সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা ত্বা-হা (طه) | ত্বোয়া-হা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১৩৫

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

طٰہٰ ۚ ١

তা-হা-

তোয়া-হা।

তাফসীরঃ

১. কোন কোন মুফাসসিরের মতে ‘তোয়াহা’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি নাম। কেউ বলেন, বিভিন্ন সূরার শুরুতে যে ‘আল-হুরূফুল মুকাত্তাআত’ আছে, طه ও সেই রকমেরই ‘আল-হুরূফুল মুকাত্তাআত’। এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না।

مَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکَ الۡقُرۡاٰنَ لِتَشۡقٰۤی ۙ ٢

মাআনঝালনা-‘আলাইকাল কুরআ-না লিতাশকা।

আমি তোমার প্রতি কুরআন এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি কষ্ট ভোগ করবে।

তাফসীরঃ

২. এর দু’টো ব্যাখ্যা হতে পারে। (এক) কাফেরদের পক্ষ হতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে জুলুম ও নির্যাতন করা হত, সেই কষ্টের কথা বলা হয়েছে। এ হিসাবে আয়াতের মর্ম হল, এসব কষ্ট বেশি দিন থাকবে না। অচিরেই আল্লাহ তাআলা এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাবেন এবং আপনাকে বিজয় দান করবেন। (দুই) কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায়, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দিকে সারা রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করতেন। এমনকি তাতে তাঁর মুবারক পা ফুলে যেত। আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে বলছেন, আপনার এত কষ্ট করার প্রয়োজন নেই। সুতরাং এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর থেকে তিনি রাতের প্রথম অংশে ঘুমাতেন এবং শেষ অংশে ইবাদত করতেন।

اِلَّا تَذۡکِرَۃً لِّمَنۡ یَّخۡشٰی ۙ ٣

ইল্লা-তাযকিরাতাল লিমাইঁইয়াখশা-।

বরং এটা সেই ব্যক্তির জন্য নসীহত, যে ভয় করে

তাফসীরঃ

৩. নিজ কাজ-কর্ম সঠিক হচ্ছে কি না, এই ভয় ও চিন্তা যার আছে তার জন্যই এ উপদেশ ফলপ্রসূ হবে। কিংবা বলা যায়, যার অন্তরে সত্য জানার আগ্রহ আছে, জেদের বশবর্তীতে স্বেচ্ছাচারিতা প্রদর্শন করে না এবং নিজ পরিণাম সম্পর্কে নিশ্চিন্ত মনে বসে থাকে না, তার মত লোকই এ উপদেশ দ্বারা উপকৃত হয়।

تَنۡزِیۡلًا مِّمَّنۡ خَلَقَ الۡاَرۡضَ وَالسَّمٰوٰتِ الۡعُلٰی ؕ ٤

তানঝীলাম মিম্মান খালাকাল আরদা ওয়াছছামা-ওয়া-তিল ‘ঊলা-।

এটা সেই সত্তার পক্ষ হতে অল্প-অল্প করে নাযিল করা হচ্ছে, যিনি পৃথিবী ও সমুচ্চ আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করেছেন।

اَلرَّحۡمٰنُ عَلَی الۡعَرۡشِ اسۡتَوٰی ٥

আররাহমা-নু‘আলাল ‘আরশিছ তাওয়া-।

তিনি অতি দয়াময়, আরশে ‘ইসতিয়াওয়া’ গ্রহণ করেছেন।

তাফসীরঃ

৪. এর ব্যাখ্যা পূর্বে সূরা আরাফ (৭ : ৫৪)-এর টীকায় চলে গেছে। সেখানে দ্রষ্টব্য।

لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا وَمَا تَحۡتَ الثَّرٰی ٦

লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়ামা- বাইনাহুমা- ওয়ামা তাহতাছছারা-।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, যা-কিছু আছে এ দুয়ের মাঝখানে। আর যা-কিছু ভূ-গর্ভে আছে সব তাঁরই মালিকানাধীন।

وَاِنۡ تَجۡہَرۡ بِالۡقَوۡلِ فَاِنَّہٗ یَعۡلَمُ السِّرَّ وَاَخۡفٰی ٧

ওয়া ইন তাজহার বিল কাওলি ফাইন্নাহূইয়া‘লামুছছিররা ওয়া আখফা-।

তোমরা যদি কোন কথা উচ্চস্বরে বল (বা নিম্নস্বরে), তবে তিনি তো গুপ্ত ও গুপ্ততম সবই জানেন।

তাফসীরঃ

৫. ‘গুপ্ততম বিষয়’ বলতে মানুষ যা মুখে উচ্চারণ করে না, মনে মনে কল্পনা করে মাত্র, তাই বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মনের সেই অব্যক্ত কথা সম্পর্কেও পরিপূর্ণ অবগত।

اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ لَہُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی ٨

আল্লা-হু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া লাহুল আছমাউল হুছনা-।

তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সমস্ত উত্তম নাম তাঁরই।

وَہَلۡ اَتٰىکَ حَدِیۡثُ مُوۡسٰی ۘ ٩

ওয়াহাল আতা-কা হাদীছুমূছা-।

(হে নবী!) মূসার বৃত্তান্ত কি তোমার কাছে পৌঁছেছে?
১০

اِذۡ رَاٰ نَارًا فَقَالَ لِاَہۡلِہِ امۡکُثُوۡۤا اِنِّیۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا لَّعَلِّیۡۤ اٰتِیۡکُمۡ مِّنۡہَا بِقَبَسٍ اَوۡ اَجِدُ عَلَی النَّارِ ہُدًی ١۰

ইযরাআ-না-রান ফাকা-লা লিআহলিহিম কুছূ দ্মইন্নীআ-নাছতুনা-রাল লা‘আললীআতীকুম মিনহা-বিকাবাছিন আও আজিদু‘আলান না-রি হুদা-।

যখন সে এক আগুন দেখতে পেয়ে তার পরিবারবর্গকে বলেছিল, তোমরা এখানে থাক। আমি এক আগুন দেখেছি। সম্ভবত আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু জ্বলন্ত অংগার নিয়ে আসতে পারব কিংবা সে আগুনের কাছে আমি পথের কোন দিশা পেয়ে যাব।

তাফসীরঃ

৬. এ আয়াতে ঘটনাটি খুব সংক্ষেপে এসেছে। এটা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, সূরা কাসাসে। সেখানে আছে, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম মাদয়ানে দীর্ঘকাল অবস্থান করার পর এক সময় আবার মিসরের উদ্দেশ্যে ওয়াপস রওয়ানা হলেন। সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও ছিল। সিনাই মরুভূমিতে পৌঁছলে তিনি পথ হারিয়ে ফেললেন। খুব শীতও লাগছিল। কোথায় কিভাবে পথের সন্ধান পাওয়া যায় এবং শীত নিবারণেরই বা কী উপায় হতে পারে এজন্য তিনি বড় পেরেশান ছিলেন। এ সময় হঠাৎ দূরে আগুনমত একটা কিছু তাঁর চোখে পড়ল। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল এক নূর, যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাঁকে দেখানো হচ্ছিল। তখন তিনি স্ত্রীকে সেখানে থাকতে বললেন এবং নিজে আগুনের দিকে এগিয়ে গেলেন।
১১

فَلَمَّاۤ اَتٰىہَا نُوۡدِیَ یٰمُوۡسٰی ؕ ١١

ফালাম্মাআতা-হা-নূদিয়া ইয়া-মূছা-।

যখন সে আগুনের কাছে পৌঁছল, ডাক দেওয়া হল হে মূসা!
১২

اِنِّیۡۤ اَنَا رَبُّکَ فَاخۡلَعۡ نَعۡلَیۡکَ ۚ  اِنَّکَ بِالۡوَادِ الۡمُقَدَّسِ طُوًی ؕ ١٢

ইন্নীআনা রাব্বুকা ফাখলা‘না‘লাইকা ইন্নাকা বিলওয়া-দিল মুকাদ্দাছি তুওয়া।

নিশ্চয় আমিই তোমার প্রতিপালক। সুতরাং তোমার জুতা খুলে ফেল। কেননা তুমি এখন পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছো।

তাফসীরঃ

৭. প্রশ্ন হতে পারে, এ ডাক যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসছিল, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম সে ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন কি করে? এর উত্তর হল, আল্লাহ তাআলা তাঁর অন্তরে এই প্রতীতি সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন যে, আল্লাহ তাআলারই সাথে তাঁর বাক্যালাপ হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা পারিপার্শ্বিক অবস্থাকেও এই প্রত্যয় সৃষ্টির পক্ষে সহায়ক করে দিয়েছিলেন। কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা প্রকাশ, তিনি যখন সেই আগুনের কাছে গেলেন, এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখতে পেলেন, তিনি দেখলেন সে আগুন একটা গাছে শিখাপাত করছে, অথচ কোন একটি পাতা পুড়ছে না। তিনি অপেক্ষা করছিলেন হয়ত কোন স্ফুলিঙ্গ উড়ে তার কাছে আসবে। কিন্তু তাও আসল না। শেষে তিনি কিছু ঘাস-পাতা তুলে নিয়ে তা আগুনের দিকে এগিয়ে দিলেন, যাতে আগুন ধরে। কিন্তু তাতে আগুন ধরল না; বরং আগুন পিছনে সরে গেল। আর তখনই ডাক শোনা গেল ‘হে মূসা...!’ সে আওয়াজ বিশেষ কোন দিক থেকে নয়; বরং চতুর্দিক থেকে অনুভূত হচ্ছিল এবং মূসা আলাইহিস সালামও কেবল কান দ্বারা নয়; বরং সর্বাঙ্গ দ্বারা তা শুনতে পাচ্ছিলেন।
১৩

وَاَنَا اخۡتَرۡتُکَ فَاسۡتَمِعۡ لِمَا یُوۡحٰی ١٣

ওয়া আনাখ তারতুকা ফাছতামি‘লিমা-ইউহা-।

আমি তোমাকে (নবুওয়াতের জন্য) মনোনীত করেছি। সুতরাং ওহীর মাধ্যমে তোমাকে যা বলা হচ্ছে মনোযোগ দিয়ে শোন।
১৪

اِنَّنِیۡۤ اَنَا اللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدۡنِیۡ ۙ وَاَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِذِکۡرِیۡ ١٤

ইন্নানীআনাল্লা-হু লাইলা-হা ইল্লাআনা-ফা‘বুদনী ওয়া আকিমিসসালা-তা লিযিকরী।

নিশ্চয় আমিই আল্লাহ। আমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর।
১৫

اِنَّ السَّاعَۃَ اٰتِیَۃٌ اَکَادُ اُخۡفِیۡہَا لِتُجۡزٰی کُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا تَسۡعٰی ١٥

ইন্নাছছা-‘আতা আ-তিয়াতুন আকা-দুউখফীহা-লিতুজঝা-কুল্লুনাফছিম বিমা-তাছ‘আ-।

নিশ্চয়ই কিয়ামত অবশ্যই আসবে। আমি তা (অর্থাৎ তার সময়) গোপন রাখতে চাই। যাতে প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের প্রতিফল লাভ করে।
১৬

فَلَا یَصُدَّنَّکَ عَنۡہَا مَنۡ لَّا یُؤۡمِنُ بِہَا وَاتَّبَعَ ہَوٰىہُ فَتَرۡدٰی ١٦

ফালা-ইয়াসুদ্দান্নাকা ‘আনহা-মাল লা-ইউ’মিনুবিহা-ওয়াত্তাবা‘আ হাওয়া-হু ফাতারদা-।

সুতরাং কিয়ামতে বিশ্বাস করে না ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এমন কোন ব্যক্তি যেন তোমাকে তা হতে গাফেল করতে না পারে। তা হলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
১৭

وَمَا تِلۡکَ بِیَمِیۡنِکَ یٰمُوۡسٰی ١٧

ওয়ামা-তিলকা বিইয়ামীনিকা ইয়া-মূছা-।

হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কী?
১৮

قَالَ ہِیَ عَصَایَ ۚ اَتَوَکَّوٴُا عَلَیۡہَا وَاَہُشُّ بِہَا عَلٰی غَنَمِیۡ وَلِیَ فِیۡہَا مَاٰرِبُ اُخۡرٰی ١٨

কা-লা হিয়া ‘আসা-ইয়া আতাওয়াক্কাউ ‘আলাইহা-ওয়া আহুশশুবিহা-‘আলা-গানামী ওয়ালিয়া ফীহা-মাআ-রিবুউখরা-।

মূসা বলল, এটা আমার লাঠি। আমি এতে ভর করি, এর দ্বারা আমার মেষপালের জন্য (গাছ থেকে) পাতা ঝাড়ি এবং এর দ্বারা আমার অন্যান্য প্রয়োজনও সমাধা হয়।
১৯

قَالَ اَلۡقِہَا یٰمُوۡسٰی ١٩

কা-লা আলকিহা-ইয়া-মূছা-।

তিনি বললেন, হে মূসা! ওটা নিচে ফেলে দাও।
২০

فَاَلۡقٰہَا فَاِذَا ہِیَ حَیَّۃٌ تَسۡعٰی ٢۰

ফাআলকা-হা-ফাইযা-হিয়া হাইয়াতুন তাছ‘আ-।

মূসা সেটি ফেলে দিল। অমনি সেটা ধাবমান সাপ হয়ে গেল।
২১

قَالَ خُذۡہَا وَلَا تَخَفۡ ٝ سَنُعِیۡدُہَا سِیۡرَتَہَا الۡاُوۡلٰی ٢١

কা-লা খুযহা-ওয়ালা-তাখাফ ছানু‘ঈদুহা-ছীরাতাহাল ঊলা-।

আল্লাহ বললেন, ওটা ধর। ভয় করো না। আমি এখনই ওটা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিচ্ছি।
২২

وَاضۡمُمۡ یَدَکَ اِلٰی جَنَاحِکَ تَخۡرُجۡ بَیۡضَآءَ مِنۡ غَیۡرِ سُوۡٓءٍ اٰیَۃً اُخۡرٰی ۙ ٢٢

ওয়াদমুম ইয়াদাকা ইলা-জানা-হিকা তাখরুজ বাইদায়া মিন গাইরি ছূইন আ-য়াতান উখরা-।

আর তোমার হাত নিজ বগলে রাখ। তা কোনরূপ রোগ ছাড়া শুভ্র উজ্জ্বল হয়ে বের হবে। এটা হবে (তোমার নবুওয়াতের) আরেক নিদর্শন।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ, বগল থেকে যখন হাত বের করবে, তা শুভ্রতায় ঝলমল করবে। আর সে শুভ্রতা শ্বেতী বা অন্য কোন রোগের কারণে নয়। বরং তা হবে তোমার নবুওয়াত প্রাপ্তির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
২৩

لِنُرِیَکَ مِنۡ اٰیٰتِنَا الۡکُبۡرٰی ۚ ٢٣

লিনুরিয়াকা মিন আ-য়া-তিনাল কুবরা-।

(এটা করছি) আমার বড় বড় নিদর্শন থেকে কিছু তোমাকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য।
২৪

اِذۡہَبۡ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ اِنَّہٗ طَغٰی ٪ ٢٤

ইযহাব ইলা -ফির‘আওনা ইন্নাহূতাগা-।

এবার ফির‘আউনের কাছে যাও। সে অবাধ্যতায় সীমালংঘন করেছে।
২৫

قَالَ رَبِّ اشۡرَحۡ لِیۡ صَدۡرِیۡ ۙ ٢٥

কা-লা রাব্বিশরাহলী সাদরী।

মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ খুলে দিন।
২৬

وَیَسِّرۡ لِیۡۤ اَمۡرِیۡ ۙ ٢٦

ওয়া ইয়াছছিরলীআমরী।

এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।
২৭

وَاحۡلُلۡ عُقۡدَۃً مِّنۡ لِّسَانِیۡ ۙ ٢٧

ওয়াহলুল ‘উকদাতাম মিলিলছা-নী।

এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। ১০

তাফসীরঃ

১০. হযরত মূসা আলাইহিস সালাম শৈশবে এক জ্বলন্ত অঙ্গার মুখে দিয়েছিলেন। তার কারণে তাঁর মুখে কিছুটা তোতলামি ও জড়তা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। তিনি সেটাই দূর করে দেওয়ার দু‘আ করেছেন।
২৮

یَفۡقَہُوۡا قَوۡلِیۡ ۪ ٢٨

ইয়াফকাহূকাওলী।

যাতে মানুষ আমার কথা বুঝতে পারে।
২৯

وَاجۡعَلۡ لِّیۡ وَزِیۡرًا مِّنۡ اَہۡلِیۡ ۙ ٢٩

ওয়াজ‘আললী ওয়াঝীরাম মিন আহলী।

আমার স্বজনদের মধ্য হতে একজনকে আমার সহযোগী বানিয়ে দিন।
৩০

ہٰرُوۡنَ اَخِی ۙ ٣۰

হা-রূনা আখী।

আমার ভাই হারূনকে।
৩১

اشۡدُدۡ بِہٖۤ اَزۡرِیۡ ۙ ٣١

উশদুদ বিহীআঝরী।

তার মাধ্যমে আমার শক্তি দৃঢ় করুন।
৩২

وَاَشۡرِکۡہُ فِیۡۤ اَمۡرِیۡ ۙ ٣٢

ওয়া আশরিকহু ফীআমরী।

এবং তাকে আমার কাজে শরীক বানিয়ে দিন।
৩৩

کَیۡ نُسَبِّحَکَ کَثِیۡرًا ۙ ٣٣

কাই নুছাব্বিহাকা কাছীরা-।

যাতে আমরা বেশি পরিমাণে আপনার তাসবীহ করতে পারি।
৩৪

وَّنَذۡکُرَکَ کَثِیۡرًا ؕ ٣٤

ওয়ানাযকুরাকা কাছীরা-।

এবং বেশি পরিমাণে আপনার যিকির করতে পারি। ১১

তাফসীরঃ

১১. তাসবীহ ও যিকির যদিও একাকীও করা যায়, কিন্তু ভালো সঙ্গী-সাথী পেলে ও পরিবেশ অনুকূল হলে তা যিকিরের পক্ষে সহায়ক হয় ও প্রেরণা যোগায়।
৩৫

اِنَّکَ کُنۡتَ بِنَا بَصِیۡرًا ٣٥

ইন্নাকা কুনতা বিনা-বাসীরা-।

নিঃসন্দেহে আপনি আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।
৩৬

قَالَ قَدۡ اُوۡتِیۡتَ سُؤۡلَکَ یٰمُوۡسٰی ٣٦

কা-লা কাদ ঊতীতা ছু’লাকা ইয়া-মূছা-।

আল্লাহ বললেন, হে মূসা! তুমি যা-কিছু চেয়েছ তা তোমাকে দেওয়া হল।
৩৭

وَلَقَدۡ مَنَنَّا عَلَیۡکَ مَرَّۃً اُخۡرٰۤی ۙ ٣٧

ওয়া লাকাদ মানান্না-‘আলাইকা মাররাতান উখরা।

এবং আমি তো তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম।
৩৮

اِذۡ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰۤی اُمِّکَ مَا یُوۡحٰۤی ۙ ٣٨

ইযআওহাইনাইলাউম্মিকা মা-ইউহা।

যখন আমি তোমার মাকে ওহীর মাধ্যমে বলেছিলাম সেই কথা, যা এখন ওহীর মাধ্যমে (তোমাকে) জানানো হচ্ছে
৩৯

اَنِ اقۡذِفِیۡہِ فِی التَّابُوۡتِ فَاقۡذِفِیۡہِ فِی الۡیَمِّ فَلۡیُلۡقِہِ الۡیَمُّ بِالسَّاحِلِ یَاۡخُذۡہُ عَدُوٌّ لِّیۡ وَعَدُوٌّ لَّہٗ ؕ  وَاَلۡقَیۡتُ عَلَیۡکَ مَحَبَّۃً مِّنِّیۡ ۬ۚ  وَلِتُصۡنَعَ عَلٰی عَیۡنِیۡ ۘ ٣٩

আনিকযিফীহি ফিততা-বূতি ফাকযিফীহি ফিল ইয়াম্মি ফালইউলকিহিল ইয়াম্মুবিছছাহিলি ইয়া’খুযহু ‘আদুওউললী ওয়া ‘আদুওউল্লাহূ ওয়াআলকাইতু‘আলাইকা মাহাব্বাতাম মিন্নী ওয়ালিতুসনা‘আ ‘আলা-‘আইনী।

তুমি এ (শিশু)কে সিন্দুকের মধ্যে রাখ। তারপর সিন্দুকটি দরিয়ায় ফেলে দাও। ১২ তারপর দরিয়া সে সিন্দুকটিকে তীরে নিয়ে ফেলে দেবে। তাকে তুলে নেবে আমার এক শত্রু এবং তারও শত্রু। ১৩ আমি আমার পক্ষ হতে তোমার প্রতি ভালোবাসা বর্ষণ করেছিলাম ১৪ আর এসব করেছিলাম এজন্য, যাতে তুমি আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও। ১৫

তাফসীরঃ

১২. কোন জ্যোতিষী ফির‘আউনকে বলেছিল, বনী ইসরাঈলে এমন এক ব্যক্তির জন্ম হবে, যার হাতে আপনার রাজত্বের অবসান হবে। তাই সে ফরমান জারি করল, এখন থেকে বনী ইসরাঈলে যত শিশু জন্ম নেবে তাদেরকে হত্যা করা হোক। এ রকম পরিস্থিতির ভেতরই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম জন্মগ্রহণ করেন। আইন অনুসারে ফির‘আউনের লোকজন তো তাকে হত্যা করে ফেলবে। তাই স্বভাবতই তাঁর মা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা রদ করবে কে? তিনি হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে রক্ষা করার জন্য নিজ কুদরতের মহিমা দেখালেন। তাঁর মাকে ইলহামের মাধ্যমে নির্দেশ দিলেন, শিশুকে একটি সিন্দুকের ভেতর রেখে নীল নদীতে ফেলে দাও।
৪০

اِذۡ تَمۡشِیۡۤ اُخۡتُکَ فَتَقُوۡلُ ہَلۡ اَدُلُّکُمۡ عَلٰی مَنۡ یَّکۡفُلُہٗ ؕ فَرَجَعۡنٰکَ اِلٰۤی اُمِّکَ کَیۡ تَقَرَّ عَیۡنُہَا وَلَا تَحۡزَنَ ۬ؕ وَقَتَلۡتَ نَفۡسًا فَنَجَّیۡنٰکَ مِنَ الۡغَمِّ وَفَتَنّٰکَ فُتُوۡنًا ۬۟ فَلَبِثۡتَ سِنِیۡنَ فِیۡۤ اَہۡلِ مَدۡیَنَ ۬ۙ ثُمَّ جِئۡتَ عَلٰی قَدَرٍ یّٰمُوۡسٰی ٤۰

ইযতামশীউখতুকা ফাতাকূলুহাল আদুল্লুকুম ‘আলা-মাইঁ ইয়াকফুলুহূ ফারাজা‘না-কা ইলাউম্মিকা কাই তাকাররা ‘আইনুহা-ওয়ালা-তাহঝানা ওয়াকাতালতা নাফছান ফানাজ্জাইনা-কা মিনাল গাম্মি ওয়া ফাতান্না-কা ফুতূনা- ফালাবিছতা ছিনীনা ফী আহলি মাদইয়ানা ছু ম্মা জি’তা ‘আলা-কাদারিইঁ ইয়া-মূছা-।

সেই সময়ের কথা চিন্তা কর, যখন তোমার বোন ঘর থেকে বের হয়ে চলছে তারপর (ফিরাউনের কর্মচারীদেরকে) বলছে, আমি কি তোমাদেরকে এমন কারো সন্ধান দেব, যে একে লালন-পালন করবে? ১৬ এভাবে আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে চিন্তিত না থাকে। তুমি এক ব্যক্তিকে মেরে ফেলেছিলে। ১৭ তারপর আমি তোমাকে সে সংকট থেকে উদ্ধার করি। আর আমি তোমাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করি। ১৮ তারপর তুমি কয়েক বছর মাদয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করলে। তারপর হে মূসা! এমন এক সময় এখানে আসলে, যা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল।

তাফসীরঃ

১৬. ফির‘আউনের স্ত্রী তো শিশুটিকে লালন-পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল তার দুধ পান করানো নিয়ে। কত ধাত্রীই তালাশ করে আনা হল, কিন্তু হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কোন ধাত্রীরই দুধ মুখে নিচ্ছিলেন না। হযরত আসিয়া এমন কোন মহিলাকে খুঁজে আনার জন্য দাসীদেরকে পাঠিয়ে দিলেন, যার দুধ তিনি গ্রহণ করতে পারেন। ওদিকে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের মা সন্তানকে নদীতে তো ফেলে দিলেন, কিন্তু এরপর কী হবে সেই চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লেন। তিনি মূসা আলাইহিস সালামের বোনকে অনুসন্ধানের জন্য পাঠালেন। তিনি খুঁজতে খুঁজতে ফির‘আউনের রাজপ্রাসাদে গিয়ে পৌঁছলেন। সেখানে পৌঁছে দেখেন তারা শিশুটিকে দুধ পান করানো নিয়ে ঝামেলায় পড়ে গেছে। দাসীরা উপযুক্ত ধাত্রীর সন্ধানে ছোটাছুটি করছে। তিনি সুযোগ পেয়ে গেলেন এবং এ দায়িত্ব তার মায়ের উপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব দিয়ে দিলেন। তারপর আর দেরি না করে মাকে সেখানে নিয়েও আসলেন। তিনি যখন দুধ পান করানোর ইচ্ছায় শিশুটিকে বুকে নিলেন অমনি সে মহানন্দে দুধ পান করতে লাগল। এভাবে আল্লাহ তাআলা নিজ ওয়াদা অনুযায়ী তাকে পুনরায় মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলেন।
৪১

وَاصۡطَنَعۡتُکَ لِنَفۡسِیۡ ۚ ٤١

ওয়াছতানা‘তুকা লিনাফছী।

এবং আমি তোমাকে বিশেষভাবে আমার জন্য তৈরি করেছি।
৪২

اِذۡہَبۡ اَنۡتَ وَاَخُوۡکَ بِاٰیٰتِیۡ وَلَا تَنِیَا فِیۡ ذِکۡرِیۡ ۚ ٤٢

ইযহাব আনতা ওয়াআখূকা বিআ-য়া-তী ওয়ালা-তানিয়া-ফী যিকরী।

তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনসমূহ নিয়ে যাও এবং আমার যিকিরে শৈথিল্য করো না। ১৯

তাফসীরঃ

১৯. এখানে সবক দেওয়া উদ্দেশ্য যে, সত্যের দাওয়াতদাতাকে সর্বদা আল্লাহ তাআলার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে। সব সংকটে সাহায্য চাইতে হবে কেবল তাঁরই কাছে।
৪৩

اِذۡہَبَاۤ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ اِنَّہٗ طَغٰی ۚۖ ٤٣

ইয হাবা ইলা-ফির‘আওনা ইন্নাহূতাগা-।

উভয়ে ফির‘আউনের কাছে যাও। সে সীমালংঘন করেছে।
৪৪

فَقُوۡلَا لَہٗ قَوۡلًا لَّیِّنًا لَّعَلَّہٗ یَتَذَکَّرُ اَوۡ یَخۡشٰی ٤٤

ফাকূলা-লাহূকাওলাল লাইয়িনাল লা‘আল্লাহূইয়াতাযাক্কারুআও ইয়াখশা-।

তোমরা গিয়ে তার সাথে নম্র কথা বলবে। হয়ত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা (আল্লাহকে) ভয় করবে। ২০

তাফসীরঃ

২০. এর দ্বারা দাওয়াতের পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে। দাওয়াতের ভাষা হতে হবে নম্র, আকর্ষণীয় ও দরদপূর্ণ। মনে আঘাত দিয়ে কথা বলা যাবে না ও অসম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। যত বড় উদ্ধত ব্যক্তিই হোক এই আশায় তাকে নম্র-কোমল ভাষায় দাওয়াত দিতে হবে যে, আল্লাহর মেহেরবানীতে হয়ত তার মন গলবে এবং উপদেশ গ্রহণ করবে কিংবা আল্লাহ তাআলার অপার শক্তি-ক্ষমতা ও তাঁর কঠিন শাস্তির কথা চিন্তা করে কিছুটা হলেও নত ও ভীত হবে। -অনুবাদক
৪৫

قَالَا رَبَّنَاۤ اِنَّنَا نَخَافُ اَنۡ یَّفۡرُطَ عَلَیۡنَاۤ اَوۡ اَنۡ یَّطۡغٰی ٤٥

কা-লা রাব্বানাইন্নানা-নাখা-ফুআইঁ ইয়াফরুতা ‘আলাইনাআও আইঁ ইয়াতগা-।

তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আশঙ্কা করি সে কিনা আমাদের উপর অত্যাচার করে অথবা সীমালংঘন করতে উদ্যত হয়।
৪৬

قَالَ لَا تَخَافَاۤ اِنَّنِیۡ مَعَکُمَاۤ اَسۡمَعُ وَاَرٰی ٤٦

কা-লা লা-তাখা-ফাইন্নানী মা‘আকুমাআছমা‘উ ওয়া আরা-।

আল্লাহ বললেন, ভয় করো না। আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। আমি শুনি ও দেখি।
৪৭

فَاۡتِیٰہُ فَقُوۡلَاۤ اِنَّا رَسُوۡلَا رَبِّکَ فَاَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ۬ۙ وَلَا تُعَذِّبۡہُمۡ ؕ قَدۡ جِئۡنٰکَ بِاٰیَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکَ ؕ وَالسَّلٰمُ عَلٰی مَنِ اتَّبَعَ الۡہُدٰی ٤٧

ফা’তিয়া-হু ফাকূলাইন্না-রাছূলা-রাব্বিকা ফাআরছিল মা‘আনা বানি ইসরাইলা ওয়ালা তুআযযিবহুম ক্বাদ জি'নাকা বিআয়াতিম মির রাব্বিকা ওয়াস্সালামু আ'লা মানিত্যাবাআলহুদা।

সুতরাং তোমরা তার কাছে যাও এবং বল, আমরা তোমার প্রতিপালকের রাসূল। কাজেই বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও এবং তাদেরকে শাস্তি দিও না। আমরা তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের নিদর্শন নিয়ে এসেছি। আর শান্তি তো তাদেরই প্রতি, যারা হিদায়াত অনুসরণ করে। ২১

তাফসীরঃ

২১. এ আয়াতে তিনটি বিষয়ের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে (ক) ফিরআউন ও সমস্ত মাখলুকের একজন সৃষ্টিকর্তা ও মালিক আছেন, যিনি মানুষের হিদায়াতের জন্য রাসূল পাঠিয়ে থাকেন। (খ) আমরা দু’জন তাঁর রাসূল বিধায় আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আল্লাহ তাআলার ‘ইবাদত-আনুগত্য করা তোমাদের অবশ্যকর্তব্য। (গ) বনী ইসরাঈল একটি স্বাধীন মানবগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও তোমরা জোরপূর্বক তাদেরকে দাস বানিয়ে রেখেছ। এটা তাদের প্রতি চরম অবিচার। আল্লাহ তাআলার নির্দেশ হল তোমরা তাদেরকে এই অন্যায় দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে আমাদের হাতে সমর্পণ কর। তারা তাদের যেখানে ইচ্ছা স্বাধীন জীবন যাপন করুক (-অনুবাদক তাফসীরে উসমানী অবলম্বনে)।
৪৮

اِنَّا قَدۡ اُوۡحِیَ اِلَیۡنَاۤ اَنَّ الۡعَذَابَ عَلٰی مَنۡ کَذَّبَ وَتَوَلّٰی ٤٨

ইন্না-কাদ ঊহিয়া ইলাইনাআন্নাল ‘আযা-বা ‘আলা-মান কাযযাবা ওয়া তাওয়াল্লা-।

আমাদের প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, শাস্তি হবে সেই ব্যক্তির উপর, যে (সত্যকে) অস্বীকার করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।
৪৯

قَالَ فَمَنۡ رَّبُّکُمَا یٰمُوۡسٰی ٤٩

কা-লা ফামার রাব্বুকুমা-ইয়া-মূছা-।

(এসব কথা শুনে) ফির‘আউন বলল, হে মূসা! তোমাদের রব্ব কে?
৫০

قَالَ رَبُّنَا الَّذِیۡۤ اَعۡطٰی کُلَّ شَیۡءٍ خَلۡقَہٗ ثُمَّ ہَدٰی ٥۰

কা-লা রাব্বুনাল্লাযীআ‘তা-কুল্লা শাইয়িন খালকাহূছুম্মা হাদা-।

মূসা বলল, আমাদের রব্ব তো তিনি, যিনি প্রত্যেককে তার উপযুক্ত আকৃতি দিয়েছেন, তারপর তার পথ প্রদর্শনও করেছেন। ২২

তাফসীরঃ

২২. অর্থাৎ প্রতিটি সৃষ্টির গঠন-প্রকৃতির মধ্যে আল্লাহ তাআলার কুদরত ও হিকমতের মাহাত্ম্য বিদ্যমান। তিনি যাকে যেই আদলে সৃষ্টি করেছেন, সে মোতাবেক নিজ দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়ার নিয়ম-নীতিও শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন জগতে আলো ও তাপ সরবরাহের জন্য সূর্যকে এক বিশেষ আকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সেই আকৃতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য তার দরকার ছিল সৌর জাগতিক সুনির্দিষ্ট নিয়মে আপন কক্ষপথে আবর্তিত হতে থাকা। আল্লাহ তাআলা তাকে তা শিখিয়ে দিয়েছেন। এভাবে প্রত্যেক প্রাণীকে শিক্ষা দিয়েছেন সে কিভাবে চলবে এবং কিভাবে নিজ জীবিকা সংগ্রহ করবে। মাছের পোনা পানিতে জন্ম নেয় এবং সঙ্গে-সঙ্গে সাতারও কাটে। এটা তাকে কে শিক্ষা দিয়েছে? পাখীরা হাওয়ায় ওড়ার তালীম কার কাছে পেয়েছে? মোদ্দাকথা প্রতিটি মাখলুককে তার গঠন-প্রকৃতি অনুযায়ী জীবিত থাকা ও জীবনের রসদ সংগ্রহ করার নিয়ম আল্লাহ তাআলাই শিক্ষা দান করেছেন।
৫১

قَالَ فَمَا بَالُ الۡقُرُوۡنِ الۡاُوۡلٰی ٥١

কা-লা ফামা-বা-লুল কুরূনিল ঊলা-।

ফিরাউন বলল, তাহলে পূর্বে যেসব জাতি গত হয়েছে তাদের অবস্থা কী? ২৩

তাফসীরঃ

২৩. এ প্রশ্ন দ্বারা ফির‘আউন বোঝাতে চাচ্ছিল, আমার আগে এমন বহু জাতি গত হয়েছে, যারা তাওহীদে বিশ্বাসী ছিল না, তা সত্ত্বেও তারা যত দিন জীবিত ছিল তাদের উপর কোন আযাব আসেনি। তাওহীদকে অস্বীকার করার কারণে মানুষ যদি আল্লাহর পক্ষ হতে শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যায়, তবে তাদের উপর শাস্তি আসল না কেন? হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক ব্যক্তিকে জানেন এবং কে কি কাজ করে তাও তার ভালোভাবেই জানা আছে। তিনি নিজ হিকমত অনুযায়ী ফায়সালা করেন যারা সত্য অস্বীকার করে তাদের মধ্যে কাকে ইহকালেই শাস্তি দেওয়া হবে এবং কার শাস্তি আখেরাতের জন্য মওকুফ রাখা হবে। যদি কোন কাফের সম্প্রদায় দুনিয়ায় নিরাপদ জীবন কাটিয়ে যায় এবং এখানে কোন শাস্তির সম্মুখীন না হয, তবে তার অর্থ এ নয় যে, সে শাস্তি হতে বেঁচে গেছে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে শাস্তি দিতে ভুলে গেছেন (নাউযুবিল্লাহ)। বরং তিনি নিজ হিকমত অনুযায়ী দুনিয়ায় তাকে শাস্তি না দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাকে শাস্তি দিবেন আখেরাতে জাহান্নামের আগুনে।
৫২

قَالَ عِلۡمُہَا عِنۡدَ رَبِّیۡ فِیۡ کِتٰبٍ ۚ  لَا یَضِلُّ رَبِّیۡ وَلَا یَنۡسَی ۫ ٥٢

কা-লা ‘ইলমুহা-‘ইনদা রাববী ফী কিতা-বিল লা-ইয়াদিল্লুরাববী ওয়ালা-ইয়ানছা-।

মূসা বলল, তাদের জ্ঞান আমার প্রতিপালকের কাছে এক কিতাবে সংরক্ষিত আছে। আমার রব্বের কোন বিভ্রান্তি দেখা দেয় না এবং তিনি ভুলেও যান না।
৫৩

الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ مَہۡدًا وَّسَلَکَ لَکُمۡ فِیۡہَا سُبُلًا وَّاَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ؕ فَاَخۡرَجۡنَا بِہٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡ نَّبَاتٍ شَتّٰی ٥٣

আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা মাহদাওঁ ওয়া ছালাকা লাকুম ফীহা ছুবুলাওঁ ওয়া আনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাআখরাজনা-বিহীআঝওয়া-জাম মিন নাবা-তিন শাত্তা-।

তিনি সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা বানিয়েছেন, তাতে তোমাদের জন্য চলার পথ দিয়েছেন এবং আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেছেন। তারপর আমি তা দ্বারা বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।
৫৪

کُلُوۡا وَارۡعَوۡا اَنۡعَامَکُمۡ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّہٰی ٪ ٥٤

কুলূওয়ার‘আও আন ‘আ-মাকুম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিউলিন নুহা-।

তোমরা নিজেরাও তা খাও এবং তোমাদের গবাদি পশুকেও চরাও। নিশ্চয়ই এসব বিষয়ের মধ্যে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শন আছে।
৫৫

مِنۡہَا خَلَقۡنٰکُمۡ وَفِیۡہَا نُعِیۡدُکُمۡ وَمِنۡہَا نُخۡرِجُکُمۡ تَارَۃً اُخۡرٰی ٥٥

মিনহা-খালাকনা-কুম ওয়া ফীহা-নু‘ঈদুকুম ওয়ামিনহা-নুখরিজুকুম তা-রাতান উখরা-।

আমি তোমাদেরকে এ মাটি হতেই সৃষ্টি করেছি, এর মধ্যে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেব এবং পুনরায় তোমাদেরকে এরই মধ্য হতে বের করব।
৫৬

وَلَقَدۡ اَرَیۡنٰہُ اٰیٰتِنَا کُلَّہَا فَکَذَّبَ وَاَبٰی ٥٦

ওয়ালাকাদ আরাইনা-হু আ-য়া-তিনা-কুল্লাহা-ফাকাযযাবা ওয়া আবা-।

বস্তুত আমি তাকে (অর্থাৎ ফির‘আউনকে) আমার সমস্ত নিদর্শন দেখিয়েছিলাম, কিন্তু সে কেবল অস্বীকারই করেছে ও অমান্য করেছে।
৫৭

قَالَ اَجِئۡتَنَا لِتُخۡرِجَنَا مِنۡ اَرۡضِنَا بِسِحۡرِکَ یٰمُوۡسٰی ٥٧

কা-লা আজি‘তানা-লিতুখরিজানা-মিন আরদিনা-বিছিহরিকা ইয়া-মূছা-।

সে বলল, হে মূসা! তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যই এসেছ যে, তোমার যাদু দ্বারা আমাদেরকে আমাদের ভূমি থেকে বের করে দেবে?
৫৮

فَلَنَاۡتِیَنَّکَ بِسِحۡرٍ مِّثۡلِہٖ فَاجۡعَلۡ بَیۡنَنَا وَبَیۡنَکَ مَوۡعِدًا لَّا نُخۡلِفُہٗ نَحۡنُ وَلَاۤ اَنۡتَ مَکَانًا سُوًی ٥٨

ফালানা’তিয়ান্নাকা বিছিহরিম মিছলিহী ফাজ‘আল বাইনানা-ওয়া বাইনাকা মাও‘ইদাল লানুখলিফুহূনাহনুওয়ালাআনতা মাকা-নান ছুওয়া-।

ঠিক আছে, আমরাও তোমার সামনে অবশ্যই অনুরূপ যাদু উপস্থিত করব। সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে কোন উন্মুক্ত স্থানে পরস্পরে মুকাবেলা করার জন্য একটা সময় নির্দিষ্ট কর, যার ব্যতিক্রম আমরাও করব না এবং তুমিও না।
৫৯

قَالَ مَوۡعِدُکُمۡ یَوۡمُ الزِّیۡنَۃِ وَاَنۡ یُّحۡشَرَ النَّاسُ ضُحًی ٥٩

কা-লা মাও‘ইদুকুম ইয়াওমুঝ ঝীনাতি ওয়া আইঁ ইউহশারান্না-ছুদু হা-।

মূসা বলল, যে দিন আনন্দ উদযাপন করা হয়, ২৪ তোমাদের সাথে সে দিনই স্থিরীকৃত রইল এবং এটা স্থির থাকল যে, দিন চড়ে ওঠা মাত্রই মানুষকে সমবেত করা হবে।

তাফসীরঃ

২৪. এটা কোন উৎসবের দিন ছিল, যে দিন ফির‘আউনের সম্প্রদায় আনন্দ উদযাপন করত। সে দিন যেহেতু প্রচুর লোক সমাগম হয়, তাই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এ দিনকেই বেছে নিলেন, যাতে উপস্থিত জনম-লীর সামনে সত্যকে পরিস্ফুট করা যায় এবং সত্যের জয় সকলে সচক্ষে দেখতে পায়।
৬০

فَتَوَلّٰی فِرۡعَوۡنُ فَجَمَعَ کَیۡدَہٗ ثُمَّ اَتٰی ٦۰

ফাতাওয়াল্লা-ফির‘আওনুফাজামা‘আ কাইদাহূছুম্মা আতা-।

অতঃপর ফির‘আউন (নিজ জায়গায়) চলে গেল এবং সে নিজ কৌশলসমূহ একাট্টা করল। তারপর (মুকাবেলার জন্য) উপস্থিত হল।
৬১

قَالَ لَہُمۡ مُّوۡسٰی وَیۡلَکُمۡ لَا تَفۡتَرُوۡا عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا فَیُسۡحِتَکُمۡ بِعَذَابٍ ۚ وَقَدۡ خَابَ مَنِ افۡتَرٰی ٦١

কা-লা লাহুম মূছা-ওয়াইলাকুম লা-তাফতারূ‘আলাল্লা-হি কাযিবান ফাইউছহিতাকুম বি‘আযা-বিওঁ ওয়া কাদ খা-বা মানিফতারা-।

মূসা তাদেরকে (অর্থাৎ যাদুকরদেরকে) বলল ২৫, আফসোস তোমাদের প্রতি! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। ২৬ তা করলে তিনি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দ্বারা নির্মূল করে ফেলবেন। আর যে-কেউ মিথ্যা আরোপ করে, সে নিশ্চিতভাবে ব্যর্থকাম হয়।

তাফসীরঃ

২৫. অর্থাৎ প্রথমেই তিনি নবীসুলভ দায়িত্বপালনে অবতীর্ণ হলেন। প্রতিযোগিতায় জেতা তো বড় কথা নয়; মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির পথ দেখানোই তার আসল কাজ। সুতরাং প্রথমে তিনি তাদেরকে দাওয়াত দিলেন। কুফর ও মিথ্যাচারের অশুভ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করলেন, যাতে তারা হিদায়াত গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। -অনুবাদক
৬২

فَتَنَازَعُوۡۤا اَمۡرَہُمۡ بَیۡنَہُمۡ وَاَسَرُّوا النَّجۡوٰی ٦٢

ফাতানা-ঝা‘ঊআমরাহুম বাইনাহুম ওয়া আছাররুন নাজওয়া-।

এর ফলে তাদের মধ্যে নিজেদের করণীয় বিষয়ে বিরোধ দেখা দিল। তারা চুপিসারে পরামর্শ করতে লাগল। ২৭

তাফসীরঃ

২৭. হযরত মূসা আলাইহিস সালামের উপদেশ তাদের কারও কারও মনে রেখাপাত করল। তাই প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ার আগে তারা করণীয় স্থির করার জন্য নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করতে বসল। কেউ কেউ বলল, তাকে তো ঠিক যাদুকর বলে মনে হয় না। আবার কেউ যাদুকর হওয়ার পক্ষেই মত দিল। তাদের সামনে ফির‘আউনের রাজকীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি ও প্রলোভনের ব্যাপারটা তো ছিলই। শেষে তারা তাঁর যাদুকর হওয়ার পক্ষেই ঐকমত্য প্রকাশ করল। এ ব্যাপারে যে বিবৃতি তারা দিল, পরের আয়াতে তা ব্যক্ত হয়েছে। -অনুবাদক
৬৩

قَالُوۡۤا اِنۡ ہٰذٰىنِ لَسٰحِرٰنِ یُرِیۡدٰنِ اَنۡ یُّخۡرِجٰکُمۡ مِّنۡ اَرۡضِکُمۡ بِسِحۡرِہِمَا وَیَذۡہَبَا بِطَرِیۡقَتِکُمُ الۡمُثۡلٰی ٦٣

কা-লূইন হা-যা-নি লাছা-হিরা-নি ইউরীদা-নি আইঁ ইউখরিজা-কুমমিনআরদিকুম বিছিহরিহিমা-ওয়া ইয়াযহাবা -বিতারীকাতিকুমুল মুছলা-।

(পরিশেষে) তারা বলল, নিশ্চয়ই এ দু’জন (অর্থাৎ মূসা ও হারূন) যাদুকর। তারা চায় তোমাদেরকে তোমাদের ভূমি থেকে উৎখাত করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট (ধর্ম) ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে।
৬৪

فَاَجۡمِعُوۡا کَیۡدَکُمۡ ثُمَّ ائۡتُوۡا صَفًّا ۚ وَقَدۡ اَفۡلَحَ الۡیَوۡمَ مَنِ اسۡتَعۡلٰی ٦٤

ফাআজমি‘উ কাইদাকুম ছুম্মা’তূসাফফাওঁ ওয়াকাদ আফলাহাল ইয়াওমা মানিছতা‘লা-।

সুতরাং তোমরা তোমাদের কৌশল সংহত করে নাও, তারপর সারিবদ্ধ হয়ে এসে যাও। নিশ্চিত জেন, আজ যে জয়ী হবে সেই সফলতা লাভ করবে।
৬৫

قَالُوۡا یٰمُوۡسٰۤی اِمَّاۤ اَنۡ تُلۡقِیَ وَاِمَّاۤ اَنۡ نَّکُوۡنَ اَوَّلَ مَنۡ اَلۡقٰی ٦٥

কা-লূইয়া-মূছাইম্মাআন তুলকিয়া ওয়া ইম্মাআন নাকূনা আওয়ালা মান আলকা-।

যাদুকরগণ বলল, হে মূসা! হয় তুমি আগে (নিজ লাঠি) নিক্ষেপ কর অথবা প্রথমে আমরাই নিক্ষেপ করি।
৬৬

قَالَ بَلۡ اَلۡقُوۡا ۚ فَاِذَا حِبَالُہُمۡ وَعِصِیُّہُمۡ یُخَیَّلُ اِلَیۡہِ مِنۡ سِحۡرِہِمۡ اَنَّہَا تَسۡعٰی ٦٦

কা-লা বাল আলকূ,ফাইযা- হিবা-লুহুম ওয়া ‘ইসিইউহুম ইউখাইইয়ালুইলাইহি মিন ছিহরিহিম আন্নাহা-তাছ‘আ-।

মূসা বলল, বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। অতঃপর তাদের যাদু ক্রিয়ায় হঠাৎ মূসার মনে হয়, তাদের রশি ও লাঠিগুলো ছোটাছুটি করছে।
৬৭

فَاَوۡجَسَ فِیۡ نَفۡسِہٖ خِیۡفَۃً مُّوۡسٰی ٦٧

ফাআওজাছা ফী নাফছিহী খীফাতাম মূছা-।

ফলে মূসা তার অন্তরে কিছুটা ভীতি অনুভব করল। ২৮

তাফসীরঃ

২৮. এ ভয় ছিল স্বভাবগত। যাদুকরেরা যে ভেল্কিবাজী দেখিয়েছিল, আপাতদৃষ্টিতে যেহেতু তা অনেকটা হযরত মূসা আলাইহিস সালামের দেখানো মুজিযার অনুরূপ ছিল, তাই পাছে লোকজন তাঁর মুজিযাকেও যাদু মনে করে বসে এ ভাবনাই হযরত মূসা আলাইহিস সালামের মনে দেখা দিয়েছিল। তার ভয় ছিল এখানেই।
৬৮

قُلۡنَا لَا تَخَفۡ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡاَعۡلٰی ٦٨

কুলনা- লা-তাখাফ ইন্নাকা আনতাল আ‘লা-।

আমি বললাম, ভয় করো না। নিশ্চিত থাক তুমিই উপরে থাকবে।
৬৯

وَاَلۡقِ مَا فِیۡ یَمِیۡنِکَ تَلۡقَفۡ مَا صَنَعُوۡا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوۡا کَیۡدُ سٰحِرٍ ؕ وَلَا یُفۡلِحُ السَّاحِرُ حَیۡثُ اَتٰی ٦٩

ওয়া আল কিমা-ফী ইয়ামীনিকা তালকাফ মা-সানা‘ঊ ইন্নামা-সানা‘ঊ কাইদুছাহিরিওঁ ওয়ালা-ইউফলিহুছছা-হিরু হাইছুআতা-।

তোমার ডান হাতে যা (অর্থাৎ যে লাঠি) আছে, তা (মাটিতে) নিক্ষেপ কর। সেটি তারা যে কারসাজি করেছে তা গ্রাস করে ফেলবে। তাদের যাবতীয় কারসাজি তো যাদুকরের ভেল্কি মাত্র। যাদুকর যেখানেই যাক, সফলকাম হবে না।
৭০

فَاُلۡقِیَ السَّحَرَۃُ سُجَّدًا قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ ہٰرُوۡنَ وَمُوۡسٰی ٧۰

ফাউলকিয়াছ ছাহারাতুছুজ্জাদান কা-লূআ-মান্না-বিরাব্বি হা-রূনা ওয়া মূছা-।

সুতরাং (তাই হল এবং) সমস্ত যাদুকরকে সিজদায় পাতিত করা হল। ২৯ তারা বলতে লাগল আমরা হারূন ও মূসার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।

তাফসীরঃ

২৯. হযরত মূসা আলাইহিস সালাম যখন তাঁর লাঠিটি মাটিতে ফেললেন, অমনি সেটি আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুতি অনুসারে বিরাট অজগর হয়ে গেল এবং যাদুকরেরা যে অলীক সাপ তৈরি করেছিল সেগুলোকে এক-এক করে গিলে ফেলল। এ অবস্থা দেখে যাদুকরগণ নিশ্চিত হয়ে গেল, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কোন যাদুকর নন; বরং তিনি আল্লাহ তাআলার রাসূল। এই উপলব্ধি হওয়া মাত্র তারা সিজদায় পড়ে গেল। লক্ষ্যণীয় যে, এস্থলে কুরআন মাজীদে ‘তারা সিজদায় পড়ে গেল’ না বলে বলা হয়েছে ‘তাদেরকে সিজদায় পাতিত করা হল’। ইঙ্গিত এ বিষয়ের দিকে যে, হযরত মূসা আলাইহিস সালামের দেখানো মুজিযা এমন শক্তিশালী ছিল এবং তার প্রভাব এমন অপ্রতিরোধ্য ছিল, যা দেখার পর তাদের পক্ষে সিজদা না করে থাকা সম্ভব ছিল না। যেন সেই মুজিযাই তাদেরকে সিজদা করাল।
৭১

قَالَ اٰمَنۡتُمۡ لَہٗ قَبۡلَ اَنۡ اٰذَنَ لَکُمۡ ؕ اِنَّہٗ لَکَبِیۡرُکُمُ الَّذِیۡ عَلَّمَکُمُ السِّحۡرَ ۚ فَلَاُقَطِّعَنَّ اَیۡدِیَکُمۡ وَاَرۡجُلَکُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ وَّلَاُصَلِّبَنَّکُمۡ فِیۡ جُذُوۡعِ النَّخۡلِ ۫ وَلَتَعۡلَمُنَّ اَیُّنَاۤ اَشَدُّ عَذَابًا وَّاَبۡقٰی ٧١

কা-লা আ-মানতুম লাহূ কাবলা আন আ-যানা লাকুম ইন্নাহূ লাকাবীরুকুমুল্লাযী ‘আল্লামাকুমুছ ছিহরা ফালাউকাত্তি‘আন্না আইদিয়াকুম ওয়া আরজুলাকুম মিন খিলা-ফিওঁ ওয়ালা উসালিলবান্নাকুম ফী জুযূ‘ইন নাখলি ওয়ালা তা‘লামুন্না আইঁ ইউনাআশাদ্দু‘আযাবাওঁ ওয়াআবকা-।

ফিরাউন বলল, আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে! আমার বিশ্বাস সেই (অর্থাৎ মূসা) তোমাদের দলপতি, যে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। সুতরাং আমিও সংকল্প স্থির করেছি তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং তোমাদেরকে খেজুর গাছের কা-ে শূলে চড়াব। তোমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারবে আমাদের দু’জনের মধ্যে কার শাস্তি বেশি কঠিন ও বেশি স্থায়ী।
৭২

قَالُوۡا لَنۡ نُّؤۡثِرَکَ عَلٰی مَا جَآءَنَا مِنَ الۡبَیِّنٰتِ وَالَّذِیۡ فَطَرَنَا فَاقۡضِ مَاۤ اَنۡتَ قَاضٍ ؕ  اِنَّمَا تَقۡضِیۡ ہٰذِہِ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا ؕ ٧٢

কা-লূলান নু’ছিরাকা ‘আলা-মা-জাআনা-মিনাল বাইয়িনা-তি ওয়াল্লাযী ফাতারানাফাকদিমাআনতা কা-দিন ইন্নামা-তাকদী হা-যিহিল হায়া-তাদ দুনইয়া-।

যাদুকরগণ বলল, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন সেই সত্তার কসম! আমাদের কাছে যে উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী এসেছে তার উপর আমরা তোমাকে কিছুতেই প্রাধান্য দিতে পারব না। সুতরাং তুমি যা করতে চাও কর। তুমি যাই কর না কেন তা এই পার্থিব জীবনেই হবে।
৭৩

اِنَّـاۤ اٰمَنَّا بِرَبِّنَا لِیَغۡفِرَ لَنَا خَطٰیٰنَا وَمَاۤ اَکۡرَہۡتَنَا عَلَیۡہِ مِنَ السِّحۡرِ ؕ وَاللّٰہُ خَیۡرٌ وَّاَبۡقٰی ٧٣

ইন্নাআ-মান্না-বিরাব্বিনা-লিইয়াগফিরালানা-খাতা-ইয়া-না-ওয়ামাআকরাহতানা‘আলাইহি মিনাছছিহরি ওয়াল্লা-হু খাইরুওঁ ওয়া আবকা-।

আমরা তো আমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান এনেছি, যাতে তিনি ক্ষমা করে দেন আমাদের গুনাহসমূহ এবং তুমি আমাদেরকে যে যাদু করতে বাধ্য করেছ তাও। ৩০ আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং চিরস্থায়ী।

তাফসীরঃ

৩০. অনুমান করে দেখুন ঈমান যখন মানুষের অন্তরে বসে যায় তখন তা মানুষের চিন্তা-চেতনায় কত বড় বিপ্লব সাধিত করে। এরাই তো সেই যাদুকর, যাদের সর্বোচ্চ কামনা ছিল ফির‘আউন তাদেরকে পুরস্কৃত করবে এবং নিজ সন্তুষ্টি ও নৈকট্য দান দ্বারা তাদেরকে ধন্য করবে। মুকাবেলায় নামার আগে তো ফির‘আউনের কাছে তারা এরই প্রার্থনা জানিয়েছিল। বলেছিল, আমরা যদি বিজয়ী হই, তবে আমাদেরকে কী পুরস্কার দেওয়া হবে? (দেখুন সূরা আরাফ ৭ : ১১৩)। কিন্তু যখন তাদের সামনে সত্য উদঘাটিত হল এবং অন্তরে তার প্রতি ঈমান ও ইয়াকীন বসে গেল, তখন আর না থাকল ফির‘আউনের অসন্তুষ্টির ভয়, না হাত-পা কাটা যাওয়া ও শূলবিদ্ধ হওয়ার পরওয়া আল্লাহ আকবার!
৭৪

اِنَّہٗ مَنۡ یَّاۡتِ رَبَّہٗ مُجۡرِمًا فَاِنَّ لَہٗ جَہَنَّمَ ؕ لَا یَمُوۡتُ فِیۡہَا وَلَا یَحۡیٰی ٧٤

ইন্নাহূমাইঁ ইয়া’তি রাব্বাহূমুজরিমান ফাইন্না লাহূজাহান্নামা লা-ইয়ামূতুফীহা-ওয়ালাইয়াহইয়া-।

বস্তুত যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের কাছে অপরাধী হয়ে আসবে, তার জন্য আছে জাহান্নাম, যার ভেতর সে মরবেও না, বাঁচবেও না। ৩১

তাফসীরঃ

৩১. মৃত্যু হবে না এ কারণে যে, সেখানে কোন মৃত্যু নেই আর ‘বাঁচবে না’ বলা হয়েছে এ কারণে যে, জাহান্নামে তাদের যে জীবন কাটবে তা মরণ অপেক্ষাও নিকৃষ্টতর হবে। তাই তা বেঁচে থাকার মধ্যে গণ্য হওয়ারই উপযুক্ত নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন।
৭৫

وَمَنۡ یَّاۡتِہٖ مُؤۡمِنًا قَدۡ عَمِلَ الصّٰلِحٰتِ فَاُولٰٓئِکَ لَہُمُ الدَّرَجٰتُ الۡعُلٰی ۙ ٧٥

ওয়ামাইঁ ইয়া’তিহী মু’মিনান কাদ ‘আমিলাসসা-লিহা-তি ফাউলাইকা লাহুমুদ দারাজা-তুল ‘উলা-।

যে ব্যক্তি তার নিকট মুমিন হয়ে আসবে এবং সে সৎকর্মও করে থাকবে, এরূপ লোকদের জন্যই রয়েছে সমুচ্চ মর্যাদা
৭৬

جَنّٰتُ عَدۡنٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ  وَذٰلِکَ جَزٰٓؤُا مَنۡ تَزَکّٰی ٪ ٧٦

জান্না-তু‘আদনিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা- ওয়া যা-লিকা জাঝাউ মান তাঝাক্কা-

স্থায়ী উদ্যানরাজি, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে। এটা যে পবিত্রতা অবলম্বন করেছে তার পুরস্কার।
৭৭

وَلَقَدۡ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰۤی ۬ۙ اَنۡ اَسۡرِ بِعِبَادِیۡ فَاضۡرِبۡ لَہُمۡ طَرِیۡقًا فِی الۡبَحۡرِ یَبَسًا ۙ لَّا تَخٰفُ دَرَکًا وَّلَا تَخۡشٰی ٧٧

ওয়া লাকাদ আওহাইনাইলা মূছা আন আছরি বি‘ইবা-দী ফাদরিব লাহুম তারীকান ফিল বাহরি ইয়াবাছাল লা-তাখা-ফুদারাকাওঁ ওয়ালা-তাখশা-।

আমি মূসার প্রতি ওহী নাযিল করেছিলাম, তুমি আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতের বেলা রওয়ানা হয়ে যাও। ৩২ তারপর তাদের জন্য সাগরের ভেতর এমনভাবে শুকনো পথ তৈরি কর, যাতে পেছন থেকে (শত্রু এসে) তোমাকে ধরে ফেলার আশঙ্কা না থাকে এবং অন্য কোন ভয়ও না থাকে। ৩৩

তাফসীরঃ

৩২. অর্থাৎ, পথে তোমার সামনে সাগর পড়বে। তখন তুমি যদি সাগরে নিজ লাঠি দ্বারা আঘাত কর, তবে তোমার সম্প্রদায়ের চলার জন্য শুষ্ক পথ তৈরি হয়ে যাবে। সূরা ইউনুসেও (১০ : ৮৯-৯২) এটা বিস্তারিত গত হয়েছে। সামনে সূরা শুআরায়ও (২৬ : ৬০-৬৬) আসবে। যেহেতু এ পথ আল্লাহ তাআলা কেবল তোমার জন্যই সৃষ্টি করবেন, তাই ফির‘আউনের বাহিনী তা দিয়ে চলে তোমাকে ধরতে পারবে না। কাজেই তোমাদের ধরা পড়ার বা ডুবে যাওয়ার কোন ভয় থাকবে না।
৭৮

فَاَتۡبَعَہُمۡ فِرۡعَوۡنُ بِجُنُوۡدِہٖ فَغَشِیَہُمۡ مِّنَ الۡیَمِّ مَا غَشِیَہُمۡ ؕ ٧٨

ফাআতবা‘আহুম ফির‘আওনুবিজুনূদিহী ফাগাশিয়াহুম মিনাল ইয়াম্মি মা-গাশিইয়াহুম।

অতঃপর ফির‘আউন নিজ সেনাবাহিনীসহ তার পশ্চাদ্ধাবন করলে সাগরের যে (ভয়াল) জিনিস তাকে আচ্ছন্ন করার তা তাকে আচ্ছন্ন করল। ৩৪

তাফসীরঃ

৩৪. ‘যে জিনিস তাকে আচ্ছন্ন করার তা তাকে আচ্ছন্ন করল’, এভাবে আচ্ছন্নকারী বস্তুকে অব্যাখ্যাত রেখে ইশারা করা উদ্দেশ্য যে, সে জিনিস বর্ণনাতীত বিভীষিকাময়। অর্থাৎ, ফির‘আউন ও তার বাহিনী যেভাবে সাগরে নিমজ্জিত হয়েছিল সে দৃশ্য ছিল অতি ভয়াবহ।
৭৯

وَاَضَلَّ فِرۡعَوۡنُ قَوۡمَہٗ وَمَا ہَدٰی ٧٩

ওয়া আদাল্লা ফির‘আওনুকাওমাহূওয়ামা-হাদা-।

বস্তুত ফির‘আউন তার জাতিকে বিপথগামী করেছিল। সে তাদেরকে সঠিক পথ দেখায়নি।
৮০

یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ قَدۡ اَنۡجَیۡنٰکُمۡ مِّنۡ عَدُوِّکُمۡ وَوٰعَدۡنٰکُمۡ جَانِبَ الطُّوۡرِ الۡاَیۡمَنَ وَنَزَّلۡنَا عَلَیۡکُمُ الۡمَنَّ وَالسَّلۡوٰی ٨۰

ইয়া-বানীইছরাঈলা কাদ আনজাইনা-কুমমিন‘আদুওবিকুমওয়াওয়া-‘আদনা-কুমজানিবাততূরিল আইমানা ওয়া নাঝঝালনা-‘আলাইকুমুল মান্না ওয়াছছালওয়া-।

হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম এবং তোমাদেরকে তূর পাহাড়ের ডান পাশে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আর তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছিলাম মান্ন ও সালওয়া।
৮১

کُلُوۡا مِنۡ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقۡنٰکُمۡ وَلَا تَطۡغَوۡا فِیۡہِ فَیَحِلَّ عَلَیۡکُمۡ غَضَبِیۡ ۚ وَمَنۡ یَّحۡلِلۡ عَلَیۡہِ غَضَبِیۡ فَقَدۡ ہَوٰی ٨١

কুলূমিন তাইয়িবা-তি মা-রাঝাকনা-কুম ওয়ালা-তাতগাও ফীহি ফাইয়াহিল্লা ‘আলাইকুম গাদবী ওয়া মাইঁ ইয়াহলিল ‘আলাইহি গাদাবী ফাকাদ হাওয়া-।

যে পবিত্র রিযক আমি তোমাদেরকে দিয়েছি তা হতে খাও। তাতে সীমালংঘন করো না। তা করলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ বর্ষিত হবে। আর আমার ক্রোধ যার উপর বর্ষিত হয় সে অনিবার্যভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
৮২

وَاِنِّیۡ لَغَفَّارٌ لِّمَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اہۡتَدٰی ٨٢

ওয়া ইন্নী লাগাফফা-রুল লিমান তা-বা ওয়া আ-মানা ওয়া ‘আমিলা সা-লিহান ছুম্মাহতাদা-।

আর এটাও সত্য যে, যে ব্যক্তি ঈমান আনে, সৎকর্ম করে অতঃপর সরল পথে প্রতিষ্ঠিত থাকে আমি তার পক্ষে পরম ক্ষমাশীল।
৮৩

وَمَاۤ اَعۡجَلَکَ عَنۡ قَوۡمِکَ یٰمُوۡسٰی ٨٣

ওয়ামাআ‘জালাকা ‘আন কাওমিকা ইয়া-মূছা-।

এবং (মূসা যখন সঙ্গের লোকজনের আগেই তূর পাহাড়ে চলে আসলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বললেন,) হে মূসা! তুমি তাড়াহুড়া করে তোমার সম্প্রদায়ের আগে আগে কেন আসলে? ৩৫

তাফসীরঃ

৩৫. সিনাই মরুভূমিতে অবস্থানকালে আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে তূর পাহাড়ে ডেকেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, তিনি সেখানে চল্লিশ দিন ইতিকাফ করবেন, তারপর তাঁকে তাওরাত কিতাব দেওয়া হবে। শুরুতে সিদ্ধান্ত ছিল বনী ইসরাঈলের জনা কয়েক বাছাইকৃত লোকও তাঁর সাথে যাবে। কিন্তু হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তাদের আগেই তাড়াতাড়ি রওয়ানা হয়ে গেলেন। তাঁর ধারণা ছিল বাকি সাথীরাও তাঁর পেছনে পেছনে এসে থাকবে। কিন্তু তারা আসল না।
৮৪

قَالَ ہُمۡ اُولَآءِ عَلٰۤی اَثَرِیۡ وَعَجِلۡتُ اِلَیۡکَ رَبِّ لِتَرۡضٰی ٨٤

কা-লা হুম উলাই ‘আলাআছারী ওয়া ‘আজিলতুইলাইকা রাব্বি লিতারদা-।

সে বলল, ওই তো তারা আমার পিছনেই আসল বলে। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে তাড়াতাড়ি এসেছি এজন্য, যাতে আপনি খুশী হন।
৮৫

قَالَ فَاِنَّا قَدۡ فَتَنَّا قَوۡمَکَ مِنۡۢ بَعۡدِکَ وَاَضَلَّہُمُ السَّامِرِیُّ ٨٥

কা-লা ফাইন্না-কাদ ফাতান্না-কাওমাকা মিম বা‘দিকা ওয়া আদাল্লাহুমুছ ছামিরিইয়ু।

আল্লাহ বললেন, তোমার চলে আসার পর আমি তোমার সম্প্রদায়কে ফিতনায় ফেলেছি আর সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলেছে। ৩৬

তাফসীরঃ

৩৬. সামেরী ছিল এক যাদুকর। সে মুখে মুখে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান এনেছিল, যে কারণে সে তাঁর সঙ্গ নিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল মুনাফেক।
৮৬

فَرَجَعَ مُوۡسٰۤی اِلٰی قَوۡمِہٖ غَضۡبَانَ اَسِفًا ۬ۚ قَالَ یٰقَوۡمِ اَلَمۡ یَعِدۡکُمۡ رَبُّکُمۡ وَعۡدًا حَسَنًا ۬ؕ اَفَطَالَ عَلَیۡکُمُ الۡعَہۡدُ اَمۡ اَرَدۡتُّمۡ اَنۡ یَّحِلَّ عَلَیۡکُمۡ غَضَبٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ فَاَخۡلَفۡتُمۡ مَّوۡعِدِیۡ ٨٦

ফারাজা‘আ মূছাইলা-কাওমিহী গাদবা-না আছিফান কা-লা ইয়া-কাওমি আলাম ইয়া‘ইদকুম রাব্বুকুম ওয়া‘দান হাছানান আফাতা-লা ‘আলাইকুমুল ‘আহদুআম আরাততুম আইঁ ইয়াহিল্লা ‘আলাইকুম গাদাবুম মির রাব্বিকুম ফাআখলাফতুম মাও‘ইদী।

সুতরাং মূসা ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে একটি উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি? ৩৭ তারপর কি তোমাদের উপর দিয়ে দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে? ৩৮ না কি তোমরা চাচ্ছিলে তোমাদের উপর তোমাদের প্রতিপালকের ক্রোধ বর্ষিত হোক আর সে কারণে তোমরা আমার সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করেছ?

তাফসীরঃ

৩৭. অর্থাৎ, আমার তূর পাহাড়ে গমনের পর তো এতটা লম্বা সময় গত হয়নি যে, তোমাদের ধৈর্য হারাতে হবে এবং আমার জন্য অপেক্ষা না করে এই বাছুরকে মাবুদ বানিয়ে নিতে হবে।
৮৭

قَالُوۡا مَاۤ اَخۡلَفۡنَا مَوۡعِدَکَ بِمَلۡکِنَا وَلٰکِنَّا حُمِّلۡنَاۤ اَوۡزَارًا مِّنۡ زِیۡنَۃِ الۡقَوۡمِ فَقَذَفۡنٰہَا فَکَذٰلِکَ اَلۡقَی السَّامِرِیُّ ۙ ٨٧

কা-লূমাআখলাফনা-মাও‘ইদাকা বিমালকিনা-ওয়ালা-কিন্না-হুম্মিলনাআও ঝা-রাম মিন ঝীনাতিল কাওমি ফাকাযাফনা-হা ফাকাযা-লিকা আলকাছছা-মিরিইয়ু।

তারা বলল, আমরা আপনার সাথে স্বেচ্ছায় ওয়াদা ভঙ্গ করিনি। বরং ব্যাপার এই যে, আমাদের উপর মানুষের অলংকারের বোঝা চাপানো ছিল। আমরা তা ফেলে দেই। ৩৯ তারপর একইভাবে সামেরীও (কিছু) ফেলে। ৪০

তাফসীরঃ

৩৯. অন্যরা যখন তাদের অলংকার নিক্ষেপ করল, তখন সামেরী তার মুঠোর ভেতর করে কিছু একটা নিয়ে আসল এবং হযরত হারূন আলাইহিস সালামকে বলল, আমিও কি নিক্ষেপ করব? হযরত হারূন আলাইহিস সালাম মনে করলেন, তাও কোন অলংকারই হবে। তাই বললেন, নিক্ষেপ কর। তখন সে বলল, আপনি আমার জন্য দু‘আ করুন নিক্ষেপ কালে আমি যা ইচ্ছা করি তা যেন পূরণ হয়। হযরত হারূন আলাইহিস সালাম তার মুনাফেকী সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তাঁর ধারণায় সে অন্যদের মতই খাঁটি মুমিন ছিল। কাজেই তিনি দু‘আ করলেন। প্রকৃতপক্ষে তার মুঠোর ভেতর কোন অলংকার ছিল না। সে এক মুঠো মাটি নিয়ে এসেছিল। হযরত হারূন আলাইহিস সালামের অনুমতি পেয়ে সে সেই মাটি অলংকারের স্তূপে ফেলে দিল। তাতে সেগুলো গলে গেল। তারপর সে তার দ্বারা একটা বাছুর আকৃতির মূর্তি তৈরি করল, যা থেকে বাছুরের মত হাম্বা ধ্বনি বের হচ্ছিল।
৮৮

فَاَخۡرَجَ لَہُمۡ عِجۡلًا جَسَدًا لَّہٗ خُوَارٌ فَقَالُوۡا ہٰذَاۤ اِلٰـہُکُمۡ وَاِلٰہُ مُوۡسٰی ۬  فَنَسِیَ ؕ ٨٨

ফাআখরাজা লাহুম ‘ইজলান জাছাদাল্লাহূখুওয়া-রুন ফাকা-লূহা-যাইলা-হুকুম ওয়াইলা-হু মূছা-ফানাছী-।

তারপর সে তাদের জন্য বের করল একটি বাছুর একটি দেহকাঠামো যার ছিল হাম্বা ধ্বনি। তারা বলল, এই তো তোমাদের মাবুদ এবং মূসারও মাবুদ, কিন্তু মূসা ভুলে গিয়েছে।
৮৯

اَفَلَا یَرَوۡنَ اَلَّا یَرۡجِعُ اِلَیۡہِمۡ قَوۡلًا ۬ۙ  وَّلَا یَمۡلِکُ لَہُمۡ ضَرًّا وَّلَا نَفۡعًا ٪ ٨٩

আফালা-ইয়ারাওনা আল্লা-ইয়ারজি‘ঊ ইলাইহিম কাওলাওঁ ওয়ালা-ইয়ামলিকুলাহুম দাররাওঁ ওয়ালা-নাফ‘আ-।

তবে কি তাদের নজরে আসেনি যে, তা তাদের কথায় সাড়া দেয় না এবং তাদের কোন অপকার বা উপকার করারও ক্ষমতা রাখে না?
৯০

وَلَقَدۡ قَالَ لَہُمۡ ہٰرُوۡنُ مِنۡ قَبۡلُ یٰقَوۡمِ اِنَّمَا فُتِنۡتُمۡ بِہٖ ۚ وَاِنَّ رَبَّکُمُ الرَّحۡمٰنُ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ وَاَطِیۡعُوۡۤا اَمۡرِیۡ ٩۰

ওয়ালাকাদ কা-লা লাহুম হা-রূনুমিন কাবলুইয়া-কাওমি ইন্নামা-ফুতিনতুম বিহী ওয়া ইন্না রাব্বাকুমুর রাহমা-নুফাত্তাবি‘ঊনী ওয়া আতী‘ঊআমরী।

হারূন তাদেরকে আগেই বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদেরকে এর (অর্থাৎ এই বাছুরটির) দ্বারা পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের রব্ব তো রহমান। সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল। ৪১

তাফসীরঃ

৪১. বাইবেলের একটি বর্ণনা আছে, হযরত হারূন আলাইহিস সালাম নিজেও বাছুর পূজায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন (নাউযুবিল্লাহ, দেখুন যাত্রা পুস্তক, ৩২:১-৬)। কুরআন মাজীদের এ আয়াত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে বর্ণনাটি সহীহ নয়। তাছাড়া বর্ণনাটি যে সত্যের অপলাপ তা এমনিতেই বোঝা যায়। কেননা হযরত হারূন আলাইহিস সালাম একজন নবী ছিলেন, কোন নবী শিরকে লিপ্ত হবেন এটা কল্পনাও করা যায় না।
৯১

قَالُوۡا لَنۡ نَّبۡرَحَ عَلَیۡہِ عٰکِفِیۡنَ حَتّٰی یَرۡجِعَ اِلَیۡنَا مُوۡسٰی ٩١

কা-লূলান নাবরাহা ‘আলাইহি ‘আ-কিফীনা হাত্তা-ইয়ারজি‘আ ইলাইনা-মূছা-।

তারা বলল, যতক্ষণ পর্যন্ত মূসা ফিরে না আসে, আমরা এর পূজায় রত থাকব।
৯২

قَالَ یٰہٰرُوۡنُ مَا مَنَعَکَ اِذۡ رَاَیۡتَہُمۡ ضَلُّوۡۤا ۙ ٩٢

কা-লা ইয়া-হা-রূনূমা-মানা‘আকা ইযরাআইতাহুম দাল্লু।

মূসা (ফিরে এসে) বলল, হে হারূন! তুমি যখন দেখলে তারা বিপথগামী হয়ে গেছে, তখন কোন জিনিস তোমাকে নিবৃত্ত রেখেছিল
৯৩

اَلَّا تَتَّبِعَنِ ؕ اَفَعَصَیۡتَ اَمۡرِیۡ ٩٣

আল্লা-তাত্তাবি‘আনি আফা‘আসাইতা আমরী।

যে, তুমি আমার অনুসরণ করলে না? তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করলে? ৪২

তাফসীরঃ

৪২. হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তূর পাহাড়ে যাওয়ার সময় হযরত হারূন আলাইহিস সালামকে নিজ স্থলাভিষিক্ত করে গিয়েছিলেন, তখন তাকে বলেছিলেন, ‘আমার অনুপস্থিতিতে তুমি আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, তাদেরকে সংশোধন করবে এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অনুসরণ করবে না’ (আরাফ ৭ : ১৪২)। এখানে তাঁর সেই নির্দেশের প্রতিই ইশারা করা হয়েছে। তাঁর কথার সারমর্ম এই যে, এরা যখন বিপথে চলছিল, তখন আপনার কর্তব্য ছিল অতি দ্রুত আমার কাছে চলে আসা। সেটা করলে এক তো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের সংশ্রব ত্যাগ করা হত, দ্বিতীয়ত আমার মাধ্যমে তাদেরকে শোধরানোরও চেষ্টা করা যেত।
৯৪

قَالَ یَبۡنَؤُمَّ لَا تَاۡخُذۡ بِلِحۡیَتِیۡ وَلَا بِرَاۡسِیۡ ۚ اِنِّیۡ خَشِیۡتُ اَنۡ تَقُوۡلَ فَرَّقۡتَ بَیۡنَ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ وَلَمۡ تَرۡقُبۡ قَوۡلِیۡ ٩٤

কালা ইয়াবনাউম্মা লা-তা’খুযবিলিহইয়াতী ওয়ালা-বিরা’ছী ইন্নী খাশীতুআন তাকূলা ফাররাকতা বাইনা বানীইছরাঈলা ওয়ালাম তারকুব কাওলী।

হারূন বলল, ওহে আমার মায়ের পুত্র! আমার দাড়ি ধরো না এবং আমার মাথাও নয়। আসলে আমি আশঙ্কা করছিলাম তুমি বলবে, ‘তুমি বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ এবং আমার কথা আমলে নাওনি। ৪৩

তাফসীরঃ

৪৩. হযরত হারূন আলাইহিস সালামের এ বক্তব্যের অর্থ হল, আমি চলে গেলে এরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ত। কিছু লোক তো আমার অনুগামী হত। বাকিরা বিপথগামীদের সঙ্গে থাকত, যারা আমাকে হত্যা পর্যন্ত করার পাঁয়তারা করছিল (যেমন সূরা আরাফে ৭ : ১৫০ হযরত হারূন আলাইহিস সালামের জবানী বর্ণিত হয়েছে)। সুতরাং আপনি যে বলেছিলেন, ‘তাদেরকে সংশোধন করবে’, আমার ভয় হয়েছিল সেটা করলে আপনার এই নির্দেশ অমান্য করা হত।
৯৫

قَالَ فَمَا خَطۡبُکَ یٰسَامِرِیُّ ٩٥

কা-লা ফামা-খাতবুকা ইয়া-ছা-মিরিইয়ু।

মূসা বলল, তা হে সামেরী! তোমার ব্যাপার কী?
৯৬

قَالَ بَصُرۡتُ بِمَا لَمۡ یَبۡصُرُوۡا بِہٖ فَقَبَضۡتُ قَبۡضَۃً مِّنۡ اَثَرِ الرَّسُوۡلِ فَنَبَذۡتُہَا وَکَذٰلِکَ سَوَّلَتۡ لِیۡ نَفۡسِیۡ ٩٦

কা-লা বাসুরতুবিমা-লাম ইয়াবসুরূবিহী ফাকাবাদতুকাবদাতাম মিন আছারির রাছূলি ফানাবাযতুহা-ওয়াকাযা-লিকা ছাওওয়ালাত লী নাফছী।

সে বলল, আমি এমন একটা জিনিস দেখেছিলাম, যা অন্যদের নজরে পড়েনি। তাই আমি রাসূলের পদচিহ্ন থেকে একমুঠো তুলে নিয়েছিলাম। সেটাই আমি (বাছুরের মুখে) ফেলে দেই। ৪৪ আমার মন আমাকে এমনই কিছু বুঝিয়েছিল।

তাফসীরঃ

৪৪. ‘রাসূলের পদচিহ্ন’ বলে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামের পদচিহ্ন বোঝানো হয়েছে। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের কাফেলায় হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামও ছিলেন। মুফাসসিরগণ সাধারণভাবে এ আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন যে, হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম মানব বেশে একটি ঘোড়ায় সওয়ার ছিলেন। সামেরী লক্ষ্য করেছিল, তাঁর ঘোড়ার পা যেখানেই পড়ে সেখানে জীবনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। সামেরী উপলব্ধি করল ঘোড়ার পা ফেলার স্থানে সঞ্জিবনী শক্তি আছে এবং এ শক্তিকে কাজে লাগানো যেতে পারে। অর্থাৎ, নিষ্প্রাণ কোন বস্তুতে এ মাটি প্রয়োগ করলে তাতে জৈব বৈশিষ্ট্য সঞ্চার হতে পারে। সুতরাং সে একমুঠো মাটি নিয়ে বাছুরের মূর্তিতে ঢুকিয়ে দিল। ফলে তার থেকে হাম্বা-রব বের হতে লাগল। কিন্তু কোন কোন মুফাসসির, যেমন হযরত মাওলানা হক্কানী (রহ.) তাঁর ‘তাফসীরে হক্কানী’-তে (৩ খণ্ড, ২৭২-২৭৩) বলেন, সামেরীর এ বিবৃতি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসলে বাছুরের থেকে আওয়াজ বের হচ্ছিল বাতাস চলাচলের কারণে। কুরআন মাজীদ নিজে যেহেতু এ সম্পর্কে কোন ব্যাখ্যা প্রদান করেনি এবং সহীহ হাদীসেও এ সম্পর্কে কিছু পাওয়া যায় না আবার এটা জানার উপর দীনী জরুরী কোন বিষয়ও নির্ভরশীল নয়, তাই বাছুরটির রহস্য সন্ধানের পেছনে না পড়ে বিষয়টাকে আল্লাহ তাআলার উপর ন্যস্ত করাই শ্রেয় যে, তিনি ভালো জানেন সেটির কী রহস্য।
৯৭

قَالَ فَاذۡہَبۡ فَاِنَّ لَکَ فِی الۡحَیٰوۃِ اَنۡ تَقُوۡلَ لَا مِسَاسَ ۪ وَاِنَّ لَکَ مَوۡعِدًا لَّنۡ تُخۡلَفَہٗ ۚ وَانۡظُرۡ اِلٰۤی اِلٰـہِکَ الَّذِیۡ ظَلۡتَ عَلَیۡہِ عَاکِفًا ؕ لَنُحَرِّقَنَّہٗ ثُمَّ لَنَنۡسِفَنَّہٗ فِی الۡیَمِّ نَسۡفًا ٩٧

কা-লা ফাযহাব ফাইন্না লাকা ফিল হায়া-তি আন তাকূলা লা-মিছা-ছা ওয়া ইন্নালাকা মাও‘ইদাল লান তুখলাফাহূও ওয়ানজুর ইলাইলা-হিকাল্লাযী জালতা ‘আলাইহি আ-কিফাল লানুহাররিকান্নাহূছু ম্মা লানানছিফান্নাহূফিল ইয়াম্মি নাছফা-।

মূসা বলল, তুমি চলে যাও। জীবনভর তোমার কাজ হবে মানুষকে এই বলতে থাকা যে, ‘আমাকে ছুঁয়ো না’। ৪৫ (তাছাড়া) তোমার জন্য আছে এক প্রতিশ্রুত কাল, যা তোমার থেকে টলানো যাবে না। ৪৬ তুমি তোমার এই (অলীক) মাবুদকে দেখ, যার পূজায় তুমি জমে বসেছিলে, আমরা একে জ্বালিয়ে দেব। তারপর একে গুঁড়ো করে সাগরে ছিটিয়ে দেব।

তাফসীরঃ

৪৫. ‘প্রতিশ্রুত কাল’ বলতে আখেরাত বোঝানো হয়েছে, যেখানে তাকে এ অপরাধের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
৯৮

اِنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمُ اللّٰہُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ وَسِعَ کُلَّ شَیۡءٍ عِلۡمًا ٩٨

ইন্নামাইলা-হুকুমুল্লা-হুল লাযী লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ওয়াছি‘আ কুল্লা শাইয়িন ‘ইলমা-।

প্রকৃতপক্ষে তোমাদের সকলের মাবুদ তো কেবল এক আল্লাহই, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তাঁর জ্ঞান সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে।
৯৯

کَذٰلِکَ نَقُصُّ عَلَیۡکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ مَا قَدۡ سَبَقَ ۚ  وَقَدۡ اٰتَیۡنٰکَ مِنۡ لَّدُنَّا ذِکۡرًا ۖۚ ٩٩

কাযা-লিকা নাকুসসু‘আলাইকা মিন আমবাই মা কাদ ছাবাকা ওয়া কাদ আতাইনা-কা মিল্লাদুন্না-যিকরা-।

(হে নবী!) আমি এভাবে অতীতে যা ঘটেছে তার কিছু সংবাদ তোমাকে অবহিত করি আর আমি তোমাকে আমার নিকট থেকে দান করেছি এক উপদেশবাণী। ৪৭

তাফসীরঃ

৪৭. হযরত মূসা আলাইহিস সালামের ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার পর এ আয়াতে বলা হচ্ছে, একজন উম্মী ও নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও এবং জ্ঞানার্জন ও ইতিহাস সম্পর্কে অবগতি লাভের কোন মাধ্যম হাতে না থাকার পরও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মুখে এসব ঘটনা বিবৃত হওয়া তাঁর রিসালাতের উজ্জ্বল দলীল। এটা প্রমাণ করে তিনি একজন সত্য রাসূল এবং তিনি যে সব আয়াত পাঠ করেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ।
১০০

مَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡہُ فَاِنَّہٗ یَحۡمِلُ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وِزۡرًا ۙ ١۰۰

মান আ‘রাদা ‘আনহু ফাইন্নাহূইয়াহমিলুইয়াওমাল কিয়া-মাতি বিঝরা-

যারা এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে কিয়ামতের দিন তারা বহন করবে মস্ত বোঝা।
১০১

خٰلِدِیۡنَ فِیۡہِ ؕ  وَسَآءَ لَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ حِمۡلًا ۙ ١۰١

খা-লিদীনা ফীহি ওয়া ছাআ লাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি হিম লা-।

যার (শাস্তির) ভেতর তারা সর্বদা থাকবে। কিয়ামতের দিন তাদের জন্য এটা হবে নিকৃষ্টতর বোঝা,
১০২

یَّوۡمَ یُنۡفَخُ فِی الصُّوۡرِ وَنَحۡشُرُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ یَوۡمَئِذٍ زُرۡقًا ۚۖ ١۰٢

ইয়াওমা ইউনফাখুফিসসূরি ওয়া নাহশুরুল মুজরিমীনা ইয়াওমাইযিন ঝুরকা-।

যেদিন শিঙ্গায় ফুক দেওয়া হবে এবং আমি অপরাধীদের সমবেত করব নীলবর্ণরূপে। ৪৮

তাফসীরঃ

৪৮. زرق শব্দটি ازرق-এর বহুবচন। অর্থ নীল বর্ণবিশিষ্ট। শব্দটি অন্ধ অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আয়াতে এর অর্থ দুটোই হতে পারে। হয়ত তাদেরকে কদর্যরূপে দেখানোর জন্য চোখ নীল করে দেওয়া হবে। অথবা তাদেরকে অন্ধরূপেই হাশরের ময়দানে হাজির করা হবে। অবশ্য পরে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া হবে, যাতে জাহান্নামের আযাব প্রত্যক্ষ করতে পারে। যেমন সূরা কাহফে (আয়াত ৫৩) বলা হয়েছে। তা ছাড়া বহু আয়াত ও হাদীছে আছে তাদের চেহারা হবে কালো। -অনুবাদক
১০৩

یَّتَخَافَتُوۡنَ بَیۡنَہُمۡ اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا عَشۡرًا ١۰٣

ইয়াতাখা-ফাতূনা বাইনাহুম ইল লাবিছতুম ইল্লা-‘আশরা-।

তাদের নিজেদের মধ্যে চুপিসারে বলাবলি করবে, তোমরা (কবরে বা দুনিয়ায়) দশ দিনের বেশি থাকনি। ৪৯

তাফসীরঃ

৪৯. অর্থাৎ, কিয়ামত দিবস তাদের জন্য এমনই বিভীষিকাময় হবে যদ্দরুণ তাদের কাছে দুনিয়ার সমগ্র জীবন অতি সংক্ষিপ্ত মনে হবে। যেন সেটা দিন দশেকের ব্যাপার।
১০৪

نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا یَقُوۡلُوۡنَ اِذۡ یَقُوۡلُ اَمۡثَلُہُمۡ طَرِیۡقَۃً اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا یَوۡمًا ٪ ١۰٤

নাহনুআ‘লামুবিমা-ইয়াকূ লূনা ইযইয়াকূ লুআমছালুহুম তারীকাতান ইল লাবিছতুম ইল্লা-ইয়াওমা-।

তারা যে বিষয়ে বলাবলি করবে তার প্রকৃত অবস্থা আমার ভালোভাবে জানা আছে, ৫০ যখন তাদের মধ্যে যে সর্বাপেক্ষা ভালো পথে ছিল সে বলবে, তোমরা এক দিনের বেশি অবস্থান করনি। ৫১

তাফসীরঃ

৫০. অর্থাৎ, যে ব্যক্তিকে সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান মনে করা হত, তার কাছে সে সময়টা আরও বেশি সংক্ষিপ্ত মনে হবে। সে বলবে, তোমাদের অবস্থানের পরিমাণ ছিল মাত্র এক দিন। তার বেশি নয়।
১০৫

وَیَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ الۡجِبَالِ فَقُلۡ یَنۡسِفُہَا رَبِّیۡ نَسۡفًا ۙ ١۰٥

ওয়া ইয়াছআলূনাকা ‘আনিল জিবা-লি ফাকুল ইয়ানছিফুহা-রাববী নাছফা-।

লোকে তোমাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (যে, কিয়ামতে তার কী অবস্থা হবে?) বলে দাও, আমার প্রতিপালক তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ধুলার মত উড়িয়ে দিবেন।
১০৬

فَیَذَرُہَا قَاعًا صَفۡصَفًا ۙ ١۰٦

ফাইয়াযারুহা-কা-‘আন সাফসাফা-।

আর তাকে পরিণত করবেন ৫২ সমতল প্রান্তরে

তাফসীরঃ

৫২. অর্থাৎ পাহাড়ের স্থানটিকে অথবা ভূমিকে এমন সমতল স্থানে পরিণত করবেন, যাতে স্থাপনা ও গাছপালা থাকবে না। -অনুবাদক
১০৭

لَّا تَرٰی فِیۡہَا عِوَجًا وَّلَاۤ اَمۡتًا ؕ ١۰٧

লা-তারা-ফীহা-‘ইওয়াজাওঁ ওয়ালাআমতা-।

যাতে তুমি না কোন বক্রতা দেখতে পাবে না কোন উচ্চতা।
১০৮

یَوۡمَئِذٍ یَّتَّبِعُوۡنَ الدَّاعِیَ لَا عِوَجَ لَہٗ ۚ وَخَشَعَتِ الۡاَصۡوَاتُ لِلرَّحۡمٰنِ فَلَا تَسۡمَعُ اِلَّا ہَمۡسًا ١۰٨

ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াত্তাবি‘ঊনাদ্দা-‘ইয়া লা-‘ইওয়াজালাহূ ওয়াখাশা‘আতিল আসওয়া-তু লিররাহমা-নি ফালা-তাছমা‘উ ইল্লা-হামছা-।

সে দিন সকলে আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে এমনভাবে যে, তার কাছে কোন বক্রতা পরিদৃষ্ট হবে না ৫৩ এবং দয়াময় আল্লাহর সামনে সব আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে যাবে। ফলে তুমি পায়ের মৃদু আওয়াজ ছাড়া কিছুই শুনতে পাবে না।

তাফসীরঃ

৫৩. অর্থাৎ হাশরের ময়দানে সমবেত হওয়ার জন্য যখন ফিরিশতা ডাক দেবে, তখন সকল মানুষ এদিক-ওদিক ছোটাছুটি না করে সোজা তার পিছনে পিছনে ছুটবে। ফলে তাদের চলায় তার দৃষ্টিতে কোন বক্রতা পরিলক্ষিত হবে না। আহা! আজ ইহজগতেও যদি মানুষ আল্লাহর পক্ষ হতে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিয়ে সোজাসুজি তাদের দেখানো পথে চলত! (আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সকল বক্রতা থেকে হেফাজত করে সরল সোজা পথে পরিচালিত করুন (আমীন)। -অনুবাদক
১০৯

یَوۡمَئِذٍ لَّا تَنۡفَعُ الشَّفَاعَۃُ اِلَّا مَنۡ اَذِنَ لَہُ الرَّحۡمٰنُ وَرَضِیَ لَہٗ قَوۡلًا ١۰٩

ইয়াওমাইযিল লা-তানফা‘উশশাফা-‘আতুইল্লা-মান আযিনা লাহুর রাহমা-নুওয়া রাদিয়া লাহূকাওলা-।

সে দিন কারও সুপারিশ কোন কাজে আসবে না, সেই ব্যক্তি (এর সুপারিশ) ছাড়া, যাকে দয়াময় আল্লাহ অনুমতি দিবেন ও যার কথা তিনি পছন্দ করবেন।
১১০

یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ وَلَا یُحِیۡطُوۡنَ بِہٖ عِلۡمًا ١١۰

ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়ালা-ইউহীতূনা বিহী ‘ইলমা-।

তিনি মানুষের অগ্র-পশ্চাৎ সবকিছুই জানেন। কিন্তু তারা তাকে জ্ঞানায়ত্ত করতে পারে না। ৫৪

তাফসীরঃ

৫৪. অর্থাৎ মানুষের পক্ষে আল্লাহ তাআলাকে পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়। তাঁর সত্তাকে তো নয়ই, তাঁর গুণাবলীও সম্পূর্ণরূপে জানতে পারে না, যেমন তাঁর জ্ঞানের বিষয়টা। তিনি তো নিজ সৃষ্টিজগতের বর্তমান ও ভূত-ভবিষ্যত সবকিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খ জানেন, কিন্তু তিনি যা কিছু জানেন, মানুষের পক্ষে তা সব জানা সম্ভব নয়। মানুষ জানে তার কিঞ্চিতমাত্র। ‘অথৈ সাগর থেকে এক বিন্দু জল’ এর সাথেও তাকে তুলনা করা যায় না। তবে বান্দা হিসেবে মাবুদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যতটুকু জ্ঞান দরকার, আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে তা মানুষকে সরবরাহ করেছেন। তাঁর সম্পর্কে অতটুকু জানাই মানুষের জন্য যথেষ্ট। -অনুবাদক
১১১

وَعَنَتِ الۡوُجُوۡہُ لِلۡحَیِّ الۡقَیُّوۡمِ ؕ وَقَدۡ خَابَ مَنۡ حَمَلَ ظُلۡمًا ١١١

ওয়া ‘আনাতিল উজূহু লিলহাইয়িল কাইয়ুমি ওয়া কাদ খা-বা মান হামালা জুলমা-।

আল-হায়্যুল কায়্যূমের (অর্থাৎ চিরঞ্জীব, নিয়ন্ত্রক, সেই সত্তার) সামনে সকল চেহারা নত হয়ে থাকবে। আর যে-কেউ জুলুমের ভার বহন করবে, সে-ই ব্যর্থকাম হবে।
১১২

وَمَنۡ یَّعۡمَلۡ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَا یَخٰفُ ظُلۡمًا وَّلَا ہَضۡمًا ١١٢

ওয়া মাইঁ ইয়া‘মাল মিনাসসা-লিহা-তি ওয়া হুওয়া মু’মিনুন ফালা-ইয়াখা-ফুজুলমাওঁ ওয়ালাহাদমা-।

আর যে-কেউ সৎকর্ম করবে, সে যদি মুমিন হয়, তবে তার কোন জুলুমের ভয় থাকবে না এবং অধিকার খর্বেরও না।
১১৩

وَکَذٰلِکَ اَنۡزَلۡنٰہُ قُرۡاٰنًا عَرَبِیًّا وَّصَرَّفۡنَا فِیۡہِ مِنَ الۡوَعِیۡدِ لَعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ اَوۡ یُحۡدِثُ لَہُمۡ ذِکۡرًا ١١٣

ওয়া কাযা-লিকা আনঝালনা-হুকুরআ-নান ‘আরাবিইইয়াওঁ ওয়া সাররাফনা ফীহি মিনাল ওয়া‘ঈদি লা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূনা আও ইউহদিছু লাহুম যিকরা-।

এভাবেই আমি একে এক আরবী কুরআনরূপে নাযিল করেছি এবং এতে সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি বিভিন্নভাবে, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা তা তাদের ভেতর কিছুটা সচেতনতা উৎপাদন করে।
১১৪

فَتَعٰلَی اللّٰہُ الۡمَلِکُ الۡحَقُّ ۚ وَلَا تَعۡجَلۡ بِالۡقُرۡاٰنِ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یُّقۡضٰۤی اِلَیۡکَ وَحۡیُہٗ ۫ وَقُلۡ رَّبِّ زِدۡنِیۡ عِلۡمًا ١١٤

ফাতা‘আ-লাল্লা-হুল মালিকুল হাক্কু ওয়ালা-তা‘জাল বিলকুরআ-নি মিন কাবলি আইঁ ইউকদাইলাইকা ওয়াহইউহূ, ওয়াকুর রাব্বি ঝিদনী ‘ইলমা-।

সুতরাং আল্লাহ সমুচ্চ, যিনি প্রকৃত অধিপতি। (হে নবী!) ওহীর মাধ্যমে যখন কুরআন নাযিল হয়, তখন তা শেষ হওয়ার আগে কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করো না ৫৫ এবং বল, হে আমার প্রতিপালক! জ্ঞানে আমাকে আরও উন্নতি দান কর। ৫৬

তাফসীরঃ

৫৫. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ দু‘আ শিক্ষা দিয়ে এই মহা সত্য স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জ্ঞান এমনই এক মহা সাগর, যার কোন কুল-কিনারা নেই। কাজেই জ্ঞানের কোন স্তরেই পৌঁছে পরিতৃপ্তি বোধ করা উচিত নয় যে, যথেষ্ট হয়েছে। বরং সর্বদাই জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য চেষ্টারত থাকা ও দু‘আ করা উচিত। এ দু‘আ যেমন স্মরণশক্তি বৃদ্ধির জন্য করা চাই, তেমনি জ্ঞানের সমৃদ্ধি ও সঠিক বুঝের জন্যও।
১১৫

وَلَقَدۡ عَہِدۡنَاۤ اِلٰۤی اٰدَمَ مِنۡ قَبۡلُ فَنَسِیَ وَلَمۡ نَجِدۡ لَہٗ عَزۡمًا ٪ ١١٥

ওয়া লাকাদ ‘আহিদনাইলাআ-দামা মিন কাবলুফানাছিয়া ওয়া লাম নাজিদ লাহূ‘আঝমা-।

আমি ইতঃপূর্বে আদমকে একটা বিষয়ে আদেশ করেছিলাম, কিন্তু সে তা ভুলে গেল এবং আমি তার মধ্যে পাইনি প্রতিজ্ঞা। ৫৭

তাফসীরঃ

৫৭. এখানে যে আদেশের কথা বলা হয়েছে, তা দ্বারা বিশেষ এক গাছের ফল না খাওয়ার নির্দেশ বোঝানো হয়েছে। এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং এ সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহের উত্তর সূরা বাকারায় চলে গেছে (২ : ৩৪-৩৯)। এখানে আদম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে যে বলা হয়েছে ‘আমি তার মধ্যে প্রতিজ্ঞা পাইনি’ তার দু’টি ব্যাখ্যা হতে পারে। (এক) কোন কোন মুফাসসির বলেছেন, গাছের ফল খেয়ে ফেলার যে ভুল তাঁর দ্বারা ঘটেছিল, তাতে তাঁর প্রতিজ্ঞার কোন ভূমিকা ছিল না। অর্থাৎ, তিনি তা খাওয়ার সংকল্প করেছিলেন বা নাফরমানী করার ইচ্ছায় হুকুম অমান্য করেছিলেন এমন নয়; বরং অসতর্কতাবশত তার ভুল হয়ে গিয়েছিল।
১১৬

وَاِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ اَبٰی ١١٦

ওয়া ইযকুলনা-লিলমালাইকাতিছ জু দূলিআ-দামা ফছাজাদূ ইল্লাইবলীছা আবা-।

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, আদমকে সিজদা কর। তখন সকলেই সিজদা করল, ইবলীস ছাড়া। সে অস্বীকার করল।
১১৭

فَقُلۡنَا یٰۤـاٰدَمُ اِنَّ ہٰذَا عَدُوٌّ لَّکَ وَلِزَوۡجِکَ فَلَا یُخۡرِجَنَّکُمَا مِنَ الۡجَنَّۃِ فَتَشۡقٰی ١١٧

ফাকুলনা-ইয়াআ-দামু ইন্না হা-যা- ‘আদুওউল্লাকা ওয়ালি ঝাওজিকা ফালাইউখরিজান্নাকুমা-মিনাল জান্নাতি ফাতাশকা-।

সুতরাং আমি বললাম, হে আদম! এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। কাজেই সে যেন তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে না দেয়। তাহলে তুমি কষ্টে পড়ে যাবে। ৫৮

তাফসীরঃ

৫৮. এ আয়াতকে পরবর্তী আয়াতের সাথে মিলিয়ে পড়লে অর্থ হয়, জান্নাতে তো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি জীবনের সকল প্রয়োজনীয় জিনিস বিনা শ্রমেই তোমরা পেয়ে গেছ। কিন্তু জান্নাত থেকে বের হয়ে গেল এসব জিনিস অর্জন করতে প্রচুর কষ্ট ও পরিশ্রম করতে হবে।
১১৮

اِنَّ لَکَ اَلَّا تَجُوۡعَ فِیۡہَا وَلَا تَعۡرٰی ۙ ١١٨

ইন্না লাকা আল্লা-তাজু‘আ ফীহা-ওয়ালা-তা‘রা-।

এখানে তোমার এই সুবিধা আছে যে, তুমি ক্ষুধার্ত হবে না এবং বিবস্ত্রও না।
১১৯

وَاَنَّکَ لَا تَظۡمَؤُا فِیۡہَا وَلَا تَضۡحٰی ١١٩

ওয়া আন্নাকা লা-তাজমাউ ফীহা-ওয়ালা-তাদহা-।

আর না এখানে তৃষ্ণার্ত হবে, না রোদের তাপ ভুগবে।
১২০

فَوَسۡوَسَ اِلَیۡہِ الشَّیۡطٰنُ قَالَ یٰۤـاٰدَمُ ہَلۡ اَدُلُّکَ عَلٰی شَجَرَۃِ الۡخُلۡدِ وَمُلۡکٍ لَّا یَبۡلٰی ١٢۰

ফাওয়াছওয়াছা ইলাইহিশ শাইতা-নুকা-লা ইয়াআ-দামুহাল আদুল্লুকা ‘আলা-শাজারাতিল খুলদি ওয়া মুলকিল লা-ইয়াবলা-।

অতঃপর শয়তান তার অন্তরে কুমন্ত্রণা দিল। সে বলল, হে আদম! তোমাকে কি এমন একটা গাছের সন্ধান দেব, যা দ্বারা অনন্ত জীবন ও এমন রাজত্ব লাভ হয়, যা কখনও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না? ৫৯

তাফসীরঃ

৫৯. এর সাথে শয়তান নিষেধাজ্ঞার এই ব্যাখ্যাও তাদের সামনে পেশ করল যে, এ গাছের ফল খেতে বারণ করা হয়েছিল সাময়িক কালের জন্য। অর্থাৎ, এর ফল খেয়ে হজম করার মত শক্তি তোমাদের তখন ছিল না। যেহেতু তোমরা দীর্ঘদিন জান্নাত বাসের ফলে এর পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে গেছ, তাই এখন আর এ ফল খেতে কোন বাধা নেই।
১২১

فَاَکَلَا مِنۡہَا فَبَدَتۡ لَہُمَا سَوۡاٰتُہُمَا وَطَفِقَا یَخۡصِفٰنِ عَلَیۡہِمَا مِنۡ وَّرَقِ الۡجَنَّۃِ ۫  وَعَصٰۤی اٰدَمُ رَبَّہٗ فَغَوٰی ۪ۖ ١٢١

ফাআকালা-মিনহা-ফাবাদাত লাহুমা-ছাওআ-তুহুমা-ওয়া তাফিকা ইয়াখছিফা-নি ‘আলাইহিমা- মিওঁ ওয়ারাকিল জান্নাতি ওয়া ‘আসাআ-দামুরাব্বাহূফাগাওয়া-।

অতঃপর তারা সে গাছ থেকে কিছু খেয়ে ফেলল। ফলে তাদের লজ্জাস্থানসমূহ তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে গেল। তখন তারা জান্নাতের পাতা নিজেদের উপর জুড়তে লাগল। আর (এভাবে) আদম নিজ প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করল ও বিভ্রান্ত হল। ৬০

তাফসীরঃ

৬০. সূরা বাকারায় আমরা লিখে এসেছি যে, এটা ছিল হযরত আদম আলাইহিস সালামের ইজতিহাদী ভুল। উপরে ১১৪ নং আয়াতে এর দিকেই ইশারা করে বলা হয়েছে, তার দ্বারা ভুল হয়ে গিয়েছিল। ইজতিহাদী ত্রুটি ও ভুলক্রমে যে কাজ করা হয়, তাতে গুনাহ হয় না। কিন্তু নবীদের মর্যাদা যেহেতু অনেক উপরে, তাই ইজতিহাদী ভুল হওয়াও তাদের পক্ষে শোভনীয় নয়, যদিও সাধারণের পক্ষে সেটা গুরুতর বিষয় নয়। এ কারণেই আয়াতে তাঁর এ ভুলকে ‘হুকুম অমান্য করা’ ও ‘বিভ্রান্ত হওয়া’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে এবং তার কারণেও তাওবা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
১২২

ثُمَّ اجۡتَبٰہُ رَبُّہٗ فَتَابَ عَلَیۡہِ وَہَدٰی ١٢٢

ছু ম্মাজ তাবা-হু রাব্বুহূফাতা-বা ‘আলাইহি ওয়াহাদা-।

অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করলেন। সুতরাং তার তাওবা কবুল করলেন ও তাঁকে পথ দেখালেন।
১২৩

قَالَ اہۡبِطَا مِنۡہَا جَمِیۡعًۢا بَعۡضُکُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ ۚ فَاِمَّا یَاۡتِیَنَّکُمۡ مِّنِّیۡ ہُدًی ۬ۙ فَمَنِ اتَّبَعَ ہُدَایَ فَلَا یَضِلُّ وَلَا یَشۡقٰی ١٢٣

কা-লাহ বিতা-মিনহা-জামী‘আম বা‘দুকুম লিবা‘দিন ‘আদুওউন ফাইম্মাইয়া’তিইয়ান্নাকুম মিন্নী হুদান ফামানিততাবা‘আ হুদা-ইয়া ফালা-ইয়াদিল্লুওয়ালাইয়াশকা-।

আল্লাহ বললেন, তোমরা উভয়ে এখান থেকে নিচে নেমে যাও। তোমরা একে অন্যের শত্রু। ৬১ অতঃপর তোমাদের কাছে আমার পক্ষ হতে যদি কোন হিদায়াত পৌঁছে, তবে যে আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না এবং দুঃখগ্রস্ত হবে না।

তাফসীরঃ

৬১. অর্থাৎ, মানুষ ও শয়তান একে অন্যের শত্রু হবে।
১২৪

وَمَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡ ذِکۡرِیۡ فَاِنَّ لَہٗ مَعِیۡشَۃً ضَنۡکًا وَّنَحۡشُرُہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ اَعۡمٰی ١٢٤

ওয়া মান আ‘রাদা‘আনযিকরী ফাইন্না লাহূমা‘ঈশাতান দানকাওঁ ওয়ানাহশুরুহূইয়াওমাল কিয়া-মাতি আ‘মা-।

আর যে আমার উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে বড় সংকটময়। আর কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ করে উঠাব। ৬২

তাফসীরঃ

৬২. অর্থাৎ, যখন কবর থেকে তুলে হাশরে নেওয়া হবে তখন তারা অন্ধ থাকবে। অবশ্য পরে তাদেরকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া হবে, যেমন সূরা কাহাফের আয়াত দ্বারা জানা যায়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘তারা জাহান্নামের আগুন দেখবে’ (১৮ : ৫৩)।
১২৫

قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرۡتَنِیۡۤ اَعۡمٰی وَقَدۡ کُنۡتُ بَصِیۡرًا ١٢٥

কা-লা রাব্বি লিমা হাশারতানীআ‘মা-ওয়া কাদ কুনতুবাসীরা-।

সে বলবে, হে রব্ব! তুমি আমাকে অন্ধ করে উঠালে কেন? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম!
১২৬

قَالَ کَذٰلِکَ اَتَتۡکَ اٰیٰتُنَا فَنَسِیۡتَہَا ۚ وَکَذٰلِکَ الۡیَوۡمَ تُنۡسٰی ١٢٦

কা-লা কাযা-লিকা আতাতকা আ-য়া-তুনা-ফানাছীতাহা- ওয়া কাযা-লিকাল ইয়াওমা তুনছা-।

আল্লাহ বলবেন, এভাবেই তােমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। আজ সেভাবেই তােমাকে ভুলে যাওয়া হবে।

তাফসীরঃ

৬৩. অর্থাৎ তোমার কাছে আমার সুস্পষ্ট, সমুজ্জ্বল আয়াত ও নিদর্শনাবলী এসেছিল, কিন্তু তুমি তা না দেখার ভান করেছিলে, সে ব্যাপারে অন্ধত্ব অবলম্বন করেছিলে এবং তা পরিত্যাগ করেছিলে ও ভুলে থেকেছিলে তাই আজ তার শাস্তিস্বরূপ তোমাকে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তোমাকে পরিত্যক্ত ও বিস্মৃতরূপে রেখে দেওয়া হবে। -অনুবাদক
১২৭

وَکَذٰلِکَ نَجۡزِیۡ مَنۡ اَسۡرَفَ وَلَمۡ یُؤۡمِنۡۢ بِاٰیٰتِ رَبِّہٖ ؕ وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَشَدُّ وَاَبۡقٰی ١٢٧

ওয়া কাযা-লিকা নাজঝী মান আছরাফাওয়া লাম ইউ’মিম বিআ-য়া-তি রাব্বিহী ওয়ালা‘আযা-বুল আ-খিরাতি আশাদ্দুওয়া আবকা-।

যে ব্যক্তি সীমালংঘন করে ও নিজ প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে না, তাকে আমি এভাবেই শাস্তি দেই। আর আখেরাতের আযাব বাস্তবিকই বেশি কঠিন ও অধিকতর স্থায়ী।
১২৮

اَفَلَمۡ یَہۡدِ لَہُمۡ کَمۡ اَہۡلَکۡنَا قَبۡلَہُمۡ مِّنَ الۡقُرُوۡنِ یَمۡشُوۡنَ فِیۡ مَسٰکِنِہِمۡ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّہٰی ٪ ١٢٨

আফালাম ইয়াহদি লাহুম কাম আহলাকনা-কাবলাহুম মিনাল কুরূনি ইয়ামশূনা ফী মাছাকিনিহিম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিউলিননুহা-।

অতঃপর এ বিষয়টিও কি তাদেরকে হিদায়াতের কোন সবক দিল না যে, আমি তাদের আগে কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, যাদের আবাসভূমিতে এরা চলাফেরা করে থাকে? নিশ্চয়ই যারা বিবেকসম্পন্ন, তাদের জন্য এ বিষয়ের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণের বহু উপাদান আছে।
১২৯

وَلَوۡلَا کَلِمَۃٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّکَ لَکَانَ لِزَامًا وَّاَجَلٌ مُّسَمًّی ؕ ١٢٩

ওয়ালাওলা-কালিমাতুন ছাবাকাত মির রাব্বিকা লাকা-না লিঝা-মাওঁ ওয়া আজালুম মুছাম্মা-।

তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে পূর্ব থেকেই যদি একটা কথা স্থিরীকৃত না থাকত এবং (তার ভিত্তিতে শাস্তির জন্য) একটা কাল নির্ধারিত না থাকত, তবে অবশ্যম্ভাবী শাস্তি (তাদেরকে) লেপটে ধরত। ৬৪

তাফসীরঃ

৬৪. অর্থাৎ, কাফেরদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা একটি সময় নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সে সময় না আসবে, তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হতে থাকবে। এ কারণেই এত সব নাফরমানী ও অবাধ্যতা সত্ত্বেও কাফেরদের উপর শাস্তি অবতীর্ণ হচ্ছে না। স্থিরীকৃত কথা বলতে নির্দিষ্ট সময় আসার আগে শাস্তি না দেওয়া বোঝানো হয়েছে। একথা যদি পূর্ব থেকে স্থিরীকৃত না থাকত, তবে তারা যে গুরুতর অপরাধ করছে, সেজন্য তাৎক্ষণিক শাস্তিতে তারা অবশ্যই আক্রান্ত হত।
১৩০

فَاصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ قَبۡلَ طُلُوۡعِ الشَّمۡسِ وَقَبۡلَ غُرُوۡبِہَا ۚ وَمِنۡ اٰنَآیِٔ الَّیۡلِ فَسَبِّحۡ وَاَطۡرَافَ النَّہَارِ لَعَلَّکَ تَرۡضٰی ١٣۰

ফাসবির ‘আলা-মা-ইয়াকূলূনা ওয়া ছাব্বিহবিহামদি রাব্বিকা কাবলা তুলূ‘ইশশামছি ওয়া কাবলা গুরূবিহা- ওয়া মিন আ-নাইল্লাইলি ফাছাব্বিহওয়া আতরা-ফান্নাহা-রি লা‘আল্লাকা তারদা-।

সুতরাং (হে নবী!) তারা যেসব কথা বলে, তাতে সবর কর এবং সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে নিজ প্রতিপালকের তাসবীহ ও হামদে রত থাক এবং রাতের মুহূর্তগুলোতেও তাসবীহতে রত থাক এবং দিনের প্রান্তসমূহেও, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাও। ৬৫

তাফসীরঃ

৬৫. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হচ্ছে যে, কাফেরগণ আপনার বিরুদ্ধে যে বেহুদা কথাবার্তা বলে তার কোন উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং সবর করতে থাকুন ও আল্লাহ তাআলার তাসবীহ ও গুণকীর্তনে রত থাকুন। এর সর্বোত্তম পন্থা হল সালাত আদায়। কাজেই সূর্যোদয়ের আগে ফজরের নামায ও সূর্যাস্তের আগে আসরের নামায এবং রাতে ইশা ও তাহাজ্জুদের নামায আদায় করুন আর দিনের প্রান্তে পড়ুন মাগরিবের নামায। এ নিয়মে চললে আপনার পরিণাম ভালো হবে এবং আপনি আনন্দ লাভ করবেন। একে তো এ কারণে যে, এর কারণে আপনাকে যে পুরস্কার দেওয়া হবে তা অতি মহিমান্বিত ও সুবিপুল আর দ্বিতীয়ত এ কর্মপন্থা শত্রুর বিরুদ্ধে আপনার বিজয়কে নিশ্চিত করবে। তৃতীয়ত এর ফলে আপনি শাফায়াতের মহা মর্যাদায় আসীন হবেন। ফলে উম্মতের নাজাতপ্রাপ্তি আপনার মহানন্দের কারণ হবে।
১৩১

وَلَا تَمُدَّنَّ عَیۡنَیۡکَ اِلٰی مَا مَتَّعۡنَا بِہٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡہُمۡ زَہۡرَۃَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۬ۙ لِنَفۡتِنَہُمۡ فِیۡہِ ؕ وَرِزۡقُ رَبِّکَ خَیۡرٌ وَّاَبۡقٰی ١٣١

ওয়ালা-তামুদ্দান্না ‘আইনাইকা ইলা-মা-মাত্তা‘না-বিহীআঝওয়া-জাম মিনহুম ঝাহরাতাল হা-য়া-তিদ দুনইয়া- লিনাফতিনাহুম ফীহি ওয়া রিঝকুরাব্বিকা খাইরুওঁ ওয়া আবকা-।

তুমি পার্থিব জীবনের ওই চাকচিক্যের দিকে চোখ তুলে তাকিও না, যা আমি তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) বিভিন্ন শ্রেণীকে মজা লোটার জন্য দিয়ে রেখেছি, তা দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। বস্তুত তোমার রব্বের রিযক সর্বাপেক্ষা উত্তম ও সর্বাধিক স্থায়ী।
১৩২

وَاۡمُرۡ اَہۡلَکَ بِالصَّلٰوۃِ وَاصۡطَبِرۡ عَلَیۡہَا ؕ لَا نَسۡـَٔلُکَ رِزۡقًا ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُکَ ؕ وَالۡعَاقِبَۃُ لِلتَّقۡوٰی ١٣٢

ওয়া’মুর আহলাকা বিসসালা-তি ওয়াসতাবির ‘আলাইহা- লা-নাছআলুকা রিঝকান নাহনুনারঝুকুকা ওয়াল ‘আ-কিবাতুলিত্তাকওয়া-।

এবং নিজ পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ কর এবং নিজেও তাতে অবিচলিত থাক। আমি তোমার কাছে রিযক চাই না। ৬৬ রিযক তো আমিই দেব। আর শুভ পরিণাম তো তাকওয়ারই।

তাফসীরঃ

৬৬. অর্থাৎ দুনিয়ায় মনিব যেমন তার দাস-দাসীকে আয়-রোজগারের কাজে লাগিয়ে তাদের মেহনত দ্বারা নিজ জীবিকা সংগ্রহ করে, আল্লাহ তাআলার সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক সে রকমের নয়। তিনি বান্দার এ রকম বন্দেগী থেকে বেনিয়ায। বরং তিনি নিজের পক্ষ থেকেই তোমাদেরকে রিযক দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। আয়াতটির ব্যাখ্যা এরূপও করা যেতে পারে যে, আমি তোমাদের উপর তোমাদের নিজেদের রিযক সৃষ্টি করার দায়িত্ব ন্যস্ত করিনি। তোমরা বেশির বেশি যা করে থাক, তা কেবল এই যে, রিযকের জন্য আসবাব-উপকরণ অবলম্বন কর, যেমন মাটিতে বীজ বপণ করা। কিন্তু সেই বীজ থেকে চারা ও শস্য উৎপাদনের কাজ আমি তোমাদের দায়িত্বে ছাড়িনি, বরং আমি নিজেই তা সম্পন্ন করি এবং এভাবে তোমাদের রিযকের ব্যবস্থা করি।
১৩৩

وَقَالُوۡا لَوۡلَا یَاۡتِیۡنَا بِاٰیَۃٍ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ اَوَلَمۡ تَاۡتِہِمۡ بَیِّنَۃُ مَا فِی الصُّحُفِ الۡاُوۡلٰی ١٣٣

ওয়া কা-লূলাওলা-ইয়া’তীনা-বিআ-য়াতিম মির রাব্বিহী আওয়ালাম তা’তিহিম বাইয়িনাতুমা-ফিসসুহুফিল ঊলা-।

তারা বলে, সে (অর্থাৎ নবী!) আমাদের কাছে তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন? তবে কি তাদের কাছে পূর্ববর্তী (আসমানী) সহীফাসমূহে বর্ণিত বিষয়বস্তুর সাক্ষ্য আসেনি? ৬৭

তাফসীরঃ

৬৭. এ আয়াতে بَيِّنَةٌ (সাক্ষ্য) দ্বারা কুরআন মাজীদ বোঝানো হয়েছে। ‘সহীফা’ হল পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব। এ আয়াতের ব্যাখ্যা দু’ভাবে করা যায়। (এক) কুরআন এমন এক কিতাব, পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে যার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী দেওয়া হয়েছিল যে, আখেরী যামানায় এ কিতাব নাযিল করা হবে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, সে সব সহীফা কুরআন মাজীদের সত্যতা সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছিল। (দুই) কুরআন মাজীদ পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণিত বিষয়বস্তুর সমর্থন করে আর এভাবে এ কিতাব সেগুলোর আসমানী কিতাব হওয়ার সপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে, অথচ যার মুবারক মুখে এ বাণী উচ্চারিত হচ্ছে, সেই আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন উম্মী। তাঁর কাছে অতীতের কিতাবসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভের কোন মাধ্যম নেই। তা সত্ত্বেও যখন তাঁর পবিত্র মুখে সেসব কিতাবের বিসয়বস্তু বিবৃত হচ্ছে, তখন এটা আপনিই প্রমাণ হয়ে যায় যে, এসব বিষয়বস্তু আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতেই এসেছে এবং কুরআন মাজীদ তাঁরই কিতাব। এরপরও তোমরা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের পক্ষে আর কী নিদর্শন দাবী করছ?
১৩৪

وَلَوۡ اَنَّـاۤ اَہۡلَکۡنٰہُمۡ بِعَذَابٍ مِّنۡ قَبۡلِہٖ لَقَالُوۡا رَبَّنَا لَوۡلَاۤ اَرۡسَلۡتَ اِلَیۡنَا رَسُوۡلًا فَنَتَّبِعَ اٰیٰتِکَ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ نَّذِلَّ وَنَخۡزٰی ١٣٤

ওয়া লাও আন্নাআহলাকনা-হুম বি‘আযা-বিম মিন কাবলিহী লাকা-লূরাব্বানা-লাওলা আরছালতা ইলাইনা-রাছূলান ফানাত্তাবি‘আ আ-ইয়া-তিকা মিন কাবলি আন নাযিল্লা ওয়া নাখঝা-।

আমি যদি তাদেরকে এর আগে (অর্থাৎ কুরআন নাযিলের আগে) কোন শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠালেন না কেন, তাহলে তো আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার আগে আপনার আয়াতসমূহ অনুসরণ করতে পারতাম?
১৩৫

قُلۡ کُلٌّ مُّتَرَبِّصٌ فَتَرَبَّصُوۡا ۚ  فَسَتَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ اَصۡحٰبُ الصِّرَاطِ السَّوِیِّ وَمَنِ اہۡتَدٰی ٪ ١٣٥

কুল কুল্লুম মুতারাব্বিসুন ফাতারাব্বাসূ ফাছাতা‘লামূনা মান আসহা-বুসসিরা-তিছ ছাবিইয়ি ওয়া মানিহতাদা-

(হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, (আমাদের) সকলেই প্রতীক্ষা করছে। সুতরাং তোমরাও প্রতীক্ষা কর। ৬৮ কেননা তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কারা সরল পথের অনুসারী এবং কারা হিদায়াতপ্রাপ্ত?

তাফসীরঃ

৬৮. অর্থাৎ, দলীল-প্রমাণ তো সবই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন বাকি রয়েছে কেবল আল্লাহ তাআলার ফায়সালা। আমরা তাঁর সেই ফায়সালার অপেক্ষায় আছি। তোমরাও তার অপেক্ষা করতে থাক। সেই সময় দূরে নয়, যখন প্রত্যেকের সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে কোনটা খাঁটি আর কোনটা ভেজাল।
সূরা ত্বা-হা | মুসলিম বাংলা