির্দেশ।
২৪

اَمۡ لِلۡاِنۡسَانِ مَا تَمَنّٰی ۫ۖ ٢٤

আম লিলইনছা-নি মা-তামান্না-।

মানুষ যা-কিছু কামনা করে, তাই কি তার প্রাপ্য? ১৩

তাফসীরঃ

১৩. মুশরিকরা তাদের মনগড়া উপাস্যদের সম্পর্কে বলত, তারা আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে (দেখুন সূরা ইউনুস ১০ : ১৮)। আল্লাহ তাআলা বলছেন, এটা তো তোমাদের কামনা, কিন্তু মানুষ যা চায়, তাই পায় নাকি?
২৫

فَلِلّٰہِ الۡاٰخِرَۃُ وَالۡاُوۡلٰی ٪ ٢٥

ফালিল্লা-হিল আ-খিরাতুওয়াল উলা-।

(না) কেননা আখেরাত ও দুনিয়া সম্পূর্ণরূপে আল্লাহরই এখতিয়ারে।
২৬

وَکَمۡ مِّنۡ مَّلَکٍ فِی السَّمٰوٰتِ لَا تُغۡنِیۡ شَفَاعَتُہُمۡ شَیۡئًا اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ اَنۡ یَّاۡذَنَ اللّٰہُ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَرۡضٰی ٢٦

ওয়াকাম মিম মালাকিন ফিছ ছামা-ওয়া-তি লা-তুগনী শাফা-‘আতুহুম শাইআন ইল্লা-মিম বা‘দিআইঁ ইয়া’যানাল্লা-হু লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়ারদা-।

আকাশমণ্ডলীতে কত ফেরেশতা আছে, যাদের সুপারিশ (কারও) কোন কাজে আসে না। তবে আল্লাহ যার জন্য চান যদি অনুমতি দেন এবং তাতে তিনি সন্তুষ্ট থাকেন তারপরই তা কাজে আসতে পারে। ১৪

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ ফেরেশতাগণও যখন আল্লাহ তাআলার অনুমতি ও সন্তুষ্টি ছাড়া কারও জন্য সুপারিশ করতে পারে না, তখন এসব মনগড়া উপাস্যরা কিভাবে সুপারিশ করবে?
২৭

اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ لَیُسَمُّوۡنَ الۡمَلٰٓئِکَۃَ تَسۡمِیَۃَ الۡاُنۡثٰی ٢٧

ইন্নাল্লাযীনা লা- ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি লাইউছাম্মূনাল মালাইকাতা তাছমিয়াতাল উনছা-।

যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না, তারা ফেরেশতাদের নাম রাখে নারীদের নামে। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ তারা তাদেরকে আল্লাহ তাআলার কন্যা সাব্যস্ত করে।
২৮

وَمَا لَہُمۡ بِہٖ مِنۡ عِلۡمٍ ؕ  اِنۡ یَّتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ ۚ  وَاِنَّ الظَّنَّ لَا یُغۡنِیۡ مِنَ الۡحَقِّ شَیۡئًا ۚ ٢٨

ওয়ামা-লাহুম বিহী মিন ‘ইলমিন ইয়ঁইয়াত্তাবি‘ঊনা ইল্লাজ্জান্না ওয়া ইন্নাজ্জান্না লাইউগনী মিনাল হাক্কিশাইআ-।

অথচ তাদের এ বিষয়ে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল ধারণার পিছনে চলে। প্রকৃতপক্ষে সত্যের ব্যাপারে ধারণা কিছুমাত্র কাজে আসে না।
২৯

فَاَعۡرِضۡ عَنۡ مَّنۡ تَوَلّٰی ۬ۙ  عَنۡ ذِکۡرِنَا وَلَمۡ یُرِدۡ اِلَّا الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا ؕ ٢٩

ফাআ‘রিদ‘আম্মান তাওয়াল্লা- ‘আন যিকরিনা-ওয়া লাম ইউরিদ ইল্লাল হায়াতাদ্দুনইয়া-।

সুতরাং (হে রাসূল!) যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং পার্থিব জীবন ছাড়া অন্য কিছু কামনাই করে না, তুমি তাকে অগ্রাহ্য কর।
৩০

ذٰلِکَ مَبۡلَغُہُمۡ مِّنَ الۡعِلۡمِ ؕ اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ۙ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنِ اہۡتَدٰی ٣۰

যা-লিকা মাবলাগুহুম মিনাল ‘ইলমি ইন্না রাব্বাকা হুওয়া আ‘লামুবিমান দাল্লা ‘আন ছাবীলিহী ওয়া হুওয়া আ‘লামুবিমানিহতাদা-।

তাদের জ্ঞানের দৌড় এ পর্যন্তই। ১৬ তোমার প্রতিপালকই ভালো জানেন কে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভালো জানেন কে তার পথ পেয়ে গেছে।

তাফসীরঃ

১৬. এর দ্বারা যারা এই পার্থিব জীবনকেই সবকিছু মনে করে, আখেরাতের কথা চিন্তা করে না, তাদের স্বরূপ তুলে ধরা হচ্ছে। বলা হয়েছে যে, বেচারাদের দৌড় তো এ পর্যন্তই। তাই এর বেশি কিছু তারা ভাবতে পারে না।
৩১

وَلِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ۙ  لِیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اَسَآءُوۡا بِمَا عَمِلُوۡا وَیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا بِالۡحُسۡنٰی ۚ ٣١

ওয়া লিল্লা-হি মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি লিইয়াজঝিইয়াল্লাযীনা আছাউ বিমা-‘আমিলূওয়া ইয়াজঝিইয়াল্লাযীনা আহছানূবিলহুছনা-।

যা-কিছু আকাশমণ্ডলীতে ও যা-কিছু পৃথিবীতে আছে তা আল্লাহরই। সুতরাং যারা মন্দ কাজ করেছে, তিনি তাদেরকেও তাদের কাজের প্রতিফল দেবেন এবং যারা ভালো কাজ করেছে তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন।
৩২

اَلَّذِیۡنَ یَجۡتَنِبُوۡنَ کَبٰٓئِرَ الۡاِثۡمِ وَالۡفَوَاحِشَ اِلَّا اللَّمَمَ ؕ  اِنَّ رَبَّکَ وَاسِعُ الۡمَغۡفِرَۃِ ؕ  ہُوَ اَعۡلَمُ بِکُمۡ اِذۡ اَنۡشَاَکُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ وَاِذۡ اَنۡتُمۡ اَجِنَّۃٌ فِیۡ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ ۚ  فَلَا تُزَکُّوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ  ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنِ اتَّقٰی ٪ ٣٢

আল্লাযীনা ইয়াজতানিবূনা কাবাইরালইছমি ওয়ালফাওয়া-হিশা ইল্লাল লামামা ইন্না রাব্বাকা ওয়া-ছি‘উল মাগফিরাতি হুওয়া আ‘লামুবিকুম ইয আনশাআকুম মিনাল আরদি ওয়া ইয আনতুম আজিন্নাতুন ফী বুতূনি উম্মাহা-তিকুম ফালা-তুঝাক্কুআনফুছাকুম হুওয়া আ‘লামুবিমানিত্তাকা-।

সেই সব লোককে, যারা বড়-বড় গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে, অবশ্য কদাচিৎ পিছলে পড়লে সেটা ভিন্ন কথা। ১৭ নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রশস্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছেন যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে পবিত্র বলে দাবি করো না। তিনি ভালোভাবেই জানেন মুত্তাকী কে। ১৮

তাফসীরঃ

১৭. এ আয়াতে নিজেকে নিজে পবিত্র ও মুত্তাকী মনে করতে এবং আত্মপ্রশংসায় লিপ্ত হতে নিষেধ করা হয়েছে। [দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, মূলত তুমি মাটির সৃষ্টি, মাতৃগর্ভে নাপাক রক্ত দ্বারা পালিত, বহুবিধ অপবিত্রতা ও মলিনতা এবং নানা রকম দুর্বলতা তোমার মধ্যে বিদ্যমান, যার অনেক কিছুই সকলে জানে, যা অন্যে জানে না তা তুমি নিজে জান আর আল্লাহ তাআলা তোমার আদি-অন্তের সবই জানেন। কাজেই অহংকার ও আত্মশ্লাঘায় লিপ্ত না হয়ে বিনীত হয়ে থাক এবং তাকওয়ার মাধ্যমে আত্মোৎকর্ষ লাভের চেষ্টা কর। -অনুবাদক]
৩৩

اَفَرَءَیۡتَ الَّذِیۡ تَوَلّٰی ۙ ٣٣

আফারাআইতাল্লাযী তাওয়াল্লা-।

(হে রাসূল!) তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে (সত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে,
৩৪

وَاَعۡطٰی قَلِیۡلًا وَّاَکۡدٰی ٣٤

ওয়া আ‘তা-কালীলাওঁ ওয়া আকদা-।

যে সামান্য কিছু দান করেছে, তারপর থেমে গেছে? ১৯

তাফসীরঃ

১৯. হাফেজ ইবনে জারীর (রহ.) সহ অন্যান্য মুফাসসিরগণ এ আয়াতসমূহের পটভূমি বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক কাফের কুরআন মাজীদের কিছু আয়াত শুনে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। তা দেখে তার এক বন্ধু তাকে বলল, তুমি তোমার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করছ কেন? সে উত্তর দিল, আমি আখেরাতের আযাবকে ভয় করছি। বন্ধু বলল, তুমি যদি আমাকে কিছু অর্থ দাও, তবে তার বিনিময়ে আমি এই দায়িত্ব নিয়ে নেব যে, আখেরাতে যখন দেখব তোমার শাস্তি হতে যাচ্ছে, তখন সে শাস্তি আমি আমার মাথায় তুলে নেব এবং তোমাকে তা থেকে রক্ষা করব। সুতরাং সে ব্যক্তি কিছু অর্থ তাকে দিয়ে দিল। কিছুদিন পর সে আরও চাইল। সে আরও দিল। পরে আবারও চাইলে সে দেওয়া বন্ধ করে দিল। কোন কোন বর্ণনায় আছে, সে এ সম্পর্কে একটি দলীলও লিখে দিল। এ আয়াতসমূহে তাদের নির্বুদ্ধিতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি বলেছিল, আমি তোমাকে আখেরাতের আযাব থেকে রক্ষা করব, তার কাছে কি অদৃশ্য-জ্ঞান আছে, যা দ্বারা সে জানতে পেরেছে যে, এটা করতে সে সক্ষম হবে? দ্বিতীয়ত আল্লাহ তাআলা সাধারণ নিয়ম জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোন ব্যক্তি অন্য কারও গুনাহের বোঝা বহন করতে পারবে না। আর একথা এই প্রথম বলা হচ্ছে না; বরং পূর্বে হযরত ইবরাহীম ও হযরত মূসা আলাইহিমাস সালামের উপর যে সহীফাসমূহ নাযিল হয়েছিল, তাতেও একথা লিখে দেওয়া হয়েছিল।
৩৫

اَعِنۡدَہٗ عِلۡمُ الۡغَیۡبِ فَہُوَ یَرٰی ٣٥

আ ‘ইনদাহূ‘ইলমুল গাইবি ফাহুওয়া ইয়ারা-।

তার কাছে কি অদৃশ্য-জ্ঞান আছে, যা সে দেখতে পাচ্ছে?
৩৬

اَمۡ لَمۡ یُنَبَّاۡ بِمَا فِیۡ صُحُفِ مُوۡسٰی ۙ ٣٦

আম লাম ইউনাব্বা’ বিমা-ফী সুহুফি মুছা-।

তাকে কি অবগত করা হয়নি যা আছে মুসার সহীফাসমূহে
৩৭

وَاِبۡرٰہِیۡمَ الَّذِیۡ وَفّٰۤی ۙ ٣٧

ওয়া ইবরা-হীমাল্লাযী ওয়াফফা।

এবং ইবরাহীমের সহীফাসমূহেও, যে পরিপূর্ণ আনুগত্য করেছিল? ২০

তাফসীরঃ

২০. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পরিপূর্ণ আনুগত্য সম্পর্কিত বিবরণের জন্য দেখুন সূরা বাকারা (২ : ১২৩)।
৩৮

اَلَّا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ۙ ٣٨

আল্লা-তাঝিরু ওয়া-ঝিরাতুওঁবিঝরা উখরা-।

সে সহীফাসমূহে যা ছিল, তা এই যে, কোন বহনকারী অন্য কারও (গুনাহের) বোঝা বহন করতে ২১ পারে না।

তাফসীরঃ

২১. অদ্যাবধি বাইবেলের হিযকীল পুস্তকে এ মূলনীতিটি সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে (দেখুন হিযকীল ১৮:২০)।
৩৯

وَاَنۡ لَّیۡسَ لِلۡاِنۡسَانِ اِلَّا مَا سَعٰی ۙ ٣٩

ওয়াআল লাইছা লিলইনছা-নি ইল্লা-মা-ছা‘আ-।

আর এই যে, মানুষ নিজের প্রচেষ্টা ছাড়া অন্য কোন কিছুর (বিনিময় লাভের) হকদার হয় না। ২২

তাফসীরঃ

২২. অর্থাৎ মানুষের অধিকার থাকে কেবল নিজ কর্মের সওয়াবে। অন্য কারও আমলের সওয়াবে তার কোন অধিকার নেই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে কাউকে যদি অন্যের আমল দ্বারা উপকৃত করেন ও তার সওয়াবে তাকে অংশীদার করেন, তবে সেটা কেবলই তাঁর রহমত। এতে কোনও রকমের বাধ্যবাধকতা নেই। সুতরাং আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ঈসালে সওয়াব অর্থাৎ নিজের সওয়াব অন্য কাউকে দান করা বৈধ। বিভিন্ন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে জীবিতের দান করা সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছান। কেননা সাধারণত কোন ব্যক্তি অন্যকে ঈসালে সওয়াব করে কেবল তখনই, যখন সেই ব্যক্তি তার সাথে কোন ভালো আচরণ করে কিংবা অন্য কোন সৎকর্ম করে যায়।
৪০

وَاَنَّ سَعۡیَہٗ سَوۡفَ یُرٰی ۪ ٤۰

ওয়া আন্না ছা‘ইয়াহূছাওফা ইউরা-।

এবং এই যে, তার চেষ্টা অচিরেই দেখা যাবে। ২৩

তাফসীরঃ

২৩. অর্থাৎ কিয়ামতের দিন তার আমল তার সামনে পেশ করা হবে, আমলনামা খুলে দেওয়া হবে, তার সামনেই তা দাড়িপাল্লায় ওজন করা হবে। এর দ্বারা মুমিনকে সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ তাআলা তার সৎকর্ম দেখিয়ে দিয়ে তাকে খুশী করবেন আর কাফেরকেও তা দেখানো হবে। ফলে তার দুঃখণ্ডদুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যাবে। -অনুবাদক
৪১

ثُمَّ یُجۡزٰىہُ الۡجَزَآءَ الۡاَوۡفٰی ۙ ٤١

ছু ম্মা ইউজঝা-হুল জাঝাআল আওফা-।

তারপর তার প্রতিফল তাকে পুরোপুরি দেওয়া হবে।
৪২

وَاَنَّ اِلٰی رَبِّکَ الۡمُنۡتَہٰی ۙ ٤٢

ওয়া আন্না ইলা-রাব্বিকাল মুনতাহা-।

এবং এই যে, (সকলের) শেষ গন্তব্য তোমার প্রতিপালকেরই কাছে।
৪৩

وَاَنَّہٗ ہُوَ اَضۡحَکَ وَاَبۡکٰی ۙ ٤٣

ওয়া আন্নাহূহুওয়া আদহাকা ওয়া আবকা-।

এবং এই যে, তিনিই হাসান ও কাঁদান
৪৪

وَاَنَّہٗ ہُوَ اَمَاتَ وَاَحۡیَا ۙ ٤٤

ওয়া আন্নাহূহুওয়া আমা-তা ওয়া আহইয়া-।

এবং এই যে, তিনিই মৃত্যু ঘটান ও জীবন দান করেন।
৪৫

وَاَنَّہٗ خَلَقَ الزَّوۡجَیۡنِ الذَّکَرَ وَالۡاُنۡثٰی ۙ ٤٥

ওয়া আন্নাহূখালাকাঝ ঝাওজাইনিযযাকারা ওয়াল উনছা-।

এবং এই যে, তিনিই পুরুষ ও নারীর যুগল সৃষ্টি করেছেন।
৪৬

مِنۡ نُّطۡفَۃٍ اِذَا تُمۡنٰی ۪ ٤٦

মিন নুতফাতিন ইযা-তুমনা।

(তাও কেবল) একটি বিন্দু দ্বারা, যখন তা স্খলিত করা হয়। ২৪

তাফসীরঃ

২৪. অর্থাৎ শুক্র তো একই। কিন্তু তা থেকেই কখনও পুরুষ সৃষ্টি হয়, কখনও নারী। যেই আল্লাহ শুক্রের ক্ষুদ্র বিন্দু দ্বারা পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করার জন্য তার ভেতর আলাদা-আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেন, তিনি কি সেই পুরুষ ও নারীকে তাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন দান করার ক্ষমতা রাখেন না?
৪৭

وَاَنَّ عَلَیۡہِ النَّشۡاَۃَ الۡاُخۡرٰی ۙ ٤٧

ওয়া আন্না ‘আলাইহিন্নাশআতাল উখরা-।

এবং এই যে, দ্বিতীয় জীবন দেওয়ার দায়িত্ব তাঁরই।
৪৮

وَاَنَّہٗ ہُوَ اَغۡنٰی وَاَقۡنٰی ۙ ٤٨

ওয়া আন্নাহূহুওয়া আগনা-ওয়া আকনা-।

এবং এই যে, তিনিই ধনবান বানান এবং সম্পদ সংরক্ষিত করান। ২৫

তাফসীরঃ

২৫. اقنى--এর আরেক অর্থ করা হয়ে থাকে ‘গরীব বানান’। হযরত ইবন আব্বাস (রা.) আয়াতটির অর্থ করেছেন, ‘তিনিই ধনবান বানান ও সন্তুষ্ট করেন’। -অনুবাদক
৪৯

وَاَنَّہٗ ہُوَ رَبُّ الشِّعۡرٰی ۙ ٤٩

ওয়া আন্নাহূহুওয়া রাব্বুশ শি‘রা-।

এবং এই যে, তিনিই শি‘রা নক্ষত্রের প্রতিপালক। ২৬

তাফসীরঃ

২৬. ‘শি‘রা’ এক নক্ষত্রের নাম। জাহেলী যুগে আরবের লোক তার পূজা করত। তারা বিশ্বাস করত, নক্ষত্রটি তাদের কোন উপকার করে। আল্লাহ তাআলা বলছেন, নক্ষত্রটি তো একটি সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলাই তার প্রতিপালক। কাজেই সে পূজার উপযুক্ত হয় কী করে?
৫০

وَاَنَّہٗۤ اَہۡلَکَ عَادَۨ االۡاُوۡلٰی ۙ ٥۰

ওয়া আন্নাহূআহলাকা ‘আ-দানিল ঊলা-।

এবং এই যে, তিনিই ‘প্রথম ‘আদ’-কে ধ্বংস করেছেন। ২৭

তাফসীরঃ

২৭. ‘প্রথম ‘আদ’ বলা হয় হযরত হূদ ‘আলায়হিস সালামের কওমকে। এ জাতি (খৃ.পূ. আনুমানিক ২০০-খৃ. পূ. ১৭০০) দক্ষিণ আরবের ইয়ামান ও হাযরামাওত অঞ্চলে বাস করত। তাদেরকে ‘আদ ইরাম’ও বলা হয়। তারা অত্যন্ত শক্তিশালী জাতি ছিল। নাগরিক সভ্যতায় প্রভূত উন্নতি লাভ করেছিল। কিন্তু ছিল ঘোর অবাধ্য ও দুরাচার। হযরত হূদ (‘আ.)-এর সব রকম দাওয়াতী মেহনতকে তারা চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করে। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা টানা সাত রাত, আট দিনের ঝড়-ঝঞ্ঝা দ্বারা তাদেরকে ধ্বংস করে দেন। মুষ্টিমেয় যারা ঈমান এনেছিল তারা আযাবের আগে সে অঞ্চল ত্যাগ করে হিজায এলাকায় চলে যায়। তাদের বংশধরদেরকে বলা হয় দ্বিতীয় ‘আদ। -অনুবাদক
৫১

وَثَمُوۡدَا۠ فَمَاۤ اَبۡقٰی ۙ ٥١

ওয়া ছামূদা ফামাআবকা-।

এবং ছামুদ (জাতি)-কেও। কাউকে বাকি রাখেননি।
৫২

وَقَوۡمَ نُوۡحٍ مِّنۡ قَبۡلُ ؕ  اِنَّہُمۡ کَانُوۡا ہُمۡ اَظۡلَمَ وَاَطۡغٰی ؕ ٥٢

ওয়া কাওমা নূহিম মিন কাবলু ইন্নাহুম কা-নূহুম আজলামা ওয়া আতগা-।

এবং তার আগে নুহের জাতিকেও (ধ্বংস করেছেন)। নিশ্চয়ই তারা ছিল সর্বাপেক্ষা বড় জালেম ও অবাধ্য।
৫৩

وَالۡمُؤۡتَفِکَۃَ اَہۡوٰی ۙ ٥٣

ওয়াল মু’তাফিকাতা আহওয়া-।

যে জনপদসমূহ উল্টে পড়ে গিয়েছিল, ২৮ সেগুলোকেও তিনিই তুলে নিক্ষেপ করেছিলেন।

তাফসীরঃ

২৮. এর দ্বারা হযরত লুত আলাইহিস সালামকে যে জনপদসমূহে প্রেরণ করা হয়েছিল তার প্রতি ইশারা করা হয়েছে। তাদের উপর্যুপরি পাপাচারের কারণে শেষ পর্যন্ত জনপদগুলিকে আকাশের দিকে তুলে উল্টিয়ে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। বিস্তারিত দেখুন সূরা হুদ (১১ : ৭৭-৮২)।
৫৪

فَغَشّٰہَا مَا غَشّٰی ۚ ٥٤

ফাগাশশা-হা-মা-গাশশা-।

অতঃপর যে (ভয়াবহ) বস্তু তাকে আচ্ছন্ন করল, তা তাকে আচ্ছন্ন করে ছাড়ল। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. অর্থাৎ সে জনপদবাসীদেরকে যে বিভীষিকাময় শাস্তি দান করা হয়েছিল, তা বর্ণনার অতীত। -অনুবাদক
৫৫

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکَ تَتَمَارٰی ٥٥

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকা তাতামা-রা-।

সুতরাং (হে মানুষ!) তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘আমতে সন্দেহ পোষণ করবে? ৩০

তাফসীরঃ

৩০. অর্থাৎ হে মানুষ! আল্লাহ তোমাদেরকে সেই শাস্তি হতে রক্ষা করে যেসব নি‘আমতের মধ্যে তোমাদেরকে রেখেছেন, তারপর তোমাদের হেদায়েতের জন্য কুরআন মাজীদ বিচিত্র বর্ণনাধারায় যেভাবে তোমাদেরকে বোঝাচ্ছে ও সতর্ক করছে, সেই সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মহব্বত ও দরদের সাথে বুঝিয়ে-সমঝিয়ে তোমাদেরকে আযাব থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, এসব বড়-বড় নি‘আমতের মধ্যে কোনটার ব্যাপারে তুমি সন্দেহ করবে?
৫৬

ہٰذَا نَذِیۡرٌ مِّنَ النُّذُرِ الۡاُوۡلٰی ٥٦

হা-যা-নাযীরুম মিনান নুযুরিল ঊলা-।

সে (অর্থাৎ রাসূল)-ও পূর্ববর্তী সতর্ককারীদের মত একজন সতর্ককারী।
৫৭

اَزِفَتِ الۡاٰزِفَۃُ ۚ ٥٧

আ-ঝিফাতিল আ-ঝিফাহ।

আসন্ন কাল তো নিকটে এসে গেছে।
৫৮

لَیۡسَ لَہَا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ کَاشِفَۃٌ ؕ ٥٨

লাইছা লাহা-মিন দূনিল্লা-হি কা-শিফাহ।

আল্লাহ ছাড়া এমন কেউ নেই, যে তা রোধ করতে পারে।
৫৯

اَفَمِنۡ ہٰذَا الۡحَدِیۡثِ تَعۡجَبُوۡنَ ۙ ٥٩

আফামিন হা-যাল হাদীছিতা‘জাবূন।

তবে কি তোমরা এ কথায়ই বিস্ময়বোধ করছ?
৬০

وَتَضۡحَکُوۡنَ وَلَا تَبۡکُوۡنَ ۙ ٦۰

ওয়া তাদহাকূনা ওয়ালা-তাবকূন।

এবং (একে উপহাসের বিষয় বানিয়ে) হাসি-ঠাট্টা করছ এবং কান্নাকাটি করছ না;
৬১

وَاَنۡتُمۡ سٰمِدُوۡنَ ٦١

ওয়া আনতুম ছা-মিদূন।

এবং তোমরা স্পর্ধিত ঔদাসিন্যে লিপ্ত রয়েছ?
৬২

فَاسۡجُدُوۡا لِلّٰہِ وَاعۡبُدُوۡا ٪ٛ ٦٢

ফাছজূদূলিল্লা-হি ওয়া‘বুদূ(ছিজদাহ-১২)।

এখন (ও সময় আছে) আল্লাহর সামনে ঝুঁকে পড় এবং তাঁর বন্দেগীতে লিপ্ত হও। ৩১

তাফসীরঃ

৩১. এটা সিজদার আয়াত। যে ব্যক্তি আরবীতে এ আয়াত পড়বে বা শুনবে তার উপর সিজদা করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।
সূরা আন-নাজ্‌ম | মুসলিম বাংলা