ঘর গুছিয়ে রাখার ব্যাপারে ইসলামের দিকনির্দেশনা
প্রশ্নঃ ১৭২৫৮৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামুআলাইকুম wR wB, ঘর পরিচ্ছন্ন পরিপাটি রাখা কতটা গুরুত্বপর্ণ? শারীরিক শক্তি, অন্যান্য অপরিহার্য পারিবারিক ব্যস্ততা, খাদেম রাখার সামর্থ্য, বিশ্রামের পর্যাপ্ত সময়— না থাকলে সেক্ষেত্রে ঘর গুছিয়ে রাখার সুন্নতি মূলনীতি কি? আমাদের দেশ, সমাজের বাস্তবতা সামনে রেখে বিস্তারিত আলোচনার অনুরোধ জানাচ্ছি
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামে ঘরের পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে ইসলাম একটি বাস্তবসম্মত ও সহজ জীবনবিধান, যা মানুষের সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেয় না। শরীয়তে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা ঈমানী বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন:
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِين
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন যারা পবিত্র থাকে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘরবাড়ি ও তার আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার তাগিদ দিয়ে ইরশাদ করেছেন:
«إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ يُحِبُّ الطَّيِّبَ، نَظِيفٌ يُحِبُّ النَّظَافَةَ، كَرِيمٌ يُحِبُّ الكَرَمَ، جَوَادٌ يُحِبُّ الجُودَ، فَنَظِّفُوا أَفْنِيَتَكُمْ»
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন; তিনি পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্নতা ভালোবাসেন; তিনি অনুগ্রহশীল, অনুগ্রহ ভালোবাসেন; তিনি দানশীল, দানশীলতা ভালোবাসেন। অতএব তোমরা তোমাদের ঘরের প্রাঙ্গণসমূহ পরিচ্ছন্ন রাখ। (তিরমিযী)
যখন শারীরিক অসুস্থতা বা দুর্বলতা, ছোট বাচ্চা লালন-পালন, চাকরি বা পারিবারিক দায়িত্ব থাকে এবং কাজের লোক রাখার সামর্থ্য থাকে না, তখন মানসিক চাপ না নিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করা। ইসলামের মৌলিক নীতি হলো—কারো ওপর তার সাধ্যের বাইরে কষ্ট চাপিয়ে না দেওয়া। যতটুকু সম্ভব ও প্রয়োজনীয়, ততটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকা। ঘরকে সবসময় 'শতভাগ নিখুঁত' রাখার মানসিক চাপ নিয়ে নিজের শরীর বা সন্তানদের হক নষ্ট করা যাবে না।
ঘরের অত্যধিক পরিশ্রমে যখন ফাতিমা (রা.) ক্লান্ত হয়ে পড়তেন এবং তাঁর ঘরেও কোনো খাদেম ছিল না, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ঘুমানোর পূর্বে একটি বিশেষ আমল শিখিয়ে দেন:
«أَلَا أَدُلُّكُمَا عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ لَكُمَا مِمَّا سَأَلْتُمَا، إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا فَسَبِّحَا اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَاحْمَدَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَكَبِّرَا أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ، فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ»
অর্থ: আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয় বলে দেব না, যা তোমাদের জন্য খাদেমের চেয়েও উত্তম? যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে; এটা তোমাদের জন্য খাদেমের চেয়েও কল্যাণকর। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
পরিবারের সকল দায়িত্ব শুধু স্ত্রীর একার কাঁধে না চাপিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা করা সুন্নাহ। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের ঘরের কাজে পরিবারকে সাহায্য করতেন। সংসারের অন্যান্য সদস্যদেরও যার যার ব্যবহৃত জিনিস গুছিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
বাস্তবতার আলোকে যতটুকু সহজে করা যায় ততটুকুই দায়িত্বশীলতার সাথে সম্পন্ন করা এবং সাধ্যের বাইরে গেলে আত্মপীড়ন না করে বিশ্রাম নেওয়া ও আল্লাহর সাহায্য কামনাই সুন্নাহসম্মত ভারসাম্য।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন