মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ দেওয়া
প্রশ্নঃ ৩৩০১৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মেয়েদের ইচ্ছা বিরুদ্ধে কি বিবাহ দেওয়া জাইজ
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লাহ তাআলা মানুষকে জন্মগতভাবে স্বাধীন করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে শরীয়তের গণ্ডির ভিতরে স্বাধীন করে দিয়েছেন। জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেককেই স্বাধীনতা দিয়েছেন। তবে গড় বিবেচনায় নারী তার সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ মেধার পরিচয় দিয়ে ভুল করতে পারে, বিধায় নারীর বিবাহ-শাদিতে তার ওলী অভিভাবকের অনুমতি ও সম্মতিক্রমে সম্পন্ন করবে। একাকি কিংবা পালিয়ে বিবাহ করা অনুচিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিয়ে সংঘটিত হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১১০১; আবু দাউদ, হাদিস : ২০৮৩)
আবার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পূর্বে তার সম্মতি নেওয়া অভিভাবকের জন্য জরুরি। তাদের ইচ্ছে যদি শরীয়ত সম্মত হয় তাহলে তার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আকদে নেকাহের পূর্বে তার থেকে ইজন বা অনুমতি নিতে হবে। আর মেয়েদের থেকে ইজন বা অনুমতি নেওয়ার পদ্ধতি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সায়্যিবাহ (আগে বিয়ে হয়েছে এমন তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা) বিবাহিতা নারীর মতামত বা সম্মতি গ্রহণ ছাড়া তার বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি ব্যতিতও বিয়ে দেওয়া যাবে না। তারা (সাহাবায়ে কেরাম) বললেন, কুমারী নারীর অনুমতি আবার কিভাবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তার চুপ থাকাই অনুমতি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস, ৫১৩৬)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন