“৭৩ ফিরকার ভবিষ্যদ্বাণী: হক-বাতিলের পরিচয় ও সতর্কতা”
প্রশ্নঃ ১৭১৪৮০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, নবিজির ভবিষ্যৎবাণীর ৭২ দলের কি আত্ব প্রকাশ হয়েছে? হয়ে থাকলে জানাবেন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً
“আমার উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে।”
(সুনানে আবু দাউদ, ৪৫৯৬)
পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে মুসলিম সমাজে বিভিন্ন আকিদাগত ফিরকা ও মতবাদের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে
নবী ﷺ-এর এই ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে। তবে ৭২ দলের নামের তালিকা দেওয়া হয়নি বিধায় কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনকে সরাসরি “৭২ দলের একটি” বলে দেওয়া হতে বেঁচে থাকাই সতর্কতা।
তবে ইসলামের নামে বিভিন্ন নাজায়েজ কর্মকাণ্ড ও ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়া যে কোন সংগঠন এই ৭২ দলের অন্তর্ভুক্ত হবে না এটারও বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইসলামকে বাদ দিয়ে কেউ কখনো ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। সুতরাং ইসলামী বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে নাজায়েজ পন্থা অবলম্বন করে, নারীদেরকে বেপর্দা ভাবে মাঠে নামিয়ে, সাহাবায়ে কেরামের গীবত করে, বদনামি করে বা হক্কানী আলেমদের বিরোধিতা করে এমন প্রতিটি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকা অবশ্যই ঈমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সর্বোপরি হক্কানী আলেমগণ যেসব সংগঠনকে সমর্থন করে না, সেসব সংগঠন হতে দূরে থাকা ইমান আমল হেফাজতের জন্য অপরিহার্য।
ফিরকাবিষয়ক গ্রন্থ الملل والنحل-এ ইমাম শাহরাস্তানি
মুসলিমদের মধ্যে খারিজি, শিয়া, কাদরিয়া, জাবরিয়া/সিফাতিয়া, মুতাজিলা প্রভৃতি আকিদাগত ধারার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
হাদিসের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী মুসলিম উম্মাহর মধ্যে আকিদাগত বিভাজন পরবর্তী ইতিহাসে বাস্তবেই প্রকাশ পেয়েছে। তবে “ঠিক ৭২টি দল ইতিমধ্যে সম্পূর্ণভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে”—এমন নির্দিষ্ট দাবি করার মতো কোনো সর্বসম্মত ঐতিহাসিক তালিকা নেই।
তবে নাজায়েজ, হারাম বা কৌশলের নামে কুফরি পন্থা অবলম্বনকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গ হতে বেঁচে থাকা ঈমান আমল হেফাজতের জন্য অপরিহার্য।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাদ্দীস, শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মোহাম্মাদপুর।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন